সামরিক ড্রোন রপ্তানির ৮৬ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের

২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে রপ্তানি হওয়া সামরিক ড্রোনের ৮৬ শতাংশই সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে মোট ১৬ হাজার ৮২২টি সামরিক ড্রোন রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজার ৫৯৩টি এবং ইরান ৬ হাজার ৮০০টি ড্রোন রপ্তানি করেছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব প্রকাশ করেছে ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট।

বিশ্বের মোট সামরিক ড্রোন রপ্তানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ইরানের ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা ড্রোনের ৯৫ শতাংশ গেছে ইউক্রেনে। অন্যদিকে ইরানের রপ্তানি করা ড্রোনের ৯৯ শতাংশই গেছে রাশিয়ায়।

সিপ্রির হিসাবে, ১৫০ কেজি বা তার বেশি ওজনের ড্রোন সামরিক ড্রোনের তালিকায় ধরা হয়েছে। একবার ব্যবহার করে ধ্বংস হয়ে যায় এমন হামলাকারী ড্রোন ও লইটারিং মিউনিশনও এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে। তবে ছোট এফপিভি ও বাণিজ্যিক ড্রোন এতে ধরা হয়নি।

বিশ্বে রপ্তানি হওয়া সামরিক ড্রোনের ৯৭ শতাংশই একবার ব্যবহারযোগ্য। তাই যুদ্ধের সময় অল্প কয়েকটি দেশ থেকে বড়সংখ্যক ড্রোন সরবরাহ হওয়ায় মোট সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

ইরানের রপ্তানি করা প্রায় সব ড্রোনই শাহেদ-১৩৬ মডেলের। রাশিয়ায় ইরানের লাইসেন্সে তৈরি করা এসব ড্রোনও ইরানের রপ্তানি হিসেবে হিসাব করেছে সিপ্রি।

রপ্তানির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটি ১ হাজার ড্রোন রপ্তানি করেছে। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড ৬৯০টি এবং তুরস্ক ৩৮১টি ড্রোন নিয়ে।

২০২৫ সালে ইরান ড্রোন রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ইরান ২ হাজার ২টি ড্রোন সরবরাহ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি করেছে ৪০২টি।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ১০টি ড্রোন রপ্তানি করেছিল। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার ২১৯টিতে পৌঁছায়। তবে ২০২৫ সালে ইউক্রেনকে নতুন করে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির ড্রোন রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা বেশিরভাগ ড্রোন গেছে তাইওয়ানে। দেশটি ২৯১টি লইটারিং মিউনিশন পেয়েছে। একই বছরে ব্রিটেনের অর্থায়নে ইউক্রেন ১০০টি মার্কিন তৈরি লইটারিং মিউনিশন পেয়েছে।

অন্যদিকে তুরস্ক পরিমাণের দিক থেকে পঞ্চম হলেও সবচেয়ে বেশি দেশে সামরিক ড্রোন সরবরাহ করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি ২৮টি দেশে ড্রোন রপ্তানি করেছে। এই সংখ্যা সামরিক ড্রোন আমদানিকারক ৫৪টি দেশের অর্ধেকেরও বেশি।

তুরস্কের ড্রোনের ক্রেতাদের মধ্যে আফ্রিকার ১২টি দেশ ছাড়াও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড ও রোমানিয়া, পাকিস্তান, কুয়েত এবং ইউক্রেন রয়েছে।

তুরস্কের রপ্তানি করা ড্রোনের প্রায় ৭৫ শতাংশই বড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ড্রোন। এর মধ্যে বায়রাকতার টিবি-২ অন্যতম। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া ৪৮৬টি এ ধরনের ড্রোনের মধ্যে ২৮১টিই সরবরাহ করেছে তুরস্ক।

সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্রের মূল্যায়ন করা হলে ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়ে তুরস্কই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ড্রোন রপ্তানিকারক।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া