সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না তুরস্ক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে না আঙ্কারা। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফিদান বলেন, ‘এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়। অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠাবে না।’ সৌদি আরবে তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করতে চলতি সপ্তাহে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়।

ফিদান জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জন্য কী ধরনের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করতে তিন দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে, তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটি পার্লামেন্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।’

মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় অতিরিক্ত জনবল, পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। তবে আরো সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর থেকেই সৌদি আরবে কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে তুরস্ক। জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমইইকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, জরুরি সাড়াদানকারী দল এবং তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় লড়াইয়ে সক্ষম সেনাসদস্য পাঠানো হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় কারিগরি কাজে সীমিতসংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠাতে পারে আঙ্কারা। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

আরেক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে দেশটির এক বা একাধিক সামরিক কমান্ড ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলে সীমিতসংখ্যক বিশেষ বাহিনীর সদস্যও সৌদি আরবে মোতায়েন করা হতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও উড়োজাহাজ পাঠাবে তুরস্ক। তবে উড়োজাহাজ ও জনবলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এসব সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

তুরস্কের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপেরও কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

তিনি আরো বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হতে পারে বলে এখনো মনে করে আঙ্কারা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না তুরস্ক
ছবি: টিআরটি ওয়ার্ল্ড