ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি ঝর্ণাধারা চৌধুরী by নূরনবী সিদ্দিক সুইন

ভারতের বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ঝর্ণাধারা চৌধুরী।
ঝর্ণাধারা চৌধুরী নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব। ৭০ বছরের বেশি বয়স্কা গান্ধীভক্ত এ নারী দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।
শ্রীমতি ঝর্ণাধারা চৌধুরী ১৯৩৮সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ ও মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে বিয়ে করেননি তিনি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে মানুষের মাঝে সংঘাত বেড়ে গেছে দেখে বিচলিত হয়ে একসময় যোগ দেন গান্ধীর অহিংসা মতবাদে। গান্ধীজির মতবাদকে বাস্তবায়িত করতে গান্ধী আশ্রমের সমাজকর্মী হিসেবে ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে।

এবছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ঝর্ণাধারা চৌধুরীসহ ৬ বিদেশিকে এ সম্মাননা জানালো ভারত সরকার।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারের তরফ থেকে ৬ বিদেশিসহ  ১০৮ জন পদ্ম পুরস্কার প্রাপকের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এরমধ্যে পদ্মবিভূষণ পেয়েছেন ৪জন, পদ্মভূষণ ২৪জন, ৮০জন পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মাননা। প্রাপকদের মধ্যে ২৪জন মহিলা রয়েছেন।

পদ্ম বিভূষণ পেয়েছেন উড়িষ্যার ভাস্কর রঘুনাথ মহাপাত্র, দিল্লির চিত্রশিল্পী এস হায়দার রাজা, পদার্থবিদ যশপাল ও মহাকাশ বিজ্ঞানী রোদ্দাম নরসিমহা।

পদ্মভূষণ প্রাপকদের মধ্যে মরণোত্তর পুরস্কার লাভ করেছেন চলচ্চিত্র তারকা রাজেশ খান্না ও  গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কৌতুক অভিনেতা যশপাল ভাট্টি। এ তালিকায় আরও রয়েছেন  শর্মিলা ঠাকুর, রাহুল দ্রাবিড়, বক্সার মেরিকম,ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী রাশিদ খান, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, বিশিষ্ট শিল্পপতি আদি গোদরেজ। এর মধ্যে রাশিদ খান এর আগে ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ২০১২ সালে শিল্প ও দর্শনের জন্য কিয়েটো পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বোলপুরে অনাথ ও দু:স্থ শিশুদের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা করেন।

পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, চলচ্চিত্র জগতের শ্রীদেবী, নানা পাটেকর ও রমেশ সিপ্পি, ফ্যাশন ডিজাইনার রিতু কুমার, কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত, পর্বতারোহী প্রেমলতা আগারওয়াল, লন্ডন অলিম্পিকের রৌপ্যজয়ী শ্যুটার বিজয় কুমার।