Wednesday, October 7, 2026

অশালীন অঙ্গভঙ্গি, নতুন বিতর্কে শাহরুখ–পুত্র আরিয়ান

প্রকাশ ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আবার আলোচনায় শাহরুখ–পুত্র আরিয়ান খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়, যা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

কী ঘটেছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ২৮ নভেম্বরের ২০২৫ বলে জানা গেছে। সেদিন আরিয়ান খান বেঙ্গালুরুর একটি পাবে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুতে আরিয়ান হাত নেড়ে উপস্থিত দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি হঠাৎই ভিড়ের দিকে হাত দিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন তরুণ। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় এক এমএলএর ছেলে নালপাড় ও রাজ্যের এক মন্ত্রীর ছেলে জায়েদ খানকেও দেখা গেছে।

ভিডিওটি সামনে আসতেই অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আরিয়ানের এই আচরণকে প্রকাশ্যে অতিমাত্রায় অভদ্র ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অনেকে প্রশ্ন তোলেন—ঘটনার পরও কি পুলিশ নীরব থাকবে? আর তারকা হওয়ার কারণে কি তাঁকে আলাদা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে?
তবে অন্তর্জালে আরিয়ানের আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেলেও এ বিষয়ে এখনো তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আরিয়ানের অতীত বিতর্ক
২০২১ সালের অক্টোবরে আলোচনায় আসেন মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে। গোয়াগামী একটি ক্রুজ পার্টি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভারতজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কয়েক সপ্তাহ জেল হেফাজতে থাকার পর আরিয়ান জামিন পান। পরে অবশ্য তিনি সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।

সম্প্রতি আরিয়ানের নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হয়েছে। নেটফ্লিক্সে তাঁর পরিচালিত প্রথম সিরিজ ‘দ্য ব্যা***ডস অব বলিউড’ মুক্তির পর প্রশংসিত হয়েছে।

ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

আরিয়ান খান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
আরিয়ান খান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রথম বলকান যুদ্ধ

ইতিহাস বিখ্যাত প্রথম বলকান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে ১৯১২ সালের ৭ অক্টোবর (মতান্তরে ৮ অক্টোবর)। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার পেছনে এ যুদ্ধ ছিল এক অত্যন্ত সংকটময় ও সিদ্ধান্তমূলক অধ্যায়। বলকান রাষ্ট্র জোটের অন্যতম সদস্য মন্টিনিগ্রো কর্তৃক উসমানীয় (অটোমান) সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে চার জাতিগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ এ সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ‘ইউরোপের অসুস্থ মানুষ’ হিসেবে পরিচিত উসমানীয় সাম্রাজ্য তার বলকান অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত হারাচ্ছিল। উসমানীয় শাসনাধীন মেসিডোনিয়া, থ্রেস এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোয় বাস করা খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী নিজস্ব স্বাধীনতা ও অধিকারের দাবি জানিয়ে আসছিল। একই সঙ্গে বলকান অঞ্চলের উদীয়মান জাতিরাষ্ট্র বুলগেরিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া এবং মন্টিনিগ্রো উসমানীয়দের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করে নিজেদের সীমানা সম্প্রসারণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এ যৌথ স্বার্থ ও অটোমান শাসনের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১২ সালের শুরুতে গঠিত হয় ‘বলকান লিগ’ বা বলকান জোট।

বলকান জোটের সদস্য হিসেবে ১৯১২ সালের ৮ অক্টোবর সর্বপ্রথম সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন মন্টিনিগ্রোর রাজা নিকোলাস প্রথম। তৎকালীন ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও কৌশলগত ও সামরিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মন্টিনিগ্রো অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং স্কুতারি অভিমুখে সৈন্য চালনা করে। এর কয়েকদিনের মাথায় ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের মধ্যে জোটের অন্যান্য মিত্রদেশ বুলগেরিয়া, সার্বিয়া এবং গ্রিস একযোগে যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করে। অটোমান সাম্রাজ্য একযোগে চারদিক থেকে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাপক সামরিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। সামরিক আধুনিকায়নের অভাব, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণে উসমানীয় বাহিনী জোটবদ্ধ বলকান সেনাদলের কৌশলগত আক্রমণ সহ্য করতে ব্যর্থ হয়। কয়েকটি প্রধান যুদ্ধে পরাজয়ের পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তারা প্রায় সমগ্র বলকান ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হয়। ১৯১৩ সালের মে মাসে লন্ডনে স্বাক্ষরিত ‘ট্রিটি অব লন্ডন’-এর মাধ্যমে প্রথম বলকান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এ যুদ্ধের ফলে উসমানীয় সাম্রাজ্য ইউরোপ মহাদেশে তার শতাব্দী প্রাচীন প্রায় সব অঞ্চল চিরতরে হারায়। বিজয়ী বলকান রাষ্ট্রগুলো জয় করা এলাকা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয় এবং ইউরোপের মানচিত্রে জন্ম নেয় এক নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র আলবেনিয়া।

প্রথম বলকান যুদ্ধ ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের জন্য একটি বিশাল বাঁক পরিবর্তনকারী ঘটনা। এটি একদিকে যেমন অটোমান শাসনের অবসানকে ত্বরান্বিত করে, অন্যদিকে মেসিডোনিয়ার ভূখণ্ড বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিজয়ী বলকান দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্টি করে চরম তিক্ততা। যার ফলে পরবর্তী সময়ে ‘দ্বিতীয় বলকান যুদ্ধ’ এবং শেষে ১৯১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ’-এর দাবানল জ্বলে ওঠে। 

প্রথম বলকান যুদ্ধ
প্রথম বলকান যুদ্ধ

‘ঘাটতি নেই’ জানান দিতেই বাজারে ২০০ কোটি ডলার ছাড়ল ইরান

ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার কোনো ঘাটতি নেই, এমন বার্তা দিতে বাজারে ২০০ কোটি ডলার সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা দেখাতেই এই অর্থ বাজারে ছাড়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। খবর আল জাজিরার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া বক্তব্যে হেম্মাতি বলেন, ‘বাজারে ২০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করার কারণ ছিল ট্রাম্প ও তার অর্থমন্ত্রীকে বোঝানো যে, বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

হেম্মাতির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ইরানের বাজারে মোট প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, চলতি বছরে সরবরাহ কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।

তবে এই ঘাটতি মূলত শিল্প খাতে সীমাবদ্ধ বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে এর প্রভাব পড়েনি। বরং ওষুধ আমদানির জন্য সরবরাহ করা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বক্তব্য এসেছে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের পর। গত শনিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য নতুন রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে যায়। রয়টার্সের হিসাবে, সেদিন খোলা বাজারে প্রতি ডলারের দাম প্রায় ২৬ লাখ ৮৮ হাজার রিয়ালে উঠে যায়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা ও তেল আয়ের প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রিয়ালের ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাজারে ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সরবরাহের উদ্যোগ নেয়।

এর আগে সেপ্টেম্বরেও হেম্মাতি জানিয়েছিলেন, ইরানের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে এবং বাজারের অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সরবরাহ করতে প্রস্তুত।

তেহরানের একটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে ইরানি রিয়ালের নোট প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
তেহরানের একটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে ইরানি রিয়ালের নোট প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে রাশিয়া

ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।

ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।

তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।

এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।

গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।

ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, অভিভাবক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েক শ মানুষ আহতও হয়েছেন। আর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এ পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর রয়টার্সের।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার কয়েক ডজন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আড়াই লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার। প্যারিস, স্ত্রাসবুর, রেন ও তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সোমবারের সংঘর্ষে এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার সংসদে লেকর্নু জানান, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন কিশোর ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, কয়েক দশকের মধ্যে শিক্ষা খাতকে এমন প্রাণহানি ও হতাহতের মুখে পড়তে হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারের সহিংসতায় ৭০০-এর বেশি পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এদিন ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মী।

প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো প্রায় ৩০০ জনের অধিকাংশই মুখ ঢাকা বা মুখোশ পরা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর বাইরে অধিকাংশ বিক্ষোভ অবশ্য শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলোতে এ বিক্ষোভের শুরু। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক সংকট, অর্থের অভাব এবং অবকাঠামোর বেহাল দশা দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও পানি চুইয়ে পড়ছে, কোথাও আবার ইঁদুরের উপদ্রবের মতো মৌলিক সমস্যাও রয়েছে।

উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকের বেশি উচ্চবিদ্যালয় মঙ্গলবার অবরুদ্ধ ছিল অথবা সেদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। কিছু এলাকায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাড়ানো। পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিও রয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভের কারণে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার লেকর্নু ও সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেন। লেকর্নু মন্ত্রীদের শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব দিতে বলেছেন।

তবে সরকারের এসব উদ্যোগে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা যায়নি। প্যারিসের একটি স্কুলের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিভাবক এমিলি লোম বলেন, সরকারের বক্তব্যে বাস্তব জীবনে তাদের সন্তানদের পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সংগঠনগুলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, আন্দোলনটি কিছু বহিরাগত ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং কয়েকটি এলাকায় তা নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ফ্রান্সের চলমান অর্থনৈতিক সংকটও আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং বাজেট ঘাটতি কমানোর চাপের মধ্যে শিক্ষা খাতে নতুন অর্থ বরাদ্দ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার সাময়িকভাবে ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের ওপরে উঠে যায়।

শিক্ষায় সরকারের ব্যয় মূল্যস্ফীতির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক শিক্ষাগত পারফরম্যান্সে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত (ওইসিডি) অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভকে অভিবাসন ও ইসলাম প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্রান্সে আগামী বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে দেশটির রাজনীতিতে ডান ও বাম উভয় ধারার জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর সমর্থন বাড়ছে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সরকারকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে।

বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিচ্ছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিচ্ছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স

সামরিক ড্রোন রপ্তানির ৮৬ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের

২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে রপ্তানি হওয়া সামরিক ড্রোনের ৮৬ শতাংশই সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে মোট ১৬ হাজার ৮২২টি সামরিক ড্রোন রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজার ৫৯৩টি এবং ইরান ৬ হাজার ৮০০টি ড্রোন রপ্তানি করেছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব প্রকাশ করেছে ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট।

বিশ্বের মোট সামরিক ড্রোন রপ্তানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ইরানের ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা ড্রোনের ৯৫ শতাংশ গেছে ইউক্রেনে। অন্যদিকে ইরানের রপ্তানি করা ড্রোনের ৯৯ শতাংশই গেছে রাশিয়ায়।

সিপ্রির হিসাবে, ১৫০ কেজি বা তার বেশি ওজনের ড্রোন সামরিক ড্রোনের তালিকায় ধরা হয়েছে। একবার ব্যবহার করে ধ্বংস হয়ে যায় এমন হামলাকারী ড্রোন ও লইটারিং মিউনিশনও এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে। তবে ছোট এফপিভি ও বাণিজ্যিক ড্রোন এতে ধরা হয়নি।

বিশ্বে রপ্তানি হওয়া সামরিক ড্রোনের ৯৭ শতাংশই একবার ব্যবহারযোগ্য। তাই যুদ্ধের সময় অল্প কয়েকটি দেশ থেকে বড়সংখ্যক ড্রোন সরবরাহ হওয়ায় মোট সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

ইরানের রপ্তানি করা প্রায় সব ড্রোনই শাহেদ-১৩৬ মডেলের। রাশিয়ায় ইরানের লাইসেন্সে তৈরি করা এসব ড্রোনও ইরানের রপ্তানি হিসেবে হিসাব করেছে সিপ্রি।

রপ্তানির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটি ১ হাজার ড্রোন রপ্তানি করেছে। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড ৬৯০টি এবং তুরস্ক ৩৮১টি ড্রোন নিয়ে।

২০২৫ সালে ইরান ড্রোন রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ইরান ২ হাজার ২টি ড্রোন সরবরাহ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি করেছে ৪০২টি।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ১০টি ড্রোন রপ্তানি করেছিল। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার ২১৯টিতে পৌঁছায়। তবে ২০২৫ সালে ইউক্রেনকে নতুন করে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির ড্রোন রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা বেশিরভাগ ড্রোন গেছে তাইওয়ানে। দেশটি ২৯১টি লইটারিং মিউনিশন পেয়েছে। একই বছরে ব্রিটেনের অর্থায়নে ইউক্রেন ১০০টি মার্কিন তৈরি লইটারিং মিউনিশন পেয়েছে।

অন্যদিকে তুরস্ক পরিমাণের দিক থেকে পঞ্চম হলেও সবচেয়ে বেশি দেশে সামরিক ড্রোন সরবরাহ করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি ২৮টি দেশে ড্রোন রপ্তানি করেছে। এই সংখ্যা সামরিক ড্রোন আমদানিকারক ৫৪টি দেশের অর্ধেকেরও বেশি।

তুরস্কের ড্রোনের ক্রেতাদের মধ্যে আফ্রিকার ১২টি দেশ ছাড়াও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড ও রোমানিয়া, পাকিস্তান, কুয়েত এবং ইউক্রেন রয়েছে।

তুরস্কের রপ্তানি করা ড্রোনের প্রায় ৭৫ শতাংশই বড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ড্রোন। এর মধ্যে বায়রাকতার টিবি-২ অন্যতম। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া ৪৮৬টি এ ধরনের ড্রোনের মধ্যে ২৮১টিই সরবরাহ করেছে তুরস্ক।

সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্রের মূল্যায়ন করা হলে ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়ে তুরস্কই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ড্রোন রপ্তানিকারক।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ গাড়ি অরাস সেনাটে চড়েন পুতিন, কী আছে এতে

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর ব্যবহৃত বিলাসবহুল সাঁজোয়া লিমোজিন গাড়ি অরাস সেনাট। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত যানবাহনগুলোর একটি। যেসব বিশ্বনেতা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম পুতিন। তিনি তাঁর সব সফরে বিশেষায়িত লিমোজিনটি নিয়ে যান।

অরাস সেনাটের খুঁটিনাটি

অরাস সেনাট রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিলাসবহুল লিমোজিন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এটি। গাড়িটির ভেতরের অংশ অত্যন্ত বিলাসবহুল ও উচ্চ-প্রযুক্তিতে তৈরি।

রুশ মডেলের এই লিমোজিনের আগে পুতিন মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস ৬০০ গার্ড পুলম্যান ব্যবহার করতেন। তবে পরে মস্কো আমদানি করা গাড়ির পরিবর্তে নিজেদের কোর্তেজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত গাড়ি সরকারি কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। সরকারের জন্য অতি বিলাসবহুল ও সম্পূর্ণ সাঁজোয়া যান তৈরির জন্য এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে পুতিনের শপথ অনুষ্ঠানে অরাস সেনাট উন্মোচন করা হয়। রাশিয়ার নামী ইনস্টিটিউট সোলার্স জেএসসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাওয়াজুন হোল্ডিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় অরাস মোটরস গাড়িটি তৈরি করে।

২০২১ সালে এই লিমোজিনের ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়। এর পর থেকে লিমোজিনটি উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক মুহূর্তে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে এটি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে উপহার দেওয়া হয়।

কেন অরাস সেনাটকে ‘অভেদ্য’ বলা হয়

চরম হুমকির মুখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের সক্ষমতা রয়েছে অরাস সেনাটের। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

লিমোজিনটি সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ। এটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতা রয়েছে। গাড়িটি পানিতে পড়ে গেলে ভেসে থাকতে পারে ও নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। সব টায়ার নষ্ট হয়ে গেলেও গাড়িটি উচ্চগতিতে চলতে পারে।

রাসায়নিক হামলা প্রতিরোধে গাড়ির কেবিনে রয়েছে স্বতন্ত্র বায়ু-পরিশোধন ব্যবস্থা, যা ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস ঢুকতে দেয় না। গাড়িটির ইঞ্জিন এত বেশি শক্তিশালী যে এটি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি ওঠাতে মাত্র ৬ থেকে ৯ সেকেন্ড সময় নেয়।

গাড়িটির ভেতরের অংশ অত্যন্ত বিলাসবহুল। চামড়ার আসন, হাতে বানানো কাঠের প্যানেল, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে।

অরাস সেনাটের দাম

অরাস সেনাটের সাধারণ সংস্করণের দাম প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ রুবল। পুতিনের জন্য তৈরি বিশেষ সাঁজোয়া সংস্করণে গোপন নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটির দাম সাধারণ মডেলের প্রায় দ্বিগুণ। এ সংস্করণ সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা হয় না।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিলাসবহুল সাঁজোয়া লিমোজিন অরাস সেনাট
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিলাসবহুল সাঁজোয়া লিমোজিন অরাস সেনাট। ছবি: রয়টার্স