খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে চেয়েছেন আরব আমিরাতের শাসক
শুক্রবার প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথির মধ্যে থাকা এসব বার্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আনাস আল রশিদ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর পাঠানো এক বার্তায় আনাস আল রশিদ হত্যাকাণ্ডকে ‘কুৎসিত, খুবই কুৎসিত’ বলে উল্লেখ করেন। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, এর পেছনে আরও বড় কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে। এমবিজেড হয়তো এমবিএসকে ফাঁসিয়েছেন- এতে আমি অবাক হব না। এর উত্তরে আল রশিদ শুধু লেখেন, ‘হুম্ম’।
পরবর্তী বার্তায় আল রশিদ জানান, তথ্য ফাঁসের ধরন অত্যন্ত কৌশলী ও দ্রুতগতির, এবং পুরো বিষয়টি এখন একটি ‘মিডিয়া যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারাতে পারে। তার মতে, সত্যটা যতই কুৎসিত হোক, সেটাই সেরা প্রতিরক্ষা।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এপস্টেইন দাবি করেন তার এক সূত্র তাকে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা পরে হ্যাক করে সংগ্রহ করা হয়। তবে কে বা কারা ওই ফোন হ্যাক করেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
১৩ অক্টোবর আরেকটি বার্তায় এপস্টেইন খাশোগিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা, একটি গোপন ব্যর্থ অভিযান অথবা ফাঁদ পাতা ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন এবং বারবার এমবিজেডের নাম টানেন।
ওই রাতেই, নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন এক পরিচিত ব্যক্তির (নাম গোপন) কাছ থেকে বার্তা পান, যেখানে বলা হয়- মোহাম্মদ বিন জায়েদ তার সঙ্গে ‘জরুরি’ বৈঠক করতে চান এবং পরদিন সকালে যাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে পৃথকভাবে প্রকাশিত একটি এফবিআই নধিদে দাবি করা হয়েছে, জেফ্রি এপস্টেইন মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। মেমোতে আরও বলা হয়, তিনি ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।
এই নতুন তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

No comments