Tuesday, January 22, 2013
একচল্লিশ বছর পর বিজয়ের আরেক বার্তা- প্রতিবেদনগুলো তৈরি করেছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার বিকাশ দত্ত
একচল্লিশ বছর পর বিজয়ের আরেক বার্তা- প্রতিবেদনগুলো তৈরি করেছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার বিকাশ দত্ত
দীর্ঘ ৪০ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের
অভিযোগে একজনের সাজা দেয়া হলো। বাচ্চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম
আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন।
কিন্ত এ বিচারের একটি পটভূমি রয়েছে। দীর্ঘদিন আন্দোলনের ফসল এ বিচারের
রায়। ১৯৭২ থেকে ২০১৩ সাল। এ সময়ের মধ্যে ঘটেছে নানা ঘটনা। বিচারের জন্য
সুশীল সমাজকে করতে হয়েছে অনেক আন্দোলন। সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ পরিবারের সদস্যরা মিলিত হয়ে মিছিলসহকারে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪
জানুয়ারি দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ জারি করেন। এরপর জেনারেল
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এরই ধারাবাহিকতায় গঠন করা হয় ঘাতক-দালাল
নির্মূল কমিটি। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি দেশের এক শ’ একজন বরেণ্য নাগরিক
কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক ঘোষণার মাধ্যমে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’
গঠন করা হয়। এর এক মাসের কম সময়ে নির্মূল কমিটিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের
৭২টি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয়
সমন্বয় কমিটি’। এ সমন্বয় কমিটির উদ্যোগেই ২৬ মার্চ গণআদালতে যুদ্ধাপরাধী
গোলাম আযমের প্রতীকী বিচারের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়। নির্মূল কমিটি
গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাত নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক লে.
কর্নেল (অব) কাজী নুরুজ্জামান, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর ও শহীদ জননী
জাহানারা ইমাম। জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের পর শহীদ জননী পুরো সময় সমন্বয়
কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত করেন।
গণআদালতের পটভূমি
১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের দুষ্কর্ম অনুসন্ধানের জন্য গঠন করা হয়েছিল জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালতে গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার প্রত্যক্ষ করার জন্য প্রায় ৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটেছিল। এরপর গণআদালতের কর্মসূচী বানচাল করতে ব্যর্থ হয়ে তদানীন্তন বিএনপি সরকার ২৪ বরেণ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোলাম আযমের বিচারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এবং ২৪ বরেণ্য নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তখন জাতীয় সংসদে এক অসাধারণ ভাষণ দিয়েছিলেন। তখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলের চাপে এবং জাহানারা ইমামের তুঙ্গস্পর্শী আন্দোলনে সরকার ২৯ জুন ’৯২ তারিখে বিরোধী দলের সঙ্গে চারদফা চুক্তিতে বাধ্য হয়। যে চুক্তির প্রথম দুই দফা ছিল, সরকার যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচার করবে এবং গণআদালতের উদ্যোক্তা ২৪ বরেণ্য নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবে। বিরোধী দলকে সংসদে আনার জন্য খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার এ ধরনের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেনি। গোলাম আযমের বিচার করার বদলে খালেদা জিয়া তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন। শত হযরানি ও নির্যাতন সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে নির্মূল কমিটি ১০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিল।
দালাল আইন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ জারি করেন। এ আদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট ১৯৭২ সালে তিনদফা সংশোধনের পর চূড়ান্ত হয়। দালাল আইনের অধীনে ৩৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারের জন্য সারাদেশে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিভিন্ন আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে ৩০ নবেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই তাদের জন্য সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সাধারণ ক্ষমায় ৩৭ হাজারের মধ্যে ২৬ হাজার ছাড়া পেয়েছিল। ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তি আটক ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি সায়েম ও জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার দালাল আইন বাতিল করে। ফলে এই ১১ হাজার ব্যক্তির পক্ষে আপীল করে জেল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ঘটে।
গণআদালতের বড় সাফল্য গোলাম আযমসহ অন্য শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠন করা। বেগম সুফিয়া কামালকে চেয়ারপার্সন করে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ ১১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন প্রথম পর্যায়ে ৮ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭ যুদ্ধাপরাধীর দুষ্কর্ম সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এই ১৫ যুদ্ধাপরাধী হলেন: (১) আব্বাস আলী খান; (২) মতিউর রহমান নিজামী; (৩) মোঃ কামারুজ্জামান; (৪) আব্দুল আলীম; (৫) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী; (৬) মাওলানা আব্দুল মান্নান; (৭) আনোয়ার জাহিদ; (৮) আব্দুল কাদের মোল্লা; (৯) সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী; (১০) এএসএম সোলাময়মান; (১১) মাওলানা আব্দুস সোবহান; (১২) মাওলানা একেএম ইউসুফ; (১৩) মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন; (১৪) আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ; (১৫) এএম খালেক মজুমদার । তৃতীয় তালিকায় ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের নাম ছিল, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করায় তার যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে তদন্ত স্থগিত রাখা হয়। জাহানারা ইমামের জীবদ্দশায় এ আন্দোলনের চালিকাশক্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ৭২টি রাজনৈতিক-সামাজিক- সাংস্কৃতিক-মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রছাত্রী, যুব, পেশাজীবী সংগঠন। এ গণতদন্ত কমিশনের চেয়ারপার্সন ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে ২ খ-ে ১৬ যুদ্ধাপরাধীর দুষ্কর্মের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর জাতীয় সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়। শহীদ জননী জাহানার ইমাম সূচিত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের এ আন্দোলনের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় রেখে রাজপথে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য ১৯৯৫ সালে নির্মূল কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে। এ অবিস্মরণীয় বিজয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতি মহাজোটোর অঙ্গীকার, যা তরুণ প্রজন্মের নির্বাচকম-লীকে বিপুলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হয়। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী। সেই অনুযায়ীই ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা ছিল। সেদিক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পর তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করলেন।
ট্রাইব্যুনাল গঠন
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ গঠন করা হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিএনপি ও জামায়াতের ১৪ জনের বিচার চলছে। এরমধ্যে বাচ্চু রাজাকারের মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। এখন যাদের মামলা রয়েছে তাঁরা হলেনÑ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আরেক নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, হাজী মোবারক ও পটুয়াখালীর রুস্তম আলী। এদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচার চলছে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের।
সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং-
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর লাক্কাবাগে ইংরেজ সেনাবাহিনীর কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যাসহ ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করতলগত হয়। এরপরে সুদীর্ঘ ১৯০ বছর বিদেশী শাসকগোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় অবিভক্ত ভারতের জনগণ অব্যাহত লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলনের একপর্যায়ে হিন্দু আর মুসলমান দু’পৃথক জাতিÑ এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং ইতিহাসবিষয়ক বইপত্র, পত্র-পত্রিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি পূর্ববঙ্গ (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান) ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পৃথক দুটি ভূখ- গঠিত হয়। এই দুই ভূখ-ের দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ শত মাইল। মুসলমান জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার তাগিদে পাকিস্তান অর্জিত হলেও শুরুতেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে কুক্ষিগত করে নেয়, পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষুদ্র এক গোষ্ঠী যাদের অধিকাংশই ছিলেন পাঞ্জাবী ভূস্বামী।
বৈষম্য
দীর্ঘ দু’ যুগ ধরে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের বাঙালী জনগোষ্ঠীর ওপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর যে বিদ্বেষপূর্র্ণ ও বৈষম্যমূলক মনোভাব ছিল তা। মূলত ১৯৭১ সালে বিভিন্ন ঘৃণ্য অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্য ও মোটিভ হিসেবে কাজ করেছে। এক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের পেছনে যে উদ্দেশ্য ও মোটিভ ছিল পাকিস্তান সেনাবািহনী ও এর সহযোগী বািহনীগুলোর (ধীঁরষষরধৎু ভড়ৎপবং) মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উপরন্তু অপরাধসমূহ সংঘটনের ক্ষেত্রে আরও কিছু উদ্দেশ্য মোটিভ কাজ করেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাপক্ষের জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থানকালে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল- (ক) তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক শোষণসহ যাবতীয় শাসন-শোষণ অব্যাহত রাখা; (খ) ৭০-এর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশের ভূখ-ের জনগণের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী সমর্থকদের নির্মূল করা ; (গ) বাঙালী জনগোষ্ঠীর প্রতি জাতিগত বিদ্বেষ; (ঘ) ধর্মীয় সঙ্কীর্ণ মনোভাব ; (ঙ) স্বাধীনতার আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসার জন্যে বাঙালী জনমনে ভীতি সঞ্চার করা ; (চ) তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার মাধ্যমে তথাকথিত ‘স্বাভাবিক অবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা ; (ছ) বাঙালী জাতিকে মেধাশূন্য করা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যেসব সহযোগী বাহিনী ছিল- (ধীঁরষষরধৎু ভড়ৎপবং) যেমন, কনভেনশন মুসলিম লীগ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, কাইউমপন্থী মুসলিম লীগ, পিডিপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, কৃষক শ্রমিক পার্টি, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, আলশামস বাহিনী, সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্স ইত্যাদি।
কারা ভিকটিম
এরা ভিকটিম হিসেবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গণ্য হতোÑ (ক) মুসলিম নয় এমন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় ; (খ) বাংলাদেশের সাহিত্যিক সমাজ, শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ বেসামরিক লোকজন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার-পরিজন; (গ) গনিমতের মাল হিসেবে দখলকৃত বাংলাদেশের নারী সমাজ ; (ঘ) আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মী, সমর্থক ; (ঙ) বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ মাস বেসামরিক নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালী জনগণের ওপর অব্যাহতভাবে চলে নারকীয় নির্যাতন। ২৫ মার্চ মধ্য রাতে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, পুরনো ঢাকার হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা শাঁখারী বাজার, রমনা কালীমন্দির এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। অভিযানের সূচনায় সেনাবাহিনীর প্রতি জেনারেল টিক্কা খান এক আদেশে বলেন, ‘আমি মানুষ চাই না, মাটি চাই।’ দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর এবং আসামির নেতৃত্বাধীন এবং প্রভাবাধীন সহযোগী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় ৩০ লাখ বাঙালী, ধর্ষিত হয় প্রায় ৪ লাখ নারী।
রাজাকার
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যেসব সহযোগী বাহিনী ছিল, যেমন-জামায়াতে ইসলামী, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস ইত্যাদিÑ ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা থেকে তারা মুসলিম নয় এমন জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে হিন্দুদের ভিকটিম হিসেবে বাছাই করত। এ বাহিনীগুলোর আরেকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল বাঙালী, যাদের তারা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি এবং হিন্দুধর্ম দ্বারা প্রভাবিত মনে করত। বাঙালীদের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, বেশভূষা আর সাহিত্যের মধ্যে তারা তথাকথিত হিন্দুয়ানি ভাব খুঁজে পেত। এজন্য তাদের সংঘটিত অপরাধের লক্ষ্যবস্তু ছিল তৎকালীন বাংলাদেশের সাহিত্যিক সমাজ, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সব ঘৃণ্য অপরাধের আরেকটি ভিকটিম ছিল দখলকৃত বাংলাদেশের নারী সমাজ। এ যুদ্ধকালে বিশেষত বাংলাদেশের নারীরা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়। এর কারণ একদিকে যেমন ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী ধর্মীয় সঙ্কীর্র্ণ মনোভাব। তেমনি তারা মনে করত যে, যেহেতু তারা পবিত্র পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য তথাকথিত ‘জিহাদে’ লিপ্ত, তাই তারা নারীদের যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে গণ্য করত এবং অমুসলিম কিংবা সাচ্চা মুসলমান নয় এমন নারীদের ধর্ষণের জন্য বেছে নেয়া হতো তাদের তথাকথিত সাচ্চা মুসলমান বানানোর উদ্দেশ্য থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব সহযোগী বাহিনীর আরেক শ্রেণীর ভিকটিম ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষজন। তারা আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের শত্রু আর ভারতের দালাল মনে করত। এজন্য তারা আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন সময়ে দুষ্কৃতকারী, রাষ্ট্রবিরোধী, ভারতের দালাল, ভারতের চর হিসেবে তাদের ওপর ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করত।
মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্ত
সর্বশেষ তাদের ঘৃণ্য অপরাধের চূড়ান্ত ভিকটিম ছিল বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যখন স্পষ্ট প্রতীয়মান, তখন তারা বাঙালীকে মেধাশূন্য করার একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত করে, যার বাস্তবায়ন করা হয় ১৪ ডিসেম্বর। তারা ’৭১-এর ১৪ ডিসেম্বর নির্মমভাবে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজকে হত্যা করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পশ্চিম পাকিস্তানীদের মধ্যে সব সময় বর্ণবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছিল। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই বাঙালী জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের অধিবাসীদের ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নির্বিশেষে সব ক্ষেত্রে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় তারই ফলে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। আর এ যুদ্ধের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে নারকীয় হত্যাকা- ঘটায়।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা দেয়ার পরেই রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুর ধানম-ির বাড়ি ঘেরাও করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। তাঁকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে ও পরে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী জেলে নিয়ে আটক করে রাখে। এরপর জনগণ পাকস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণজয়ী সংগ্রামে লিপ্ত হয়। শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। ১০ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ১৬৯ জনের মধ্যে ১৬৭ জন প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার আলোকে মুজিবনগরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাবলে বঙ্গবন্ধুকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী কর্তৃক তাদের এদেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি, পিডিপি ইত্যাদিসহ ডানপন্থী রাজনৈতিক দল, শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সহযোগী ঘাতক বাহিনী আল-বদর, আল-শামসের পরাজয় হয়। মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাাঙালীর নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও ৪ লাখ মা-বোনের নির্যাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
মুসলিম লীগ কনভেনশন
যে লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান অর্জিত হয় সে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কনভেনশন। শুধু তাই নয়, ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের ১১টি প্রদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেবল বাংলা-ই পাকিস্তানের পক্ষে গণভোটে ব্যাপক অংশ নেয়। মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ১১৯টি আসনের মধ্যে ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা গঠনে সমর্থ হয়। অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে একটি মাত্র আসনে মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা গঠনে সমর্থ হয়। অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে একটি মাত্র আসনে মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তানসহ অন্য সব প্রদেশে মুসলিম লীগ কোন প্রকার প্রাধান্য লাভে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পাকিস্তান অর্জনে বাঙালী মুসলমানদের ব্যাপক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান অর্জনের পূর্বাপর সময়ে অবাঙালী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ কর্তৃক তা সর্বতোভাবে অস্বীকৃত হয়। এভাবেই বাঙালীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে।
বাঙালীর স্থান ছিল না
১৯৪৬ সালে ভারত সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় যেমনিভাবে কোন বাঙালীর স্থান হয়নি তেমনি বাংলায় মুসলিম লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মি. এটলী কর্তৃক প্রেরিত ক্যাবিনেট মিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন বাঙালী মুসলমানের স্থান ছিল না। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয় ঢাকায় এবং বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল কিন্তু কাউকে কোনদিন এ দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়নি ; বরং বাঙালী মুসলমানদের স্বার্থ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মুসলমানদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হতো।
বঞ্চনার শিকার
পশ্চিম পাকিস্তানী কেন্দ্রীয় শাসক গোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান সৃষ্টির গোড়া থেকে পূর্ববঙ্গকে (পূর্ব পাকিস্তান) বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্থলপথে ১২০০ মাইল দূরে আর সমুদ্রপথে ২৪৫০ বর্গমাইল দূরত্বে থাকা পশ্চিম পাকিস্তানীরা নিজেদের বীরের জাতি হিসেবে ভাবত। আর বাঙালীদের দেখত হেয় চোখে। তাদের বর্ণবিদ্বেষী আর বিভেদপূর্ণ মনোভাব ছিল সব সময়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম-অধ্যুষিত ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম এলাকার সমন্বয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলেও একমাত্র ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠীর ধর্ম ছাড়া বাদবাকি সবটাই অর্থাৎ সামাজিক রীতিনীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৩ লাখ ১০ হাজার বর্গমাইলের পশ্চিম পাকিস্তানের জনবসতি ছিল প্রতি বর্গমাইলে ১৭৮ জন; আর ৫৫ হাজার বর্গমাইলের পূর্ব পাকিস্তানের জনবসতি ছিল প্রতি বর্গমাইলে ৯২২ জন। মননের দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অনেক কাছাকাছি; আর পূর্ব পাকিস্তানের (পূর্ববঙ্গ) সীমানা যেখানে শেষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমানা সেখানে শুরু। পশ্চিম পাকিস্তানের শতভাগ মানুষের মধ্যে ছিল পাঞ্জাবী, বেলুচ, পাঠান ও সিন্ধি আর পূর্ব পাকিস্তানের ৯৮ ভাগ জনগণ ছিল বাঙালী। ১৯৬৬’র ২০ মার্চ ঢাকায় কনভেনশন মুসলিম লীগের সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তার সমর্থকদের প্রয়োজনে গৃহযুদ্ধ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। বাঙালীদের বুঝিয়ে যদি জয় করা না যায় তবে দমননীতি প্রয়োগ করে তাদের স্তব্ধ করে দেয়ার নীতি গ্রহণ করে সামরিক চক্র। নির্দয়ভাবে তা প্রয়োগ করতে থাকে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। সর্বস্তরের বাঙালী এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ২৮ জন আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আগরতলা মামলা হতে মুক্তি পাওয়ার পর তদানীন্তন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক জনসভায় বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অনেক ঘটনার পর ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট ভবনে সব প্রদেশের গবর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এতে অন্যদের মধ্যে সহকারী প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারের আব্দুল হমিদ খান ও প্রেসিডেন্টের প্রধান স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল জিএম পীরজাদা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ৬ দফা থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিরত রাখা না গেলে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপরে সামরিক অপারেশনের গোপন পরিকল্পনা ‘ব্লিৎজ’ বাস্তবায়নের অনুমোদন করা হয়। সব প্রদেশের গবর্নর ও সামরিক প্রশাসকদের সঙ্গে গোপন বেঠকে মিলিত হওয়ার আগে ১১ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া-ভুট্টো গোপন শলাপরামর্শ করে। ব্লিৎজ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে ১৬তম ইনফ্রেন্টি ডিভিশন ও খরিয়াম থেকে ১৯তম ডিভিশনকে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের আদেশ দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গণআন্দোলন
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে তীব্র গণআন্দোলন। একপর্যায়ে একাত্তরের ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ পুনর্ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে সামরিক বাহিনীর রহস্যজনক গতিবিধিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী জনমনে এ বিশ্বাস দৃঢ়মূল হয় যে, ইয়াহিয়ার এ প্রস্তাবনা বস্তুত পাকিস্তান সরকার, সামরিক বাহিনী ও তাদের তল্পিবাহক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুগভীর চক্রান্তেরই আরেক অংশ মাত্র। ওইদিন রাতে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র-নিরীহ বাঙালীদের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে পূর্ব পাকিস্তানের গবর্নর ও পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কমান্ডার হিসেবে ‘বেলুচিস্তানের কসাই’ বলে পরিচিত লে. জেনারেল টিক্কা খানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
৭ মার্চ ঢাকায় এসে দায়িত্ব নিয়ে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার, চট্টগ্রাম নৌ-ঘাঁটি এবং লালমনিরহাট ও ঈশ্বরদী বিমান ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য গোপনে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়। এরপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাকে মরুভূমি করার লক্ষ্যে নানামুখী ষড়যন্ত্র করতেই থাকে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরীহ বাঙালীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
বাংলার নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী দখলদার হানাদার বাহিনী কর্তৃক তাদের এদেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, পিডিপি ইত্যাদি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সহযোগী ঘাতক বাহিনী আল-বদর, আল-শামস, সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় ও চক্রান্তে আগ্রাসী হামলার মোকাবেলায় বাঙালীর মুক্তির সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কামান্ডের কাছে তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালীর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
গণআদালতের পটভূমি
১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের দুষ্কর্ম অনুসন্ধানের জন্য গঠন করা হয়েছিল জাতীয় গণতদন্ত কমিশন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালতে গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার প্রত্যক্ষ করার জন্য প্রায় ৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটেছিল। এরপর গণআদালতের কর্মসূচী বানচাল করতে ব্যর্থ হয়ে তদানীন্তন বিএনপি সরকার ২৪ বরেণ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোলাম আযমের বিচারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এবং ২৪ বরেণ্য নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তখন জাতীয় সংসদে এক অসাধারণ ভাষণ দিয়েছিলেন। তখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলের চাপে এবং জাহানারা ইমামের তুঙ্গস্পর্শী আন্দোলনে সরকার ২৯ জুন ’৯২ তারিখে বিরোধী দলের সঙ্গে চারদফা চুক্তিতে বাধ্য হয়। যে চুক্তির প্রথম দুই দফা ছিল, সরকার যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচার করবে এবং গণআদালতের উদ্যোক্তা ২৪ বরেণ্য নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবে। বিরোধী দলকে সংসদে আনার জন্য খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার এ ধরনের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেনি। গোলাম আযমের বিচার করার বদলে খালেদা জিয়া তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন। শত হযরানি ও নির্যাতন সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে নির্মূল কমিটি ১০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিল।
দালাল আইন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ জারি করেন। এ আদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট ১৯৭২ সালে তিনদফা সংশোধনের পর চূড়ান্ত হয়। দালাল আইনের অধীনে ৩৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারের জন্য সারাদেশে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিভিন্ন আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে ৩০ নবেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই তাদের জন্য সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সাধারণ ক্ষমায় ৩৭ হাজারের মধ্যে ২৬ হাজার ছাড়া পেয়েছিল। ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তি আটক ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি সায়েম ও জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার দালাল আইন বাতিল করে। ফলে এই ১১ হাজার ব্যক্তির পক্ষে আপীল করে জেল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ঘটে।
গণআদালতের বড় সাফল্য গোলাম আযমসহ অন্য শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠন করা। বেগম সুফিয়া কামালকে চেয়ারপার্সন করে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ ১১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় গণতদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন প্রথম পর্যায়ে ৮ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭ যুদ্ধাপরাধীর দুষ্কর্ম সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এই ১৫ যুদ্ধাপরাধী হলেন: (১) আব্বাস আলী খান; (২) মতিউর রহমান নিজামী; (৩) মোঃ কামারুজ্জামান; (৪) আব্দুল আলীম; (৫) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী; (৬) মাওলানা আব্দুল মান্নান; (৭) আনোয়ার জাহিদ; (৮) আব্দুল কাদের মোল্লা; (৯) সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী; (১০) এএসএম সোলাময়মান; (১১) মাওলানা আব্দুস সোবহান; (১২) মাওলানা একেএম ইউসুফ; (১৩) মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন; (১৪) আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ; (১৫) এএম খালেক মজুমদার । তৃতীয় তালিকায় ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের নাম ছিল, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করায় তার যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে তদন্ত স্থগিত রাখা হয়। জাহানারা ইমামের জীবদ্দশায় এ আন্দোলনের চালিকাশক্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ৭২টি রাজনৈতিক-সামাজিক- সাংস্কৃতিক-মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রছাত্রী, যুব, পেশাজীবী সংগঠন। এ গণতদন্ত কমিশনের চেয়ারপার্সন ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে ২ খ-ে ১৬ যুদ্ধাপরাধীর দুষ্কর্মের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর জাতীয় সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়। শহীদ জননী জাহানার ইমাম সূচিত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের এ আন্দোলনের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় রেখে রাজপথে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য ১৯৯৫ সালে নির্মূল কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে। এ অবিস্মরণীয় বিজয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতি মহাজোটোর অঙ্গীকার, যা তরুণ প্রজন্মের নির্বাচকম-লীকে বিপুলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হয়। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী। সেই অনুযায়ীই ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা ছিল। সেদিক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পর তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করলেন।
ট্রাইব্যুনাল গঠন
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ গঠন করা হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিএনপি ও জামায়াতের ১৪ জনের বিচার চলছে। এরমধ্যে বাচ্চু রাজাকারের মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। এখন যাদের মামলা রয়েছে তাঁরা হলেনÑ জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আরেক নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, হাজী মোবারক ও পটুয়াখালীর রুস্তম আলী। এদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচার চলছে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের।
সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং-
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর লাক্কাবাগে ইংরেজ সেনাবাহিনীর কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যাসহ ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করতলগত হয়। এরপরে সুদীর্ঘ ১৯০ বছর বিদেশী শাসকগোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় অবিভক্ত ভারতের জনগণ অব্যাহত লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলনের একপর্যায়ে হিন্দু আর মুসলমান দু’পৃথক জাতিÑ এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং ইতিহাসবিষয়ক বইপত্র, পত্র-পত্রিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি পূর্ববঙ্গ (পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান) ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পৃথক দুটি ভূখ- গঠিত হয়। এই দুই ভূখ-ের দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ শত মাইল। মুসলমান জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার তাগিদে পাকিস্তান অর্জিত হলেও শুরুতেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে কুক্ষিগত করে নেয়, পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষুদ্র এক গোষ্ঠী যাদের অধিকাংশই ছিলেন পাঞ্জাবী ভূস্বামী।
বৈষম্য
দীর্ঘ দু’ যুগ ধরে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের বাঙালী জনগোষ্ঠীর ওপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর যে বিদ্বেষপূর্র্ণ ও বৈষম্যমূলক মনোভাব ছিল তা। মূলত ১৯৭১ সালে বিভিন্ন ঘৃণ্য অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্য ও মোটিভ হিসেবে কাজ করেছে। এক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের পেছনে যে উদ্দেশ্য ও মোটিভ ছিল পাকিস্তান সেনাবািহনী ও এর সহযোগী বািহনীগুলোর (ধীঁরষষরধৎু ভড়ৎপবং) মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উপরন্তু অপরাধসমূহ সংঘটনের ক্ষেত্রে আরও কিছু উদ্দেশ্য মোটিভ কাজ করেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাপক্ষের জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থানকালে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল- (ক) তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক শোষণসহ যাবতীয় শাসন-শোষণ অব্যাহত রাখা; (খ) ৭০-এর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশের ভূখ-ের জনগণের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী সমর্থকদের নির্মূল করা ; (গ) বাঙালী জনগোষ্ঠীর প্রতি জাতিগত বিদ্বেষ; (ঘ) ধর্মীয় সঙ্কীর্ণ মনোভাব ; (ঙ) স্বাধীনতার আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসার জন্যে বাঙালী জনমনে ভীতি সঞ্চার করা ; (চ) তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার মাধ্যমে তথাকথিত ‘স্বাভাবিক অবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা ; (ছ) বাঙালী জাতিকে মেধাশূন্য করা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যেসব সহযোগী বাহিনী ছিল- (ধীঁরষষরধৎু ভড়ৎপবং) যেমন, কনভেনশন মুসলিম লীগ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, কাইউমপন্থী মুসলিম লীগ, পিডিপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, কৃষক শ্রমিক পার্টি, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, আলশামস বাহিনী, সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্স ইত্যাদি।
কারা ভিকটিম
এরা ভিকটিম হিসেবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গণ্য হতোÑ (ক) মুসলিম নয় এমন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় ; (খ) বাংলাদেশের সাহিত্যিক সমাজ, শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ বেসামরিক লোকজন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার-পরিজন; (গ) গনিমতের মাল হিসেবে দখলকৃত বাংলাদেশের নারী সমাজ ; (ঘ) আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মী, সমর্থক ; (ঙ) বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ মাস বেসামরিক নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালী জনগণের ওপর অব্যাহতভাবে চলে নারকীয় নির্যাতন। ২৫ মার্চ মধ্য রাতে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, পুরনো ঢাকার হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা শাঁখারী বাজার, রমনা কালীমন্দির এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। অভিযানের সূচনায় সেনাবাহিনীর প্রতি জেনারেল টিক্কা খান এক আদেশে বলেন, ‘আমি মানুষ চাই না, মাটি চাই।’ দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর এবং আসামির নেতৃত্বাধীন এবং প্রভাবাধীন সহযোগী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় ৩০ লাখ বাঙালী, ধর্ষিত হয় প্রায় ৪ লাখ নারী।
রাজাকার
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যেসব সহযোগী বাহিনী ছিল, যেমন-জামায়াতে ইসলামী, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস ইত্যাদিÑ ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা থেকে তারা মুসলিম নয় এমন জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে হিন্দুদের ভিকটিম হিসেবে বাছাই করত। এ বাহিনীগুলোর আরেকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল বাঙালী, যাদের তারা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি এবং হিন্দুধর্ম দ্বারা প্রভাবিত মনে করত। বাঙালীদের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, বেশভূষা আর সাহিত্যের মধ্যে তারা তথাকথিত হিন্দুয়ানি ভাব খুঁজে পেত। এজন্য তাদের সংঘটিত অপরাধের লক্ষ্যবস্তু ছিল তৎকালীন বাংলাদেশের সাহিত্যিক সমাজ, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সব ঘৃণ্য অপরাধের আরেকটি ভিকটিম ছিল দখলকৃত বাংলাদেশের নারী সমাজ। এ যুদ্ধকালে বিশেষত বাংলাদেশের নারীরা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়। এর কারণ একদিকে যেমন ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী ধর্মীয় সঙ্কীর্র্ণ মনোভাব। তেমনি তারা মনে করত যে, যেহেতু তারা পবিত্র পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য তথাকথিত ‘জিহাদে’ লিপ্ত, তাই তারা নারীদের যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে গণ্য করত এবং অমুসলিম কিংবা সাচ্চা মুসলমান নয় এমন নারীদের ধর্ষণের জন্য বেছে নেয়া হতো তাদের তথাকথিত সাচ্চা মুসলমান বানানোর উদ্দেশ্য থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব সহযোগী বাহিনীর আরেক শ্রেণীর ভিকটিম ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষজন। তারা আওয়ামী লীগকে পাকিস্তানের শত্রু আর ভারতের দালাল মনে করত। এজন্য তারা আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন সময়ে দুষ্কৃতকারী, রাষ্ট্রবিরোধী, ভারতের দালাল, ভারতের চর হিসেবে তাদের ওপর ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করত।
মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্ত
সর্বশেষ তাদের ঘৃণ্য অপরাধের চূড়ান্ত ভিকটিম ছিল বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যখন স্পষ্ট প্রতীয়মান, তখন তারা বাঙালীকে মেধাশূন্য করার একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত করে, যার বাস্তবায়ন করা হয় ১৪ ডিসেম্বর। তারা ’৭১-এর ১৪ ডিসেম্বর নির্মমভাবে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজকে হত্যা করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পশ্চিম পাকিস্তানীদের মধ্যে সব সময় বর্ণবিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছিল। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই বাঙালী জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ তৎকালীন দখলকৃত বাংলাদেশের অধিবাসীদের ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নির্বিশেষে সব ক্ষেত্রে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় তারই ফলে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। আর এ যুদ্ধের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে নারকীয় হত্যাকা- ঘটায়।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা দেয়ার পরেই রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একটি দল বঙ্গবন্ধুর ধানম-ির বাড়ি ঘেরাও করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। তাঁকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে ও পরে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী জেলে নিয়ে আটক করে রাখে। এরপর জনগণ পাকস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণজয়ী সংগ্রামে লিপ্ত হয়। শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। ১০ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ১৬৯ জনের মধ্যে ১৬৭ জন প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার আলোকে মুজিবনগরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাবলে বঙ্গবন্ধুকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী কর্তৃক তাদের এদেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি, পিডিপি ইত্যাদিসহ ডানপন্থী রাজনৈতিক দল, শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সহযোগী ঘাতক বাহিনী আল-বদর, আল-শামসের পরাজয় হয়। মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাাঙালীর নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও ৪ লাখ মা-বোনের নির্যাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
মুসলিম লীগ কনভেনশন
যে লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান অর্জিত হয় সে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কনভেনশন। শুধু তাই নয়, ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের ১১টি প্রদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেবল বাংলা-ই পাকিস্তানের পক্ষে গণভোটে ব্যাপক অংশ নেয়। মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ১১৯টি আসনের মধ্যে ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা গঠনে সমর্থ হয়। অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে একটি মাত্র আসনে মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা গঠনে সমর্থ হয়। অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে একটি মাত্র আসনে মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তানসহ অন্য সব প্রদেশে মুসলিম লীগ কোন প্রকার প্রাধান্য লাভে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পাকিস্তান অর্জনে বাঙালী মুসলমানদের ব্যাপক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান অর্জনের পূর্বাপর সময়ে অবাঙালী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ কর্তৃক তা সর্বতোভাবে অস্বীকৃত হয়। এভাবেই বাঙালীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে।
বাঙালীর স্থান ছিল না
১৯৪৬ সালে ভারত সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় যেমনিভাবে কোন বাঙালীর স্থান হয়নি তেমনি বাংলায় মুসলিম লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মি. এটলী কর্তৃক প্রেরিত ক্যাবিনেট মিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন বাঙালী মুসলমানের স্থান ছিল না। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয় ঢাকায় এবং বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল কিন্তু কাউকে কোনদিন এ দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়নি ; বরং বাঙালী মুসলমানদের স্বার্থ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মুসলমানদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হতো।
বঞ্চনার শিকার
পশ্চিম পাকিস্তানী কেন্দ্রীয় শাসক গোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান সৃষ্টির গোড়া থেকে পূর্ববঙ্গকে (পূর্ব পাকিস্তান) বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্থলপথে ১২০০ মাইল দূরে আর সমুদ্রপথে ২৪৫০ বর্গমাইল দূরত্বে থাকা পশ্চিম পাকিস্তানীরা নিজেদের বীরের জাতি হিসেবে ভাবত। আর বাঙালীদের দেখত হেয় চোখে। তাদের বর্ণবিদ্বেষী আর বিভেদপূর্ণ মনোভাব ছিল সব সময়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম-অধ্যুষিত ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম এলাকার সমন্বয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলেও একমাত্র ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠীর ধর্ম ছাড়া বাদবাকি সবটাই অর্থাৎ সামাজিক রীতিনীতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৩ লাখ ১০ হাজার বর্গমাইলের পশ্চিম পাকিস্তানের জনবসতি ছিল প্রতি বর্গমাইলে ১৭৮ জন; আর ৫৫ হাজার বর্গমাইলের পূর্ব পাকিস্তানের জনবসতি ছিল প্রতি বর্গমাইলে ৯২২ জন। মননের দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অনেক কাছাকাছি; আর পূর্ব পাকিস্তানের (পূর্ববঙ্গ) সীমানা যেখানে শেষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমানা সেখানে শুরু। পশ্চিম পাকিস্তানের শতভাগ মানুষের মধ্যে ছিল পাঞ্জাবী, বেলুচ, পাঠান ও সিন্ধি আর পূর্ব পাকিস্তানের ৯৮ ভাগ জনগণ ছিল বাঙালী। ১৯৬৬’র ২০ মার্চ ঢাকায় কনভেনশন মুসলিম লীগের সমাপ্তি অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তার সমর্থকদের প্রয়োজনে গৃহযুদ্ধ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। বাঙালীদের বুঝিয়ে যদি জয় করা না যায় তবে দমননীতি প্রয়োগ করে তাদের স্তব্ধ করে দেয়ার নীতি গ্রহণ করে সামরিক চক্র। নির্দয়ভাবে তা প্রয়োগ করতে থাকে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। সর্বস্তরের বাঙালী এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ২৮ জন আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আগরতলা মামলা হতে মুক্তি পাওয়ার পর তদানীন্তন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক জনসভায় বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অনেক ঘটনার পর ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্ট ভবনে সব প্রদেশের গবর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এতে অন্যদের মধ্যে সহকারী প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারের আব্দুল হমিদ খান ও প্রেসিডেন্টের প্রধান স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল জিএম পীরজাদা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ৬ দফা থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিরত রাখা না গেলে নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপরে সামরিক অপারেশনের গোপন পরিকল্পনা ‘ব্লিৎজ’ বাস্তবায়নের অনুমোদন করা হয়। সব প্রদেশের গবর্নর ও সামরিক প্রশাসকদের সঙ্গে গোপন বেঠকে মিলিত হওয়ার আগে ১১ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া-ভুট্টো গোপন শলাপরামর্শ করে। ব্লিৎজ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে ১৬তম ইনফ্রেন্টি ডিভিশন ও খরিয়াম থেকে ১৯তম ডিভিশনকে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের আদেশ দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গণআন্দোলন
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে তীব্র গণআন্দোলন। একপর্যায়ে একাত্তরের ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ পুনর্ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে সামরিক বাহিনীর রহস্যজনক গতিবিধিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী জনমনে এ বিশ্বাস দৃঢ়মূল হয় যে, ইয়াহিয়ার এ প্রস্তাবনা বস্তুত পাকিস্তান সরকার, সামরিক বাহিনী ও তাদের তল্পিবাহক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুগভীর চক্রান্তেরই আরেক অংশ মাত্র। ওইদিন রাতে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র-নিরীহ বাঙালীদের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে পূর্ব পাকিস্তানের গবর্নর ও পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কমান্ডার হিসেবে ‘বেলুচিস্তানের কসাই’ বলে পরিচিত লে. জেনারেল টিক্কা খানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
৭ মার্চ ঢাকায় এসে দায়িত্ব নিয়ে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার, চট্টগ্রাম নৌ-ঘাঁটি এবং লালমনিরহাট ও ঈশ্বরদী বিমান ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য গোপনে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়। এরপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাকে মরুভূমি করার লক্ষ্যে নানামুখী ষড়যন্ত্র করতেই থাকে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরীহ বাঙালীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
বাংলার নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী দখলদার হানাদার বাহিনী কর্তৃক তাদের এদেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, পিডিপি ইত্যাদি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সহযোগী ঘাতক বাহিনী আল-বদর, আল-শামস, সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় ও চক্রান্তে আগ্রাসী হামলার মোকাবেলায় বাঙালীর মুক্তির সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কামান্ডের কাছে তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালীর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1390)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
January
(6492)
-
▼
Jan 22
(300)
- মার্ডার-৩’ ছবিতে রগরগে সারা লরেন
- ফের ফাইলপত্র ছুড়ে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- শিবিরসহ সব জঙ্গী সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি- ঢাবির ৫০১ শিৰক
- ইয়ানার দুই রূপ
- রঙের ছড়াছড়ি প্রেমের কুহুতান- ভালবাসা কারে কয়
- ফারুককে পেটানোয় ডিসি হারুনকে পদকঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলা ডিবিতে, গ্রেফতার ৩
- নীলফামারী থমথমে, জামায়াতের নায়েবে আমিরসহ ১৬ জন রিম...
- জামায়াত শিবিরের অপকর্মের দায় নেবে না বিএনপি by সো...
- নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে উন্নয়ন ফোরামের ব...
- কে বেশি রাগী পুরুষ না নারী?
- অপশক্তিকে খুঁজে বের করতে তদনত্ম কমিশন দাবি- বঙ্গবন...
- রিতা হত্যাকাণ্ডঃ হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা ঘাতক স্বামীর
- আগামী বাজেটের আগেই সব মন্ত্রী এমপির সম্পদের হিসেব ...
- মাঠে নামানো হয়েছে কিলার গ্রুপ
- বিয়ের দাবিতে অনশন, আত্মহত্যার হুমকি! by মাহবুব হাস...
- মার্চেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হচ্ছে, ফেব্রুয়ার...
- দু'বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে আসছে সাত হাজার মে.ও. ব...
- ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেলেন রণবীর ও বিদ্যা
- সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গীরা আন্ডারগ্রাউন্ডে জঙ্গীদের সঙ্গ...
- মীমের ‘সুখে থাকলে ভুতে কিলায়’
- ব্যর্থ প্রেমের গল্প থাকবে সেলিনার নতুন অ্যালবামে
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রকাশ হচ্ছে সুজানার অ্যালবাম
- ‘কাহানি-২’ এর গল্পের অপেক্ষায় বিদ্যা!
- ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন ২৮ জানুয়ারি-ইন্দি...
- ‘পলাতক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া কতটা ন্যায়বিচার, ...
- ‘পলাতক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া কতটা ন্যায়বিচার, ...
- ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যারও বিচার করতে হবে : তরিকুল
- বিশ্বব্যাংক প্যানেলের চিঠির জবাব পাঠিয়েছে দুদক-তথ...
- মাওলানা আযাদের মৃত্যুদণ্ড-ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায...
- ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারের দ্বিতীয় বর্ষে বেতার বাংলা ইউকে
- আমেরিকা প্রবাসী সঙ্গীতশিল্পী লিনি সাবরিন ঢাকায়
- পুলিশকে মেরে অস্ত্র কেড়ে নিলো ছাত্রলীগ - আর কত দূ...
- পাগলা কুকুরের পিপার স্প্রে মানুষের ওপর ব্যবহার - ক...
- জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইন - জাতীয় স্বার্থবিরোধ...
- ভোক্তা অধিকার - আইনের কার্যকারিতা সময়ের দাবি
- বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে...
- তৈরী পোশাকের বাজার সঙ্কোচনের আশঙ্কা -শ্রমিক অধিকার...
- ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে শিশু নিহত -এ তাণ্ডব থামানোর ...
- আমিরাত থেকে অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক ফিরেছেন -প্রবাসী শ...
- ড্যাপ নিয়ে বিড়ম্বনা - অভিযোগ বিবেচনায় নিতে হবে
- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া - সাধারণ ...
- ইতিহাস পার্থিব জীবনের ভালোমন্দের আলখ্য by ড. মুহম্...
- জনমুখী প্রশাসন বনাম দলমুখী প্রশাসন- বহমান এ নষ্ট স...
- আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন
- ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলা by জিবিগ্নিউ ...
- স্মরণ : আসাদুজ্জামান খান
- স্মরণ : একজন মহৎ মানুষ : মৌলবী মাদার বখশ by ড. মাহ...
- শেষ আশ্রয় সমুন্নত রাখতেই হবে by এম জি হোসেন
- পুলিশের সেবা সপ্তাহ না দাবি সপ্তাহ by সুমন রহমান
- পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের জন্য হুমকি সেনাবাহিনী!
- ক্যাপিটল হিলে ওবামার অভিষেক ভাষণ- সাম্য ও ঐক্যের ডাক
- নয়াদিল্লিতে বাসে গণধর্ষণ- দ্রুত বিচার আদালতে বিচার...
- মিশেলের চুলছাঁটে মুগ্ধ ওবামা
- যানজট ও চট্টগ্রাম by মে. জে. (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ...
- এএফপির বিশ্লেষণ- ভবিষ্যৎ গান্ধীর যোগ্যতা নিয়ে প্র...
- বরিশাল মেডিকেল কলেজ- রাতে ছাত্রীনিবাসে ঢুকে দুই ছা...
- পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি ২৭ প্রকল্প
- লুট বা কেড়ে খাওয়ার অর্থনীতি by এরশাদ মজুমদার
- পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি ২৭ প্রকল্প
- ‘মৌসুমি নেতাদের’ পোস্টারে ছেয়ে গেছে এলাকা
- স্কিন ক্রিমে ক্যানসারের উপাদান!- রাজশাহীতে প্রসাধন...
- বশিরের আশ্বাস
- দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট রবিবার শুরু
- ইয়েমেনমুখী আফ্রিকান অভিবাসীদের নৌকাডুবি-তিনজনের ল...
- তাইওয়ানে শিশুজন্ম বাড়াতে বহু কোটি ডলারের প্রণোদনা
- হয়রানির অভিযোগ-রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন...
- ঝগড়া নয়, আমাদের কাজ দেশ চালানো : ওবামা
- হোয়াইট হাউসের দাম কমেছে!
- ব্রিটিশ কনস্যুলেটের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ইস...
- আংশিক গ্রাস সূর্যগ্রহণ-দিনের বেলায়েই সন্ধ্যার আবছায়া
- রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগঃ কা...
- বিহারে বিধায়ককে ছুরি মেরে হত্যা করল এক নারী
- কাপাসিয়াবাসী বিভ্রান্ত- কাশফিয়াকে কোন ইঙ্গিত দিলেন...
- কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণে...
- পুলিশ সপ্তাহের তাৎপর্য কোথায়?
- একাত্তরের এই দিনে
- পবিত্র কোরআনের আলো-সত্যের পথ থেকে ফিরিয়ে রাখা ও ফি...
- বিদেশিদের প্রতি জাপানের উঁচু দেয়াল by হিরোকো তাবুচি
- মুনাফা বৃদ্ধি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে না by ড....
- চরাচর-বিদেশি গাছ by আজিজুর রহমান
- নতুন বছরে পুরনো গল্প by লুৎফর রহমান রনো
- আলোচনা সভায় সুলতানা কামাল- নারী নির্যাতনবিরোধী আইন...
- ‘এ রহম কেউ দেয় না’‘এই শীতি একটা কম্বলের জন্যি দ্বা...
- আযাদকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার
- সাধারণ মানুষের কথা- ‘অহন ব্যাডারে খুইজ্জা পাইলে হয়...
- বিলেতের স্ন্যাপশট- এসে গেল সেই কঠিন সময় by শামীম...
- নতুন গণমাধ্যম- অ্যারন সোয়ার্টজকে খুন করল কে? by ...
- আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা অকার্যকর!- দরপত্র নিয়ে দুর্বৃত...
- সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক রায়- আযাদের ফাঁসির...
- পুলিশ সপ্তাহ- পুলিশ কি জনগণের বন্ধু হতে পেরেছে? by...
- দক্ষিণ সুদানে মনিরের টেলিবিপ্লব by হাসান ইমাম
- জীবনের জন্য গণিত by নিজাম সিদ্দিকী
- সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ব্রিফিং- অস্ত্র কেনায় অস্বচ...
- ইতি-নেতি-পাকিস্তানকেই প্রমাণ করতে হবে সে জীবিত by ...
- সময়ের প্রতিধ্বনি-মহাজোট সরকারের দুই বছর সাফল্য-ব্য...
- মহাজোট-প্রকৃত মুক্তির পথে যাত্রা হলো জাতির
- জেলহত্যা মামলায় চলছে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি
- ছেলেধরা বলতে কিছু নেই, শুধুই গুজব- আরও দুজনকে পিটি...
- সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৫
- হদিস নেই আযাদের
- জামায়াতের সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ড-...
- প্রতিক্রিয়া : বিএনপি-বিচারে সমর্থন আছে, এজেন্ডা বা...
- অন্য মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা
- সর্বত্র একই প্রশ্ন-বাচ্চু রাজাকার কোথায়
- রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া-রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে...
- নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা-সরকারের মেয়াদে ফাঁসি দেখতে...
- ট্রাইব্যুনালের মন্তব্য-পাকিস্তান রক্ষায় বাহিনী গড়ে...
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-ফাঁসির আদেশে কলঙ্কমোচন ...
- মঙ্গলে হ্রদের অস্তিত্ব
- ফার্কের অস্ত্রবিরতির মেয়াদ শেষ
- দুর্নীতির তদন্ত কর্মকর্তার মৃত্যু-বিচার বিভাগীয় তদ...
- যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫
- প্রাদেশিক নির্বাচনে মার্কেলের জোটের হার
- চীনে শ্রমশিবির বাতিলের সিদ্ধান্ত
- আসামিদের 'নৈতিক' শিক্ষা
- জাতিসংঘের প্রতিবেদন-আফগান কারাবন্দিদের ওপর নির্যাত...
- আলজেরিয়া সরকারের দাবি-ইন আমেনাসে নিহতের সংখ্যা ৬৭
- 'ভারতের ডিএনএ বয়ে চলেছে কংগ্রেস'
- দিল্লিতে গণধর্ষণ-দ্রুত বিচার আদালতে শুনানি শুরু
- প্রসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ-ঐক্য ও সাম্যে...
- দূরপাল্লার বাসভাড়া বৃদ্ধি-স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর ...
- রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড-একটি কলঙ্ক থেকে মুক্ত হলো জাতি
- পবিত্র কোরআনের আলো-বুদ্ধিমানদের জন্য চন্দ্র-সূর্য ...
- কারিগরি ও সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ by ওয়ালি...
- কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক by আনিসুর রহমান
- বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় দায়মুক্তির এক ধাপ by অ...
- চরাচর-ডুমুরিয়ার গণহত্যা by গৌরাঙ্গ নন্দী
-
▼
Jan 22
(300)
-
▼
January
(6492)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment