Thursday, August 9, 2012
‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি কতটা যৌক্তিক! by ড. মো. আজিজুল হক
‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি কতটা যৌক্তিক! by ড. মো. আজিজুল হক
জাতিসংঘ
১৯৯৩ সালকে আদিবাসি বর্ষ ঘোষণা করে। তখন থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে
এমন দেশে আদিবাসী দিবস উদযাপিত হলেও বাংলাদেশে কখনো তা রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত
হয়নি। সরকারি ভাষ্য অনুসারে, এদেশে কোনো আদিবাসী নাই, যারা আছেন তারা
উপজাতি।
০৯
আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র
জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন ও নেতারা তাদের আন্দোলন জোরালো করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা আদিবাসী হিসেবে
স্বীকৃতির দাবিতে সভা, সেমিনার, মিছিল করছেন।
গত সপ্তাহে ঢাকায় আয়োজিত এমনি একটি জাতীয় সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা ) সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের’ শব্দসমূহ পরিবর্তন করে `আদিবাসী জাতিসমূহ` শব্দাবলী সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এতোদিন তিনিসহ অন্যান্য নেতারা শুধু আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে এসেছেন, বর্তমানে `আদিবাসী` শব্দের সঙ্গে `জাতিসমূহ` সংযোজন করেছেন। এটা একটি শুভলক্ষণ বলে মনে হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে তিন ডজনের অধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। সম্প্রতিক সময়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য হাইকোর্টের দিক-নির্দেশনামূলক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সরকারের সুচিন্তিত এবং ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠনমূলক এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য দাবি করেছেন।
এদেশের কিছুসংখ্যক শিক্ষাবিদ,বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এদেশের ভূমিজ সন্তান বাঙালি এবং ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সকল সদস্যের কাছে আমার একটি বিনীত প্রশ্ন, তিন দশক পূর্বে শুরু হয়ে অদ্যাবধি মিয়ানমারের তৎকালীন স্বৈরাচারি সামরিক একনায়ক ও স্থানীয় রাখাইন উপজাতির সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্নস্থানে মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কি মানবিক বিবেচনায় এদেশের আদিবাসী বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়? অথবা বাংলাদেশি হিসেবে? নিশ্চয়ই দেশপ্রেমিক পাঠকমাত্রই এ প্রস্তাবে আঁৎকে উঠে দ্বি-মত পোষণ করবেন। কারণ এরা এদেশে শরণার্থী মাত্র।
প্রিয় পাঠক, তারা যদি এদেশের নাগরিক বা আদিবাসী না হন তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরাও এককভাবে বাংলাদেশের আদিবাসী নন। কারণ রোহিঙ্গারা যেমন বাধ্য হয়ে এদেশে এসেছেন বিংশ শতাব্দীতে, তেমনি চট্টগ্রাম বিভাগের সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ঠিক একই অঞ্চল আরাকান থেকে বাধ্য হয়েই এ অঞ্চলে এসেছেন ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে। কয়েক শতকের ব্যবধান মাত্র। পার্থক্য এই যে, রোহিঙ্গারা বাঙালি ও বাংলাদেশি হওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা এককভাবে নিজদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাচ্ছেন। কিন্তু তারা এদেশের আদিবাসী নন। প্রকৃত প্রস্তাবে তারা এক একটি ক্ষুদ্র জাতি। স্ব-স্ব গৌরবময় পরিচয়ে বাংলাদেশি। এদেশের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অংশীদার হয়েছেন তারা।
আদিবাসী হিসেবে দাবিদার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতাদের এবং বুদ্ধিজীবীগণের কাছে প্রবন্ধের শুরুতেই আমার সবিনয় প্রশ্ন, উপজাতিরা এদেশের আদিবাসী হলে আমি এবং আমার পূর্বপুরুষ তথা এদেশের মূল জাতিগোষ্ঠী বাঙালি তথা প্রাচীন বাংলার অনার্য জনগোষ্ঠীর বর্তমান প্রজন্ম আমরা কি এদেশে অ-আদিবাসি বা বহিরাগত? বাঙালিরা কি বাংলাদেশের আদি-বাসিন্দা তথা আদিবাসী নয়? ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা বিশেষতঃ বৃহৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা তৎকালীন আরাকান রাজ্য ও ভারত থেকে এবং উত্তরাঞ্চলের সকল উপজাতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ইত্যাদি অঞ্চল থেকে কর্ম-উপলক্ষে বা পরাজিত শক্তি হিসেবে যখন এদেশে আগমন করেছিলেন, তখন কি এদেশ বিরাণভূমি ছিল? কোনো জনবসতি ছিল না? তারা যে এদেশে বাইরে থেকে আগত, তা ঐতিহাসিকভাবে সুপ্রমাণিত।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা দুই ভাগের কম কিন্তু ভারতে তা শতকরা আট এর বেশি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বঙ্গ ও বাঙালির ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের এবং তাদের উৎপত্তি ও বিকাশ এদেশের মাটিকে কেন্দ্র করেই। প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনপুর, পাহাড়পুর, জগদল বিহারসহ অঙ্গ, বঙ্গ, কুলিঙ্গ, রাঢ়, বরেন্দ্র, গৌড় ইত্যাদি অঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে এদেশে আগত আর্যরা ‘অনার্য বা নিষাদ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করেছে। এদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের কাছে ছিল হীন ও অন্ত্যজ। হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জাতি-বর্ণ প্রথায় এরা ছিল অস্পৃশ্য। প্রাচীনকালের পরিব্রাজকদের কাছে এরাই “পাখির মত কিচির-মিচির ভাষায় কথা বলা” জনগোষ্ঠী। এরাই এদেশের মূল বাসিন্দা বা আদিবাসী।
তাহলে জেনে এবং বুঝে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে এদেশের যারা ভূমিজ সন্তান নয় বরং বহিরাগত, তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার মূল রহস্য কোথায়? প্রাগৈতিহাসিককালের অখণ্ড ভারতে বর্তমান সার্কভুক্ত দেশসমূহে বসবাসরত সকল নরগোষ্ঠীর সকল গ্রুপ বা মানবগোষ্ঠী বসবাস করছিলেন। সকলেই ভারতের আদিবাসী। ভারত এদেরকে আদিবাসী ও তপসিলি উপজাতি বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নিকট অতীতে এদেশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন দেশ বা রাজ্যে বিভক্ত ছিল। অনেক এলাকা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক জনপদবাচক শব্দে পরিচিতি লাভ করে। যেমন বঙ্গ। বঙ্গ জনপদবাচক ভূখণ্ড স্বাধীন দেশ হিসেবে এবং এখানকার বাসিন্দারা বাঙালি বলে আত্মপ্রকাশ করলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। অনেক জনপদের স্বাধীন সত্তা বিলীন হয়েছে, অনেক ক্ষুদ্র জাতি সবল জাতির কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজদের একীভূত করেছে।
সুতরাং পানি ঘোলা করার জন্য আদিবাসী দাবি উত্থাপন করে বিতর্ক জিইয়ে রাখা জাতি ও দেশগঠনমূলক কোনো কর্ম হতে পারে না। সকল ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, ব্রিটিশ শাসকদের লিখিত রিপোর্ট এবং নিকট অতীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৃদ্ধিজীবীদের লেখা প্রবন্ধ-বই, নেতাদের সাক্ষাৎকার, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর কাছে চাকমাদের প্রদত্ত লিখিত স্মারকলিপি এবং ১৯৯৭ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিতেও `উপজাতি` শব্দটি লিখিত হয়েছে। সেখানে তারা অকপটে বলেছেন, ``আমরা পাহাড়ি জাতি, জুম্ম জাতি, উপজাতি পরিচয়ে গর্ববোধ করি।``
স্মরণাতীতকাল থেকেই বহু নৃ-গোষ্ঠী, জন-জাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ ও এর সামগ্রিক জনপ্রবাহ। উপমহাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় হিন্দু জাতি-বর্ণ প্রথার নিচু স্তরে অবস্থান করা লাখ লাখ মানুষ দলে দলে মুসলমান হয়েছেন। যেমন পাঙন, লাওয়া, বিনদ মুসলিম এবং বেদিয়া সম্প্রদায়ের বাঙালি মুসলিম।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে কোঁচ, কৈবর্ত, হাজং, হো, রাজবংশী ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর মানুষ হিন্দু ধর্মমত গ্রহণ করে নিজেদের স্বাধীন সত্তা বিলীন করেছে। এরাই এদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। সুতরাং বিভিন্ন সময় এদেশে আগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নরগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবি কতটুকু যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য তা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।
বর্তমানে এদেশে `ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী-উপজাতি-আদিবাসী` শব্দ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির প্রয়াস চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্রিটিশ শাসকদের চালু করা ইংরেজি `ট্রাইবাল` শব্দের বাংলা পরিভাষা হিসেবে `উপজাতি` কথাটি ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে। পূর্বে এ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিগণ বর্তমানে বলছেন,“আমরা কোনো জাতির ‘উপ’ অংশ নই”। তাদের আপত্তির মুখে সরকার `ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী` বলে স্বীকৃতি দিলেও তারা এখন নিজেদের `আদিবাসী` দাবি করছেন। এদেশের বৃহৎ বাঙালি জাতি এ দাবি মেনে নেবে কি-না, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা শান্তি অথবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য যদি তর্কের খাতিরে তাদেরকেও বাঙালিরা আদিবাসী বলে মনে করেন, তবে উভয় পক্ষই আদিবাসী। একপক্ষকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে এক পক্ষের দাবি মেনে নিলে বাঙালিদের দাবি ও যুক্তি অসার হয়ে যাবে, মনে হবে বাঙালিদের দাবি সঠিক ছিল না। হয়তো বা অদূর ভবিষ্যতে স্বীকৃত আদিবাসীরা বিশেষ উদ্দেশ্যে বলবেন, বাঙালিরা এদেশে বহিরাগত, কারণ এদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকগণকে অধিকতর সতর্ক হতে হবে।
এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে সরকারের বর্তমান অবস্থান সঠিক (আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ এ বিষয়ে সত্যভাষণ করছেন না)। কারণ, যে কোনো স্বতন্ত্র মানবগোষ্ঠীকে নরগোষ্ঠী বা নৃ-গোষ্ঠী বলে। নৃ-বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে `উপজাতি` বা `আদিবাসী` বলে আলাদা কোনো শব্দ বা প্রত্যয় নেই। বরং `রেস` বা `নরগোষ্ঠী` বা `নৃ-গোষ্ঠী` একটি স্বীকৃত প্রত্যয়।
আসুন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা যে এদেশে আদিবাসী নয় এ বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য এখানে একটু তত্ত্বনির্ভর আলোচনা করি। এই আলোচনাটি হবে প্রধানত ১) সমাজতাত্ত্বিক ২) ঐতিহাসিক ৩) ভাষাতাত্ত্বিক ও ৪) আন্তর্জাতিক ঘোষণার আলোকে।
১) সমাজতাত্ত্বিক:সমাজতাত্ত্বিকভাবে সাধারণত আদিবাসী বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি, যারা প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই কোনো অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূমিজ সন্তান। যারা কোনো ভূখণ্ড বা জনপদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই সে স্থানের বাসিন্দা। যারা আদিম সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং আদিম সংস্কৃতির কোনো কিছুই ত্যাগ করেনি (আদিম সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিকার ও সংগ্রহ ভিত্তিক অর্থনীতি, প্রাকৃতিক শ্রমবিভাগ, লিখিত ভাষা ও বর্ণমালা না থাকা এবং ইঙ্গিতে কথা বলা, অবাধ যৌনাচার ও গোষ্ঠী বিবাহ, লজ্জার চেতনা না থাকা, কাঠামোবদ্ধ পরিবার না থাকা, নিজস্ব সরকার ও বিচার ব্যবস্থা, প্রকৃতিপূজা ইত্যাদি), সভ্যতার আলোকবর্তিকা যাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি; যারা অনগ্রসর ও পশ্চাদপদ।
সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানি উপজাতিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছে। অনেক জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলোর সামান্যও আর অবশিষ্ট নেই। বর্তমান লেখক রাজশাহী বিভাগীয় শহরে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমীর পরিচালক পদে চাকরিরত অবস্থায় পিএইচডি গবেষণাকর্ম সম্পাদনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজের সময় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। খ্রিস্টান মিশনারিদের অবাধ ও নিরন্তর ধর্মান্তকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক উপজাতি শতভাগ খ্রিস্টান হয়েছেন।
যেহেতু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আলোকে একজন মানুষের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বা নির্ধারিত হয়, সেহেতু খ্রিস্টান উপজাতিরা চিরায়ত সংস্কৃতির অনেক কিছুই শতভাগ ত্যাগ করেছে। রাজশাহীর পাহাড়ি উপজাতির লোকেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারেন না বা জানেন না। এখানে খ্রিস্টান মিশনারিরা পাহাড়িদের বাদ্যযন্ত্র ও হাড়িয়া পানকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছে। শুধু নাচ আর গান মানেই কিন্তু সংস্কৃতি নয়। সভ্যতার আলোকবর্তিকায় উদ্ভাসিত হয়ে এবং সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রায় সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি চাকরির সকল ক্ষেত্রে অবাধে ও স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করছেন। অনেকেই সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিও করছেন।
২) ঐতিহাসিক: এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বৃহৎ পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র ১১টি নৃ-গোষ্ঠী মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, উপজাতীয় লেখকদের নিজস্ব গ্রন্থ পর্যালোচনায় প্রমাণিত যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ সকল নৃ-গোষ্ঠী আরাকান, ত্রিপুরা, মিজোরাম ইত্যাদি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে এদেশে আগমন করেছেন। চাকমারা বিজয়গিরি নামক একজন যুবরাজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরাকান ও চট্টগ্রামের একটি অংশ দখল করেন। এদেশের চাকমারা মনে করেন, তারা বিজয়গিরির সেই আরাকান বিজয়ী সৈন্যদের বংশধর। ১৭১৫ সালে চাকমা রাজা জলীল খাঁ বা জালাল খাঁ (১৭১৫-১৭২৪) সর্বপ্রথম ১১মণ কার্পাস তুলা উপহার দিয়ে চট্টগ্রামে মোগল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ১৭৩৭ সালে সেরগুস্ত খাঁ (১৭৩৭-৫৮) আরাকানের পক্ষ ত্যাগ করে মোগলদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং দেওয়ান পদ লাভ করেন। মারমারা ১৭৫৬ সালে আরাকানে আশ্রয় লাভ করে। ১৭৭৪ সালে রামু, ঈদগড়, মাতামুহুরী এবং সর্বপ্রথম ১৮০৪ সালে বান্দরবান শহরে বসতি স্থাপন করে তারা। ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা বোদপায়ার সেনাবাহিনী স্বাধীন আরাকান রাজ্য দখল করলে সেখান থেকে পালিয়ে হাজার হাজার শরণার্থী কক্সবাজার,পার্বত্য চট্টগ্রাম, পটুয়াখালিতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করে। এদেশে দ্বিতীয় বৃহৎ উপজাতি সাঁওতালসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এসেছে সাঁওতাল বিদ্রোহের পর। অনেকে এসেছে ব্রিটিশ আমলে মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে। বর্তমানে এরা সকলেই এদেশের স্থায়ী নাগরিক বা বংলাদেশি।
৩) ভাষাতাত্ত্বিক: ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় জানা যায়, বাংলা ভাষার প্রধান উপকরণ হলো যথাক্রমে (ক.) দেশজ অর্থাৎ আদিম অনার্য, যা কি-না আর্য-পূর্ব (অস্ট্রিক, কোল, মুণ্ডা, দ্রাবিড়, তিব্বত, ব্রাক্ষ্মণ উপকরণ (খ) বহিরাগত আর্য উপকরণ (গ) বিদেশি উপকরণ। ত্রি-বিদ উপকরণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বাংলা ভাষার মূল কাঠামো। এযাবতকাল প্রাপ্ত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সাধারণভাবে স্বীকৃত মত হলো, এই ভাষা কমপক্ষে হাজার বছরের প্রাচীন।
পক্ষান্তরে উত্তরাঞ্চলের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন সাঁওতাল, উঁরাও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহাড়ি, মাহাতো, পাহান, রাজবংশী, কোঁচ, কৈবর্ত ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ভাষা মূলত কথ্য ভাষা, লিখিত ভাষা নয়। অর্থাৎ এরা বর্ণহীন পরিবারের সদস্য। অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুখের ভাষাকে লিখিত রূপ দেবার মতো কোনো অক্ষরই নেই।
চাকমারা আরাকানি-বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে কথা বলে, এ কারণে ভাষাবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন চাগমা-বাংলা। মারমারা বর্মী এবং ত্রিপুরাগণ বোডো সম্প্রদায়ের ভাষার বর্ণ গ্রহণ করলেও অন্য সাতটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় নিজস্ব কোনো বর্ণ নেই। সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষার অন্তর্গত অস্ট্রে-এশিয়াটিক উপ-শাখার মুণ্ডারি ভাষায় কথা বলে। সাঁওতাল ছাড়াও অস্ট্রিক ভাষা-পরিবারের মুণ্ডারি ভাষায় মুণ্ডা, হো, কোল, বিরজা, বিরহোড়, কুরকু, কারমালি, ভূমিজ প্রভৃতি উপজাতীয় মানুষেরা কথা বলে।
সাঁওতালী ভাষায় বাংলাভাষা পরিবারের অসংখ্য বহুবিধ শব্দের সংমিশ্রণ ঘটেছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাংলা ভাষায় স্থান করে নেওয়া বিদেশি শব্দ যেমন ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, উর্দু, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ইত্যাদি শব্দ সাঁওতালি ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাঁওতালরা সামান্য পরিবর্তন করে বা উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে বাংলা ভাষার অনেক শব্দ ব্যবহার করে।
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীসমূহ জাতি হিসেবে চূড়ান্ত বিকাশের জন্য অক্ষর আবিষ্কার বা ব্যবহার করতে শিখেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, এরা যাযাবর বৈশিষ্ট্যের মানুষ। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করার কারণে এদের ভাষা পূর্ণাঙ্গরূপে বিকশিত হয়নি বা পরিপূর্ণতা পায়নি। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা যে অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেছে, বাস্তব প্রয়োজনে তারা সে অঞ্চলের মানুষের প্রধান বুলি ও ভাষার শব্দসম্ভার হতে প্রয়োজনীয় শব্দ গ্রহণ করে নিজস্ব ভাষায় ব্যবহার করেছে। যেমন আরবি শব্দ অক্ত, ফারসি শব্দ বাবা, বাজার, আরসি, আর্জি ইত্যাদি গ্রহণ করেছে।
সাঁওতালরা এদেশের ভূমিজ সন্তান নয়, এর অন্যতম প্রমাণ হলো এদেশে প্রাচীনকাল হতে ব্যবহৃত খাঁটি অনার্য শব্দ সাঁওতাল ভাষায় নেই। এদেশের খাঁটি বাংলাদেশি শব্দ মানেই হলো অনার্য শব্দ। বাংলা ভাষায় অস্ট্রিক শব্দের পাশাপাশি অনেক দ্রাবিড় শব্দ যেমন বগুড়া, শিলিগুড়ি অর্থাৎ ড়া, গুড়ি যুক্ত নাম দ্রাবিড় ভাষাগত। বাংলার বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পাখি কাক, দোয়েল, পানকৌড়ি, শালিক প্রভৃতিসহ অজস্র ইতর প্রাণী কাঠবিড়ালী, ইঁদুর, খাটাশ...ইত্যাদি অনেক শব্দ অনার্য বা এদেশি শব্দ। উপজাতীদের ব্যবহার্য শব্দের সাথে এসব নামবাচক শব্দের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
বাংলা ভাষার সংগে সাঁওতাল ভাষার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাভাষায় বহুল ব্যবহৃত অনেক শব্দের ব্যবহার সাঁওতালি ভাষায় নেই। অসংখ্য শব্দের মধ্যে বোঝার জন্য বিভিন্ন গঠনরীতির কিছু শব্দ তুলে ধরা হলো। যেমন: কর-কর, খন-খন, গন-গন, মচ-মচ, ভাত-টাত, জাত-পাত, আবোল-তাবোল, চোট-পাট ইত্যাদি বহুল প্রচলিত শব্দ সাঁওতালরা ব্যবহার করে না। সাঁওতালরা মানব শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গের বাঙালি নাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু এদেশের ফলমূল, দেশি মাছ-পাখির নাম হবহু গ্রহণ করেছে, পশুদের মধ্যে সচরাচর দৃশ্যমান পশুর নাম আলাদা কিন্তু বিদেশি পশুর (উট-জেব্রা) বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি নাম তারা গ্রহণ করেছে। খাদ্য-খানা ইত্যাদির নাম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আলাদা তবে এ দেশীয় সবজি যেমন-পটল, ছোলা, বরবটি, ঝাল, পান, মূলা ইত্যাদি নাম সাঁওতালরা হুবহু গ্রহণ করেছে। পাগার, পান ও বরোজ প্রত্যয়টি শুধু উত্তর বাংলা বা পুণ্ড্রবর্ধনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। সাঁওতালী ভাষায় পান ও বরোজ শব্দটি নেই। অর্থাৎ সাঁওতালরা যখন উত্তরাঞ্চলে আগমন করেছে, তখনই শব্দ দু’টি গ্রহণ করেছে।
এছাড়াও রক্ত বা আত্মীয় সম্পর্কীয় সম্বোধন রীতি, সপ্তাহের সাতদিনের নাম, সংখ্যা ও গণনা রীতি দু’সম্প্রদায়ের আলাদা। পক্ষান্তরে বাংলা মাসের অধিকাংশ নাম সাঁওতালরা হুবহু বা সামান্য বিকৃত উচ্চারণে (ভাদর, আশিন) ব্যবহার করছে। বহুমাত্রিক শব্দ বিশ্লেষণে বর্তমান গবেষকের একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা এই যে, এ দেশের আদিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ হিসেবে বাঙালিরা তাদের মুখের ভাষা অনার্য ভাষা পরিবর্তন করেনি, ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিদেশি শব্দ গ্রহণ করেছে বটে কিন্তু সাঁওতালি শব্দ গ্রহণ করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং সাঁওতালরাই যখন তাদের আদি বাসস্থান সাঁওতাল পরগনা ত্যাগ করে এদেশে আগমন করেছে, তখন জীবনযাত্রার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে এদেশের প্রচলিত বুলি ফল, পশু, মাছ, পাখি ইত্যাদি বিষয় সংশ্লিষ্ট নাম গ্রহণ করেছে।
মাসের নাম, সংখ্যা, স্থানীয় ফল-মূল ইত্যাদির নাম বাংলাদেশ, আসাম, উড়িষ্যা, বিহার ইত্যাদি অঞ্চলে এক নয়। এ পর্যালোচনা থেকেও প্রমাণিত হয় যে, সাঁওতালসহ অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ এদেশে আগত, তারা বাংলাদেশের ভূমিজ সন্তান নয়। এ কারণে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আদিবাসী বলে দাবি করাও যুক্তিসঙ্গত নয়।
৪) আন্তর্জাতিক ঘোষণা: ইউনেস্কো ১৯৬৪ সালে মস্কোতে জাতিসমস্যার জীবতাত্ত্বিক সমস্যাবলী সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে, বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষ ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ নামক একটিমাত্র প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত এবং একই মূল থেকে উদ্ভূত। তবুও বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যে বংশ-পরম্পরাগত গুণ থাকায় অন্য গোষ্ঠী থেকে পৃথক। এই এক একটি গোষ্ঠীকে `রেস` বা `জাতি` বলে। অর্থাৎ মানুষের একটি বিরাট দলের লোকজনদের মধ্যে যখন পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কতকগুলো সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তখন সেই দলকে জাতি বলা হয়। সে অর্থে বাংলাদেশের সকল নৃ-গোষ্ঠীই এক একটি জাতি, ক্ষুদ্র জাতি। এরা ক্ষুদ্র জাতি, এর কারণ অনেক গোষ্ঠী খুবই ক্ষুদ্র, যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনধ জাতিগোষ্ঠীর পরিবার সংখ্যা মাত্র ২২ এবং জনসংখ্যা শতাধিক।
জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালকে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসী’র সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, ``...Indigenous people are such population groups as we are, who from old age times have inhabited the lands when we live, who are awere of having a characters of our own, with social tradition and means of expression that are linked to the country inhabited from our ancesters, with a language or our own and having certain essential and unique characteristics which confer upon us the strong conviction of belonging to a people,who have an identity in ourselves and should be thus regarded by others (1993).``
আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে আদিবাসী চিহ্নিত করা হয়েছে এভাবে, ``...Peoples in independent countries who are regarded as indigenous on occount of their decent from the populations which inhabited the country or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonisation or the establishment of present state boundaries and who irrespective of their legal status,retain some or all of their social, cultural and political institutions(1989)``
অর্থাৎ “আদিবাসী`` বা দেশজ মানবসমাজ, জনগোষ্ঠী অথবা জাতিসত্তার পরিচিতি পাবার অধিকারী তারাই, যাদের প্রাক-আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যা তারা নিজ বাসভূমিতে তৈরি করেছিলেন। যারা তাদের বাসভূমিতে অথবা কিয়দংশে পাশাপাশি বসবাসকারী অন্যান্য মানবকূল থেকে নিজেকে একটি বিশেষত্বময় পৃথক সত্তার অধিকারী মনে করেন। যারা আজ সমাজের প্রতিপত্তিশালি না হয়েও ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য তাদের নিজস্ব গোষ্ঠীসত্তা, সাংস্কৃতিক কাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিধিব্যবস্থা রেখে যেতে চান একটি বিশেষ মানবসমাজের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য।”
এ সংজ্ঞানুসারে বাংলাদেশের কোনো উপজাতিই আদিবাসী প্রত্যয়টির আওতায় পড়ে না। কারণ এ সংজ্ঞার শর্তই হলো, আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি পাবেন তারাই, যাদের প্রাক আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যা তারা নিজভুমিতে তৈরি করেছিলেন। যারা আদিম সংস্কৃতির ধারক এবং নিজেদের সমাজ, সংস্কৃতি ও চিরায়ত ধর্ম ইত্যাদি গভীর নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে মেনে চলে। অন্যান্য মানবকূল হতে নিজেদেরকে একটি বিশেষত্বময় সত্তার অধিকারী বলে মনে করে। এ সংজ্ঞার শর্তই হলো, যাদের প্রাক আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যারা প্রতিপত্তিশালী বা শাসকগোষ্ঠীর সদস্য নয়। কিন্তু ইসলাম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-হিন্দু ধর্ম বা ধর্মের মানুষ অবশ্যই প্রতিপ্রত্তিশালী বা শাসক গোষ্ঠী। সুতরাং কোনো প্রকৃতি উপাসক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যখনই ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-মুসলিম হবে তখন সে শাসক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আদিবাসী সংজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
বাংলাদেশ ও ভারতের সকল উপজাতীয় লেখক, অন্য জাতিগোষ্ঠীর সর্বজন গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবী এবং ব্রিটিশ প্রশাসক ও মিশনারিদের লিখিত বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গ্রন্থসূত্রে প্রমাণিত হয় যে, এদেশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী তথা উপজাতি জনগোষ্ঠীর আগমন হয়েছে নিকট অতীতে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের গ্রন্থসূত্রে (ঐতরেয়, ঋগবেদ প্রভৃতি) প্রমাণিত-- এদেশ এবং দেশজ জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালির অস্তিত্ব হাজার-লক্ষ বছরের প্রাচীন। ৪৭ পূর্ব অখণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আদিবাসী বলে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীই ‘আর্য পূর্ব ভারতের আদিম বাসিন্দা’।
কাজেই বোঝা যায়, আদিবাসীরা নিজ নিজ দেশের মূল বাসিন্দা এবং জনপদ সৃষ্টির প্রথম থেকেই স্থানীয় মাটির সাথে তাদের নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক সুগ্রথিত। এ অর্থে এদেশের বাঙালিরাই(হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ) এদেশের মূল বাসিন্দা।
হিন্দু জাতিভেদ প্রথার নিচুস্তরে অবস্থিত দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রকৃত আদিবাসী। অনার্য জনগোষ্ঠী এবং প্রকৃতি উপাসক জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ হিসেবে বাংলাদেশের শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ ধর্মান্তরিত মুসলিম। এরাই এদেশের আদি-বাসিন্দা। সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি অবশ্যই প্রশংসনীয়।
জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করবে এমন অনাবশ্যক বিতর্ক সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে সকলের মনোনিবেশ করা উচিৎ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা যদি এ অভিধায় সন্তুষ্ট না হন তবে তারা নিজেদেরকে জাতি বলুন, যেমন চাকমা জাতি, সাঁওতাল জাতি তবে তা আদিবাসী জাতিসমূহ নয়। বিষয়টি সমাধানে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং দেশের নীতিনির্ধারকমহল ভেবে দেখতে পারেন। আসুন বিতর্ক নিরসনে ঐক্যদ্ধভাবে কাজ করে প্রকৃত অর্থে ``সোনারবাংলা`` গড়ে তুলি।
গত সপ্তাহে ঢাকায় আয়োজিত এমনি একটি জাতীয় সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা ) সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের’ শব্দসমূহ পরিবর্তন করে `আদিবাসী জাতিসমূহ` শব্দাবলী সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এতোদিন তিনিসহ অন্যান্য নেতারা শুধু আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে এসেছেন, বর্তমানে `আদিবাসী` শব্দের সঙ্গে `জাতিসমূহ` সংযোজন করেছেন। এটা একটি শুভলক্ষণ বলে মনে হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে তিন ডজনের অধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। সম্প্রতিক সময়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য হাইকোর্টের দিক-নির্দেশনামূলক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সরকারের সুচিন্তিত এবং ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠনমূলক এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য দাবি করেছেন।
এদেশের কিছুসংখ্যক শিক্ষাবিদ,বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এদেশের ভূমিজ সন্তান বাঙালি এবং ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সকল সদস্যের কাছে আমার একটি বিনীত প্রশ্ন, তিন দশক পূর্বে শুরু হয়ে অদ্যাবধি মিয়ানমারের তৎকালীন স্বৈরাচারি সামরিক একনায়ক ও স্থানীয় রাখাইন উপজাতির সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্নস্থানে মানবেতর জীবনযাপনকারী রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কি মানবিক বিবেচনায় এদেশের আদিবাসী বলে স্বীকৃতি দেওয়া যায়? অথবা বাংলাদেশি হিসেবে? নিশ্চয়ই দেশপ্রেমিক পাঠকমাত্রই এ প্রস্তাবে আঁৎকে উঠে দ্বি-মত পোষণ করবেন। কারণ এরা এদেশে শরণার্থী মাত্র।
প্রিয় পাঠক, তারা যদি এদেশের নাগরিক বা আদিবাসী না হন তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরাও এককভাবে বাংলাদেশের আদিবাসী নন। কারণ রোহিঙ্গারা যেমন বাধ্য হয়ে এদেশে এসেছেন বিংশ শতাব্দীতে, তেমনি চট্টগ্রাম বিভাগের সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ঠিক একই অঞ্চল আরাকান থেকে বাধ্য হয়েই এ অঞ্চলে এসেছেন ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে। কয়েক শতকের ব্যবধান মাত্র। পার্থক্য এই যে, রোহিঙ্গারা বাঙালি ও বাংলাদেশি হওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা এককভাবে নিজদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাচ্ছেন। কিন্তু তারা এদেশের আদিবাসী নন। প্রকৃত প্রস্তাবে তারা এক একটি ক্ষুদ্র জাতি। স্ব-স্ব গৌরবময় পরিচয়ে বাংলাদেশি। এদেশের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অংশীদার হয়েছেন তারা।
আদিবাসী হিসেবে দাবিদার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতাদের এবং বুদ্ধিজীবীগণের কাছে প্রবন্ধের শুরুতেই আমার সবিনয় প্রশ্ন, উপজাতিরা এদেশের আদিবাসী হলে আমি এবং আমার পূর্বপুরুষ তথা এদেশের মূল জাতিগোষ্ঠী বাঙালি তথা প্রাচীন বাংলার অনার্য জনগোষ্ঠীর বর্তমান প্রজন্ম আমরা কি এদেশে অ-আদিবাসি বা বহিরাগত? বাঙালিরা কি বাংলাদেশের আদি-বাসিন্দা তথা আদিবাসী নয়? ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা বিশেষতঃ বৃহৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা তৎকালীন আরাকান রাজ্য ও ভারত থেকে এবং উত্তরাঞ্চলের সকল উপজাতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ইত্যাদি অঞ্চল থেকে কর্ম-উপলক্ষে বা পরাজিত শক্তি হিসেবে যখন এদেশে আগমন করেছিলেন, তখন কি এদেশ বিরাণভূমি ছিল? কোনো জনবসতি ছিল না? তারা যে এদেশে বাইরে থেকে আগত, তা ঐতিহাসিকভাবে সুপ্রমাণিত।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা দুই ভাগের কম কিন্তু ভারতে তা শতকরা আট এর বেশি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বঙ্গ ও বাঙালির ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের এবং তাদের উৎপত্তি ও বিকাশ এদেশের মাটিকে কেন্দ্র করেই। প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনপুর, পাহাড়পুর, জগদল বিহারসহ অঙ্গ, বঙ্গ, কুলিঙ্গ, রাঢ়, বরেন্দ্র, গৌড় ইত্যাদি অঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে এদেশে আগত আর্যরা ‘অনার্য বা নিষাদ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করেছে। এদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের কাছে ছিল হীন ও অন্ত্যজ। হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জাতি-বর্ণ প্রথায় এরা ছিল অস্পৃশ্য। প্রাচীনকালের পরিব্রাজকদের কাছে এরাই “পাখির মত কিচির-মিচির ভাষায় কথা বলা” জনগোষ্ঠী। এরাই এদেশের মূল বাসিন্দা বা আদিবাসী।
তাহলে জেনে এবং বুঝে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে এদেশের যারা ভূমিজ সন্তান নয় বরং বহিরাগত, তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার মূল রহস্য কোথায়? প্রাগৈতিহাসিককালের অখণ্ড ভারতে বর্তমান সার্কভুক্ত দেশসমূহে বসবাসরত সকল নরগোষ্ঠীর সকল গ্রুপ বা মানবগোষ্ঠী বসবাস করছিলেন। সকলেই ভারতের আদিবাসী। ভারত এদেরকে আদিবাসী ও তপসিলি উপজাতি বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নিকট অতীতে এদেশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন দেশ বা রাজ্যে বিভক্ত ছিল। অনেক এলাকা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক জনপদবাচক শব্দে পরিচিতি লাভ করে। যেমন বঙ্গ। বঙ্গ জনপদবাচক ভূখণ্ড স্বাধীন দেশ হিসেবে এবং এখানকার বাসিন্দারা বাঙালি বলে আত্মপ্রকাশ করলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা হয়নি। অনেক জনপদের স্বাধীন সত্তা বিলীন হয়েছে, অনেক ক্ষুদ্র জাতি সবল জাতির কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজদের একীভূত করেছে।
সুতরাং পানি ঘোলা করার জন্য আদিবাসী দাবি উত্থাপন করে বিতর্ক জিইয়ে রাখা জাতি ও দেশগঠনমূলক কোনো কর্ম হতে পারে না। সকল ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, ব্রিটিশ শাসকদের লিখিত রিপোর্ট এবং নিকট অতীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৃদ্ধিজীবীদের লেখা প্রবন্ধ-বই, নেতাদের সাক্ষাৎকার, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর কাছে চাকমাদের প্রদত্ত লিখিত স্মারকলিপি এবং ১৯৯৭ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিতেও `উপজাতি` শব্দটি লিখিত হয়েছে। সেখানে তারা অকপটে বলেছেন, ``আমরা পাহাড়ি জাতি, জুম্ম জাতি, উপজাতি পরিচয়ে গর্ববোধ করি।``
স্মরণাতীতকাল থেকেই বহু নৃ-গোষ্ঠী, জন-জাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ ও এর সামগ্রিক জনপ্রবাহ। উপমহাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় হিন্দু জাতি-বর্ণ প্রথার নিচু স্তরে অবস্থান করা লাখ লাখ মানুষ দলে দলে মুসলমান হয়েছেন। যেমন পাঙন, লাওয়া, বিনদ মুসলিম এবং বেদিয়া সম্প্রদায়ের বাঙালি মুসলিম।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে কোঁচ, কৈবর্ত, হাজং, হো, রাজবংশী ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর মানুষ হিন্দু ধর্মমত গ্রহণ করে নিজেদের স্বাধীন সত্তা বিলীন করেছে। এরাই এদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। সুতরাং বিভিন্ন সময় এদেশে আগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নরগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবি কতটুকু যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য তা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।
বর্তমানে এদেশে `ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী-উপজাতি-আদিবাসী` শব্দ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির প্রয়াস চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্রিটিশ শাসকদের চালু করা ইংরেজি `ট্রাইবাল` শব্দের বাংলা পরিভাষা হিসেবে `উপজাতি` কথাটি ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে। পূর্বে এ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিগণ বর্তমানে বলছেন,“আমরা কোনো জাতির ‘উপ’ অংশ নই”। তাদের আপত্তির মুখে সরকার `ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী` বলে স্বীকৃতি দিলেও তারা এখন নিজেদের `আদিবাসী` দাবি করছেন। এদেশের বৃহৎ বাঙালি জাতি এ দাবি মেনে নেবে কি-না, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা শান্তি অথবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য যদি তর্কের খাতিরে তাদেরকেও বাঙালিরা আদিবাসী বলে মনে করেন, তবে উভয় পক্ষই আদিবাসী। একপক্ষকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে এক পক্ষের দাবি মেনে নিলে বাঙালিদের দাবি ও যুক্তি অসার হয়ে যাবে, মনে হবে বাঙালিদের দাবি সঠিক ছিল না। হয়তো বা অদূর ভবিষ্যতে স্বীকৃত আদিবাসীরা বিশেষ উদ্দেশ্যে বলবেন, বাঙালিরা এদেশে বহিরাগত, কারণ এদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকগণকে অধিকতর সতর্ক হতে হবে।
এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে সরকারের বর্তমান অবস্থান সঠিক (আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ এ বিষয়ে সত্যভাষণ করছেন না)। কারণ, যে কোনো স্বতন্ত্র মানবগোষ্ঠীকে নরগোষ্ঠী বা নৃ-গোষ্ঠী বলে। নৃ-বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে `উপজাতি` বা `আদিবাসী` বলে আলাদা কোনো শব্দ বা প্রত্যয় নেই। বরং `রেস` বা `নরগোষ্ঠী` বা `নৃ-গোষ্ঠী` একটি স্বীকৃত প্রত্যয়।
আসুন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা যে এদেশে আদিবাসী নয় এ বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য এখানে একটু তত্ত্বনির্ভর আলোচনা করি। এই আলোচনাটি হবে প্রধানত ১) সমাজতাত্ত্বিক ২) ঐতিহাসিক ৩) ভাষাতাত্ত্বিক ও ৪) আন্তর্জাতিক ঘোষণার আলোকে।
১) সমাজতাত্ত্বিক:সমাজতাত্ত্বিকভাবে সাধারণত আদিবাসী বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি, যারা প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই কোনো অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূমিজ সন্তান। যারা কোনো ভূখণ্ড বা জনপদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই সে স্থানের বাসিন্দা। যারা আদিম সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং আদিম সংস্কৃতির কোনো কিছুই ত্যাগ করেনি (আদিম সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিকার ও সংগ্রহ ভিত্তিক অর্থনীতি, প্রাকৃতিক শ্রমবিভাগ, লিখিত ভাষা ও বর্ণমালা না থাকা এবং ইঙ্গিতে কথা বলা, অবাধ যৌনাচার ও গোষ্ঠী বিবাহ, লজ্জার চেতনা না থাকা, কাঠামোবদ্ধ পরিবার না থাকা, নিজস্ব সরকার ও বিচার ব্যবস্থা, প্রকৃতিপূজা ইত্যাদি), সভ্যতার আলোকবর্তিকা যাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি; যারা অনগ্রসর ও পশ্চাদপদ।
সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানি উপজাতিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছে। অনেক জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলোর সামান্যও আর অবশিষ্ট নেই। বর্তমান লেখক রাজশাহী বিভাগীয় শহরে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমীর পরিচালক পদে চাকরিরত অবস্থায় পিএইচডি গবেষণাকর্ম সম্পাদনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজের সময় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। খ্রিস্টান মিশনারিদের অবাধ ও নিরন্তর ধর্মান্তকরণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক উপজাতি শতভাগ খ্রিস্টান হয়েছেন।
যেহেতু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আলোকে একজন মানুষের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বা নির্ধারিত হয়, সেহেতু খ্রিস্টান উপজাতিরা চিরায়ত সংস্কৃতির অনেক কিছুই শতভাগ ত্যাগ করেছে। রাজশাহীর পাহাড়ি উপজাতির লোকেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারেন না বা জানেন না। এখানে খ্রিস্টান মিশনারিরা পাহাড়িদের বাদ্যযন্ত্র ও হাড়িয়া পানকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছে। শুধু নাচ আর গান মানেই কিন্তু সংস্কৃতি নয়। সভ্যতার আলোকবর্তিকায় উদ্ভাসিত হয়ে এবং সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রায় সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি চাকরির সকল ক্ষেত্রে অবাধে ও স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করছেন। অনেকেই সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিও করছেন।
২) ঐতিহাসিক: এটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বৃহৎ পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র ১১টি নৃ-গোষ্ঠী মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, উপজাতীয় লেখকদের নিজস্ব গ্রন্থ পর্যালোচনায় প্রমাণিত যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ সকল নৃ-গোষ্ঠী আরাকান, ত্রিপুরা, মিজোরাম ইত্যাদি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে এদেশে আগমন করেছেন। চাকমারা বিজয়গিরি নামক একজন যুবরাজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরাকান ও চট্টগ্রামের একটি অংশ দখল করেন। এদেশের চাকমারা মনে করেন, তারা বিজয়গিরির সেই আরাকান বিজয়ী সৈন্যদের বংশধর। ১৭১৫ সালে চাকমা রাজা জলীল খাঁ বা জালাল খাঁ (১৭১৫-১৭২৪) সর্বপ্রথম ১১মণ কার্পাস তুলা উপহার দিয়ে চট্টগ্রামে মোগল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। ১৭৩৭ সালে সেরগুস্ত খাঁ (১৭৩৭-৫৮) আরাকানের পক্ষ ত্যাগ করে মোগলদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং দেওয়ান পদ লাভ করেন। মারমারা ১৭৫৬ সালে আরাকানে আশ্রয় লাভ করে। ১৭৭৪ সালে রামু, ঈদগড়, মাতামুহুরী এবং সর্বপ্রথম ১৮০৪ সালে বান্দরবান শহরে বসতি স্থাপন করে তারা। ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা বোদপায়ার সেনাবাহিনী স্বাধীন আরাকান রাজ্য দখল করলে সেখান থেকে পালিয়ে হাজার হাজার শরণার্থী কক্সবাজার,পার্বত্য চট্টগ্রাম, পটুয়াখালিতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করে। এদেশে দ্বিতীয় বৃহৎ উপজাতি সাঁওতালসহ অন্যান্য গোষ্ঠী এসেছে সাঁওতাল বিদ্রোহের পর। অনেকে এসেছে ব্রিটিশ আমলে মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে। বর্তমানে এরা সকলেই এদেশের স্থায়ী নাগরিক বা বংলাদেশি।
৩) ভাষাতাত্ত্বিক: ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় জানা যায়, বাংলা ভাষার প্রধান উপকরণ হলো যথাক্রমে (ক.) দেশজ অর্থাৎ আদিম অনার্য, যা কি-না আর্য-পূর্ব (অস্ট্রিক, কোল, মুণ্ডা, দ্রাবিড়, তিব্বত, ব্রাক্ষ্মণ উপকরণ (খ) বহিরাগত আর্য উপকরণ (গ) বিদেশি উপকরণ। ত্রি-বিদ উপকরণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বাংলা ভাষার মূল কাঠামো। এযাবতকাল প্রাপ্ত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সাধারণভাবে স্বীকৃত মত হলো, এই ভাষা কমপক্ষে হাজার বছরের প্রাচীন।
পক্ষান্তরে উত্তরাঞ্চলের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন সাঁওতাল, উঁরাও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহাড়ি, মাহাতো, পাহান, রাজবংশী, কোঁচ, কৈবর্ত ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ভাষা মূলত কথ্য ভাষা, লিখিত ভাষা নয়। অর্থাৎ এরা বর্ণহীন পরিবারের সদস্য। অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুখের ভাষাকে লিখিত রূপ দেবার মতো কোনো অক্ষরই নেই।
চাকমারা আরাকানি-বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে কথা বলে, এ কারণে ভাষাবিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন চাগমা-বাংলা। মারমারা বর্মী এবং ত্রিপুরাগণ বোডো সম্প্রদায়ের ভাষার বর্ণ গ্রহণ করলেও অন্য সাতটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় নিজস্ব কোনো বর্ণ নেই। সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষার অন্তর্গত অস্ট্রে-এশিয়াটিক উপ-শাখার মুণ্ডারি ভাষায় কথা বলে। সাঁওতাল ছাড়াও অস্ট্রিক ভাষা-পরিবারের মুণ্ডারি ভাষায় মুণ্ডা, হো, কোল, বিরজা, বিরহোড়, কুরকু, কারমালি, ভূমিজ প্রভৃতি উপজাতীয় মানুষেরা কথা বলে।
সাঁওতালী ভাষায় বাংলাভাষা পরিবারের অসংখ্য বহুবিধ শব্দের সংমিশ্রণ ঘটেছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাংলা ভাষায় স্থান করে নেওয়া বিদেশি শব্দ যেমন ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, উর্দু, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ইত্যাদি শব্দ সাঁওতালি ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাঁওতালরা সামান্য পরিবর্তন করে বা উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে বাংলা ভাষার অনেক শব্দ ব্যবহার করে।
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীসমূহ জাতি হিসেবে চূড়ান্ত বিকাশের জন্য অক্ষর আবিষ্কার বা ব্যবহার করতে শিখেনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, এরা যাযাবর বৈশিষ্ট্যের মানুষ। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করার কারণে এদের ভাষা পূর্ণাঙ্গরূপে বিকশিত হয়নি বা পরিপূর্ণতা পায়নি। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা যে অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেছে, বাস্তব প্রয়োজনে তারা সে অঞ্চলের মানুষের প্রধান বুলি ও ভাষার শব্দসম্ভার হতে প্রয়োজনীয় শব্দ গ্রহণ করে নিজস্ব ভাষায় ব্যবহার করেছে। যেমন আরবি শব্দ অক্ত, ফারসি শব্দ বাবা, বাজার, আরসি, আর্জি ইত্যাদি গ্রহণ করেছে।
সাঁওতালরা এদেশের ভূমিজ সন্তান নয়, এর অন্যতম প্রমাণ হলো এদেশে প্রাচীনকাল হতে ব্যবহৃত খাঁটি অনার্য শব্দ সাঁওতাল ভাষায় নেই। এদেশের খাঁটি বাংলাদেশি শব্দ মানেই হলো অনার্য শব্দ। বাংলা ভাষায় অস্ট্রিক শব্দের পাশাপাশি অনেক দ্রাবিড় শব্দ যেমন বগুড়া, শিলিগুড়ি অর্থাৎ ড়া, গুড়ি যুক্ত নাম দ্রাবিড় ভাষাগত। বাংলার বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পাখি কাক, দোয়েল, পানকৌড়ি, শালিক প্রভৃতিসহ অজস্র ইতর প্রাণী কাঠবিড়ালী, ইঁদুর, খাটাশ...ইত্যাদি অনেক শব্দ অনার্য বা এদেশি শব্দ। উপজাতীদের ব্যবহার্য শব্দের সাথে এসব নামবাচক শব্দের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
বাংলা ভাষার সংগে সাঁওতাল ভাষার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাভাষায় বহুল ব্যবহৃত অনেক শব্দের ব্যবহার সাঁওতালি ভাষায় নেই। অসংখ্য শব্দের মধ্যে বোঝার জন্য বিভিন্ন গঠনরীতির কিছু শব্দ তুলে ধরা হলো। যেমন: কর-কর, খন-খন, গন-গন, মচ-মচ, ভাত-টাত, জাত-পাত, আবোল-তাবোল, চোট-পাট ইত্যাদি বহুল প্রচলিত শব্দ সাঁওতালরা ব্যবহার করে না। সাঁওতালরা মানব শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গের বাঙালি নাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু এদেশের ফলমূল, দেশি মাছ-পাখির নাম হবহু গ্রহণ করেছে, পশুদের মধ্যে সচরাচর দৃশ্যমান পশুর নাম আলাদা কিন্তু বিদেশি পশুর (উট-জেব্রা) বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি নাম তারা গ্রহণ করেছে। খাদ্য-খানা ইত্যাদির নাম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আলাদা তবে এ দেশীয় সবজি যেমন-পটল, ছোলা, বরবটি, ঝাল, পান, মূলা ইত্যাদি নাম সাঁওতালরা হুবহু গ্রহণ করেছে। পাগার, পান ও বরোজ প্রত্যয়টি শুধু উত্তর বাংলা বা পুণ্ড্রবর্ধনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। সাঁওতালী ভাষায় পান ও বরোজ শব্দটি নেই। অর্থাৎ সাঁওতালরা যখন উত্তরাঞ্চলে আগমন করেছে, তখনই শব্দ দু’টি গ্রহণ করেছে।
এছাড়াও রক্ত বা আত্মীয় সম্পর্কীয় সম্বোধন রীতি, সপ্তাহের সাতদিনের নাম, সংখ্যা ও গণনা রীতি দু’সম্প্রদায়ের আলাদা। পক্ষান্তরে বাংলা মাসের অধিকাংশ নাম সাঁওতালরা হুবহু বা সামান্য বিকৃত উচ্চারণে (ভাদর, আশিন) ব্যবহার করছে। বহুমাত্রিক শব্দ বিশ্লেষণে বর্তমান গবেষকের একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা এই যে, এ দেশের আদিবাসী অনার্য জনগোষ্ঠীর উত্তর পুরুষ হিসেবে বাঙালিরা তাদের মুখের ভাষা অনার্য ভাষা পরিবর্তন করেনি, ক্ষেত্রবিশেষে কিছু বিদেশি শব্দ গ্রহণ করেছে বটে কিন্তু সাঁওতালি শব্দ গ্রহণ করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং সাঁওতালরাই যখন তাদের আদি বাসস্থান সাঁওতাল পরগনা ত্যাগ করে এদেশে আগমন করেছে, তখন জীবনযাত্রার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে এদেশের প্রচলিত বুলি ফল, পশু, মাছ, পাখি ইত্যাদি বিষয় সংশ্লিষ্ট নাম গ্রহণ করেছে।
মাসের নাম, সংখ্যা, স্থানীয় ফল-মূল ইত্যাদির নাম বাংলাদেশ, আসাম, উড়িষ্যা, বিহার ইত্যাদি অঞ্চলে এক নয়। এ পর্যালোচনা থেকেও প্রমাণিত হয় যে, সাঁওতালসহ অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ এদেশে আগত, তারা বাংলাদেশের ভূমিজ সন্তান নয়। এ কারণে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আদিবাসী বলে দাবি করাও যুক্তিসঙ্গত নয়।
৪) আন্তর্জাতিক ঘোষণা: ইউনেস্কো ১৯৬৪ সালে মস্কোতে জাতিসমস্যার জীবতাত্ত্বিক সমস্যাবলী সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে, বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষ ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ নামক একটিমাত্র প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত এবং একই মূল থেকে উদ্ভূত। তবুও বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যে বংশ-পরম্পরাগত গুণ থাকায় অন্য গোষ্ঠী থেকে পৃথক। এই এক একটি গোষ্ঠীকে `রেস` বা `জাতি` বলে। অর্থাৎ মানুষের একটি বিরাট দলের লোকজনদের মধ্যে যখন পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কতকগুলো সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তখন সেই দলকে জাতি বলা হয়। সে অর্থে বাংলাদেশের সকল নৃ-গোষ্ঠীই এক একটি জাতি, ক্ষুদ্র জাতি। এরা ক্ষুদ্র জাতি, এর কারণ অনেক গোষ্ঠী খুবই ক্ষুদ্র, যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনধ জাতিগোষ্ঠীর পরিবার সংখ্যা মাত্র ২২ এবং জনসংখ্যা শতাধিক।
জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালকে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসী’র সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, ``...Indigenous people are such population groups as we are, who from old age times have inhabited the lands when we live, who are awere of having a characters of our own, with social tradition and means of expression that are linked to the country inhabited from our ancesters, with a language or our own and having certain essential and unique characteristics which confer upon us the strong conviction of belonging to a people,who have an identity in ourselves and should be thus regarded by others (1993).``
আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে আদিবাসী চিহ্নিত করা হয়েছে এভাবে, ``...Peoples in independent countries who are regarded as indigenous on occount of their decent from the populations which inhabited the country or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonisation or the establishment of present state boundaries and who irrespective of their legal status,retain some or all of their social, cultural and political institutions(1989)``
অর্থাৎ “আদিবাসী`` বা দেশজ মানবসমাজ, জনগোষ্ঠী অথবা জাতিসত্তার পরিচিতি পাবার অধিকারী তারাই, যাদের প্রাক-আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যা তারা নিজ বাসভূমিতে তৈরি করেছিলেন। যারা তাদের বাসভূমিতে অথবা কিয়দংশে পাশাপাশি বসবাসকারী অন্যান্য মানবকূল থেকে নিজেকে একটি বিশেষত্বময় পৃথক সত্তার অধিকারী মনে করেন। যারা আজ সমাজের প্রতিপত্তিশালি না হয়েও ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য তাদের নিজস্ব গোষ্ঠীসত্তা, সাংস্কৃতিক কাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বিধিব্যবস্থা রেখে যেতে চান একটি বিশেষ মানবসমাজের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য।”
এ সংজ্ঞানুসারে বাংলাদেশের কোনো উপজাতিই আদিবাসী প্রত্যয়টির আওতায় পড়ে না। কারণ এ সংজ্ঞার শর্তই হলো, আদিবাসী হিসেবে পরিচিতি পাবেন তারাই, যাদের প্রাক আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যা তারা নিজভুমিতে তৈরি করেছিলেন। যারা আদিম সংস্কৃতির ধারক এবং নিজেদের সমাজ, সংস্কৃতি ও চিরায়ত ধর্ম ইত্যাদি গভীর নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে মেনে চলে। অন্যান্য মানবকূল হতে নিজেদেরকে একটি বিশেষত্বময় সত্তার অধিকারী বলে মনে করে। এ সংজ্ঞার শর্তই হলো, যাদের প্রাক আগ্রাসন ও প্রাক-সাম্রাজ্যবাদী অধিকারের আগে থেকেই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে, যারা প্রতিপত্তিশালী বা শাসকগোষ্ঠীর সদস্য নয়। কিন্তু ইসলাম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-হিন্দু ধর্ম বা ধর্মের মানুষ অবশ্যই প্রতিপ্রত্তিশালী বা শাসক গোষ্ঠী। সুতরাং কোনো প্রকৃতি উপাসক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যখনই ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-মুসলিম হবে তখন সে শাসক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আদিবাসী সংজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
বাংলাদেশ ও ভারতের সকল উপজাতীয় লেখক, অন্য জাতিগোষ্ঠীর সর্বজন গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবী এবং ব্রিটিশ প্রশাসক ও মিশনারিদের লিখিত বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গ্রন্থসূত্রে প্রমাণিত হয় যে, এদেশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী তথা উপজাতি জনগোষ্ঠীর আগমন হয়েছে নিকট অতীতে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের গ্রন্থসূত্রে (ঐতরেয়, ঋগবেদ প্রভৃতি) প্রমাণিত-- এদেশ এবং দেশজ জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালির অস্তিত্ব হাজার-লক্ষ বছরের প্রাচীন। ৪৭ পূর্ব অখণ্ড ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আদিবাসী বলে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীই ‘আর্য পূর্ব ভারতের আদিম বাসিন্দা’।
কাজেই বোঝা যায়, আদিবাসীরা নিজ নিজ দেশের মূল বাসিন্দা এবং জনপদ সৃষ্টির প্রথম থেকেই স্থানীয় মাটির সাথে তাদের নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক সুগ্রথিত। এ অর্থে এদেশের বাঙালিরাই(হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ) এদেশের মূল বাসিন্দা।
হিন্দু জাতিভেদ প্রথার নিচুস্তরে অবস্থিত দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রকৃত আদিবাসী। অনার্য জনগোষ্ঠী এবং প্রকৃতি উপাসক জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ হিসেবে বাংলাদেশের শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ ধর্মান্তরিত মুসলিম। এরাই এদেশের আদি-বাসিন্দা। সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি অবশ্যই প্রশংসনীয়।
জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করবে এমন অনাবশ্যক বিতর্ক সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে সকলের মনোনিবেশ করা উচিৎ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা যদি এ অভিধায় সন্তুষ্ট না হন তবে তারা নিজেদেরকে জাতি বলুন, যেমন চাকমা জাতি, সাঁওতাল জাতি তবে তা আদিবাসী জাতিসমূহ নয়। বিষয়টি সমাধানে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং দেশের নীতিনির্ধারকমহল ভেবে দেখতে পারেন। আসুন বিতর্ক নিরসনে ঐক্যদ্ধভাবে কাজ করে প্রকৃত অর্থে ``সোনারবাংলা`` গড়ে তুলি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1381)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 09
(116)
- পাহাড়ের কান্না ও আদিবাসীদের স্বীকৃতি by সালেক খোকন
- আমিনুল হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার দাবি ...
- মিয়ানমারে সহিংসতার তদন্ত চায় জাতিসংঘ
- অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে- ব্যর্থ হলো অস্ত্র-...
- ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ ট্যাংক ও হেলিকপ্টার নিয়...
- চাঁদের গঠন নিয়ে নতুন তত্ত্ব
- হুমকিতে সামুদ্রিক জীবন
- আদিতমারীতে ফের পানিতে ডুবে দুই ছাত্রীর মৃত্যু
- ১০ বছর ধরে লো-ভোল্টেজ সমস্যায় দুই হাজার মানুষ
- পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার নর্দমা
- গড়াই নদে ভেসে গেল স্বপ্ন- কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ...
- নিরাপত্তাহীন ঋণ এবং আরও ১০ ব্যাংক
- আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে প্রধানমন্ত্রী- রোহিঙ্...
- বাজারদর- বাজারের তেজিভাব খানিকটা কমেছে
- ফিতরা কী এবং কেন by মিরাজ রহমান
- জেলা পরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্য-আরটিসির অবৈধ সভাপতি ...
- যোগাযোগমন্ত্রীর দাবি-যত বলা হচ্ছে রাস্তাঘাট তত খার...
- আমানত শাহ্ লুঙ্গি অলিম্পিক আপডেট-কিংবদন্তি হওয়ার অ...
- দ্রব্যমূল্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন...
- সম্পাদকের কলাম-পদ্মা সেতু ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস by ই...
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপড়েন by মেহেদী ...
- আদভানির বক্তব্যে লোকসভায় হট্টগোল অধিবেশন মুলতবি
- মেঘালয়ে বাস খাদে, নিহত ৩১
- ধর্ম- রোজাদারের মর্যাদা সবার ওপরে by আবদুস সবুর খান
- শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র- এখনই গ্যাস তোলার উদ্যোগ নিত...
- খোলা হাওয়া- গণতন্ত্রের চর্চা by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা দিন- তৈরি পোশা...
- সড়ক-মহাসড়ক নির্বিঘ্ন করুন- ঈদে বাড়ি যাওয়া
- শ্রদ্ধাঞ্জলি- অগ্রসর অগ্রজ বুলু খালা by দিল মনোয়ার...
- মিডিয়া ভাবনা- হুমায়ূন আহমেদের প্রতি মিডিয়ার শ্রদ্ধ...
- অস্ত্র বিক্রির আইন লঙ্ঘন-৭৫ লাখ ডলারে আপস করল ব্ল্...
- জারদারির দুর্নীতি মামলা-নতুন প্রধানমন্ত্রীকে কারণ ...
- রেকর্ডের অলিম্পিক
- চ্যাম্পিয়নদের করুণ পরিণতি
- বি চি ত্র অ লি ম্পি ক- এমনও!
- অ লি ম্পি কে প্র থ ম
- টে নি স- আক্ষেপ ঘুচবে ফেদেরারের?
- পামের বন ছিল অ্যান্টার্কটিকায়!
- আফগান যুদ্ধে বেসামরিক হতাহত কমেছে
- মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০-বন্যায় ম্যানিলার ১০ লাখ মানুষ...
- পশ্চিমা নামে স্কুলের নামকরণ নিষিদ্ধ
- সাহায্য সংস্থার হুঁশিয়ারি-দ্রুত পদক্ষেপ, নয় তো ভয়া...
- সিনাইয়ে মিসরীয় সেনাবাহিনীর হামলায় ২০ জঙ্গি নিহত
- সিনাইয়ে মিসরীয় সেনাবাহিনীর হামলায় ২০ জঙ্গি নিহত
- ওয়াসার এমডির ভ্রমণবিলাস-স্বচ্ছ তদন্তের দাবি
- তিন ইন্ডাস্ট্রির ইন্দ্রনীল
- ‘জিসম টু’ হিট
- আই এ্যাম বন্ড... জেমস বন্ড
- বাজারে হুমায়ূন আহমেদের ঘেটুপুত্র কমলার অডিও সিডি
- রিমির অগ্রযাত্রা
- স্বপ্নমুখীর যাত্রাপথে...
- শুভর উড়ন্ত সূচনা by খায়রুল বাসার নির্ঝর
- আহরণ
- শুভ জন্মাষ্টমী
- নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ
- খবর শুধু খবর নয় by নিয়ামত হোসেন
- নারী ক্ষমতায়ন ও শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্য by স্বদেশ রায়
- জন্মাষ্টমী ॥ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ আর মনুষ্যত্বের জ...
- ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে...
- বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ নির্বাচন কি হতে পা...
- পরলোকে বোমাং রাজা অং শৈ প্রু চৌধুরী
- থিয়েটার স্কুলের কোর্স সমাপনী ও সনদ বিতরণ- সংস্কৃতি...
- আজ শুভ জন্মাষ্টমী, বিকেলে শোভাযাত্রা
- পাঠ্যবই চক্রের দাবি মেনে এবার গচ্চা এক শ’ কোটি টাক...
- ইফতারে কোন অবসর নেই ট্রাফিক পুলিশদের- রমজানুল মোবারক
- একবার খেলে কেউ ভোলে না রসিকজনের কাছে বেশ জনপ্রিয়- ...
- জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস আজ
- গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারী হস্তক্ষেপে ৫৮ নারী নেত্রীর ...
- বিদ্যুত, জ্বালানি বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে গচ্চা যাচ...
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১শ’ কোটি ডলারে উন্নীত
- বিশ্বব্যাংক নতুন করে অসন্তুষ্ট, অনিশ্চিত দাতা অর্থ...
- লবণ সিন্ডিকেটে জড়িত তিন প্রতিষ্ঠানÑগুরুতর অভিযোগ-ব...
- ঈদে ঘরে ফেরা ॥ বেহাল সড়ক- ০ বাস্তবায়ন হয়নি মন্ত্রী...
- পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টে নতুন প্রধানমন্ত্রীকেও তলব
- ৩৪ বছর পর আপন ঠিকানায়
- প্রাচীনতম ‘দেশলাইকাঠি’!
- আদভানির মন্তব্যে লোকসভায় চটেছেন সোনিয়া গান্ধী
- নীলম নদীর দুই পারের দুঃখ
- আরও ভোগান্তির আশঙ্কা- মানিকগঞ্জ-দৌলতপুর সড়কে বাস চ...
- ডোমার রেলস্টেশন ভবনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ
- ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি কতটা যৌক্তিক! by ড...
- বর্ষায় খরা, আমন-পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক
- তিন উপজেলার ১৫ গ্রাম- প্রকৃতির দয়ায় বেঁচে থাকা
- বোমাং রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী আর নেই
- শায়খুল হাদিস আজিজুল হকের ইন্তেকাল
- সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা- তদন্ত কর্মকর্তাকে আরও দুই দ...
- আলোচনা সভায় বক্তারা- প্রজ্ঞা ও ত্যাগের জন্য জাতি চ...
- ধর্ম- মাহে রমজান জাকাত আদায়ের উত্তম সময় by আবদুস...
- ক্ষমতাসীন দলের রক্তক্ষয়ী অন্তর্দ্বন্দ্ব- রূপগঞ্জে ...
- বদলে যাও বদলে দাও মিছিল- রুখে দাঁড়ান খাবারে রাসায়ন...
- ঈদে যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন- সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি
- যুক্তি তর্ক গল্প- মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতার নিশ...
- এই দিনে- শ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলা by তারাপদ আচার্য্য
- দেশহীন মানুষের কথা- রাষ্ট্র বনাম আদিবাসীদের সুখ-দু...
- অল্প স্বল্প গল্প
- বন্ড অর্ধাঙ্গিনীর এক বছর
- বাপ্পার সবুজ-ভাবনা by মাহফুজ রহমান
- ঈদের শুটিং করতে করতে... by আলতাফ শাহনেওয়াজ
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ৬০ নারীনেত্রীর বিবৃতি- তৃণমূল ...
- আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ- আদিবাসীদের ওপর সহিংসত...
- সংলাপমুখী রাজনীতি-সংঘাত নয়, সমঝোতাই কাম্য
- পবিত্র কোরআনের আলো-মানুষের উচিত অতীত সভ্যতার পরিণত...
- রাজনীতি- নির্বাচন না হয় হবে, প্রার্থী হবেন কারা? b...
- সংবাদ বিশ্লেষণ- বিচারক নিয়োগে কমিশন নাকচ করা বিস্ম...
- বোল্টের ইতিহাস হওয়ার দিন by উৎপল শুভ্র
- ঈদে বাড়ি গেলে ঘরে তালা লাগিয়ে যাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্...
- চেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অর্থ দেওয়া যাবে- জনগণ থে...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : কাজী ফিরোজ রশীদ-আগামী নির্বাচনে...
- চরাচর-শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি by তারাপদ আচার্য্য
- সব মহলের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন by আবুল হাসান চৌধুরী
- আদিবাসী বনাম উপজাতি বিতর্ক by ড. মিল্টন বিশ্বাস
- সাদাকালো-জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন খাদ্যে-ওষুধে ...
- চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে
- সেই ‘বাজে পীনস্তনী’ মেয়েটির ইচ্ছে
- নভেম্বরে আসবেন ‘প্লেবয়’ কাভারে
-
▼
Aug 09
(116)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment