Saturday, November 7, 2026

‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ নিয়ে আল-সাইয়েদের জয় উদযাপন করছেন আরবরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে মধ্যপ্রাচ্য—সবখানেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে আবদুল আল-সাইয়েদের নির্বাচনি জয়ে। তার বিজয়ের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির প্রচলিত শব্দভান্ডারে ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’র মতো আরবি শব্দ যুক্ত করার বিষয়টিও উদ্‌যাপন করছেন আরবরা। খবর এপির।

নির্বাচনি প্রচারের সময় ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন আল-সাইয়েদ। তবে সব সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মিসরীয় ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ডানপন্থি সমালোচকদেরও পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম-আমেরিকান সিনেটর হতে যাচ্ছেন তিনি। ফলে দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন এই উদীয়মান রাজনীতিক।

বিজয়ী ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে ‘জেডি, হাবিবি’ বলে সম্বোধন করেন আল-সাইয়েদ।

এর আগে ভ্যান্স সতর্ক করেছিলেন, আল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হলে দাঙ্গাকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে ডেট্রয়েট শহর পুড়িয়ে ফেলবেন। সেই বক্তব্যের জবাবে বিজয়ী ভাষণে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘এটা খুবই মজার বিষয় যে সংবিধান অনুযায়ী জানুয়ারিতে আপনাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমালোচকদের প্রতি কটাক্ষ করার পাশাপাশি নিজের বিজয়ের তাৎপর্যও তুলে ধরেছেন আল-সাইয়েদ।

‘হাবিবি’ আরবি ভাষায় ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশের শব্দ

‘হাবিবি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘আমার প্রিয়জন’ বা ‘আমার ভালোবাসার মানুষ’। আরবি পপসংগীতেও শব্দটির বহুল ব্যবহার রয়েছে। তবে দৈনন্দিন কথাবার্তায় এটি বন্ধু, সঙ্গী কিংবা ভাইকে সম্বোধন করার জন্যও ব্যবহৃত হয়। আল-সাইয়েদের সমর্থকদের অনেকেই ‘হাবিবি ফর আবদুল’ লেখা টি-শার্ট পরে তার নির্বাচনি জয় উদ্‌যাপন করেছেন।

মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইয়েদ বলেন, তার নির্বাচনি প্রচার ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে পরিণত করেছে। ‘ইনশাআল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ চাইলে বা আল্লাহর ইচ্ছায়। অন্যদিকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহর বা আল্লাহর শুকরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে আল-সাইয়েদের মৃদু রসিকতায় বেশ উচ্ছ্বসিত হয়েছেন আরবরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হাবিবি’ শব্দযুক্ত বিভিন্ন গানের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন অনেকে।

অতীত ও বর্তমানের নানা সংঘাতে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের উচ্ছ্বাসের প্রকাশ খুব একটা দেখা যায় না। এসব সংঘাত পশ্চিমা বিশ্বে আরব ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছে।

এক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মিসরের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শিরিন আবদেল ওয়াহাবের একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নাচের ভিডিও পোস্ট করেন। মজা করে তিনি লেখেন, আল-সাইয়েদ গানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় সংগীত বানিয়ে দেবেন।

আরব বিশ্বে মিসরীয়রা রসবোধের জন্য বেশ পরিচিত। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কৌতুক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রবণতা তাদের সংস্কৃতির অংশ। মিসরীয় চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতাদের মাধ্যমেও এই বৈশিষ্ট্য ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ নিয়ে আল-সাইয়েদের জয় উদযাপন করছেন আরবরা
আবদুল আল-সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত

চোখের রং নীল, সবুজ ও বাদামি হয় কেন by জাহিদ হোসাইন খান

জনপ্রিয় বাংলা গান ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনি’ গুনগুন করে গেয়েছেন অনেকেই। গানের কথার মতো সামনে থাকা মানুষের চোখে চোখ পড়লে আমরা নানা রঙের চোখ দেখি। চোখের রং আসলে মেলানিন, আইরিসের গঠন ও জেনেটিকসের মাধ্যমে তৈরি হয়। আর তাই তো আশপাশে থাকা মানুষের মধ্যে বাদামি থেকে শুরু করে নীল রঙের চোখ দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে বাদামি চোখের আধিপত্য থাকলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের চোখের রং কালো হয়ে থাকে।

সারা বিশ্বে গভীর বাদামি থেকে শুরু করে হিমশীতল নীল, সবুজ বা পরিবর্তনশীল হেজেল শেডের চোখের রং দেখা যায়। চোখের আইরিস বা চোখের মণির চারপাশের রঙিন বলয় মূলত আমাদের চোখের রং নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এর পিগমেন্ট মেলানিন আলো শোষণ করে এবং রঙের গভীরতা নির্ধারণ করে। বাদামি চোখে মেলানিনের ঘনত্ব বেশি থাকে, যা বেশি আলো শোষণ করে গাঢ় রূপ দেয়। নীল চোখে মেলানিন খুব কম থাকে। নীল চোখের রং কোনো পিগমেন্ট থেকে আসে না। আইরিসের মধ্যে থাকা আলোর বিচ্ছুরণ থেকে আসে। সবুজ চোখে মেলানিন ও আলোর বিচ্ছুরণের ভারসাম্য থাকে। হেজেল শেডের চোখে মেলানিনের অসম বণ্টন দেখা যায়। আলোর তারতম্যের সঙ্গে সেই চোখে পরিবর্তনশীল আলাদা নকশা তৈরি হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, একটি জিনের কারণে চোখের রং ভিন্ন দেখা যায়। নতুন এক গবেষণা বলছে, একাধিক জিন চোখের রংকে প্রভাবিত করে। এ কারণে ভাইবোনদের চোখের রং ভিন্ন হতে পারে। আবার দুই নীল চোখের মা–বাবার সবুজ বা বাদামি চোখের সন্তান হতে পারে। চোখের রং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শিশুরা জন্মের সময় প্রায়ই নীল বা ধূসর চোখ নিয়ে জন্মায়। তাদের মেলানিনের মাত্রা তখন কম থাকে। প্রথম কয়েক বছরে পিগমেন্ট জমা হলে পরবর্তী সময়ে তাদের চোখ সবুজ, হেজেল বা বাদামিতে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের চোখের রং সাধারণত স্থিতিশীল থাকে।

চোখের রং স্থির নয়; বরং গতিশীল বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। বাদামি চোখে সোনালি আভা, হেজেল চোখে সবুজাভ আন্ডারটোন বা নীল চোখে ধূসর–নীল আভা পারিপার্শ্বিক আলো, কোণ ও আশপাশের রঙের ওপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে তৈরি হয়। এই বৈচিত্র্য ঘটে আইরিসের গঠন ও মেলানিনের সঙ্গে জটিল উপায়ে আলোর মিথস্ক্রিয়ার কারণে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মানুষের চোখের রং নানা কারণে ভিন্ন হয়ে থাকে
মানুষের চোখের রং নানা কারণে ভিন্ন হয়ে থাকে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ