তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

পৃথিবী, মানবদেহসহ মহাবিশ্বের নানা বস্তু যে মৌলিক উপাদানে গঠিত, সেগুলো তারার ভেতর কীভাবে তৈরি হয় এবং সুপারনোভার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে—এ রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণায় তারার জীবনচক্র ও সুপারনোভা বিস্ফোরণের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট স্পেস ডটকমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘টাইটানিয়াম-৪৪’ নামের তেজস্ক্রিয় উপাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরও দীর্ঘদিন মহাকাশে টিকে থাকা এই উপাদান বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি সুপারনোভার ভেতরে চলা পারমাণবিক বিক্রিয়া এবং বিস্ফোরণের সময় মৌল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভায় আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি টাইটানিয়াম-৪৪ তৈরি হয়। নতুন এ তথ্যের ভিত্তিতে সুপারনোভার আরও নির্ভুল কম্পিউটার মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

দ্বিতীয় গবেষণায় ‘টাইপ-১ সুপারনোভা’ নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কোনো ঘন নক্ষত্র তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে পদার্থ টেনে নিলে সেখানে প্রচণ্ড থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিস্ফোরণে ভারী মৌল তৈরি হয় এবং বিপুল শক্তি নির্গত হয়। এর কিছু অংশ এক্স-রে বিস্ফোরণ হিসেবেও ছড়িয়ে পড়ে। মিশিগানের ফ্যাসিলিটি ফর রেয়ার আইসোটোপ বিমসের গবেষকরা এ বিস্ফোরণ ঘটানো পারমাণবিক বিক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছেন।

গবেষকরা বিস্ফোরণের সময় সংঘটিত ‘নিকেল-কপার চক্র’ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, পারমাণবিক পদার্থ সত্যিই এ প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে, তবে খুব সীমিত মাত্রায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি গবেষণাই সুপারনোভা কীভাবে ঘটে এবং তারার বিস্ফোরণে তৈরি মৌলগুলো কীভাবে পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণা দুটি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এর জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। 

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন
তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন