ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল রাশিয়া

ইরানকে সহায়তায় রাশিয়া খুব বেশি কিছু করছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইরানের লড়াই ন্যায়সংগত। খবর ইউরো নিউজের।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ইরানের লক্ষ্য রাশিয়ার মতোই ন্যায়সংগত।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর উসকানিহীন সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তেহরানকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে রাশিয়া তাদের সামর্থ্যের তুলনায় খুব সামান্যই করছে।

ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সহায়তায় রাশিয়া খুব সামান্যই করছে, যদি আদৌ কিছু করে থাকে। তারা যা করতে পারত, তার তুলনায় এই সহায়তা খুবই কম। আমি চাই, পরিস্থিতি এমনই থাকুক।’

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আলোচনার পথ খোলা রাখতে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর পক্ষে যুক্তি দেখান ট্রাম্প। তার আশঙ্কা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মস্কো আলোচনার টেবিল থেকে সরে যেতে পারে।

তিনি লেখেন, ‘আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা করছি। এমন কিছু করতে চাই না, যা নির্বুদ্ধিতার কারণে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।’

তেহরান সফরে লাভরভ বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে রাশিয়া এখনো সহায়তা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

লাভরভ বলেন, ‘এই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করার বিষয়ে আমরা আবারও আমাদের দেশের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছি।’

সংঘাত নিরসনে কূটনীতির পথে এগোনোর বিষয়ে তেহরানের আগ্রহকে স্বাগত জানান তিনি। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত শুরুর আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। এর মধ্যে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে সামরিক হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে।

লাভরভের দাবি, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা ঠেকাতে কাজ করেছে মস্কো। পাশাপাশি ওষুধ ও নিয়মিত খাদ্য সরবরাহসহ ইরানকে মানবিক সহায়তাও দিচ্ছে রাশিয়া।

কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান লাভরভ। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ খাতের চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই।’

ট্রুথ সোশ্যালে একই পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের হামলার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; এর জন্য রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ কিংবা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে ডিজেল সরবরাহে রাশিয়ার সম্মতির প্রশংসাও করেন তিনি।

জেলেনস্কির যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আগ্রহ কম বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইউক্রেন এর আগে আরও অনুকূল সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ হারিয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ স্থগিত এবং রুশ ডিজেলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে থাকার মধ্যেই এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার আয় বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনা সচল রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ নীতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : ইউরো নিউজ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি