হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে প্রতি রাতেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে প্রতি রাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদি।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মাদি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌবাহিনী ‘সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ’ নজরদারি বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও সেখানে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, তেহরানের নিয়ম লঙ্ঘন করছে বলে বিবেচিত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা আইআরজিসি নৌবাহিনীর রয়েছে। হরমুজ প্রণালির যেকোনো স্থানে এসব জাহাজের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে ইরানি বাহিনী।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া পরিসংখ্যানও প্রত্যাখ্যান করেছেন মোহাম্মাদি।

তাঁর দাবি, এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের যেসব হিসাব তুলে ধরা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, এসব পরিসংখ্যান ‘গণমাধ্যমের অনুমাননির্ভর প্রচারণা’, যার উদ্দেশ্য তেলের দাম কমানো এবং বাজারকে প্রভাবিত করা।

মোহাম্মাদি আরও অভিযোগ করেন, পারস্য উপসাগর ও বৃহত্তর অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইরানি কর্মকর্তার এসব বক্তব্য ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমাণ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষমাণ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স