Saturday, January 26, 2013
টপ টেন
টপ টেন
ড. ইউনূস ও রামু প্রসঙ্গ
তারেক মোরতাজা
বছরজুড়েই আলোচনায় ছিলেন নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের অস্তিত্ব ও তার প্রতি সরকারের প্রতিহিংসা নিয়ে সমগ্র দুনিয়ায় সমালোচিত হয়েছে মহাজোট সরকার।
তারেক মোরতাজা
বছরজুড়েই আলোচনায় ছিলেন নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের অস্তিত্ব ও তার প্রতি সরকারের প্রতিহিংসা নিয়ে সমগ্র দুনিয়ায় সমালোচিত হয়েছে মহাজোট সরকার।
তবুও সরকারের তরফে বরাবরই তার সমালোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা মার্চ মাসে বলেন, ড. ইউনূস এত যোগ্য লোক হলে তাকে কেন বিশ্বব্যাংকের
প্রেসিডেন্ট করা হচ্ছে না। তিনি তাকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করার
প্রস্তাবও করেন। এ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়ে ড. ইউনূস নিজেই
প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্ম সেতু কেলেঙ্কারি জন্য নিজ দলের কলঙ্ক সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক বললেও ড. ইউনূসকে বলেছেন বিশ্বাসঘাতক। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এতে অবশ্য সরাসরি ড. ইউনূসের নাম বলা হয়নি। পরে অবশ্য এর সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে ড. ইউনূস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। বলেছেন, হিলারির সাথে তার বন্ধুত্বের কারণে এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সরকার বরাবরই চেষ্টা করে আসছিল ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরানোর পরও তার যে প্রভাব রয়েছে তা কমানোর জন্য। সেটি করতে ব্যর্থ হয়ে আগস্ট মাসে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ বদলে ফেলা হয়। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের ক্ষমতা পর্ষদের কাছ থেকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসে চেয়ারম্যান তার ক্ষমতাবলে পর্ষদের মতামত ছাড়াই একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। যেখান থেকে পরে পর্ষদের ঋণগ্রহীতাদের ভোটে নির্বাচিত সদস্য তাহসিনা পদত্যাগ করেন। এরপর এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে নতুন করে আরেকজন সদস্য নিয়োগ ছাড়াই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে তাহসিনা আদালতে গেলে এমডি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। বর্তমানে সে স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে। তবে ড. ইউনূসের আয়ের ওপর সরকারের তদন্ত চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো অনিয়ম ধরতে পারেনি সরকার।
রামুকাণ্ড : রামুকাণ্ডের আসল ঘটনা আড়ালেই থেকে গেছে। ঘটনার পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর সরকারবিরোধীদের এর জন্য দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রামু সফর করে একই কথা বলেন। সর্বশেষ জমা হওয়া সরকারি তদন্ত রিপোর্টেও ক্ষমতাসীন দলের মতের প্রতিফলন ঘটেছে।
রামুকাণ্ডের পর ওই এলাকা ঘুরে প্রায় সবাই বলেছেন, এ ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতা ও পুলিশ বাহিনীর নির্বিকার ভূমিকার কারণে ঘটেছে। এমনকি সরকারসমর্থক আইনজীবীরা ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে আইনজীবীরা এবং মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও রামু ঘুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ ছিল।
পুলিশের তদন্তের মূল ভিত্তি হলো মুক্তাদির। যাকে পুলিশ পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ছাত্রশিবির কর্মী বলে। অথচ তার মা সাজেদা বেগম নয়া দিগন্তকে বলেছেন, তার ছেলে কোনো সময়ই রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। শিবির তো দূরের কথা, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেও তার কোনো রকমের সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে ঘটনা সম্পর্কে যে প্লট তৈরি করা হয়েছে, তাতে অগ্রভাগেই আছেন তোফায়েল আহমেদ। ২৮ সেপ্টেম্বর মোক্তাদির তার বাড়িতে যান। সেখানে একটি বৈঠক হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তম বড়–য়ার ফেসবুকে যে কুরআন অবমাননার ছবি যুক্ত করা হয়েছে তা মুক্তাদিরই ছড়ানো। কিন্তু যার দোকান থেকে এটি ছড়ানো হয় যে ফারুকের ভাষ্য মতে, সন্ধ্যার কিছু পর মুক্তাদির তার দোকানে আসে। মুক্তাদিরের মায়ের ভাষ্য মতে, সেটি সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা। এরপর অতি অল্প সময়ে কিভাবে তিনি রামু উপজেলাজুড়ে এ ছবির প্রচার করলেন সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ঘটনা ছড়িয়েছেন মুক্তাদির। সেই মুক্তাদির শিবিরকর্মী। তবে বাস্তবে সে আওয়ামী লীগ নেত্রীর সন্তান এবং নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে কিছুটা জড়িত।
উত্তম বড়–য়ার ফেসবুকে কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে এ হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সে বিষয়েও তদন্ত প্রতিবেদেন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। বলা হয়েছে, উত্তম আত্মগোপনে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ তার মা ও মাসিকে হেফাজতে নিলেও পরে আদালতের নির্দেশে ছেড়ে দেয়।
১৭ অক্টোবর প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা ও প্রশাসনের ন্যক্কারজনক ব্যর্থতার অভিযোগ আড়াল করার জন্যই এখন রোহিঙ্গাদের অন্যায়ভাবে দায়ী করার চেষ্টা চলছে। অধিকার এই অসমর্থিত তথ্য ও অন্যায় অভিযোগকে মিয়ানমারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের জন্য ভয়ানক বিপজ্জনক বিষয় বলে মনে করে।
অধিকার বলেছে, শুধু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, একই সাথে বাংলাদেশে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্যও তা বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। রোহিঙ্গারা এই ঘটনায় জড়িত ছিল প্রমাণ করার জন্য তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হতে পারে।
স্থানীয়রা নয়া দিগন্তকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ার দিকে মিছিলটি বের হয় ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, আমজাদ হোসেন, জিন বাবু ও রুস্তম আলীর নেতৃত্বে। ওই মিছিলটি বৌদ্ধমন্দির এলাকা ঘুরে আসে। সেখান থেকে ফিরে তারা রামু চৌমুহনী বাজারের চৌরাস্তায় মিলিত হয়। সেখানে দেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সারোয়ার কাজল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুশরাত জাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ ও স্থানীয় থানার ওসি নজিবুল ইসলাম। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান ইউএনওর ফোন পেয়ে যান। তিনিও ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ওই সমাবেশ চলাকালে চৌমুহনী বাজারের পাশে বিহার রোড়ের শ্রীকুল এলাকায় সাদা চিং বিহার ও লাল চিং বিহার মন্দিরে হামলা শুরু হয়। লুৎফর রহমান বলেছেন, তিনি এ হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে স্থানীয়রা বলেছেন, মিছিল, সমাবেশ ও হামলার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে ছিলেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা।
সুরঞ্জিতের কালো বিড়াল
ফজলুল হক শাওন
মহাজোট সরকারের গেল বছরটি (২০১২) ছিল ঘটনাবহুল। এ বছরটিকে অনেকে আর্থিক কেলেঙ্কারির বছর বলে মন্তব্য করছেন। অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারির মধ্যে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ছিল অন্যতম। গেল বছরের ৯ এপ্রিল রাতে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের বাসায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি গেটে এপিএস ওমর ফারুক ধরা পড়েন। এ ঘটনার তদন্তে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দোষী প্রমাণিত না হলেও তার মন্ত্রিত্ব চলে যায়। রেলে চাকরি দেয়ার নামে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ায় তা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার কথা বলে সুরঞ্জিত নিজেই হয়ে গেলেন কালো বিড়াল।
মজার বিষয় ছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন জাতীয় সংসদে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংসদে দাঁড়িয়ে সুরঞ্জিত বলেন, দুর্নীতির কালো বিড়ালটি কোথায় সেটি খুঁজে বের করতে হবে। তিনি শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, দরবেশ-আউলিয়া বলে আখ্যায়িত করেন। এ বক্তব্যে মূলত শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাসীন কয়েকজন নেতার কথা বলেন তিনি আকার ইঙ্গিতে। রেলের ঘুষ কেলেঙ্কারির খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ঘটনার জন্য ধমকান এবং তাকে পদত্যাগ করার কথা বলেন। পদত্যাগ করলেও পরে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়। যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত লাগামহীনভাবে মানুষের সমালোচনা করেন, মুখ ভেংচিয়ে বক্তব্য রাখেন সেই ব্যক্তি ঘুষ কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়ে এক মাস ঘরে বসে থাকেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে ধরা পড়লেও এ প্রসঙ্গে অনেকেই অনেক কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁয়, গাড়িতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে মুখরোচক আলোচনা হয়। এ ঘটনার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে অনেকে ‘কালো বিড়াল’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। নেতারা বলেন, সুরঞ্জিত এখন আওয়ামী লীগের বোঝা। এই লোকটি দল ও সরকারের চরম ক্ষতি করল। নিজেও ডুবল দলও ডুবাল। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধারের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যতটুকু সোচ্চার ছিল সুরঞ্জিতের ঘটনার পর সরকার আর ততটুকু সোচ্চার থাকতে পারবে কি না তা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা হয়।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগী মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে আমি নির্দোষ। তদন্ত কমিটি আমার কোনো দোষ খুঁজে পায়নি। এর আগে পদত্যাগ করার সময় আমি বলেছিলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকব। সে কারণে গত এক মাস রাজনীতি, সমাজনীতি সব কিছু থেকেই বিরত ছিলাম। তদন্ত শেষ হয়েছে তাই এক মাস এক দিন পর আমি আবার রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আমার; আর মন্ত্রিত্বের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেনের দুর্নীতি নিয়েও মিডিয়ায় প্রচার প্রচারণা চলে এ বছর। পত্রপত্রিকায় প্রচার হয়, তাকে টেলিকমিউনিকেশন্স লাইসেন্স দেয়ায় সরকারের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
ইলিয়াস আলী গুম
মঈনউদ্দিন খান
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২০১২ সালজুড়েই ছিল সরকারের রোষানলে। মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। আর জেলের ঘানি টেনেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। এপ্রিল ও ডিসেম্বরে দু’টি বড় কর্মসূচিতে নিহত হয়েছেন আটজন নেতাকর্মী। বিপক্ষের হামলা-গুলিতে বছরজুড়ে সারা দেশে নিহত হয়েছেন আরো কয়েকজন নেতা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহালের দাবিতে বিএনপি এ বছর বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা আসেনি।
২০১২ সালের শুরুতেই ৯ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ করেন খালেদা জিয়া। ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় গণমিছিল ও ১২ মার্চ ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১২ জানুয়ারি ওই সংলাপে খালেদা জিয়া সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা আবার বহালের দাবি জানান।
২৯ জানুয়ারি সারা দেশে বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচি নিয়ে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়ায় বিএনপি গণমিছিল এক দিন পিছিয়ে ৩০ জানুয়ারি করে। ওই দিন সারা দেশে পুলিশের গুলিতে চারজন বিএনপি কর্মী নিহত হন।
ঢাকায় ১২ মার্চের মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকার লঙ্কাকাণ্ডের জন্ম দেয়। সমাবেশের তিন দিন আগে থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। লঞ্চ, বাস, ট্রেন সব বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজধানীর হোটেলগুলোতে থাকার ওপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তার পরও সমাবেশ ঘিরে নামে জনতার ঢল। ওই সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক বহালে তিন মাসের আলটিমেটাম দেয়া হলেও তা আমলে আনেনি সরকার।
৮ এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভা থেকে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর কিছু দিন পরই গুম হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী। ১৭ এপ্রিল মধ্য রাতে ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর থেকে রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি টানা হরতালের পথ বেছে নেয়। সারা দেশে তৈরি হয় সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি। সরকার হার্ডলাইন নিয়ে বিরোধী দলের ওপর মামলা-হামলা শুরু করে। হরতালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানো মামলায় বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নজিরবিহীনভাবে জেলে ঢোকানো হয়। এ দফায় জেল খাটেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, হান্নান শাহ, গয়েশ্বর রায়, সাদেক হোসেন খোকা, আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলুসহ বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতারা।
৭ জুন তাদের বেশির ভাগের মুক্তির পর ১১ জুন তরিকুল ইসলামের সমন্বয়ে ঢাকায় ফের সমাবেশ করে ১৮ দলীয় জোট। এপ্রিল-মে মাসজুড়েই চলে বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারপ্রক্রিয়া।
এরপর রমজান চলে আসায় আন্দোলনে আসে অবকাশ। কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেয় বিএনপি। ১৪ অক্টোবর সাত দিনের সফরে চীনে যান খালেদা জিয়া। পরে ২৯ অক্টোবর সাত দিন ভারত সফর করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
দুই দেশ সফরের পর আবার আন্দোলনমুখী হয় বিএনপি। ২৮ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হয় ১৮ দলের। ওই সমাবেশ থেকে ৯ ডিসেম্বর সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়, যা ছিল চার বছরের মধ্যে বিরোধী দলের সবচেয়ে শক্ত কর্মসূচি। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের চার নেতাকর্র্মী নিহত হন। এরই জের হিসেবে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতার হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখনো জেল খাটছেন তিনি। নতুন বছরে বিএনপি আন্দোলনে আরো বেশি আক্রমণাত্মক হবে, এমন কথা বলছেন দলের নেতারা।
পদ্মা সেতু ও আবুল কাহিনী
সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বিবেচনা করা যায় পদ্মা সেতু প্রকল্পকে। অর্থের সংস্থান রয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু, এই মানুষেরা সব সময় ভেবে এসেছেন কবে পদ্মা নদীর ওপর সেতু হবে, কবে তাদের যাত্রা নিরাপদ ও দ্রুত হবে, কবেই বা তারা সেতুর দাক্ষিণ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া পাবেন। প্রায় সব সরকারই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ করার। আর এসব কারণে ২০০৪ সালে প্রথম সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়। ২০০৪ সালে বিস্তারিত সমীার পর মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরামর্শ দেয় জাপানি সংস্থা জাইকা। সে অনুযায়ী কাজও এগিয়ে চলে। ২০০৭ সালে ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন করা হয়।
২০০৯ সালের ৯ জানুয়ারি বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করে। ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় নকশা প্রণয়নের কাজ। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে সরকার আলোচনা চালিয়ে যায় অর্থ পাওয়ার আশায়। এক সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সরকার। কিন্তু এতে আপত্তি দেয় বিশ্বব্যাংক, প্রত্যাহার করে নেয়া হয় দরপত্র। ২০১০ সালে ১১ অক্টোবর আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। তারপরের বছর ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি সেতু প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়। একই বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ১২০ কোটি ডলারে ঋণ চুক্তি অনুমোদন করা হয়।
২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির একটি গোপন তারবার্তা ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস। সেখানে মরিয়ার্টি যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেন, এই লোকটির সততায় ঘাটতি রয়েছে (দিজ পারসন ইজ লেস দেন অনেস্ট)। মানুষের পারসেপসন্স বলে একটি কথা রয়েছে, এই পারসেপসন্স বলে আবুল হোসেন সৎ ব্যক্তি নন। কারণ ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দু’টি পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তার মন্ত্রিত্ব তখন খোয়া যায়।
আবুল হোসেন সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মূল সেতু ও তদারকি পরামর্শক নিয়োগ বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এখানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এসএনসি লাভালিন নামে একটি কানাডিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কিছু পদস্থ কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বব্যাংকের এই চিঠিতে তিনজন লোকের নাম উল্লেখ করা ছিল। এরা হলেন, যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, তৎকালীন সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি টাকা। সরকার প্রথম দিকে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির এই অভিযোগকে পাত্তাই দিতে চায়নি। পরে চাপে পড়ে ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ অক্টোবর সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু বহাল তবিয়তেই রয়ে যান আবুল হোসেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সাথে সুসস্পর্ক থাকার কারণে তার এই টিকে থাকা। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। কারণ দুর্নীতির তদন্ত না করার কারণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সেতু প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়।
সরকার যখন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসেনি, তখন গত ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। এরপর বিশ্বব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি পুনবর্হালের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে সরকার। পরে বিশ্বব্যাংক ২১ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেয় তারা নতুন করে পদ্মা সেতুতে সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েেেছ।
এরপর পদ্মা সেতু নিয়ে দুদক পরিচালিত দুর্নীতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল বাংলাদেশে দু’দফা সফর করে। এর নেতৃত্বে ছিল হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি লুই গ্যাব্রিয়াল ওকাম্পো। দুদকের সাথে আলোচনায় প্যানেলটি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও এসএনসি লাভালিনের লবিস্ট আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করে। কিন্তু দুদক এ দু’জনকে বাদ দিয়েই গত মাসে মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে বিশ্বব্যাংক এখনো বলেনি তারা এ সেতুতে অর্থায়ন করবে কি না।
ব্যাংক কেলেঙ্কারি
আশরাফুল ইসলাম
দেশের ব্যাংকিং খাতে স্মরণকালের ভয়াবহতম কেলেঙ্কারি হয়েছে বিদায়ী বছরে। ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় চার হাজার কোটি টাকা। হলমার্ক নামক একটি অখ্যাত কোম্পানি সোনালী ব্যাংক থেকে এ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় বিদায়ী বছরটিতে। এর সাথে জড়িয়ে পড়ে আরো ২৬টি বেসরকারি ব্যাংক। এর বাইরে আরো এক হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ধরে পড়ে সোনালী ব্যাংকে। তা ছাড়া জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও কৃষি ব্যাংক থেকেও কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি উদঘাটন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অগ্রণী ব্যাংকের সরকার সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের ১০০ বস্তা ফাইল গায়েব করা, রাজনৈতিক বিবেচনায় আবারো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগ, বিদেশী ঋণদানকারী সংস্থা, সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ৯ রাজনৈতিক ব্যাংকের অনুমোদনের মতো ঘটনাগুলো দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আলোচনায় ছিল সারা বছর।
ব্যাংক খাতের অভিশাপ হলমার্ক : চীনের দুঃখ যেমন হোয়াং হো নদী, তেমনি ব্যাংক খাতের দুঃখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে হলমার্ক কোম্পানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে অখ্যাত এ কোম্পানিটি সোনালী ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। এর সাথে সোনালী ব্যাংকের প্রায় তিন ডজন কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হলেও নেপথ্যের নায়কেরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের গন্তব্য নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক বা দুর্নীতি দমন কমিশন। হাতিয়ে নেয়া অর্থ দেশে রাখা হয়েছে না বিদেশে পাচার করা হয়েছে, হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, কাদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে তা এখনো অজানা রয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করা হয়নি বলে ওইসব কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পর অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও সে পরামর্শের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করে অর্থমন্ত্রণালয়। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাসময়ে ঋণের অনিয়ম বের করতে না পারার জন্য দোষারোপ করে অর্থমন্ত্রণালয়। এর বাইরে সরকারি মালিকানাধীন প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেই ঋণ কেলেঙ্কারি হয় বিদায়ী বছরে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করা হয়।
১০০ বস্তা ফাইল গায়েব : গত জুন মাসে প্রকাশ্য দিবালকে অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয় থেকে এক শ’ বস্তা ফাইল লিফট দিয়ে নামিয়ে ট্রাকে করে সরিয়ে নেয়া হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন সরকারপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের ছয় সদস্য। নেপথ্যে ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি ফাইল গায়েবের সাথে জড়িতের কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি এত বিশাল ঘটনা ঘটলেও থানায় কোনো মামলা পর্যন্ত করেনি অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এক শত বস্তা ফাইলের মধ্যে বেশ কয়েক বস্তা ফাইল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগ ফাইল আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ছাত্রলীগের তাণ্ডব
আমানুর রহমান
শিক্ষাঙ্গনজুড়ে ২০১২ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ছাত্রলীগ। দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি কলেজে তাদের নৈরাজ্য, অরাজকতা, সন্ত্রাস আর নৃশংসতায় কয়েকজন মেধাবী ছাত্র খুন হন। পুরো বছরই কোনো-না-কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অথবা প্রতিপক্ষের ওপর হামলায় কিংবা কোনো টেন্ডারবাজির কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। শুধু ছাত্রলীগের নৈরাজ্যই নয় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার সমর্থক শিক্ষকদের দলাদলি আর পদ দখল এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। শিক্ষকদের দখলবাজি ও দলীয়-আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি এক ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাবর সম্পত্তিও বিক্রি করে দিয়েছেন। এরূপ হাজারো কারণে শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষার পবিত্র স্থানগুলো কলুষিত হয়েছে। দলীয়করণ আর ছাত্রলীগের অরাজকতায় দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বন্ধ থেকেছে। সাধারণ ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরাও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে প্রতিবাদ মুখর হলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
উচ্চ শিাঙ্গনের নানা অচলাবস্থা নিরসনে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগেরও হুমকি দেয়া হয়েছে নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে গত চার বছরই ক্যাম্পাস ছাড়া করে রেখেছে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা এ ব্যাপারে ভিসির সাথে কথা বলতে চাইলে ভিসি অফিসের কাছেই ছাত্রদলের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর প্রাকাশ্যে হামলা করে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ একইভাবে শিবিরের ওপর হামলা করে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন প্রক্টোরিয়াল বডির ছয় সদস্য। সিলেট এমসি কলেজ থেকে ছাত্রশিবির বিতাড়নের নামে ছাত্রলীগ ঐতিহ্যবাহী কলেজটির ছাত্রাবাসের চারটি ভবনের শতাধিক ক জ্বালিয়ে দেয়। সবচেয়ে নৈরাজ্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ছিল গত বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো বুয়েটে দলীয় পরিচয়ে ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের ফলাফল টেম্পারিংসহ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার আশ্রয় নেয়া হয়। প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন ও বিভাগীয় প্রধানগণ গণপদত্যাগের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে সব অনিয়মকেই সমর্থন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকপর্যায়ে স্বীকৃত দেশের একমাত্র উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকেও করে ফেলা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ ।
নিয়োগবাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) অচল ছিল প্রায় চার মাস। পরীা স্থগিত হয়েছে সাড়ে তিন শ’। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন সাধারণ শিক ও শিার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় প্রাণ হাগ্রণ দুই শিবির নেতা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ অক্টোবর ছাত্রলীগ হামলা চালায় ছাত্রশিবিরের ওপর। পদ্মা সেতুর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক সোহেল রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন মারা যান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। দলাদলি আর নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা জটিলতায় বছরজুড়ে ছিল এখানে অচলাবস্থা। শিক্ষক-ছাত্রদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। নতুন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।
রাজধানীতে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টিতেই সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রতিনিয়তই সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই ১১ বার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা হয়েছে। এ কারণে তিন দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া লাগাতার অচলাবস্থা ছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। টেন্ডার ও চাঁদাবাজির সুযোগের দাবিতে ছাত্রলীগ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদেরও অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে অন্যতম।
ছাত্রলীগের নৃশংসতার সর্বশেষ নজির হচ্ছে গত ৯ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশে হরতালের মধ্যে বিশ্বজিৎ দাস নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি ও রড দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা।
সাগর-রুনি ও বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড
আবু সালেহ আকন
থেমে গেছে বহুল আলোচিত সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন সাতজনের গ্রেফতারের কথা বলা হলেও এখন তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না সংশ্লিষ্টরা। তবে একটি সূত্র বলেছে, পাঁচজন গ্রিলকাটা চোর এবং রুনির পরিচিত তানভীর রহমান আবীর ও নিরাপত্তা কর্মী পলাশ রুদ্র পালসহ সাতজনের ডিএনএ প্রসেস ও কিছু আলামতের রিপোর্ট পেতে বিলম্বের কারণে পিছিয়ে গেছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা রহস্য উদঘাটনের তদন্ত কার্যক্রম। প্রায় আড়াই মাস আগে সাতজনের ডিএনএ নমুনা এবং কিছু আলামত প্রসেসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাইভেট ল্যাবে পাঠানো হলেও এখনো কোনো খবর নেই। এ দিকে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য ব্যাপক আলোচিত হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেও প্রায় ১১ মাসেও উদঘাটন হয়নি সাগর-রুনি হত্যার রহস্য।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস পরে ডা: নারায়ণ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্তত সাতজনকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ হয় মামলার তদন্তকারী সংস্থার। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সাথে গ্রেফতার করা হয় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর এবং বাড়ির দারোয়ান রুদ্রপালকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর এই সাতজনকে সাগর-রুনির সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ সাগর-রুনির পরিবার এবং তাদের সহকর্মীরা। তাদের অভিযোগ আসল ঘটনা আড়াল করতেই নাটক সাজানো হচ্ছে। আসল খুনিদের বাঁচাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্যদের।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ৫৮/১/২ নম্বর পশ্চিম রাজাবাজারের বহুতল ভবন ‘রশিদ লজ’ নামে ভাড়া ফ্যাটে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। পর দিন তাদের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পর চাঞ্চল্যকর এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যারহস্য উদঘাটনে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তের জন্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) দায়িত্ব দেন। র্যাব সাত মাস ধরে তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এ দিকে সাংবাদিকেরা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সাতজনকে সন্দেহভাজন গ্রেফতার হিসেবে উল্লেখ করে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশ্বজিৎ হত্যা : প্রকাশ্যে কুপিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনাটি কিছুটা ব্যতিক্রমী। যার সাথে জড়িত রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করা যুবকেরা। অনেকে আবার অনার্স বা মাস্টার্সে পড়ছেন। তারা সবাই সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের চোখের সামনে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নিরীহ যুবক বিশ্বজিৎ দাসকে। এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা বলেছে, বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে যারা রাস্তায় নামবে তাদের শায়েস্তা করার অংশ হিসেবেই বিশ্ববিজৎকে তারা হত্যা করে।
গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন রাজধানীর ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে বিশ্বজিৎ দাস নামে ওই ব্যবসায়ী যুবককে হত্যা করে। সকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি মিছিল বের হলে সেই মিছিলে হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগ ধর ধর বলে চিৎকার করে ওঠে। এতে সাধারণ পথচারীরা তখন দৌড়ে পালায়। বিশ্বজিৎ স্থানীয় একটি কিনিকের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে উঠে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। বিশ্বজিতের বাসা লক্ষ্মীবাজারে। সেখান থেকে হেঁটে তিনি শাঁখারী বাজারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন।
বিশ্বজিতের খুনিরা ধরা পড়ে যায় ক্যামেরায়। ঘটনার পর খুনিদের ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে শনাক্ত করা হয় অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে। যাদের মধ্যে কেউ কেউ কুপিয়েছে, কেউ লাঠি বা রড দিয়ে পিটিয়েছে, কেউ কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছে। আবার অনেকে মারতে গিয়েও সুযোগ না পেয়ে চলে গেছে। পুলিশ এই খুনিচক্রের মধ্যে সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রাশেদুজ্জামান শাওন, এইচএম কিবরিয়া, কাইউম মিয়া টিপু, সাইফুল ইসলাম ও এমদাদুল হক। তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী। আরো চারজনকে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাকিল, নাহিদ, শাওন ও এমদাদুল হক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বাকি তিনজন এখনো পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯ জনের ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল করেছে। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, এই ঘটনায় ওবায়দুল কাদের তাহসিন, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, জনি, শিপলু, রাজন চন্দ্র তালুকদার, মেহেদী হাসান, রফিকুল ইসলাম ওরফে কালা রফিক, আজিজুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, পাভেল হাসান, আলাউদ্দিন, মোস্তফা ও তমালসহ আরো বেশকিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্বীকারোক্তিতে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নির্দেশেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
তাজরীনের কান্না
জিয়াউল হক মিজান
বছরজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের অনেক ঘটনাই ঘটেছে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কিংবা যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন অনেক তৈরী পোশাক শ্রমিক। কিন্তু ২১ নভেম্বর রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা। নিহত ১২১ শ্রমিকের স্বজনদের পাশাপাশি এ ঘটনা কাঁদিয়েছে পুরো দেশবাসীকে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এ ঘটনায় একটি দায়সারা তদন্ত হলেও সরকারের আগাম ‘ষড়যন্ত্র’ ঘোষণায় প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে গেছে আর দশটি ঘটনার মতোই।
তাজরীন অগ্নিকাণ্ড কেবল ১২১ শ্রমিককে পুড়ে অঙ্গারই করেনি, এ ঘটনায় পুড়েছে রফতানি আয়ে ৭৮ শতাংশ অবদান রক্ষাকারী বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতের ভাগ্যও। ঘটনার পর বিশ্বখ্যাত চেইন স্টোর ওয়ালমার্ট বাংলাদেশে তার চলমান কার্যাদেশ বাতিল করেছে। নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের শ্রমপরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওগুলো। আরেকবার গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত ভালো করলে যাদের স্বার্থ ুণœ হয় সেসব রফতানিকারক দেশও। সর্বোপরি বিশ্বমন্দা এবং চীনাদের ব্যবসায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পোশাক খাতের যে অবিস্মরণীয় ও ঝলমলে উত্থান দেখা দিচ্ছিল তাতে ছাই দিয়েছে এই তাজরীন অগ্নিকাণ্ড।
বিভিন্ন স্তরের উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাজরীন ফ্যাশনসের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্ভাবনাময় এ শিল্পে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। নড়েচড়ে বসেছে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর ও শ্রম অধিদফতরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাঁচ সহস্রাধিক উদ্যোক্তার মাঝে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছে এ শিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। তবে যে কারখানাকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা সেই তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জোর তৎপরতায় তাকে রক্ষা করেছেন বিজিএমইএ নেতারা।
গার্মেন্ট মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকে তারা এখন বিভিন্ন আতঙ্কে ভুগছেন। কোন কর্তৃপক্ষ কখন এসে কারখানা বন্ধ করে দেয়, কখন পুলিশ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, কখন উত্তেজিত শ্রমিকেরা এসে কারখানা ভাঙচুর করেনÑ এমন আতঙ্ক এখন সবার মাঝে। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জয়দেবপুরের ডটকম সোয়েটার ফ্যাক্টরির উদ্যোক্তা শামীম আহমেদ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, সারা জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে কারখানা করে আমরা এখন আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এমনিতেই আমরা সঙ্কটে আছি। তার ওপর নতুন করে আগুনভীতি আমাদের চরম হতাশায় ফেলেছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে মালিকদের ব্যাংকঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পমালিকদের মাঝে সৃষ্ট হতাশা দূর করে তাদের মাঝে সাহস জোগানোর লক্ষ্যে পরের সপ্তাহে বিশেষ সাধারণ সভা ডাকে বিজিএমইএ। নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। দীর্ঘ এ সভায় প্রচারমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও দায়ী করা হয়। সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, পোশাক শিল্প খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনে বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখবে। বন্ধ করতে না পারলেও যেসব কারখানায় কাজের উপযুক্ত পরিবেশ থাকবে না সেগুলোর ইউডি ইস্যু বন্ধ করে দেবে বিজিএমইএ। পাশাপাশি সব শ্রমিকের জন্য সার্ভিস বুক চালু করা, শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গঠন করা, ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংসদ-বিচার বিভাগ মুখোমুখি
ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া
বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিককে কেন্দ্র করে সংসদ ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ২০১২ সালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হাইকোর্ট সংলগ্ন সড়ক ভবন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বহুল আলোচিত এই বিচারপতির একটি আদেশের বিষয়ে সংসদে মন্তব্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হন স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট।
সংসদের ১৩তম অধিবেশনে গত ২৯ মার্চ স্পিকার বিচারপতি মানিকের আদেশের ব্যাপারে মন্তব্য করেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে সড়ক ভবন সরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে এক সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণীর ইতি টানতে গিয়ে স্পিকার বলেন, দেশের একটি সুপ্রিম পাওয়ার যদি এ রকম আচরণ করে, তড়িঘড়ি করে সরকারের একটি বিভাগকে এভাবে সরিয়ে দেয় তা হলে পুরো সরকারই প্যারালাইজড হয়ে যাবে। দেশের অন্য মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে এটি ভালো দেখায় না। কোর্টের বিচারে (রায়ে) জনগণ যদি ুব্ধ হয় তাহলে বিচারকের বিরুদ্ধে এক সময় রুখে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, সবাই যদি মনে করি ক্ষমতা পেয়েছি বলে যা ইচ্ছা তাই করব, এটা ঠিক নয়।
স্পিকারের এই বক্তব্যের পর গত ৫ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিক স্পিকার ও সংসদ সম্পর্কে হাইকোর্টের বেঞ্চে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি স্পিকারের বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি স্পিকারের যোগ্যতা ও অ্যাডভোকেটশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় তার প্রতিক্রিয়ায় সংসদে মহাজোটের সিনিয়র সদস্যরা এর প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এই বিচারপতিকে ‘স্যাডিস্ট’ মন্তব্য করেন। এই বিচারপতি সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং প্রকারান্তরে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের অপমান করেছেন বলে মন্তব্য করে তারা এই বিচারপতিকে অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাতে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন। গত ১৮ জুন স্পিকার এ ব্যাপারে রুলিং দেন। তাতে তিনি বলেন, বিচারপতি মানিক সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার বক্তব্য অশোভন ও ব্যক্তিগত আক্রমণপ্রসূত। তিনি বিষয়টি প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন।
পরে স্পিকারের রুলিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। আর এতে একটি বেঞ্চ খোদ স্পিকারের রুলিংকেই অবৈধ ঘোষণা করে রুলিং দেন। ১৪তম অধিবেশনে ৪ সেপ্টেম্বর পয়েন্ট অব অর্ডারে এ নিয়ে আবার বিচার বিভাগের সমালোচনামুখর হন মহাজোটের সংসদ সদস্যরা। এ দিন সংসদ সদস্যরা বলেন, বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিচারপতিদের ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা আবার সংসদের ওপর ফিরিয়ে আনার অনুচ্ছেদ ৯৬ সংবিধানে ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান। তারা স্পিকার সম্পর্কে ‘অশালীন’ মন্তব্যকারী বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিকের অপসারণ করার দাবি জানান। তারা স্পিকার এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে তার বক্তব্য দেবেন বলে জানান।
তারপর সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। সংসদের ১৫তম অধিবেশনে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন এটা আপিল বিভাগের অবজারবেশন। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর পরই বক্তব্য দেবেন বলে স্পিকার জানান।
হুমায়ূনের বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষকে আনন্দ দেয়ার মধ্যেই যিনি নিজের জীবনের সুখ খুঁজে পেতেন, সেই কিংবদন্তি লেখক-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ বিদায়ী বছরে ৬৪ বছর বয়সে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বেলভ্যু হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ২৪ জুলাই অনেক তর্কের পর তাকে নূহাশপল্লীতে দাফন করা হয়। সেই সাথে তার ভাই মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কথায় ‘হুমায়ূন অধ্যায়ের সমাপ্তি’। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর কতুবপুর গ্রামে তার জন্ম। তার কথায় মধ্য রাতে জন্ম তার। ‘মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে’ বলে ২০১১ সালের প্রকাশিতবাদশাহ নামদার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন সময় ঘনিয়ে আসছে।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১১ সালে তিনি বলেছিলেন, মৃত্যু এলে মানুষ বুঝতে পারে। শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ার জন্য একটা প্রস্তুতি শুরু হয়। মানুষের মৃত্যুর সময় তার শরীরের প্রতিটি কোষ মরে যায়, সে বুঝতে পারে, এখনই তার মৃত্যু হবে। মৃত্যুর ঠিক এক ঘণ্টা আগেও তিনি লিখতে চেয়েছেন। বলেছেন, একটি লাইন লিখে যেতে চান। সে একটি লাইন কী? তাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন বলে সাক্ষাৎকারে অর্চিকে জানিয়েছেন। তবে বেলভ্যু হাসপাতালে অচেতন থাকার আগে তিনি কোনো লেখা লিখে যেতে পারেননি। বলে যেতে পারেননি শেষ লাইনটি কী। মানুষ হয়তো সব সময় তার সব চাওয়া পূর্ণ করে যেতে পারেন না।
সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ূন আহমেদ তার লেখালেখি শুরু করেছিলেন ছাত্রজীবনে। নন্দিত নরকে তার প্রথম গ্রন্থ, যেটি প্রথম খবরের কাগজে প্রকাশিত হলে আহমদ ছফা এ গল্পটটি খুব পছন্দ করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। খান ব্রাদার্স থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এর ভূমিকা লিখেছেন পণ্ডিত আহমদ শরিফ। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। বাংলা কথাসাহিত্যে ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে এক হাতে টেনে তুলেছিলেন তিনি। চার দশকজুড়ে তিনি একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন একুশে পদক। তার লেখা প্রথম নাটক প্রথম প্রহর নওয়াজেশ আলী খান এটি বিটিভির জন্য নির্মাণ করেন। নওয়াজেশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, নাটকটি হাতে পেয়ে আমি তো অবাক। ছোট ছোট বাক্য, ছোট কথা। প্রচারের পর এত সাড়া পেলাম যে তা বলার মতো নয়।
তার শঙ্খ নীল কারাগার সিনেমায় রূপান্তর করা হয়। মুস্তাফিজুর রহমান এটি নির্মাণ করেন। এরপর তিনি নিজেই আগুনের পরশমণি নির্মাণ করেন। তার বক্তব্য দেশে এত বড় একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেলো, অথচ এ নিয়ে ভালো কোনো চলচ্চিত্র হলো না। তাই আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি করি। এটা বলব না যে আমি অনেক বড় কিছু করে ফেলেছি। তবে একটা ভালো কিছু করার চেষ্টা আমার ছিল।
গানের প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সুযোগ পেলেই নূহাশপল্লীতে বাউল গানের আসর বসাতেন। হুমায়ূন আহমেদের কারণে উকিল মুন্সী, বিদিতলাল দাস, হাছন রাজা, গিয়াউদ্দিন ও বাউল শাহ আবদুল করিমের মতো অনেকের গান আজ দেশে জনপ্রিয়। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রতি হুমায়ূন আহমেদের এক ধরনের টান ছিল। তিনি হাছন রাজার গানকে জনপ্রিয় করার অন্যতম প্রধান নেপথ্য কারিগর।
হুমায়ূন আহমেদ মরমি ধাঁচের গান বেশি পছন্দ করতেন। তার অন্যতম প্রিয় গান ছিল ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’। চলে যায় বসন্তের দিন গ্রন্থে সূচনাতে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘আমার একটি খুব প্রিয় গান আছে, গিয়াসউদ্দিন সাহেবের লেখা ‘মরণ সঙ্গীত’Ñ ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ প্রায়ই ভাবি আমি মারা গেছি, শবদেহ বিছানায় পড়ে আছে, একজন কেউ গভীর আবেগে গাইছেÑ ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’।
১৯৭৩ সালে হুমায়ূন আহমেদ প্রভাষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালেই তিনি বিয়ে করে গুলতেকিন খানকে। ২০০৩ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২০০৫ সালে হুমায়ূন মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। কোনো দলের হয়ে কোনো কথা বলেননি হুমায়ূন। তিনি ছিলেন সব সময় নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই বলে সমসাময়িক প্রসঙ্গ যে তিনি এড়িয়ে গেছেন তা নয়। তার লেখায় তার স্পষ্ট আভাস রয়েছে। হুমায়ূন নিজেই বলেছেন, ‘আমার কাছে মানবিক সম্পর্ক রাজনীতির চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়।’ তাই আমি সারাজীবন মানুষকে নিয়ে কাজ করেছি। যত দিন বাঁচি তা-ই করতে চাই। মানুষের দুঃখ-বেদনা, কান্না-হাসির ভেতর দিয়ে তিনি নতুন এক সমাজের ছবি আঁকতে চেয়েছেন। বলেছেন নিজের মতো করে সমাজের কথা। মধ্যবিত্ত পরিবারের সংস্কৃতি, টানা পড়েন ও মূল্যবোধ ঘিরেই তার সাহিত্য আচ্ছন্ন। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো ধরনের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। পরোক্ষভাবেও কাউকে তিনি প্রশ্রয় দিতেন না। এমনকি যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করেছে, তিনি জীবিত থাকতে কোনো দিন তাদের ছায়াও মাড়াননি।
রামেন্দু মজুমদার বিদায়ী বছরের ২৮ জুলাই নাগরিক শোক সভায় বলেন, ‘হুমায়ূন অনেক সময় আমাদের আন্দোলনে যুক্ত হননি। একবার একটা বিবৃতিতে তার সই নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সই করেননি। মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাদের আন্দোলনে যুক্ত না হলেও তার লেখা দিয়ে আমাদের আন্দোলনের সহযোগী হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্ম সেতু কেলেঙ্কারি জন্য নিজ দলের কলঙ্ক সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক বললেও ড. ইউনূসকে বলেছেন বিশ্বাসঘাতক। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এতে অবশ্য সরাসরি ড. ইউনূসের নাম বলা হয়নি। পরে অবশ্য এর সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে ড. ইউনূস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। বলেছেন, হিলারির সাথে তার বন্ধুত্বের কারণে এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সরকার বরাবরই চেষ্টা করে আসছিল ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরানোর পরও তার যে প্রভাব রয়েছে তা কমানোর জন্য। সেটি করতে ব্যর্থ হয়ে আগস্ট মাসে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ বদলে ফেলা হয়। এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের ক্ষমতা পর্ষদের কাছ থেকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসে চেয়ারম্যান তার ক্ষমতাবলে পর্ষদের মতামত ছাড়াই একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। যেখান থেকে পরে পর্ষদের ঋণগ্রহীতাদের ভোটে নির্বাচিত সদস্য তাহসিনা পদত্যাগ করেন। এরপর এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে নতুন করে আরেকজন সদস্য নিয়োগ ছাড়াই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে তাহসিনা আদালতে গেলে এমডি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। বর্তমানে সে স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে। তবে ড. ইউনূসের আয়ের ওপর সরকারের তদন্ত চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো অনিয়ম ধরতে পারেনি সরকার।
রামুকাণ্ড : রামুকাণ্ডের আসল ঘটনা আড়ালেই থেকে গেছে। ঘটনার পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর সরকারবিরোধীদের এর জন্য দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রামু সফর করে একই কথা বলেন। সর্বশেষ জমা হওয়া সরকারি তদন্ত রিপোর্টেও ক্ষমতাসীন দলের মতের প্রতিফলন ঘটেছে।
রামুকাণ্ডের পর ওই এলাকা ঘুরে প্রায় সবাই বলেছেন, এ ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতা ও পুলিশ বাহিনীর নির্বিকার ভূমিকার কারণে ঘটেছে। এমনকি সরকারসমর্থক আইনজীবীরা ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে আইনজীবীরা এবং মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও রামু ঘুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ ছিল।
পুলিশের তদন্তের মূল ভিত্তি হলো মুক্তাদির। যাকে পুলিশ পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ছাত্রশিবির কর্মী বলে। অথচ তার মা সাজেদা বেগম নয়া দিগন্তকে বলেছেন, তার ছেলে কোনো সময়ই রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। শিবির তো দূরের কথা, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেও তার কোনো রকমের সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে ঘটনা সম্পর্কে যে প্লট তৈরি করা হয়েছে, তাতে অগ্রভাগেই আছেন তোফায়েল আহমেদ। ২৮ সেপ্টেম্বর মোক্তাদির তার বাড়িতে যান। সেখানে একটি বৈঠক হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তম বড়–য়ার ফেসবুকে যে কুরআন অবমাননার ছবি যুক্ত করা হয়েছে তা মুক্তাদিরই ছড়ানো। কিন্তু যার দোকান থেকে এটি ছড়ানো হয় যে ফারুকের ভাষ্য মতে, সন্ধ্যার কিছু পর মুক্তাদির তার দোকানে আসে। মুক্তাদিরের মায়ের ভাষ্য মতে, সেটি সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা। এরপর অতি অল্প সময়ে কিভাবে তিনি রামু উপজেলাজুড়ে এ ছবির প্রচার করলেন সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ঘটনা ছড়িয়েছেন মুক্তাদির। সেই মুক্তাদির শিবিরকর্মী। তবে বাস্তবে সে আওয়ামী লীগ নেত্রীর সন্তান এবং নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে কিছুটা জড়িত।
উত্তম বড়–য়ার ফেসবুকে কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে এ হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সে বিষয়েও তদন্ত প্রতিবেদেন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। বলা হয়েছে, উত্তম আত্মগোপনে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ তার মা ও মাসিকে হেফাজতে নিলেও পরে আদালতের নির্দেশে ছেড়ে দেয়।
১৭ অক্টোবর প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা ও প্রশাসনের ন্যক্কারজনক ব্যর্থতার অভিযোগ আড়াল করার জন্যই এখন রোহিঙ্গাদের অন্যায়ভাবে দায়ী করার চেষ্টা চলছে। অধিকার এই অসমর্থিত তথ্য ও অন্যায় অভিযোগকে মিয়ানমারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের জন্য ভয়ানক বিপজ্জনক বিষয় বলে মনে করে।
অধিকার বলেছে, শুধু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, একই সাথে বাংলাদেশে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্যও তা বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। রোহিঙ্গারা এই ঘটনায় জড়িত ছিল প্রমাণ করার জন্য তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হতে পারে।
স্থানীয়রা নয়া দিগন্তকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ার দিকে মিছিলটি বের হয় ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, আমজাদ হোসেন, জিন বাবু ও রুস্তম আলীর নেতৃত্বে। ওই মিছিলটি বৌদ্ধমন্দির এলাকা ঘুরে আসে। সেখান থেকে ফিরে তারা রামু চৌমুহনী বাজারের চৌরাস্তায় মিলিত হয়। সেখানে দেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সারোয়ার কাজল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুশরাত জাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ ও স্থানীয় থানার ওসি নজিবুল ইসলাম। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান ইউএনওর ফোন পেয়ে যান। তিনিও ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ওই সমাবেশ চলাকালে চৌমুহনী বাজারের পাশে বিহার রোড়ের শ্রীকুল এলাকায় সাদা চিং বিহার ও লাল চিং বিহার মন্দিরে হামলা শুরু হয়। লুৎফর রহমান বলেছেন, তিনি এ হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে স্থানীয়রা বলেছেন, মিছিল, সমাবেশ ও হামলার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে ছিলেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা।
সুরঞ্জিতের কালো বিড়াল
ফজলুল হক শাওন
মহাজোট সরকারের গেল বছরটি (২০১২) ছিল ঘটনাবহুল। এ বছরটিকে অনেকে আর্থিক কেলেঙ্কারির বছর বলে মন্তব্য করছেন। অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারির মধ্যে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ছিল অন্যতম। গেল বছরের ৯ এপ্রিল রাতে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের বাসায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি গেটে এপিএস ওমর ফারুক ধরা পড়েন। এ ঘটনার তদন্তে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দোষী প্রমাণিত না হলেও তার মন্ত্রিত্ব চলে যায়। রেলে চাকরি দেয়ার নামে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ায় তা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার কথা বলে সুরঞ্জিত নিজেই হয়ে গেলেন কালো বিড়াল।
মজার বিষয় ছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন জাতীয় সংসদে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংসদে দাঁড়িয়ে সুরঞ্জিত বলেন, দুর্নীতির কালো বিড়ালটি কোথায় সেটি খুঁজে বের করতে হবে। তিনি শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, দরবেশ-আউলিয়া বলে আখ্যায়িত করেন। এ বক্তব্যে মূলত শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির সাথে দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাসীন কয়েকজন নেতার কথা বলেন তিনি আকার ইঙ্গিতে। রেলের ঘুষ কেলেঙ্কারির খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ঘটনার জন্য ধমকান এবং তাকে পদত্যাগ করার কথা বলেন। পদত্যাগ করলেও পরে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়। যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত লাগামহীনভাবে মানুষের সমালোচনা করেন, মুখ ভেংচিয়ে বক্তব্য রাখেন সেই ব্যক্তি ঘুষ কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়ে এক মাস ঘরে বসে থাকেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে ধরা পড়লেও এ প্রসঙ্গে অনেকেই অনেক কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁয়, গাড়িতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে মুখরোচক আলোচনা হয়। এ ঘটনার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে অনেকে ‘কালো বিড়াল’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। নেতারা বলেন, সুরঞ্জিত এখন আওয়ামী লীগের বোঝা। এই লোকটি দল ও সরকারের চরম ক্ষতি করল। নিজেও ডুবল দলও ডুবাল। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধারের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যতটুকু সোচ্চার ছিল সুরঞ্জিতের ঘটনার পর সরকার আর ততটুকু সোচ্চার থাকতে পারবে কি না তা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা হয়।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগী মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে আমি নির্দোষ। তদন্ত কমিটি আমার কোনো দোষ খুঁজে পায়নি। এর আগে পদত্যাগ করার সময় আমি বলেছিলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকব। সে কারণে গত এক মাস রাজনীতি, সমাজনীতি সব কিছু থেকেই বিরত ছিলাম। তদন্ত শেষ হয়েছে তাই এক মাস এক দিন পর আমি আবার রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আমার; আর মন্ত্রিত্বের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেনের দুর্নীতি নিয়েও মিডিয়ায় প্রচার প্রচারণা চলে এ বছর। পত্রপত্রিকায় প্রচার হয়, তাকে টেলিকমিউনিকেশন্স লাইসেন্স দেয়ায় সরকারের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
ইলিয়াস আলী গুম
মঈনউদ্দিন খান
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২০১২ সালজুড়েই ছিল সরকারের রোষানলে। মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। আর জেলের ঘানি টেনেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। এপ্রিল ও ডিসেম্বরে দু’টি বড় কর্মসূচিতে নিহত হয়েছেন আটজন নেতাকর্মী। বিপক্ষের হামলা-গুলিতে বছরজুড়ে সারা দেশে নিহত হয়েছেন আরো কয়েকজন নেতা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহালের দাবিতে বিএনপি এ বছর বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা আসেনি।
২০১২ সালের শুরুতেই ৯ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ করেন খালেদা জিয়া। ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় গণমিছিল ও ১২ মার্চ ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১২ জানুয়ারি ওই সংলাপে খালেদা জিয়া সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা আবার বহালের দাবি জানান।
২৯ জানুয়ারি সারা দেশে বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচি নিয়ে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়ায় বিএনপি গণমিছিল এক দিন পিছিয়ে ৩০ জানুয়ারি করে। ওই দিন সারা দেশে পুলিশের গুলিতে চারজন বিএনপি কর্মী নিহত হন।
ঢাকায় ১২ মার্চের মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকার লঙ্কাকাণ্ডের জন্ম দেয়। সমাবেশের তিন দিন আগে থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। লঞ্চ, বাস, ট্রেন সব বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজধানীর হোটেলগুলোতে থাকার ওপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তার পরও সমাবেশ ঘিরে নামে জনতার ঢল। ওই সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক বহালে তিন মাসের আলটিমেটাম দেয়া হলেও তা আমলে আনেনি সরকার।
৮ এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভা থেকে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর কিছু দিন পরই গুম হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী। ১৭ এপ্রিল মধ্য রাতে ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর থেকে রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি টানা হরতালের পথ বেছে নেয়। সারা দেশে তৈরি হয় সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি। সরকার হার্ডলাইন নিয়ে বিরোধী দলের ওপর মামলা-হামলা শুরু করে। হরতালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানো মামলায় বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নজিরবিহীনভাবে জেলে ঢোকানো হয়। এ দফায় জেল খাটেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, হান্নান শাহ, গয়েশ্বর রায়, সাদেক হোসেন খোকা, আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলুসহ বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতারা।
৭ জুন তাদের বেশির ভাগের মুক্তির পর ১১ জুন তরিকুল ইসলামের সমন্বয়ে ঢাকায় ফের সমাবেশ করে ১৮ দলীয় জোট। এপ্রিল-মে মাসজুড়েই চলে বিরোধীদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারপ্রক্রিয়া।
এরপর রমজান চলে আসায় আন্দোলনে আসে অবকাশ। কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেয় বিএনপি। ১৪ অক্টোবর সাত দিনের সফরে চীনে যান খালেদা জিয়া। পরে ২৯ অক্টোবর সাত দিন ভারত সফর করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
দুই দেশ সফরের পর আবার আন্দোলনমুখী হয় বিএনপি। ২৮ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হয় ১৮ দলের। ওই সমাবেশ থেকে ৯ ডিসেম্বর সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়, যা ছিল চার বছরের মধ্যে বিরোধী দলের সবচেয়ে শক্ত কর্মসূচি। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের চার নেতাকর্র্মী নিহত হন। এরই জের হিসেবে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতার হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখনো জেল খাটছেন তিনি। নতুন বছরে বিএনপি আন্দোলনে আরো বেশি আক্রমণাত্মক হবে, এমন কথা বলছেন দলের নেতারা।
পদ্মা সেতু ও আবুল কাহিনী
সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বিবেচনা করা যায় পদ্মা সেতু প্রকল্পকে। অর্থের সংস্থান রয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু, এই মানুষেরা সব সময় ভেবে এসেছেন কবে পদ্মা নদীর ওপর সেতু হবে, কবে তাদের যাত্রা নিরাপদ ও দ্রুত হবে, কবেই বা তারা সেতুর দাক্ষিণ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া পাবেন। প্রায় সব সরকারই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ করার। আর এসব কারণে ২০০৪ সালে প্রথম সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়। ২০০৪ সালে বিস্তারিত সমীার পর মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরামর্শ দেয় জাপানি সংস্থা জাইকা। সে অনুযায়ী কাজও এগিয়ে চলে। ২০০৭ সালে ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন করা হয়।
২০০৯ সালের ৯ জানুয়ারি বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করে। ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় নকশা প্রণয়নের কাজ। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে সরকার আলোচনা চালিয়ে যায় অর্থ পাওয়ার আশায়। এক সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সরকার। কিন্তু এতে আপত্তি দেয় বিশ্বব্যাংক, প্রত্যাহার করে নেয়া হয় দরপত্র। ২০১০ সালে ১১ অক্টোবর আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। তারপরের বছর ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি সেতু প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়। একই বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ১২০ কোটি ডলারে ঋণ চুক্তি অনুমোদন করা হয়।
২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির একটি গোপন তারবার্তা ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস। সেখানে মরিয়ার্টি যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেন, এই লোকটির সততায় ঘাটতি রয়েছে (দিজ পারসন ইজ লেস দেন অনেস্ট)। মানুষের পারসেপসন্স বলে একটি কথা রয়েছে, এই পারসেপসন্স বলে আবুল হোসেন সৎ ব্যক্তি নন। কারণ ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দু’টি পাসপোর্ট ব্যবহার করায় তার মন্ত্রিত্ব তখন খোয়া যায়।
আবুল হোসেন সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মূল সেতু ও তদারকি পরামর্শক নিয়োগ বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এখানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এসএনসি লাভালিন নামে একটি কানাডিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কিছু পদস্থ কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বব্যাংকের এই চিঠিতে তিনজন লোকের নাম উল্লেখ করা ছিল। এরা হলেন, যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, তৎকালীন সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি টাকা। সরকার প্রথম দিকে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির এই অভিযোগকে পাত্তাই দিতে চায়নি। পরে চাপে পড়ে ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ অক্টোবর সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু বহাল তবিয়তেই রয়ে যান আবুল হোসেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সাথে সুসস্পর্ক থাকার কারণে তার এই টিকে থাকা। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। কারণ দুর্নীতির তদন্ত না করার কারণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সেতু প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়।
সরকার যখন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসেনি, তখন গত ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। এরপর বিশ্বব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি পুনবর্হালের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে সরকার। পরে বিশ্বব্যাংক ২১ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেয় তারা নতুন করে পদ্মা সেতুতে সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েেেছ।
এরপর পদ্মা সেতু নিয়ে দুদক পরিচালিত দুর্নীতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল বাংলাদেশে দু’দফা সফর করে। এর নেতৃত্বে ছিল হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি লুই গ্যাব্রিয়াল ওকাম্পো। দুদকের সাথে আলোচনায় প্যানেলটি সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও এসএনসি লাভালিনের লবিস্ট আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করে। কিন্তু দুদক এ দু’জনকে বাদ দিয়েই গত মাসে মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে বিশ্বব্যাংক এখনো বলেনি তারা এ সেতুতে অর্থায়ন করবে কি না।
ব্যাংক কেলেঙ্কারি
আশরাফুল ইসলাম
দেশের ব্যাংকিং খাতে স্মরণকালের ভয়াবহতম কেলেঙ্কারি হয়েছে বিদায়ী বছরে। ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় চার হাজার কোটি টাকা। হলমার্ক নামক একটি অখ্যাত কোম্পানি সোনালী ব্যাংক থেকে এ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় বিদায়ী বছরটিতে। এর সাথে জড়িয়ে পড়ে আরো ২৬টি বেসরকারি ব্যাংক। এর বাইরে আরো এক হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ধরে পড়ে সোনালী ব্যাংকে। তা ছাড়া জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও কৃষি ব্যাংক থেকেও কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি উদঘাটন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অগ্রণী ব্যাংকের সরকার সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের ১০০ বস্তা ফাইল গায়েব করা, রাজনৈতিক বিবেচনায় আবারো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগ, বিদেশী ঋণদানকারী সংস্থা, সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ৯ রাজনৈতিক ব্যাংকের অনুমোদনের মতো ঘটনাগুলো দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আলোচনায় ছিল সারা বছর।
ব্যাংক খাতের অভিশাপ হলমার্ক : চীনের দুঃখ যেমন হোয়াং হো নদী, তেমনি ব্যাংক খাতের দুঃখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে হলমার্ক কোম্পানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে অখ্যাত এ কোম্পানিটি সোনালী ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। এর সাথে সোনালী ব্যাংকের প্রায় তিন ডজন কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হলেও নেপথ্যের নায়কেরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের গন্তব্য নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক বা দুর্নীতি দমন কমিশন। হাতিয়ে নেয়া অর্থ দেশে রাখা হয়েছে না বিদেশে পাচার করা হয়েছে, হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, কাদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে তা এখনো অজানা রয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করা হয়নি বলে ওইসব কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পর অর্থমন্ত্রণালয়ের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও সে পরামর্শের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করে অর্থমন্ত্রণালয়। উপরন্তু বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাসময়ে ঋণের অনিয়ম বের করতে না পারার জন্য দোষারোপ করে অর্থমন্ত্রণালয়। এর বাইরে সরকারি মালিকানাধীন প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেই ঋণ কেলেঙ্কারি হয় বিদায়ী বছরে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করা হয়।
১০০ বস্তা ফাইল গায়েব : গত জুন মাসে প্রকাশ্য দিবালকে অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয় থেকে এক শ’ বস্তা ফাইল লিফট দিয়ে নামিয়ে ট্রাকে করে সরিয়ে নেয়া হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন সরকারপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের ছয় সদস্য। নেপথ্যে ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি ফাইল গায়েবের সাথে জড়িতের কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি এত বিশাল ঘটনা ঘটলেও থানায় কোনো মামলা পর্যন্ত করেনি অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এক শত বস্তা ফাইলের মধ্যে বেশ কয়েক বস্তা ফাইল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগ ফাইল আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ছাত্রলীগের তাণ্ডব
আমানুর রহমান
শিক্ষাঙ্গনজুড়ে ২০১২ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ছাত্রলীগ। দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি কলেজে তাদের নৈরাজ্য, অরাজকতা, সন্ত্রাস আর নৃশংসতায় কয়েকজন মেধাবী ছাত্র খুন হন। পুরো বছরই কোনো-না-কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অথবা প্রতিপক্ষের ওপর হামলায় কিংবা কোনো টেন্ডারবাজির কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। শুধু ছাত্রলীগের নৈরাজ্যই নয় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার সমর্থক শিক্ষকদের দলাদলি আর পদ দখল এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। শিক্ষকদের দখলবাজি ও দলীয়-আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি এক ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাবর সম্পত্তিও বিক্রি করে দিয়েছেন। এরূপ হাজারো কারণে শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষার পবিত্র স্থানগুলো কলুষিত হয়েছে। দলীয়করণ আর ছাত্রলীগের অরাজকতায় দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বন্ধ থেকেছে। সাধারণ ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরাও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে প্রতিবাদ মুখর হলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
উচ্চ শিাঙ্গনের নানা অচলাবস্থা নিরসনে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগেরও হুমকি দেয়া হয়েছে নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে গত চার বছরই ক্যাম্পাস ছাড়া করে রেখেছে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা এ ব্যাপারে ভিসির সাথে কথা বলতে চাইলে ভিসি অফিসের কাছেই ছাত্রদলের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর প্রাকাশ্যে হামলা করে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ একইভাবে শিবিরের ওপর হামলা করে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন প্রক্টোরিয়াল বডির ছয় সদস্য। সিলেট এমসি কলেজ থেকে ছাত্রশিবির বিতাড়নের নামে ছাত্রলীগ ঐতিহ্যবাহী কলেজটির ছাত্রাবাসের চারটি ভবনের শতাধিক ক জ্বালিয়ে দেয়। সবচেয়ে নৈরাজ্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ছিল গত বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো বুয়েটে দলীয় পরিচয়ে ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের ফলাফল টেম্পারিংসহ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার আশ্রয় নেয়া হয়। প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন ও বিভাগীয় প্রধানগণ গণপদত্যাগের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে সব অনিয়মকেই সমর্থন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকপর্যায়ে স্বীকৃত দেশের একমাত্র উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকেও করে ফেলা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ ।
নিয়োগবাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) অচল ছিল প্রায় চার মাস। পরীা স্থগিত হয়েছে সাড়ে তিন শ’। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন সাধারণ শিক ও শিার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় প্রাণ হাগ্রণ দুই শিবির নেতা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ অক্টোবর ছাত্রলীগ হামলা চালায় ছাত্রশিবিরের ওপর। পদ্মা সেতুর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক সোহেল রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন মারা যান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। দলাদলি আর নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা জটিলতায় বছরজুড়ে ছিল এখানে অচলাবস্থা। শিক্ষক-ছাত্রদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। নতুন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।
রাজধানীতে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টিতেই সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রতিনিয়তই সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ সহিংস ঘটনা ঘটেছে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই ১১ বার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা হয়েছে। এ কারণে তিন দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া লাগাতার অচলাবস্থা ছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। টেন্ডার ও চাঁদাবাজির সুযোগের দাবিতে ছাত্রলীগ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদেরও অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে অন্যতম।
ছাত্রলীগের নৃশংসতার সর্বশেষ নজির হচ্ছে গত ৯ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশে হরতালের মধ্যে বিশ্বজিৎ দাস নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি ও রড দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা।
সাগর-রুনি ও বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড
আবু সালেহ আকন
থেমে গেছে বহুল আলোচিত সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন সাতজনের গ্রেফতারের কথা বলা হলেও এখন তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না সংশ্লিষ্টরা। তবে একটি সূত্র বলেছে, পাঁচজন গ্রিলকাটা চোর এবং রুনির পরিচিত তানভীর রহমান আবীর ও নিরাপত্তা কর্মী পলাশ রুদ্র পালসহ সাতজনের ডিএনএ প্রসেস ও কিছু আলামতের রিপোর্ট পেতে বিলম্বের কারণে পিছিয়ে গেছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা রহস্য উদঘাটনের তদন্ত কার্যক্রম। প্রায় আড়াই মাস আগে সাতজনের ডিএনএ নমুনা এবং কিছু আলামত প্রসেসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাইভেট ল্যাবে পাঠানো হলেও এখনো কোনো খবর নেই। এ দিকে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য ব্যাপক আলোচিত হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেও প্রায় ১১ মাসেও উদঘাটন হয়নি সাগর-রুনি হত্যার রহস্য।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস পরে ডা: নারায়ণ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্তত সাতজনকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ হয় মামলার তদন্তকারী সংস্থার। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সাথে গ্রেফতার করা হয় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর এবং বাড়ির দারোয়ান রুদ্রপালকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর এই সাতজনকে সাগর-রুনির সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ সাগর-রুনির পরিবার এবং তাদের সহকর্মীরা। তাদের অভিযোগ আসল ঘটনা আড়াল করতেই নাটক সাজানো হচ্ছে। আসল খুনিদের বাঁচাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্যদের।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ৫৮/১/২ নম্বর পশ্চিম রাজাবাজারের বহুতল ভবন ‘রশিদ লজ’ নামে ভাড়া ফ্যাটে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। পর দিন তাদের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পর চাঞ্চল্যকর এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যারহস্য উদঘাটনে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তের জন্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) দায়িত্ব দেন। র্যাব সাত মাস ধরে তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এ দিকে সাংবাদিকেরা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সাতজনকে সন্দেহভাজন গ্রেফতার হিসেবে উল্লেখ করে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশ্বজিৎ হত্যা : প্রকাশ্যে কুপিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনাটি কিছুটা ব্যতিক্রমী। যার সাথে জড়িত রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করা যুবকেরা। অনেকে আবার অনার্স বা মাস্টার্সে পড়ছেন। তারা সবাই সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের চোখের সামনে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নিরীহ যুবক বিশ্বজিৎ দাসকে। এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা বলেছে, বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে যারা রাস্তায় নামবে তাদের শায়েস্তা করার অংশ হিসেবেই বিশ্ববিজৎকে তারা হত্যা করে।
গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন রাজধানীর ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে বিশ্বজিৎ দাস নামে ওই ব্যবসায়ী যুবককে হত্যা করে। সকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি মিছিল বের হলে সেই মিছিলে হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগ ধর ধর বলে চিৎকার করে ওঠে। এতে সাধারণ পথচারীরা তখন দৌড়ে পালায়। বিশ্বজিৎ স্থানীয় একটি কিনিকের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে উঠে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। বিশ্বজিতের বাসা লক্ষ্মীবাজারে। সেখান থেকে হেঁটে তিনি শাঁখারী বাজারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন।
বিশ্বজিতের খুনিরা ধরা পড়ে যায় ক্যামেরায়। ঘটনার পর খুনিদের ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে শনাক্ত করা হয় অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে। যাদের মধ্যে কেউ কেউ কুপিয়েছে, কেউ লাঠি বা রড দিয়ে পিটিয়েছে, কেউ কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছে। আবার অনেকে মারতে গিয়েও সুযোগ না পেয়ে চলে গেছে। পুলিশ এই খুনিচক্রের মধ্যে সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রাশেদুজ্জামান শাওন, এইচএম কিবরিয়া, কাইউম মিয়া টিপু, সাইফুল ইসলাম ও এমদাদুল হক। তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী। আরো চারজনকে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাকিল, নাহিদ, শাওন ও এমদাদুল হক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বাকি তিনজন এখনো পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯ জনের ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল করেছে। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, এই ঘটনায় ওবায়দুল কাদের তাহসিন, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, জনি, শিপলু, রাজন চন্দ্র তালুকদার, মেহেদী হাসান, রফিকুল ইসলাম ওরফে কালা রফিক, আজিজুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, পাভেল হাসান, আলাউদ্দিন, মোস্তফা ও তমালসহ আরো বেশকিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্বীকারোক্তিতে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নির্দেশেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
তাজরীনের কান্না
জিয়াউল হক মিজান
বছরজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের অনেক ঘটনাই ঘটেছে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কিংবা যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন অনেক তৈরী পোশাক শ্রমিক। কিন্তু ২১ নভেম্বর রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা। নিহত ১২১ শ্রমিকের স্বজনদের পাশাপাশি এ ঘটনা কাঁদিয়েছে পুরো দেশবাসীকে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এ ঘটনায় একটি দায়সারা তদন্ত হলেও সরকারের আগাম ‘ষড়যন্ত্র’ ঘোষণায় প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে গেছে আর দশটি ঘটনার মতোই।
তাজরীন অগ্নিকাণ্ড কেবল ১২১ শ্রমিককে পুড়ে অঙ্গারই করেনি, এ ঘটনায় পুড়েছে রফতানি আয়ে ৭৮ শতাংশ অবদান রক্ষাকারী বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতের ভাগ্যও। ঘটনার পর বিশ্বখ্যাত চেইন স্টোর ওয়ালমার্ট বাংলাদেশে তার চলমান কার্যাদেশ বাতিল করেছে। নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের শ্রমপরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওগুলো। আরেকবার গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাত ভালো করলে যাদের স্বার্থ ুণœ হয় সেসব রফতানিকারক দেশও। সর্বোপরি বিশ্বমন্দা এবং চীনাদের ব্যবসায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পোশাক খাতের যে অবিস্মরণীয় ও ঝলমলে উত্থান দেখা দিচ্ছিল তাতে ছাই দিয়েছে এই তাজরীন অগ্নিকাণ্ড।
বিভিন্ন স্তরের উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাজরীন ফ্যাশনসের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্ভাবনাময় এ শিল্পে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। নড়েচড়ে বসেছে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর ও শ্রম অধিদফতরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পাঁচ সহস্রাধিক উদ্যোক্তার মাঝে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছে এ শিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। তবে যে কারখানাকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা সেই তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জোর তৎপরতায় তাকে রক্ষা করেছেন বিজিএমইএ নেতারা।
গার্মেন্ট মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকে তারা এখন বিভিন্ন আতঙ্কে ভুগছেন। কোন কর্তৃপক্ষ কখন এসে কারখানা বন্ধ করে দেয়, কখন পুলিশ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, কখন উত্তেজিত শ্রমিকেরা এসে কারখানা ভাঙচুর করেনÑ এমন আতঙ্ক এখন সবার মাঝে। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জয়দেবপুরের ডটকম সোয়েটার ফ্যাক্টরির উদ্যোক্তা শামীম আহমেদ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, সারা জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে কারখানা করে আমরা এখন আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এমনিতেই আমরা সঙ্কটে আছি। তার ওপর নতুন করে আগুনভীতি আমাদের চরম হতাশায় ফেলেছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে মালিকদের ব্যাংকঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পমালিকদের মাঝে সৃষ্ট হতাশা দূর করে তাদের মাঝে সাহস জোগানোর লক্ষ্যে পরের সপ্তাহে বিশেষ সাধারণ সভা ডাকে বিজিএমইএ। নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। দীর্ঘ এ সভায় প্রচারমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও দায়ী করা হয়। সভা শেষে বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, পোশাক শিল্প খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনে বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখবে। বন্ধ করতে না পারলেও যেসব কারখানায় কাজের উপযুক্ত পরিবেশ থাকবে না সেগুলোর ইউডি ইস্যু বন্ধ করে দেবে বিজিএমইএ। পাশাপাশি সব শ্রমিকের জন্য সার্ভিস বুক চালু করা, শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গঠন করা, ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংসদ-বিচার বিভাগ মুখোমুখি
ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া
বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিককে কেন্দ্র করে সংসদ ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ২০১২ সালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। হাইকোর্ট সংলগ্ন সড়ক ভবন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বহুল আলোচিত এই বিচারপতির একটি আদেশের বিষয়ে সংসদে মন্তব্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হন স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট।
সংসদের ১৩তম অধিবেশনে গত ২৯ মার্চ স্পিকার বিচারপতি মানিকের আদেশের ব্যাপারে মন্তব্য করেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে সড়ক ভবন সরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে এক সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণীর ইতি টানতে গিয়ে স্পিকার বলেন, দেশের একটি সুপ্রিম পাওয়ার যদি এ রকম আচরণ করে, তড়িঘড়ি করে সরকারের একটি বিভাগকে এভাবে সরিয়ে দেয় তা হলে পুরো সরকারই প্যারালাইজড হয়ে যাবে। দেশের অন্য মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে এটি ভালো দেখায় না। কোর্টের বিচারে (রায়ে) জনগণ যদি ুব্ধ হয় তাহলে বিচারকের বিরুদ্ধে এক সময় রুখে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, সবাই যদি মনে করি ক্ষমতা পেয়েছি বলে যা ইচ্ছা তাই করব, এটা ঠিক নয়।
স্পিকারের এই বক্তব্যের পর গত ৫ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিক স্পিকার ও সংসদ সম্পর্কে হাইকোর্টের বেঞ্চে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি স্পিকারের বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি স্পিকারের যোগ্যতা ও অ্যাডভোকেটশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় তার প্রতিক্রিয়ায় সংসদে মহাজোটের সিনিয়র সদস্যরা এর প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এই বিচারপতিকে ‘স্যাডিস্ট’ মন্তব্য করেন। এই বিচারপতি সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং প্রকারান্তরে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের অপমান করেছেন বলে মন্তব্য করে তারা এই বিচারপতিকে অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাতে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন। গত ১৮ জুন স্পিকার এ ব্যাপারে রুলিং দেন। তাতে তিনি বলেন, বিচারপতি মানিক সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার বক্তব্য অশোভন ও ব্যক্তিগত আক্রমণপ্রসূত। তিনি বিষয়টি প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন।
পরে স্পিকারের রুলিং চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। আর এতে একটি বেঞ্চ খোদ স্পিকারের রুলিংকেই অবৈধ ঘোষণা করে রুলিং দেন। ১৪তম অধিবেশনে ৪ সেপ্টেম্বর পয়েন্ট অব অর্ডারে এ নিয়ে আবার বিচার বিভাগের সমালোচনামুখর হন মহাজোটের সংসদ সদস্যরা। এ দিন সংসদ সদস্যরা বলেন, বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিচারপতিদের ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা আবার সংসদের ওপর ফিরিয়ে আনার অনুচ্ছেদ ৯৬ সংবিধানে ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান। তারা স্পিকার সম্পর্কে ‘অশালীন’ মন্তব্যকারী বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিকের অপসারণ করার দাবি জানান। তারা স্পিকার এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে তার বক্তব্য দেবেন বলে জানান।
তারপর সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। সংসদের ১৫তম অধিবেশনে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন এটা আপিল বিভাগের অবজারবেশন। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর পরই বক্তব্য দেবেন বলে স্পিকার জানান।
হুমায়ূনের বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষকে আনন্দ দেয়ার মধ্যেই যিনি নিজের জীবনের সুখ খুঁজে পেতেন, সেই কিংবদন্তি লেখক-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ বিদায়ী বছরে ৬৪ বছর বয়সে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বেলভ্যু হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ২৪ জুলাই অনেক তর্কের পর তাকে নূহাশপল্লীতে দাফন করা হয়। সেই সাথে তার ভাই মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কথায় ‘হুমায়ূন অধ্যায়ের সমাপ্তি’। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর কতুবপুর গ্রামে তার জন্ম। তার কথায় মধ্য রাতে জন্ম তার। ‘মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়েছে’ বলে ২০১১ সালের প্রকাশিতবাদশাহ নামদার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন সময় ঘনিয়ে আসছে।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১১ সালে তিনি বলেছিলেন, মৃত্যু এলে মানুষ বুঝতে পারে। শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ার জন্য একটা প্রস্তুতি শুরু হয়। মানুষের মৃত্যুর সময় তার শরীরের প্রতিটি কোষ মরে যায়, সে বুঝতে পারে, এখনই তার মৃত্যু হবে। মৃত্যুর ঠিক এক ঘণ্টা আগেও তিনি লিখতে চেয়েছেন। বলেছেন, একটি লাইন লিখে যেতে চান। সে একটি লাইন কী? তাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন বলে সাক্ষাৎকারে অর্চিকে জানিয়েছেন। তবে বেলভ্যু হাসপাতালে অচেতন থাকার আগে তিনি কোনো লেখা লিখে যেতে পারেননি। বলে যেতে পারেননি শেষ লাইনটি কী। মানুষ হয়তো সব সময় তার সব চাওয়া পূর্ণ করে যেতে পারেন না।
সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ূন আহমেদ তার লেখালেখি শুরু করেছিলেন ছাত্রজীবনে। নন্দিত নরকে তার প্রথম গ্রন্থ, যেটি প্রথম খবরের কাগজে প্রকাশিত হলে আহমদ ছফা এ গল্পটটি খুব পছন্দ করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। খান ব্রাদার্স থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এর ভূমিকা লিখেছেন পণ্ডিত আহমদ শরিফ। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। বাংলা কথাসাহিত্যে ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে এক হাতে টেনে তুলেছিলেন তিনি। চার দশকজুড়ে তিনি একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন একুশে পদক। তার লেখা প্রথম নাটক প্রথম প্রহর নওয়াজেশ আলী খান এটি বিটিভির জন্য নির্মাণ করেন। নওয়াজেশ স্মৃতিচারণ করে বলেন, নাটকটি হাতে পেয়ে আমি তো অবাক। ছোট ছোট বাক্য, ছোট কথা। প্রচারের পর এত সাড়া পেলাম যে তা বলার মতো নয়।
তার শঙ্খ নীল কারাগার সিনেমায় রূপান্তর করা হয়। মুস্তাফিজুর রহমান এটি নির্মাণ করেন। এরপর তিনি নিজেই আগুনের পরশমণি নির্মাণ করেন। তার বক্তব্য দেশে এত বড় একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেলো, অথচ এ নিয়ে ভালো কোনো চলচ্চিত্র হলো না। তাই আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি করি। এটা বলব না যে আমি অনেক বড় কিছু করে ফেলেছি। তবে একটা ভালো কিছু করার চেষ্টা আমার ছিল।
গানের প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সুযোগ পেলেই নূহাশপল্লীতে বাউল গানের আসর বসাতেন। হুমায়ূন আহমেদের কারণে উকিল মুন্সী, বিদিতলাল দাস, হাছন রাজা, গিয়াউদ্দিন ও বাউল শাহ আবদুল করিমের মতো অনেকের গান আজ দেশে জনপ্রিয়। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রতি হুমায়ূন আহমেদের এক ধরনের টান ছিল। তিনি হাছন রাজার গানকে জনপ্রিয় করার অন্যতম প্রধান নেপথ্য কারিগর।
হুমায়ূন আহমেদ মরমি ধাঁচের গান বেশি পছন্দ করতেন। তার অন্যতম প্রিয় গান ছিল ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’। চলে যায় বসন্তের দিন গ্রন্থে সূচনাতে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘আমার একটি খুব প্রিয় গান আছে, গিয়াসউদ্দিন সাহেবের লেখা ‘মরণ সঙ্গীত’Ñ ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’ প্রায়ই ভাবি আমি মারা গেছি, শবদেহ বিছানায় পড়ে আছে, একজন কেউ গভীর আবেগে গাইছেÑ ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’।
১৯৭৩ সালে হুমায়ূন আহমেদ প্রভাষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালেই তিনি বিয়ে করে গুলতেকিন খানকে। ২০০৩ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২০০৫ সালে হুমায়ূন মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। কোনো দলের হয়ে কোনো কথা বলেননি হুমায়ূন। তিনি ছিলেন সব সময় নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই বলে সমসাময়িক প্রসঙ্গ যে তিনি এড়িয়ে গেছেন তা নয়। তার লেখায় তার স্পষ্ট আভাস রয়েছে। হুমায়ূন নিজেই বলেছেন, ‘আমার কাছে মানবিক সম্পর্ক রাজনীতির চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়।’ তাই আমি সারাজীবন মানুষকে নিয়ে কাজ করেছি। যত দিন বাঁচি তা-ই করতে চাই। মানুষের দুঃখ-বেদনা, কান্না-হাসির ভেতর দিয়ে তিনি নতুন এক সমাজের ছবি আঁকতে চেয়েছেন। বলেছেন নিজের মতো করে সমাজের কথা। মধ্যবিত্ত পরিবারের সংস্কৃতি, টানা পড়েন ও মূল্যবোধ ঘিরেই তার সাহিত্য আচ্ছন্ন। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো ধরনের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। পরোক্ষভাবেও কাউকে তিনি প্রশ্রয় দিতেন না। এমনকি যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করেছে, তিনি জীবিত থাকতে কোনো দিন তাদের ছায়াও মাড়াননি।
রামেন্দু মজুমদার বিদায়ী বছরের ২৮ জুলাই নাগরিক শোক সভায় বলেন, ‘হুমায়ূন অনেক সময় আমাদের আন্দোলনে যুক্ত হননি। একবার একটা বিবৃতিতে তার সই নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সই করেননি। মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাদের আন্দোলনে যুক্ত না হলেও তার লেখা দিয়ে আমাদের আন্দোলনের সহযোগী হয়েছেন।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
January
(6492)
-
▼
Jan 26
(183)
- ভিক্ষুক পুনর্বাসনের পাইলট কর্মসূচি ব্যর্থ, মনোযোগ ...
- মনিকা ধর্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী- হাছা কথায় মরতেও ভয়...
- ঝড় তুলছে শার্লিনের কামসূত্র
- স্মরণ- কবি কাজী কাদের নেওয়াজ
- হাতিরঝিলের সেকাল ও একাল by মুসা আখন্দ
- দেশ এখন ফরমালিনময় by আরিফুর রহমান খাদেম
- দেশ এখন ফরমালিনময় by আরিফুর রহমান খাদেম
- সহজ কথা- তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক by আলফাজ আনাম
- পাকিস্তানের বিভক্তিঃ আবার ’৭১-এর পথে by ডক্টর আবদু...
- তার পরও দুই নেত্রীর পক্ষে-বিবিধ প্রসঙ্গ by মাসুদ ম...
- বর্ষবরণের নামে উন্মত্ত আচরণ-অপসংস্কৃতি রোধে ব্যবস্...
- বিএসএফের অব্যাহত বাংলাদেশী হত্যা- এই অমানবিক আচরণ ...
- আরব বসন্ত ও ইবনে খালদুনের ভবিষ্যদ্বাণী by মুহাম্মদ...
- দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সামনে যত চ্যালেঞ্জ by মাসুম...
- ২০৩০ সাল নাগাদ অনেক দেশেই নাটকীয় পরিবর্তন by হাসা...
- ২০৩০ সালের বিকল্প বিশ্ব- মধ্যপ্রাচ্য এখন প্রান্ত ব...
- বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড রুগ্ণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশঃ ড. ...
- এমআরটির প্রতিবেদন- এক বছরে গুপ্তহত্যার শিকার এক হা...
- এডিপি বাস্তবায়নে গতি নেই- পাঁচ মাসে হার মাত্র ২৪ ...
- এক বছরে হত্যা ৪২- দুই বাংলাদেশী হত্যা করে বিএসএফের...
- হীরক রাজার দেশের প্রগল্ভ অর্থমন্ত্রী- বিচিন্তা by ...
- অভিমত- কোথায় দাঁড়িয়ে ভাবব যে, আমরা নিরাপদ?
- বিশ্বজিৎদের রক্তে ভেসে যাবে গণতন্ত্র! by অরণ্য ইমত...
- শীতার্ত মানুষের জন্য কিছু করার আছে by শাহাদাত আনসারী
- রাজনৈতিক যুদ্ধের ত্রে, যুদ্ধাস্ত্র এবং সেনাপতি by ...
- বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত- সাধারণ মানুষের জ...
- বিরোধী দলের সাথে সরকারের আলোচনার আগ্রহ-শুভবুদ্ধির ...
- হেলথ টিপস-ডেউয়া ফলের ভেষজ গুণ
- চিত্র বিচিত্র-৩ হাজার বছরের পুরনো মুদ্রা আবিষ্কার
- শ্রমিক দলের সমাবেশে তরিকুল-নতুন বছরে সরকারের পতন হবে
- শিক্ষা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়...
- যানজটে ঢাকায় বছরে ক্ষতি ২৫ হাজার কোটি টাকা-প্রতিদ...
- ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করল ২৫ রাজনৈতিক দল
- বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল সময়ের দাবিঃ ড. কারযাবি
- স্বাগত ২০১৩ by তারেক মোরতাজা
- ঢাবি শিক্ষকের আইনজীবী স্ত্রী নিজ বাসায় খুন
- বিরোধী দলের সাড়া পেলে শিগগিরই সঙ্কট নিরসনে আলোচনা...
- টপ টেন
- মন্তব্য প্রতিবেদন-নতুন আসবে নাকি পুরাতন… by ফরহাদ ...
- খালেদা হাসিনার ঝাপিতে সাপতত্ত্ব by শফিক রেহমান
- নতুন বছরের শুভেচ্ছা-বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে যাক
- ‘দুই একনায়কতন্ত্রী রাষ্ট্রকে দুই ভাগ করে ফেলেছেন’
- ‘তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্য দিতে হবে সরকারকে’
- ‘তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্য দিতে হবে সরকারকে’
- ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি ঝর্ণাধারা...
- মাছি মানব ওবামা by মাহমুদ মেনন
- ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন- নেতানিয়াহুর সঙ্গে ...
- বৃটেনেও সমকামী বিয়ে বৈধ হতে চলেছে!
- সুরমা নদীতে হাঁটুজল by সাব্বির আহমদ
- ‘সেদিন যদি আমরা পদত্যাগ না করতাম ওনাদের ক্ষমতায় আস...
- ইসলামী সন্ত্রাসের আরেক স্বর্গরাজ্য সোমালিয়া by এন...
- পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানীকরণের জন্য দায়ী জাম...
- রাজনীতিতে শিক্ষা দিতে নেই, শিক্ষা গ্রহণ করতে হয় by...
- তিন কন্যার অভিশপ্ত জননী!
- টিসিবি সক্রিয় হবে না?
- নার্সদের আন্দোলন
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি
- খবর শুধু খবর নয় by নিয়ামত হোসেন
- পাহাড়ে যা ঘটল এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ ॥ বেসা...
- দীপিকার গন্তব্য কোথায়!
- এ্যাঞ্জেলি নাজোলি
- বলিউড বড় পর্দার তারকারা ছোট পর্দায়
- উসব
- কান পেতে রই
- স্বপ্নবাজ এক আদিত্য নারায়ণ
- অতঃপর দু'জনে
- ভাষা দিবসে ঢাকাজুড়ে ছিল অনুষ্ঠানের জোয়ার
- সাধারণ মানুষের জন্য গণতন্ত্র- বোরহানউদ্দিন খান জাহ...
- মিছিলে বাধা দেয়ায় হিযবুত তাহ্রীর পুলিশের ওপর চড়াও
- জিয়া অপসারিত, উঠানো হলো হযরত শাহজালাল নামফলক
- এবার জ্বলছে খাগড়াছড়ি- পাহাড়ী-বাঙালী ফের নারকীয় সংঘ...
- টালমাটাল জামায়াত
- এবার জ্বলছে খাগড়াছড়ি- পাহাড়ী-বাঙালী ফের নারকীয় সংঘ...
- শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের গ্রহণযোগ্যতা নেই শিবির সভাপতি
- পিলখানা হত্যাকা- আরও ৮ জন গ্রেফতার রিমান্ডে
- গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার উদ্যোগ মানুষের ক্রয়ৰম...
- তৃণমূল থেকে কেন্দ্র কোথাও কোন্দল এড়ানো যাচ্ছে না- ...
- এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কোন যৌক্তিকতা নেই- বা...
- অচিরেই উচ্চ আদালতে বাংলায় রায়
- খেলার মাঠে বাঙালীর সাফল্য by ইকবাল আজিজ
- ভাষাসৈনিকদের তালিকা প্রণয়ন করুন by বাহাউদ্দীন চৌ...
- ইসলামী সন্ত্রাসের আরেক স্বর্গরাজ্য সোমালিয়া অনুবাদ...
- '৭১-এর পরবর্তী প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধী অনুসারী হয় কেন?...
- যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যয়ে by...
- কেউ খোঁজ রাখে না
- চিড়িয়াখানায় অনিয়ম দুর্নীতি- পশুসম্পদের ডিজি সাসপেন্ড
- যমুনা বিল্ডার্সের এমডির আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা
- ৫০ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা by শংক...
- অন্তর্বর্তী নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন নই...
- অতীত কৃতকর্মের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত ॥...
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইনের খসড়া অনুমোদন- ...
- ডাকাতি করতে গিয়ে ধর্ষণ করাই ছিল যার নেশা- আরেক 'রস...
- পাহাড়ের সমস্যার সমাধানে ॥ চাই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি...
- ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার নেই ত্রাণ নেই, অরণ্যে কাটছে দিন
- লাদেন কানেকশন ॥ আল কায়েদার টাকা পায় জঙ্গীরা by গাফ...
- জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধ দাবি- সেদিন বিএনপি এমপিরা ...
- শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্টকারীদের চিহ্নিত করার নির...
- সরকার নির্মাণ কাজ শীঘ্র শুরু করতে চায় ॥ যোগাযোগমন্...
- রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিন খুন- ছিনতাইকারী, অ...
- তরুণদের লেখা আরও চাই, হুমায়ূন আসছেন আজ
- দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে ৩০ জেলা সদরে ৩৫ প্রশিক্ষণ কেন্দ...
- একই সঙ্গে সমুদ্র নদী দ্বীপ পাহাড় বনের সৌন্দর্য- ট...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী আ...
- ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শতবর্ষ পূর্তির বর্ণিল উসব
- রাবির ছাত্রী হল থেকে ২১ জিহাদী বই উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৪
- শীঘ্রই চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ কাজ শুরু করব...
- ঢাকা পদাতিকের নতুন নাটক মঞ্চস্থ, ক্যালিগ্রাফি প্রদ...
- নাটোরে জামায়াত শিবিরের গোপন বৈঠক গ্রেফতার ১০
- দহগ্রাম-আঙ্গপোতার মানুষ মার্চ থেকেই বিদ্যুত পাবে- ...
- কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণে সরকারকে সহায়তা করবে ঢাক...
- দিনরাত জনজোয়ার, নতুন বই ২০৬ রেকর্ড বিক্রি- বইমেলা ...
- পিরোজপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত সুমনের...
- '৭১-এর অক্টোবরে প্রচণ্ড মার খায় রাজাকাররা- মুক্তিয...
- নির্জন, মাতাল হাওয়া স্বচ্ছ পানির নিচে সুচালো প্রবা...
- শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক জোটের নানা আয়োজন, পদাতিকের উ...
- দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে -এরশাদ
- অর্জনের সময় এসেছে, ঐক্য জরুরী -এরশাদ
- পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার সঠিক ছিল ন...
- প্রবীণ রাজনীতিক নূর আলম জিকুর ইন্তেকাল
- ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুলহাস
- টেকনাফে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুত থাকে না ॥ ১৭০ শিল্প বন্ধে...
- সিলেট সীমান্তে ফের উত্তেজনা, বিএসএফের শক্তি বৃদ্ধি...
- রামগড় পৌর কমিশনার অপহৃত ॥ মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার
- বিদেশীরা মিলেছিল নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরিতে
- শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট
- সরকারী চাকরি বাজারে 'ডাক' উঠেছে তবে আমলা চাতুর্যে ...
- কিডনি প্রতিস্থাপন ॥ রেকর্ড সাফল্য বাংলাদেশে- ৬০১টি...
- সব ভাষা সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় সমান গুরুত্ব দেয়া হবে- ...
-
▼
Jan 26
(183)
-
▼
January
(6492)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment