Wednesday, October 14, 2026

এত শক্তিশালী হয়েও হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব, কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিপুল সামরিক সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির বিমানবন্দরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ঘরে বসে কাজ করতে হয়েছে। এখন হামলা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি পাল্টা আঘাত হানলে সংঘাত আরও বড় হয়ে ওঠার ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হচ্ছে রিয়াদকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় তুলনামূলক দুর্বল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হুতিরা এখন শক্তিশালী লড়াকু বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলছে। এতে আরব উপদ্বীপে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনে সরকারবিরোধী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব। এ কারণেই দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করছে গোষ্ঠীটি।

শনিবারের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে যাত্রীদের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। ফুটেজে বিমানবন্দরের একটি অংশ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতেও দেখা গেছে।

বিপুল অস্ত্র থাকলেও কেন দুর্বলতা?

বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ সৌদি আরব। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট অস্ত্র রপ্তানির ১২ শতাংশ পেয়েছে দেশটি।

বছরের পর বছর ধরে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত রাডার ও আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। দেশটির ২০২৬ সালের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ৯০০ কোটি ডলারে ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিও করেছে রিয়াদ।

তবে বিপুল অস্ত্রভান্ডার থাকলেই সব হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়। আয়তনে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন গুণ। দেশটির বিস্তীর্ণ ও তুলনামূলক জনবিরল এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে জ্বালানি অবকাঠামো, বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি। ইয়েমেনের সঙ্গে সীমান্তও প্রায় ১ হাজার ২৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ। সীমান্তের বড় অংশ দুর্গম মরুভূমির মধ্য দিয়ে গেছে।

সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, সৌদি আরবের মতো বিশাল দেশের দিকে ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। এ কারণে মিত্র দেশগুলোর কাছেও সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশই কার্যত পরিস্থিতি থেকে দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌথ হামলায় ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ এনবিসি নিউজকে বলেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে অসম যুদ্ধকৌশলে দক্ষতা অর্জন করেছে হুতিরা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিজ্ঞতাও তাদের রয়েছে। এসব কৌশল ব্যবহার করে তারা প্রতিপক্ষের রাডার ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে শিখেছে।

পাল্টা হামলা চালাবে কি সৌদি আরব?

সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে বিমানবন্দরে হুতিদের হামলাকে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতে, হুতিদের হামলার জবাব দিতে সৌদি আরবকে বিমান হামলা ও সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহায়তা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে লড়াই যাতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের সময় হুতিদের সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার। ২০২৪ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত হয়েছে। হুতি ও ইরান একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল ও নতুন অভিজ্ঞতা বিনিময় করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমির মতে, সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে হুতিরা নিজেদের প্রায় অপ্রতিরোধ্য মনে করছে। তবে এর জবাবে সৌদি আরবের বড় ধরনের পাল্টা হামলার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স, এনবিসি নিউজ, সিএনএন

সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই পাশে রয়েছে সাঁজোয়া যান ও রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন। ছবি: সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ
সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই পাশে রয়েছে সাঁজোয়া যান ও রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন। ছবি: সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ

প্রাণহানি বাড়ছে, খাবার ফুরোচ্ছে, ভেঙে পড়ছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা

ইয়েমেনে যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৮ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি মানবিক সহায়তা। খাদ্য সরবরাহ কমে আসায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বুধবার (১৪ অক্টোবর) জানায়, ইয়েমেনের মারিব, তাইজ ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রের আঘাতে আহত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে এক সপ্তাহে ৭০০ জনের বেশি আহত রোগী ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আইসিআরসির স্বাস্থ্যবিষয়ক সমন্বয়ক ফেরাস আবুসামরা বলেন, যুদ্ধাহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইয়েমেনের চালু থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর খুব অল্পসংখ্যকই গুরুতর আহতদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে পারে। হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, অ্যানেসথেশিয়া, অক্সিজেন ও ওষুধের ঘাটতিও রয়েছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও রোগের প্রাদুর্ভাবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই বিপর্যস্ত। লড়াই আরও তীব্র হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হারাতে পারে দেশটির হাসপাতালগুলো।

খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজসহ সংঘাতকবলিত বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮ লাখ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। বর্তমানে লড়াই থেকে পালিয়ে আসা সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজে।

ডব্লিউএফপি জানায়, সংঘর্ষ ও সড়ক বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। গমের আটার মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। স্থানীয় বাজারে যে সামান্য খাবার অবশিষ্ট রয়েছে, তা-ও অল্প সময়ের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে।

ইয়েমেনে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এল-খিদির দালুম বলেন, নিরাপদে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষ বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে খাদ্য কুপন নেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষ বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে খাদ্য কুপন নেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

পাঁচ নয় বৃটেনে স্থায়ী হতে লাগবে দশ বছর by আরিফ মাহফুজ

বৃটেনে স্থায়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নীতি প্রণয়নের ঘোষণা দিলেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার অর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার লেবার পার্টির সম্মেলনে বক্তব্যকালে নতুন একটি কঠোর অভিবাসন নীতি নির্ধারণের ঘোষণা দেন।

শাবানা বলেন, আইএলআর বা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি’ পেতে হলে এখন থেকে ৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর বৈধভাবে থাকতে হবে (নির্দিষ্ট ক্যাটাগরীগুলোতে) যা আগের সময়কালের দ্বিগুণ। সাথে উচ্চমানের ইংরেজি শেখা এবং অপরাধমূলক রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে অর্থাৎ বৃটেনে কোনো অপরাধ করা ব্যক্তি স্থায়ী হতে পারবে না। এরকম নতুন শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মতামত জরিপে নেতৃত্বদানকারী রিফর্ম ইউকে- যারা এই মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অর্থাৎ যারা নতুন ভিসার জন্য যোগ্যতা অর্জন করে না তাদের নির্বাসিত করা যেতে পারে। নতুন ইমিগ্রেশন নীতির কঠোরতাকে বৈধ অভিবাসীদের বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

mzamin

পাকিস্তানের কুখ্যাত রেহমান ডাকাতই কি অক্ষয়, জানুন পর্দার আড়ালের সত্যি ঘটনা

প্রকাশ ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ মুক্তি পেয়েছে আদিত্য ধরের নতুন সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। প্রথম টিজার, এরপর ট্রেলারে সাড়া ফেলছিল সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত তারকাবহুল সিনেমাটি। এতে অভিনেতাকে দেখা গেছে বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত বিভিন্ন চরিত্রে। তবে বিশেষভাবে আলোচনায় অক্ষয় খান্না অভিনীত রহিম ডাকাত চরিত্রটি। ট্রেলার দেখে অনেকে বলছেন, এটি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত রহিম ডাকাতের জীবনের আধারে।

কে এই রেহমান
‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অক্ষয় অভিনীত চরিত্রের নামও রেহমান ডাকাত। কিন্তু সত্যিই কি ‘ধুরন্ধর’-এ কুখ্যাত পাকিস্তানি মাফিয়া রেহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করছেন অক্ষয়? অনেকে তেমন দাবি করলেও ছবির নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
রেহমান ডাকাতের আসল নাম ছিল সর্দার আবদুল রেহমান বালুচ। খুব কম বয়সেই অপরাধজগতে হাতেখড়ি হয় রেহমানের। ধীরে ধীরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘বাদশা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

রেহমানের জন্ম ১৯৮০ সালে। বাবা মুহাম্মদ ও মা খাদিজা বিবি। রেহমানের বাবা ও চাচা ছিলেন কুখ্যাত মাদক পাচারকারী। ১৯৬৪ সাল থেকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। অল্প বয়স থেকে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন রেহমানও।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ উঠেছিল রেহমানের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে নিজের মাকেও খুন করেছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহেই নাকি মাকে খুন করেছিলেন তিনি।
শোনা যায়, রেহমান এতটাই নির্মম ছিলেন যে করাচির মানুষ তাঁর নাম মুখে আনতেও ভয় পেতেন। আবার করাচি আর আশপাশের এলাকায় প্রচলিত ছিল, রেহমান কোনো মানুষ ছিলেন না, ছিলেন ‘সাক্ষাৎ শয়তান’।

পাকিস্তানে রেহমানের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন আরশাদ পাপ্পু নামের অন্য এক গ্যাংস্টার। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে, মাদক, চাঁদাবাজি আর এলাকা দখল নিয়ে আরশাদের সঙ্গে রেহমানের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও দেখেছিলেন রেহমান। তার জন্য অনেক চেষ্টাও করেছিলেন। তবে সেভাবে সফল হননি। সেই সূত্রে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নাকি ওঠাবসা ছিল তাঁর। ২০০৮ সালে পিপলস আমান কমিটি (পিএসি) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন রেহমান। বলা হয় ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি’র সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল এই গোষ্ঠীর।
২০০৮ থেকে অপরাধজগতে রেহমানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাঁকে দমন করতে উঠেপড়ে লাগে প্রশাসন। ২০০৯ সালে করাচি পুলিশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন রেহমান ও তাঁর গ্যাং। ২০০৯ সালেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় রেহমানের।

রেহমানের ছেলেও পুলিশের গুলিতে মারা যান
রেহমান ডাকাতের ছেলে সরবান ডাকাত গত বছর পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হন। সরবান আগে ড্রাগ ব্যবসা ও মুক্তিপণ বিনিময়ের জন্য অপহরণ মামলায় জড়িত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেহমান ডাকাতের তিন স্ত্রী থেকে অনেক ছেলেমেয়ে রয়েছে। সরবান ছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে, যাঁর আরও তিন ছেলে ছিল। রেহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী স্থানীয় এক নির্মাতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সিনেমায় কী দেখানো হয়েছে
টিজার ও ট্রেলার মুক্তির পর অক্ষয়ের লুক প্রশংসিত হলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিনেমায় চরিত্রটিকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। বলিউড সিনেমায় বরাবরই ভারতীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নায়কোচিতভাবে দেখানো হয়, এ সিনেমাতে হয়তো সেটাই করা হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, করাচির গ্যাংস্টারের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল একেবারেই স্থানীয় ঘটনা, যার মূল কারণ ছিল দারিদ্র্য, রাজনৈতিক উদাসীনতা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য। রেহমান ডাকাত লটারির অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন; আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আসলাম নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই গ্যাংগুলো ভাঙার জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন, পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন।

তিনি এই ঘটনাগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন, কোনো বিদেশি নায়কের সহায়ক নয়, যা হয়তো এ সিনেমায় দেখানো হয়েছে।
সিনেমায় রেহমান ডাকাতকে এক বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা আসলে বাস্তবতাবিবর্জিত। এ জন্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো দেশটির নির্মাতাদেরও দায়ী করেছেন। কারণ, তাঁরা কেবল পর্দায় রোমান্টিক ড্রামাই বানান, সত্যিকারের অপরাধের ঘটনাগুলো নিয়ে সিনেমা-সিরিজ বানান না।

কী আছে ‘ধুরন্ধর’-এ
‘ধুরন্ধর’-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর সিং। তিনি ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন, অক্ষয় খন্না ও অর্জুন রামপাল। প্রত্যেকেরই ‘লুক’ সাড়া ফেলেছে। ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় রয়েছেন সারা অর্জুন। ২৮০ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি হয়েছে ‘ধুরন্ধর’। ছবিটি তৈরি হয়েছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে। অন্তত তেমনটাই দাবি করা হয়েছে ছবির ট্রেলারে। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানে গিয়ে ভারতীয় কোনো সৈনিকের অভিযান উঠে আসবে সিনেমায়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-04%2F2bxnsrnr%2Ff8da81b0-4b54-4778-a6b0-cf4c11c155f7.jpg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ধরণা করা হচ্ছে রেহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। কোলাজ