১০ দিনে চার নির্বাচনের ফলাফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে ইসরায়েল

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি দেশে এবং ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনের ফল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে ইসরায়েলকে। এতে দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান জটিল হয়েছে, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলবিষয়ক আলোচনা ও সমালোচনা বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো। বুধবার (০৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এমন চিত্র তুলে ধরেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

ধাক্কাগুলোর শুরু গত ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায়। ওই দিন আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আলেকসান্দার ভুচিচের নেতৃত্বাধীন জোট পরাজিত হয়। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সমর্থিত একটি জোট নির্বাচনে জয় পায়।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিয়া ইসরায়েলকে গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইসরায়েলের কাছ থেকে ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা কিনতে ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তিও করে দেশটি। তবে নির্বাচনে জয়ী শিক্ষার্থী-সমর্থিত জোটটি যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির আওতায় ইসরায়েলও পড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নির্বাচনী ইশতেহারে জোটটি বলেছে, ‘গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি জনগণকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার যে চেষ্টা ইসরায়েল চালাচ্ছে, তাতে আমরা সহযোগী হব না।’

ব্রাজিলেও ইসরায়েলের প্রত্যাশায় ধাক্কা লেগেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় ব্রাসিলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ইসরায়েলি আশা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। লুলার শাসনামলে ব্রাজিল ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার মামলাকে সমর্থন করে দেশটি।

এরপর গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনেও কোনো পক্ষ এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আটটি আসন কম পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে পার্লামেন্টের দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

যুক্তরাষ্ট্রেও মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণে মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদের অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েল নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংবাদমাধ্যমটি।

আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা শপথ নেবেন। জেরুজালেম পোস্টের আশঙ্কা, ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলো যখন সরকার গঠনের চেষ্টা চালাবে, তখনই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করা ভোটারদের একটি জরিপে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তনের বিষয়টি ছিল চারটি প্রধান প্রতিক্রিয়ার একটি। ভ্যান্স আরও লেখেন, ‘আমরা যে কারণে হেরেছি, তা হলো ইরান যুদ্ধ।’

এদিকে মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয় ইসরায়েলকে। কয়েক মাস আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে তার সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স