Tuesday, August 7, 2012
নারীর সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে পুষ্টির ভূমিকা
নারীর সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে পুষ্টির ভূমিকা
আলোচনা আব্দুল কাইয়ুম আমাদের দেশে পরিবারের মধ্যে নারী-পুরুষে বৈষম্য দেখা যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিনোদন—সর্বক্ষেত্রে পুরুষের অগ্রাধিকার থাকে। বিশ্বে অনেক আগেই নারীর পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আমাদের দেশে পুষ্টিতে নারীরা পিছিয়ে আছে। নারীর পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
একজন সুস্থ নারী একটি সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন। তাই নারীর পুষ্টির ওপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
আজকের আলোচ্য বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির ওপর আগেই অনেক বেশি জোর দেওয়া উচিত ছিল। মানুষ এখন পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পুষ্টির বিষয়টিতে বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলতে হয়েছে। পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা কোন ধারায় যাচ্ছি, এ নিয়ে একধরনের পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসময় বিআইএনপি ও এনএনপি (বাংলাদেশ ইনটিগ্রেটেড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ও ন্যাশনাল নিউট্রিশন প্রজেক্ট) কর্মসূচি করেছে। ভার্টিকাল কর্মসূচি: প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব করা হয়েছে। ৪৮৩টি উপজেলার মধ্যে প্রায় ১৬৭টিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পুষ্টি কার্যক্রম চলছে।
শহরাঞ্চলে পুষ্টির কোনো কার্যক্রম নেই। কাজেই দেশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পুষ্টির ক্ষেত্রে যে অর্জন, সেটা খুবই সামান্য। এর কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুষ্টিকে পৃথক কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করেছে। পুষ্টির বিষয়টি মূলধারায় ছিল না। আমরা এটিকে মূল স্রোতে নিয়ে আসার কথা বলেছি। পুষ্টি কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এর সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। বিশেষ করে খাদ্য, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজটি করে, তখন অনেকের ধারণা হয় যে কাজটি শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এখন সবার দায়িত্ব ঠিক করে নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি নেতৃত্বে থাকে, তাহলে তার দায়িত্ব কতটুকু, অন্যদের কতটুকু। আমাদের অতীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কী, এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। পুষ্টির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় নারী-শিশু সবার পুষ্টির বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম
আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর পুষ্টির দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলো যেন সামনে আসে এবং সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এবার বলবেন তাসকীন চৌধুরী।
তাসকীন চৌধুরী
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। স্বাস্থ্যে ছাড়াও অপুষ্টির প্রভাব পড়ে অর্থনীতি, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে। গত চার দশকে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যার কিছু সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তথাপি অপুষ্টি বাংলাদেশের জন্য এখনো একটি বড় সমস্যা, আর এর প্রধান শিকার আমাদের নারী ও শিশুরা। এক হিসাবমতে, দেশের ৩০ শতাংশ নারী মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছেন, ১৫ শতাংশ খর্বকায়ত্বের শিকার। প্রতি ১০ জন নারীর চারজনই রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। ৩৯ শতাংশ নারীর মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে। আবার অন্যদিকে অতিপুষ্টি আমাদের দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে। এক তথ্য থেকে জানা যায়, এশিয়ান কাটঅফ ব্যবহার করে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর বিএমআই ২৩-এর ওপরে। অপুষ্টির এই চিত্র সত্যি ভয়াবহ। বাংলাদেশের মতো ‘স্বল্প আয়ের’ দেশকে এর জন্য মূল্য দিতে হয় প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
একজন অপুষ্টিতে আক্রান্ত নারী কেবল নিজেই ভুক্তভোগী হন না; তিনি জন্ম দেন কম ওজনের শিশুর, যাদের সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি হয় না, ঘন ঘন রোগাক্রান্ত হয় আর সারা জীবন রোগ বা মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে বসবাস করে। এভাবেই অপুষ্টির দুষ্টচক্র এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায় আর চাপ সৃষ্টি করে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর।
গত দুই দশকে পোশাকশিল্প আর ক্ষুদ্র ঋণ প্রণীত ব্যবসায় বাংলাদেশের নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এই বিশাল জনসম্পদ যদি অপুষ্টির শিকার হয়, তাহলে আর্থিক অসচ্ছলতায় পড়েন তিনি নিজে, তাঁর পরিবার এবং সর্বোপরি জাতি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপুষ্টির কারণে কর্মক্ষমতা ১০-১৫ শতাংশ আর জাতীয় উৎপাদন ৫-১০ শতাংশ কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, খর্বকায় শিশুরা দেরিতে স্কুলে যায়, নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না আর একই ক্লাসে বারবার অধ্যয়ন করে। ভিটামিন এ-র অভাবে শিশু ঘন ঘন অসুখে ভোগে আর তাই ঘন ঘন স্কুল কামাই করে।
বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই বরাদ্দ খুবই কম। তবে পুষ্টির মতো বা নারী পুষ্টির মতো জরুরি বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়। নারীরা যেহেতু জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারেন, তাই পুষ্টিকে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরেরও বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সাধন।
আনোয়ার হোসেন শিকদার
১৯৯৪ সাল থেকে প্ল্যান বাংলাদেশে কাজ শুরু করে। কিন্তু পুষ্টির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৩-০৪ সাল থেকে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে পুষ্টি বিষয়ে কাজ করে এ পর্যন্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, ইনটিগ্রেটেড নিউট্রিশন প্রজেক্ট, ইনটিগ্রেটেড ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটি প্রজেক্ট নামে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তা ছাড়া প্ল্যান বাংলাদেশ ‘প্রমোশন অব এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং’ নামে একটি প্রকল্প ২০১২ সালের মার্চ মাসে শেষ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯ হাজার গর্ভবতী মা এবং ৪৬ হাজার প্রসূতি মা উপকৃত হয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশ মা তাঁদের শিশুদের শালদুধ এবং ৬৫ শতাংশ মা তাঁদের সন্তানদের শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করিয়েছেন। ৬২ শতাংশ পুরুষকেও আমরা এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি। এখন আমরা ‘উইনি’ নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যেখানে নারীর পুষ্টিসহ অন্যান্য বিষয় থাকবে। গাজীপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীর ২৫টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখান থেকে গর্ভবতী মাসহ দুই বছরের নিচের দুই লাখেরও অধিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আশা করছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মায়েরা বাড়িতে বাগান ও মুরগির খামারের ওপর প্রশিক্ষণ পাবেন।
প্রকল্প থেকে মায়েরা যেমন পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছেন, তেমন কিশোরীরা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জেন্ডার বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, পুষ্টি বিষয়ে শুধু নারীদের সচেতন করলে বেশি ফল পওয়া যায় না। এর জন্য আমরা পুরুষদেরও সম্পৃক্ত করেছি।
মো. এখলাসুর রহমান
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুস্থ মায়ের জন্য অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ৩০ শতাংশ মা অপুষ্টিতে ভুগছেন। ৪৬ শতাংশ গর্ভবতী মা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন রোগে মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারি কার্যক্রমের একটা প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মায়েদের অপুষ্টি থেকে রক্ষা করা। আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এনেছি। এক. পুষ্টিকে মূল স্রোতধারায় আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিপূর্বে ভিটামিন ‘এ’ কভারেজ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম মূল স্রোতধারায় এনে সফলতা অর্জন করেছি। সে কারণে নারীর পুষ্টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং মূল স্রোতধারায় আনার ব্যবস্থা করছি। দুই. পুষ্টি কার্যক্রমকে সমন্বিত করে পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছি। দেশে আরও ১৩টি মন্ত্রণালয় পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের একত্র করে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি ব্যাপকভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কাজগুলো ঠিকমতো পরিচালিত হওয়ার জন্য কমিটি আছে। জাতীয় পুষ্টিসেবার আওতায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে আচরণের পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশনসহ ২০টি কার্যক্রম রয়েছে। এই ২০টি কার্যক্রমের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হলো সমগ্র বাংলাদেশে ও হাসপাতালগুলোতে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালিত করা। দেশের ৮০টি উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে যাঁরা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। গ্রামাঞ্চলের মা ও শুিশুদের অপুষ্টি বের করার পদ্ধতি শিখিয়েছি। অপুষ্টি নির্ণয়ের পদ্ধতির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশের মা ও শিশুদের অপুষ্টি নির্ণয় করে তাদের পুষ্টির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা যাবে।
এস কে রায়
মায়ের পুষ্টি এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১১ সালের জরিপে দেখা যায়, নারীর গড় উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার। ১৪০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় গর্ভধারণ করলে তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সে হিসাবে দেশের অর্ধেক নারী গর্ভঝুঁকিতে রয়েছেন, যা মা ও সন্তান উভয়ের জন্য বিপদ হতে পারে। দেশের মায়েদের গড় ওজন ৫০ কেজি। এর অর্থ হচ্ছে, ৫০ শতাংশ নারীর ওজন ৫০ কেজির নিচে। উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত হিসাব করে যে বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) করা হয়, তা ১৮ দশমিক ৫-এর নিচে হলে ক্রনিক এনার্জি ডেফিসিয়েন্সি বলে ধরা হয়। এখন গড়ে দেশের ৩০ শতাংশ নারী ক্রনিক এনার্জি ডেফিসিয়েন্সির নিচে। আবার শহরে ২৫ শতাংশ ও গ্রামে ৮ শতাংশ নারীর বিএমআই ২৫-এর ওপরে। তাঁরা হূদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। দেশে ৩৬ শতাংশ শিশুর জন্ম কম ওজনে, অর্থাৎ আড়াই কেজির নিচে। এই শিশুদের একটা অংশ নারী, যাদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়। পারিবারিক চাপের কারণে বিয়ের এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করতে হয়। এঁরা আবার কম ওজনের সন্তান জন্ম দেয়। এভাবে দুর্বল মা ও দুর্বল সন্তানের একটি চক্র গড়ে উঠছে। জন্ম থেকে প্রতিটি পর্যায়ে এই নারীরা ঝুঁকি বহন করছে। অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা জরিপ থেকে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নেই। অর্থাৎ, এত বড় একটা জনগোষ্ঠী খুব প্রান্তিক জীবন যাপন করে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রোটিন, খনিজ লবণ ইত্যাদি উপাদান থেকে বঞ্চিত।
পুষ্টির ঘাটতিজনিত কারণে একটা বড় জনগোষ্ঠী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। এই অর্থ দিয়ে যদি তাদের পুষ্টির ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে এত হাসপাতাল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন হতো না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব, এই খাতে বিনিয়োগ করা হোক। অবশ্যই এই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যাবে। আজকে চীনারা রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে হাসপাতালের খরচ অনেক কমিয়ে ফেলেছে এবং সুস্থ জীবন যাপন করছে। শেষ কথা হলো, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যদি গঠনমূলক পরিকল্পনা ও সত্যিকার অর্থে এ ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছ থাকে, তাহলে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় অনেক কিছু করা যায়।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনা থেকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, পুষ্টি বাড়ালে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি আসে এবং অসুস্থতা কমে গিয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের খরচ কমে যায়। এবার শুনব জেবা মাহমুদের কাছ থেকে।
জেবা মাহমুদ
আজ থেকে স্লোগান হওয়া উচিত ‘নারীর প্রতি আর কোনো বৈষম্য, অবহেলা নয়’। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। পুষ্টির অভাবে কর্মদক্ষতা কমে যায়। অধিকাংশ নারীকেই ঘর-সংসারের কাজ করতে হয়। ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে হয়। পুষ্টির ঘাটতির জন্য নারীরা এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হন। ফলে ছেলেমেয়েদের পরিমিত পরিচর্যা হয় না। সংসারজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মায়ের অপুষ্টি শুধু মাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, তাঁর গর্ভজাত সন্তানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গর্ভধারণ থেকে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ এক হাজার দিন মায়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মায়ের অপুষ্টি থাকলে কম ওজনের অপুষ্ট সন্তান হবে। এক হিসাবমতে, দেশের প্রায় আড়াই কোটি নারী আয়রন, আয়োডিনসহ বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। এঁরা যদি একটি করে শিশু জন্ম দেন, তাহলেও আড়াই কোটি শিশু জন্ম নেবে অল্প আয়রন, আয়োডিনসহ অন্যান্য উপাদানের অভাব নিয়ে। এই শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভুগবে। আয়োডিনের অভাবে মেধ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আরও নানাবিধ সমস্যায় ভুগতে থাকবে।
নারীর পুষ্টির বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। এবং সরকারের নেতৃত্বে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাই একসঙ্গে এগিয়ে এলে এই সমস্যা থেকে নারীরা মুক্তি পাবেন। তাহলে আমরা পাব সমৃদ্ধ মা, বলিষ্ঠ শিশু ও আলোকিত ভবিষ্যৎ।
খুরশীদ তালুকদার
নারীর পুষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। গতানুগতিক কিছু বিষয়কে পুষ্টির মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছি। পুষ্টির মাপকাঠি হিসেবে ১৮ দশমিক ৫ বিএমআইকে ধরা হচ্ছে। অথচ বিগত ১৪ বছরের হিসাব অনুযায়ী, পুষ্টিবঞ্চিত মানুষের হার ৫৩ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, অপুষ্টি অর্ধেকে নেমে গেছে। এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বিএমআই ২৩ শতাংশের ওপরে গেলেই ডায়াবেটিস, হূদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশে এখন এত অধিকসংখ্যক নারী-পুরুষের বিএমআই ২৩ শতাংশের ওপরে, যা জাতীয় সমস্যা তৈরি করছে। ২০০৬ সালে ছয়টি বিভাগীয় শহরের বস্তি এলাকার জরিপে দেখা যায়, সেখানকার নারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ এবং পুরুষের মধ্যে ১৭ শতাংশ হাইপারটেনশনে ভুগছেন। ডায়াবেটিস নারীর মধ্যে ৯ এবং পুরুষের মধ্যে ১৩ শতাংশ। যারা বস্তি এলাকার বাইরে, তাদের অবস্থা বুঝতে কষ্ট হয় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এসব রোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।
পুষ্টি কার্যক্রমের মধ্যে অতিপুষ্টি, ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। একজন কম ওজন ও অন্যজন বেশি ওজন—উভয় নারীকেই স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
২০০৮ সালের ল্যানসেট নিউট্রিশন সিরিজে প্রতিটি দেশের মায়েদের জন্য পুষ্টি কার্যক্রমের মধ্যে ছিল আয়রন ট্যাবলেট সরবরাহ—সেটা আমরা করছি। মাল্টিনিউট্রিয়েন্ট পাউডারের ব্যাপারে কাজ হচ্ছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। মায়েদের যদি ক্যালসিয়াম ঠিকমতো না থাকে, তাহলে সন্তান প্রসবের সময় তাঁদের রক্তচাপ ও খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পুষ্টির সঙ্গে ক্যালসিয়ামকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ফেরদৌসী বেগম
খাবারের পর্যাপ্ততা, প্রাপ্যতা ও সঠিক ব্যবহারের ওপর পুষ্টি নির্ভর করে। আজকের আলোচনা থেকে আরেকটি বিষয় ধারণা হলো যে এটি একক কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আয়োজন করলে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। একজন মায়ের পুষ্টির নিশ্চয়তার জন্য পরিবারের সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। পারিবারিক সহযোগিতা পুষ্টির একটি বড় দিক। পুষ্টির জন্য দেশব্যাপী প্রচার করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যতালিকায় নির্দিষ্টভাবে পুষ্টি কর্মসূচি রেখে কার্য পরিচালনা করলে মায়েরা বেশি উপকৃত হবে।
অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি—এ দুটো বিষয়ও মানুষকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শেষে বলতে চাই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি ও এনজিওগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে বসে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর কার্য মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুভ্রা চাকমা
অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দেশে খাদ্যের সমস্যা রয়েছে। পুষ্টির জন্য প্রথমে দরকার খাদ্যের নিরাপত্তা। শুধু খাদ্যের নিরাপত্তা হলেও হবে না, দরকার সুষম খাদ্য। বর্তমানে ইপিএ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের আটটি রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মেয়েদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়। মেয়েরা ১৫ বছর অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিকা দিয়ে মা ও নবজাতককে ধনুষ্টংকারের হাত থেকে রক্ষা করি। ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৩টি উপজেলায় গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের বিশেষ সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। খুব প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে নারী, কিশোরী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।
মো. ইফতেখার হাসান খান
নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে বলতে চাই। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমিত থাকলে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ে। আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে দক্ষতা কমে যায়। মা ও শিশুর মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে উপস্থিত বুদ্ধি কমে যায়। আয়োডিনের অভাব থাকলে মায়েরা ভালো অভিভাবকত্ব করতে পারেন না। দই খেলে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।
এই কাজের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করতে হবে। আয়োডিন, আয়রন ইত্যাদি উপাদানের অভাবে কী কী ক্ষতি হয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হবে। যদি বলি অ্যানিমিয়া হয়, তাহলে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে না। যদি বলা হয় যে নানাবিধ অসুখ-বিসুখে পড়বে, পড়ালেখার দক্ষতা কমে যাবে, পরীক্ষার ফল ভালো হবে না, নিজেদের আয় ও উৎপাদনক্ষমতা কমে যাবে, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়ে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না; তাহলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
শহরাঞ্চলে মায়েরা শিশুদের শাক-সবজির পরিবর্তে আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাবার বেশি খাওয়ান। শাক-সবজি খাওয়ান না। তাই শিশুরা স্থূলকায় হয়। যেটা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। শহরের মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
এস এম মোস্তাফিজুর রহমান
আয়রন, আয়োডিনের অভাবে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। এশিয়া মহাদেশে কেউ অলিম্পিকে প্রথম হতে পারেনি। কারণ, আয়রনের অভাবে অক্সিজেনের স্বল্পতা। তৃপ্তির মানদণ্ডে খাবার রান্না করা হয়, পুষ্টির মানদণ্ডে নয়। বাজার থেকে খাবার কেনার পর টেবিলে আসা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যে যেটুকু নিরাপত্তা আছে, তাকে কাজে লাগাতে পারছি না। দেশে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন গর্ভবতী, যার বয়স ১৮ বছরের নিচে। প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন শিশু জন্ম নিচ্ছে, যার ওজন আড়াই কেজির নিচে।
মানুষের জন্মের পর আর কোনো মাথার কোষ তৈরি হয় না। জন্মের দুই বছর পর্যন্ত কোষগুলো একে অন্যের সঙ্গে জোড়া লাগে। এই কাজের জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। খাওয়ার আগে সবাইকে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। পুষ্টি কার্যক্রম শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ না রেখে স্কুল-কলেজ, দুর্গম এলাকা—সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগুলোতে পুষ্টি ক্লাব তৈরি করতে হবে, যাতে নিজের জীবনে পুষ্টিজ্ঞান কাজে লাগাতে পারে। দেশের সব সেবাকেন্দ্রে সন্তান জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শেষ কথা হলো, পুষ্টির ক্ষেত্রে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সবার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা যদি পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নিই, মায়ের শরীর ভালো রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে হবে এবং দুটির বেশি সন্তান হবে না; তাহলে মায়ের সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত হতে পারে। এখন বলবেন মোহাম্মদ শরীফ।
মোহাম্মদ শরীফ
একটি অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করি। দেশের মায়েদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। একসময় চিটাগংয়ের বাকুলিয়ায় কাজ করি। একজন গর্ভবতী রোগী ছিলেন, তিনি চিটাগং কলেজের প্রভাষক। আমি তাঁকে নিয়মিত খওয়াদাওয়ার কথা বলতাম। আয়রন, আয়োডিনসহ বিভিন্ন ভিটামিনের কথা বলতাম। একপর্যায়ে তিনি খুবই দুর্বল এবং কম ওজনের একটি সন্তান জন্ম দিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি শরীর ঠিক রাখার জন্য ভিটামিনসহ কোনো খাবারই ঠিকমতো খাননি এবং শিশুর জন্মের পর বুকের দুধ পান করাননি। পরে সেই শিশুটি এতটাই অসুস্থ হলো যে তাকে বাঁচানোই কষ্টকর হয়ে গেল। এখনো সে দুর্বল হয়েই বেঁচে আছে। তার পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব হয়নি। পরে সেই মা অনেক কেঁদেছেন। কিন্তু তখন সময় অনেক চলে গেছে। তাই মায়েদের বলব, সন্তানের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না।
পরিবার পরিকল্পনায় এখন অনেক নারীকর্মী আছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুধু পরিবার পরিকল্পনার কথা বলবেন কেন। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা কথা বলবেন। আমার বিশ্বাস, এটি করলে পুষ্টির ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাব। কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুষ্টির ক্ষেত্রে যত ধরনের সহযোগিতা আমাদের করার সুযোগ আছে, সবটাই করব।
সেলিনা আমিন
দেশব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। নারীশক্তির উন্নয়ন হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নের সূচক। আমরা টিকার কথা বলছি, কিন্তু একবারও গর্ভাশয় ক্যানসার রোধে টিকার কথা বলছি না। আমরা সাধারণত মায়ের স্বাস্থ্যের কথা বলে থাকি, কিন্তু নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা বলছি না। শুধু মাকে নিয়ে ভাবলে মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন হবে না। যদি বড় পরিসরে নারীসমাজ নিয়ে ভাবি, কেবল তখনই মায়ের উন্নয়ন হওয়া সম্ভব। এখনো নারীর জন্য সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত বাধা রয়েছে। প্ল্যান এ বিষয়ে কাজ করছে।
মাঠে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, নারীর পুষ্টি খুবই জরুরি একটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষের ভূমিকা রয়েছে। তাই এ কাজের জন্য কিছু পুরুষকে নিয়োগ দিয়েছি। প্ল্যানের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারী ও শিশুর উন্নয়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যখন কমিউনিটিতে কাজ করি, তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, উপজেলা পর্যায়ে সমস্যা কম। সবাই মিলেমিশে কাজ করতে পারছি। কিন্তু অন্যান্য পর্যায়ে সমস্যা বেশি। সেখানে সমন্বয়ের অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতাসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যেকোনো কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় জরুরি।
ইকবাল কবীর
আজকের আলোচনার শিরোনাম অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের পেছনে রেখে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী উন্নয়নের জন্য খাদ্য-পুষ্টি সবই অপরিহার্য উপাদান। ১৯৯৮ সালে পুষ্টি বিষয়ে কিছু কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তখন অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি—দুটোই লক্ষ করেছি। আমাদের দুটোই মোকাবিলা করতে হবে। মায়েদের পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে কিশোরী মা ও কিশোরীদের পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। শেষে দুটো জায়গা বলতে চাই—এক. নবদম্পতিদের পরামর্শদানের ব্যবস্থা করা। সারা জীবন তাঁরা একসঙ্গে অতিবাহিত করবেন। জীবনের শুরুতে একটি রুটিন তৈরি করে দিতে পারলে জীবন অনেক পরিচ্ছন্ন হবে। দুই. আগামী ১০ বছর পর দেশে বয়স্ক লোকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। অপুষ্টিসহ তাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবেন। সেই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ
জাতীয় পুষ্টি পরিষদ প্রায় অকার্যকর বিষয়ে যে সংবাদ আজকে প্রথম আলোয় এসেছে, তার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। জাতীয় পুষ্টি পরিষদ নামেমাত্র প্রতিষ্ঠান আমরা দেখতে চাই না। একে মূল স্রোতে আনার জন্য কাজ চলছে। আমরা বুঝতে পারছি, পুষ্টিকে মূলধারায় না আনতে পারলে এ ক্ষেত্রে সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। কোন খাবারে কোন ভিটামিন আছে, কী খাওয়া এবং কী না খাওয়া দরকার, এখন মানুষ তা জানে। সকালবেলা রুটি ও মিষ্টি, বাজারে গিয়ে চা-পাউরুটি খাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরও প্রচার দরকার। পাঠ্যপুস্তকে পুষ্টি বিষয়ে যেভাবে আছে, সেটা যথেষ্ট না। শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে আরও বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে। যাতে পরে তারা এটিকে প্রয়োগ করতে পারে। কাজটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আলোচনায় রান্না-প্রক্রিয়ার বিষয় এসেছে। এটা সত্যি কথা, দেশে খাদ্য রান্নার প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে হবে। রান্নার সময় দেশের অধিকাংশ পরিবার পুষ্টির বড় অংশ নষ্ট করে ফেলে। এই দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এটা শুধু চালের হিসাবে। খাদ্যের অন্য বিষয়গুলো বিবেচনায় আসছে না।
এ কে এম আমির হোসেন
পরিবারে ও সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সব কালে, সব সমাজে, সব সময় মায়েরা ছিলেন অনন্য, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। দেশে বেশির ভাগ মা গৃহবধূ। সন্তান মানুষ করাসহ ঘর-সংসারের প্রায় সব কাজ তাঁরা করেন। এই মায়েদের যদি ভালো পুষ্টিজ্ঞান থাকে, তাহলে তা নিজেরসহ সন্তান ও পরিবারের অন্য সবার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। এ জন্য মায়েদের পুষ্টিজ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। চীনাদের উচ্চতা একসময় কম ছিল। এখন তারা অস্ট্রেলীয়দের ছুঁই ছুঁই করছে। চিনের নগ্নপদ চিকিৎসকের কথা জানি, যাঁরা পায়ে হেঁটে বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান দিতেন। তারা আজকে যে লম্বা হচ্ছে, মনে হয় এর পেছনে এই নগ্নপদ চিকিৎসকের একটা বড় ভূমিকা আছে। আমাদের এ রকম কোনো ভূমিকা নিতে হবে। এক অনুষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারলাম, একজন স্বাস্থ্যকর্মী একটি স্কুলে স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করেন। দেখা গেল, সেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য তুলনামূলক অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভালো। ভালো হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেল, তারা খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিত। স্বাস্থ্যকর্মী সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। শুধু হাত ধোয়ার জন্য যদি এই পরিবর্তন আসে, তাহলে এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে।
মেয়েশিশুদের জীবনের শুরু থেকে পুষ্টির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে এরাই মা হবে। শিশু বয়সে অপুষ্টি থাকলে পূর্ণ বয়সে সেটা কতটুকু পূরণ করা সম্ভব, সেটা হয়তো আরেকটি জরুরি প্রশ্ন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টি বিষয়ে একটি অধ্যায় থাকার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে।
মাখদুমা নার্গিস
যখন নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন এই আন্দোলনকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েই আন্দোলন করেছিলাম। আজকে পুষ্টির ক্ষেত্রে যদি সফলতা অর্জন করতে চাই, তাহলে অবশ্যই একে মূলধারায় আনতে হবে। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় বুঝেছি, তিনি কাজটিকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি চান কাজটি সফলভাবে পরিচালিত হোক। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টির ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে কমিউনিটি গ্রুপ এবং সাপোর্ট গ্রুপ আছে, যারা গ্রামের মানুষের মধ্যে পুষ্টিসহ স্বাস্থ্যের নানা দিক নিয়ে পরামর্শ দেয়। তারা যাতে কাজটি সফলভাবে করতে পারে, তার জন্য তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারি-বেসরকারি যাঁরাই আপনারা কমিউনিটি ক্লিনিকে যান, তাঁরা খোঁজখবর নেবেন যে কাজটি ঠিকভাবে হচ্ছে কি না। আলোচনায় বারবার এসেছে যে এটি একার কারও কাজ নয়, সবার কাজ। এদের স্বাস্থ্য বিষয়ে যে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তা যদি ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে চীনের সেই নগ্নপদ চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমাদের দেশেও বড় কোনো বিপ্লব ঘটতে পারে।
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশকে সাবসাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটা কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, আমাদের অবস্থা এত খারাপ না। এখানে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। আমার যেটা মনে হয়, পুষ্টির পূর্বশর্ত হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ। দারিদ্র্য ও পুষ্টিকে একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে পুষ্টির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে না। মাকে প্রথমে খাবার খেতে হবে, সেই খাবার থেকেই বুকের দুধ তৈরি হবে। খাবারের সংকট থাকলে বুকের দুধ তৈরি হবে না। পুষ্টিতে সফলতা আনতে হলে অবশ্যই দারিদ্র্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। পুষ্টির জন্য আয়োডিন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আয়োডিন কীভাবে ব্যবহার করেতে হবে, সেটা অনেকেই জানে না। লবণে আয়োডিনের মাত্রা কমপক্ষে ১৫ পিপিএম থাকতে হবে। কিন্তু ব্যবহারবিধি না জানার কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই মাত্রা থাকে না।
আবার চিকিৎসকেরা এখন শিশুদের ফল খাওয়াতে নিষেধ করছেন ফরমালিনের ভয়ে। তাহলে শিশুদের পুষ্টি আসবে কোথা থেকে? পুষ্টির জন্য জরুরি হচ্ছে পুষ্টিকর খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটি কতটুকু করতে পেরেছি, সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত পুষ্টিকে নিয়ে যেতে পেরেছি। পুষ্টির বিষয়টি পারিপার্শ্বিক কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন—যদি খাদ্যনিরাপত্তা থাকে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করে, গণমাধ্যম পুষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রচার করে, পাঠ্যপুস্তকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা য়ায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত সফলতা অর্জন করব।
আব্দুল কাইয়ুম
নারীর পুষ্টি নিশ্চিত হলে সমগ্র জাতি উপকৃত হয়। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
যাঁরা অংশ নিলেন
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
মাখদুমা নার্গিস
অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক, আরসিএইচসিআইভি (কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প)
খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ
মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
এ কে এম আমির হোসেন
মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
মোহাম্মদ শরীফ
পরিচালক, এমসিএইচ সার্ভিসেস ও লাইন ডিরেক্টর এমসিআরএইচ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
মো. এখলাসুর রহমান
পরিচালক, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এবং লাইন ডিরেক্টর, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসেস
এস এম মুস্তাফিজুর রহমান
প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসেস, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
আনোয়ার হোসেন শিকদার
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান বাংলাদেশ
সেলিনা আমিন
কান্ট্রি প্রজেক্টস ম্যানেজার, প্ল্যান বাংলাদেশ
তাসকীন চৌধুরী
প্রজেক্ট ম্যানেজার নিউট্রিশন, প্ল্যান বাংলাদেশ
এস কে রায়
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন
মো. ইফতেখার হাসান খান
হেলথ অ্যাডভাইজার, প্ল্যান বাংলাদেশ
জেবা মাহমুদ
প্রধান, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ইনিশিয়েটিভ
ফেরদৌসী বেগম
কান্ট্রি ম্যানেজার, দ্য ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স III প্রজেক্ট
খুরশীদ তালুকদার
কনসালট্যান্ট পেডিয়েট্রিশিয়ান ও রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সেন্টার ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ
শুভ্রা চাকমা
ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ট্রাইবাল হেলথ, ইএসডি, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা
ইকবাল কবীর
সহকারী অধ্যাপক, রোগতত্ত্ব বিভাগ, নিপসম
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
আজকের আলোচ্য বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির ওপর আগেই অনেক বেশি জোর দেওয়া উচিত ছিল। মানুষ এখন পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পুষ্টির বিষয়টিতে বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলতে হয়েছে। পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা কোন ধারায় যাচ্ছি, এ নিয়ে একধরনের পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসময় বিআইএনপি ও এনএনপি (বাংলাদেশ ইনটিগ্রেটেড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ও ন্যাশনাল নিউট্রিশন প্রজেক্ট) কর্মসূচি করেছে। ভার্টিকাল কর্মসূচি: প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব করা হয়েছে। ৪৮৩টি উপজেলার মধ্যে প্রায় ১৬৭টিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পুষ্টি কার্যক্রম চলছে।
শহরাঞ্চলে পুষ্টির কোনো কার্যক্রম নেই। কাজেই দেশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পুষ্টির ক্ষেত্রে যে অর্জন, সেটা খুবই সামান্য। এর কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুষ্টিকে পৃথক কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করেছে। পুষ্টির বিষয়টি মূলধারায় ছিল না। আমরা এটিকে মূল স্রোতে নিয়ে আসার কথা বলেছি। পুষ্টি কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এর সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। বিশেষ করে খাদ্য, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজটি করে, তখন অনেকের ধারণা হয় যে কাজটি শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এখন সবার দায়িত্ব ঠিক করে নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি নেতৃত্বে থাকে, তাহলে তার দায়িত্ব কতটুকু, অন্যদের কতটুকু। আমাদের অতীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কী, এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। পুষ্টির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় নারী-শিশু সবার পুষ্টির বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম
আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর পুষ্টির দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলো যেন সামনে আসে এবং সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এবার বলবেন তাসকীন চৌধুরী।
তাসকীন চৌধুরী
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। স্বাস্থ্যে ছাড়াও অপুষ্টির প্রভাব পড়ে অর্থনীতি, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে। গত চার দশকে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যার কিছু সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তথাপি অপুষ্টি বাংলাদেশের জন্য এখনো একটি বড় সমস্যা, আর এর প্রধান শিকার আমাদের নারী ও শিশুরা। এক হিসাবমতে, দেশের ৩০ শতাংশ নারী মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছেন, ১৫ শতাংশ খর্বকায়ত্বের শিকার। প্রতি ১০ জন নারীর চারজনই রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। ৩৯ শতাংশ নারীর মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে। আবার অন্যদিকে অতিপুষ্টি আমাদের দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে। এক তথ্য থেকে জানা যায়, এশিয়ান কাটঅফ ব্যবহার করে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর বিএমআই ২৩-এর ওপরে। অপুষ্টির এই চিত্র সত্যি ভয়াবহ। বাংলাদেশের মতো ‘স্বল্প আয়ের’ দেশকে এর জন্য মূল্য দিতে হয় প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
একজন অপুষ্টিতে আক্রান্ত নারী কেবল নিজেই ভুক্তভোগী হন না; তিনি জন্ম দেন কম ওজনের শিশুর, যাদের সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি হয় না, ঘন ঘন রোগাক্রান্ত হয় আর সারা জীবন রোগ বা মৃত্যুঝুঁকির সঙ্গে বসবাস করে। এভাবেই অপুষ্টির দুষ্টচক্র এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায় আর চাপ সৃষ্টি করে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর।
গত দুই দশকে পোশাকশিল্প আর ক্ষুদ্র ঋণ প্রণীত ব্যবসায় বাংলাদেশের নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এই বিশাল জনসম্পদ যদি অপুষ্টির শিকার হয়, তাহলে আর্থিক অসচ্ছলতায় পড়েন তিনি নিজে, তাঁর পরিবার এবং সর্বোপরি জাতি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপুষ্টির কারণে কর্মক্ষমতা ১০-১৫ শতাংশ আর জাতীয় উৎপাদন ৫-১০ শতাংশ কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, খর্বকায় শিশুরা দেরিতে স্কুলে যায়, নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না আর একই ক্লাসে বারবার অধ্যয়ন করে। ভিটামিন এ-র অভাবে শিশু ঘন ঘন অসুখে ভোগে আর তাই ঘন ঘন স্কুল কামাই করে।
বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই বরাদ্দ খুবই কম। তবে পুষ্টির মতো বা নারী পুষ্টির মতো জরুরি বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়। নারীরা যেহেতু জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারেন, তাই পুষ্টিকে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরেরও বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সাধন।
আনোয়ার হোসেন শিকদার
১৯৯৪ সাল থেকে প্ল্যান বাংলাদেশে কাজ শুরু করে। কিন্তু পুষ্টির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৩-০৪ সাল থেকে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে পুষ্টি বিষয়ে কাজ করে এ পর্যন্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, ইনটিগ্রেটেড নিউট্রিশন প্রজেক্ট, ইনটিগ্রেটেড ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটি প্রজেক্ট নামে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তা ছাড়া প্ল্যান বাংলাদেশ ‘প্রমোশন অব এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং’ নামে একটি প্রকল্প ২০১২ সালের মার্চ মাসে শেষ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯ হাজার গর্ভবতী মা এবং ৪৬ হাজার প্রসূতি মা উপকৃত হয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশ মা তাঁদের শিশুদের শালদুধ এবং ৬৫ শতাংশ মা তাঁদের সন্তানদের শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করিয়েছেন। ৬২ শতাংশ পুরুষকেও আমরা এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি। এখন আমরা ‘উইনি’ নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যেখানে নারীর পুষ্টিসহ অন্যান্য বিষয় থাকবে। গাজীপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীর ২৫টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখান থেকে গর্ভবতী মাসহ দুই বছরের নিচের দুই লাখেরও অধিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে আশা করছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মায়েরা বাড়িতে বাগান ও মুরগির খামারের ওপর প্রশিক্ষণ পাবেন।
প্রকল্প থেকে মায়েরা যেমন পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছেন, তেমন কিশোরীরা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জেন্ডার বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, পুষ্টি বিষয়ে শুধু নারীদের সচেতন করলে বেশি ফল পওয়া যায় না। এর জন্য আমরা পুরুষদেরও সম্পৃক্ত করেছি।
মো. এখলাসুর রহমান
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুস্থ মায়ের জন্য অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ৩০ শতাংশ মা অপুষ্টিতে ভুগছেন। ৪৬ শতাংশ গর্ভবতী মা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন রোগে মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারি কার্যক্রমের একটা প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মায়েদের অপুষ্টি থেকে রক্ষা করা। আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এনেছি। এক. পুষ্টিকে মূল স্রোতধারায় আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিপূর্বে ভিটামিন ‘এ’ কভারেজ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম মূল স্রোতধারায় এনে সফলতা অর্জন করেছি। সে কারণে নারীর পুষ্টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং মূল স্রোতধারায় আনার ব্যবস্থা করছি। দুই. পুষ্টি কার্যক্রমকে সমন্বিত করে পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছি। দেশে আরও ১৩টি মন্ত্রণালয় পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের একত্র করে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটি ব্যাপকভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কাজগুলো ঠিকমতো পরিচালিত হওয়ার জন্য কমিটি আছে। জাতীয় পুষ্টিসেবার আওতায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে আচরণের পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশনসহ ২০টি কার্যক্রম রয়েছে। এই ২০টি কার্যক্রমের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হলো সমগ্র বাংলাদেশে ও হাসপাতালগুলোতে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালিত করা। দেশের ৮০টি উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে যাঁরা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। গ্রামাঞ্চলের মা ও শুিশুদের অপুষ্টি বের করার পদ্ধতি শিখিয়েছি। অপুষ্টি নির্ণয়ের পদ্ধতির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশের মা ও শিশুদের অপুষ্টি নির্ণয় করে তাদের পুষ্টির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা যাবে।
এস কে রায়
মায়ের পুষ্টি এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১১ সালের জরিপে দেখা যায়, নারীর গড় উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার। ১৪০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় গর্ভধারণ করলে তাঁরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সে হিসাবে দেশের অর্ধেক নারী গর্ভঝুঁকিতে রয়েছেন, যা মা ও সন্তান উভয়ের জন্য বিপদ হতে পারে। দেশের মায়েদের গড় ওজন ৫০ কেজি। এর অর্থ হচ্ছে, ৫০ শতাংশ নারীর ওজন ৫০ কেজির নিচে। উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত হিসাব করে যে বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) করা হয়, তা ১৮ দশমিক ৫-এর নিচে হলে ক্রনিক এনার্জি ডেফিসিয়েন্সি বলে ধরা হয়। এখন গড়ে দেশের ৩০ শতাংশ নারী ক্রনিক এনার্জি ডেফিসিয়েন্সির নিচে। আবার শহরে ২৫ শতাংশ ও গ্রামে ৮ শতাংশ নারীর বিএমআই ২৫-এর ওপরে। তাঁরা হূদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। দেশে ৩৬ শতাংশ শিশুর জন্ম কম ওজনে, অর্থাৎ আড়াই কেজির নিচে। এই শিশুদের একটা অংশ নারী, যাদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়। পারিবারিক চাপের কারণে বিয়ের এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করতে হয়। এঁরা আবার কম ওজনের সন্তান জন্ম দেয়। এভাবে দুর্বল মা ও দুর্বল সন্তানের একটি চক্র গড়ে উঠছে। জন্ম থেকে প্রতিটি পর্যায়ে এই নারীরা ঝুঁকি বহন করছে। অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা জরিপ থেকে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নেই। অর্থাৎ, এত বড় একটা জনগোষ্ঠী খুব প্রান্তিক জীবন যাপন করে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রোটিন, খনিজ লবণ ইত্যাদি উপাদান থেকে বঞ্চিত।
পুষ্টির ঘাটতিজনিত কারণে একটা বড় জনগোষ্ঠী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। এই অর্থ দিয়ে যদি তাদের পুষ্টির ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে এত হাসপাতাল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন হতো না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব, এই খাতে বিনিয়োগ করা হোক। অবশ্যই এই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যাবে। আজকে চীনারা রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে হাসপাতালের খরচ অনেক কমিয়ে ফেলেছে এবং সুস্থ জীবন যাপন করছে। শেষ কথা হলো, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যদি গঠনমূলক পরিকল্পনা ও সত্যিকার অর্থে এ ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছ থাকে, তাহলে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় অনেক কিছু করা যায়।
আব্দুল কাইয়ুম
আলোচনা থেকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, পুষ্টি বাড়ালে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি আসে এবং অসুস্থতা কমে গিয়ে চিকিৎসক ও হাসপাতালের খরচ কমে যায়। এবার শুনব জেবা মাহমুদের কাছ থেকে।
জেবা মাহমুদ
আজ থেকে স্লোগান হওয়া উচিত ‘নারীর প্রতি আর কোনো বৈষম্য, অবহেলা নয়’। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। পুষ্টির অভাবে কর্মদক্ষতা কমে যায়। অধিকাংশ নারীকেই ঘর-সংসারের কাজ করতে হয়। ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে হয়। পুষ্টির ঘাটতির জন্য নারীরা এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হন। ফলে ছেলেমেয়েদের পরিমিত পরিচর্যা হয় না। সংসারজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মায়ের অপুষ্টি শুধু মাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, তাঁর গর্ভজাত সন্তানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গর্ভধারণ থেকে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ এক হাজার দিন মায়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মায়ের অপুষ্টি থাকলে কম ওজনের অপুষ্ট সন্তান হবে। এক হিসাবমতে, দেশের প্রায় আড়াই কোটি নারী আয়রন, আয়োডিনসহ বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। এঁরা যদি একটি করে শিশু জন্ম দেন, তাহলেও আড়াই কোটি শিশু জন্ম নেবে অল্প আয়রন, আয়োডিনসহ অন্যান্য উপাদানের অভাব নিয়ে। এই শিশুরা রক্তশূন্যতায় ভুগবে। আয়োডিনের অভাবে মেধ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আরও নানাবিধ সমস্যায় ভুগতে থাকবে।
নারীর পুষ্টির বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। এবং সরকারের নেতৃত্বে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাই একসঙ্গে এগিয়ে এলে এই সমস্যা থেকে নারীরা মুক্তি পাবেন। তাহলে আমরা পাব সমৃদ্ধ মা, বলিষ্ঠ শিশু ও আলোকিত ভবিষ্যৎ।
খুরশীদ তালুকদার
নারীর পুষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। গতানুগতিক কিছু বিষয়কে পুষ্টির মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছি। পুষ্টির মাপকাঠি হিসেবে ১৮ দশমিক ৫ বিএমআইকে ধরা হচ্ছে। অথচ বিগত ১৪ বছরের হিসাব অনুযায়ী, পুষ্টিবঞ্চিত মানুষের হার ৫৩ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, অপুষ্টি অর্ধেকে নেমে গেছে। এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বিএমআই ২৩ শতাংশের ওপরে গেলেই ডায়াবেটিস, হূদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশে এখন এত অধিকসংখ্যক নারী-পুরুষের বিএমআই ২৩ শতাংশের ওপরে, যা জাতীয় সমস্যা তৈরি করছে। ২০০৬ সালে ছয়টি বিভাগীয় শহরের বস্তি এলাকার জরিপে দেখা যায়, সেখানকার নারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ এবং পুরুষের মধ্যে ১৭ শতাংশ হাইপারটেনশনে ভুগছেন। ডায়াবেটিস নারীর মধ্যে ৯ এবং পুরুষের মধ্যে ১৩ শতাংশ। যারা বস্তি এলাকার বাইরে, তাদের অবস্থা বুঝতে কষ্ট হয় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এসব রোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।
পুষ্টি কার্যক্রমের মধ্যে অতিপুষ্টি, ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। একজন কম ওজন ও অন্যজন বেশি ওজন—উভয় নারীকেই স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
২০০৮ সালের ল্যানসেট নিউট্রিশন সিরিজে প্রতিটি দেশের মায়েদের জন্য পুষ্টি কার্যক্রমের মধ্যে ছিল আয়রন ট্যাবলেট সরবরাহ—সেটা আমরা করছি। মাল্টিনিউট্রিয়েন্ট পাউডারের ব্যাপারে কাজ হচ্ছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। মায়েদের যদি ক্যালসিয়াম ঠিকমতো না থাকে, তাহলে সন্তান প্রসবের সময় তাঁদের রক্তচাপ ও খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পুষ্টির সঙ্গে ক্যালসিয়ামকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ফেরদৌসী বেগম
খাবারের পর্যাপ্ততা, প্রাপ্যতা ও সঠিক ব্যবহারের ওপর পুষ্টি নির্ভর করে। আজকের আলোচনা থেকে আরেকটি বিষয় ধারণা হলো যে এটি একক কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আয়োজন করলে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। একজন মায়ের পুষ্টির নিশ্চয়তার জন্য পরিবারের সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। পারিবারিক সহযোগিতা পুষ্টির একটি বড় দিক। পুষ্টির জন্য দেশব্যাপী প্রচার করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যতালিকায় নির্দিষ্টভাবে পুষ্টি কর্মসূচি রেখে কার্য পরিচালনা করলে মায়েরা বেশি উপকৃত হবে।
অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি—এ দুটো বিষয়ও মানুষকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শেষে বলতে চাই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি ও এনজিওগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে বসে একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর কার্য মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুভ্রা চাকমা
অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দেশে খাদ্যের সমস্যা রয়েছে। পুষ্টির জন্য প্রথমে দরকার খাদ্যের নিরাপত্তা। শুধু খাদ্যের নিরাপত্তা হলেও হবে না, দরকার সুষম খাদ্য। বর্তমানে ইপিএ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের আটটি রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মেয়েদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়। মেয়েরা ১৫ বছর অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিকা দিয়ে মা ও নবজাতককে ধনুষ্টংকারের হাত থেকে রক্ষা করি। ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৩টি উপজেলায় গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের বিশেষ সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। খুব প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে নারী, কিশোরী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।
মো. ইফতেখার হাসান খান
নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে বলতে চাই। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমিত থাকলে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ে। আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে দক্ষতা কমে যায়। মা ও শিশুর মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে উপস্থিত বুদ্ধি কমে যায়। আয়োডিনের অভাব থাকলে মায়েরা ভালো অভিভাবকত্ব করতে পারেন না। দই খেলে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।
এই কাজের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করতে হবে। আয়োডিন, আয়রন ইত্যাদি উপাদানের অভাবে কী কী ক্ষতি হয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হবে। যদি বলি অ্যানিমিয়া হয়, তাহলে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে না। যদি বলা হয় যে নানাবিধ অসুখ-বিসুখে পড়বে, পড়ালেখার দক্ষতা কমে যাবে, পরীক্ষার ফল ভালো হবে না, নিজেদের আয় ও উৎপাদনক্ষমতা কমে যাবে, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়ে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না; তাহলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
শহরাঞ্চলে মায়েরা শিশুদের শাক-সবজির পরিবর্তে আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাবার বেশি খাওয়ান। শাক-সবজি খাওয়ান না। তাই শিশুরা স্থূলকায় হয়। যেটা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। শহরের মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
এস এম মোস্তাফিজুর রহমান
আয়রন, আয়োডিনের অভাবে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। এশিয়া মহাদেশে কেউ অলিম্পিকে প্রথম হতে পারেনি। কারণ, আয়রনের অভাবে অক্সিজেনের স্বল্পতা। তৃপ্তির মানদণ্ডে খাবার রান্না করা হয়, পুষ্টির মানদণ্ডে নয়। বাজার থেকে খাবার কেনার পর টেবিলে আসা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যে যেটুকু নিরাপত্তা আছে, তাকে কাজে লাগাতে পারছি না। দেশে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন গর্ভবতী, যার বয়স ১৮ বছরের নিচে। প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন শিশু জন্ম নিচ্ছে, যার ওজন আড়াই কেজির নিচে।
মানুষের জন্মের পর আর কোনো মাথার কোষ তৈরি হয় না। জন্মের দুই বছর পর্যন্ত কোষগুলো একে অন্যের সঙ্গে জোড়া লাগে। এই কাজের জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। খাওয়ার আগে সবাইকে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। পুষ্টি কার্যক্রম শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ না রেখে স্কুল-কলেজ, দুর্গম এলাকা—সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগুলোতে পুষ্টি ক্লাব তৈরি করতে হবে, যাতে নিজের জীবনে পুষ্টিজ্ঞান কাজে লাগাতে পারে। দেশের সব সেবাকেন্দ্রে সন্তান জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শেষ কথা হলো, পুষ্টির ক্ষেত্রে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সবার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম
আমরা যদি পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নিই, মায়ের শরীর ভালো রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে হবে এবং দুটির বেশি সন্তান হবে না; তাহলে মায়ের সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত হতে পারে। এখন বলবেন মোহাম্মদ শরীফ।
মোহাম্মদ শরীফ
একটি অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করি। দেশের মায়েদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। একসময় চিটাগংয়ের বাকুলিয়ায় কাজ করি। একজন গর্ভবতী রোগী ছিলেন, তিনি চিটাগং কলেজের প্রভাষক। আমি তাঁকে নিয়মিত খওয়াদাওয়ার কথা বলতাম। আয়রন, আয়োডিনসহ বিভিন্ন ভিটামিনের কথা বলতাম। একপর্যায়ে তিনি খুবই দুর্বল এবং কম ওজনের একটি সন্তান জন্ম দিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি শরীর ঠিক রাখার জন্য ভিটামিনসহ কোনো খাবারই ঠিকমতো খাননি এবং শিশুর জন্মের পর বুকের দুধ পান করাননি। পরে সেই শিশুটি এতটাই অসুস্থ হলো যে তাকে বাঁচানোই কষ্টকর হয়ে গেল। এখনো সে দুর্বল হয়েই বেঁচে আছে। তার পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব হয়নি। পরে সেই মা অনেক কেঁদেছেন। কিন্তু তখন সময় অনেক চলে গেছে। তাই মায়েদের বলব, সন্তানের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না।
পরিবার পরিকল্পনায় এখন অনেক নারীকর্মী আছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুধু পরিবার পরিকল্পনার কথা বলবেন কেন। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা কথা বলবেন। আমার বিশ্বাস, এটি করলে পুষ্টির ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাব। কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুষ্টির ক্ষেত্রে যত ধরনের সহযোগিতা আমাদের করার সুযোগ আছে, সবটাই করব।
সেলিনা আমিন
দেশব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। নারীশক্তির উন্নয়ন হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নের সূচক। আমরা টিকার কথা বলছি, কিন্তু একবারও গর্ভাশয় ক্যানসার রোধে টিকার কথা বলছি না। আমরা সাধারণত মায়ের স্বাস্থ্যের কথা বলে থাকি, কিন্তু নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা বলছি না। শুধু মাকে নিয়ে ভাবলে মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন হবে না। যদি বড় পরিসরে নারীসমাজ নিয়ে ভাবি, কেবল তখনই মায়ের উন্নয়ন হওয়া সম্ভব। এখনো নারীর জন্য সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত বাধা রয়েছে। প্ল্যান এ বিষয়ে কাজ করছে।
মাঠে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি, নারীর পুষ্টি খুবই জরুরি একটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষের ভূমিকা রয়েছে। তাই এ কাজের জন্য কিছু পুরুষকে নিয়োগ দিয়েছি। প্ল্যানের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারী ও শিশুর উন্নয়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যখন কমিউনিটিতে কাজ করি, তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, উপজেলা পর্যায়ে সমস্যা কম। সবাই মিলেমিশে কাজ করতে পারছি। কিন্তু অন্যান্য পর্যায়ে সমস্যা বেশি। সেখানে সমন্বয়ের অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতাসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যেকোনো কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় জরুরি।
ইকবাল কবীর
আজকের আলোচনার শিরোনাম অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের পেছনে রেখে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী উন্নয়নের জন্য খাদ্য-পুষ্টি সবই অপরিহার্য উপাদান। ১৯৯৮ সালে পুষ্টি বিষয়ে কিছু কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তখন অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি—দুটোই লক্ষ করেছি। আমাদের দুটোই মোকাবিলা করতে হবে। মায়েদের পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে কিশোরী মা ও কিশোরীদের পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। শেষে দুটো জায়গা বলতে চাই—এক. নবদম্পতিদের পরামর্শদানের ব্যবস্থা করা। সারা জীবন তাঁরা একসঙ্গে অতিবাহিত করবেন। জীবনের শুরুতে একটি রুটিন তৈরি করে দিতে পারলে জীবন অনেক পরিচ্ছন্ন হবে। দুই. আগামী ১০ বছর পর দেশে বয়স্ক লোকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। অপুষ্টিসহ তাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবেন। সেই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ
জাতীয় পুষ্টি পরিষদ প্রায় অকার্যকর বিষয়ে যে সংবাদ আজকে প্রথম আলোয় এসেছে, তার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। জাতীয় পুষ্টি পরিষদ নামেমাত্র প্রতিষ্ঠান আমরা দেখতে চাই না। একে মূল স্রোতে আনার জন্য কাজ চলছে। আমরা বুঝতে পারছি, পুষ্টিকে মূলধারায় না আনতে পারলে এ ক্ষেত্রে সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। কোন খাবারে কোন ভিটামিন আছে, কী খাওয়া এবং কী না খাওয়া দরকার, এখন মানুষ তা জানে। সকালবেলা রুটি ও মিষ্টি, বাজারে গিয়ে চা-পাউরুটি খাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরও প্রচার দরকার। পাঠ্যপুস্তকে পুষ্টি বিষয়ে যেভাবে আছে, সেটা যথেষ্ট না। শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে আরও বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে। যাতে পরে তারা এটিকে প্রয়োগ করতে পারে। কাজটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আলোচনায় রান্না-প্রক্রিয়ার বিষয় এসেছে। এটা সত্যি কথা, দেশে খাদ্য রান্নার প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে হবে। রান্নার সময় দেশের অধিকাংশ পরিবার পুষ্টির বড় অংশ নষ্ট করে ফেলে। এই দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এটা শুধু চালের হিসাবে। খাদ্যের অন্য বিষয়গুলো বিবেচনায় আসছে না।
এ কে এম আমির হোসেন
পরিবারে ও সমাজে মায়ের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সব কালে, সব সমাজে, সব সময় মায়েরা ছিলেন অনন্য, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। দেশে বেশির ভাগ মা গৃহবধূ। সন্তান মানুষ করাসহ ঘর-সংসারের প্রায় সব কাজ তাঁরা করেন। এই মায়েদের যদি ভালো পুষ্টিজ্ঞান থাকে, তাহলে তা নিজেরসহ সন্তান ও পরিবারের অন্য সবার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। এ জন্য মায়েদের পুষ্টিজ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। চীনাদের উচ্চতা একসময় কম ছিল। এখন তারা অস্ট্রেলীয়দের ছুঁই ছুঁই করছে। চিনের নগ্নপদ চিকিৎসকের কথা জানি, যাঁরা পায়ে হেঁটে বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান দিতেন। তারা আজকে যে লম্বা হচ্ছে, মনে হয় এর পেছনে এই নগ্নপদ চিকিৎসকের একটা বড় ভূমিকা আছে। আমাদের এ রকম কোনো ভূমিকা নিতে হবে। এক অনুষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারলাম, একজন স্বাস্থ্যকর্মী একটি স্কুলে স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করেন। দেখা গেল, সেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য তুলনামূলক অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভালো। ভালো হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেল, তারা খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিত। স্বাস্থ্যকর্মী সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। শুধু হাত ধোয়ার জন্য যদি এই পরিবর্তন আসে, তাহলে এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে।
মেয়েশিশুদের জীবনের শুরু থেকে পুষ্টির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হবে। কারণ, ভবিষ্যতে এরাই মা হবে। শিশু বয়সে অপুষ্টি থাকলে পূর্ণ বয়সে সেটা কতটুকু পূরণ করা সম্ভব, সেটা হয়তো আরেকটি জরুরি প্রশ্ন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টি বিষয়ে একটি অধ্যায় থাকার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে।
মাখদুমা নার্গিস
যখন নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন এই আন্দোলনকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েই আন্দোলন করেছিলাম। আজকে পুষ্টির ক্ষেত্রে যদি সফলতা অর্জন করতে চাই, তাহলে অবশ্যই একে মূলধারায় আনতে হবে। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় বুঝেছি, তিনি কাজটিকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি চান কাজটি সফলভাবে পরিচালিত হোক। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টির ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে কমিউনিটি গ্রুপ এবং সাপোর্ট গ্রুপ আছে, যারা গ্রামের মানুষের মধ্যে পুষ্টিসহ স্বাস্থ্যের নানা দিক নিয়ে পরামর্শ দেয়। তারা যাতে কাজটি সফলভাবে করতে পারে, তার জন্য তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারি-বেসরকারি যাঁরাই আপনারা কমিউনিটি ক্লিনিকে যান, তাঁরা খোঁজখবর নেবেন যে কাজটি ঠিকভাবে হচ্ছে কি না। আলোচনায় বারবার এসেছে যে এটি একার কারও কাজ নয়, সবার কাজ। এদের স্বাস্থ্য বিষয়ে যে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তা যদি ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে চীনের সেই নগ্নপদ চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমাদের দেশেও বড় কোনো বিপ্লব ঘটতে পারে।
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশকে সাবসাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটা কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, আমাদের অবস্থা এত খারাপ না। এখানে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। আমার যেটা মনে হয়, পুষ্টির পূর্বশর্ত হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ। দারিদ্র্য ও পুষ্টিকে একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে পুষ্টির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে না। মাকে প্রথমে খাবার খেতে হবে, সেই খাবার থেকেই বুকের দুধ তৈরি হবে। খাবারের সংকট থাকলে বুকের দুধ তৈরি হবে না। পুষ্টিতে সফলতা আনতে হলে অবশ্যই দারিদ্র্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। পুষ্টির জন্য আয়োডিন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আয়োডিন কীভাবে ব্যবহার করেতে হবে, সেটা অনেকেই জানে না। লবণে আয়োডিনের মাত্রা কমপক্ষে ১৫ পিপিএম থাকতে হবে। কিন্তু ব্যবহারবিধি না জানার কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই মাত্রা থাকে না।
আবার চিকিৎসকেরা এখন শিশুদের ফল খাওয়াতে নিষেধ করছেন ফরমালিনের ভয়ে। তাহলে শিশুদের পুষ্টি আসবে কোথা থেকে? পুষ্টির জন্য জরুরি হচ্ছে পুষ্টিকর খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটি কতটুকু করতে পেরেছি, সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত পুষ্টিকে নিয়ে যেতে পেরেছি। পুষ্টির বিষয়টি পারিপার্শ্বিক কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন—যদি খাদ্যনিরাপত্তা থাকে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকে, অন্যান্য মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করে, গণমাধ্যম পুষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রচার করে, পাঠ্যপুস্তকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা য়ায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত সফলতা অর্জন করব।
আব্দুল কাইয়ুম
নারীর পুষ্টি নিশ্চিত হলে সমগ্র জাতি উপকৃত হয়। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
যাঁরা অংশ নিলেন
মুহম্মদ হুমায়ুন কবির
সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
মাখদুমা নার্গিস
অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক, আরসিএইচসিআইভি (কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প)
খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ
মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
এ কে এম আমির হোসেন
মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
মোহাম্মদ শরীফ
পরিচালক, এমসিএইচ সার্ভিসেস ও লাইন ডিরেক্টর এমসিআরএইচ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
মো. এখলাসুর রহমান
পরিচালক, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এবং লাইন ডিরেক্টর, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসেস
এস এম মুস্তাফিজুর রহমান
প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসেস, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
আনোয়ার হোসেন শিকদার
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান বাংলাদেশ
সেলিনা আমিন
কান্ট্রি প্রজেক্টস ম্যানেজার, প্ল্যান বাংলাদেশ
তাসকীন চৌধুরী
প্রজেক্ট ম্যানেজার নিউট্রিশন, প্ল্যান বাংলাদেশ
এস কে রায়
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন
মো. ইফতেখার হাসান খান
হেলথ অ্যাডভাইজার, প্ল্যান বাংলাদেশ
জেবা মাহমুদ
প্রধান, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ইনিশিয়েটিভ
ফেরদৌসী বেগম
কান্ট্রি ম্যানেজার, দ্য ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স III প্রজেক্ট
খুরশীদ তালুকদার
কনসালট্যান্ট পেডিয়েট্রিশিয়ান ও রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সেন্টার ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ
শুভ্রা চাকমা
ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ট্রাইবাল হেলথ, ইএসডি, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা
ইকবাল কবীর
সহকারী অধ্যাপক, রোগতত্ত্ব বিভাগ, নিপসম
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1424)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 07
(119)
- সারিকা ঈদ করবেন দুবাইতে
- বিধি বাম জেনিফার লোপেজের
- দ্য সানের প্রতিবেদন-ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি ...
- বাজার আবার অস্থির
- বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের শর্ত
- পবিত্র কোরআনের আলো.-মুনাফিকদের জন্য আক্ষেপ এবং রাস...
- সহজ-সরল-আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় খুঁজছি! by কন...
- পিস্টনের উল্লাস by জাহিদা উর্মি
- ঈদ শপিংয়ের সাত সতেরো by রুবা রহমান
- ভাল ঘুমের জন্য ১০টি টিপস
- জন্মনিরোধ ওষুধ ও দাঁতের চিকিৎসা
- বয়স্কদের এ্যাজমার আধুনিক চিকিৎসা by ডা. গোবিন্দ চ...
- প্যালপিটেশন- মানসিক রোগ নয়ত? by ডা. মোঃ দেলোয়ার হ...
- রফতানি বন্ধ, নাগালে ইলিশ
- জামায়াতের আসল চেহারা
- মাটির টানে ফিরে চলা by ড. হারুন রশীদ
- আইন বড় না নোবেল পুরস্কার? by রাহাত খান
- রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ...
- জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে by গোলাম আকবর ...
- দ্ধাপরাধের বিচার ॥ সরকারের শৈথিল্য না নীতি? by মু...
- চালচিত্র-রাজনীতির আকাশজুড়ে অস্থিরতার ধূলিঝড় by শুভ...
- ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস-নিয়মানুবর্তিতাই যার মূল ওষু...
- নান্দাইলে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ১, বৃদ্ধ ও গৃহবধ...
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিটিআর দাখিলের সীমা ১০ লাখ টাকা
- যুদ্ধবিরোধী অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শেষ হলো স্বপ্ন...
- গানে নাটকে আলোচনায় পালিত হলো বাইশে শ্রাবণ
- ইসলামী আরবী ভার্সিটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদ...
- শেখ হাসিনার উন্নয়ন মডেল জাতিসংঘের আলোচনায় স্থান পা...
- বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত কাজে পুরুষের সমান মজুরি অর...
- সবচেয়ে ভালোবাসো মাতৃভাষাকে by আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- কল্পকথার গল্প-আমাদের নাকি কিছু হবে না! by আলী হাবিব
- কালান্তরের কড়চা-প্রধানমন্ত্রীর একটি অসতর্ক উক্তি এ...
- সিয়াম অর্থ আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া by সৈয়দ গোলাম ম...
- ওমরাহ পালনের জন্য কাল সৌদি আরব যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
- আলীমের নির্দেশে পাকি সেনা ও রাজাকাররা অসংখ্য বাঙাল...
- জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছরের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে ...
- দ্রুত বিচার আদালত পাঁচের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদে...
- রাতভর অপেক্ষার পর সোনার হরিণ প্রাপ্তি, প্রাণ খুলে ...
- আসাদের পতন আসন্ন! প্রধানমন্ত্রী হিজাবের পক্ষত্যাগ-...
- অন্তর্বর্তী না নির্দলীয়- ঈদের পরে জমবে রাজনীতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ॥ ভয়াবহ সেশনজট-০...
- ম্যান্ডেলাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ ব...
- বিরোধপূর্ণ দ্বীপে সেনা পাঠাতে পারে জাপান
- পালার কাজে হূদেরাগের ঝুঁকি বেশি
- আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিক্রি চুক্তি- মতপার্থক্য দূর ক...
- শ্রাবণেও বৃষ্টিহীন বেড়া বিপাকে মৎস্যচাষিরা by বর...
- এলপি গ্যাস সিলিন্ডার- সিরাজগঞ্জে দ্বিগুণ দামে বিক্...
- পাট পচাতে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ
- অদম্য মেধাবী- প্রতিশ্রুতি পূরণে আরেক ধাপ এগিয়ে
- ৪৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৬
- ‘ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ব...
- শিক্ষা ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি- নটর ডেম কলেজকে ধ্বংস কর...
- আবুল হোসেন দেশপ্রেমিক নন, বেহায়া: বিএনপি
- ধর্ম- রমজানে কোরআন তিলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদত by মুহ...
- রোহিঙ্গা- পূর্ব সীমান্তে এখনো দুঃসংবাদ by ফারুক ...
- কালের পুরাণ- উল্টো রথে নির্বাচন কমিশন by সোহরাব ...
- অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক- ছিনতাইকারী ভ...
- বার কাউন্সিল আমলে নিতে পারে- আসামিদের পক্ষে ১৫ হাজ...
- চারদিক- বর্ষামঙ্গল, বরিষ ধরা-মাঝে... by মাহবুব আলম
- ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক- যৌথতার কোনো বিকল্প নেই by ...
- নারীর সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে পুষ্টির ভূ...
- পদ্মা সেতু-প্রয়োজন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য...
- শীলা কাঁদলেন
- বইয়ের পোকা
- ধাঁধা দুনিয়া
- সত্যিকারের সবজান্তা- লেখক
- লেখক হওয়ার পালা আপনার!
- স্কুলের পশ্চিমা নামকরণ নিষিদ্ধ হচ্ছে নেপালে
- মিয়ানমারে নতুন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নিহত ৩
- যুক্তরাজ্যে ১০ লাখ লোক জানেই না তারা কিডনি রোগে ভুগছে
- আসামে সহিংসতার সঙ্গে ‘বাইরের শক্তি’ জড়িত থাকতে পার...
- নেলসন ম্যান্ডেলার গ্রামের বাড়িতে হিলারি
- আখাউড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫
- বড়ালে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার
- যানজটে নাকাল রংপুর নগরবাসী
- চালক শরিফুল হত্যা মামলা- তিন তরুণ গ্রেপ্তার অটোরিক...
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
- অভয়নগরে ভিজিএফের চাল তীব্র দুর্গন্ধ ও পোকায় ভরা
- ঈদের হরেক পাঞ্জাবি
- ধর্ম- রোজা মানুষের অহংকার জ্বালিয়ে দেয় by মুহাম্...
- মুঠোফোন সরবরাহকারীকে চিহ্নিত করুন- কারাগারে থেকে খ...
- তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন- কর্মকর্তাদের কত ...
- চারদিক- বীজ থেকে মহীরুহ by ড. নীরু শামসুন্নাহার
- চিকিৎসা-বিজ্ঞান- হুমায়ূন আহমেদের ক্যানসার কেমোথেরা...
- একের ভেতর অনেক কিছু- স্মার্টফোন by রাকিব মোজাহিদ
- ঈদে মিষ্টিমুখ
- পছন্দের পোলাও
- ছোটদের ঈদ by তৌহিদা শিরোপা
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সাক্ষ্যে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ- স্বরাষ্ট্রমন্ত...
- গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সুলতানা কামালের সাক্ষ্য ১০ সে...
- জবানবন্দিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষীআলীমের পক্ষে...
- গাড়ি পোড়ানো মামলা-১৮ দলীয় জোট নেতাদের বিচার কাজ স্...
- চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন-উচ্ছেদ নোটিশের ১০ মাস পরও উ...
- লাল গ্রহে নামল কিউরিসিটি by চৌধুরী আফতাবুল ইসলাম
- আমানত শাহ্ লুঙ্গি অলিম্পিক আপডেট-আবার দুনিয়া কাঁপল...
- পথেঘাটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফরম মেলে এক টাকায় by ও...
- চাকরির তিন বছরে এক বছরই বিদেশে-ঢাকা ওয়াসার এমডির ভ...
- খাদ্যে বিষ ও ভেজালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড by...
- সাইবার হামলা এড়াতে অফলাইনে যাচ্ছে ইরান
- যুক্তরাষ্ট্রে গুরুদুয়ারায় হামলা ছয় পুণ্যার্থীসহ নি...
- মন্ত্রীর যানজট দর্শন
- সহজিয়া কড়চা- বিজয়ী বিজিত কভু, বিজিত বিজয়ী by সৈয়...
- ড. ইউনূসের প্রবাসী আয়ের তথ্য দিতে এনবিআরকে নির্দেশ
- কিংবদন্তি তো হয়েই গেছেন বোল্ট! by উৎপল শুভ্র
- অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে নতুন কোম্পানি গঠন করে প্লেস...
- আদালত অবমাননা আইন-রায় চ্যালেঞ্জ করবে পাকিস্তান সরকার
- বরখাস্তের পর সিরীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ ত্যাগ-অস্ত্...
- মায়ের সূচক ১৩৬-শূন্যে নামিয়ে আনার প্রত্যাশা
- ভোগান্তির নাম সড়ক-ঈদে স্বচ্ছন্দে বাড়ি ফেরা নিয়ে সংশয়
- পবিত্র কোরআনের আলো-নবী শোয়ায়েবের কওম ভূমিকম্পে ধ্ব...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : এম কে আনোয়ার-প্রধানমন্ত্রী কখন ...
- চরাচর-শত বছরের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর b...
- কথা সামান্যই-রাষ্ট্র ও সরকারের অঙ্গীকার এবং জনগণ b...
- গার্মেন্ট খাতে বিশৃঙ্খলা by সৈয়দ আরিফ নিয়াজি
- কালান্তরের কড়চা-বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে একটি...
- মোবাইলে নারীর মিষ্টি কথায় বিভোর হবেন না
- ভুলে যাই সে এখন আমার কেউ নাঃ ন্যান্সি
- ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের কাভারে প্রথম ভারতীয় শেরলিন
-
▼
Aug 07
(119)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment