সংসদে নামাজ নিয়ে জামায়াত এমপির বক্তব্য, ‘ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’ বললেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজেদের আমল-চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদে নামাজের বিরতির সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে একটা ধারা ছিল, আল্লাহর প্রতি ইমান এবং আস্থা সকল কাজের মূল উৎস। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এটাকে বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ, তার চেয়েও বেশি মানুষ আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে এবং মুসলমান বলে দাবি করি আমরা।’

সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য দেওয়া বিরতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনি কিছুক্ষণ আগে আসরের এক আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়েছেন। মাগরিবের সময়ও আরও আধা ঘণ্টা বিরতি দেবেন। টার্গেট হচ্ছে, আল্লাহর সেই বিধানকে যারা ঈমান এনেছে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে।’

নামাজ মানুষের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ নামাজ যারা আদায় করে তাদের সম্মান করে। তাদের সৎ বলে জানে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখে।’

কোরআনের আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। যাকাত ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, যারা ক্ষমতা পাবে, আল্লাহ তায়ালা যাদের হাতে ক্ষমতা দেবেন, তাদের এক নম্বর কাজ হচ্ছে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করা এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।’

তিনি সংসদে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যাতে নিজেরা নামাজি হই, দেশে নামাজ কায়েম হয়, আমাদের সন্তানরা যাতে সাত বছর বয়সে নামাজের প্রশিক্ষণ পায় এবং ১০ বছর হলে তাকে প্রশাসনিকভাবেও নামাজি বানানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, সকল সংসদ সদস্যের এটা উপকারে লাগবে। ১০০ বছর পরে কেউ সংসদে থাকবে না। মাননীয় স্পিকার, আপনিও থাকবেন না, আমরাও থাকব না। কবরে গিয়ে কী অসুবিধা হবে, সেদিন টের পাওয়া যাবে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে দেশে সালাত কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে নাগরিকদের চরিত্র গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আবেদন জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ‘এটা তো পুরোই একটা ধর্মীয় ব্যাপার। প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার জন্য। এবং ইসলাম মানবতার ধর্ম।’

তিনি বলেন, ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে বেহেশত এবং ধর্ম পালনে অবহেলা করলে জাহান্নামে যাওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় বিধানের অংশ। সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে অবগত এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘এটা সংসদীয় স্পিকারের নোটিশ দিয়ে বলবৎ করা যাবে না।’

একই সঙ্গে মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘তবুও আপনি আপনার সেন্টিমেন্টকে আমরা সম্মান করি। এবং আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রদত্ত নির্দেশ মান্য করার জন্য সচেষ্ট থাকব।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত