Sunday, November 8, 2026

কে এই আইজেনকট, ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার অবস্থান কেমন?

দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকট। ১২০ সদস্যের নেসেটে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও যুদ্ধনীতির বিপরীতে আইজেনকটকে সামনে আনা হচ্ছে তুলনামূলক সংযত ও পেশাদার নেতা হিসেবে। কিন্তু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং গাজা যুদ্ধের প্রশ্নে তার অবস্থান কতটা ভিন্ন? অতীতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বলছে, নেতানিয়াহুর বিকল্প হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তিনি খুব বেশি আলাদা নন।

স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

নির্বাচনের পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদ সদস্যসহ ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন। আইনপ্রণেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বিবেচনায় নিয়ে আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।

নেতানিয়াহুর বিপরীতে আইজেনকটের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। তাকে সৎ, সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং তুলনামূলক সংযত রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও সামরিক নীতির ব্যবধান কতটা, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রশ্নে, তা নিয়ে রয়েছে গুরুতর বিতর্ক।

সাধারণ পরিবার থেকে সেনাপ্রধান, তারপর রাজনীতি

১৯৬০ সালে ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া আইজেনকটের পরিবার মরক্কো থেকে আসা মিজরাহি ইহুদি। নেতানিয়াহুর মতো অভিজাত পারিবারিক পটভূমি না থাকলেও সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘ কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

পদাতিক সেনা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন আইজেনকট। ২০২২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তার দল ইয়াশারের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘সৎ’।

দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত ভাবমূর্তি, সাধারণ পারিবারিক পটভূমি এবং সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে নেতানিয়াহুবিরোধী ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসন, বিতর্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত মানুষের কাছে আইজেনকটকে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অনাগ্রহ, বসতি সম্প্রসারণে সমর্থন

আইজেনকটের রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থিত এই সমাধানের প্রতি তার সমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তার বক্তব্যের বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে।

২০২৬ সালের জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দুই জনগোষ্ঠীর জন্য দুটি রাষ্ট্র, এমন কথা আমি কখনো বলিনি। যারা এখনই শান্তি এবং দুই রাষ্ট্রের কথা বলেন, তারা এই সংঘাত বোঝেন না।’

তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের পৃথক রাখার ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। তার যুক্তি, এতে ইসরায়েলে ইহুদিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিত না করে বিচ্ছিন্নতার কথা বলা মূলত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের প্রশ্নেও তার অবস্থান কঠোর। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জুদেয়া ও সামারিয়ায় (পশ্চিম তীর) বসতি স্থাপনে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

২০২৬ সালের এপ্রিলে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি বসতি ও অবৈধ আউটপোস্ট পরিদর্শন করেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

তবে নেতানিয়াহু সরকারের পশ্চিম তীর নীতির সবকিছুর প্রতি তার সমর্থন নেই। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের হাতে অঞ্চলটির প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইজেনকট। এ দায়িত্ব থেকে স্মোত্রিচকে সরিয়ে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে তিনি।

অর্থাৎ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা নয়, বরং সেই নিয়ন্ত্রণ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে প্রশ্নেই তার আপত্তি বেশি।

দাহিয়া ডকট্রিনের অন্যতম প্রণেতা, গাজা যুদ্ধেও বিতর্কিত ভূমিকা

আইজেনকটের সামরিক অতীতও বিতর্কের বাইরে নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বহুল সমালোচিত ‘দাহিয়া ডকট্রিন’র অন্যতম প্রণেতা তিনি।

২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধে বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতা থেকে এই সামরিক নীতির নামকরণ। এর মূল কথা, কোনো এলাকা থেকে ইসরায়েলে হামলা হলে সেখানে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতেও ব্যাপক ও অসম শক্তি প্রয়োগ করা হবে। ২০০৮ সালে আইজেনকট বলেছিলেন, ইসরায়েলে হামলা হলে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোয় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।

২০২৬ সালের মার্চে লেবাননে আবারও এই নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ ধরনের কৌশল প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

২০১৮ সালে সেনাপ্রধান থাকাকালে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভ দমনে ইসরায়েলি সেনাদের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময়ও দায়িত্বে ছিলেন আইজেনকট। ওই বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ১৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩৫ শিশু, তিন স্বাস্থ্যকর্মী ও দুই সাংবাদিক ছিলেন। আহত হন ছয় হাজারের বেশি মানুষ।

জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন বলেছিল, এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর নেতানিয়াহুর জোট সরকারে যোগ দেন আইজেনকট। তবে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালের জুনে তার দল ন্যাশনাল ইউনিটি জোট ছাড়ে।

গাজায় ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। যুদ্ধের সময় জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে আহত হওয়ার পর তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল মেইর আইজেনকট মারা যান।

নেতানিয়াহুর বিকল্প, নাকি একই নীতির ভিন্ন মুখ?

আইজেনকটের জনপ্রিয়তার পেছনে তার রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর প্রতি জনঅসন্তোষও বড় ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েলের অনেক ভোটার তাকে এমন একজন নেতা হিসেবে দেখছেন, যিনি রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা শাই বাজাকের মতে, আইজেনকটের বড় আকর্ষণ সম্ভবত তার কম নাটকীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন একজন প্রভাবশালী ও আলোচিত নেতার শাসনের পর ইসরায়েলিরা এখন তুলনামূলক কম উচ্চকিত কাউকে চাইছেন। তারা নতুন কোনো রাজনৈতিক নাটকীয়তার চেয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আইজেনকটের প্রতি জনসমর্থনের আরেকটি কারণ তার সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান হিসেবে পেশাদার ভাবমূর্তি। অনেকের ধারণা, তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি আর রাজনৈতিক নীতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে আইজেনকটের উত্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য তা কতটা ইতিবাচক হবে, সেটি বড় প্রশ্ন।

দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে সমর্থন এবং সামরিক অভিযানে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান তার রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফলে নেতানিয়াহুর বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সব মিলিয়ে, আইজেনকটের উত্থান নেতানিয়াহুবিরোধী ইসরায়েলিদের জন্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কি কেবল নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নেও নতুন কোনো পথ খুলবে? আপাতত তার অতীত বক্তব্য ও অবস্থান দ্বিতীয় সম্ভাবনার পক্ষে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না।

সূত্র : আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান ও আইএমইইউ

গাদি আইজেনকট। ছবি: রয়টার্স
গাদি আইজেনকট। ছবি: রয়টার্স

জোট ছাড়াই আইজেনকটের সরকারকে সমর্থন দেবে আরবদের দল

ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল রা’আম। এমনকি সরকার গঠনের আগে আনুষ্ঠানিক জোট চুক্তি সম্পন্ন না হলেও আইজেনকটের পক্ষে ভোট দেবে দলটি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে রা’আমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নেতার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলেও এ বরাতে খবর প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রা'আমের লক্ষ্য হলো আইজেনকটের ৪৮ সদস্যের জোটকে অতি-অর্থোডক্স ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টির সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে বিরত রাখা। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা এড়িয়ে দ্রুত সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি করতে চায় দলটি।

এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হলেও শুরুতেই সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে রা'আম।

তবে আরেকটি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট এমন সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দেবে না। যদিও সরকারটিকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্যোগেও তারা অংশ নেবে না বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের স্পিকার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও আইজেনকটের জোটের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায় রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট। আরব জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনাও দল দুটির অন্যতম লক্ষ্য।

তবে জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জোট আলোচনা চলছে না। অন্যদিকে, আইজেনকটের শিবিরের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখার চেষ্টা করছে রা’আম।

এদিকে, আইজেনকটের জোটের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করার বিরোধিতা করেছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) ও ‘রা’আম’ দলের চেয়ারপারসন মানসুর আব্বাস। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) ও ‘রা’আম’ দলের চেয়ারপারসন মানসুর আব্বাস। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল

কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ সেনা

কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় দেশটির তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও আটজন।

কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর প্রথম ডিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বলিভার বিভাগের সান্তা রোসা পৌরসভায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরক বহনে সক্ষম করে পরিবর্তিত কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক ক্যান্টনমেন্টের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা প্রটোকল কার্যকর করা হয়। সেনাসদস্যরা হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে কাজ শুরু করেন।

হামলায় আরও কয়েকজন সামরিক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী। তাদের ভাষায়, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনীর প্রথম ডিভিশন।

এ ছাড়া সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা হামলা-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে নাগরিকদের দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী হটলাইনে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কলম্বিয়ায় বিস্ফোরণের পুরোনো ছবি: গেটি ইমেজেস
কলম্বিয়ায় বিস্ফোরণের পুরোনো ছবি: গেটি ইমেজেস

ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই মূল: জ্যাক ইয়াদেগারির সাফল্যের গল্প

প্রকাশ ১৯ অক্টোবর ২০২৫ঃ ১৮ বছরের মার্কিন তরুণ জ্যাক ইয়াদেগারি। ব্যর্থ হয়েছিলেন আইভি লিগে ভর্তিতে। তবে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারেনি তা। কোটি ডলারের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন নিজের গড়া প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান দিয়ে। এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

সাত বছর বয়সে শিখেছিলেন কোডিং

মাত্র সাত বছর বয়সে কোডিং শেখা শুরু করেন ইয়াদেগারি। ১০ বছর বয়সেই তিনি অন্যদের কোড শেখাতে শুরু করেন এবং ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার আয় করতেন। স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি তৈরি করেন একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট—‘Totally Science’, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিনা ডাউনলোডে ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গেম খেলতে পারত। এই ওয়েবসাইট থেকেই আসে তাঁর প্রথম ছয় অঙ্কের (ডলার) আয়।

স্টার্টআপ থেকে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

১৬ বছর বয়সে ইয়াদেগারি একটি নতুন অ্যাপ তৈরিতে কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তী সময় রূপ নেয় Cal AI-এ—একটি ক্যালরি ট্র্যাকিং অ্যাপ, যা ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডায়েট মনিটর করতে সাহায্য করে। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি তাঁর তিন সহযোগী—হেনরি ল্যাংম্যাক, ব্লেক অ্যান্ডারসন ও জেক কাস্টিলোর সঙ্গে অ্যাপটি চালু করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই অ্যাপটির বার্ষিক আয় ছুঁয়ে ফেলে ৩ কোটি ডলার।

এই অ্যাপের ধারণা আসে নিজের ফিটনেস রুটিনে ক্যালরি ট্র্যাক করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর। জটিল হিসাব না করে শুধু একটি ছবি তুলেই ব্যবহারকারীরা সহজে দৈনিক খাদ্য গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন।

আইভি লিগে না গিয়েও সাফল্য


৪ জিপিএ ও ৩৪ স্কোর একাডেমিক রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও ইয়াদেগারি ভর্তি হতে পারেনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। তবে তিনি অফার পান জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শেষ পর্যন্ত তিনি মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রেস্টিজ নয়; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগকেই অগ্রাধিকার দিয়ে।

প্রচলিত ধারার বাইরে শিক্ষা ও ক্যারিয়ার

ইয়াদেগারির গল্প দেখিয়ে দেয়—সাফল্যের একমাত্র পথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামী ডিগ্রি নয়। সৃজনশীলতা, নিজে শেখার আগ্রহ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম দিয়েও তৈরি করা যায় সফল ক্যারিয়ার। তিনি ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও মূল সময় ব্যয় করেন নিজের প্রযুক্তি প্রকল্প ও ব্যবসা পরিচালনায়।

জ্যাক ইয়াদেগারির যাত্রা প্রমাণ করে—তরুণেরা চাইলে নিজেদের মতো করে সফল হতে পারেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরেও বাস্তব দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই হতে পারে সফলতার চাবিকাঠি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-19%2Fdc0kpvy9%2F151.JPG?rect=31%2C0%2C338%2C225&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
জ্যাক ইয়াদেগারি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে নিজের অবস্থানে পরিবর্তন আনছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারের শেষ পর্যায়ে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামনে না রেখে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের বাইরে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলার প্রাথমিক ইঙ্গিত এটি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের আগে দলটির পক্ষে ভ্যান্সের দেওয়া ছয়টি বক্তব্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনের পর দেওয়া এসব বক্তব্যে তিনি মূলত নিজের নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দলটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর পড়ছিল। এ পরিস্থিতিতে ভ্যান্স ট্রাম্পের প্রধান কিছু নীতি; বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসীদের বিতাড়নের বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।

কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত। এ বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে জানান, ভ্যান্স ও তার উপদেষ্টারা অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতিতে সংযম এবং জননিরাপত্তার মতো বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। এসব বিষয়ে কর্তৃত্বের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও ছিল ভ্যান্সের। ট্রাম্প তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসব নীতিকে সামনে আনলেও ভ্যান্স এজেন্ডাগুলোর প্রধান প্রচারক হয়ে উঠেছেন বলে তাদের অভিমত।

রিপাবলিকানরা এখন ট্রাম্প-পরবর্তী নেতৃত্বের দিকে তাকাতে শুরু করায় ৪২ বছর বয়সী ভ্যান্সের নিজস্ব রাজনৈতিক পথ তৈরির সম্ভাবনাও সামনে আসছে।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনো কিছু বলেননি ভ্যান্স। ট্রাম্পও তাকে কিংবা অন্য কাউকে সমর্থন দেননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ভ্যান্সকে এগিয়ে থাকা একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থক জোটের বড় অংশ ধরে রাখার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক বিতর্ক ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে নিজেকে আলাদা করতে হবে ভ্যান্সকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের কারণ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন ভ্যান্স। ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য দায়ী করে তিনি সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, পররাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেন।

ভ্যান্সের ওই পোস্টে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট হয়। তবে হোয়াইট হাউস ও ভ্যান্সের যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেননি ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাদের দাবি, পোস্টটি দেওয়ার বিষয়ে আগেই জানতেন সদ্যই সাবেক হওয়া হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রদবদল করেন ট্রাম্প। সুজি ওয়াইলসকে সরিয়ে তার জায়গায় স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পদক্ষেপকে ট্রাম্পের কঠোর নীতিগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের পরাজয়ে এর ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভিন্ন কিছুই করতাম না।’

ভ্যান্সের পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প আগে থেকে জানতেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। তবে ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কয়েকজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক মিত্রও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ও কংগ্রেসের সাবেক দুই স্পিকার জন বোহেনার এবং পল রায়ানের সাবেক উপদেষ্টা মাইকেল রিচির মতে, এ বক্তব্য ট্রাম্প-পরবর্তী রক্ষণশীল রাজনীতির সম্ভাব্য নেতা হিসেবে ভ্যান্সের অবস্থান আরও সামনে এনেছে।

রিচি বলেন, ভ্যান্সের বক্তব্য রক্ষণশীলদের মধ্যে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কোন নীতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, সেই আলোচনাও সামনে এসেছে।

তার মতে, ‘এটিকে শুধু ট্রাম্পের থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা সরলীকরণ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রভাব ও প্রচারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিতর্কের বিষয়বস্তু নির্ধারণের চেষ্টা করছেন তিনি।’

ভ্যান্সের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা রয়টার্সকে বুধবার ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেদিন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি তিনি বুঝতে পারছেন।

তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ভ্যান্স কিংবা রিপাবলিকান দলের অন্য যেকোনো প্রার্থীকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে রক্ষণশীল সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে ট্রাম্প বড় ভূমিকা রাখলে এ চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অবশ্য ভ্যান্সের নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও পুরোপুরি অক্ষত থাকেনি। তিনি যেসব অঙ্গরাজ্যে প্রচারে গিয়েছিলেন, সেখানেও রিপাবলিকানরা হেরেছে। তার সমর্থন পাওয়া কিছু প্রচারকৌশলও দলের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে ওহাইওর গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিজ্ঞাপন ছিল। এতে নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতেও ভ্যান্সের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট ছিল। বিভিন্ন সমাবেশে তিনি ভোটারদের রিপাবলিকানদের সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলটি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচিতে জালিয়াতির তদন্ত করবে। এ বিষয়কে তিনি হোয়াইট হাউসের অভিবাসন নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম নিয়ে প্রায় কিছুই বলেননি। ট্রাম্পের নামও খুব কম উচ্চারণ করেছেন।

উত্তর ক্যারোলাইনায় প্রচারের শেষ দিকের এক সমাবেশে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তানরা এমন একটি দেশে পরিবার গড়ে তুলুক, যে দেশ প্রাণবন্ত, সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও স্বচ্ছল। আমি চাই সাধারণ কিছু বিষয়। আর আমি নিজের জন্য যা চাই, আপনাদের জন্যও তা-ই চাই।’

সূত্র : রয়টার্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা তুলে নিলো ইরান

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারে সীমিত রাখার স্বঘোষিত নীতি তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে এ ঘোষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, ইরান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারে। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা বলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য ওই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে।’ তবে শুধু বক্তব্য না দিয়ে ইরান বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি কি না, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু বলেননি মোহেব্বি।

কয়েক দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত এক বিবৃতিতেও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যে কোনো ধরনের ও মাত্রার হুমকির জবাব দেওয়া হবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই।

২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ত অঞ্চল এবং মিসরের অধিকাংশ এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত রাখার দাবি করলেও গত মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টা করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। ইরান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। তবে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্র এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত অন্যান্য পণ্য পরিবহন বন্ধে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে।

‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামের এ উদ্যোগের খবর প্রথম প্রকাশ করে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় এর সদর দপ্তর হবে। অন্যান্য মার্কিন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে টাস্কফোর্সটি।

অস্ত্র পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি ইরানের ব্যবহৃত দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির সরবরাহ ঠেকানো এবং ওয়াশিংটনের ভাষায়, অবৈধ রাজস্বের প্রবাহ বন্ধ করাও এর লক্ষ্য।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নতুন উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। আট মাসের বেশি সময় আগে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগরে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরান এখনো বড় হুমকি হিসেবে রয়েছে। দেশটির শাসকরাও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছেন।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক এবং ভারী ট্রাক আমদানির জন্য গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো উড়োজাহাজে এসব সরঞ্জাম ইরানে প্রবেশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টাস্কফোর্সটি মার্কিন সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ কাজে অর্থ, পররাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্ত থাকতে পারে।

সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সেন্টকমের সহযোগিতা জোরদার হলে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্গঠন এবং সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণ করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও সীমিত হবে।’

সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের ২৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে সাবেক সেনাপ্রধানকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

আল-জাজিরার প্রতিব্দনে বলা হয়, শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হারজগ। রোববার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ।

এতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদ সদস্যসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন ৪৬ জন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

অক্টোবরের নির্বাচনে চার দলের জোট নিয়ে আইজেনকটের পক্ষ ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। এ নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।

তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আইজেনকট। ওই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এ ছাড়া কট্টর ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসকে পাশে পেলে ঠিক ৬১টি আসনের সমর্থন পাবেন তিনি।

অবশ্য পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারলে ৬১ আসনের সমর্থন ছাড়াও সরকার গঠন করতে পারবেন আইজেনকট।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানান, প্রেসিডেন্ট হারজগের সিদ্ধান্ত ছিল প্রত্যাশিত। কারণ, সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেয়েছিলেন আইজেনকট।

ওদেহ বলেন, এখন আইজেনকটের সামনে কঠিন কাজ হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা একদিকে নির্বাচনি প্রচারের সময় দেওয়া তার প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের বিরোধিতাও মোকাবিলা করতে পারবে।

আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কাউকে সমর্থন করতে পারবেন। তাকে সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমদ তিবি বলেন, হারজগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল। তবে আইজেনকট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তিবি বলেন, শেষ পর্যন্ত আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানোয় তিনি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছেন। তার ধারণা, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে পাওয়া সমর্থনে আইজেনকট একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন।

সূত্র : আল জাজিরা

গাদি আইজেনকোট ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: গেটি ইমেজস
গাদি আইজেনকোট ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: গেটি ইমেজস

সলভিও এআই হ্যাকাথন ২০২৫: বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিপ্লবের দিকে এক নতুন পদক্ষেপ

প্রকাশ ২৭ অক্টোবর ২০২৫ঃ এআই এখনকার সময়ে প্রযুক্তিবিশ্বে এটি একটি পরিচিত শব্দ। তবে সলভিও এআই হ্যাকাথন ২০২৫ শুধু একটি হ্যাকাথন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তির বড় ধরনের বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে। এই ইভেন্ট আয়োজন করছে সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড, সিস্টেমের (নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের উদ্যোগ) সঙ্গে পার্টনারশিপে। এখানে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শন করবেন এবং এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করবে সমাধান; যা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সমাজের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

এই হ্যাকাথনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে এআই–প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা এবং তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়ন করা। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান তৈরি করবেন, যা দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আধুনিক ও গতিশীল করে তুলবে। এটি শুধু প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য নয়; বরং উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে।

কী কী থাকবে এই হ্যাকাথনে—

১. এআইভিত্তিক বাস্তব সমাধান: প্রতিযোগীরা তৈরি করবেন এমন প্রযুক্তি, যা দেশের ফিন্যান্সিয়াল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সার্ভিস প্রোভাইডারসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে পারে।

২. বিশ্বমানের বিচারক প্যানেল: আন্তর্জাতিক এআই বিশেষজ্ঞদের দ্বারা গঠিত বিচারক প্যানেল থাকবে। তারা শুধু বিচারক হিসেবে কাজ করবে না; বরং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শেয়ার করবে প্রতিযোগীদের সঙ্গে।

৩. ইনোভেশন ও ব্যবসায়িক কৌশল: এখানে শুধু প্রযুক্তি নয়; বরং ব্যবসার কৌশল নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রতিযোগীরা শিখবেন তাঁদের সমাধান বাজারে কীভাবে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।

৪. চাকরির সুযোগ: প্রতিযোগীরা সরাসরি রিক্রুটমেন্টের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের ক্যারিয়ারের জন্য বিশাল একটি সুযোগ।

বিজয়ীদের জন্য থাকবে ৫ লাখ টাকার আকর্ষণীয় পুরস্কার, সঙ্গে তাঁদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ। সলভিও এআই হ্যাকাথন ২০২৫–এ দেশের প্রযুক্তিক্ষেত্রকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে। অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা দিয়ে দেশের প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন—এটাই এই হ্যাকাথনের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, এ আয়োজনের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে প্রথম আলো।

রেজিস্ট্রেশন করুন https://solvio.sheba-platform.xyz/ এবং জমা দিন আপনার দুর্দান্ত আইডিয়া। রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-27%2Fiiv8j9md%2F%E0%A7%A7%E0%A7%AB%E0%A7%AF.png?rect=270%2C0%2C1584%2C1056&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif