Saturday, January 26, 2013
খালেদা হাসিনার ঝাপিতে সাপতত্ত্ব by শফিক রেহমান
খালেদা হাসিনার ঝাপিতে সাপতত্ত্ব by শফিক রেহমান
শান্তির পর ঝড়।
জীবনের পর মৃত্যু।
আলোর পর অন্ধকার।
জীবনের পর মৃত্যু।
আলোর পর অন্ধকার।
ভালোর পর মন্দ।
সুখের পর কষ্ট।
প্রাচুর্যের পর অভাব।
আনন্দের পর বেদনা।
হাসির পর কান্না
স্রোতের পর বন্যা।
বর্ষার পর খরা।
জোয়ারের পর ভাটা।
পূর্ণিমার পর অমাবস্যা।
দিনের পর রাত।
তারপর? তারপর? তারপর?
বিশ্বের কিছুই অ্যাবসলিউট নয়।
তাই তো আসে শান্তির পর ঝড়।
জীবনের কিছুই অবিমিশ্রিত নয়।
তাই তো আসে আলোর পর অন্ধকার।
দিনের পর রাত।
কিন্তু তারপর? তারপর? তারপর?
শামীমের মনে এই একই প্রশ্ন ঘুরপাক দিচ্ছিল।
সে তার ওমেগার দিকে তাকাল।
রাত আটটা বাজতে মিনিট পাচেক।
ফাইনাল এপ্রুভালের জন্য এখনই আসতে থাকবে পেইজ মেকআপের পৃন্টগুলো।
একটার পর একটা এ-থৃ সাইজের শাদা কাগজে কালো রংয়ের ছবি ও অক্ষরগুলো।
পরদিন অবশ্য দৈনিক শুকতারা-র পৃষ্ঠায় কালোর সঙ্গে থাকবে লাল হেডলাইন এবং বহু রংয়ের সব ছবি।
একটু পরে ছবিগুলো সিলেক্ট করতে হবে মেরির রুমে তার পাশে বসে।
শামীম হাসান এডিটর। মীমভাই। বয়স পঞ্চাশ ছুই ছুই।
মরিয়ম খান নিউজ এডিটর। মেরি। বয়স চল্লিশ ছুই ছুই।
প্রটোকল অনুযায়ী নিউজ এডিটরেরই আসা উচিত এডিটরের রুমে।
তারপর কমপিউটার স্কৃনে বিভিন্ন ঘটনার একাধিক ছবি দেখতে হবে।
নির্বাচিত করতে হবে পরদিন সকালের ফ্রন্ট পেইজ, লাস্ট পেইজ এবং বিভিন্ন পেইজে পাঠকরা কি ছবি দেখবে? সারা দেশে যে মাত্রায় খুন জখম গুম ধর্ষণ বেড়ে চলেছে সেটা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কতোটা বীভৎস, কতোটা মর্মান্তিক ফটো পাঠককে দেখানো উচিত হবে।
বিবেচনায় রাখতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজপেপারগুলো কতোটা ভয়ঙ্কর ছবি ছাপাবে।
শামীমের টেবিলে ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠলো।
ওদিক থেকে ভেসে এল মেরির ভয়েস।
মীমভাই, ছবিগুলো সব রেডি।
আমি আসছি দু মিনিট পরে। এর মধ্যে তুমি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর বের করো। শামীম বলল।
কি প্রশ্ন?
দিনের পর রাত। তারপর কি?
আপনি যদি আশাবাদী হন, অপটিমিস্ট হন, তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হবে, রাতের পর দিন। আর আপনি যদি নিরাশাবাদী হন, পেসিমিস্ট হন, তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হবে রাতের পর রাত। মেরি তার সমাধান দিল।
তুমি দুটো উত্তর দিলে। হ্যা, রাতের পর দিন অবশ্যই আসবে। তবে এই অতি দুঃসময়ে দেশ পার করছে রাতের পর রাত। এই রাত শীতার্ত ও কষ্টকর। এই রাত মনে হয় অনেক লম্বা। তীব্র শীতে উত্তর বাংলায় মানুষ মারা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ৩৭ শিশুসহ ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। রাজধানীর প্রায় ৪,৫০০ বস্তিতে কয়েক লক্ষ মানুষ শীতে কাপছে। শামীম জানালার বাইরে তাকালো। কিছু মানুষ ফুটপাথে ডালপালা, শুকনো পাতা, পলিথিন-প্লাস্টিক জড়ো করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে ঘিরে বসে আছে। হাত-পা গরম করছে।
একটা কালো সুট পরে থাকলেও শামীমের ঠাণ্ডা লাগছিল। রুম হিটারের হিটিংটা একটু বাড়িয়ে দিল।
কিন্তু হঠাৎ ইলেকটৃসিটি চলে গেল।
ড্যাম ইট। শামীম শাপান্ত করল কুইক রেন্টালকে। বিদ্যুতের দাম এই বছরে ছয়বার বাড়িয়েও এই দুরবস্থা! শেখ হাসিনা অবশ্য বলেছেন, আগে দেশে কি অবস্থা ছিল সেটা দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য দুই ঘণ্টা লোড শেডিংয়ের নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। কুইক রেন্টালওয়ালাদের এত তেল মেরেও এই নির্দেশ কেন? ড্যাম পিএম। এর চেয়ে আর কোনো খারাপ গালি শামীম সেই মুহূর্তে খুজে পেল না।
অফিসের নিজস্ব জেনারেটরে ইলেকটৃসিটি ফিরে এলো।
আজ আরো মৃত্যুর খবর আছে? শামীম জানতে চাইল।
না। সে রকম খবর নেই। রাজশাহী বিভাগে ছিল দেশের সর্বনিম্ন টেমপারেচার। ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন টেমপারেচার ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেরি জানালো।
ঢাকায় টেমপারেচার তো বেশি থাকবেই। চলতি সপ্তাহে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার জনসংযোগ কর্মসূচি ছিল। তার জ্বালাময়ী ভাষণের উত্তাপে এবং জনসমাবেশে উপস্থিত জনমানুষের টেমপারেচারেই তো এখনো ঢাকার গরম থাকার কথা। সব ওয়েদার রিপোর্ট পেয়েছ? শামীম জিজ্ঞাসা করল।
প্রটোকল উপেক্ষা করে শামীম প্রায়ই এই সময়টায় যায় মেরির রুমে।
সেদিনও শামীম যখন মেরির রুমে গেল তখন সে কমপিউটার স্কৃনে ছবিগুলো দেখায় মগ্ন ছিল। নীল জিন্স, শাদা শার্ট আর একটা গোলাপি কার্ডিগান পরে ছিল সে। তাকে দেখতে সুন্দর লাগছিল। সে টেরই পেল না কখন কাচের দরজা ঠেলে শামীম তার রুমে ঢুকেছে।
মেরির আইপড ক্র্যাডল-এ খুব লো ভলিউমে বাজছিল সুদক্ষিণার গাওয়া গান।
জ্বলতে জ্বলতে পুড়ে যায়
জ্বলতে তবু মন যে চায়
ভালোবাসা রাখতে দাও
উদাসী হয়ে থাকতে দাও।
বৃন্ত কিছু মনকে যে ছুয়ে যায়
ধূপ হয়ে তবু সে জ্বলে যায়
পুড়তে পুড়তে গন্ধ হতে
রাত কেটে যে আধারে ঢেকে যায়
আধারে থাকতে দাও।
ওহ। এই গান শুনছো? তাই তো রাতের কথা বলছিলে। তুমি তাহলে নিরাশাবাদী। আধারেই থাকতে চাও? শামীম ধীরে ধীরে বলল।
মীমভাই! আমি টেরই পাইনি। লাজুক মুখে মেরি বলল। গানের ভলিউম আরো লো করে দিল।
মেরির বিপরীতে খান চারেক চেয়ার ছিল। একটিতে শামীম বসে জিজ্ঞাসা করলো, আজকের টপ স্টোরি কি দেবে ভাবছো?
রানিং স্টোরিগুলোর মধ্যে আছে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিএনপির দফতর সম্পাদক রিজভি আহমেদের নিজেদের অফিসে চলমান স্বেচ্ছা অবরোধ বাস। বায়তুল মোকাররমে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের প্রতি জুতাবৃষ্টির পর তার স্বেচ্ছাপলাতক জীবন। খালেদা-হাসিনার সাপতত্ত্ব। আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। এ ছাড়া ২০১২-এর সালতামামি, ইয়ার এন্ড রিভিউ, করতে হবে। মেরি বলল।
জুতা বৃষ্টির ঘটনার টৃটমেন্ট অন্যরা কি করেছে? শামীম জানতে চাইল।
মেরি তার সামনে রাখা ফাইলগুলো দেখে বলতে থাকলো,
নয়া দিগন্তে লিড নিউজ। হেডলাইন, বায়তুল মোকাররমে নৌমন্ত্রী লাঞ্ছিত। সাবহেডিং, জুতা নিক্ষেপের মুখে পুলিশের সহায়তায় পলায়ন।
আমার দেশ-এ লিড নিউজ। হেডলাইন, নৌমন্ত্রীর ওপর জুতাবৃষ্টি। সাবহেডিং, ঢাকায় আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনে ইসলাম নিয়ে মন্তব্যের জের।
যুগান্তর-এ ফ্রন্ট পেইজে থার্ড লিড, কিরাত সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রীর ওপর জুতা নিক্ষেপ।
ইত্তেফাক-এ ফ্রন্ট পেইজে সিঙ্গল কলাম নিউজ, বায়তুল মোকাররম মসজিদে নৌমন্ত্রী লাঞ্ছিত।
মানবজমিন-এ ব্যাক পেইজে ডাবল কলাম নিউজ, তোপের মুখে নৌপরিবহন মন্ত্রী।
প্রথম আলো-তে তৃতীয় পৃষ্ঠায় নিচের দিকে সিঙ্গল কলাম নিউজ, বায়তুল মোকাররমে নৌমন্ত্রী অপদস্থ।
কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর ডেইলি স্টার নিউজটা ব্ল্যাক আউট করেছিল।
আমি মনে করি এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্টোরি। মেরি বলল, বিশেষত এক দিকে মাহমুদুর রহমান ও রিজভী যখন স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন, অন্য দিকে তখন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান স্বেচ্ছাপলাতক হয়ে আছেন। খুব ইন্টারেস্টিং সিচুয়েশন। আমার দেশ থেকে পড়ে শোনাচ্ছি :
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান অতিথির বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ইসলাম পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এ ধর্ম নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ করুন। রাসুল (সা.) ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন নি। কোরআনের কোথাও ধর্মীয় রাজনীতির কথা নেই। কোরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। রাসুল (সা.) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি এ কাজটি কখনো করেন নি।
তখন মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন। এ সময় অন্য মুসল্লিরাও মন্ত্রীর এ কথার ব্যাখ্যা দাবি করে হইচই করতে থাকলে মন্ত্রী কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে উত্তেজিত বক্তব্য রাখলে মুসল্লিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। মুসল্লিরা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, আমরা তোমাকে চাই না, ওকে আনছেন কেন, কুত্তা এখান থেকে ভাগ।
এ সময় বৃষ্টির মতো জুতা নিক্ষেপ হতে থাকে মঞ্চে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। অতি দ্রুত তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এ সময় পেছন থেকে মুসল্লিরা ধর ধর আওয়াজ দিতে থাকেন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরও মুসল্লিরা বলতে থাকেন, যে জুতা মারছে, একেবারেই রাইট কাম করছে। গালে দুইটা মারা দরকার ছিল।
এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ আয়োজকরা হতভম্ব হয়ে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর দেখা যায় মঞ্চে বহু জুতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যেগুলো মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
এর আগে অনুষ্ঠানে শাজাহান খান আরো বলেন, বিশ্বের অনেক স্থানের চেয়ে বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশি ধর্মপরায়ণ। শেখ মুজিব ও তার মেয়ে শেখ হাসিনাও ইসলামের অন্যতম খেদমতকারী।
বেসরকারি সংগঠন আন্তর্জাতিক কোরআন রিসাইটেশন অ্যাসোসিয়েশনের (ইকরা) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ছাড়া ইজিপ্ট, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, ব্রুনাইসহ সাতটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইরান সংস্কৃতি কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা এবং ইকরার চেয়ারম্যান কারি ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মূল অংশের বাইরে পূর্ব চত্বরে বেলা তিনটা থেকে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তবে বাদ মাগরিব প্রতিযোগিতার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
জুতা নিক্ষেপের ঘটনার পরপরই তার সঙ্গে ইফা ডিজি চলে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বাদ এশা ফের কিরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী শাজাহান খান ওই অনুষ্ঠানে ঝামেলা হয়েছে উল্লেখ করে আমার দেশ-কে বলেন, এটা জামায়াতি চক্রান্ত। বহির্বিশ্বের সাতটি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে এ ঘটনার মাধ্যমে এ দেশের মর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে।
মেরি তার পড়া শেষ করল।
সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক আওয়ামী লীগের বড় সম্বল। ইনডিয়ার সাপোর্ট আওয়ামী লীগের বড় সহায়। এই দুটো ফ্যাক্টরকে ব্যালান্স করার জন্য আওয়ামী লীগকে প্রায়ই অযাচিতভাবে ইসলাম ভক্তি দেখাতে হয়। বিশেষত ইলেকশনের আগে তাদের ইসলামি বয়ান দিতে হয়। ইসলামি লেবাস পরতে হয়। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে ষোল বছর আগে ১৯৯৬-এ শেখ হাসিনার ফুলহাতা ব্লাউজ পরা ও মাথায় ফুল ঘোমটা দেয়া ছবিতে দোয়াপ্রার্থী লেখা পোস্টারে সারা দেশ ছেয়ে গিয়েছিল। শামীম মনে করিয়ে দিল।
হ্যা। আমার দেশ-এর এই রিপোর্টে ইনট্রোর একটি শব্দ খুব তাৎপর্যপূর্ণ। মেরি বলল।
কোন শব্দটি? শামীম জিজ্ঞাসা করলো।
ইনট্রোতে লেখা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে জুতা নিক্ষেপের শিকার হন শাজাহান খান। এখানে প্রথম শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম মানে এরপরে মহাজোট সরকারের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রভৃতি মন্ত্রীও এভাবে লাঞ্ছিত হতে পারেন। আমার দেশ রিপোর্টার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। মেরি তার মত প্রকাশ করলো।
একেই বলে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস। মাহমুদুর রহমান ও রিজভী নিশ্চয়ই অচিরে অবরোধ মুক্ত হবেন। কিন্তু শাজাহান খান কবে পলাতক জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন? এখন কি তিনি আর পুলিশের হেভি সিকিউরিটি ছাড়া বায়তুল মোকাররমে যেতে পারবেন? শামীম বলল।
অবস্থা আরো করুণ এই জন্য যে, নিরাপদ সড়ক চাই সংস্থার নেতা, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি সংবলিত পোস্টারের ওপর বাস-ট্রাক চালক শ্রমিকরা জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন যে সমাবেশে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খান। এই মন্ত্রীই বলেছিলেন, ড্রাইভারদের গরু-ছাগল চিনলেই চলবে। দেখা যাচ্ছে সেদিন বায়তুল মোকাররমে শ্রোতারা তাকে ঠিকই চিনেছিলেন। মেরি বলল।
টেলিভিশনের টকশো-তে শাজাহান খান চোখ উপড়ে ফেলার, তথা অন্যের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়ার হুমকি দেয়ার পর তাবৎ টিভি দর্শকের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিলেন। এখন তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলিম শ্রোতাদের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছেন। এরা সবাই জানতে উৎসুক তিনি কোথায় কিভাবে জীবন যাপন করছেন? ইট ইজ এ গুড স্টোরি। সঞ্জীবকে বলো পলিটিকাল লিডারদের জুতা খাওয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস আমি চাই। শামীম বলল।
মেরির কল পেয়ে রেফারেন্স লাইব্রেরিয়ান সঞ্জীব এল পলিটিকাল লিডারদের জুতা খাওয়ার ইতিহাসের একটা পৃন্ট আউট নিয়ে।
শামীম চটপট পড়লো।
১৪ ডিসেম্বর ২০০৮। বাগদাদে একটি প্রেস কনফারেন্সে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিউ বুশের প্রতি পরপর দুটি জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন ইরাকি সাংবাদিক মুনতাদির আল-জায়দি। এর পরিণতিতে তিনি গোটা আরব বিশ্বে টপ হিরো হয়েছিলেন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর ২০০৮-এ মন্টৃয়ল ও টরন্টোতে প্রতিবাদকারীরা বুশের পোস্টারে জুতা বৃষ্টি করেছিল।
২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। ইংল্যান্ডে কেমবৃজ ইউনিভার্সিটিতে চায়নিজ প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও যখন একটি ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন তার প্রতি জুতা ছুড়েছিলেন জার্মান প্রতিবাদকারী মি. জানকে।
৭ এপৃল ২০০৯। দিল্লিতে একটি প্রেস কনফারেন্সে ইনডিয়ার অর্থমন্ত্রী পি. চিদামবরম-এর প্রতি জুতা ছুড়েছিলেন শিখ সাংবাদিক জার্নাইল সিং।
২৬ এপৃল ২০০৯। আহমেদাবাদ শহরে নির্বাচনী সমাবেশে ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর প্রতি জুতা ছুড়েছিল জনৈক ২৮ বছর বয়সী যুবক।
২৩ অক্টোবর ২০০৯। তেহরানে বিরোধী নেতা মেহেদি কারুবি-র প্রতি জুতা ছুড়ে মেরেছিল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনিজাদ-এর সমর্থকরা।
ফেব্রুয়ারি ২০১০। স্পেনে সেভিয়া শহরে টার্কিশ প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়েব এরদোগান-এর প্রতি কুর্দিস্তানের দাবিতে জুতা ছুড়েছিল জনৈক কুর্দি যুবক।
৭ আগস্ট ২০১০। ইংল্যান্ডে বার্মিংহাম শহরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির প্রতি জুতা ছুড়েছিল শামীম খান নামে এক যুবক।
৪ সেপ্টেম্বর ২০১০। আয়ারল্যান্ডে ডাবলিন শহরে নিজের বই প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল। সঙ্গে বোনাস রূপে ছিল একটি ডিম।
১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। গৃসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রুর প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১। লন্ডনে একটি জনসমাবেশে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
২৩ জানুয়ারি ২০১২। দেরাদুনে একটি জনসভায় কংগ্রেস নেতা ও এমপি রাহুল গান্ধীর প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
জুন ২০১২। ডেগেনহাম, পূর্ব লন্ডনে প্রকাশ্য রাজপথে জনৈক বাংলাভাষী মানি লন্ডারকারী ও অসত্য তথ্য দানকারী বিচারপতি জুতা দ্বারা নির্মমভাবে প্রহৃত হন। পরবর্তীকালে ইউটিউবে সেই প্রহারের ভিডিও প্রচার হয়।
এসব নাম বিবেচনা করলে বলতেই হবে বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গ এখন পেয়েছেন। গোপন জীবন যাপন করলেও তার আক্ষেপের কোনো কারণ নেই। তিনি এখন বিশ্বখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু এতগুলো জুতা কাদের ছিল? তারা সবাই খালি পায়ে ফিরে গেল? শামীম লিস্টটা পড়ে আত্মগতভাবে বলল।
ঘটনার পরই বায়তুল মোকাররম, পল্টনসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে নিয়মিত মুসল্লিসহ কয়েকজনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। এদের মধ্যে পুরানা পল্টন এলাকার কিছু ফুটপাথ হকারও আছে। পাচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেও গোয়েন্দারা কাউকে শনাক্ত করতে পারে নি। মেরি বলল।
ওরা ভুল লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ঘরে ঘরে অন্তত একটি চাকরি এনে দেবেন। তা হয়নি। বরং অনেকেই দেশে ও বিদেশে চাকরি খুইয়েছে। আমার ধারনা, জুতাগুলো ছিল ওই বেকার মানুষদের। চাকরির খোজে ওদের জুতা ও স্যানডালের তলি ক্ষয়ে গেছে। তাই সেসব শাজাহান খানের সভায় ফেলে দিতে দ্বিধা বোধ করে নি। শামীম বললো।
মীমভাই, সমস্যাটা এই যে, এরপর থেকে মহাজোটের অন্য মন্ত্রীরাও সাবধান হয়ে যাবেন। মানুষের কাছ থেকে দূরে নিরাপদে থাকতে চাইবেন। ফলে তারা আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। আপনার হয়তো মনে পড়বে কিছুকাল আগে সোনারগাও হোটেলের সামনে আইনমন্ত্রীর গাড়ি আক্রান্ত হয়েছিল। এভাবে কতো দিন চলবে? মেরি বলল।
এ প্রশ্নের উত্তর মহাজোট মন্ত্রীরাই জানেন। সেকেন্ড রানিং স্টোরি খালেদা-হাসিনার সাপতত্ত্ব সম্পর্কে কি বলবে?
বুধবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২-তে রাজধানীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে গণসংযোগ করেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। তার সামনে পেছনে ছুটেছে গাড়ি, মোটরসাইকেল। মুহুর্মুহু স্লোগান মুখে দু পাশে ছুটেছে হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ চল্লিশ কিলোমিটার পথ জুড়ে গণসংযোগ বহরটি সকাল এগারোটায় গাবতলী থেকে শুরু হয়ে শ্যামলী, আগারগাও, কাওরান বাজার, মগবাজার, গুলিস্তান, ধোলাই খাল, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, খিলগাও, রামপুরা, বাড্ডা হয়ে ভাটারা গিয়ে শেষ হয় রাত প্রায় নয়টায়।
এটি ছিল সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ অভিযান। কোনো জ্বালাও পোড়াও ছিল না। কোনো ভাঙচুর সংঘর্ষ ছিল না। কোনো পালটা পুলিশি হামলা ছিল না। তুলনামূলকভাবে সেদিন রাজধানীতে গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। অহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির এই নতুন দৃশ্যে নতুন রূপে আবির্ভূত হন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। সরকার ও সরকারি দলের অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচারের জবাব তিনি দিয়েছেন শাণিত কিন্তু শালীন ভাষায়। আবেগী কিন্তু যৌক্তিক কথায়।
প্রতিটি পথসভা রূপান্তরিত হয়েছিল জনসভায়। সাধারণ মানুষকে পল্টনে যেতে হয়নি নেত্রীর কথা শুনতে। নেত্রীই সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছেন তার কথা শোনাতে। নতুন ধরনের এই অভিযানে, তিনি দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ-জামায়াত নেতাদের মধ্যে অতীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের ছবি। প্রশ্ন করেছেন, কেন এর আগের বার ক্ষমতায় থাকার সময়ে আওয়ামী লীগ যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করেনি। অঙ্গীকার করেছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপিই করবে প্রকৃত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার। দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের নাম করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবিতে অতীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী লীগ এবং এবার ক্ষমতায় এসে সেই আওয়ামী লীগই আদালতের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে খালেদা বলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায়, আওয়ামী লীগকে নয়। এসব কথা বলার পর তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা পুনর্বহালের আহ্বান তিনি জানান সরকারের প্রতি। তিনি বলেন, অন্তত একটি ভালো কাজ করুন।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রীর কথা বিশ্বাস করা যায় না। তিনি শুধু মিথ্যা কথা বলেন। অশ্লীল কথা বলেন। তার কথার উত্তর আমরা দিতে পারবো না। তিনি গালাগালি করেন। এর আগের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে হাই কোর্টের ফুল বেঞ্চ বলেছিল, তিনি রং হেডেড। একজন মাথা খারাপ লোককে চেয়ারে রাখলে কেউ নিরাপদে থাকতে পারে না। পাগল দিয়ে দেশ চলে না।
খালেদা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কিভাবে দাবি করে? তারা তো যুদ্ধ করে নি। তাদের নেতা ছিল পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। সত্যিকার রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের দল বিএনপি।
খালেদা তার সহজাত সৌজন্য, ভদ্রতা ও বিনয়ের কারণে বলেন নি, সেই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা ইচ্ছা করলে যুদ্ধক্ষেত্রের নেতা হতে পারতেন। সেটা না করে তিনি পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য দিকে তার স্বামী তাৎক্ষণিক বিদ্রোহ ঘোষণার পর নয় মাস রণাঙ্গনে ছিলেন।
এসব জনসভায় খালেদা জিয়া আহ্বান জানান যুবসমাজের প্রতি। তিনি বলেন, যুবকরা জাগো, জাগো। নিজের জন্য, দেশের জন্য, তোমাদের জাগতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
খালেদা জিয়ার এসব উক্তির পরদিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, আসলে তিনিই (খালেদা জিয়া) সাপ নিয়ে খেলছেন। সাপের ঝাপি মাথায় নিয়ে চলছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পার্লামেন্ট উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমরা (আওয়ামী লীগ) সাপ নই। আমরা সাপ থেকে জাতিকে রক্ষা করছি। খালেদা জিয়াই সাপ ভালো চেনেন। এক সাপ আরেক সাপকে চেনে। খালেদা জিয়া সাপ ছেড়ে দিয়েছেন। এই সাপের দংশনেই তিনি ধ্বংস হবেন।
এসব বক্তব্যের প্রতি-উত্তরে বিএনপি এমপি ও পার্লামেন্ট চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সাপের ঝাপি নয়Ñ খালেদা জিয়া মাথায় গণতন্ত্রের ঝাপি নিয়ে চলছেন। মেরি থামলো।
আসলে হাসিনা-সাজেদা-জয়নুল আবদিন ফারুক, কেউই ঠিক বলছেন না। বিএনপির চেয়ারপারসনের হেয়ার স্টাইল দেখলে সবাই একমত হবে যে অতি যতেœ তার ওই উচু করা চুলে তিনি কখনোই কোনো ঝাপি রাখবেন না। বরং সাপের ঝাপি আওয়ামী লীগ নেত্রীর ফ্যাট চুলেই মানাবে ভালো। তাছাড়া সাপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বহু পুরনো। অতীতে খন্দকার মোশতাকের জনসভায় বোমা বিস্ফোরিত হবার পরে কে বা কারা সেখানে কয়েকটি সাপ ছেড়ে দিয়েছিল। তখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এজন্য আওয়ামী লীগকে কেউ কেউ দায়ী করেছিলেন। সে যাই হোক। এই সাপতত্ত্ব বিষয়ে স্টোরি করতে গেলে সাপ সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দিতে হবে পাঠকদের। শামীম বলল।
সেটা ভেবেই আমি একটা ফাইল খুলেছি যার নাম, যে বিশটি তথ্য আপনাকে জানতেই হবে : সাপ। দেখুন ফাইলটি। মেরি তার কমপিউটার স্কৃন দেখতে বলল শামীমকে।
থার্ড রানিং স্টোরি সম্পর্কে কি বলবে? শামীম প্রশ্ন করলো।
আওয়ামী লীগে সপ্তমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা এবং দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই কাউন্সিল অধিবেশন ছিল নিষ্প্রাণ ও নিষ্প্রভ। এই দুজনার নির্বাচিত হবার বিষয়টি আগেই জানা ছিল সবার। তবে যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বয়সের কারণে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসর নেয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগ তখন সঙ্গত কারণেই কথা ওঠে শেখ হাসিনা, যিনি সাতান্ন বছর বয়সে রিটায়ার করবেন বলেছিলেন, তিনি কেন রিটায়ার করলেন না। মেরি উত্তর দিল।
আন্তর্জাতিক খবর কি? শামীম জানতে চাইলো।
টাইম ম্যাগাজিন পারসন অফ দি ইয়ার হিসেবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নির্বাচিত করেছে।
সঠিক নির্বাচন। তবে এই প্রথম টাইম পারসন অফ দি ইয়ার কভার করেছে রুপালি বর্ডার দিয়ে এবং পারসন অফ দি ইয়ারের শর্ট লিস্টে যারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে এসেছেন তাদেরও কভার সাইজ ছবি ছেপেছে। তবে এদের ছবি ছেপেছে লাল বর্ডারে। মেরি বলল।
এরা কারা?
দ্বিতীয় স্থানে এক পাকিস্তানি স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাই। তৃতীয় অ্যাপল প্রতিষ্ঠানের সিইও টিম কুক। চতুর্থ ইজিপ্টের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুর্সি। আর পঞ্চম স্থানে পার্টিকল ফিজিসিস্ট ফেবিওলা জিয়ানটি। টাইমের মতে এই পাচজনই ২০১২-র বিভিন্ন ঘটনার ওপরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছেন। মেরি বলল।
শেখ হাসিনার নাম নেই?
না। কোথাও নেই।
শেখ হাসিনা এবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন না। এবারও টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এলেন না। ইকনমিস্টের পর এখন তিনি টাইমের ওপর খ্যাপা হতে পারেন। শামীম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার ভান করলো।
আরেকটি ইন্টারন্যাশনাল খবর হচ্ছে প্রায় আশি বছর পরে আমেরিকার দ্বিতীয় প্রভাবশালী ম্যাগাজিন নিউজউইক ৩১ ডিসেম্বর ২০১২-র ডেটলাইনে তার সর্বশেষ পৃন্ট এডিশন বের করেছে। এখন থেকে নিউজউইক আর ছাপা হবে নাÑ তবে অনলাইনে প্রকাশিত হবে। বিশ্বজুড়ে এখন পৃন্ট মিডিয়া অস্তিত্বের সঙ্কটে আছে। পৃন্ট এডিশন থেকে নিউজউইকের বিদায় তার সর্বশেষ প্রমাণ। আমেরিকায় উদার মত প্রকাশে নিউজউইক সুদীর্ঘ আশি বছর জুড়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। মেরি দুঃখ প্রকাশ করলো।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ২০১২-কে কিভাবে আখ্যায়িত করবে ভেবেছ? আগামী কাল ফ্রন্ট পেইজে কি বলবে? শামীম জিজ্ঞাসা করলো।
আপনিই বলুন মীমভাই। ২০১২-কে কোন টাইটেল দেবেন? বিচার বিভাগ দলীয়করণ ও স্কাইপ তথ্য ফাসের বছর? অথবা হলমার্ক-ডেসটিনি-পদ্মা সেতুর আর্থিক কেলেংকারির বছর? মেরি সাজেশন দিল।
দুটোই হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে ২০১২ হতে পারে দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বছর। আর বিএনপি সমর্থকদের কাছে হতে পারে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির সবলভাবে ফিরে আসার বছর। যে বিএনপি ২০০৭-এর আওয়ামী সমর্থিত সামরিক ক্যু-তে এবং ২০০৮-এর সাধারণ নির্বাচনে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল, সেই বিএনপির পুনরুত্থান হয়েছে ২০১২-তে। টেক ইয়োর পিক। চয়েস ইজ ইয়োর্স। তোমরাই ঠিক করো ২০১২ সালকে কিভাবে চিহ্নিত করবে। বাই দি ওয়ে, আমি জানতে চেয়েছিলাম রাতের পর কি? রাতের পর রাত? নাকি রাতের পর দিন? সেই প্রশ্নের স্ট্রেইট অ্যানসার দাও। শামীম হাসিমুখে বলল।
উত্তরটা এখন দেব না। তবে একটা গল্প বলছি। গ্রামের এক দুর্ধর্ষ আওয়ামী মাস্তানকে দেখে জনৈক হুজুর জানতে চাইলেন, কেমন আছিস? তুই কি এখন চাপাতি ছাত্রলীগ করছিস?
মাস্তান উত্তর দিল, হুজুর ভালো আছি। এখন আমি দিনের পথে আছি।
এটা কোন দিনের কথা বলছিস? দ্বীন, নাকি দিন? হুজুর আবার জানতে চাইলেন।
হুজুর, দ্বীন নয়Ñ দিন।
তার মানে?
তার মানে আগে রাতে যে দুষ্কর্মগুলো করতাম এখন সেটা দিনে করি। তবে আপনি যদি দিনের বদলে দ্বীন বলতে চান তাহলে আমার আপত্তি নেই।
বেয়াদব। তোর চরিত্র কখনোই বদলাবে না। হুজুর খেদোক্তি করলেন।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন মীমভাই, রাতের পর দিন, নাকি রাতের পর রাত চলতেই থাকবে সেটা এখন নির্ভর করছে আওয়ামী চরিত্রের ওপর। মেরি হেসে বলল।
বিশটি তথ্য : সাপ
০১. সব মহাদেশেই সাপ আছে- একমাত্র ব্যতিক্রম অ্যান্টার্কটিকা। প্রায় সব দেশেই সাপ আছে- ব্যতিক্রম তিনটি বড় দ্বীপ আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ড। এছাড়া আটলান্টিক ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে কিছু দ্বীপে সাপ নেই।
বিখ্যাত ইংরেজ থৃলার লেখক ফ্রেডারিক ফরসাইথ-এর একটি বিখ্যাত গল্পের নাম দেয়ার আর নো স্নেইকস ইন আয়ারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডে কোনো সাপ নেই।
০২. প্রায় ৩,৪০০ প্রজাতির সাপ আছে। সাপের আয়ু হতে পারে ৪০ বছর। আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়া চিড়িয়াখানাতে পপাই নামে একটি অজগর পুরুষ সাপ ৪০ বছর ৩ মাস ১৪ দিন বেচে থাকার পর ১৫ এপৃল ১৯৭৭-এ মারা যায়। গিনেস বুকের মতে পপাই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাপ।
০৩. সাপ মাংসাশী। সাপের পা নেই। সাপের চোখে পাতা নেই। সাপের খুলি ও চোয়াল খুব শক্ত হয় যার ফলে কিছু সাপ তাদের চাইতে বড় প্রাণীকে গিলে খেতে পারে।
০৪ . সাপ ডিম পাড়ে তবে অধিকাংশ সাপই ডিম ছেড়ে চলে যায়।
০৫. সাপের দেহের বাইরে কান নেই। কিন্তু দেহের ভেতরে আছে।
সাপুড়েদের বাশির সুরে সাপ নাচে না। বাশির শব্দ নয়, বাশির মুভমেন্টে (এক দিক থেকে আরেক দিকে যাওয়া দেখে) সাপ আকৃষ্ট হয় এবং সেই তালে মাথা দোলায়।
০৬. ২০ নভেম্বর ১৯৯৮-এ বেবি নামে বর্মার একটি পাইথনের ওজন ছিল ১৮২.৭৬ কেজি বা ৪০৩ পাউন্ড। এই নারী সাপটির দৈর্ঘ ৮.২২ মিটার (২৭ ফিট) এবং ঘের ৭১.২২ সেন্টিমিটার (২৮ ইঞ্চি)। একে তুলতে নয় জন লাগে। এটি প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর চার থেকে পাচটি মুরগি খায়। বেবি এখন থাকে আমেরিকায় গার্নি (ইলিনয়)-র সার্পেন্ট সাফারি পার্কে।
০৭. বেশির ভাগ সাপ বিষধর নয়। তবে যেসব বিষধর তারা সেটা আত্মরক্ষার জন্য নয়Ñ তাদের শিকারকে বিষ প্রয়োগে হত্যার জন্য ব্যবহার করে। কিছু সাপ যাদের বিষ নেই তারা তাদের শিকারকে পেচিয়ে হত্যা করে।
সবচেয়ে ভারী বিষধর সাপ হচ্ছে ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেইক। দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় এই সাপ পাওয়া যায়। সাধারণত এদের ওজন হয় ৫.৫ কেজি থেকে ৬.৮ কেজি এবং লম্বায় হয় ৫ থেকে ৬ ফিট।
সবচেয়ে মারাত্মক বিষধর সাপ কার্পেট ভাইপার দেখা যায় পশ্চিম আফৃকা ও ইনডিয়ায়। অন্য যে কোনো সাপের চাইতে এই ধরনের সাপের ছোবলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এদের ছোবলের ফলে সে রক্তপাত বা হেমরেজ শুরু হয় সেটা বন্ধ করা যায় না। ট্রপিকাল আফৃকায় গ্যাবুন ভাইপার সাপের বিষদাত সবচেয়ে লম্বাÑ প্রায় দুই ইঞ্চি।
০৮. রেটিকুলেটেড পাইথন সবচেয়ে লম্বা সাপ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্স-এ এই সাপ দেখা যায়। এই সাপ সাধারণত ৬.২৫ মিটার (বিশ ফিট ৬ ইঞ্চি)-এর বেশি হয়। ১৯৯২-তে ইন্দোনেশিয়াতে গুলিতে নিহত এই ধরনের একটি সাপের দৈর্ঘ ছিল ১০ মিটার (৩২ ফিট ৯.৫ ইঞ্চি)।
০৯. অনেকে বিশ্বাস করে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যানাকনডা সাপই সবচেয়ে লম্বা। ৩৬.৫ মিটার লম্বা অ্যানাকনডার কথা শোনা গেলেও তা কখনো দেখা যায়নি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন কেউ যদি ৯ মিটারের বেশি লম্বা অ্যানাকনডার চামড়া এনে দেখাতে পারে তাহলে তাকে তিনি ৫,০০০ ডলার পুরস্কার দেবেন। পরবর্তীকালে আমেরিকার ওয়াইল্ড লাইফ কনজার্ভেশন সোসাইটি এই পুরস্কার ৫০,০০০ ডলারে উন্নীত করে। কিন্তু কেউ সে পুরস্কার নিতে আসেনি।
থ্রেড সাপ সবচেয়ে ছোট সাপ। এরা বড়জোর ১০৮ মিলিমিটার হয়।
সবচেয়ে দ্রুতগামী সাপ ব্ল্যাক ম্যামবা দেখা যায় ট্রপিকাল আফৃকাতে। সমতল ভূমিতে এই সাপ প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ মাইল (১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার) চলতে পারে।
১০. সাপের ছোবলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ইনডিয়া ও শ্রীলংকাতে। প্রতি বছর ইনডিয়াতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সর্পাঘাতে আহত হয় এবং প্রায় ৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু হতো। তবে অ্যান্টিভেনিন (Antivenin) ওষুধ আবিষ্কারের পর সর্পাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন কমে গেছে।
এশিয়ার চায়না, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কামবোডিয়াতে এবং মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার কিছু স্থানে মানুষ সাপ রান্না করে খায়। এশিয়ার এসব দেশের কিছু মানুষ মনে করে সাপের রক্ত, বিশেষত গোখরা সাপের রক্ত পুরুষের যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। এরা সম্ভব হলে জীবন্ত সাপের রক্ত এক ধরনের লিকিওর (মদ)-এর সঙ্গে মিক্স করে কিছুদিন রাখার পর সেটা খায়। সাপের রক্ত মেশানো এই ধরনের একটি দামী লিকিওর হাবু সাকে।
১১. আমেরিকার আর্মি স্পেশাল ফোর্সের সৈন্যদের তাদের ট্রেইনিংয়ের সময়ে শেখানো হয় বেচে থাকার প্রয়োজনে কিভাবে সাপ ধরতে, মারতে এবং খেতে হয়। এজন্য তাদের নাম হয়েছে স্নেইক ইটার্স। ভিডিও গেইম মেটাল গিয়ার সলিড ৩ : স্নেইক ইটার-এর নামও সম্ভবত এখান থেকে এসেছে।
১২. পশ্চিমে কেউ কেউ সাপ পোষেন। এসব সাপ হতে পারে বল পাইথন ও কর্ন স্নেইক প্রজাতির। সাপ পুষতে খরচ কম হয়। জায়গা কম লাগে। ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে একবার তাদের খাওয়ালে চলে। বাংলাদেশে ঢাকার পুলিশ অফিসার আরমান একটি দক্ষিণ আমেরিকান সাপ পোষার বর্ণনা লাল গোলাপ টিভি অনুষ্ঠানে দিয়েছিলেন।
১৩. চায়নিজ ক্যালেন্ডারে যে রাশিচক্র আছে তার বারোটি পশু-প্রাণীর মধ্যে একটি সাপ।
১৪. ইনডিয়াতে একটি ধারণা আছে, কিছু সাপের মনি আছে যা হীরার চাইতেও উজ্জ্বল। তাদের এই ধারণা ভুল। সাপের মনির লোভে ইনডিয়াতে অনেকের মৃত্যু হয়।
১৫. হিন্দু ধর্ম ও পূজার একটি বিশেষ অংশ জুড়ে আছে সাপ। প্রতি বছর নাগ পঞ্চমী-তে সাপের মূর্তি অথবা জীবন্ত সাপ পূজা করা হয়। শিবের অনেক মূর্তিতে তার গলায় সাপ পেচানো দেখা যায়।
১৬. প্রাচীন গৃসে সাপকে নিরাময়কারী প্রাণী রূপে দেখা হতো। এসলিপিয়াস তার লাঠিতে সাপ পেচিয়ে রাখতেন যেটা এখনো পশ্চিমের কিছু ফার্মাসি ও অ্যাম্বুলেন্সে আকা থাকে।
১৭. কৃশ্চিয়ান ধর্মে সাপকে মন্দ এবং চক্রান্তকারীরূপে দেখা হয়েছে। এই ধর্মের মতে গার্ডেন অফ ইডেন বা স্বর্গোদ্যানে বিশ্বের প্রথম যুগল, আদম ও ইভ-কে সাপই প্ররোচিত করেছিল টৃ অফ নলেজ বা জ্ঞানবৃক্ষ থেকে ফরবিডেন ফ্রুট বা নিষিদ্ধ ফল পেড়ে খেতে।
১৮. ইজিপ্টের ইতিহাসে জানা যায়, প্রাচীন সময়ে ফেরাউনরা তাদের মুকুটে নীল নদের গোখরা সাপ রাখতেন। সাপকে তারা অন্যতম দেবী মনে করতেন। ইজিপ্টের বিখ্যাত রানী ও সুন্দরী কিওপাট্রা এ রকমই একটি গোখরা সাপের ছোবলে আত্মহত্যা করেছিলেন।
১৯. সারা বিশ্বের জনপ্রিয় বোর্ড গেইম স্নেইকস অ্যান্ড ল্যাডার্স বা সাপ লুডো আবিষ্কৃত হয়েছিল প্রাচীন ইনডিয়াতে। বৃটিশ ঔপনিবেশিকরা ১৮৯২ সালে এটি চালু করে ইংল্যান্ডে এবং পরে এটি চালু হয় গোটা ইওরোপ ও আমেরিকায়। ইনডিয়াতে মনে করা হতো মানুষের জীবনের চলার পথের প্রতীকী রূপ ধারণ করে এই খেলার বোর্ড যেখানে জীবনের উত্থান ও পতন নির্ধারিত হয় মানুষের গুণাবলি (মই) এবং দোষ (সাপ) দ্বারা।
২০. ত্রয়োদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দির মধ্যে বাংলা ভাষায় যেসব মনসামঙ্গল উপকথা লেখা হয়েছিল তাতে হিন্দু দেবী মনসা বা সাপ দেবীর ব্যাপক উল্লেখ আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত কাহিনী বেহুলা। চম্পকনগরের চাদ সওদাগরের ছেলে লক্ষ্মীন্দরের সঙ্গে বেহুলার বিয়ে এবং ভালোবাসার বিষয়ে এই ইউনিক স্টোরির ঘটনাস্থল বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে। বিয়ের রাতে লক্ষ্মীন্দরের মৃত্যু হয়েছিল কালনাগিনীর ছোবলে। কিন্তু বেহুলার ভালোবাসা ও সাধনার ফলে লক্ষ্মীন্দর প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন।

raterporrat@gmail.com
৩১ ডিসেম্বর ২০১২
(সকল সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক)
সুখের পর কষ্ট।
প্রাচুর্যের পর অভাব।
আনন্দের পর বেদনা।
হাসির পর কান্না
স্রোতের পর বন্যা।
বর্ষার পর খরা।
জোয়ারের পর ভাটা।
পূর্ণিমার পর অমাবস্যা।
দিনের পর রাত।
তারপর? তারপর? তারপর?
বিশ্বের কিছুই অ্যাবসলিউট নয়।
তাই তো আসে শান্তির পর ঝড়।
জীবনের কিছুই অবিমিশ্রিত নয়।
তাই তো আসে আলোর পর অন্ধকার।
দিনের পর রাত।
কিন্তু তারপর? তারপর? তারপর?
শামীমের মনে এই একই প্রশ্ন ঘুরপাক দিচ্ছিল।
সে তার ওমেগার দিকে তাকাল।
রাত আটটা বাজতে মিনিট পাচেক।
ফাইনাল এপ্রুভালের জন্য এখনই আসতে থাকবে পেইজ মেকআপের পৃন্টগুলো।
একটার পর একটা এ-থৃ সাইজের শাদা কাগজে কালো রংয়ের ছবি ও অক্ষরগুলো।
পরদিন অবশ্য দৈনিক শুকতারা-র পৃষ্ঠায় কালোর সঙ্গে থাকবে লাল হেডলাইন এবং বহু রংয়ের সব ছবি।
একটু পরে ছবিগুলো সিলেক্ট করতে হবে মেরির রুমে তার পাশে বসে।
শামীম হাসান এডিটর। মীমভাই। বয়স পঞ্চাশ ছুই ছুই।
মরিয়ম খান নিউজ এডিটর। মেরি। বয়স চল্লিশ ছুই ছুই।
প্রটোকল অনুযায়ী নিউজ এডিটরেরই আসা উচিত এডিটরের রুমে।
তারপর কমপিউটার স্কৃনে বিভিন্ন ঘটনার একাধিক ছবি দেখতে হবে।
নির্বাচিত করতে হবে পরদিন সকালের ফ্রন্ট পেইজ, লাস্ট পেইজ এবং বিভিন্ন পেইজে পাঠকরা কি ছবি দেখবে? সারা দেশে যে মাত্রায় খুন জখম গুম ধর্ষণ বেড়ে চলেছে সেটা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কতোটা বীভৎস, কতোটা মর্মান্তিক ফটো পাঠককে দেখানো উচিত হবে।
বিবেচনায় রাখতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজপেপারগুলো কতোটা ভয়ঙ্কর ছবি ছাপাবে।
শামীমের টেবিলে ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠলো।
ওদিক থেকে ভেসে এল মেরির ভয়েস।
মীমভাই, ছবিগুলো সব রেডি।
আমি আসছি দু মিনিট পরে। এর মধ্যে তুমি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর বের করো। শামীম বলল।
কি প্রশ্ন?
দিনের পর রাত। তারপর কি?
আপনি যদি আশাবাদী হন, অপটিমিস্ট হন, তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হবে, রাতের পর দিন। আর আপনি যদি নিরাশাবাদী হন, পেসিমিস্ট হন, তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হবে রাতের পর রাত। মেরি তার সমাধান দিল।
তুমি দুটো উত্তর দিলে। হ্যা, রাতের পর দিন অবশ্যই আসবে। তবে এই অতি দুঃসময়ে দেশ পার করছে রাতের পর রাত। এই রাত শীতার্ত ও কষ্টকর। এই রাত মনে হয় অনেক লম্বা। তীব্র শীতে উত্তর বাংলায় মানুষ মারা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ৩৭ শিশুসহ ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুর, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। রাজধানীর প্রায় ৪,৫০০ বস্তিতে কয়েক লক্ষ মানুষ শীতে কাপছে। শামীম জানালার বাইরে তাকালো। কিছু মানুষ ফুটপাথে ডালপালা, শুকনো পাতা, পলিথিন-প্লাস্টিক জড়ো করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে ঘিরে বসে আছে। হাত-পা গরম করছে।
একটা কালো সুট পরে থাকলেও শামীমের ঠাণ্ডা লাগছিল। রুম হিটারের হিটিংটা একটু বাড়িয়ে দিল।
কিন্তু হঠাৎ ইলেকটৃসিটি চলে গেল।
ড্যাম ইট। শামীম শাপান্ত করল কুইক রেন্টালকে। বিদ্যুতের দাম এই বছরে ছয়বার বাড়িয়েও এই দুরবস্থা! শেখ হাসিনা অবশ্য বলেছেন, আগে দেশে কি অবস্থা ছিল সেটা দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য দুই ঘণ্টা লোড শেডিংয়ের নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। কুইক রেন্টালওয়ালাদের এত তেল মেরেও এই নির্দেশ কেন? ড্যাম পিএম। এর চেয়ে আর কোনো খারাপ গালি শামীম সেই মুহূর্তে খুজে পেল না।
অফিসের নিজস্ব জেনারেটরে ইলেকটৃসিটি ফিরে এলো।
আজ আরো মৃত্যুর খবর আছে? শামীম জানতে চাইল।
না। সে রকম খবর নেই। রাজশাহী বিভাগে ছিল দেশের সর্বনিম্ন টেমপারেচার। ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন টেমপারেচার ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেরি জানালো।
ঢাকায় টেমপারেচার তো বেশি থাকবেই। চলতি সপ্তাহে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার জনসংযোগ কর্মসূচি ছিল। তার জ্বালাময়ী ভাষণের উত্তাপে এবং জনসমাবেশে উপস্থিত জনমানুষের টেমপারেচারেই তো এখনো ঢাকার গরম থাকার কথা। সব ওয়েদার রিপোর্ট পেয়েছ? শামীম জিজ্ঞাসা করল।
প্রটোকল উপেক্ষা করে শামীম প্রায়ই এই সময়টায় যায় মেরির রুমে।
সেদিনও শামীম যখন মেরির রুমে গেল তখন সে কমপিউটার স্কৃনে ছবিগুলো দেখায় মগ্ন ছিল। নীল জিন্স, শাদা শার্ট আর একটা গোলাপি কার্ডিগান পরে ছিল সে। তাকে দেখতে সুন্দর লাগছিল। সে টেরই পেল না কখন কাচের দরজা ঠেলে শামীম তার রুমে ঢুকেছে।
মেরির আইপড ক্র্যাডল-এ খুব লো ভলিউমে বাজছিল সুদক্ষিণার গাওয়া গান।
জ্বলতে জ্বলতে পুড়ে যায়
জ্বলতে তবু মন যে চায়
ভালোবাসা রাখতে দাও
উদাসী হয়ে থাকতে দাও।
বৃন্ত কিছু মনকে যে ছুয়ে যায়
ধূপ হয়ে তবু সে জ্বলে যায়
পুড়তে পুড়তে গন্ধ হতে
রাত কেটে যে আধারে ঢেকে যায়
আধারে থাকতে দাও।
ওহ। এই গান শুনছো? তাই তো রাতের কথা বলছিলে। তুমি তাহলে নিরাশাবাদী। আধারেই থাকতে চাও? শামীম ধীরে ধীরে বলল।
মীমভাই! আমি টেরই পাইনি। লাজুক মুখে মেরি বলল। গানের ভলিউম আরো লো করে দিল।
মেরির বিপরীতে খান চারেক চেয়ার ছিল। একটিতে শামীম বসে জিজ্ঞাসা করলো, আজকের টপ স্টোরি কি দেবে ভাবছো?
রানিং স্টোরিগুলোর মধ্যে আছে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিএনপির দফতর সম্পাদক রিজভি আহমেদের নিজেদের অফিসে চলমান স্বেচ্ছা অবরোধ বাস। বায়তুল মোকাররমে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের প্রতি জুতাবৃষ্টির পর তার স্বেচ্ছাপলাতক জীবন। খালেদা-হাসিনার সাপতত্ত্ব। আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। এ ছাড়া ২০১২-এর সালতামামি, ইয়ার এন্ড রিভিউ, করতে হবে। মেরি বলল।
জুতা বৃষ্টির ঘটনার টৃটমেন্ট অন্যরা কি করেছে? শামীম জানতে চাইল।
মেরি তার সামনে রাখা ফাইলগুলো দেখে বলতে থাকলো,
নয়া দিগন্তে লিড নিউজ। হেডলাইন, বায়তুল মোকাররমে নৌমন্ত্রী লাঞ্ছিত। সাবহেডিং, জুতা নিক্ষেপের মুখে পুলিশের সহায়তায় পলায়ন।
আমার দেশ-এ লিড নিউজ। হেডলাইন, নৌমন্ত্রীর ওপর জুতাবৃষ্টি। সাবহেডিং, ঢাকায় আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনে ইসলাম নিয়ে মন্তব্যের জের।
যুগান্তর-এ ফ্রন্ট পেইজে থার্ড লিড, কিরাত সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রীর ওপর জুতা নিক্ষেপ।
ইত্তেফাক-এ ফ্রন্ট পেইজে সিঙ্গল কলাম নিউজ, বায়তুল মোকাররম মসজিদে নৌমন্ত্রী লাঞ্ছিত।
মানবজমিন-এ ব্যাক পেইজে ডাবল কলাম নিউজ, তোপের মুখে নৌপরিবহন মন্ত্রী।
প্রথম আলো-তে তৃতীয় পৃষ্ঠায় নিচের দিকে সিঙ্গল কলাম নিউজ, বায়তুল মোকাররমে নৌমন্ত্রী অপদস্থ।
কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর ডেইলি স্টার নিউজটা ব্ল্যাক আউট করেছিল।
আমি মনে করি এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্টোরি। মেরি বলল, বিশেষত এক দিকে মাহমুদুর রহমান ও রিজভী যখন স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন, অন্য দিকে তখন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান স্বেচ্ছাপলাতক হয়ে আছেন। খুব ইন্টারেস্টিং সিচুয়েশন। আমার দেশ থেকে পড়ে শোনাচ্ছি :
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান অতিথির বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ইসলাম পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এ ধর্ম নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ করুন। রাসুল (সা.) ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন নি। কোরআনের কোথাও ধর্মীয় রাজনীতির কথা নেই। কোরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। রাসুল (সা.) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি এ কাজটি কখনো করেন নি।
তখন মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন। এ সময় অন্য মুসল্লিরাও মন্ত্রীর এ কথার ব্যাখ্যা দাবি করে হইচই করতে থাকলে মন্ত্রী কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে উত্তেজিত বক্তব্য রাখলে মুসল্লিরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় মন্ত্রীসহ অনেকের গায়ে জুতা গিয়ে পড়তে থাকে। মুসল্লিরা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, আমরা তোমাকে চাই না, ওকে আনছেন কেন, কুত্তা এখান থেকে ভাগ।
এ সময় বৃষ্টির মতো জুতা নিক্ষেপ হতে থাকে মঞ্চে।
অবস্থা বেগতিক দেখে মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন মন্ত্রীকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। অতি দ্রুত তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এ সময় পেছন থেকে মুসল্লিরা ধর ধর আওয়াজ দিতে থাকেন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরও মুসল্লিরা বলতে থাকেন, যে জুতা মারছে, একেবারেই রাইট কাম করছে। গালে দুইটা মারা দরকার ছিল।
এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ আয়োজকরা হতভম্ব হয়ে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর দেখা যায় মঞ্চে বহু জুতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যেগুলো মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
এর আগে অনুষ্ঠানে শাজাহান খান আরো বলেন, বিশ্বের অনেক স্থানের চেয়ে বাংলাদেশের মুসলমানরা বেশি ধর্মপরায়ণ। শেখ মুজিব ও তার মেয়ে শেখ হাসিনাও ইসলামের অন্যতম খেদমতকারী।
বেসরকারি সংগঠন আন্তর্জাতিক কোরআন রিসাইটেশন অ্যাসোসিয়েশনের (ইকরা) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ছাড়া ইজিপ্ট, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, ব্রুনাইসহ সাতটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইরান সংস্কৃতি কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা এবং ইকরার চেয়ারম্যান কারি ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মূল অংশের বাইরে পূর্ব চত্বরে বেলা তিনটা থেকে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তবে বাদ মাগরিব প্রতিযোগিতার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
জুতা নিক্ষেপের ঘটনার পরপরই তার সঙ্গে ইফা ডিজি চলে যান। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বাদ এশা ফের কিরাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
এ ব্যাপারে মন্ত্রী শাজাহান খান ওই অনুষ্ঠানে ঝামেলা হয়েছে উল্লেখ করে আমার দেশ-কে বলেন, এটা জামায়াতি চক্রান্ত। বহির্বিশ্বের সাতটি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে এ ঘটনার মাধ্যমে এ দেশের মর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে।
মেরি তার পড়া শেষ করল।
সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক আওয়ামী লীগের বড় সম্বল। ইনডিয়ার সাপোর্ট আওয়ামী লীগের বড় সহায়। এই দুটো ফ্যাক্টরকে ব্যালান্স করার জন্য আওয়ামী লীগকে প্রায়ই অযাচিতভাবে ইসলাম ভক্তি দেখাতে হয়। বিশেষত ইলেকশনের আগে তাদের ইসলামি বয়ান দিতে হয়। ইসলামি লেবাস পরতে হয়। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে ষোল বছর আগে ১৯৯৬-এ শেখ হাসিনার ফুলহাতা ব্লাউজ পরা ও মাথায় ফুল ঘোমটা দেয়া ছবিতে দোয়াপ্রার্থী লেখা পোস্টারে সারা দেশ ছেয়ে গিয়েছিল। শামীম মনে করিয়ে দিল।
হ্যা। আমার দেশ-এর এই রিপোর্টে ইনট্রোর একটি শব্দ খুব তাৎপর্যপূর্ণ। মেরি বলল।
কোন শব্দটি? শামীম জিজ্ঞাসা করলো।
ইনট্রোতে লেখা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে জুতা নিক্ষেপের শিকার হন শাজাহান খান। এখানে প্রথম শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম মানে এরপরে মহাজোট সরকারের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রভৃতি মন্ত্রীও এভাবে লাঞ্ছিত হতে পারেন। আমার দেশ রিপোর্টার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। মেরি তার মত প্রকাশ করলো।
একেই বলে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস। মাহমুদুর রহমান ও রিজভী নিশ্চয়ই অচিরে অবরোধ মুক্ত হবেন। কিন্তু শাজাহান খান কবে পলাতক জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন? এখন কি তিনি আর পুলিশের হেভি সিকিউরিটি ছাড়া বায়তুল মোকাররমে যেতে পারবেন? শামীম বলল।
অবস্থা আরো করুণ এই জন্য যে, নিরাপদ সড়ক চাই সংস্থার নেতা, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি সংবলিত পোস্টারের ওপর বাস-ট্রাক চালক শ্রমিকরা জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন যে সমাবেশে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খান। এই মন্ত্রীই বলেছিলেন, ড্রাইভারদের গরু-ছাগল চিনলেই চলবে। দেখা যাচ্ছে সেদিন বায়তুল মোকাররমে শ্রোতারা তাকে ঠিকই চিনেছিলেন। মেরি বলল।
টেলিভিশনের টকশো-তে শাজাহান খান চোখ উপড়ে ফেলার, তথা অন্যের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়ার হুমকি দেয়ার পর তাবৎ টিভি দর্শকের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিলেন। এখন তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলিম শ্রোতাদের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছেন। এরা সবাই জানতে উৎসুক তিনি কোথায় কিভাবে জীবন যাপন করছেন? ইট ইজ এ গুড স্টোরি। সঞ্জীবকে বলো পলিটিকাল লিডারদের জুতা খাওয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস আমি চাই। শামীম বলল।
মেরির কল পেয়ে রেফারেন্স লাইব্রেরিয়ান সঞ্জীব এল পলিটিকাল লিডারদের জুতা খাওয়ার ইতিহাসের একটা পৃন্ট আউট নিয়ে।
শামীম চটপট পড়লো।
১৪ ডিসেম্বর ২০০৮। বাগদাদে একটি প্রেস কনফারেন্সে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিউ বুশের প্রতি পরপর দুটি জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন ইরাকি সাংবাদিক মুনতাদির আল-জায়দি। এর পরিণতিতে তিনি গোটা আরব বিশ্বে টপ হিরো হয়েছিলেন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২০ ডিসেম্বর ২০০৮-এ মন্টৃয়ল ও টরন্টোতে প্রতিবাদকারীরা বুশের পোস্টারে জুতা বৃষ্টি করেছিল।
২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। ইংল্যান্ডে কেমবৃজ ইউনিভার্সিটিতে চায়নিজ প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও যখন একটি ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন তার প্রতি জুতা ছুড়েছিলেন জার্মান প্রতিবাদকারী মি. জানকে।
৭ এপৃল ২০০৯। দিল্লিতে একটি প্রেস কনফারেন্সে ইনডিয়ার অর্থমন্ত্রী পি. চিদামবরম-এর প্রতি জুতা ছুড়েছিলেন শিখ সাংবাদিক জার্নাইল সিং।
২৬ এপৃল ২০০৯। আহমেদাবাদ শহরে নির্বাচনী সমাবেশে ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর প্রতি জুতা ছুড়েছিল জনৈক ২৮ বছর বয়সী যুবক।
২৩ অক্টোবর ২০০৯। তেহরানে বিরোধী নেতা মেহেদি কারুবি-র প্রতি জুতা ছুড়ে মেরেছিল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনিজাদ-এর সমর্থকরা।
ফেব্রুয়ারি ২০১০। স্পেনে সেভিয়া শহরে টার্কিশ প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইয়েব এরদোগান-এর প্রতি কুর্দিস্তানের দাবিতে জুতা ছুড়েছিল জনৈক কুর্দি যুবক।
৭ আগস্ট ২০১০। ইংল্যান্ডে বার্মিংহাম শহরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির প্রতি জুতা ছুড়েছিল শামীম খান নামে এক যুবক।
৪ সেপ্টেম্বর ২০১০। আয়ারল্যান্ডে ডাবলিন শহরে নিজের বই প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল। সঙ্গে বোনাস রূপে ছিল একটি ডিম।
১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। গৃসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রুর প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১। লন্ডনে একটি জনসমাবেশে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
২৩ জানুয়ারি ২০১২। দেরাদুনে একটি জনসভায় কংগ্রেস নেতা ও এমপি রাহুল গান্ধীর প্রতি জুতা ছোড়া হয়েছিল।
জুন ২০১২। ডেগেনহাম, পূর্ব লন্ডনে প্রকাশ্য রাজপথে জনৈক বাংলাভাষী মানি লন্ডারকারী ও অসত্য তথ্য দানকারী বিচারপতি জুতা দ্বারা নির্মমভাবে প্রহৃত হন। পরবর্তীকালে ইউটিউবে সেই প্রহারের ভিডিও প্রচার হয়।
এসব নাম বিবেচনা করলে বলতেই হবে বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গ এখন পেয়েছেন। গোপন জীবন যাপন করলেও তার আক্ষেপের কোনো কারণ নেই। তিনি এখন বিশ্বখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু এতগুলো জুতা কাদের ছিল? তারা সবাই খালি পায়ে ফিরে গেল? শামীম লিস্টটা পড়ে আত্মগতভাবে বলল।
ঘটনার পরই বায়তুল মোকাররম, পল্টনসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে নিয়মিত মুসল্লিসহ কয়েকজনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। এদের মধ্যে পুরানা পল্টন এলাকার কিছু ফুটপাথ হকারও আছে। পাচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেও গোয়েন্দারা কাউকে শনাক্ত করতে পারে নি। মেরি বলল।
ওরা ভুল লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ঘরে ঘরে অন্তত একটি চাকরি এনে দেবেন। তা হয়নি। বরং অনেকেই দেশে ও বিদেশে চাকরি খুইয়েছে। আমার ধারনা, জুতাগুলো ছিল ওই বেকার মানুষদের। চাকরির খোজে ওদের জুতা ও স্যানডালের তলি ক্ষয়ে গেছে। তাই সেসব শাজাহান খানের সভায় ফেলে দিতে দ্বিধা বোধ করে নি। শামীম বললো।
মীমভাই, সমস্যাটা এই যে, এরপর থেকে মহাজোটের অন্য মন্ত্রীরাও সাবধান হয়ে যাবেন। মানুষের কাছ থেকে দূরে নিরাপদে থাকতে চাইবেন। ফলে তারা আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। আপনার হয়তো মনে পড়বে কিছুকাল আগে সোনারগাও হোটেলের সামনে আইনমন্ত্রীর গাড়ি আক্রান্ত হয়েছিল। এভাবে কতো দিন চলবে? মেরি বলল।
এ প্রশ্নের উত্তর মহাজোট মন্ত্রীরাই জানেন। সেকেন্ড রানিং স্টোরি খালেদা-হাসিনার সাপতত্ত্ব সম্পর্কে কি বলবে?
বুধবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১২-তে রাজধানীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে গণসংযোগ করেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। তার সামনে পেছনে ছুটেছে গাড়ি, মোটরসাইকেল। মুহুর্মুহু স্লোগান মুখে দু পাশে ছুটেছে হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ চল্লিশ কিলোমিটার পথ জুড়ে গণসংযোগ বহরটি সকাল এগারোটায় গাবতলী থেকে শুরু হয়ে শ্যামলী, আগারগাও, কাওরান বাজার, মগবাজার, গুলিস্তান, ধোলাই খাল, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, খিলগাও, রামপুরা, বাড্ডা হয়ে ভাটারা গিয়ে শেষ হয় রাত প্রায় নয়টায়।
এটি ছিল সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ অভিযান। কোনো জ্বালাও পোড়াও ছিল না। কোনো ভাঙচুর সংঘর্ষ ছিল না। কোনো পালটা পুলিশি হামলা ছিল না। তুলনামূলকভাবে সেদিন রাজধানীতে গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। অহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির এই নতুন দৃশ্যে নতুন রূপে আবির্ভূত হন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। সরকার ও সরকারি দলের অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচারের জবাব তিনি দিয়েছেন শাণিত কিন্তু শালীন ভাষায়। আবেগী কিন্তু যৌক্তিক কথায়।
প্রতিটি পথসভা রূপান্তরিত হয়েছিল জনসভায়। সাধারণ মানুষকে পল্টনে যেতে হয়নি নেত্রীর কথা শুনতে। নেত্রীই সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছেন তার কথা শোনাতে। নতুন ধরনের এই অভিযানে, তিনি দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ-জামায়াত নেতাদের মধ্যে অতীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের ছবি। প্রশ্ন করেছেন, কেন এর আগের বার ক্ষমতায় থাকার সময়ে আওয়ামী লীগ যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করেনি। অঙ্গীকার করেছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপিই করবে প্রকৃত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার। দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের নাম করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবিতে অতীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী লীগ এবং এবার ক্ষমতায় এসে সেই আওয়ামী লীগই আদালতের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। সেটা মনে করিয়ে দিয়ে খালেদা বলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায়, আওয়ামী লীগকে নয়। এসব কথা বলার পর তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা পুনর্বহালের আহ্বান তিনি জানান সরকারের প্রতি। তিনি বলেন, অন্তত একটি ভালো কাজ করুন।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রীর কথা বিশ্বাস করা যায় না। তিনি শুধু মিথ্যা কথা বলেন। অশ্লীল কথা বলেন। তার কথার উত্তর আমরা দিতে পারবো না। তিনি গালাগালি করেন। এর আগের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে হাই কোর্টের ফুল বেঞ্চ বলেছিল, তিনি রং হেডেড। একজন মাথা খারাপ লোককে চেয়ারে রাখলে কেউ নিরাপদে থাকতে পারে না। পাগল দিয়ে দেশ চলে না।
খালেদা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কিভাবে দাবি করে? তারা তো যুদ্ধ করে নি। তাদের নেতা ছিল পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। সত্যিকার রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের দল বিএনপি।
খালেদা তার সহজাত সৌজন্য, ভদ্রতা ও বিনয়ের কারণে বলেন নি, সেই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা ইচ্ছা করলে যুদ্ধক্ষেত্রের নেতা হতে পারতেন। সেটা না করে তিনি পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য দিকে তার স্বামী তাৎক্ষণিক বিদ্রোহ ঘোষণার পর নয় মাস রণাঙ্গনে ছিলেন।
এসব জনসভায় খালেদা জিয়া আহ্বান জানান যুবসমাজের প্রতি। তিনি বলেন, যুবকরা জাগো, জাগো। নিজের জন্য, দেশের জন্য, তোমাদের জাগতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
খালেদা জিয়ার এসব উক্তির পরদিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, আসলে তিনিই (খালেদা জিয়া) সাপ নিয়ে খেলছেন। সাপের ঝাপি মাথায় নিয়ে চলছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পার্লামেন্ট উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমরা (আওয়ামী লীগ) সাপ নই। আমরা সাপ থেকে জাতিকে রক্ষা করছি। খালেদা জিয়াই সাপ ভালো চেনেন। এক সাপ আরেক সাপকে চেনে। খালেদা জিয়া সাপ ছেড়ে দিয়েছেন। এই সাপের দংশনেই তিনি ধ্বংস হবেন।
এসব বক্তব্যের প্রতি-উত্তরে বিএনপি এমপি ও পার্লামেন্ট চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সাপের ঝাপি নয়Ñ খালেদা জিয়া মাথায় গণতন্ত্রের ঝাপি নিয়ে চলছেন। মেরি থামলো।
আসলে হাসিনা-সাজেদা-জয়নুল আবদিন ফারুক, কেউই ঠিক বলছেন না। বিএনপির চেয়ারপারসনের হেয়ার স্টাইল দেখলে সবাই একমত হবে যে অতি যতেœ তার ওই উচু করা চুলে তিনি কখনোই কোনো ঝাপি রাখবেন না। বরং সাপের ঝাপি আওয়ামী লীগ নেত্রীর ফ্যাট চুলেই মানাবে ভালো। তাছাড়া সাপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বহু পুরনো। অতীতে খন্দকার মোশতাকের জনসভায় বোমা বিস্ফোরিত হবার পরে কে বা কারা সেখানে কয়েকটি সাপ ছেড়ে দিয়েছিল। তখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এজন্য আওয়ামী লীগকে কেউ কেউ দায়ী করেছিলেন। সে যাই হোক। এই সাপতত্ত্ব বিষয়ে স্টোরি করতে গেলে সাপ সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দিতে হবে পাঠকদের। শামীম বলল।
সেটা ভেবেই আমি একটা ফাইল খুলেছি যার নাম, যে বিশটি তথ্য আপনাকে জানতেই হবে : সাপ। দেখুন ফাইলটি। মেরি তার কমপিউটার স্কৃন দেখতে বলল শামীমকে।
থার্ড রানিং স্টোরি সম্পর্কে কি বলবে? শামীম প্রশ্ন করলো।
আওয়ামী লীগে সপ্তমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা এবং দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই কাউন্সিল অধিবেশন ছিল নিষ্প্রাণ ও নিষ্প্রভ। এই দুজনার নির্বাচিত হবার বিষয়টি আগেই জানা ছিল সবার। তবে যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বয়সের কারণে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অবসর নেয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগ তখন সঙ্গত কারণেই কথা ওঠে শেখ হাসিনা, যিনি সাতান্ন বছর বয়সে রিটায়ার করবেন বলেছিলেন, তিনি কেন রিটায়ার করলেন না। মেরি উত্তর দিল।
আন্তর্জাতিক খবর কি? শামীম জানতে চাইলো।
টাইম ম্যাগাজিন পারসন অফ দি ইয়ার হিসেবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নির্বাচিত করেছে।
সঠিক নির্বাচন। তবে এই প্রথম টাইম পারসন অফ দি ইয়ার কভার করেছে রুপালি বর্ডার দিয়ে এবং পারসন অফ দি ইয়ারের শর্ট লিস্টে যারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে এসেছেন তাদেরও কভার সাইজ ছবি ছেপেছে। তবে এদের ছবি ছেপেছে লাল বর্ডারে। মেরি বলল।
এরা কারা?
দ্বিতীয় স্থানে এক পাকিস্তানি স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাই। তৃতীয় অ্যাপল প্রতিষ্ঠানের সিইও টিম কুক। চতুর্থ ইজিপ্টের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুর্সি। আর পঞ্চম স্থানে পার্টিকল ফিজিসিস্ট ফেবিওলা জিয়ানটি। টাইমের মতে এই পাচজনই ২০১২-র বিভিন্ন ঘটনার ওপরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছেন। মেরি বলল।
শেখ হাসিনার নাম নেই?
না। কোথাও নেই।
শেখ হাসিনা এবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন না। এবারও টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এলেন না। ইকনমিস্টের পর এখন তিনি টাইমের ওপর খ্যাপা হতে পারেন। শামীম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার ভান করলো।
আরেকটি ইন্টারন্যাশনাল খবর হচ্ছে প্রায় আশি বছর পরে আমেরিকার দ্বিতীয় প্রভাবশালী ম্যাগাজিন নিউজউইক ৩১ ডিসেম্বর ২০১২-র ডেটলাইনে তার সর্বশেষ পৃন্ট এডিশন বের করেছে। এখন থেকে নিউজউইক আর ছাপা হবে নাÑ তবে অনলাইনে প্রকাশিত হবে। বিশ্বজুড়ে এখন পৃন্ট মিডিয়া অস্তিত্বের সঙ্কটে আছে। পৃন্ট এডিশন থেকে নিউজউইকের বিদায় তার সর্বশেষ প্রমাণ। আমেরিকায় উদার মত প্রকাশে নিউজউইক সুদীর্ঘ আশি বছর জুড়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। মেরি দুঃখ প্রকাশ করলো।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ২০১২-কে কিভাবে আখ্যায়িত করবে ভেবেছ? আগামী কাল ফ্রন্ট পেইজে কি বলবে? শামীম জিজ্ঞাসা করলো।
আপনিই বলুন মীমভাই। ২০১২-কে কোন টাইটেল দেবেন? বিচার বিভাগ দলীয়করণ ও স্কাইপ তথ্য ফাসের বছর? অথবা হলমার্ক-ডেসটিনি-পদ্মা সেতুর আর্থিক কেলেংকারির বছর? মেরি সাজেশন দিল।
দুটোই হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে ২০১২ হতে পারে দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বছর। আর বিএনপি সমর্থকদের কাছে হতে পারে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির সবলভাবে ফিরে আসার বছর। যে বিএনপি ২০০৭-এর আওয়ামী সমর্থিত সামরিক ক্যু-তে এবং ২০০৮-এর সাধারণ নির্বাচনে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল, সেই বিএনপির পুনরুত্থান হয়েছে ২০১২-তে। টেক ইয়োর পিক। চয়েস ইজ ইয়োর্স। তোমরাই ঠিক করো ২০১২ সালকে কিভাবে চিহ্নিত করবে। বাই দি ওয়ে, আমি জানতে চেয়েছিলাম রাতের পর কি? রাতের পর রাত? নাকি রাতের পর দিন? সেই প্রশ্নের স্ট্রেইট অ্যানসার দাও। শামীম হাসিমুখে বলল।
উত্তরটা এখন দেব না। তবে একটা গল্প বলছি। গ্রামের এক দুর্ধর্ষ আওয়ামী মাস্তানকে দেখে জনৈক হুজুর জানতে চাইলেন, কেমন আছিস? তুই কি এখন চাপাতি ছাত্রলীগ করছিস?
মাস্তান উত্তর দিল, হুজুর ভালো আছি। এখন আমি দিনের পথে আছি।
এটা কোন দিনের কথা বলছিস? দ্বীন, নাকি দিন? হুজুর আবার জানতে চাইলেন।
হুজুর, দ্বীন নয়Ñ দিন।
তার মানে?
তার মানে আগে রাতে যে দুষ্কর্মগুলো করতাম এখন সেটা দিনে করি। তবে আপনি যদি দিনের বদলে দ্বীন বলতে চান তাহলে আমার আপত্তি নেই।
বেয়াদব। তোর চরিত্র কখনোই বদলাবে না। হুজুর খেদোক্তি করলেন।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন মীমভাই, রাতের পর দিন, নাকি রাতের পর রাত চলতেই থাকবে সেটা এখন নির্ভর করছে আওয়ামী চরিত্রের ওপর। মেরি হেসে বলল।
বিশটি তথ্য : সাপ
০১. সব মহাদেশেই সাপ আছে- একমাত্র ব্যতিক্রম অ্যান্টার্কটিকা। প্রায় সব দেশেই সাপ আছে- ব্যতিক্রম তিনটি বড় দ্বীপ আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ড। এছাড়া আটলান্টিক ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে কিছু দ্বীপে সাপ নেই।
বিখ্যাত ইংরেজ থৃলার লেখক ফ্রেডারিক ফরসাইথ-এর একটি বিখ্যাত গল্পের নাম দেয়ার আর নো স্নেইকস ইন আয়ারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডে কোনো সাপ নেই।
০২. প্রায় ৩,৪০০ প্রজাতির সাপ আছে। সাপের আয়ু হতে পারে ৪০ বছর। আমেরিকায় ফিলাডেলফিয়া চিড়িয়াখানাতে পপাই নামে একটি অজগর পুরুষ সাপ ৪০ বছর ৩ মাস ১৪ দিন বেচে থাকার পর ১৫ এপৃল ১৯৭৭-এ মারা যায়। গিনেস বুকের মতে পপাই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাপ।
০৩. সাপ মাংসাশী। সাপের পা নেই। সাপের চোখে পাতা নেই। সাপের খুলি ও চোয়াল খুব শক্ত হয় যার ফলে কিছু সাপ তাদের চাইতে বড় প্রাণীকে গিলে খেতে পারে।
০৪ . সাপ ডিম পাড়ে তবে অধিকাংশ সাপই ডিম ছেড়ে চলে যায়।
০৫. সাপের দেহের বাইরে কান নেই। কিন্তু দেহের ভেতরে আছে।
সাপুড়েদের বাশির সুরে সাপ নাচে না। বাশির শব্দ নয়, বাশির মুভমেন্টে (এক দিক থেকে আরেক দিকে যাওয়া দেখে) সাপ আকৃষ্ট হয় এবং সেই তালে মাথা দোলায়।
০৬. ২০ নভেম্বর ১৯৯৮-এ বেবি নামে বর্মার একটি পাইথনের ওজন ছিল ১৮২.৭৬ কেজি বা ৪০৩ পাউন্ড। এই নারী সাপটির দৈর্ঘ ৮.২২ মিটার (২৭ ফিট) এবং ঘের ৭১.২২ সেন্টিমিটার (২৮ ইঞ্চি)। একে তুলতে নয় জন লাগে। এটি প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর চার থেকে পাচটি মুরগি খায়। বেবি এখন থাকে আমেরিকায় গার্নি (ইলিনয়)-র সার্পেন্ট সাফারি পার্কে।
০৭. বেশির ভাগ সাপ বিষধর নয়। তবে যেসব বিষধর তারা সেটা আত্মরক্ষার জন্য নয়Ñ তাদের শিকারকে বিষ প্রয়োগে হত্যার জন্য ব্যবহার করে। কিছু সাপ যাদের বিষ নেই তারা তাদের শিকারকে পেচিয়ে হত্যা করে।
সবচেয়ে ভারী বিষধর সাপ হচ্ছে ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেইক। দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় এই সাপ পাওয়া যায়। সাধারণত এদের ওজন হয় ৫.৫ কেজি থেকে ৬.৮ কেজি এবং লম্বায় হয় ৫ থেকে ৬ ফিট।
সবচেয়ে মারাত্মক বিষধর সাপ কার্পেট ভাইপার দেখা যায় পশ্চিম আফৃকা ও ইনডিয়ায়। অন্য যে কোনো সাপের চাইতে এই ধরনের সাপের ছোবলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এদের ছোবলের ফলে সে রক্তপাত বা হেমরেজ শুরু হয় সেটা বন্ধ করা যায় না। ট্রপিকাল আফৃকায় গ্যাবুন ভাইপার সাপের বিষদাত সবচেয়ে লম্বাÑ প্রায় দুই ইঞ্চি।
০৮. রেটিকুলেটেড পাইথন সবচেয়ে লম্বা সাপ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্স-এ এই সাপ দেখা যায়। এই সাপ সাধারণত ৬.২৫ মিটার (বিশ ফিট ৬ ইঞ্চি)-এর বেশি হয়। ১৯৯২-তে ইন্দোনেশিয়াতে গুলিতে নিহত এই ধরনের একটি সাপের দৈর্ঘ ছিল ১০ মিটার (৩২ ফিট ৯.৫ ইঞ্চি)।
০৯. অনেকে বিশ্বাস করে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যানাকনডা সাপই সবচেয়ে লম্বা। ৩৬.৫ মিটার লম্বা অ্যানাকনডার কথা শোনা গেলেও তা কখনো দেখা যায়নি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন কেউ যদি ৯ মিটারের বেশি লম্বা অ্যানাকনডার চামড়া এনে দেখাতে পারে তাহলে তাকে তিনি ৫,০০০ ডলার পুরস্কার দেবেন। পরবর্তীকালে আমেরিকার ওয়াইল্ড লাইফ কনজার্ভেশন সোসাইটি এই পুরস্কার ৫০,০০০ ডলারে উন্নীত করে। কিন্তু কেউ সে পুরস্কার নিতে আসেনি।
থ্রেড সাপ সবচেয়ে ছোট সাপ। এরা বড়জোর ১০৮ মিলিমিটার হয়।
সবচেয়ে দ্রুতগামী সাপ ব্ল্যাক ম্যামবা দেখা যায় ট্রপিকাল আফৃকাতে। সমতল ভূমিতে এই সাপ প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ মাইল (১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার) চলতে পারে।
১০. সাপের ছোবলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ইনডিয়া ও শ্রীলংকাতে। প্রতি বছর ইনডিয়াতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সর্পাঘাতে আহত হয় এবং প্রায় ৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু হতো। তবে অ্যান্টিভেনিন (Antivenin) ওষুধ আবিষ্কারের পর সর্পাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন কমে গেছে।
এশিয়ার চায়না, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কামবোডিয়াতে এবং মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার কিছু স্থানে মানুষ সাপ রান্না করে খায়। এশিয়ার এসব দেশের কিছু মানুষ মনে করে সাপের রক্ত, বিশেষত গোখরা সাপের রক্ত পুরুষের যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। এরা সম্ভব হলে জীবন্ত সাপের রক্ত এক ধরনের লিকিওর (মদ)-এর সঙ্গে মিক্স করে কিছুদিন রাখার পর সেটা খায়। সাপের রক্ত মেশানো এই ধরনের একটি দামী লিকিওর হাবু সাকে।
১১. আমেরিকার আর্মি স্পেশাল ফোর্সের সৈন্যদের তাদের ট্রেইনিংয়ের সময়ে শেখানো হয় বেচে থাকার প্রয়োজনে কিভাবে সাপ ধরতে, মারতে এবং খেতে হয়। এজন্য তাদের নাম হয়েছে স্নেইক ইটার্স। ভিডিও গেইম মেটাল গিয়ার সলিড ৩ : স্নেইক ইটার-এর নামও সম্ভবত এখান থেকে এসেছে।
১২. পশ্চিমে কেউ কেউ সাপ পোষেন। এসব সাপ হতে পারে বল পাইথন ও কর্ন স্নেইক প্রজাতির। সাপ পুষতে খরচ কম হয়। জায়গা কম লাগে। ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে একবার তাদের খাওয়ালে চলে। বাংলাদেশে ঢাকার পুলিশ অফিসার আরমান একটি দক্ষিণ আমেরিকান সাপ পোষার বর্ণনা লাল গোলাপ টিভি অনুষ্ঠানে দিয়েছিলেন।
১৩. চায়নিজ ক্যালেন্ডারে যে রাশিচক্র আছে তার বারোটি পশু-প্রাণীর মধ্যে একটি সাপ।
১৪. ইনডিয়াতে একটি ধারণা আছে, কিছু সাপের মনি আছে যা হীরার চাইতেও উজ্জ্বল। তাদের এই ধারণা ভুল। সাপের মনির লোভে ইনডিয়াতে অনেকের মৃত্যু হয়।
১৫. হিন্দু ধর্ম ও পূজার একটি বিশেষ অংশ জুড়ে আছে সাপ। প্রতি বছর নাগ পঞ্চমী-তে সাপের মূর্তি অথবা জীবন্ত সাপ পূজা করা হয়। শিবের অনেক মূর্তিতে তার গলায় সাপ পেচানো দেখা যায়।
১৬. প্রাচীন গৃসে সাপকে নিরাময়কারী প্রাণী রূপে দেখা হতো। এসলিপিয়াস তার লাঠিতে সাপ পেচিয়ে রাখতেন যেটা এখনো পশ্চিমের কিছু ফার্মাসি ও অ্যাম্বুলেন্সে আকা থাকে।
১৭. কৃশ্চিয়ান ধর্মে সাপকে মন্দ এবং চক্রান্তকারীরূপে দেখা হয়েছে। এই ধর্মের মতে গার্ডেন অফ ইডেন বা স্বর্গোদ্যানে বিশ্বের প্রথম যুগল, আদম ও ইভ-কে সাপই প্ররোচিত করেছিল টৃ অফ নলেজ বা জ্ঞানবৃক্ষ থেকে ফরবিডেন ফ্রুট বা নিষিদ্ধ ফল পেড়ে খেতে।
১৮. ইজিপ্টের ইতিহাসে জানা যায়, প্রাচীন সময়ে ফেরাউনরা তাদের মুকুটে নীল নদের গোখরা সাপ রাখতেন। সাপকে তারা অন্যতম দেবী মনে করতেন। ইজিপ্টের বিখ্যাত রানী ও সুন্দরী কিওপাট্রা এ রকমই একটি গোখরা সাপের ছোবলে আত্মহত্যা করেছিলেন।
১৯. সারা বিশ্বের জনপ্রিয় বোর্ড গেইম স্নেইকস অ্যান্ড ল্যাডার্স বা সাপ লুডো আবিষ্কৃত হয়েছিল প্রাচীন ইনডিয়াতে। বৃটিশ ঔপনিবেশিকরা ১৮৯২ সালে এটি চালু করে ইংল্যান্ডে এবং পরে এটি চালু হয় গোটা ইওরোপ ও আমেরিকায়। ইনডিয়াতে মনে করা হতো মানুষের জীবনের চলার পথের প্রতীকী রূপ ধারণ করে এই খেলার বোর্ড যেখানে জীবনের উত্থান ও পতন নির্ধারিত হয় মানুষের গুণাবলি (মই) এবং দোষ (সাপ) দ্বারা।
২০. ত্রয়োদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দির মধ্যে বাংলা ভাষায় যেসব মনসামঙ্গল উপকথা লেখা হয়েছিল তাতে হিন্দু দেবী মনসা বা সাপ দেবীর ব্যাপক উল্লেখ আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত কাহিনী বেহুলা। চম্পকনগরের চাদ সওদাগরের ছেলে লক্ষ্মীন্দরের সঙ্গে বেহুলার বিয়ে এবং ভালোবাসার বিষয়ে এই ইউনিক স্টোরির ঘটনাস্থল বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে। বিয়ের রাতে লক্ষ্মীন্দরের মৃত্যু হয়েছিল কালনাগিনীর ছোবলে। কিন্তু বেহুলার ভালোবাসা ও সাধনার ফলে লক্ষ্মীন্দর প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন।

raterporrat@gmail.com
৩১ ডিসেম্বর ২০১২
(সকল সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক)
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
January
(6492)
-
▼
Jan 26
(183)
- ভিক্ষুক পুনর্বাসনের পাইলট কর্মসূচি ব্যর্থ, মনোযোগ ...
- মনিকা ধর্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী- হাছা কথায় মরতেও ভয়...
- ঝড় তুলছে শার্লিনের কামসূত্র
- স্মরণ- কবি কাজী কাদের নেওয়াজ
- হাতিরঝিলের সেকাল ও একাল by মুসা আখন্দ
- দেশ এখন ফরমালিনময় by আরিফুর রহমান খাদেম
- দেশ এখন ফরমালিনময় by আরিফুর রহমান খাদেম
- সহজ কথা- তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক by আলফাজ আনাম
- পাকিস্তানের বিভক্তিঃ আবার ’৭১-এর পথে by ডক্টর আবদু...
- তার পরও দুই নেত্রীর পক্ষে-বিবিধ প্রসঙ্গ by মাসুদ ম...
- বর্ষবরণের নামে উন্মত্ত আচরণ-অপসংস্কৃতি রোধে ব্যবস্...
- বিএসএফের অব্যাহত বাংলাদেশী হত্যা- এই অমানবিক আচরণ ...
- আরব বসন্ত ও ইবনে খালদুনের ভবিষ্যদ্বাণী by মুহাম্মদ...
- দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সামনে যত চ্যালেঞ্জ by মাসুম...
- ২০৩০ সাল নাগাদ অনেক দেশেই নাটকীয় পরিবর্তন by হাসা...
- ২০৩০ সালের বিকল্প বিশ্ব- মধ্যপ্রাচ্য এখন প্রান্ত ব...
- বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড রুগ্ণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশঃ ড. ...
- এমআরটির প্রতিবেদন- এক বছরে গুপ্তহত্যার শিকার এক হা...
- এডিপি বাস্তবায়নে গতি নেই- পাঁচ মাসে হার মাত্র ২৪ ...
- এক বছরে হত্যা ৪২- দুই বাংলাদেশী হত্যা করে বিএসএফের...
- হীরক রাজার দেশের প্রগল্ভ অর্থমন্ত্রী- বিচিন্তা by ...
- অভিমত- কোথায় দাঁড়িয়ে ভাবব যে, আমরা নিরাপদ?
- বিশ্বজিৎদের রক্তে ভেসে যাবে গণতন্ত্র! by অরণ্য ইমত...
- শীতার্ত মানুষের জন্য কিছু করার আছে by শাহাদাত আনসারী
- রাজনৈতিক যুদ্ধের ত্রে, যুদ্ধাস্ত্র এবং সেনাপতি by ...
- বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত- সাধারণ মানুষের জ...
- বিরোধী দলের সাথে সরকারের আলোচনার আগ্রহ-শুভবুদ্ধির ...
- হেলথ টিপস-ডেউয়া ফলের ভেষজ গুণ
- চিত্র বিচিত্র-৩ হাজার বছরের পুরনো মুদ্রা আবিষ্কার
- শ্রমিক দলের সমাবেশে তরিকুল-নতুন বছরে সরকারের পতন হবে
- শিক্ষা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়...
- যানজটে ঢাকায় বছরে ক্ষতি ২৫ হাজার কোটি টাকা-প্রতিদ...
- ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করল ২৫ রাজনৈতিক দল
- বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল সময়ের দাবিঃ ড. কারযাবি
- স্বাগত ২০১৩ by তারেক মোরতাজা
- ঢাবি শিক্ষকের আইনজীবী স্ত্রী নিজ বাসায় খুন
- বিরোধী দলের সাড়া পেলে শিগগিরই সঙ্কট নিরসনে আলোচনা...
- টপ টেন
- মন্তব্য প্রতিবেদন-নতুন আসবে নাকি পুরাতন… by ফরহাদ ...
- খালেদা হাসিনার ঝাপিতে সাপতত্ত্ব by শফিক রেহমান
- নতুন বছরের শুভেচ্ছা-বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে যাক
- ‘দুই একনায়কতন্ত্রী রাষ্ট্রকে দুই ভাগ করে ফেলেছেন’
- ‘তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্য দিতে হবে সরকারকে’
- ‘তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্য দিতে হবে সরকারকে’
- ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি ঝর্ণাধারা...
- মাছি মানব ওবামা by মাহমুদ মেনন
- ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন- নেতানিয়াহুর সঙ্গে ...
- বৃটেনেও সমকামী বিয়ে বৈধ হতে চলেছে!
- সুরমা নদীতে হাঁটুজল by সাব্বির আহমদ
- ‘সেদিন যদি আমরা পদত্যাগ না করতাম ওনাদের ক্ষমতায় আস...
- ইসলামী সন্ত্রাসের আরেক স্বর্গরাজ্য সোমালিয়া by এন...
- পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানীকরণের জন্য দায়ী জাম...
- রাজনীতিতে শিক্ষা দিতে নেই, শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় by...
- তিন কন্যার অভিশপ্ত জননী!
- টিসিবি সক্রিয় হবে না?
- নার্সদের আন্দোলন
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি
- খবর শুধু খবর নয় by নিয়ামত হোসেন
- পাহাড়ে যা ঘটল এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ ॥ বেসা...
- দীপিকার গন্তব্য কোথায়!
- এ্যাঞ্জেলি নাজোলি
- বলিউড বড় পর্দার তারকারা ছোট পর্দায়
- উসব
- কান পেতে রই
- স্বপ্নবাজ এক আদিত্য নারায়ণ
- অতঃপর দু'জনে
- ভাষা দিবসে ঢাকাজুড়ে ছিল অনুষ্ঠানের জোয়ার
- সাধারণ মানুষের জন্য গণতন্ত্র- বোরহানউদ্দিন খান জাহ...
- মিছিলে বাধা দেয়ায় হিযবুত তাহ্রীর পুলিশের ওপর চড়াও
- জিয়া অপসারিত, উঠানো হলো হযরত শাহজালাল নামফলক
- এবার জ্বলছে খাগড়াছড়ি- পাহাড়ী-বাঙালী ফের নারকীয় সংঘ...
- টালমাটাল জামায়াত
- এবার জ্বলছে খাগড়াছড়ি- পাহাড়ী-বাঙালী ফের নারকীয় সংঘ...
- শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের গ্রহণযোগ্যতা নেই শিবির সভাপতি
- পিলখানা হত্যাকা- আরও ৮ জন গ্রেফতার রিমান্ডে
- গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার উদ্যোগ মানুষের ক্রয়ৰম...
- তৃণমূল থেকে কেন্দ্র কোথাও কোন্দল এড়ানো যাচ্ছে না- ...
- এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কোন যৌক্তিকতা নেই- বা...
- অচিরেই উচ্চ আদালতে বাংলায় রায়
- খেলার মাঠে বাঙালীর সাফল্য by ইকবাল আজিজ
- ভাষাসৈনিকদের তালিকা প্রণয়ন করুন by বাহাউদ্দীন চৌ...
- ইসলামী সন্ত্রাসের আরেক স্বর্গরাজ্য সোমালিয়া অনুবাদ...
- '৭১-এর পরবর্তী প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধী অনুসারী হয় কেন?...
- যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যয়ে by...
- কেউ খোঁজ রাখে না
- চিড়িয়াখানায় অনিয়ম দুর্নীতি- পশুসম্পদের ডিজি সাসপেন্ড
- যমুনা বিল্ডার্সের এমডির আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা
- ৫০ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা by শংক...
- অন্তর্বর্তী নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন নই...
- অতীত কৃতকর্মের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত ॥...
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইনের খসড়া অনুমোদন- ...
- ডাকাতি করতে গিয়ে ধর্ষণ করাই ছিল যার নেশা- আরেক 'রস...
- পাহাড়ের সমস্যার সমাধানে ॥ চাই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি...
- ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার নেই ত্রাণ নেই, অরণ্যে কাটছে দিন
- লাদেন কানেকশন ॥ আল কায়েদার টাকা পায় জঙ্গীরা by গাফ...
- জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধ দাবি- সেদিন বিএনপি এমপিরা ...
- শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্টকারীদের চিহ্নিত করার নির...
- সরকার নির্মাণ কাজ শীঘ্র শুরু করতে চায় ॥ যোগাযোগমন্...
- রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিন খুন- ছিনতাইকারী, অ...
- তরুণদের লেখা আরও চাই, হুমায়ূন আসছেন আজ
- দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে ৩০ জেলা সদরে ৩৫ প্রশিক্ষণ কেন্দ...
- একই সঙ্গে সমুদ্র নদী দ্বীপ পাহাড় বনের সৌন্দর্য- ট...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী আ...
- ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শতবর্ষ পূর্তির বর্ণিল উসব
- রাবির ছাত্রী হল থেকে ২১ জিহাদী বই উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৪
- শীঘ্রই চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ কাজ শুরু করব...
- ঢাকা পদাতিকের নতুন নাটক মঞ্চস্থ, ক্যালিগ্রাফি প্রদ...
- নাটোরে জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক গ্রেফতার ১০
- দহগ্রাম-আঙ্গপোতার মানুষ মার্চ থেকেই বিদ্যুত পাবে- ...
- কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণে সরকারকে সহায়তা করবে ঢাক...
- দিনরাত জনজোয়ার, নতুন বই ২০৬ রেকর্ড বিক্রি- বইমেলা ...
- পিরোজপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত সুমনের...
- '৭১-এর অক্টোবরে প্রচণ্ড মার খায় রাজাকাররা- মুক্তিয...
- নির্জন, মাতাল হাওয়া স্বচ্ছ পানির নিচে সুচালো প্রবা...
- শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক জোটের নানা আয়োজন, পদাতিকের উ...
- দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে -এরশাদ
- অর্জনের সময় এসেছে, ঐক্য জরুরী -এরশাদ
- পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার সঠিক ছিল ন...
- প্রবীণ রাজনীতিক নূর আলম জিকুর ইন্তেকাল
- ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুলহাস
- টেকনাফে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুত থাকে না ॥ ১৭০ শিল্প বন্ধে...
- সিলেট সীমান্তে ফের উত্তেজনা, বিএসএফের শক্তি বৃদ্ধি...
- রামগড় পৌর কমিশনার অপহৃত ॥ মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার
- বিদেশীরা মিলেছিল নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরিতে
- শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট
- সরকারী চাকরি বাজারে 'ডাক' উঠেছে তবে আমলা চাতুর্যে ...
- কিডনি প্রতিস্থাপন ॥ রেকর্ড সাফল্য বাংলাদেশে- ৬০১টি...
- সব ভাষা সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় সমান গুরুত্ব দেয়া হবে- ...
-
▼
Jan 26
(183)
-
▼
January
(6492)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment