Sunday, October 18, 2026

কেন বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ক্ষোভের নেপথ্যে যেসব কারণ

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসঃ ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ, দীর্ঘ ও অতিরিক্ত পাঠসূচি, শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছাত্র ইউনিয়নের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালিত আবেদনব্যবস্থা বাতিলেরও দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক।

প্যারিসের শ্রমজীবী মানুষের বসবাস অধ্যুষিত এলাকা সেইন-সাঁ-দেনির রোজা পার্কস হাইস্কুলের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইসাম মাখলুফি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই। জানালাগুলোও আমরা ঠিকমতো খুলতে পারি না।’

তবে এখন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যরাও বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে ক্ষোভ থেকে সাধারণ মানুষও রাজপথে নামছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বেড়েছে, যা এই অসন্তোষকে বাড়িয়ে তুলেছে।

এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর দুই মেয়াদের সীমা থাকায় তার ক্ষমতায় থাকার সময়ও শেষের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংগঠন ও বামপন্থী দলগুলো চলমান বিক্ষোভকে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছে।

কেন বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ক্ষোভের নেপথ্যে যেসব কারণ
প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক-এ বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত।

মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তুরস্কের

ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সংহতি ও যৌথ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশন শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।

ফিদান বলেন, ‘ওআইসির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে আমরা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংহতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেছি।’

ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের এই অধিবেশনে ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট ও অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তুরস্কের বক্তব্যে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক সংহতি এবং যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাগদাদ সফরে ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার হাইবেত আল-হালবুসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিদান।

এ ছাড়া ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জায়দান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস কমিশনের চেয়ারম্যান ফালিহ আল-ফাইয়াদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আব্বুদির সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।

ফিদান ইরাকি তুর্কমেন ফ্রন্টের প্রেসিডেন্ট ও কিরকুকের গভর্নর মেহমেত সেমান আগাওলুর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিদ্দু শহরে অভিযানের সময় দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করেছেন ইসরায়েলি সেনারা। ছবি: মোহাম্মদ তোরোকমান/রয়টার্স
২০২৩ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু >> ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিদ্দু শহরে অভিযানের সময় দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করেছেন ইসরায়েলি সেনারা। ছবি: মোহাম্মদ তোরোকমান/রয়টার্স > ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৩৫০ জন কঠোর পরিস্থিতিতে বন্দি রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, ফিলিস্তিনি শিশুদের ভয় দেখানো ও আটকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। পরে তাদের ওপর নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ গঠন বা মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াই শিশুদের আটক রাখছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের আটক শিশুদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে এবং পরিবার ও শিক্ষাজীবনের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। যেসব শিশুকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নির্যাতন, অনাহারে রাখা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তদন্ত এবং এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা। সূত্র: আলজাজিরা ১৫ অক্টোবর ২০২৬

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের বিরুদ্ধে রাজধানী তিউনিসে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবারের (১৭ অক্টোবর) এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র দুর্বল করা এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে সাঈদবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ইউজিটিটি এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়।

অর্থনৈতিক সংকট, জনসেবার মানের অবনতি, ঘন ঘন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের মধ্যে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

২০২১ ও ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ নিজের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন। এ সময় তিনি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন, কয়েক ডজন বিচারককে বরখাস্ত করেন এবং ডিক্রির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। তার বিরোধীরা এসব পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাঈদ সরকার নাগরিক সমাজের সংগঠন, সাংবাদিক ও বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন জোরদার করেছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাঈদ নিজেকে স্বৈরশাসক নন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, বিরোধীরা সামাজিক অস্থিরতা উসকে দিতে পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।

শনিবারের বিক্ষোভে রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভিন্ন ধারার বিরোধী দলগুলোকে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বেকার ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সূত্র: রয়টার্স

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

ইয়েমেনে ১৫৯ সরকারি সেনাকে মুক্তি দিল হুতি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে আটক ১৫৯ জনকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির হুতি বিদ্রোহীরা। মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থক যোদ্ধা বলে জানিয়েছে হুতি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আইসিআরসি জানায়, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে সংস্থাটির কর্মীরা। তবে তাদের প্রত্যাবর্তনের বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি।

হুতি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখলের সময় এসব যোদ্ধা আটক হন। তারা কোনো ধরনের লড়াই ছাড়াই ‘স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ’ করেছিলেন বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হুতি কর্মকর্তা আবদেলকাদের আল-মুরতাদা সাংবাদিকদের জানান, সাধারণ ক্ষমার আওতায় এই ১৫৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সাধারণ ক্ষমার অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ৩২৩ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। দেশটির এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলেছে। নতুন করে সৌদিতে হামলা সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

একজন হুতি যোদ্ধা। ছবি: ইপিএ
একজন হুতি যোদ্ধা। ছবি: ইপিএ

সৌদি আরবে হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে দিচ্ছে ইরান

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্টঃ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অনেকগুলোই ইরানের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরান ও হুতিদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক অভিযানের সমন্বয় অত্যন্ত জোরালো।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ইরানবিষয়ক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিত্রিনোভিচ বলেন, হুতিদের সফলতায় ইরানের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। এতে সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তেলের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তার মতে, এখানে অভিভাবক ও অধীন পক্ষের সম্পর্কের চেয়ে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষেরই অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলায় পাঁচজন নিহত হন। এ ছাড়া সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় ১৭ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।

নিউইয়র্কভিত্তিক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টারও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছে।

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আগেও অস্বীকার করেছে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়িয়ের সেপ্টেম্বরের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, হুতিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যরা সৌদি আরব ও অঞ্চলটিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রশংসা করেছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ব্যারন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হুতিদের দ্রুত সামরিক অগ্রগতির পেছনে ইরানের সহায়তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

তিনি বলেন, ‘ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা গত কয়েক মাসে হুতিদের দ্রুত সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি করেছে।’

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইয়েমেনে হুতি সমর্থকরা আব্দুল-মালিক আল-হুতি ও প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছবি সম্বলিত পোস্টার ধরে আছেন। ছবি: শাটারস্টক
ইয়েমেনে হুতি সমর্থকরা আব্দুল-মালিক আল-হুতি ও প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছবি সম্বলিত পোস্টার ধরে আছেন। ছবি: শাটারস্টক

সৌদির হামলায় ইয়েমেনে শিশুসহ ১২ জন নিহত

ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। খবর এএফপির।।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাইজ প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালায় সৌদি যুদ্ধবিমান। এতে অন্তত ৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, রাতভর ধামার প্রদেশে চালানো হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

হুতিদের দাবি, এসব হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জোটটি নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে।

সূত্র : সিবিএস নিউজ

ইয়েমেনে সৌদির হামলার পরের দৃশ্য। পুরোনো ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনে সৌদির হামলার পরের দৃশ্য। পুরোনো ছবি: রয়টার্স

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা কমছে, সহযোগীদের দুষছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা কমে আসায় নিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারে অর্থ ব্যয়, নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রার্থী বাছাই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছেন। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তবে যেসব ভোটার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী, তাদের সক্রিয় করতে সমর্থকদের বারবার বলছেন, তারা যেন এমনভাবে ভোটের বিষয়টি বিবেচনা করেন, যেন ব্যালটে ট্রাম্পের নামও রয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর তার নিজের কম জনপ্রিয়তার প্রভাব এবং নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণে তার ভূমিকা নিয়ে তিনি খুব একটা কথা বলছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনি কৌশল নিয়ে মতবিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী জেমস ব্লেয়ার এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক সুপার প্যাক ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ পরিচালনা করেন ব্লেয়ার। নির্বাচনি প্রচারের তহবিল ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তদারকিতে ওয়াইলসের ভূমিকা নিয়েও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের অবস্থানের উন্নতি না হওয়ায় উপদেষ্টারাও পরস্পরকে দায়ী করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াইলস এ পরিস্থিতির জন্য ব্লেয়ারকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে, ব্লেয়ার হোয়াইট হাউসের আইনপ্রণয়নবিষয়ক দলকে দায়ী করছেন।

ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আসলে যা ঘটছে, তা হলো সবাই একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে।’

বিভিন্ন জনমত জরিপের ইঙ্গিত, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ দুই বছরে নিজের আইনগত ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর প্রশাসনের কার্যক্রম তদন্তের জন্য কংগ্রেসের সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনি প্রচার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে।

তবে শুক্রবার সুসি ওয়াইলসের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াইলসকে ‘বুদ্ধিমান’ ও ‘দৃঢ়’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনি নিজের পদেই বহাল থাকবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘সুসি এখানে আছেন এবং দীর্ঘ সময় এখানেই থাকবেন।’

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এসব মন্তব্যকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, ‘কিছু লোক কোনো ভিত্তি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ সেজে অনুমাননির্ভর কথা বলছেন।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও সুসি ওয়াইলস কোনো জবাব দেননি।

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরের এই মতবিরোধ দলটির নির্বাচনি কৌশল ও নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।

সূত্র: রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

আলাস্কা হস্তান্তর

বিশ্বের ইতিহাসে ভূখণ্ড কেনাবেচার অন্যতম আলোচিত ঘটনা আলাস্কা হস্তান্তর। ১৮৬৭ সালের ১৮ অক্টোবর রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আলাস্কাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকায় রাশিয়ার ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে যুক্ত হয় এক বিশাল অঞ্চল। তবে আলাস্কা হস্তান্তরের সাল নিয়ে একটি প্রচলিত ভুল রয়েছে। ঘটনাটি ১৮৬৬ সালে নয়, ১৮৬৭ সালে ঘটেছিল।

আলাস্কায় রাশিয়ার উপস্থিতি শুরু হয় আঠারো শতকে। ১৭৪১ সালে রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত অভিযানে নাবিক ভিতুস বেরিং উত্তর আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে পৌঁছান। এরপর রাশিয়ার পশম ব্যবসায়ীরা আলাস্কায় বসতি স্থাপন করতে থাকেন। বিশেষ করে সামুদ্রিক ভোঁদড়ের মূল্যবান পশম সংগ্রহের জন্য অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেখানে রাশিয়ার বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আলাস্কা রাশিয়ার কাছে অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। পশম ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। দুর্গম অঞ্চলটির প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর রাশিয়ার আর্থিক ও সামরিক দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হাতে আলাস্কা হারানোর আশঙ্কা ছিল। এসব কারণে রাশিয়া অঞ্চলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তখন ভূখণ্ড সম্প্রসারণে আগ্রহী ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ সেওয়ার্ড আলাস্কা কেনার উদ্যোগ নেন। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর ১৮৬৭ সালের ৩০ মার্চ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ৭২ লাখ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কিনে নেয়। ১৮ অক্টোবর আলাস্কার সিটকা শহরে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাশিয়ার পতাকা নামিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন উভয় দেশের সামরিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা। সেই দিন থেকে আলাস্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন শাসন শুরু হয়। আজও দিনটি ‘আলাস্কা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

তবে আলাস্কা কেনার সিদ্ধান্ত প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকে একে ‘সেওয়ার্ডের বোকামি’ বলে বিদ্রুপ করেন। তাদের ধারণা ছিল, বরফে ঢাকা এই বিশাল ভূখণ্ডের কোনো অর্থনৈতিক গুরুত্ব নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে আলাস্কা ও সংলগ্ন অঞ্চলে সোনার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখানে বিপুল তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। অঞ্চলটির সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলাস্কার কৌশলগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৫৯ সালের ৩ জানুয়ারি আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯তম অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। আলাস্কা হস্তান্তর শুধু দুটি দেশের মধ্যে ভূখণ্ড কেনাবেচার ঘটনা ছিল না। এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন ঘটে। তবে এই লেনদেনে আলাস্কার আদিবাসীদের মতামত নেওয়া হয়নি। তাদের পূর্বপুরুষের ভূমির ওপর নতুন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৬৭ সালের ১৮ অক্টোবর তাই ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। রাশিয়ার জন্য এটি ছিল একটি বিশাল ভূখণ্ড হারানোর ঘটনা। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

আলাস্কা হস্তান্তর
আলাস্কা হস্তান্তর

পাঁচ বছরের মধ্যে মহাকাশে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মহাকাশে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্যাটেলাইট লক্ষ্য করে হামলার উপযোগী অস্ত্র তৈরি করছে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররাও সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক মহাকাশ প্রকল্পে কাজ করা কিছু প্রতিষ্ঠান এখন সামরিক প্রযুক্তি তৈরিতে যুক্ত হয়েছে। মহাকাশের আবর্জনা অপসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রোস্কেল গোপন সামরিক কর্মসূচিতে কাজ করছে। অন্যদিকে, স্যাটেলাইটে জ্বালানি সরবরাহের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা অরবিট ফ্যাব যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মহাকাশে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা তৈরিতে কাজ করছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের ফ্রিম্যান এয়ার অ্যান্ড স্পেস ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. জুলিয়া বালম বলেন, প্রতিপক্ষের দেশগুলো প্রতিদিনই মহাকাশে মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

লন্ডনে অ্যাস্ট্রোস্কেলের আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মহাকাশে সংঘাতের উদ্ভব দেখছি না, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এমন সংঘাত শুরু হতে পারে।’

স্যাটেলাইটে হামলা হলে বিপর্যস্ত হতে পারে আধুনিক জীবন

স্যাটেলাইটে বড় ধরনের হামলা হলে বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয়ব্যবস্থা (জিপিএস), ইন্টারনেট, টেলিভিশন সম্প্রচার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আকাশপথে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আধুনিক জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ২০২২ সালে উৎক্ষেপণ করা রাশিয়ার কসমস-২৫৫৩ নামের একটি স্যাটেলাইটে পারমাণবিক যন্ত্রের উপাদান থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে বিকিরণ ও উচ্চশক্তির কণার কারণে হাজার হাজার স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে পৃথিবীর কক্ষপথের কিছু অংশ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার কিছু স্যাটেলাইটকে অন্য মহাকাশযানের কাছাকাছি সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার একটি সামরিক স্যাটেলাইট ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়ে আসা আইসিআইই এক্স৩৬ নামের একটি স্যাটেলাইটের কাছাকাছি চলে যায়।

অন্যদিকে, কক্ষপথে থাকা বস্তু ধরে ফেলার সক্ষমতাসম্পন্ন মহাকাশযান পরীক্ষা করেছে চীন। দেশটির স্যাটেলাইটগুলো জ্বালানি সরবরাহ এবং খুব কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতাও দেখিয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে ঝুঁকছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

অ্যাস্ট্রোস্কেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক শেভ বলেন, শুরুতে তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল না। তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনায় মহাকাশকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রতিষ্ঠানটি কাজের ধরন পরিবর্তন করে।

তিনি বলেন, ‘গত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে আমরা কক্ষপথে বস্তু পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পেরেছি যে সেগুলোতে হামলা হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে যাচ্ছে।’

শেভ জানান, শত্রুপক্ষের মহাকাশযান যাতে কাছে আসতে না পারে কিংবা স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তাদের প্রতিষ্ঠান।

অরবিট ফ্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যাকব গিয়ারের মতে, স্যাটেলাইটের অবস্থান পরিবর্তনের প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের পরিস্থিতি বদলে গেছে, আর সেই কারণেই প্রতিরক্ষা খাতে এই পরিবর্তন এসেছে। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা মহাকাশযান পরিচালনার প্রযুক্তি মহাকাশে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের সক্ষমতা দিতে পারে।’

মহাকাশযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাজ্য। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির রাজকীয় বিমানবাহিনী ব্রিটিশ স্যাটেলাইটের সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ মহাকাশ স্কোয়াড্রন গঠনের ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, মহাকাশে হুমকির গতি, পরিসর ও জটিলতা বাড়ছে।

বিভিন্ন দেশ মহাকাশে ব্যবহারের জন্য লেজার, তড়িৎচুম্বকীয় স্পন্দন, স্যাটেলাইটের সেন্সর অকার্যকর করে দেওয়ার যন্ত্র এবং মহাকাশযান ধরে ফেলার বিশেষ যন্ত্র তৈরি করছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট ধ্বংসে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা করা হয়েছে।

মহাকাশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাও নিজেদের প্রকল্পে সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের নতুন মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নাসার স্পেস শাটল। পুরোনো ছবি : নাসা
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নাসার স্পেস শাটল। পুরোনো ছবি : নাসা

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল: ইউনিসেফ

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৩৪০টিরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও শত শত শিশু। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস বলেন, গাজা উপত্যকায় চলমান অবরোধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে হামলায় পাঁচটি ছেলে ও দু’টি মেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩৩টি শিশু। তিনি আরও জানান, গাজায় প্রায় ৮ লাখ শিশু এখনো বাস্তুচ্যুত। তাদের অধিকাংশই তাঁবু কিংবা অনিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। ইউনিসেফের এই মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শীতের মাসগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে টানা চতুর্থ বছরের মতো ফিলিস্তিনি শিশুদের বসবাসের অনুপযোগী ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হবে।

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল: ইউনিসেফ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ যেভাবে বদলে দিচ্ছে তেলের প্রবাহ

সিএনএনের বিশ্লেষণঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। হরমুজ এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইরান। এর ফলে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানির পরিমাণ কমে গেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের (প্রায় ১২ হাজার টাকা) ওপরে অবস্থান করছে। ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর নজরদারি করা সংস্থা বৃটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের (ইউকেএমটিও) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি বা এর কাছাকাছি এলাকায় জাহাজগুলোর ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সিএনএনের যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে যে, ১৩ই অক্টোবর অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পৃথক ঘটনায় আরও দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল সফলভাবে পার হওয়ার জবাবেই হামলা জোরদার করেছে ইরান। প্রণালিটি দিয়ে তেল পারাপারে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেছে। তারা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে চলাচলকারী বা ‘ডার্ক ট্রানজিট’ ট্যাঙ্কারগুলোকে ওমান উপসাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোতে তেল পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরান তাদের নিজেদের ট্যাঙ্কারগুলো প্রণালি দিয়ে পার করতে চরম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অষ্টম মাসে গড়ানো এই সংঘাত এখন ইয়েমেনে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের লড়াইয়েও রূপ নিয়েছে। হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা করেছে। থিংকট্যাঙ্ক ব্রুগেলের সিনিয়র ফেলো জর্জ জাখমান সিএনএনকে জানান, এই সংকটের কারণে তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তেল আমদানিকারক দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে বাইরের এই ধাক্কা সামলাতে তাদের তেল ব্যবহারের পরিমাণ কাঠামোগতভাবে কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে পার্শ্ববর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি কৌশলগতভাবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ জানান, সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সৌদি আরবের লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতো, যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেলই যেত বাব আল-মান্দেব দিয়ে। কিন্তু গ্রীষ্মে হুতিদের হুমকি বাড়ার পর এই সরবরাহ ধসে পড়ে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জোহানেস রউবাল বলেন, হুতিরা যদি সব দেশের জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা তেলের বাজারে আরেকটি বড় আঘাত হানবে এবং দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।

গত মাসে ইরাকের ভেতর থেকে ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়। লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের এই লাইনে হামলার পর রিয়াদ দ্রুত বিকল্প পথ বেছে নেয়। মার্কিন সামরিক সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বাড়ায় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পেছনে ইরানের হাত থাকার কথা বললেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। একাধিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ওই পাইপলাইনটি এখন পুনরায় চালু হয়েছে।

এই যুদ্ধের সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সৌদি তেলের বড় ক্রেতা এশীয় দেশগুলো। তবে তারা ব্যবহার কমিয়ে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি চীন তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করে আমদানি অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বিকল্প পাইপলাইন তৈরির মাধ্যমে নতুন রপ্তানি পথ খুঁজছে। রউবালের মতে, এই সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ইরানের প্রভাব তত কমতে থাকবে; কারণ অন্য দেশগুলো ততদিনে বাইপাস বা বিকল্প পথ তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প পথ থাকলেও হরমুজ প্রণালির মতো এত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের সক্ষমতা অন্য কোনো পথের নেই
ছবি বিবিসি বাংলা, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প পথ থাকলেও হরমুজ প্রণালির মতো এত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের সক্ষমতা অন্য কোনো পথের নেই

ট্রাম্পের বিরতি, এশিয়ার স্বস্তি: বিশ্ব শক্তির নতুন সমীকরণ by সহিদুল আলম স্বপন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে নিছক একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাশিয়াবিরোধী নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঠিক আগে সেগুলো স্থগিত করার মাধ্যমে তিনি মূলত একটি বাস্তব সত্য স্বীকার করেছেন: বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতিকে উপেক্ষা করে ভূরাজনীতি চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখার লক্ষ্যও স্পষ্ট ছিল। কিন্তু যখন সেই চাপের অভিঘাত গিয়ে পড়ে জ্বালানি বাজারে, সরবরাহ ব্যবস্থায় এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর, তখন বাস্তবতা রাজনীতিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

সবচেয়ে বড় স্বস্তি পেয়েছে ভারত ও চীন। কারণ গত কয়েক বছরে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের প্রধান ক্রেতা হিসেবে এই দুই দেশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথে যেত, তাহলে শুধু নয়াদিল্লি বা বেইজিং নয়, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাই নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত। এমনকি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পরও কেন পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে পারল না? উত্তরটি সহজ। কারণ বিশ্ব অর্থনীতি এখন আর একমুখী নয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী শক্তিগুলোর বিকল্প বাজার রয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোরও বিকল্প ক্রেতা রয়েছে। রাশিয়ার তেল ইউরোপে না গেলে এশিয়ায় যাচ্ছে, এশিয়া কিনলে বিশ্বের শিল্প উৎপাদন সচল থাকছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি আজ আর আগের মতো একপাক্ষিক ক্ষমতার প্রদর্শন নয়।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এশিয়া। একসময় বৈশ্বিক অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো আটলান্টিকের দুই তীর থেকে। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। বিশ্বের প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসছে এশিয়া থেকে, জ্বালানির বড় বাজার এশিয়ায়, উৎপাদনের বৃহত্তম কেন্দ্রও এশিয়া। ফলে ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস কিংবা মস্কোকে এখন এশিয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় নিতেই হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় বার্তা লুকিয়ে আছে। আমাদের অর্থনীতি রপ্তানিনির্ভর। আমাদের শিল্প উৎপাদন আমদানি করা জ্বালানি, কাঁচামাল ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোনো ভুল হিসাব কিংবা বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের মূল্য শেষ পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই বেশি দিতে হয়। জ্বালানির দাম বাড়লে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে, মূল্যস্ফীতি বাড়ে। আবার বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিলে আমাদের রপ্তানি খাতও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ কখনোই কোনো একক শক্তি বা ব্লকের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে ফেলার মধ্যে নেই। আমাদের স্বার্থ রয়েছে ভারসাম্যে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। চীন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও অবকাঠামো অংশীদার। ভারত আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের জ্বালানি এবং প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। এই বাস্তবতায় কূটনৈতিক ভারসাম্য বাংলাদেশের জন্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি জাতীয় প্রয়োজন।

আজকের বিশ্বে বন্ধুত্বের চেয়ে স্বার্থ বেশি স্থায়ী। আন্তর্জাতিক রাজনীতির কঠিন সত্য হলো, কোনো রাষ্ট্র স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নয়; স্থায়ী হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো সত্যকেই নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিল। যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে চাপে রাখতে কঠোর আইন পাস করেছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্রই পরে নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে তার প্রয়োগ স্থগিত করেছে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদর্শ নয়, স্বার্থ।

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এখানে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। আগামী দিনের বিশ্ব হবে আরও প্রতিযোগিতামূলক, আরও অনিশ্চিত এবং আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের কূটনীতি হতে হবে আরও পরিণত, অর্থনীতি হতে হবে আরও বৈচিত্র্যময় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা হতে হবে আরও শক্তিশালী। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আসলে একটি বড় সত্যকে সামনে এনেছে। বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে শক্তির লড়াই যতই তীব্র হোক, শেষ চালটি অনেক সময় দেয় অর্থনীতি। আর যে দেশ সেই বাস্তবতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারবে, ভবিষ্যতের বিশ্ব ব্যবস্থায় তার অবস্থানই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশেরও এখন সেই বাস্তবতার ভাষা বুঝে এগিয়ে যাওয়ার সময়।

লেখক: সহিদুল আলম স্বপন; জেনেভাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাইভেট ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখেন।

ই-মেইল: shahidul.alam@bluewin.ch

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমনে ইসরাইলকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ঠেকাতে ইসরাইলকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানান। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের আমেরিকান ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিনের ওপর একদল ব্যক্তির হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রুবিও এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহতদের মধ্যে লেভিনও ছিলেন। রুবিও বলেন, আমরা এসব দৃশ্য এবং যা দেখছি তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

আমরা ইসরাইলিদের এসব দমনে ব্যবস্থা নিতে বলেছি এবং তাদের কাছে এই দাবি অব্যাহত রাখব। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিক এবং ফরাসি এক মেয়রের ওপরও হামলা হয়েছে। ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী ‘য়েশ দিন’-এর তথ্যমতে, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর বার্ষিক জলপাই তোলার মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্তত ১৭০টি হামলায় জড়িত ছিল ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।

বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমনে ইসরাইলকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় দ্বিগুণ হবে দাকোপের অর্থনীতি by সেখ ফরিদ আহমেদ

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ। এই অঞ্চল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বিশেষ মনোযোগের দাবিদার। ইতিমধ্যে দূরদর্শী নানান উদ্যোগে অঞ্চলটির কৃষি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী এই অঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ জনগোষ্ঠীর ৬৬ দশমিক ০৭ শতাংশই কৃষিনির্ভর। তবে সেখানে লবণাক্ততা, পানীয় জলের সংকট এবং অনিয়ন্ত্রিত জোয়ার-ভাটা এখনো অগ্রগতির পথে বড় বাধা। এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টার পাশাপাশি কৌশলগত ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দরকার।

দাকোপ উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৬৫৭ হেক্টর কৃষিজমিকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে পরিচালিত স্লুইসগেটগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই গেটগুলোর নির্মাণ ও সংস্কারকাজ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

দুর্ভাগ্যবশত, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে গেটগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে। প্রতিদিন দুইবার জোয়ার-ভাটার সময় লোনাপানির সঙ্গে আসা পলি অভ্যন্তরীণ শাখা নদী ও খাল-বিলগুলো ভরাট করছে, যা পানি ধারণের ক্ষমতা ও নিষ্কাশনব্যবস্থাকে স্থবির করে দিচ্ছে। এই প্রবণতা রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৈজ্ঞানিক মডেল অনুসরণ করে একটি সুনির্দিষ্ট অপারেটিং–পদ্ধতি (এসওপি) প্রণয়ন করতে পারে।

বর্ষাকাল শেষে পানি মিষ্টি থাকা অবস্থায় স্লুইসগেটগুলো কঠোরভাবে বন্ধ রেখে একদিকে মিঠাপানি সংরক্ষণ, অন্যদিকে পলিবাহিত জোয়ারের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। গেট পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পানি ব্যবহারকারী দলকে (ডব্লিউইউএ) প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুযোগ দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় উপকূলীয় কৃষকদের মধে৵ লবণসহিষ্ণু জাতের বীজ সরবরাহ ও আধুনিক কৃষিপদ্ধতি প্রচলনের মাধ্যমে যে সহযোগিতা করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। দাকোপে তরমুজসহ বিভিন্ন রবিশস্যের বিপুল উৎপাদন এখানকার অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

স্লূইসগেটের মাধ্যমে সেচের জল নিশ্চিত হলে প্রায় ১৮ হাজার ৬৫৭ হেক্টর জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এই সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফ–সিজন তরমুজ চাষের জন্য উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর মাচাপদ্ধতি এবং পরাগায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য মৌমাছি পালনকে প্রণোদনা দিতে পারে। এর ফলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে অন্তত ২৫ তেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।

সমন্বিত বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন

এই কৌশলগত ও টেকসই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত মেরামত, খাল পুনঃখনন এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন। এই বিনিয়োগের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রতিটি বাড়িতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী সমাধান দেবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হবে উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করা, যা কৃষি ও জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা দেবে। এই সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর বার্ষিক আয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পাবে। যা কেবল দাকোপের অর্থনৈতিক চিত্রই নয়; বরং সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করলে দাকোপ অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক নতুন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবে।

* সেখ ফরিদ আহমেদ, যুগ্ম সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
- মতামত লেখকের নিজস্ব

উপকূলীয় উপজেলা দাকোপে পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন
উপকূলীয় উপজেলা দাকোপে পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। ফাইল ছবি : প্রথম আলো

ফিলিস্তিন সংকট চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার: চীন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ এবং ইতোমধ্যে গড়ে তোলা বসতি প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং ই এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকটকে চীন চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে দেখে।

ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠা চীনের নীতির অন্যতম ভিত্তি। বেইজিং মনে করে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পাশাপাশি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকটের সমাধানই সঠিক পথ। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি, যাতে মানবিক বিপর্যয় আরও ছড়িয়ে না পড়ে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

হেরজগের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের (সিআইসিএ) ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে পশ্চিম তীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হেরজগের কার্যালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, ফিলিস্তিনের অধিকার ও দাবির পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে বেইজিং।

ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে শান্তিপ্রিয় সব দেশকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: হেরজগের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: হেরজগের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত

ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ৮ সেনা নিহত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর আট সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সামরিক ইউনিট এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর আল-বাহাহ সামরিক অক্ষ জানায়, লাহিজ প্রদেশের মাকাতিরাহ রণাঙ্গনে লড়াইয়ের সময় ওই সেনারা নিহত হন। তবে সংঘর্ষের সময়, পরিস্থিতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি ইউনিটটি।

এদিকে, এ ঘটনার পর দক্ষিণাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের আল-আকুরদের মাকদা এলাকায় ১২ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের তীব্র লড়াই চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা 

ইয়েমেনের মানচিত্র। ছবি: আল জাজিরা
ইয়েমেনের মানচিত্র। ছবি: আল জাজিরা

বিশ্বের ধনকুবেরদের সবচেয়ে পছন্দের ঠিকানা দুবাই

দুবাই দ্রুতই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সম্পদের রেকর্ড ১৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে ধনীদের কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের নামই সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে। এমনটাই জানাচ্ছে সুইস আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস-এর সদ্য প্রকাশিত বিলিয়নেয়ার অ্যামবিশন্স রিপোর্ট ২০২৫। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা, ব্যবসার সুযোগ, কর সুবিধা এবং উন্নত জীবনমান- এই চার কারণে ধনীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হারে দেশ বদল করছেন। বর্তমানে বিশ্বের ৩৬ ভাগ ধনকুবের কমপক্ষে একবার নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ী হয়েছেন। এই তালিকায় শীর্ষ গন্তব্য দুবাই, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, নিউইয়র্ক।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষত দুবাই এখন পাকিস্তান, ভারত, ইউরোপ এবং সমগ্র এশিয়া থেকে উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তিদের টেনে আনছে। করমুক্ত ব্যবস্থা, স্থিতিশীল সরকার, শক্তিশালী অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মানের জীবনযাপন- এগুলো দুবাইকে কোটি-কোটি ডলারের মালিকদের জন্য ভবিষ্যৎ নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গায় পরিণত করেছে।
বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালে নারী বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বাড়ার হার পুরুষদের তুলনায় দুই গুণ বেশি। পুরুষদের সম্পদ যখন গড়ে ৩ ভাগ বেড়েছে, সেখানে নারীদের বেড়েছে ৮ ভাগেরও বেশি। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগে নারীরা আরও আত্মবিশ্বাসী হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি ঘটছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে ধনী পরিবারগুলো তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ২৯৭.৮ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করেছে- যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অনেক তরুণ উত্তরাধিকারী তাদের নতুন জীবন ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে আমিরাতকে বেছে নিচ্ছেন। এ বছর নিজস্ব চেষ্টায় বিলিয়নেয়াররা বৈশ্বিক সম্পদে আরও ৩৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য-  বিশেষ করে আমিরাত ও সৌদি আরব এই বৃদ্ধির প্রধান ক্ষেত্র।
রিপোর্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের ধনী পরিবারগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করবে। এই বিপুল সম্পদ স্থানান্তর ধনীদের আরও বেশি করে দুবাই ও অন্যান্য আর্থিক নিরাপদ অঞ্চলের দিকে আকৃষ্ট করবে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/192835_abl5.webp