Showing posts with label পাভেল হায়দার চৌধুরী. Show all posts
Showing posts with label পাভেল হায়দার চৌধুরী. Show all posts

Monday, April 9, 2018

তিন সন্দেহ সরকারের, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন এরা কারা? by পাভেল হায়দার চৌধুরী

পুলিশের অ্যাকশনের পর আবারও পথে নেমে আসে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে তিন সন্দেহ বিরাজ করছে সরকারের ভেতরে। সন্দেহগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত বিএনপি-জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্রের বেশ ধরে এই আন্দোলনে মিলিত হয়ে উস্কানি দিচ্ছে—যাতে বেকায়দায় ফেলা যায় সরকারকে। দ্বিতীয়ত, গত কয়েক বছরে ছাত্রলীগে যাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তারাও এই আন্দোলনে জড়িয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। তৃতীয়ত, ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন বানচাল করতে চায় এমন একটি অংশও চক্রান্তে নেমেছে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রলীগের মুষ্টিমেয় একটি অংশ বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবি, এ ধরনের অস্থিরতা থাকলে ছাত্রলীগের একটি অংশ মনে করছে সম্মেলন ঠেকানো সম্ভব হবে। ফলে তারাও কিছু শিক্ষার্থীকে মাঠে নামিয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো কোটা সংস্কারের নামে ডাকা আন্দোলনকে এভাবেই দেখছেন। তারা এই তিন কারণ মাথায় নিয়ে এই আন্দোলন থামাতে কাজ শুরু করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন। তিনি গত রবিবার রাতে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলের অপর নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা এরা কারা? এদের পারিবারিক পরিচয় কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী পরিবারের কোনও সন্তান এই আন্দোলনে জড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, গত রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উল্লিখিত এই তিন কারণ অবহিত করেছেন সেখানে উপস্থিত নেতারা।
ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এই আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থান থাকবে সরকারের। তবে আন্দোলনকারীদের 'কাউন্সিলিং' করে এখান থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এজন্য দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আন্দোলনকারীদের এ পথ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সকালে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনার পর ফোন করে তার খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

Saturday, July 13, 2013

পরিবর্তন আসছে আ. লীগে ঈদের পর বিশেষ কাউন্সিল by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ঈদুল ফিতরের পর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দল গোছানোর অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলে দলে কিছু পরিবর্তন আসবে।

Sunday, July 7, 2013

আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের কারণ by পাভেল হায়দার চৌধুরী

গাজীপুরেও পরাজিত হয়ে আওয়ামী লীগ হয়তো আবারও প্রমাণ করতে চাইবে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে সিটি নির্বাচনে অব্যাহত ফল বিপর্যয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মনোবলে চরম ধাক্কা লেগেছে।

Saturday, June 22, 2013

নিজের জরিপেই নাজুক অবস্থা টের পেল আ. লীগ by পাভেল হায়দার চৌধুরী

এক বছর আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের এক সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, দলের এমপিদের মধ্যে ৬০ জনের অবস্থা বেশ খারাপ। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ওই আসনগুলোতে দল ভালো ফল নাও পেতে পারে।

Friday, June 7, 2013

সংসদ ভেঙে যাবে ২৫ অক্টোবর'খালেদাও আইভির খুনি হিসেবে চিহ্নিত হবেন' by পাভেল হায়দার চৌধুরী

নবম জাতীয় সংসদ আগামী ২৫ অক্টোবর ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি এ কথা জানান।

Wednesday, February 6, 2013

সরকার-জামায়াত সমঝোতা? by পাভেল হায়দার চৌধুরী

রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের হঠাৎ সখ্য দেখে কিছুটা খটকা লাগলেও আগে থেকে কারো মনে কোনো সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পরপরই মানুষের মনে যে প্রশ্নটা প্রথম এলো, তা হলো- জামায়াতের সঙ্গে সরকারের কি তাহলে কোনো সমঝোতা হলো!

Thursday, January 10, 2013

সংলাপ চাই সংলাপ by মোশাররফ বাবলু ও পাভেল হায়দার চৌধুরী

রাজনৈতিক সংকট কাটাতে আলোচনার বিকল্প নেই। নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি আলোচনার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে সব মহল থেকেই। বড় দুই দলের নেতারাও এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন না।

Friday, January 4, 2013

ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী-খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মাথায় নিয়ে ঘুরছেন by পাভেল হায়দার চৌধুরী ও নিয়ামূল কবীর সজল

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার হাতে দেশ নিরাপদ নয়। দেশের মানুষ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আর চায় না। তারা শান্তি চায়। বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি আসবে না। কারণ দুর্নীতি আর মানুষ খুন বিএনপির বড় গুণ।

Sunday, December 30, 2012

অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাবে গতিহীন আওয়ামী লীগ-তৃণমূল নেতাদের অভিমত by পাভেল হায়দার চৌধুরী

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে গতিশীল হচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আসা নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে পারেনি।

Saturday, December 22, 2012

বিশ্লেষণ-নাটক, কূটকৌশল আর সিদ্ধান্তহীনতায় জাপার দুর্গে পতন by পাভেল হায়দার চৌধুরী

জাতীয় পার্টির (জাপা) ঘাঁটি রংপুর। সেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। শেষ মুহূর্তে এসে এরশাদের সমর্থন পেয়েও ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছেন জাপা নেতা মানিক।

Friday, December 21, 2012

জয়ের মালা ঝন্টুর গলায় by পাভেল হায়দার চৌধুরী ও স্বপন চৌধুরী

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী বিজয়ী হয়েছেন শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। ঘন কুয়াশা, কনকনে শীত, সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস- কোনো কিছুই ঘরে আটকে রাখতে পারেনি রংপুর সিটি করপোরেশনের অধিবাসীদের।

Tuesday, December 4, 2012

কাউন্সিল ২৯ ডিসেম্বর-পদ হারানো আর পাওয়া-না পাওয়ার গুঞ্জন আ. লীগে by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, কিছু কেন্দ্রীয় নেতার পদ হারানোর শঙ্কা আর কারো কারো পদপ্রাপ্তির আশা ততই বাড়ছে। তবে দলীয় নেতা শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে থেকে পদ ধরে রাখার নানা কৌশলও চলছে প্রায় প্রকাশ্যে।

Wednesday, October 10, 2012

রাজনীতি-অভিযোগের খাতায় আ. লীগের ৩০ এমপির নাম by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্তত ৩০ জন সংসদ সদস্য এখন অভিযোগের কাঠগড়ায়। এই সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশও করেছেন বিভাগগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত সাংগঠনিক সম্পাদক।

Wednesday, September 19, 2012

সংস্কারপন্থীরা চাপে আওয়ামী লীগে by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতাদের আবারও কোণঠাসা করার প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সরকারের মেয়াদের শেষ ভাগে এসে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিসভায় যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

Saturday, September 15, 2012

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে! by পাভেল হায়দার চৌধুরী

শেষ বেলায় ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব কমানো, জোটের শরিকদের সঙ্গে মনোমালিন্য দূর করা এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ও হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ চলমান বিভিন্ন সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর উদ্দেশ্যেই হঠাৎ করে মন্ত্রিসভায় চতুর্থ দফা রদবদল করা হয়।

Saturday, September 1, 2012

বিরোধী দলের নিরীহ কর্মসূচিতে স্বস্তিতে শঙ্কায় আ. লীগ by পাভেল হায়দার চৌধুরী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দুই মাসের গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণায় স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কায়ও রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নমনীয় ধরনের কর্মসূচি দিলেও তা পালন করার সময় বিএনপি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত

Saturday, August 25, 2012

রাজনীতি-সম্মেলন সামনে রেখে একাধিক বলয় আওয়ামী লীগে by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দলের মধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হচ্ছে। পদ-পদবি নিয়েই মূলত গড়ে উঠেছে এই বলয়। দলের নবীন নেতারা চান গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে। প্রবীণরা চান অবস্থান ধরে রাখতে। অন্যদিকে বাদ পড়া সংস্কারপন্থীরা চান আবারও কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ নিতে।

Saturday, August 4, 2012

আওয়ামী লীগের জন্য বিপদ সংকেত-শতাধিক আসনে বিদ্রোহের আশঙ্কা-ভয় সংস্কারবাদীদের নিয়েও by আবদুল্লাহ আল ফারুক ও পাভেল হায়দার চৌধুরী

আগামী নির্বাচনে শতাধিক সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। নিজ দলের নেতারাই এসব সংসদীয় আসনে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। আসনগুলোতে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় নেতারা দ্বিমুখী, আবার কোথাও ত্রিমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। মূলত ভাগাভাগি, প্রভাব বিস্তার, দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন- এসব কারণেই এ রকম বিরোধ তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে আবার কেউ কেউ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সংস্কারবাদী হিসেবে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি কিংবা নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে- এমন অনেকেই এখন এলাকায় অধিকতর শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকারি এজেন্সি, দলীয় টিম ও সংস্কৃতিসেবীসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন দিয়ে সারা দেশে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব দ্বন্দ্ব-কলহ মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত জুন মাসে সংসদীয় দলের সভায় দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'আমি জরিপ করছি। সবাই সাবধান হয়ে যান। সবার কার্যকলাপ আমার কাছে ফাইল করা আছে।' এ সময় তিনি জানান, ৩০টি সংসদীয় আসনের অবস্থা খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ৩০টি ভালোও নয়, খারাপও নয়। এই ৬০টি আসনের অবস্থা ভালো করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নিজ দলের নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকে স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের নির্দেশও দেন তিনি।
অনেক সংসদীয় আসনে দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি, দলীয় ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকের অংশগ্রহণে সারা দেশে জরিপ চলছে। জরিপে বহুমুখী সমস্যার কথা উঠে আসছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রতিকারের ব্যবস্থাও নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কাউকে বুঝিয়ে অথবা কাউকে ধমক দিয়ে সমস্যা নিরসনে ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় দলীয় নেতারাই দলীয় নেতাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিময় করে শেখ হাসিনা তা মীমাংসা করছেন। যেসব এলাকায় মীমাংসা হচ্ছে না সেখানে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, দলীয় নেতাদের মুখোমুখি অবস্থানসহ বহুমুখী এসব সংকট সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে দুর্বল থেকে দুর্বলতম করে ফেলছে। নেতায়-নেতায় দ্বন্দ্ব বন্ধ না হলে আগামী নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি এমন রূপ নিচ্ছে যে, স্থানীয় নেতারা তো বটেই, ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত বোধ করছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি, আবদুল লতিফ ও আজম নাছির উদ্দিনের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের মতবিনিময় এবং মহাসমাবেশ উপলক্ষে বিরোধ কিছুটা মিটলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা সম্ভব হয়নি এখনো।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপের পরও এ দ্বন্দ্ব মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সাবেক এমপি ইমদাদুল হক ভুঁইয়ার বিরোধে তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও জড়িয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৬ আসনের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট আফজল খান এবং আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার একসঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনের পর আবারও বাহার-আফজল দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনবার নির্বাচিত এমপি আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনকে সংস্কারবাদী হিসেবে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়। তাঁর বদলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পান ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা রনি। সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আ খ ম জাহাঙ্গীর ছাড়াও স্থানীয় নেতারা, এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে রনির সংকট এখন প্রকাশ্য।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের এমপি মনিরুল ইসলাম মণি ও বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের বিরোধ নিয়ে এখন দ্বিধাবিভক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। গত তিন বছর এলাকার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি মোশতাক আহমদ রুহীর সঙ্গে সাবেক এমপি জালালউদ্দীন তালুকদারের বিরোধ মারাত্মক। জালালউদ্দীন তালুকদার শুরু থেকেই রুহীর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে আছেন। নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশীর কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকা তো অবশ্যই, কেন্দ্র পর্যন্ত বিরক্ত। এসব নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সঙ্গে বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু, বর্তমান এমপি খালেদুর রহমান টিটো ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মধ্যে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব প্রায়ই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির সঙ্গে উখিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরীর বিরোধ এখন প্রকাশ্য। বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেনের কোন্দল চরমে। শুধু তাই নয়, পিরোজপুর-২ আসনের এমপি মোহাম্মদ শাহ আলম স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলে সম্প্রতি স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।
রংপুর-৪ আসনের এমপি টিপু মুন্সি রাস্তাঘাট উদ্বোধন না থাকলে নির্বাচনী এলাকায় যান না। ফলে তিনি অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। রংপুর-৫ আসনের এমপি আশিকুর রহমানও রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট উদ্বোধন ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় যান না বলে অভিযোগ করা হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। সিলেট-৫ আসনের এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার গত বছর সব মিলিয়ে তিন-চারবার নির্বাচনী এলাকায় পা রাখলেও বর্তমানে তিনি এলাকায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার বিরুদ্ধে গত সাড়ে তিন বছরে অনেকবার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পুটু ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকবর হোসেন সরকার।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি ছোলায়মান হক জোয়ার্দারের সঙ্গে জেলার সাবেক সভাপতি ও বহিষ্কৃত নেতা হাসান কাদের ধনুর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগর টগরের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তিনি এলাকায় যান না। ঢাকাতে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৬ আসনের শাহরিয়ার আলম, যশোর-২ আসনের মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ এবং যশোর-৬ আসনের শেখ আবদুল ওহাব, ময়মনসিংহ-১০ আসনের গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, পিরোজপুর-৩ আসনের ডা. আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের আবদুল ওদুদ, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে জরিপে ধরা পড়েছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার এমপি খালেদ বাবুর সঙ্গে পৌর মেয়র আবদুল হাইয়ের বিরোধ এখন প্রকাশ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জরিপ পরিচালনাকারী এক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আ খ ম জাহাঙ্গীরের মতো মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আখতারুজ্জামান, সুলতান মো. মনসুর আহমদ প্রমুখ নেতাকে সংস্কারবাদী হিসেবে গত নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাঁরা এখন এলাকায় অথবা কেন্দ্রে অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও আছেন, জরিপকালে যাঁদের নির্বাচনী প্রস্তুতি আছে বলেও মনে হয়নি।
ওই ব্যক্তি আরো জানান, এ ধরনের বিদ্রোহী প্রার্থী সামলানো না গেলে বা দ্বন্দ্ব মেটানো না গেলে অন্তত ১০০ আসনে আওয়ামী লীগকে মাশুল গুনতে হবে।
দলের মধ্যে নানাবিধ সমস্যা অনুসন্ধানের বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা না বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। ছোট-বড় কিছু সমস্যা থাকবেই। এগুলো মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী আসনগুলোর সঠিক চিত্র ফুটে উঠছে। শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছেন।

Thursday, July 12, 2012

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন-পুরনো নেতৃত্বেই নতুন কমিটি হতাশ তরুণরা by পাভেল হায়দার চৌধুরী

তৃণমূলের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে। তরুণ নেতৃত্বকে হতাশ করে পুরনো নেতৃত্ব বহাল রেখেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Sunday, July 8, 2012

সহযোগী সংগঠনের যোগ্য নেতার খোঁজে হাসিনা by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বর্তমান নেতা এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খতিয়ে দেখছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহযোগী সংগঠনের আসন্ন সম্মেলনে সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাদের হাতে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে তিনি নেতাদের বিষয়ে