রেকর্ডের অলিম্পিক

রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। তার পরও বব বিমনের অলিম্পিক রেকর্ডটি অক্ষত ৪৪ বছর... ১৯৬৮ মেক্সিকো সিটি অলিম্পিকে লং জাম্পে ফেবারিট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বব বিমন। অলিম্পিকের আগে ২৩টি মিটে অংশ নিয়ে ২২টিতেই জিতেছিলেন ২২ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ এই অ্যাথলেট।


তবে ১৮ অক্টোবর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বিমন যেটা করলেন, সেটা অবিশ্বাস্য। যাঁর ক্যারিয়ার-সেরা লাফ ছিল ৮.৩৩ মিটার (২৭ ফুট ৪ ইঞ্চি), সেই তিনিই কিনা লাফিয়ে পার হলেন ৮.৯০ মিটার বা ২৯ ফুট আড়াই ইঞ্চি। এক লাফে বিশ্ব রেকর্ডটা বেড়ে গেল ৫৫ সেন্টিমিটার।
বিমনের রেকর্ডটা অবিশ্বাস্য এ কারণে যে, এর আগে ১৯০১ সাল থেকে ১৩ বার ভেঙেছিল লং জাম্পের বিশ্বরেকর্ড। তবে কোনোবারই রেকর্ডটি ১৫ সেন্টিমিটার বা ৬ ইঞ্চির বেশি বাড়েনি। মেক্সিকো সিটির ওই রেকর্ড এখনো টিকে আছে অলিম্পিকে। বিশ্ব রেকর্ড হিসেবেও এটি টিকে ছিল ২৩ বছর। ১৯৯১ সালে টোকিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আরেক আমেরিকান মাইল পাওয়েল ভাঙেন বিমনের রেকর্ড (৮.৯৫ মিটার)। রেকর্ড গড়ার পর ১৯৬৪ রোম অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন লিন ডেভিস বিমনকে বলেছিলেন, ‘তুমি ইভেন্টটাকে ধ্বংস করে দিলে।’
বিমনের ৪৪ বছরের রেকর্ডই অলিম্পিকের সবচেয়ে পুরোনো রেকর্ড। এর আগের কোনো রেকর্ডই আর টিকে নেই। ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকের চারটি রেকর্ড টিকে আছে এখনো। এর তিনটিই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে এবং তিনটিই মেয়েদের ইভেন্টে। মেয়েদের ৮০০ মিটারে সোভিয়েত ইউনিয়নের নদেঝদা অলিজারেঙ্কো, ৪X১০০ মিটার রিলেতে পূর্ব জার্মানি ও শটপুটে পূর্ব জার্মানিরই ইলোনা স্লুপিয়ানেক। আর টিকে আছে একটি শ্যুটিংয়ের রেকর্ড। পুরুষ ৫০ মিটার পিস্তলে সোভিয়েত ইউনিয়নের আলেক্সান্দর মেলেনতিয়েভ স্কোর করেছিলেন ৫৮১। বিশ্ব রেকর্ড হিসেবেও এখনো এটি অক্ষত। ১৯৮৪ অলিম্পিকের সব রেকর্ডই ভেঙে গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে টিকে আছে ১৯৮৮ সিউল অলিম্পিকের ১০টি রেকর্ড। সবগুলোই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের। মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে গড়া ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ-জয়নারের রেকর্ড দুটি তো সবচেয়ে বিখ্যাত। ১৯৯৮ সালে অকালে মারা গেলেও এই দুটি ইভেন্টের বিশ্ব রেকর্ড এখনো তাঁর। সিউল অলিম্পিকেই তাঁর ননদ জ্যাকি জয়নার-কার্সির করা হেপ্টাথলন ও লং জাম্পের রেকর্ডও কেউ ভাঙতে পারেনি।
এবার অন্যরকম একটা রেকর্ড। ১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকে আমেরিকান কলেজছাত্র আলভিন ক্রেনজলিন ১১০ মিটার হার্ডলস, লং জাম্প, ৬০ ও ২০০ মিটার হার্ডলসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। অ্যাথলেটিকসে ব্যক্তিগত চারটি ইভেন্টে সোনা জয়ের উদাহরণ এই একটিই।
 মো. সো.