Tuesday, September 11, 2012
৪০,০০০,০০০,০০০ টাকা আত্মসাতের সহজ উপায়... by শফিক রেহমান
৪০,০০০,০০০,০০০ টাকা আত্মসাতের সহজ উপায়... by শফিক রেহমান
গাজীপুরে মেইন রোডের পাশে শালবন পেরিয়ে অনেকটা জায়গা জুড়ে একটি অতি আধুনিক দোতলা বাড়ি। জেনারেটর চলছে। মেইন রোডে চলাচলকারীদের বোঝার বা জানার উপায় নেই শালবনের পেছনে এই বাড়িটির অস্তিত্ব। বনজঙ্গলের ফলে মেইন রোডে জেনারেটরের শব্দ শোনা যায় না।
বাড়ির চার পাশে উঁচু দেয়াল। চকচকে স্টেইনলেস স্টিলের মেইন গেইটে সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছে নেভি ব্লু রংয়ের ইউনিফর্ম পরা স্মার্ট সুস্বাস্থ্যবান সিকিউরিটি গার্ডরা। গেইটের সামনে ছোট নেইম প্লেট। বাড়ির নাম সুবন্ধু হাউজ।
সুবন্ধু হাউজের সামনে-পেছনে বাগানে ফুটে রয়েছে বহু রকমের ফুল। ফুলগাছের শোভা বাড়ানোতে সাহায্য করছে এক ডজন পানির ফোয়ারা। শাদা মার্বেলে তৈরি নারীমূর্তির দেহ থেকে ঝরে পড়ছে পানি। এসব ফোয়ারা ইটালি থেকে আমদানি করা এবং সার্বক্ষণিক চলমান।
এই বাড়ির ডাইনিং রুমের ডিনার টেবিলে সুন্দরভাবে প্লেস করা জাপানিজ নরিটাকি (Noritake) ব্র্যান্ড বোন চায়না প্লেট, কাপ ও পিরিচ, সোনালি কাজ করা ইটালিয়ান আরসিআর দা ভিঞ্চি কালেকশন (RCR da Vinci Collection)-এর কাট গ্লাস এবং ইংলিশ ম্যাপিন অ্যান্ড ওয়েব (Mappin & Webb)-এর সিলভার কাটলারি। প্রায় নিঃশব্দে জেনারেল স্পিট এসি চলছে। দেয়ালে ছাপ্পান্ন ইঞ্চির স্যামসাং ফ্যাট স্কৃন টেলিভিশনে চলছে বাংলাদেশী একটি নিউজ চ্যানেল। কিন্তু সাউন্ড অফ করা। এর উল্টো দিকের দেয়ালে স্পিট স্কৃনের সিকিউরিটি মনিটর চলছে, যাতে দেখা যাচ্ছে এই বাড়ির বাইরে ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে কি ঘটছে।
কাল : লাঞ্চ টাইম, সেপ্টেম্বর ২০১২।
পাত্র : সুবন্ধু হাউজের মালিক মি. ভূমিদস্যু যিনি এই লাঞ্চের হোস্ট এবং নিমন্ত্রিত পাচ গেস্ট, যথাক্রমে মি. মিগদস্যু, মি. উলফাদস্যু, মি. শেয়ারবাজারদস্যু, মি. মালটি লেভেল মার্কেটিং সংক্ষেপে এমএলএমদস্যু এবং মি. কুইকরেন্টালদস্যু।
এরা সবাই টেবিলের চার পাশে বসে খাচ্ছেন ও কথা বলছেন। নীরবে খাবার ও পানীয় পরিবেশন করছেন ইউনিফর্ম পরা দু’জন পুরুষ ওয়েটার। তাদের সুপারভাইজ করছেন সুট টাই পরা হাউজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ম্যানেজার।
সতর্কীকরণ: সকল চরিত্র, সংলাপ ও ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
ভূমিদস্যু (সামনের খালি গ্লাসে একটা চামচ ঢুকিয়ে টুং টাং করে নাড়লেন) : জেন্টলমেন। এত শর্ট নোটিশে আপনারা সবাই যে দয়া করে এই গরিবখানায় এসেছেন সেজন্য প্রথমেই আমি আপনাদের হাজার ধন্যবাদ জানাতে চাই। থ্যাংক ইউ। নিমন্ত্রণের সময়ে আমি ফোনেই আপনাদের জানিয়েছি আজ এখানে সমবেত হবার কারণ। আমরা লাঞ্চ খেতে খেতে আমাদের সমস্যা বিষয়ে আলোচনা করব এবং পরিশেষে আমাদের করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
মিগদস্যু (ভীত স্বরে): ২৪ নভেম্বর ২০০৬-এর উত্তরা ষড়যন্ত্রের মতো কোনো বিপদ হবে না তো? পুলিশ, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের ঝটিকা উপস্থিতি ঘটবে না তো?
ভূমিদস্যু (মৃদু হেসে) : না। সে ভয় নেই। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য যেখানে যত দরকার সেখানে সে টাকা খরচ করা হয়েছে। যে প্রভাব বিস্তার করা দরকার তা করা হয়েছে। আমার নিজের একসেলেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স গাজীপুর চৌমাথা থেকে নজর রাখছে। যে শালবন আপনারা পেরিয়ে এসেছেন, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বহু গাছে ফিট করা আছে। তাই এখানে বসেই ওই মনিটরে (আঙুল তুলে দেখিয়ে) আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কোথায় কি ঘটছে। তা ছাড়া শুধু একজন বাদে আমাদের সবারই হাতে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া আছে। আমার তিনটি বাংলা-ইংরেজি দৈনিক ও একটি অনলাইন নিউজ সার্ভিস আছে। (মিগদস্যুর দিকে আঙুল দেখিয়ে) যদিও মিডিয়াতে আগমন ইচ্ছা সত্ত্বেও আপনার উপস্থিতি হয়েছে বিলম্বিত, তবুও এখন আপনার আছে একটি বাংলা দৈনিক। (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক, একটি বাংলা সাপ্তাহিক এবং একটি রেডিও স্টেশন। (শেয়ারবাজারদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি নিউজ টিভি চ্যানেল, একটি ইংরেজি দৈনিক এবং একটি অনলাইন নিউজ সার্ভিস। (এমএলএমদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি টিভি চ্যানেল ও একটি বাংলা দৈনিক। (কুইকরেন্টালদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনি এখনো মিডিয়াতে আসেননি বলে জানি। তা সত্ত্বেও মিডিয়াতে আমাদের সম্মিলিত উপস্থিতি খুবই স্ট্রং। আমরা যদি সবাই একাট্টা থাকি তাহলে কেউ আমাদের চুলও ছুতে পারবে না।
উলফাদস্যু (অভিযোগের স্বরে): আমরা মিডিয়াতে পারস্পরিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী। আপনিই আমাদের পিছু লেগেছিলেন এবং এখনো মাঝে মাঝে আমার বাংলা পত্রিকার সম্পাদকের পেছনে লাগেন। তার এবং আমার ছবিসহ পোস্টার ছেপে ঢাকা চিটাগাং সয়লাব করেছিলেন।
ভূমিদস্যু: আপনার এ অভিযোগ সত্য নয়। আপনারাই আমার পেছনে লেগেছিলেন। পরিণতিতে ওয়ান-ইলেভেনের আগেই আমাকে সপরিবারে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। তখন আপনি ও আপনার দুই সম্পাদক মহা আনন্দে ছিলেন। সরকার পরিবর্তিত হবার পরে আমি ফিরে আসতে পারি। আপনার বাংলা সম্পাদকের দ্বৈত চরিত্র সম্পর্কে সাবধান থাকবেন। তিনি কিন্তু এক সময়ে ধনিক বণিক গোষ্ঠীর লুটপাটের বিরুদ্ধে লিখতেন। এখন নিজেই ধনিক বণিকের কাগজ সম্পাদনা করছেন। সমাজতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে এখন ধনতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন। যাক সে সব কথা। অতীতের কথা ভুলে যান। বর্তমানে আসুন। বর্তমানে আমাদের বিপদ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মহাবিপদ আসছে। এসব বিপদ সম্মিলিতভাবে সামলাতে হবে। নইলে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন হলে আমরা সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো। (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) এবার আপনিও রেহাই পাবেন না। সুতরাং আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মিগ, শেয়ারবাজার, এমএলএম ও কুইকরেন্টালদস্যু (সমস্বরে): তা ঠিক। তা ঠিক।
ভূমিদস্যু: আজ যত সময়ই লাগুক আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সর্বসম্মতিক্রমে। (একটু থেমে) আপনারা সবাই নামাজ রোজা করেন। হজে গিয়েছেন। আমিও। (টেবিলে পরিবেশিত খাবারের দিকে ইঙ্গিত করে) এখানে সবই হালাল।
শেয়ারবাজারদস্যু (লম্বা শাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে মৃদু স্বরে) : জীবনে অনেক হারাম কাজ করেছি। আর কত?
ভূমিদস্যু: তবুও আমাদের সবাইকে হয়তো শেষ একটা হারাম কাজ করতে হবে। কারণ এই দেশের সবচেয়ে বড় হারামি, সবচেয়ে বড় পাপীষ্ঠ, সবচেয়ে বড় জালিয়াত আজ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। যেকোনোভাবেই হোক না কেন, এই জালিয়াতকে আমাদের কনট্রোল করতেই হবে। তাকে শাস্তি দিতেই হবে। তাকে ফিনিশ করতেই হবে।
এমএলএমদস্যু (গম্ভীর স্বরে): নইলে আমরাই ফিনিশ হয়ে যাবো। যে টাকা দেশে আছে আগামীতে সেনা সমর্থিত সরকার এলে সেই সব টাকা তারা জব্দ করবে। ফৃজ করবে। বিদেশে পাচার করা টাকাও কোনো কাজে আসবে না। কারণ আমাদের সবাইকে জেলে ভরা হতে পারে।
কুইকরেন্টালদস্যু: সে তো পরের কথা। ২০১৩-র শেষ দিক অথবা ২০১৪-র প্রথম দিকের কথা, যখন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সারা দেশে সহিংসতা শুরু হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগ যেটা ২০০৬ সালে করেছিল এবং এবার যেটা বিএনপি করতে পারে। কিন্তু এখন এই মুহূর্তে আমাদের সমস্যা হলো আমাদের সব মানসম্মান ডুবতে বসেছে। আমাদের শত্রু ও সমালোচকের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি আওয়ামী সরকারপ্রধানের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও সরকারের মধ্যেই আমাদের নিয়ে অনেকে উপহাস করছে। সবাই বলছে, আমরা কি করলাম এত দিন? ওই জালিয়াত কি নির্ঝঞ্ঝাটে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিল অথচ সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। অর্থমন্ত্রী তো বলেই দিলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যাপারই না। সরকার তো বছরে চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়। এ তো মাত্র ওয়ান পার্সেন্ট।’ এক সাংবাদিক তাকে ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি তাৎক্ষণিক সংশোধন করেন যে এটা টেন পার্সেন্ট!
তিনি স্বীকার করেন, ওয়ানের পরে একটা জিরো বসবে অর্থাৎ টেন হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী জানেন না, তীর এবং কথা একবার ছুড়লে তা আর ফেরানো যায় না। অর্থমন্ত্রী হলেও তার এই ভুলটিতে প্রমাণিত হয় যে তিনি অংকে কাচা।
মিগদস্যু: জিরো নিয়ে আওয়ামী লীগের দলগত সমস্যা ১৯৭২ থেকেই আছে। তিন লক্ষ ত্রিশ লক্ষ হয়ে গিয়েছিল। তখন সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল দশ গুণ। এখন অর্থমন্ত্রী সংখ্যা কমিয়ে দিলেন দশ গুণ।
এমএলএমদস্যু: এজন্যই আমাদের নামে অপপ্রচার ওরা চালাতে পেরেছে। আমরা নাকি হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছি। অর্থমন্ত্রীর মতো জিরো কমিয়ে বললেই সব কিছু সহনীয় হতে পারে। আমরাও বলতে পারি- ‘এটা কোনো ব্যাপারই না।’
ভূমিদস্যু: আচ্ছা, আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো রিপোর্টে কেউ চার হাজার কোটি সংখ্যাটিকে সংখ্যায় লেখেনি। কারণটা কি? কারণ ওই জিরো। চার হাজার কোটি লিখতে ৪-এর পরে কটা শূন্য বসবে সে বিষয়ে অনেকেই অজ্ঞ অথবা অনিশ্চিত। তাই সংখ্যাটি শব্দে লেখা হচ্ছে। যাই হোক, চার হাজার কোটি হচ্ছে ৪০,০০০,০০০,০০০। অর্থাৎ ৪-এর পর দশটা শূন্য বসবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে এর বিশালত্ব বোঝা অসম্ভব। একটি গার্মেন্ট গার্লের মাসিক আয় মাত্র ৩,০০০ টাকা। সে বুঝবে কি করে চার হাজার কোটি তার আয়ের তুলনায় কত বেশি?
আমার মনে হয়, চার হাজার কোটি টাকায় কি সম্ভব সেটা বোঝালে সাধারণ মানুষের হৃদয়ঙ্গম হবে এই জালিয়াতির পরিমাণ।
আমি ফ্যাট বিক্রি করি। প্রথমে ফ্যাটের উদাহরণ দিয়েই বলি। ৮০০ স্কোয়ার ফিটের একটা ফ্যাট বানাতে ২,৫০০ টাকা প্রতি স্কোয়ার ফিটে খরচ হলে, প্রতি ফ্যাট নির্মাণে মোট খরচ হবে বিশ লক্ষ টাকা। তার মানে, চার হাজার কোটি টাকায় ২০,০০০ ফ্যাট বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় অথবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে বিলি করা যেত। এতে সরকার নির্ভর আবাসিক সঙ্কট অনেকটা কমতো।
একটা ভালো পাবলিক বাসের দাম পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় রাজধানীর পথে ৮,০০০ পাবলিক বাস নামানো যেত। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যা দূর হতো।
একটা রেলওয়ে ইঞ্জিনের দাম ১২৮,০০০,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় ৩১৩টা রেলওয়ে ইঞ্জিন কেনা যেত এবং বর্তমান রেলমন্ত্রীকে রোজ এতটা পথ হেটে কোনো রেলওয়ে কর্মীকে চড় মারতে হতো না।
দৈনিক ৬০০ আউটডোর পেশেন্ট ক্যাপাসিটি ও ৯০০ জেনারেল বেড পেশেন্ট ক্যাপাসিটির একটা হসপিটাল বানাতে ২০০,০০০,০০০ টাকা পড়বে। চার হাজার কোটি টাকায় এ রকম দুশটা হসপিটাল সারা দেশে বানানো যেত। দেশের মানুষকে ঢাকা মেডিকাল হসপিটাল অথবা পিজি (Pran Gopal, প্রাণগোপাল) হসপিটালে ছুটতে হতো না।
একটা বেসিক ল্যাপটপের দাম হতে পারে পাইকারি রেটে ১০০ ইউএস ডলার অর্থাৎ ৮,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশের পঞ্চাশ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে ফৃ ল্যাপটপ দেয়া যেত। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তার কিছুটা পূরণ সম্ভব হতো।
একজন ছাত্রকে ইংল্যান্ডে রিটার্ন টিকেটসহ পাঠিয়ে এক বছরে ইংরেজি কাস করাতে খরচ হবে ১,০০০,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় ৪০,০০০ ছাত্রছাত্রীকে ইংল্যান্ডে এক বছরের জন্য পাঠানো সম্ভব হতো। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি রূপে দাবিদার যেসব গার্ডিয়ান তাদের ভোট কেনা সম্ভব হতো মুক্তিযোদ্ধার কোটায় তাদের ছেলেমেয়েকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে।
আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভোট খুব সহজেই কেনা যেত।
ধরা যাক, দেশের দুই কোটি তরুণ-তরুণী প্রেম করতে চাইছেন। তারা কাছে থাকতে চাইছেন! ভালোবাসার টানে পাশে আসতে চাইছেন। তারা মানসিক ও জৈবিক তাড়নায় মোবাইল ফোন নির্ভর হয়ে পড়েছেন। প্রতি ফোন কলের দাম ২৯ পয়সা হলে এক কোটি প্রেমিক যদি প্রতিদিন এক মিনিট কথা বলেন আরেক কোটি প্রেমিকার সঙ্গে, তাহলে খরচ হবে ২,৯০০,০০০ টাকা। এই হিসাবে দুই কোটি প্রেমিক যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা প্রেমালাপ করেন, তাহলে তারা চার হাজার কোটি টাকায় প্রায় আট মাস ধরে প্রেমালাপ চালিয়ে যেতে পারবেন। তাদের প্রেম ও ভালোবাসা বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা নিত, তার ফলে প্রধানমন্ত্রীর শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হতো।
আর এত ঝামেলায় না গিয়ে ডাইরেক্ট প্রপাগান্ডায় যদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে পাইকারি হারে ৫০০ টাকায় বঙ্গবন্ধু কোট বানিয়ে চার হাজার কোটি টাকায় আট কোটি পুরুষকে দেয়া যেত। তার মানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি পনের বা ষোল কোটি হয় এবং তার অর্ধেক যদি পুরুষ হয়, তাহলে চার হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশে সব পুরুষকেই এই শীতের আগেই বঙ্গবন্ধু কোট ফৃ দেয়া যেত। অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কেউই বোঝেননি ভোট কেনার কি সুযোগ তারা হারিয়েছেন।
উলফাদস্যু : অর্থমন্ত্রী এখন পার্লামেন্টে বলেছেন, তার ওরকম কথা বলা উচিত হয়নি। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে এটা তাকে ক্ষমা করার বিষয় নয়- এটা হচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়। ওই হাইলি অ্যালার্ট সাংবাদিক ওয়ান পার্সেন্ট আর টেন পার্সেন্টের ভুলটা ধরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর মানসিকতায় চার হাজার কোটি টাকা, চল্লিশ হাজার কোটি টাকার এক শতাংশ রূপেই বিরাজ করছিল। তাই তিনি কেলেঙ্কারিটি উদঘাটিত হবার পরেও বিষয়টিকে আমলে আনছিলেন না। কিন্তু ওয়ান পার্সেন্ট হলেও এখানে যে চার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, তার গুরুত্ব তিনি বোঝেননি। সুতরাং এখন তিনি ক্ষমা চাইলে মানুষ তাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে- কিন্তু বিশ্বাস করবে না।
শেয়ারবাজারদস্যু: ক্ষমাও হয়তো করবে না। শেয়ারবাজার আমরা ম্যানিপুলেট করার পর অর্থমন্ত্রী গালিগালাজ করেছিলেন, আমাদের আর সাধারণ মানুষকে। সেই সাধারণ মানুষ তাকে এখন গালিগালাজের সুযোগ পেয়েছে। নো ওয়ান্ডার, অর্থমন্ত্রীর কানেও এটা পৌঁছেছে। তাই তিনি স্বীকার করেছেন, তিনিই এখন দেশের সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত ব্যক্তি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল বলেছেন, অর্থমন্ত্রী নিজেই এখন রাবিশ হয়ে গিয়েছেন।
ভূমিদস্যু: তার এই স্টেটাস হয়তো বেশি দিন নাও থাকতে পারে। যারা আগামী নির্বাচনে আবারো দাড়াতে চান, সেই সব উদ্বিগ্ন আওয়ামী এমপিদের দাবিতে অর্থমন্ত্রীকে হয়তো পদত্যাগ করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পদ ছেড়ে যাওয়া মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো অর্থমন্ত্রীকেও ‘দেশপ্রেমিক’ টাইটেল দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সে যাই হোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুয়া গ্রামের যে সন্তানটির কারণে আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি তার নামটি এখন পর্যন্ত কেউ উচ্চারণ করেননি। কারণটা কি? তার সঙ্গে আওয়ামী সরকারের কিছু শীর্ষ ব্যক্তির সুসম্পর্ক আছে বলে? কারণ যা-ই হোক না কেন, আমি নামটা বলছি। তিনি হচ্ছেন হলমার্ক গ্রুপের কর্ণধার তানভীর মাহমুদ তফসির। তানভীরের সত্তরোর্ধ্ব পিতা নুরুল ইসলাম কালু মিয়া এখনো গ্রামে টিনের ঘরেই থাকেন। পাশেই তানভীরের নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে কালু মিয়ার যাওয়া নিষিদ্ধ। চিটাগং ও কুমিল্লার এজেন্টদের কাছ থেকে মাল এনে কালু মিয়া এলুমিনিয়ামের পাতিল ও বাসনের ব্যবসা করতেন।
কালু মিয়ারা পাচ ভাই। বড় তিনি। দ্বিতীয় রইস মিয়া রেশন দোকানি। তৃতীয় মোখলেস মিয়া কৃষিকাজ করেন। চতুর্থ শফিকুল ইসলাম ও পঞ্চম হোসেন মিয়া উল্লেখ করার মতো কোনো কাজ করেন না।
কালু মিয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান হয়, তানভীর প্রথম ছেলে। সে পাশের তালশহর এআই হাই স্কুলে পড়াশোনা করে। ১৯৯৩-৯৪-এর দিকে বিয়ে করে। তার সুশ্রী স্ত্রীর নাম জেসমিন। তানভীরের একটি পুত্রসন্তান আছে।
কালু মিয়া বলেন, ১০-১২ কানিক্ষেত ও ঢাকায় শেখেরটেকের বাড়ি বিক্রি করে তিনি ও তার ছেলে দশ-বারো বছর আগে ঢাকায় চলে যান। সেখানে একটা মুদির দোকান দেন। কিছুকাল পরে তানভীর একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে অল্প বেতনে কাজ করেন। তারপর পিতার টাকায় হলমার্ক প্যাকেজিং নামে নিজের ব্যবসায় শুরু করেন।
এর পরের কয়েক বছরে কিভাবে তানভীর ব্যবসায় এত উন্নতি করলেন সে বিষয়ে গ্রামবাসীর কোনো ধারণা নেই। তবে তানভীরের বিত্ত সম্পর্কে কিছু ধারণা তাদের হয়। রোজার ঈদে পাচ-ছয় ট্রাক কাপড় গ্রামে বিতরণ করা হতো। কোরবানির ঈদে ট্রাকে করে অনেক গরু আনা হতো। ইফতারের জন্য গ্রামের সতেরটি মসজিদে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। প্রতি বছর মা আনোয়ারা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিন-চার হাজার লোক খাওয়ানো হতো। গ্রামবাসী শুনেছিল ঢাকায় তানভীরের অন্ততপক্ষে সাতাশটা গাড়ি আছে, আর আমরা শহরবাসীরা দেখেছি, রূপসী বাংলা হোটেলের সোনালী ব্যাংক ব্রাঞ্চের কেলেঙ্কারি ফাস হবার পর তানভীর যখন প্রথম সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন, তখন নাম্বার প্লেটবিহীন একটি পাজেরো গাড়িতে আসেন, যার আগে-পিছে ছিল একাধিক গাড়ি। সেই সময়ে তানভীর এটাও বলেন, যে চার হাজার কোটি টাকা তিনি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটার পাই-টু-পাই শোধ করার সামর্থ্য তার আছে। কারণ তার সম্পত্তির পরিমাণ এর বিশ গুণ। অর্থাৎ আশি হাজার কোটি টাকা! মাত্র দশ বছরে তিনি কিভাবে আশি হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন সেই প্রশ্নও এখন উঠেছে।
(গ্লাসে পানি ঢেলে একটু খেয়ে) মুদির দোকানি থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়াটা নিন্দনীয় নয়। বরং প্রশংসারই বটে। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে তিনি কিভাবে মালিক হলেন। আমি নিজেও ঢাকার মৌলভীবাজারে একটা চায়ের দোকান খুলে ব্যবসায় শুরু করেছিলাম। তারপর গিয়েছি রিয়াল এস্টেট ব্যবসায় এবং বহু ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু চটচলদি এত বড়লোক আমিও তো হতে পারিনি!
তা ছাড়া সম্পত্তি অর্জন করতে গিয়ে আমাকে কত কঠিন সমস্যা পোহাতে হয়েছে। (উলফাদস্যুর দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে) আপনার পত্রিকা দুটোতে আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন রিপোর্ট হয়েছিল। মানুষ আমাদের ভূমিদস্যু টাইটেল দিয়েছিল। মানুষের আবাসিক সঙ্কট মেটানোর জন্য যে এত কাজ করলাম তার কোনো স্বীকৃতিই পেলাম না। পতিত ভূমিকে উন্নত ভূমি করলাম। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল হলো, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল হলো, ইউনিভার্সিটি হলো, কনভেনশন সেন্টার হলো, করপোরেট হেড কোয়ার্টার হলো। কিন্তু হায়! কারো কোনো স্বীকৃতি কোনো দিনই পেলাম না। শুধু গালি আর গালি। ভূমিদস্যু আর ভূমিদস্যু। তারপর সেনাসমর্থিত সরকারের হুমকি আর চাদাবাজি। স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়ে প্রাণ বাচাতে হলো। এখন দেশে ফিরে এসেও শান্তি নেই। ব্যবসায়ে চলছে প্রচণ্ড মন্দাবস্থা। ফ্যাট বিক্রি প্রায় বন্ধ। গ্যাস কানেকশন নেই। ইলেকটৃসিটি কানেকশন নেই। তা ছাড়া ক’জনের কাছেই বা শাদা টাকা আছে যে ফ্যাট কিনবে?
আগে বিদেশে গিয়ে আমরা রিহ্যাব মেলা করতাম। এখন তাতেও কোনো লাভ নেই। দেশের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা এখন দেশে ইনভেস্ট করতে চাইছেন না। এর ওপর সেই পুরানো দুশ্চিন্তা তো আছেই। আওয়ামী সরকারের পর আরেকটা সেনাসমর্থিত সরকার এলে আবার চাদাবাজি, জুলুমবাজি, স্পেশাল কোর্ট, জেলহাজত অথবা আবার স্বেচ্ছানির্বাসনে যাওয়া। ওহ মাই গড।
এখন দেখুন তানভীর কত কেভার। এক. (শেয়ারবাজারদস্যু ও এমএলএমদস্যুর দিকে তাকিয়ে) তানভীর আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের টাকা সরাসরি মেরে দেয়নি।
(কুইকরেন্টালদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার মতো সরাসরি তানভীর সাধারণ মানুষকে বিদ্যুতের বেশি দাম দিতে বাধ্য করেনি। তাই তানভীরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। বরং তানভীর তার পক্ষে কিছু মানুষকে বিক্ষোভে সাভারের পথে নামাতে পেরেছে। সারা ঢাকা শহর তার পক্ষের পোস্টারে ভরাতে পেরেছে। দুই. যেহেতু জনগণের সাথে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না এবং নেই, সেহেতু তার উত্থান নিয়ে কেউ (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) ঈর্ষান্বিত ছিল না। মিডিয়ার কোনো নজর তার প্রতি ছিল না। তিন. যেহেতু তানভীরের ব্যবসায় স্রেফ কাগুজে সেহেতু দেশের কোনো চলমান সমস্যাই তাকে পীড়িত করেনি। গ্যাস বিদ্যুৎ না থাকলেও এবং দেশে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা থাকলেও তার কখনোই কোনো সমস্যা হয়নি। চার. আমিও আওয়ামী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছি। তার পরও মাঝে মধ্যে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু তানভীর আওয়ামী শীর্ষ পর্যায়ের এমন কিছু ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছে যার ফলে তার সম্পর্কে সরকারি প্রতিক্রিয়া হয়েছে অবিশ্বাস্যভাবে দুর্বল।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তানভীরের কাছ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। যেহেতু মিডিয়া এখন এ নিয়ে লেখালেখি করছে সেহেতু বাকি টাকার জন্য আদালতে গেলে সেটা কখন নিষ্পত্তি হবে সেটা আল্লাহই মালুম।
অর্থমন্ত্রী বলেননি কবে এবং কিভাবে দুই হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। উপরন্তু বাকি দুই হাজার কোটি টাকা যে ফেরত পাওয়া যাবে না সে বিষয়ে হাসিমুখে মোলায়েম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অথচ (শেয়ারবাজারদস্যুর দিকে তাকিয়ে) মনে করে দেখুন, স্টক এক্সচেঞ্জ কেলেঙ্কারির পরে তিনি আপনাদের দুষ্ট লোক বলেছিলেন এবং বিনিয়োগকারীদের আরও কঠিন সমালোচনা করেছিলেন।
আমাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজ সরকারগুলো লেগে যায় বলে মিডিয়াতে প্রচুর ইনভেস্ট করতে হয়েছে। দৈনিক পত্রিকা করতে হয়েছে। অনলাইন নিউজ সার্ভিস করতে হয়েছে। টিভি চ্যানেল খুলতে হয়েছে। রেডিও স্টেশন করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সাংবাদিক লেখক কলামিস্টদের পেছনে নিয়মিত খরচ করতে হয়েছে। লন্ডন প্রবাসী এক কলামিস্ট যিনি একটি গানের অর্ধ রচয়িতা এবং যিনি জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে এপৃল ১৯৭৪ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র সোয়া দুই বছর ছিলেন, তাকে নিয়মিত পাউন্ড পাঠাতে হয়েছে, মানিলন্ডারিং অভিযোগের ঝুকি নিয়ে। এসব কিছুই করতে হয়নি তানভীরকে।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সাথে রেগুলার কনটাক্ট রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন চেম্বারে পদ দখল করতে হয়েছে। এসব কিছুই করতে হয়নি তানভীরকে।
তাহলে আজ আমাদের স্বীকার করতেই হবে, তানভীর মাহমুদ তফসিরই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বুদ্ধিমান, কৌশলী ও সফল ব্যবসায়ী যে জনগণকে প্রত্যক্ষভাবে আঘাত না করে, সব কূল এমনভাবে রক্ষা করে চলেছে যার ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো কড়া একশন নিতে সরকার এখন পর্যন্ত উদ্যোগী হয়নি। তানভীর আমাদের সবাইকে টেক্কা দিয়েছে। আমরা সবাই ফালতু। ফালতু। ফালতু।
মিগদস্যু: ঠিকই বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে সেনাসমর্থিত সরকার বহু একশন নিয়েছিল। গুলশানে বহুতল হোটেল নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
উলফাদস্যু: আমার পরিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। ওই সেনাসমর্থিত সরকার আমাকে দুইশ দুর্নীতিবাজদের লিস্টভুক্ত করেছিল।
শেয়ারবাজারদস্যু: আপনাকে ওয়ান-ইলেভেন সরকার জেলে নেয়নি। আমাকে জেলে নিয়েছিল। তারপর এই আওয়ামী সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত তেত্রিশ লাখ পুজি বিনিয়োগকারী আমাদের পিছু লেগেছিল। আওয়ামী সরকারের রহমতে এখন কিছুটা স্বস্তিতে আছি। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না।
এমএলএমদস্যু (বিব্রত স্বরে): লুটপাটে আমরা নবাগত। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে আমরা ছিলাম না। এখন আছি। কিন্তু বড়ই বিপদে আছি। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী সমর্থক জনৈক জেনারেলকে শীর্ষ পদে বসিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। জামিনে মুক্ত আছি। একাউন্ট সব ফৃজ হয়ে গেছে। আমাদের পেছনে লাগবে পঞ্চাশ ষাট লাখ বিনিয়োগকারী। আমাদের ভবিষ্যতে যে কি আছে সেটা অর্থমন্ত্রীর ভাষায় বলতে হয়, আল্লাহই মালুম। আল্লাহর অসীম দয়ার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না।
কুইকরেন্টালদস্যু: আপনারা বলছেন, আপনাদের পেছনে লেগেছে কয়েক লাখ মানুষ। আমার সমস্যার তুলনায় এটা তো কিছুই না। বাংলাদেশের পনের কোটি মানুষ আমাদের পেছনে লেগেছে। তারা বলছে, আমরা নাকি অচল জেনারেটর আমদানি করেছিলাম। অথবা সেকেন্ড হ্যান্ড দুর্বল জেনারেটর ইমপোর্ট করেছিলাম। আমরা নাকি সরকারের কাছে খুব চড়া দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছি। তাই সরকার বাধ্য হয়েছে এর মধ্যে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে। সর্বশেষ দাম বেড়েছে পহেলা সেপ্টেম্বরে এসব কারণে কোটি কোটি মানুষ ক্ষেপে আছে। তারা স্বীকারই করতে চায় না যে আমরা বাংলাদেশ থেকে লোডশেডিং দূর করেছি। অকৃতজ্ঞ কোথাকার। আনগ্রেটফুল লট। সব রাজাকার। সব মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।
উলফাদস্যু: লোডশেডিং দূর হলো কোথায়? প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন, ‘মানুষ যাতে লোডশেডিংয়ের কথা ভুলে না যায় সে জন্য আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে বলে দিয়েছি প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই ঘণ্টা করে লোড শেডিং করতে।’ তিনি সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এই নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া তিনি একই সঙ্গে এটাও বলেছেন, ‘দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে বিদ্যুতের বিল কম আসবে, জনগণের টাকা বাচবে।’ এক দিকে তিনি স্বীকার করেছেন মানুষকে হয়রানি করতে তিনিই বলেছেন। অন্য দিকে তিনি বিদ্যুতের বিল দিতে ওষ্ঠাগত মানুষের সঙ্গে করেছেন নির্মম রসিকতা। এই উক্তি যে তার সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও তীব্র প্রতিশোধপরায়ণতার পরিচায়ক সে বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। তিনি যে দেশবাসীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে চান সেটা ১৯৮৭-তে বিবিসির সিরাজুর রহমানকে বলেছিলেন। সেটাই তিনি এখন করছেন। এই উক্তির জন্য যে কোনো ইলেকটৃসিটি কনজিউমার তার বিরুদ্ধে পাবলিক ইন্টারেস্টে মামলা করতে পারেন। কিন্তু কেউ করতে সাহসী হচ্ছে না। তার মানে, লোডশেডিং চলতেই থাকবে এবং আমরা ভুক্তভোগী হবো।
ভূমিদস্যু: তানভীরকে এমন কোনো ঝামেলাই পোহাতে হচ্ছে না। হি ইজ দি গ্রেটেস্ট। মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরে তানভীরই গ্রেটেস্ট। তানভীর যে রাষ্ট্রীয় সহানুভূতিসূচক আচরণ পাচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। দৈনিক নয়া দিগন্তে রিপোর্ট হয়েছে ‘হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া টাকা দশ হাজার কোটি ছাড়াতে পারে।’ দৈনিক সমকালে রিপোর্ট হয়েছে ‘বিপাকে আরো ২৬ ব্যাংক।’ সে ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে গোটা ব্যাংকিং সিসটেমই হঠাৎ ধসে পড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী সে রকম আশংকাও প্রকাশ করেছেন। আর তাই যদি হয় তাহলে আমাদের ব্যবসার কী হবে? আর আমাদের টাকাগুলোরই বা কি হবে? (আবেগী স্বরে) বন্ধুগণ! এই দুরবস্থার বিরুদ্ধে আজ আমাদের রুখে দাড়াতেই হবে। কোথাকার কোন জালিয়াত এসে গণপ্রতারণায় আমাদের টপকে যাবে, সেটা হতে পারে না। কিছুতেই না।
ভূমিদস্যু তার বক্তব্য শেষ করলেন।
সারা ঘরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করলো কিছুক্ষণ।
মিগদস্যু: কিন্তু আমরা কি করবো?
উলফাদস্যু: যাই করি না কেন আমাদের সেটা খুব সাবধানে করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তো হিলারিরও তোয়াক্কা করছেন না। তিনি ডু আর ডাই-য়ের মেজাজে আছেন। তানভীরের কিসসু না হলেও আমাদের বিরুদ্ধে অনেক একশনই নেয়া হতে পারে তার প্রতিশোধস্পৃহা থেকে।
শেয়ারবাজারদস্যু: ইয়েস। আই ফুললি অ্যাগৃ। আমি এক মত।
এমএলএমদস্যু: আমিও।
কুইকরেন্টালদস্যু: আমিও। এখন বলুন, আমাদের কি করণীয়? সে বিষয়ে আপনার কোন প্ন্যান আছে কি?
ঘরে আবার কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতা।
ভূমিদস্যু: হ্যা, আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি গভীর চিন্তা করেছি।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): কি প্ল্যান? কি প্ল্যান?
ভূমিদস্যু: তানভীর কিভাবে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়েছিল? সোনালী ব্যাংকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এবং কিছু প্রাইভেট ব্যাংক হাত করে। তাই না?
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে)! হ্যা তাই।
ভূমিদস্যু: এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ব্যাংক কোনটি?
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): বাংলাদেশ ব্যাংক।
ভূমিদস্যু (দৃঢ় স্বরে): আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক হাত করবো।
এমএলএমদস্যু (সন্দেহের স্বরে): সেটা কি সম্ভব হবে? সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ অফিসার, হেড অফিসের কর্মকর্তা, পর্ষদের সদস্য, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে তানভীর হাত করেছিল। সে রকম কিছু করা কি সম্ভব হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে? গভর্নর যিনি স্বঘোষিত চাষিপুত্র, তাকে হাত করতে পারবেন কি?
ভূমিদস্যু: না। সে পথে আমরা যাবো না।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): তাহলে?
ভূমিদস্যু: আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকটাই দখল করবো। চাষিপুত্রকে গ্রামে চাষাবাদের কাজে পাঠিয়ে দেব। তারপর আমরাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালাবো। তখন তানভীরের মতো বাটপাড়রা আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ব্যাংকের ধারে কাছে ঘেষতেও সাহস পাবে না।
উলফাদস্যু: দেশে মানিক থাকলেও এখনো তো কিছু আইনকানুন আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে দখল করবো আমরা? গভর্নরকে গ্রামে পাঠাবো। কিন্তু অর্থমন্ত্রীকে কোথায় পাঠাবো?
ঠিক সেই সময়ে দেয়ালে লাগানো টিভি স্কৃনে ব্রেকিং নিউজ শব্দ দুটি ভেসে উঠলো। তারপরই স্ক্রলে সংবাদটি দেখা গেল।
ব্রেকিং নিউজ... প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আগামী ২৯ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন... বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন সদস্যদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে... আজই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে নতুন মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করবেন..
.
ভূমিদস্যু রিমোট কনট্রোলে টিভির সাউন্ড অন করলেন। একাগ্রভাবে সবাই টিভির খবর শুনতে লাগলেন। খবর শোনা শেষ হলে ভূমিদস্যু তার মুখ খুললেন।
ভূমিদস্যু: অর্থমন্ত্রীর কি হবে সেই প্রশ্নের উত্তর আপনারা পেয়ে গেলেন। যে নির্বাচন ঘোষিত হলো তাতে আমাদের দখল কর্মসূচি খুব সোজা হয়ে গেল।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): তার মানে?
ভূমিদস্যু: আপনারা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পেরেছেন এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন চায়। সুতরাং এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও বিজয়ী হবে। লক্ষ্য করুন, তারা লাকি ডেট আবার ২৯ ডিসেম্বরই বেছে নিয়েছে। এই নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ফান্ডিং করবো। আর সেটি হবে খুব সহজে।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): কিভাবে?
ভূমিদস্যু: বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করলে শুধু যে অন্য সব ব্যাংকই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে তা নয়। আমাদের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিকিউরিটি পৃন্টিং প্রেস, যেখানে সব নোট ছাপা হয় তারও নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যেটা এই গাজীপুরেই অবস্থিত। লাঞ্চের পর আমি আপনাদের সবাইকে ওই সিকিউরিটি পৃন্টিং প্রেস দেখাতে নিয়ে যাবো। অলরেডি তার পাশে আমার প্রাইভেট ফোর্স পাহারা দিচ্ছে, যারা দখলে এক্সপার্ট।
নিমন্ত্রিতরা সবাই আনন্দে ফেটে পড়লেন।
ভূমিদস্যু (আত্মপ্রসাদের হাসি মুখে): আমরা গাজীপুর থেকে নোট ছাপাবো। তারপর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব কমার্শিয়াল ব্যাংক কনট্রোল করবো। ওই সব ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ইলেকশনে আওয়ামী প্রার্থীদের টাকা দেব। এবার আর আওয়ামী লীগকে ইনডিয়া থেকে বস্তা বস্তা টাকা আনতে হবে না। এবার আর আওয়ামী লীগকে রাজাকার ইংরেজি সাপ্তাহিক দি ইকনমিস্ট-এর অভিযোগ শুনতে হবে না। নির্বাচনে জেতার পরে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক দখলকে বৈধতা দিয়ে দেবে। এটাই হবে রাষ্ট্রের সমর্থনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় লুট!
সবাই (সমস্বরে): কি চমৎকার সলিউশন! কি চমৎকার। কি চমৎকার। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু! জয় শেখ হাসিনা!
৯ সেপ্টেম্বর ২০১২
শফিক রেহমান: প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাংকর।

এই বাড়ির ডাইনিং রুমের ডিনার টেবিলে সুন্দরভাবে প্লেস করা জাপানিজ নরিটাকি (Noritake) ব্র্যান্ড বোন চায়না প্লেট, কাপ ও পিরিচ, সোনালি কাজ করা ইটালিয়ান আরসিআর দা ভিঞ্চি কালেকশন (RCR da Vinci Collection)-এর কাট গ্লাস এবং ইংলিশ ম্যাপিন অ্যান্ড ওয়েব (Mappin & Webb)-এর সিলভার কাটলারি। প্রায় নিঃশব্দে জেনারেল স্পিট এসি চলছে। দেয়ালে ছাপ্পান্ন ইঞ্চির স্যামসাং ফ্যাট স্কৃন টেলিভিশনে চলছে বাংলাদেশী একটি নিউজ চ্যানেল। কিন্তু সাউন্ড অফ করা। এর উল্টো দিকের দেয়ালে স্পিট স্কৃনের সিকিউরিটি মনিটর চলছে, যাতে দেখা যাচ্ছে এই বাড়ির বাইরে ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে কি ঘটছে।

পাত্র : সুবন্ধু হাউজের মালিক মি. ভূমিদস্যু যিনি এই লাঞ্চের হোস্ট এবং নিমন্ত্রিত পাচ গেস্ট, যথাক্রমে মি. মিগদস্যু, মি. উলফাদস্যু, মি. শেয়ারবাজারদস্যু, মি. মালটি লেভেল মার্কেটিং সংক্ষেপে এমএলএমদস্যু এবং মি. কুইকরেন্টালদস্যু।
এরা সবাই টেবিলের চার পাশে বসে খাচ্ছেন ও কথা বলছেন। নীরবে খাবার ও পানীয় পরিবেশন করছেন ইউনিফর্ম পরা দু’জন পুরুষ ওয়েটার। তাদের সুপারভাইজ করছেন সুট টাই পরা হাউজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ম্যানেজার।
সতর্কীকরণ: সকল চরিত্র, সংলাপ ও ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
ভূমিদস্যু (সামনের খালি গ্লাসে একটা চামচ ঢুকিয়ে টুং টাং করে নাড়লেন) : জেন্টলমেন। এত শর্ট নোটিশে আপনারা সবাই যে দয়া করে এই গরিবখানায় এসেছেন সেজন্য প্রথমেই আমি আপনাদের হাজার ধন্যবাদ জানাতে চাই। থ্যাংক ইউ। নিমন্ত্রণের সময়ে আমি ফোনেই আপনাদের জানিয়েছি আজ এখানে সমবেত হবার কারণ। আমরা লাঞ্চ খেতে খেতে আমাদের সমস্যা বিষয়ে আলোচনা করব এবং পরিশেষে আমাদের করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
মিগদস্যু (ভীত স্বরে): ২৪ নভেম্বর ২০০৬-এর উত্তরা ষড়যন্ত্রের মতো কোনো বিপদ হবে না তো? পুলিশ, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের ঝটিকা উপস্থিতি ঘটবে না তো?
ভূমিদস্যু (মৃদু হেসে) : না। সে ভয় নেই। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য যেখানে যত দরকার সেখানে সে টাকা খরচ করা হয়েছে। যে প্রভাব বিস্তার করা দরকার তা করা হয়েছে। আমার নিজের একসেলেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স গাজীপুর চৌমাথা থেকে নজর রাখছে। যে শালবন আপনারা পেরিয়ে এসেছেন, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বহু গাছে ফিট করা আছে। তাই এখানে বসেই ওই মনিটরে (আঙুল তুলে দেখিয়ে) আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কোথায় কি ঘটছে। তা ছাড়া শুধু একজন বাদে আমাদের সবারই হাতে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া আছে। আমার তিনটি বাংলা-ইংরেজি দৈনিক ও একটি অনলাইন নিউজ সার্ভিস আছে। (মিগদস্যুর দিকে আঙুল দেখিয়ে) যদিও মিডিয়াতে আগমন ইচ্ছা সত্ত্বেও আপনার উপস্থিতি হয়েছে বিলম্বিত, তবুও এখন আপনার আছে একটি বাংলা দৈনিক। (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক, একটি বাংলা সাপ্তাহিক এবং একটি রেডিও স্টেশন। (শেয়ারবাজারদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি নিউজ টিভি চ্যানেল, একটি ইংরেজি দৈনিক এবং একটি অনলাইন নিউজ সার্ভিস। (এমএলএমদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার আছে একটি টিভি চ্যানেল ও একটি বাংলা দৈনিক। (কুইকরেন্টালদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনি এখনো মিডিয়াতে আসেননি বলে জানি। তা সত্ত্বেও মিডিয়াতে আমাদের সম্মিলিত উপস্থিতি খুবই স্ট্রং। আমরা যদি সবাই একাট্টা থাকি তাহলে কেউ আমাদের চুলও ছুতে পারবে না।
উলফাদস্যু (অভিযোগের স্বরে): আমরা মিডিয়াতে পারস্পরিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী। আপনিই আমাদের পিছু লেগেছিলেন এবং এখনো মাঝে মাঝে আমার বাংলা পত্রিকার সম্পাদকের পেছনে লাগেন। তার এবং আমার ছবিসহ পোস্টার ছেপে ঢাকা চিটাগাং সয়লাব করেছিলেন।
ভূমিদস্যু: আপনার এ অভিযোগ সত্য নয়। আপনারাই আমার পেছনে লেগেছিলেন। পরিণতিতে ওয়ান-ইলেভেনের আগেই আমাকে সপরিবারে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। তখন আপনি ও আপনার দুই সম্পাদক মহা আনন্দে ছিলেন। সরকার পরিবর্তিত হবার পরে আমি ফিরে আসতে পারি। আপনার বাংলা সম্পাদকের দ্বৈত চরিত্র সম্পর্কে সাবধান থাকবেন। তিনি কিন্তু এক সময়ে ধনিক বণিক গোষ্ঠীর লুটপাটের বিরুদ্ধে লিখতেন। এখন নিজেই ধনিক বণিকের কাগজ সম্পাদনা করছেন। সমাজতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে এখন ধনতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছেন। যাক সে সব কথা। অতীতের কথা ভুলে যান। বর্তমানে আসুন। বর্তমানে আমাদের বিপদ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মহাবিপদ আসছে। এসব বিপদ সম্মিলিতভাবে সামলাতে হবে। নইলে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন হলে আমরা সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো। (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) এবার আপনিও রেহাই পাবেন না। সুতরাং আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মিগ, শেয়ারবাজার, এমএলএম ও কুইকরেন্টালদস্যু (সমস্বরে): তা ঠিক। তা ঠিক।
ভূমিদস্যু: আজ যত সময়ই লাগুক আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সর্বসম্মতিক্রমে। (একটু থেমে) আপনারা সবাই নামাজ রোজা করেন। হজে গিয়েছেন। আমিও। (টেবিলে পরিবেশিত খাবারের দিকে ইঙ্গিত করে) এখানে সবই হালাল।
শেয়ারবাজারদস্যু (লম্বা শাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে মৃদু স্বরে) : জীবনে অনেক হারাম কাজ করেছি। আর কত?
ভূমিদস্যু: তবুও আমাদের সবাইকে হয়তো শেষ একটা হারাম কাজ করতে হবে। কারণ এই দেশের সবচেয়ে বড় হারামি, সবচেয়ে বড় পাপীষ্ঠ, সবচেয়ে বড় জালিয়াত আজ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। যেকোনোভাবেই হোক না কেন, এই জালিয়াতকে আমাদের কনট্রোল করতেই হবে। তাকে শাস্তি দিতেই হবে। তাকে ফিনিশ করতেই হবে।
এমএলএমদস্যু (গম্ভীর স্বরে): নইলে আমরাই ফিনিশ হয়ে যাবো। যে টাকা দেশে আছে আগামীতে সেনা সমর্থিত সরকার এলে সেই সব টাকা তারা জব্দ করবে। ফৃজ করবে। বিদেশে পাচার করা টাকাও কোনো কাজে আসবে না। কারণ আমাদের সবাইকে জেলে ভরা হতে পারে।
কুইকরেন্টালদস্যু: সে তো পরের কথা। ২০১৩-র শেষ দিক অথবা ২০১৪-র প্রথম দিকের কথা, যখন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সারা দেশে সহিংসতা শুরু হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগ যেটা ২০০৬ সালে করেছিল এবং এবার যেটা বিএনপি করতে পারে। কিন্তু এখন এই মুহূর্তে আমাদের সমস্যা হলো আমাদের সব মানসম্মান ডুবতে বসেছে। আমাদের শত্রু ও সমালোচকের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি আওয়ামী সরকারপ্রধানের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও সরকারের মধ্যেই আমাদের নিয়ে অনেকে উপহাস করছে। সবাই বলছে, আমরা কি করলাম এত দিন? ওই জালিয়াত কি নির্ঝঞ্ঝাটে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিল অথচ সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। অর্থমন্ত্রী তো বলেই দিলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যাপারই না। সরকার তো বছরে চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়। এ তো মাত্র ওয়ান পার্সেন্ট।’ এক সাংবাদিক তাকে ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি তাৎক্ষণিক সংশোধন করেন যে এটা টেন পার্সেন্ট!
তিনি স্বীকার করেন, ওয়ানের পরে একটা জিরো বসবে অর্থাৎ টেন হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী জানেন না, তীর এবং কথা একবার ছুড়লে তা আর ফেরানো যায় না। অর্থমন্ত্রী হলেও তার এই ভুলটিতে প্রমাণিত হয় যে তিনি অংকে কাচা।
মিগদস্যু: জিরো নিয়ে আওয়ামী লীগের দলগত সমস্যা ১৯৭২ থেকেই আছে। তিন লক্ষ ত্রিশ লক্ষ হয়ে গিয়েছিল। তখন সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল দশ গুণ। এখন অর্থমন্ত্রী সংখ্যা কমিয়ে দিলেন দশ গুণ।
এমএলএমদস্যু: এজন্যই আমাদের নামে অপপ্রচার ওরা চালাতে পেরেছে। আমরা নাকি হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছি। অর্থমন্ত্রীর মতো জিরো কমিয়ে বললেই সব কিছু সহনীয় হতে পারে। আমরাও বলতে পারি- ‘এটা কোনো ব্যাপারই না।’
ভূমিদস্যু: আচ্ছা, আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো রিপোর্টে কেউ চার হাজার কোটি সংখ্যাটিকে সংখ্যায় লেখেনি। কারণটা কি? কারণ ওই জিরো। চার হাজার কোটি লিখতে ৪-এর পরে কটা শূন্য বসবে সে বিষয়ে অনেকেই অজ্ঞ অথবা অনিশ্চিত। তাই সংখ্যাটি শব্দে লেখা হচ্ছে। যাই হোক, চার হাজার কোটি হচ্ছে ৪০,০০০,০০০,০০০। অর্থাৎ ৪-এর পর দশটা শূন্য বসবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে এর বিশালত্ব বোঝা অসম্ভব। একটি গার্মেন্ট গার্লের মাসিক আয় মাত্র ৩,০০০ টাকা। সে বুঝবে কি করে চার হাজার কোটি তার আয়ের তুলনায় কত বেশি?
আমার মনে হয়, চার হাজার কোটি টাকায় কি সম্ভব সেটা বোঝালে সাধারণ মানুষের হৃদয়ঙ্গম হবে এই জালিয়াতির পরিমাণ।
আমি ফ্যাট বিক্রি করি। প্রথমে ফ্যাটের উদাহরণ দিয়েই বলি। ৮০০ স্কোয়ার ফিটের একটা ফ্যাট বানাতে ২,৫০০ টাকা প্রতি স্কোয়ার ফিটে খরচ হলে, প্রতি ফ্যাট নির্মাণে মোট খরচ হবে বিশ লক্ষ টাকা। তার মানে, চার হাজার কোটি টাকায় ২০,০০০ ফ্যাট বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় অথবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে বিলি করা যেত। এতে সরকার নির্ভর আবাসিক সঙ্কট অনেকটা কমতো।
একটা ভালো পাবলিক বাসের দাম পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় রাজধানীর পথে ৮,০০০ পাবলিক বাস নামানো যেত। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যা দূর হতো।
একটা রেলওয়ে ইঞ্জিনের দাম ১২৮,০০০,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় ৩১৩টা রেলওয়ে ইঞ্জিন কেনা যেত এবং বর্তমান রেলমন্ত্রীকে রোজ এতটা পথ হেটে কোনো রেলওয়ে কর্মীকে চড় মারতে হতো না।
দৈনিক ৬০০ আউটডোর পেশেন্ট ক্যাপাসিটি ও ৯০০ জেনারেল বেড পেশেন্ট ক্যাপাসিটির একটা হসপিটাল বানাতে ২০০,০০০,০০০ টাকা পড়বে। চার হাজার কোটি টাকায় এ রকম দুশটা হসপিটাল সারা দেশে বানানো যেত। দেশের মানুষকে ঢাকা মেডিকাল হসপিটাল অথবা পিজি (Pran Gopal, প্রাণগোপাল) হসপিটালে ছুটতে হতো না।
একটা বেসিক ল্যাপটপের দাম হতে পারে পাইকারি রেটে ১০০ ইউএস ডলার অর্থাৎ ৮,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশের পঞ্চাশ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে ফৃ ল্যাপটপ দেয়া যেত। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তার কিছুটা পূরণ সম্ভব হতো।
একজন ছাত্রকে ইংল্যান্ডে রিটার্ন টিকেটসহ পাঠিয়ে এক বছরে ইংরেজি কাস করাতে খরচ হবে ১,০০০,০০০ টাকা। চার হাজার কোটি টাকায় ৪০,০০০ ছাত্রছাত্রীকে ইংল্যান্ডে এক বছরের জন্য পাঠানো সম্ভব হতো। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি রূপে দাবিদার যেসব গার্ডিয়ান তাদের ভোট কেনা সম্ভব হতো মুক্তিযোদ্ধার কোটায় তাদের ছেলেমেয়েকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে।
আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভোট খুব সহজেই কেনা যেত।
ধরা যাক, দেশের দুই কোটি তরুণ-তরুণী প্রেম করতে চাইছেন। তারা কাছে থাকতে চাইছেন! ভালোবাসার টানে পাশে আসতে চাইছেন। তারা মানসিক ও জৈবিক তাড়নায় মোবাইল ফোন নির্ভর হয়ে পড়েছেন। প্রতি ফোন কলের দাম ২৯ পয়সা হলে এক কোটি প্রেমিক যদি প্রতিদিন এক মিনিট কথা বলেন আরেক কোটি প্রেমিকার সঙ্গে, তাহলে খরচ হবে ২,৯০০,০০০ টাকা। এই হিসাবে দুই কোটি প্রেমিক যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা প্রেমালাপ করেন, তাহলে তারা চার হাজার কোটি টাকায় প্রায় আট মাস ধরে প্রেমালাপ চালিয়ে যেতে পারবেন। তাদের প্রেম ও ভালোবাসা বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা নিত, তার ফলে প্রধানমন্ত্রীর শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হতো।
আর এত ঝামেলায় না গিয়ে ডাইরেক্ট প্রপাগান্ডায় যদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে পাইকারি হারে ৫০০ টাকায় বঙ্গবন্ধু কোট বানিয়ে চার হাজার কোটি টাকায় আট কোটি পুরুষকে দেয়া যেত। তার মানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি পনের বা ষোল কোটি হয় এবং তার অর্ধেক যদি পুরুষ হয়, তাহলে চার হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশে সব পুরুষকেই এই শীতের আগেই বঙ্গবন্ধু কোট ফৃ দেয়া যেত। অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কেউই বোঝেননি ভোট কেনার কি সুযোগ তারা হারিয়েছেন।
উলফাদস্যু : অর্থমন্ত্রী এখন পার্লামেন্টে বলেছেন, তার ওরকম কথা বলা উচিত হয়নি। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে এটা তাকে ক্ষমা করার বিষয় নয়- এটা হচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়। ওই হাইলি অ্যালার্ট সাংবাদিক ওয়ান পার্সেন্ট আর টেন পার্সেন্টের ভুলটা ধরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর মানসিকতায় চার হাজার কোটি টাকা, চল্লিশ হাজার কোটি টাকার এক শতাংশ রূপেই বিরাজ করছিল। তাই তিনি কেলেঙ্কারিটি উদঘাটিত হবার পরেও বিষয়টিকে আমলে আনছিলেন না। কিন্তু ওয়ান পার্সেন্ট হলেও এখানে যে চার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, তার গুরুত্ব তিনি বোঝেননি। সুতরাং এখন তিনি ক্ষমা চাইলে মানুষ তাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে- কিন্তু বিশ্বাস করবে না।
শেয়ারবাজারদস্যু: ক্ষমাও হয়তো করবে না। শেয়ারবাজার আমরা ম্যানিপুলেট করার পর অর্থমন্ত্রী গালিগালাজ করেছিলেন, আমাদের আর সাধারণ মানুষকে। সেই সাধারণ মানুষ তাকে এখন গালিগালাজের সুযোগ পেয়েছে। নো ওয়ান্ডার, অর্থমন্ত্রীর কানেও এটা পৌঁছেছে। তাই তিনি স্বীকার করেছেন, তিনিই এখন দেশের সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত ব্যক্তি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল বলেছেন, অর্থমন্ত্রী নিজেই এখন রাবিশ হয়ে গিয়েছেন।
ভূমিদস্যু: তার এই স্টেটাস হয়তো বেশি দিন নাও থাকতে পারে। যারা আগামী নির্বাচনে আবারো দাড়াতে চান, সেই সব উদ্বিগ্ন আওয়ামী এমপিদের দাবিতে অর্থমন্ত্রীকে হয়তো পদত্যাগ করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পদ ছেড়ে যাওয়া মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো অর্থমন্ত্রীকেও ‘দেশপ্রেমিক’ টাইটেল দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সে যাই হোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুয়া গ্রামের যে সন্তানটির কারণে আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি তার নামটি এখন পর্যন্ত কেউ উচ্চারণ করেননি। কারণটা কি? তার সঙ্গে আওয়ামী সরকারের কিছু শীর্ষ ব্যক্তির সুসম্পর্ক আছে বলে? কারণ যা-ই হোক না কেন, আমি নামটা বলছি। তিনি হচ্ছেন হলমার্ক গ্রুপের কর্ণধার তানভীর মাহমুদ তফসির। তানভীরের সত্তরোর্ধ্ব পিতা নুরুল ইসলাম কালু মিয়া এখনো গ্রামে টিনের ঘরেই থাকেন। পাশেই তানভীরের নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে কালু মিয়ার যাওয়া নিষিদ্ধ। চিটাগং ও কুমিল্লার এজেন্টদের কাছ থেকে মাল এনে কালু মিয়া এলুমিনিয়ামের পাতিল ও বাসনের ব্যবসা করতেন।
কালু মিয়ারা পাচ ভাই। বড় তিনি। দ্বিতীয় রইস মিয়া রেশন দোকানি। তৃতীয় মোখলেস মিয়া কৃষিকাজ করেন। চতুর্থ শফিকুল ইসলাম ও পঞ্চম হোসেন মিয়া উল্লেখ করার মতো কোনো কাজ করেন না।
কালু মিয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান হয়, তানভীর প্রথম ছেলে। সে পাশের তালশহর এআই হাই স্কুলে পড়াশোনা করে। ১৯৯৩-৯৪-এর দিকে বিয়ে করে। তার সুশ্রী স্ত্রীর নাম জেসমিন। তানভীরের একটি পুত্রসন্তান আছে।
কালু মিয়া বলেন, ১০-১২ কানিক্ষেত ও ঢাকায় শেখেরটেকের বাড়ি বিক্রি করে তিনি ও তার ছেলে দশ-বারো বছর আগে ঢাকায় চলে যান। সেখানে একটা মুদির দোকান দেন। কিছুকাল পরে তানভীর একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে অল্প বেতনে কাজ করেন। তারপর পিতার টাকায় হলমার্ক প্যাকেজিং নামে নিজের ব্যবসায় শুরু করেন।
এর পরের কয়েক বছরে কিভাবে তানভীর ব্যবসায় এত উন্নতি করলেন সে বিষয়ে গ্রামবাসীর কোনো ধারণা নেই। তবে তানভীরের বিত্ত সম্পর্কে কিছু ধারণা তাদের হয়। রোজার ঈদে পাচ-ছয় ট্রাক কাপড় গ্রামে বিতরণ করা হতো। কোরবানির ঈদে ট্রাকে করে অনেক গরু আনা হতো। ইফতারের জন্য গ্রামের সতেরটি মসজিদে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। প্রতি বছর মা আনোয়ারা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিন-চার হাজার লোক খাওয়ানো হতো। গ্রামবাসী শুনেছিল ঢাকায় তানভীরের অন্ততপক্ষে সাতাশটা গাড়ি আছে, আর আমরা শহরবাসীরা দেখেছি, রূপসী বাংলা হোটেলের সোনালী ব্যাংক ব্রাঞ্চের কেলেঙ্কারি ফাস হবার পর তানভীর যখন প্রথম সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হন, তখন নাম্বার প্লেটবিহীন একটি পাজেরো গাড়িতে আসেন, যার আগে-পিছে ছিল একাধিক গাড়ি। সেই সময়ে তানভীর এটাও বলেন, যে চার হাজার কোটি টাকা তিনি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটার পাই-টু-পাই শোধ করার সামর্থ্য তার আছে। কারণ তার সম্পত্তির পরিমাণ এর বিশ গুণ। অর্থাৎ আশি হাজার কোটি টাকা! মাত্র দশ বছরে তিনি কিভাবে আশি হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন সেই প্রশ্নও এখন উঠেছে।
(গ্লাসে পানি ঢেলে একটু খেয়ে) মুদির দোকানি থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়াটা নিন্দনীয় নয়। বরং প্রশংসারই বটে। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে তিনি কিভাবে মালিক হলেন। আমি নিজেও ঢাকার মৌলভীবাজারে একটা চায়ের দোকান খুলে ব্যবসায় শুরু করেছিলাম। তারপর গিয়েছি রিয়াল এস্টেট ব্যবসায় এবং বহু ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু চটচলদি এত বড়লোক আমিও তো হতে পারিনি!
তা ছাড়া সম্পত্তি অর্জন করতে গিয়ে আমাকে কত কঠিন সমস্যা পোহাতে হয়েছে। (উলফাদস্যুর দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে) আপনার পত্রিকা দুটোতে আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন রিপোর্ট হয়েছিল। মানুষ আমাদের ভূমিদস্যু টাইটেল দিয়েছিল। মানুষের আবাসিক সঙ্কট মেটানোর জন্য যে এত কাজ করলাম তার কোনো স্বীকৃতিই পেলাম না। পতিত ভূমিকে উন্নত ভূমি করলাম। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল হলো, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল হলো, ইউনিভার্সিটি হলো, কনভেনশন সেন্টার হলো, করপোরেট হেড কোয়ার্টার হলো। কিন্তু হায়! কারো কোনো স্বীকৃতি কোনো দিনই পেলাম না। শুধু গালি আর গালি। ভূমিদস্যু আর ভূমিদস্যু। তারপর সেনাসমর্থিত সরকারের হুমকি আর চাদাবাজি। স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়ে প্রাণ বাচাতে হলো। এখন দেশে ফিরে এসেও শান্তি নেই। ব্যবসায়ে চলছে প্রচণ্ড মন্দাবস্থা। ফ্যাট বিক্রি প্রায় বন্ধ। গ্যাস কানেকশন নেই। ইলেকটৃসিটি কানেকশন নেই। তা ছাড়া ক’জনের কাছেই বা শাদা টাকা আছে যে ফ্যাট কিনবে?
আগে বিদেশে গিয়ে আমরা রিহ্যাব মেলা করতাম। এখন তাতেও কোনো লাভ নেই। দেশের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা এখন দেশে ইনভেস্ট করতে চাইছেন না। এর ওপর সেই পুরানো দুশ্চিন্তা তো আছেই। আওয়ামী সরকারের পর আরেকটা সেনাসমর্থিত সরকার এলে আবার চাদাবাজি, জুলুমবাজি, স্পেশাল কোর্ট, জেলহাজত অথবা আবার স্বেচ্ছানির্বাসনে যাওয়া। ওহ মাই গড।
এখন দেখুন তানভীর কত কেভার। এক. (শেয়ারবাজারদস্যু ও এমএলএমদস্যুর দিকে তাকিয়ে) তানভীর আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের টাকা সরাসরি মেরে দেয়নি।
(কুইকরেন্টালদস্যুর দিকে তাকিয়ে) আপনার মতো সরাসরি তানভীর সাধারণ মানুষকে বিদ্যুতের বেশি দাম দিতে বাধ্য করেনি। তাই তানভীরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। বরং তানভীর তার পক্ষে কিছু মানুষকে বিক্ষোভে সাভারের পথে নামাতে পেরেছে। সারা ঢাকা শহর তার পক্ষের পোস্টারে ভরাতে পেরেছে। দুই. যেহেতু জনগণের সাথে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না এবং নেই, সেহেতু তার উত্থান নিয়ে কেউ (উলফাদস্যুর দিকে তাকিয়ে) ঈর্ষান্বিত ছিল না। মিডিয়ার কোনো নজর তার প্রতি ছিল না। তিন. যেহেতু তানভীরের ব্যবসায় স্রেফ কাগুজে সেহেতু দেশের কোনো চলমান সমস্যাই তাকে পীড়িত করেনি। গ্যাস বিদ্যুৎ না থাকলেও এবং দেশে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা থাকলেও তার কখনোই কোনো সমস্যা হয়নি। চার. আমিও আওয়ামী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছি। তার পরও মাঝে মধ্যে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু তানভীর আওয়ামী শীর্ষ পর্যায়ের এমন কিছু ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছে যার ফলে তার সম্পর্কে সরকারি প্রতিক্রিয়া হয়েছে অবিশ্বাস্যভাবে দুর্বল।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তানভীরের কাছ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। যেহেতু মিডিয়া এখন এ নিয়ে লেখালেখি করছে সেহেতু বাকি টাকার জন্য আদালতে গেলে সেটা কখন নিষ্পত্তি হবে সেটা আল্লাহই মালুম।
অর্থমন্ত্রী বলেননি কবে এবং কিভাবে দুই হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। উপরন্তু বাকি দুই হাজার কোটি টাকা যে ফেরত পাওয়া যাবে না সে বিষয়ে হাসিমুখে মোলায়েম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অথচ (শেয়ারবাজারদস্যুর দিকে তাকিয়ে) মনে করে দেখুন, স্টক এক্সচেঞ্জ কেলেঙ্কারির পরে তিনি আপনাদের দুষ্ট লোক বলেছিলেন এবং বিনিয়োগকারীদের আরও কঠিন সমালোচনা করেছিলেন।
আমাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজ সরকারগুলো লেগে যায় বলে মিডিয়াতে প্রচুর ইনভেস্ট করতে হয়েছে। দৈনিক পত্রিকা করতে হয়েছে। অনলাইন নিউজ সার্ভিস করতে হয়েছে। টিভি চ্যানেল খুলতে হয়েছে। রেডিও স্টেশন করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সাংবাদিক লেখক কলামিস্টদের পেছনে নিয়মিত খরচ করতে হয়েছে। লন্ডন প্রবাসী এক কলামিস্ট যিনি একটি গানের অর্ধ রচয়িতা এবং যিনি জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে এপৃল ১৯৭৪ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র সোয়া দুই বছর ছিলেন, তাকে নিয়মিত পাউন্ড পাঠাতে হয়েছে, মানিলন্ডারিং অভিযোগের ঝুকি নিয়ে। এসব কিছুই করতে হয়নি তানভীরকে।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সাথে রেগুলার কনটাক্ট রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন চেম্বারে পদ দখল করতে হয়েছে। এসব কিছুই করতে হয়নি তানভীরকে।
তাহলে আজ আমাদের স্বীকার করতেই হবে, তানভীর মাহমুদ তফসিরই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বুদ্ধিমান, কৌশলী ও সফল ব্যবসায়ী যে জনগণকে প্রত্যক্ষভাবে আঘাত না করে, সব কূল এমনভাবে রক্ষা করে চলেছে যার ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো কড়া একশন নিতে সরকার এখন পর্যন্ত উদ্যোগী হয়নি। তানভীর আমাদের সবাইকে টেক্কা দিয়েছে। আমরা সবাই ফালতু। ফালতু। ফালতু।
মিগদস্যু: ঠিকই বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে সেনাসমর্থিত সরকার বহু একশন নিয়েছিল। গুলশানে বহুতল হোটেল নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
উলফাদস্যু: আমার পরিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। ওই সেনাসমর্থিত সরকার আমাকে দুইশ দুর্নীতিবাজদের লিস্টভুক্ত করেছিল।
শেয়ারবাজারদস্যু: আপনাকে ওয়ান-ইলেভেন সরকার জেলে নেয়নি। আমাকে জেলে নিয়েছিল। তারপর এই আওয়ামী সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত তেত্রিশ লাখ পুজি বিনিয়োগকারী আমাদের পিছু লেগেছিল। আওয়ামী সরকারের রহমতে এখন কিছুটা স্বস্তিতে আছি। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না।
এমএলএমদস্যু (বিব্রত স্বরে): লুটপাটে আমরা নবাগত। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে আমরা ছিলাম না। এখন আছি। কিন্তু বড়ই বিপদে আছি। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী সমর্থক জনৈক জেনারেলকে শীর্ষ পদে বসিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। জামিনে মুক্ত আছি। একাউন্ট সব ফৃজ হয়ে গেছে। আমাদের পেছনে লাগবে পঞ্চাশ ষাট লাখ বিনিয়োগকারী। আমাদের ভবিষ্যতে যে কি আছে সেটা অর্থমন্ত্রীর ভাষায় বলতে হয়, আল্লাহই মালুম। আল্লাহর অসীম দয়ার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না।
কুইকরেন্টালদস্যু: আপনারা বলছেন, আপনাদের পেছনে লেগেছে কয়েক লাখ মানুষ। আমার সমস্যার তুলনায় এটা তো কিছুই না। বাংলাদেশের পনের কোটি মানুষ আমাদের পেছনে লেগেছে। তারা বলছে, আমরা নাকি অচল জেনারেটর আমদানি করেছিলাম। অথবা সেকেন্ড হ্যান্ড দুর্বল জেনারেটর ইমপোর্ট করেছিলাম। আমরা নাকি সরকারের কাছে খুব চড়া দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছি। তাই সরকার বাধ্য হয়েছে এর মধ্যে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে। সর্বশেষ দাম বেড়েছে পহেলা সেপ্টেম্বরে এসব কারণে কোটি কোটি মানুষ ক্ষেপে আছে। তারা স্বীকারই করতে চায় না যে আমরা বাংলাদেশ থেকে লোডশেডিং দূর করেছি। অকৃতজ্ঞ কোথাকার। আনগ্রেটফুল লট। সব রাজাকার। সব মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।
উলফাদস্যু: লোডশেডিং দূর হলো কোথায়? প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন, ‘মানুষ যাতে লোডশেডিংয়ের কথা ভুলে না যায় সে জন্য আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে বলে দিয়েছি প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই ঘণ্টা করে লোড শেডিং করতে।’ তিনি সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এই নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া তিনি একই সঙ্গে এটাও বলেছেন, ‘দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে বিদ্যুতের বিল কম আসবে, জনগণের টাকা বাচবে।’ এক দিকে তিনি স্বীকার করেছেন মানুষকে হয়রানি করতে তিনিই বলেছেন। অন্য দিকে তিনি বিদ্যুতের বিল দিতে ওষ্ঠাগত মানুষের সঙ্গে করেছেন নির্মম রসিকতা। এই উক্তি যে তার সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও তীব্র প্রতিশোধপরায়ণতার পরিচায়ক সে বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। তিনি যে দেশবাসীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে চান সেটা ১৯৮৭-তে বিবিসির সিরাজুর রহমানকে বলেছিলেন। সেটাই তিনি এখন করছেন। এই উক্তির জন্য যে কোনো ইলেকটৃসিটি কনজিউমার তার বিরুদ্ধে পাবলিক ইন্টারেস্টে মামলা করতে পারেন। কিন্তু কেউ করতে সাহসী হচ্ছে না। তার মানে, লোডশেডিং চলতেই থাকবে এবং আমরা ভুক্তভোগী হবো।
ভূমিদস্যু: তানভীরকে এমন কোনো ঝামেলাই পোহাতে হচ্ছে না। হি ইজ দি গ্রেটেস্ট। মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরে তানভীরই গ্রেটেস্ট। তানভীর যে রাষ্ট্রীয় সহানুভূতিসূচক আচরণ পাচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। দৈনিক নয়া দিগন্তে রিপোর্ট হয়েছে ‘হলমার্কের হাতিয়ে নেয়া টাকা দশ হাজার কোটি ছাড়াতে পারে।’ দৈনিক সমকালে রিপোর্ট হয়েছে ‘বিপাকে আরো ২৬ ব্যাংক।’ সে ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে গোটা ব্যাংকিং সিসটেমই হঠাৎ ধসে পড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী সে রকম আশংকাও প্রকাশ করেছেন। আর তাই যদি হয় তাহলে আমাদের ব্যবসার কী হবে? আর আমাদের টাকাগুলোরই বা কি হবে? (আবেগী স্বরে) বন্ধুগণ! এই দুরবস্থার বিরুদ্ধে আজ আমাদের রুখে দাড়াতেই হবে। কোথাকার কোন জালিয়াত এসে গণপ্রতারণায় আমাদের টপকে যাবে, সেটা হতে পারে না। কিছুতেই না।
ভূমিদস্যু তার বক্তব্য শেষ করলেন।
সারা ঘরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করলো কিছুক্ষণ।
মিগদস্যু: কিন্তু আমরা কি করবো?
উলফাদস্যু: যাই করি না কেন আমাদের সেটা খুব সাবধানে করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তো হিলারিরও তোয়াক্কা করছেন না। তিনি ডু আর ডাই-য়ের মেজাজে আছেন। তানভীরের কিসসু না হলেও আমাদের বিরুদ্ধে অনেক একশনই নেয়া হতে পারে তার প্রতিশোধস্পৃহা থেকে।
শেয়ারবাজারদস্যু: ইয়েস। আই ফুললি অ্যাগৃ। আমি এক মত।
এমএলএমদস্যু: আমিও।
কুইকরেন্টালদস্যু: আমিও। এখন বলুন, আমাদের কি করণীয়? সে বিষয়ে আপনার কোন প্ন্যান আছে কি?
ঘরে আবার কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতা।
ভূমিদস্যু: হ্যা, আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি গভীর চিন্তা করেছি।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): কি প্ল্যান? কি প্ল্যান?
ভূমিদস্যু: তানভীর কিভাবে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়েছিল? সোনালী ব্যাংকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এবং কিছু প্রাইভেট ব্যাংক হাত করে। তাই না?
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে)! হ্যা তাই।
ভূমিদস্যু: এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ব্যাংক কোনটি?
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): বাংলাদেশ ব্যাংক।
ভূমিদস্যু (দৃঢ় স্বরে): আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক হাত করবো।
এমএলএমদস্যু (সন্দেহের স্বরে): সেটা কি সম্ভব হবে? সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ অফিসার, হেড অফিসের কর্মকর্তা, পর্ষদের সদস্য, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে তানভীর হাত করেছিল। সে রকম কিছু করা কি সম্ভব হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে? গভর্নর যিনি স্বঘোষিত চাষিপুত্র, তাকে হাত করতে পারবেন কি?
ভূমিদস্যু: না। সে পথে আমরা যাবো না।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): তাহলে?
ভূমিদস্যু: আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকটাই দখল করবো। চাষিপুত্রকে গ্রামে চাষাবাদের কাজে পাঠিয়ে দেব। তারপর আমরাই বাংলাদেশ ব্যাংক চালাবো। তখন তানভীরের মতো বাটপাড়রা আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ব্যাংকের ধারে কাছে ঘেষতেও সাহস পাবে না।
উলফাদস্যু: দেশে মানিক থাকলেও এখনো তো কিছু আইনকানুন আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে দখল করবো আমরা? গভর্নরকে গ্রামে পাঠাবো। কিন্তু অর্থমন্ত্রীকে কোথায় পাঠাবো?
ঠিক সেই সময়ে দেয়ালে লাগানো টিভি স্কৃনে ব্রেকিং নিউজ শব্দ দুটি ভেসে উঠলো। তারপরই স্ক্রলে সংবাদটি দেখা গেল।
ব্রেকিং নিউজ... প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আগামী ২৯ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন... বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন সদস্যদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে... আজই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে নতুন মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করবেন..
.
ভূমিদস্যু রিমোট কনট্রোলে টিভির সাউন্ড অন করলেন। একাগ্রভাবে সবাই টিভির খবর শুনতে লাগলেন। খবর শোনা শেষ হলে ভূমিদস্যু তার মুখ খুললেন।
ভূমিদস্যু: অর্থমন্ত্রীর কি হবে সেই প্রশ্নের উত্তর আপনারা পেয়ে গেলেন। যে নির্বাচন ঘোষিত হলো তাতে আমাদের দখল কর্মসূচি খুব সোজা হয়ে গেল।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): তার মানে?
ভূমিদস্যু: আপনারা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পেরেছেন এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন চায়। সুতরাং এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও বিজয়ী হবে। লক্ষ্য করুন, তারা লাকি ডেট আবার ২৯ ডিসেম্বরই বেছে নিয়েছে। এই নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ফান্ডিং করবো। আর সেটি হবে খুব সহজে।
নিমন্ত্রিতরা (সমস্বরে): কিভাবে?
ভূমিদস্যু: বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করলে শুধু যে অন্য সব ব্যাংকই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে তা নয়। আমাদের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিকিউরিটি পৃন্টিং প্রেস, যেখানে সব নোট ছাপা হয় তারও নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যেটা এই গাজীপুরেই অবস্থিত। লাঞ্চের পর আমি আপনাদের সবাইকে ওই সিকিউরিটি পৃন্টিং প্রেস দেখাতে নিয়ে যাবো। অলরেডি তার পাশে আমার প্রাইভেট ফোর্স পাহারা দিচ্ছে, যারা দখলে এক্সপার্ট।
নিমন্ত্রিতরা সবাই আনন্দে ফেটে পড়লেন।
ভূমিদস্যু (আত্মপ্রসাদের হাসি মুখে): আমরা গাজীপুর থেকে নোট ছাপাবো। তারপর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব কমার্শিয়াল ব্যাংক কনট্রোল করবো। ওই সব ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ইলেকশনে আওয়ামী প্রার্থীদের টাকা দেব। এবার আর আওয়ামী লীগকে ইনডিয়া থেকে বস্তা বস্তা টাকা আনতে হবে না। এবার আর আওয়ামী লীগকে রাজাকার ইংরেজি সাপ্তাহিক দি ইকনমিস্ট-এর অভিযোগ শুনতে হবে না। নির্বাচনে জেতার পরে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক দখলকে বৈধতা দিয়ে দেবে। এটাই হবে রাষ্ট্রের সমর্থনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় লুট!
সবাই (সমস্বরে): কি চমৎকার সলিউশন! কি চমৎকার। কি চমৎকার। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু! জয় শেখ হাসিনা!
৯ সেপ্টেম্বর ২০১২
শফিক রেহমান: প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাংকর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ► 2026 (1671)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
September
(2308)
-
▼
Sep 11
(108)
- দম্ভ অহংকারে বিধ্বস্ত সভ্যতা by এলাহী নেওয়াজ খান
- একটা কালো দিন by ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- ‘বিলাসি’ শাওন এবং মৃত্যুঞ্জয়ী হুমায়ূন by মুশতাক ইব...
- ঘরে ঘরে রোজা আসে, ঈদ আসে কি? by খোমেনী ইহসান
- এরশাদের ভারত সফরঃ রাজনীতিতে নতুন কৌতূহল by এলাহী ন...
- জাকাতের রঙিন শাড়ি বনাম কাফনের সাদা কাপড় by আমীন আল...
- হারিয়ে যাচ্ছে কাসিদা by দীপংকর গৌতম
- নতুন ছবিতেও...
- কঙ্গনার খোলামেলা প্রেম
- আধুনিক জামানার খোলামেলা রানী
- করদাতাদের সরকার কিছু একটা ফেরত দিক! আসুন সবাই আয়কর...
- ৪০,০০০,০০০,০০০ টাকা আত্মসাতের সহজ উপায়... by শফিক ...
- নতুন ইনিংসে কেটি হোমস
- সিএ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি, চট্টগ্রাম কাস্টমস...
- শতাধিক ছাত্রীর চুল কেটে নেয়ার ঘটনায় দুই শিক্ষক দোষ...
- ভোলায় ছাত্র-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৫০- ফ্টুবল...
- জনগণের সেবায় আরও সচেষ্ট হোন, অন্যায় করলে রেহাই নেই...
- আগাম নির্বাচনের আভাস দিলেন এরশাদ- ১০৫ প্রার্থী বাছ...
- এক শর্তে আটকে আছে বিশ্বব্যাংককে চিঠি পাঠানো- মসিউর...
- মিডিয়া ওয়াচ
- ও বন্ধু আমার by সুগত সরকার
- মাদক নিয়ে কৌতূহলও নয়... by জিনিয়া আফরিন
- যাত্রাকালীন অসুস্থতা
- হাঁপানি
- বুকে ব্যথা
- শরীর মনে শক্তি বেড়ে উঠুক দেহচর্চায় by অধ্যাপক ডা....
- শেষ পর্যন্ত লটারি!
- শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা
- শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নয়ন এবং শিক্ষক আন্দোলন by ড. হা...
- উপাচার্য সরালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়ত...
- হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা হুমায়ূন কবিরের দেশ ছাড়ার ...
- বুয়েটের উপউপাচার্যের অব্যাহতি ॥ ক্লাস আজকালের মধ্য...
- মানুষ মিথ্যা বলে যে কারণে
- বাগরাম কারাগারের নিয়ন্ত্রণ এল আফগানদের হাতে
- ৯/১১ হামলার ১১তম বর্ষপূর্তি আজ- বিশ্ব বাণিজ্য কেন্...
- সাক্ষাৎকারে সেই কমান্ডো- প্রথম গুলির পরও নড়ছিলেন ও...
- নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে যৌনপল্লিতে বিক্রি!
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- আবেদনপত্রের বর্ধিত মূল...
- বরিশালে খ্রিষ্টান চার্চের সম্পত্তি বেদখল! by সাই...
- রাজশাহীতে আইজিপি- জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে
- এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে আঞ্চলিক সম্মেলন- আর্...
- বিচার- ব্রেইভিক: গর্বিত (!) এক গণহত্যাকারী? by শ...
- স্মরণ- অবিস্মরণীয় শাফায়াত জামিল by মনজুর রশীদ খান
- প্রধানমন্ত্রী কি একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন?- ডিজিটাল ব...
- ব্যাংক পরিচালনায় দ্বৈতশাসন নয়- অর্থমন্ত্রীর বোধোদয়
- চারদিক- হংসছানার জলকেলি by বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী
- ফ্যাশনে-গানে পাঁচ কবিকে স্মরণ by জিয়াউর রহমান চৌ...
- ভেষজে সৌন্দর্যচর্চা by শর্মিলা সিনড্রেলা
- দৃকের ২৩ বছর- প্রাপ্তি ও স্বপ্ন by পার্থ সরকার
- সাফল্যে বন্ধুর পাশে by শান্তা তাওহিদা
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- দুই প্রার্থী মাঠে নেমেছেন- ছাড় দিতে রাজি নন আফসারউ...
- অরণ্যে রোদন- বেবুন, কোকেইন ও ক্ষমতাধরেরা by আনি...
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড: জেরায় সাক্ষী প্রতিমন্ত্রী জাহা...
- হলমার্ক কেলেঙ্কারি: ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ন...
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রদল কর্মীদের বেধড়ক পিটিয়েছ...
- রেলের এক হাজার কর্মী নিয়োগে ঘুষ-বাণিজ্য by একরাম...
- সরকার এখনই কিছু কাজ সম্পাদন করুক by মমতাজ লতিফ
- আলবদর ১৯৭১ by মুনতাসীর মামুন
- রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা-একসঙ্গে ঢাক...
- বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন, বাড়াবাড়ি চলতে থাকলে রাষ্ট্রের...
- সড়ক দুর্ঘটনা-শিশু চালাচ্ছিল হলার রাজশাহীতে দুর্ঘটন...
- বিমানে ইচ্ছামতো এজেন্ট নিয়োগ-সুযোগ বাড়ছে দুর্নীতির...
- চার হাজার শিক্ষাঘণ্টা নষ্ট শনিবার খুলছে বুয়েট by অ...
- ঢাবিতে ছাত্রদলকে পিটিয়ে তাড়াল ছাত্রলীগ
- আ. জলিলের ঋণ-পাঁচবার পুনঃতফসিল শেষে এখন পুরো সুদই ...
- লটারির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব না...
- চট্টগ্রামে আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে বদলির অপেক্ষা...
- যাহা চাই যেন জয় করে পাই গানে গানে নজরুল বন্দনা- সং...
- হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠ...
- উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও চাহিদা বেড়েছে দশ গুণ- চা শিল্প...
- ভিনদেশ থেকে আসা ছয় মাসের অতিথি ওরা, নিধন হচ্ছে ফাঁ...
- অর্থমন্ত্রীকে বিএনপি নেতারা-পালানোর পথ নেই, দেশের ...
- সোনালী ব্যাংকে নিজস্ব বিধানও লঙ্ঘিত-পর্ষদে সর্বনিম...
- সংলাপ নিয়ে তৎপর বিদেশি কূটনীতিকরা by মেহেদী হাসান
- গুমের ঘটনা তদন্তে পাকিস্তানে জাতিসংঘ দল
- প্রিন্স হ্যারিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে তালেবান
- ভারতে কার্টুনিস্ট রিমান্ডে
- একটি মৃত্যু, দুটি রিপোর্ট by সজল জাহিদ
- আন্তর্জাতিক-ন্যাম উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ কতটুকু...
- ফের বিনামূল্যে সাবমেরিন... by জাকারিয়া স্বপন
- 'আমুল' বিপল্গবের 'দুধওয়ালা' by আসিফ আহমেদ
- টিপাইমুখ প্রকল্প-বিস্তারিত নথিপত্র কতটা বিস্তৃত হব...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-বুয়েটে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কয়েকট...
- চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা-বাঁদরামি বটে!
- প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান-পুলিশ যেভাবে বদলে যেতে পারে
- হংকংয়ে আইনপরিষদ নির্বাচন-ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রা...
- টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিলেন 'নো ইজি ডে'র লেখক-'বিন ...
- বাগরাম কারাগারের দায়িত্ব বুঝে নিল আফগান কর্তৃপক্ষ
- অকারণে সেতু-সরকারি অর্থ অপচয় কেন
- মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি-প্রতারণা বন্ধ করতে কার্...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি ছিল
- তেহরানে ন্যাম সম্মেলন by মুহাম্মদ রুহুল আমীন
- মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা ও কয়েকটি প্রস্তাবনা by ডা...
- চরাচর-মাঝরাতের মাছের আড়ত by পাভেল রহমান
- কথা সামান্যই-কষ্টার্জিত শব্দের জায়গায় লিখুন শ্রমার...
- কল্পকথার গল্প-... সে কি অমনি হবে! by আলী হাবিব
- ইতিউতি-হারিয়ে যাওয়া ট্রেন by আতাউস সামাদ
- সাংবাদিক কর্মসূচীর ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ড. মাহফুজের...
- হলমার্কসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তি দাবি এফবিসিসিআইর
- শাহজালালে সাড়ে ১৩ কেজি সোনার চালান ধরা পড়েছে- গোয়ে...
- মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পক্ষের প্রতীক ছিলেন গোলাম আযম- য...
- পরিস্থিতি দেখতে এসে আহত হয়ে ফিরল দশ ছাত্রদল কর্মী-...
- পদ্মা সেতু নিয়ে দাতাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত ...
- পর্নো ছবির জন্য মন খারাপ সানি লিওনের by জাবেদ ইকবাল
- মিনি পিক মৌসুম ॥ সার সঙ্কট- ০ কৃষিমন্ত্রীর দ্রুত হ...
- পাত্তা পাওয়ার অনেক উপায়
- প্রিয়াংকা চোপড়ার মরণোত্তর দেহদানের ঘোষণা
-
▼
Sep 11
(108)
-
▼
September
(2308)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
কালবেলা
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
মুসলিম
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
রাশিয়া
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইউরোপ
ইতিহাস
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
সন্ত্রাস
আফ্রিকা
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
সংখ্যালঘু
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
হিন্দু
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
স্বাস্থ্য
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
লেবানন
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
জীবনযাপন
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
চিকিৎসা
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
কলকাতা
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
ব্রাজিল
Exclusive
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
ইয়েমেন
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
উত্তর কোরিয়া
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
জনস্বাস্থ্য
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
প্রযুক্তি
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
কাতার
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
আরব আমিরাত বা দুবাই
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
ইসলাম
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
জোহরান মামদানি
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইহুদি
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment