Friday, October 9, 2026

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে প্রতি রাতেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে প্রতি রাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদি।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মাদি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌবাহিনী ‘সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ’ নজরদারি বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও সেখানে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, তেহরানের নিয়ম লঙ্ঘন করছে বলে বিবেচিত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা আইআরজিসি নৌবাহিনীর রয়েছে। হরমুজ প্রণালির যেকোনো স্থানে এসব জাহাজের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে ইরানি বাহিনী।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া পরিসংখ্যানও প্রত্যাখ্যান করেছেন মোহাম্মাদি।

তাঁর দাবি, এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের যেসব হিসাব তুলে ধরা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, এসব পরিসংখ্যান ‘গণমাধ্যমের অনুমাননির্ভর প্রচারণা’, যার উদ্দেশ্য তেলের দাম কমানো এবং বাজারকে প্রভাবিত করা।

মোহাম্মাদি আরও অভিযোগ করেন, পারস্য উপসাগর ও বৃহত্তর অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইরানি কর্মকর্তার এসব বক্তব্য ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমাণ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমাণ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স

গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আগে ও পরের কিছু চিত্র

ইসরাইলের হামলায় তিন বছরের যুদ্ধে গাজার চেনা শহর বদলে গেছে ধ্বংসস্তূপে। একসময় যে সড়কগুলো ছিল মানুষের চলাচল, কেনাকাটা ও আড্ডার জায়গা, সেখানে এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সারি। উপকূলের জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর আশ্রয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মসজিদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াঙ্গন।

ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপত্যকাটির ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে পুরো এলাকার পর এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশও।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গাজার সড়ক, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও জনসমাগমের জায়গাগুলো ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সেখানে মানুষ কাজ করতেন, পড়াশোনা করতেন, কেনাকাটা করতেন এবং পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। শহরটির অনেক পরিচিত স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল হাজার বছরের ইতিহাসও। বিভিন্ন সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে গড়ে ওঠা গাজার সেই ঐতিহ্য এখন যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করেছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শৈল্পিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন, ১৪টি ধর্মীয় স্থাপনা, ৯টি স্মৃতিস্তম্ভ, ৮টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, ২টি জাদুঘর এবং চলমান সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ৩টি ভান্ডার রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ গ্রেট ওমারি মসজিদ, ত্রয়োদশ শতকের মামলুক আমলের প্রাসাদ কাসর আল-বাশা, প্রাচীন সামারিটান গোসলখানা, আল-কিসারিয়া বাজার এবং সেন্ট পোরফিরিয়াস গির্জা কমপ্লেক্স। এসব স্থাপনার কোনোটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, কোনোটি আবার ব্যাপক ক্ষতি নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ধ্বংসযজ্ঞে শুধু ভবন নয়, বদলে গেছে আশপাশের সড়ক ও পুরো মহল্লার চেহারাও।

গাজার এসব স্থাপনা ও জনপরিসরের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরেছে আল-জাজিরার একটি আলোকচিত্র প্রতিবেদন। এতে পুরোনো ছবির সঙ্গে যুদ্ধের তিন বছর পর তোলা ছবি মিলিয়ে দেখানো হয়েছে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ শহরটির পরিচিত সড়ক, বাজার, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জনজীবনের জায়গাগুলোকে বদলে দিয়েছে।

চেনা স্থানের বদলে ধ্বংসস্তূপ

ছবি: ১/১ গাজার বন্দর একসময় স্থানীয় জেলেদের জীবিকার কেন্দ্র এবং বাসিন্দাদের পরিচিত মিলনস্থল ছিল। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সেই এলাকায় এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। বন্দরের বিভিন্ন অংশে তাঁবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার। যুদ্ধের আঘাতে বহু মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।



ছবি: ১/২ গাজার প্রধান উপকূলীয় সড়ক আল-রশিদ স্ট্রিট একসময় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, দোকান ও হোটেলে জমজমাট থাকত। ভূমধ্যসাগরের তীর ঘেঁষে উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে যুক্ত করা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং আশপাশের এলাকা এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। উপকূলের কিছু অংশে সারি সারি তাঁবু দেখা যায়।
ছবি: ১/১ গাজার বন্দর একসময় স্থানীয় জেলেদের জীবিকার কেন্দ্র এবং বাসিন্দাদের পরিচিত মিলনস্থল ছিল। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সেই এলাকায় এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। বন্দরের বিভিন্ন অংশে তাঁবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার। যুদ্ধের আঘাতে বহু মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ছবি: ১/২ গাজার প্রধান উপকূলীয় সড়ক আল-রশিদ স্ট্রিট একসময় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, দোকান ও হোটেলে জমজমাট থাকত। ভূমধ্যসাগরের তীর ঘেঁষে উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে যুক্ত করা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং আশপাশের এলাকা এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। উপকূলের কিছু অংশে সারি সারি তাঁবু দেখা যায়।

ছবি: ১/৩ গাজা সিটির রেমাল এলাকায় অবস্থিত রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ছিল প্রদর্শনী, সম্মেলন ও নানা জনসাধারণের অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তিন বছরের যুদ্ধে ভবনটির বড় ক্ষতি হয়েছে। এর কিছু অংশ ধ্বংস হয়েছে, আশপাশের এলাকাও পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

ছবি: ১/৪ পুরোনো গাজা শহরের কাসর আল-বাশা প্রাসাদ ত্রয়োদশ শতকের মামলুক আমলের স্থাপনা। ২০১০ সালে সংস্কারের পর এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে রূপ দেওয়া হয়েছিল। গাজার সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অন্যতম এই প্রাসাদও যুদ্ধের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবি: ১/৩ গাজা সিটির রেমাল এলাকায় অবস্থিত রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ছিল প্রদর্শনী, সম্মেলন ও নানা জনসাধারণের অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তিন বছরের যুদ্ধে ভবনটির বড় ক্ষতি হয়েছে। এর কিছু অংশ ধ্বংস হয়েছে, আশপাশের এলাকাও পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ছবি: ১/৪ পুরোনো গাজা শহরের কাসর আল-বাশা প্রাসাদ ত্রয়োদশ শতকের মামলুক আমলের স্থাপনা। ২০১০ সালে সংস্কারের পর এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে রূপ দেওয়া হয়েছিল। গাজার সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অন্যতম এই প্রাসাদও যুদ্ধের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছবি: ১/৫ বন্দরের পাশে অবস্থিত আল-হাসাইনা মসজিদ, যা আল-মিনা মসজিদ নামেও পরিচিত, ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। গাজার উপকূলের পরিচিত এই স্থাপনাটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

ছবি: ১/৬ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা ছিল উপত্যকার অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় অবস্থিত এর বড় ক্যাম্পাসের বেশির ভাগই ধ্বংস হয়েছে। ক্যাম্পাসের যে অংশ টিকে আছে, তার কিছু জায়গা এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুর আশ্রয়স্থল।
ছবি: ১/৫ বন্দরের পাশে অবস্থিত আল-হাসাইনা মসজিদ, যা আল-মিনা মসজিদ নামেও পরিচিত, ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। গাজার উপকূলের পরিচিত এই স্থাপনাটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ছবি: ১/৬ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা ছিল উপত্যকার অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় অবস্থিত এর বড় ক্যাম্পাসের বেশির ভাগই ধ্বংস হয়েছে। ক্যাম্পাসের যে অংশ টিকে আছে, তার কিছু জায়গা এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুর আশ্রয়স্থল।

ছবি: ১/৭ গাজার বন্দর একসময় স্থানীয় জেলেদের জীবিকার কেন্দ্র এবং বাসিন্দাদের পরিচিত মিলনস্থল ছিল। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সেই এলাকায় এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। বন্দরের বিভিন্ন অংশে তাঁবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার। যুদ্ধের আঘাতে বহু মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ছবি: ১/৮ গাজার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মসজিদ গ্রেট ওমারি মসজিদের ইতিহাস বহু শতাব্দীর। এর স্থাপত্যে বাইজেন্টাইন, ক্রুসেডার, মামলুক ও উসমানীয় আমলের প্রভাব রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাপক ক্ষতির পর মসজিদটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ঐতিহাসিক মিনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবি: ১/৭ গাজার বন্দর একসময় স্থানীয় জেলেদের জীবিকার কেন্দ্র এবং বাসিন্দাদের পরিচিত মিলনস্থল ছিল। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সেই এলাকায় এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। বন্দরের বিভিন্ন অংশে তাঁবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার। যুদ্ধের আঘাতে বহু মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ছবি: ১/৮ গাজার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মসজিদ গ্রেট ওমারি মসজিদের ইতিহাস বহু শতাব্দীর। এর স্থাপত্যে বাইজেন্টাইন, ক্রুসেডার, মামলুক ও উসমানীয় আমলের প্রভাব রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাপক ক্ষতির পর মসজিদটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ঐতিহাসিক মিনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছবি: ১/৯  ১৯৫২ সালে চালু হওয়া ইয়ারমুক স্টেডিয়াম ছিল ফিলিস্তিনের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসাধারণের আয়োজনেও এটি ব্যবহৃত হতো। যুদ্ধের পর স্টেডিয়ামটি আর খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।


ছবি: ১/১০ গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান পুকুরটি ২০০০ সালে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর ধারণক্ষমতা প্রায় পাঁচ লাখ ঘনমিটার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনের পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুকুরটিতে পয়োনিষ্কাশনের পানি ঢুকেছে। আশপাশের এলাকাও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছবি: ১/৯ ১৯৫২ সালে চালু হওয়া ইয়ারমুক স্টেডিয়াম ছিল ফিলিস্তিনের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসাধারণের আয়োজনেও এটি ব্যবহৃত হতো। যুদ্ধের পর স্টেডিয়ামটি আর খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: ১/১০ গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান পুকুরটি ২০০০ সালে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর ধারণক্ষমতা প্রায় পাঁচ লাখ ঘনমিটার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনের পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুকুরটিতে পয়োনিষ্কাশনের পানি ঢুকেছে। আশপাশের এলাকাও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ঘেঁষে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আল-রশিদ সড়কটি উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে সংযুক্ত করেছে। ২০১৫ সালে পুনর্নির্মিত এই সড়কের দুপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। তবে তিন বছরের যুদ্ধের ফলে সড়কটির কিছু অংশ ও এর আশপাশের এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ঘেঁষে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আল-রশিদ সড়কটি উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে সংযুক্ত করেছে। ২০১৫ সালে পুনর্নির্মিত এই সড়কের দুপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। তবে তিন বছরের যুদ্ধের ফলে সড়কটির কিছু অংশ ও এর আশপাশের এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আগে ও পরের কিছু চিত্র
গাজার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শহরের দৃশ্যপট বদলে গেছে এবং মুছে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি। ছবি: আল-জাজিরা

সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না তুরস্ক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে না আঙ্কারা। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফিদান বলেন, ‘এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়। অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠাবে না।’ সৌদি আরবে তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করতে চলতি সপ্তাহে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়।

ফিদান জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জন্য কী ধরনের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করতে তিন দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে, তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি পার্লামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।’

মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় অতিরিক্ত জনবল, পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। তবে আরো সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর থেকেই সৌদি আরবে কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে তুরস্ক। জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমইইকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, জরুরি সাড়াদানকারী দল এবং তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় লড়াইয়ে সক্ষম সেনাসদস্য পাঠানো হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় কারিগরি কাজে সীমিতসংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠাতে পারে আঙ্কারা। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

আরেক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে দেশটির এক বা একাধিক সামরিক কমান্ড ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলে সীমিতসংখ্যক বিশেষ বাহিনীর সদস্যও সৌদি আরবে মোতায়েন করা হতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠাবে তুরস্ক। তবে উড়োজাহাজ ও জনবলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এসব সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

তুরস্কের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপেরও কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

তিনি আরো বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হতে পারে বলে এখনো মনে করে আঙ্কারা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না তুরস্ক
ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

রোজেলা চা খেলে যে ৭টি উপকার মিলবে by জাকারিয়া সুমন

গাঢ় লালচে রং, টক-মিষ্টি স্বাদ আর মনমাতানো ঘ্রাণে ভরপুর এক পানীয় রোজেলা চা। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের পানীয় হয়ে উঠছে এই চা। রোজেলাগাছের ফুল থেকে হয় এই চা। এই গাছের ফলকেই অঞ্চলভেদে আমরা ডাকি চুকাই, মেস্তা বা টক ফল।

রোজেলা চা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় শরীরের টক্সিন দূর করে, ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, এমনকি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিও ধীর করতে পারে। রোজেলা চায়ের এমনি সাতটি বিস্ময়কর উপকারিতার কথা অনেকেরই অজানা।

১. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর

আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি হয় ফ্রি র‍্যাডিক্যালস। এই ফ্রি র‍্যাডিক্যালস হলো একধরনের ক্ষতিকর কণা, যা কোষের ক্ষতি করে বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়, প্রদাহ বাড়ায় আর নানা জটিল রোগ তৈরি করে। এই ফ্রি র‍্যাডিক্যালসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আর রোজেলা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভান্ডার।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মারফান সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোজেলা নির্যাস রক্তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়িয়েছে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়েছে। মারফান সিনড্রোম হলো একটি বংশগত রোগ, যা শরীরের সংযোগকারী টিস্যু দুর্বল করে। এতে হৃদ্‌রোগ, চোখের সমস্যা, হাড়ের অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

২. রক্তচাপ কমাতে সহায়ক


রোজেলা চায়ের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ৪৬ জন ১ মাস রোজেলা চা পান করার পর তাঁদের ওপর ও নিচ দুই ধরনের রক্তচাপই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

একই ভাবে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএইচ) করা পাঁচটি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোজেলা চা সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ যথাক্রমে গড়ে ৭.৫৮ ও ৩.৫৩ মিলিমিটার পারদ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

৩. রক্তের চর্বি কমাতে সাহায্য করে

রোজেলা চা রক্তে অতিরিক্ত চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। রক্তে অতিরিক্ত চর্বি—যেমন খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড—হৃদ্‌রোগের অন্যতম কারণ। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের একটি ছোট গবেষণায় ৬০ জন রোগীকে দুই দলে ভাগ করা হয়। একদল রোজেলা চা পান করে, অন্য দল কালো চা। এক মাস পর দেখা যায়, যাঁরা রোজেলা চা পান করেছেন, তাঁদের ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বেড়েছে, আর মোট কোলেস্টেরল, খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি বেশ উপকারী।

৪. লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করে

লিভার শরীরে প্রোটিন তৈরি করে, পিত্তরস নিঃসরণ করে এবং চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। ২০১৪ সালের এনআইএইচ অতিরিক্ত ওজনের ১৯ জনের ওপর ১২ সপ্তাহ ধরে রোজেলা চা খাওয়া নিয়ে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা গেছে, তাঁদের লিভারে চর্বি জমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাঁদের আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, রোজেলা চা খাওয়ার ফলে লিভারের ক্ষতির সূচকগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

৫. ওজন কমাতে সহায়ক

রোজেলা চা ওজন কমাতে সহায়ক এবং স্থূলতা প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। ২০১৪ সালে এনআইএইচের একটি গবেষণায় অতিরিক্ত ওজনধারী ৩৬ জনকে দুই দলে ভাগ করা হয়—একদলকে রোজেলা নির্যাস, অন্য দলকে প্লাসিবো (নকল ওষুধ) দেওয়া হয়। যাঁরা ১২ সপ্তাহ ধরে রোজেলা নির্যাস সেবন করেছেন, তাঁদের শরীরের ওজন, চর্বি, বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ও কোমর-নিতম্ব অনুপাত—সবই কমে গেছে।

এনআইএইচের আরেকটি গবেষণাতেও প্রমাণ মিলেছে, রোজেলা নির্যাস শরীরে নতুন চর্বি জমা হতে বাধা দেয় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৬. ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক

রোজেলায় প্রচুর পলিফেনলস থাকে, শক্তিশালী ক্যানসার প্রতিরোধী গুণের জন্য যা পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজেলা নির্যাস ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা যায়, রোজেলা নির্যাস মুখের ক্যানসার, রক্তকোষজনিত ক্যানসার, প্রোস্টেট, স্তন, পাকস্থলী ও ত্বকের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে, কমিয়ে দেয় তাদের আক্রমণ ক্ষমতা।

৭. ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়

রোজেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ। ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী অণুজীব, যা ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণসহ নানা রোগের কারণ। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজেলা ফুলের নির্যাস ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ দমন করতে পারে, যা পেটব্যথা, গ্যাস ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করে।

আরেকটি পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, রোজেলা নির্যাস আট ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মতো কাজ করে।

রোজেলা চা যেভাবে তৈরি করবেন

শুকনা রোজেলা ফুল এক কাপ গরম পানিতে দিয়ে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে মধু বা লেবুর রস মিশিয়ে গরম বা ঠান্ডা—যেভাবে পছন্দ, পান করুন।

সতর্কতা: যাঁরা রক্তচাপের ওষুধ খান, তাঁদের রোজেলা চা না খাওয়াই ভালো। কারণ, এটি ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: মিডিয়াম

রোজেলা চায়ের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কৃতজ্ঞতা: হেবাং
রোজেলা চায়ের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কৃতজ্ঞতা: হেবাং। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট নিয়ে টানাপড়েন

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে যুক্তরাজ্য বলছে, ভবনটি বন্ধ হচ্ছে না। এটি এখন থেকে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাবে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার জানিয়েছেন, কনস্যুলেট থেকে ব্রিটিশ কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক ইসরায়েল ছাড়বেন। ভবনটিতে সর্বোচ্চ সাতজন কূটনীতিকের একটি দল থাকতে পারবে। তবে তাদের কার্যক্রমের পরিধি হবে খুবই সীমিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার লিখেছেন, ‘ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম আজ বন্ধ হচ্ছে।’ তার দাবি, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মী ও তাদের পরিবারকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনটি বন্ধ হবে না এবং সেখানে যুক্তরাজ্যের মিশন হিসেবে কার্যক্রম চলবে।

মিলিব্যান্ড আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত এলাকা হিসেবে দেখার যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি দাবি করেন, কনস্যুলেট বন্ধ করার আইনি অধিকার ইসরায়েলের নেই।

ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বরে কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এর আগে যুক্তরাজ্য অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ বলে মনে করে যুক্তরাজ্যসহ অধিকাংশ দেশ। ওই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়াতেই ইসরায়েল কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কনস্যুলেট জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ও বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এটি তেল আবিবে থাকা ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে আলাদা।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই আপাতত সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, আলোচনার পথ খোলা থাকায় এখনই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সূত্র: বিবিসি

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট
পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট

পাকিস্তান থেকে ১৮৫০ সেনা ভাড়া নিয়েছে বাহরাইন

বাহরাইন পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮৫০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান-বাহরাইন যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশনের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানিও উপস্থিত ছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

বাহরাইনের ন্যাশনাল গার্ডে পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮০০ সেনাসদস্য নিয়োগের জন্য বাহরাইনকে ধন্যবাদ জানান দার। তাদের মধ্যে ৩০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

দার বলেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীরা বাহরাইনে ভালো কাজ করবেন এবং তাদের শৃঙ্খলাবোধের প্রশংসা করেন তিনি।

এ ছাড়া গত ২৪ জুন পাকিস্তান কোস্ট গার্ড ও বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় আরও ১৩ কর্মকর্তা ও ৩৭ সেনাসদস্য বাহরাইনের কোস্ট গার্ডে যোগ দিয়েছেন বলে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে দার ও আল জায়ানি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দেন।

আগামী বছর পাকিস্তান ও বাহরাইনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি হবে। একই সঙ্গে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাকিস্তানি বাহিনী। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানি বাহিনী। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

সংঘাত বাড়ায় রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ, ফ্লাইটে বিঘ্ন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা আরও জোরালো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দ শোনা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হুতিরা দাবি করেছে, রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর দুই পক্ষের সংঘাত আরও বেড়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব হয়। রাজধানীর কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টের কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলে।

কিছু কূটনীতিকও নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। রিয়াদের কয়েকটি স্কুল অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব সতর্কতার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর সংঘাত তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছেও তাদের অবস্থান শক্ত হয়েছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। তবে সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিরাও অগ্রগতি করেছে। তারা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে ঘিরে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবকে সহায়তায় তুরস্ক ও পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে। তুরস্ক প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি সীমান্ত রক্ষায় সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

সিরিয়াও সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। তবে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিজেদের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও আরও খারাপ হয়েছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইয়েমেনের তাইজে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অভিযান। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের তাইজে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অভিযান। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য, নাম ‘অন্যায়ের রাজা’

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভেতরের ব্যস্ত একটি পথ এখন নজর কাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল এক ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্যের কারণে। ৮ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতার তামার মূর্তিটিতে ট্রাম্পকে নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। পুরো মূর্তিটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে ২৩ ক্যারেটের সোনার পাত দিয়ে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়। ডেনমার্কের শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি এই শিল্পকর্মের নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। তবে এটিকে ‘অন্যায়ের রাজা’ নামেও অভিহিত করা হচ্ছে।

ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট ও দুর্বল মানুষের কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তার উরু ও ঝুলে থাকা পেট ওই ব্যক্তির মাথার চারপাশে চেপে রয়েছে। এক হাতে ট্রাম্প ধরে আছেন একটি দীর্ঘ গলফ ক্লাব, অন্য হাতে রয়েছে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা।

ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা হয়েছে, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে বসে আছি। আমার ভারে সে ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করতে আমি সবকিছু করব। শুধু তার পিঠ থেকে নামব না।’

শিল্পী গালশিওট বলেন, তার এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে ট্রাম্পের পরিবেশবিষয়ক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি তার কথিত হুমকির প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার ভাষায়, ট্রাম্প তার বিশ্বাসের প্রায় সবকিছুকেই ধ্বংস করছেন।

তবে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। প্রদর্শনীটির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লাউসেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারেন। তবে কোনো প্রদর্শনীকে আপত্তিকর, উসকানিমূলক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যবোধবিরোধী কিংবা পার্লামেন্টের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী মনে হলে তা অনুমোদন না দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেস সার্ভিস জানিয়েছে, প্রশাসনিক বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত কোয়েস্টররা প্রদর্শনীটির অনুমোদন দিয়েছেন। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, একজন সদস্য একটি মেয়াদে নির্ধারিত এলাকায় দুটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন।

গালশিওট আগে আশঙ্কা করেছিলেন, তার প্রদর্শনীটি হয়তো অনুমোদন পাবে না। অনুমোদন পাওয়াকে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের এক ধরনের নীরব সম্মতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, অনেক মার্কিন নাগরিকও ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিলেও তার আচরণকে কখনো কখনো হাস্যকর মনে করেন। ইউরোপের অনেক মানুষও তাকে একইভাবে দেখেন বলে দাবি করেন এই শিল্পী।

ট্রাম্পকে নগ্ন হিসেবে উপস্থাপনের পেছনে গালশিওটের আরও একটি প্রতীকী উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি ডেনমার্কের বিখ্যাত লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’ গল্পের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ওই গল্পে অহংকারী এক সম্রাট নগ্ন অবস্থায় মানুষের সামনে ঘুরে বেড়ান। গালশিওট বলেন, স্বৈরশাসকেরা সাধারণত তাদের নিয়ে হাসাহাসি পছন্দ করেন না।

রাজনৈতিক ব্যঙ্গের জন্য পরিচিত গালশিওটের আগের উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পিলার অব শেম’। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের হত্যাকাণ্ডের নিহতদের স্মরণে তৈরি ওই ভাস্কর্যটি ২০২১ সালে হংকংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে এক হাজারের বেশি ত্রিমাত্রিক মুদ্রিত ছোট ভাস্কর্যটিও রাখা হয়েছে। পথচারীদের এসব ক্ষুদ্র ভাস্কর্য ‘প্রতিবাদের প্রতীক’ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষক ক্লাউসেন ডেনমার্কের সমাজতান্ত্রিক রেড-গ্রিন অ্যালায়েন্স দলের সদস্য। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পার্লামেন্টের বামপন্থি ‘দ্য লেফট’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন।

ক্লাউসেন বলেন, বিশ্বে ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ইউরোপের মানুষের জন্য বড় সমস্যা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ইউরোপ কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সক্ষমতা জোরদার করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তার দাবি, কট্টর ডানপন্থিদের কিছু মানুষ ছাড়া প্রদর্শনীটি নিয়ে বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক। তার মতে, পার্লামেন্টে এমন শিল্প প্রদর্শনের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যার সঙ্গে সবাই একমত নাও হতে পারেন।

‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ এর আগেও মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ব্রাজিলে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনসহ বিভিন্ন আয়োজনে প্রদর্শিত হয়েছে। আগামী মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৪ সালেও গালশিওট ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ব্রাসেলস ভবনের সামনে তার ‘পিলার অব শেম’-এর একটি প্রতিকৃতি প্রদর্শন করেছিলেন। ওই প্রদর্শনীতে ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে চীন ও হংকংয়ের সেন্সরশিপের সমালোচনা করা হয়েছিল।

গালশিওট তার পুরোনো শিল্পকর্মের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন ভাস্কর্যটির একটি যোগসূত্রও দেখছেন। তার ভাষায়, উভয় শিল্পকর্মের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন মানুষের সম্পর্ক।

সূত্র: সিএনএন

ট্রাম্পের ভাস্কর্য সামনে শিল্পী ইয়েন্স গালশিওট। ছবি: এপি
ট্রাম্পের ভাস্কর্য সামনে শিল্পী ইয়েন্স গালশিওট। ছবি: এপি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ইরান এখন অনেক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বুধবার রাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাজ করছেন এবং তিনি ‘খুব ভালো করছেন’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে এসব পদক্ষেপ কীভাবে এবং কোন ক্রমে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়ছে: সেন্টকম

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করেছে।

সেন্টকম জানায়, ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতের প্রতিনিধিদের হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এ সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বৃদ্ধির কথা জানায় মার্কিন সামরিক কমান্ড।

সেন্টকমের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২৫ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরান কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

তবে এসব পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য। হিসাব করার পদ্ধতিভেদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অনুমানে পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়েছে বলে জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে জানা যায়। তবে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: শাফাক নিউজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।

মেয়েটি আসে হৃদয়কে ফাঁদে ফেলতে, এরপর...

প্রকাশ ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা হৃদয় খান অবশেষে প্রকাশ করলেন তাঁর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ট্র্যাপড’–এর অফিশিয়াল টিজার। ছয় বছর আগে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নানা কারণে মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। তবে এবার জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরেই মুক্তি পাচ্ছে ২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের স্বল্পদৈর্ঘ্যটি।

‘ট্র্যাপড’–এর গল্প গড়ে উঠেছে হৃদয় নামের এক তরুণকে ঘিরে, যিনি অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন মাদক চক্রের ফাঁদে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের হয়ে কাজ করতে বাধ্য হন তিনি। এমনই এক অন্ধকারময় সময়ে তাঁর জীবনে আসে মোনা নামের এক তরুণী। তাঁর সঙ্গে পরিচয় থেকে হৃদয়ের জীবনে জন্ম নেয় নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গ হয় হঠাৎ করেই—চোখের সামনেই খুন হয়ে যায় মোনা। এরপর পাল্টে যায় হৃদয়ের জীবন। অতীতের অন্ধকারকে পাশে ঠেলে প্রতিশোধের পথে নামেন তিনি।

নিউইয়র্কে চিত্রায়িত ‘ট্র্যাপড’ সিনেমার টিজারের শুরুটা হয় এক নাটকীয় সংলাপ দিয়ে—যেখানে হৃদয়কে বলা হয়, ‘আপনি এখন আমাদের জন্য কাজ করেন।’ নতুন জীবনের প্রত্যাশা দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ডেলিভারি, নজরদারি, হুমকি—সবকিছু নিয়েই তাঁকে বাঁচতে হয় ক্রমাগত ভয়ে ও অনিশ্চয়তায়। এই ভয়াবহ জীবনের মাঝেই আসে মোনার উপস্থিতি। টিজারে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মেয়েটি প্রথমে হৃদয়কে ফাঁদে ফেলতে পাঠানো হলেও পরে সত্যিই তাকে ভালোবেসে ফেলেছিল। তার ত্যাগের মধ্য দিয়েই গল্প নেয় করুণ মোড়। মেয়েটির মৃত্যুর পর হৃদয় উপলব্ধি করেন, তাঁকেই শেষ করতে হবে এই দুঃস্বপ্নের চক্র।

‘ট্র্যাপড’ ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন হৃদয় খান। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন মোনালিসা। এ ছাড়া নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন স্থানীয় শিল্পীকেও দেখা যাবে বিভিন্ন চরিত্রে। স্বল্পদৈর্ঘ্যে প্রথমবার অভিনয় করলেও হৃদয় আগে তাঁর অনেক গানের ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। বিজ্ঞাপন ও নাটকেও অভিনয় করেছেন। তবে পরিচালনা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।

পরিচালনা প্রসঙ্গে হৃদয় খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ভিডিওগ্রাফির প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল। গান করার আগে থেকেই ভিডিওগ্রাফি শুরু করি। তবে কখনো পেশাদার ভিডিওগ্রাফি করিনি। নানা সময়ে ভিডিও সম্পাদনা, কালার গ্রেডিংয়ের কাজও করেছি টুকটাক। তবে নিজে অভিনয় ও পরিচালনা করাটা সত্যিই কঠিন।’

টিজারের সংলাপ ও দৃশ্যই ইঙ্গিত দেয়, ‘ট্র্যাপড’ শুধুমাত্র একটি অ্যাকশনধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্য নয়—এটি বিশ্বাসঘাতকতা, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক আবেগঘন গল্প। শেষে প্রতিশোধের দৃঢ় সংকল্পই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আগামী ডিসেম্বরেই দর্শকের জন্য উন্মুক্ত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি—এমন ঘোষণা দেওয়ায় হৃদয় খানের অনুরাগীরা ইতিমধ্যেই অপেক্ষায়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-30%2F2w7e9va0%2F50435186312623674352519953171512502263574411n.jpg?rect=0%2C56%2C960%2C640&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
হৃদয় খান। ছবি : হৃদয়ের ফেসবুক থেকে