Monday, October 26, 2026

গানের কথায় যৌনতা, সমালোচনা পাত্তা দিতে চান না সাবরিনা

২০২৪ সালের সবচেয়ে আলোচিত গানের একটি ছিল সাবরিনা কার্পেন্টারের ‘এসপ্রেসো’। চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন গায়িকা। ফেব্রুয়ারিতে প্রথম গ্র্যামি মনোনয়ন দিয়ে শুরু হয় তাঁর সাফল্যযাত্রা। পরে ‘এক্সপ্রেসো’ আর ‘শর্ট অ্যান্ড সুইট’-এর জন্য দুটি পুরস্কার জেতেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্যুর শুরু করেন, শেষ হয় চলতি বছরের মার্চে।

জুনে নতুন গান ‘ম্যানচাইল্ড’ প্রকাশের পরই টপ চার্টে ঝড় তোলে। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্টে আসে সপ্তম স্টুডিও অ্যালবাম ‘ম্যানস বেস্ট ফ্রেন্ড’। দিন দুই আগে ২০২৫ সালের মোস্ট স্ট্রিমড আর্টিস্টের তালিকা প্রকাশ করেছে স্পটিফাই, যেখানে পাঁচে আছেন সাবরিনা।
‘আমি আসলে বছরটা কেমন গেল, কী করতে পারতাম—এসব নিয়ে ভাবি না। নিজের মর্জিমতো কাজ করি। আগামী বছর হয়তো নতুন গানই আসবে না,’ ভ্যারাইটিকে বলেন সাবরিনা।

তবে প্রশংসার সঙ্গে সমালোচনাও সইতে হয়েছে গায়িকাকে। বিশেষ করে নতুন অ্যালবামে তিনি তথাকথিত ‘ভালো মেয়ে’র ইমেজ ভেঙেছেন; গানের কথায় উঠে এসেছে যৌনতা, যা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হলেও সাবরিনা এসব পাত্তা দিতে চান না।

‘সবচেয়ে মজা লাগে, যখন মানুষ অভিযোগ করেন, “ও তো সব সময় এসব বিষয় নিয়েই গান করে।” অথচ এই গানগুলোকে তো আপনারাই জনপ্রিয় করেছেন। স্পষ্টতই আপনারা যৌনতা ভালোবাসেন। আপনারাই তো এগুলোতে মেতে আছেন। এগুলোই তো আমার শোর অংশ,’ রোলিং স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন সাবরিনা।
গান ছাড়া আরও অনেক কিছু নিয়ে ব্যস্ত সময়ের এই আলোচিত গায়িকা। ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ থেকে অনুপ্রাণিত একটি মিউজিক্যাল সিনেমার প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে সাবরিনাকে, ছবিটি প্রযোজনাও করবেন তিনি।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-06-14%2Fr82m7h1g%2F26carpenter_review_vhbc_jumbo.jpg?rect=122%2C0%2C864%2C576&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সাবরিনা কার্পেন্টার। ছবি: রয়টার্স

ইরান ইস্যুতে যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করবেন, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি সামরিকভাবে ধ্বংস করার পথে হাঁটবেন। এমন দুই বিকল্পের কথা তুলে ধরে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে এখন তার সামনে মূল প্রশ্ন একটাই; চুক্তি করবেন, নাকি ইরানকে শেষ করে দেবেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি তাদের সঙ্গে সমঝোতা করব, নাকি তাদের শেষ করে দেব? এটাই একমাত্র প্রশ্ন।’

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘এখন হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। তারা কিছুই পাচ্ছে না, আমরা সবকিছু পাচ্ছি।’

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ইরান। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেড়েছে। ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলে অবরোধ কার্যকরে মার্কিন নৌবাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এখনো হামলার শিকার না হওয়া এই স্থাপনায় কী ঘটছে, তা ওয়াশিংটন জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ঠিক জানি, সেখানে কী হচ্ছে। কার শার্টের ব্যাজে কী লেখা আছে, সেটিও আমরা পড়তে পারি।’

এর আগে শনিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে অথবা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। সম্ভাব্য সমঝোতার শর্তগুলো তেহরান মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি দাবি করেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এখনো সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে রয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি হামলায় ৬ ফিলিস্তিনি নিহত, শিক্ষার্থীসহ আহত আরও ১০

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।

মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: এএফপি
ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: এএফপি