‘কিছুই চাই না, শুধু মানিককে ফেরত চাই’

“১৬ ডিসেম্বর আমার বাবা মাসুমের জন্মদিন ছিল। সে বলেছিল, মা, বড় হয়ে তোমার সব দায়িত্ব কিন্তু আমিই নেব।” বলেই কেঁদে ওঠেন আয়েশা আক্তার। ‘আজ আমার সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। একটু আমার বাবার খোঁজ দিন। আমি আশায় আছি, আমার সোনার ধন ফিরে আসবে’ বলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন তিনি। শুধু মাসুমের মা আয়েশা আক্তার নন, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর একই দিনে রাজধানীতে গুম হওয়া আট তরুণের পরিবারের সদস্যদের একই হাহাকার। নিখোঁজ প্রিয়জনকে ফিরে পেতে স্বজনদের আকুতি আর বেদনার্ত অভিব্যক্তিতে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে। এই দৃশ্যপট বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের। ওই আট তরুণের নিখোঁজ হওয়ার এক বছর উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার সমিতি সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে। গুম হওয়া আটজনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানান। গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন কেঁদে কেঁদে বলেন, “এক বছর হয়ে গেছে আমার মানিককে এখনো ফিরে পাই নাই। আল্লার কাছে আমার কিছুই চাওয়ার নাই। শুধু আমার মানিককে ফেরত চাই।” নিখোঁজ জাহিদুল করিম তানভীরের মা নিলুফা বেগম বলেন, “আমার ছেলে লেবার মিস্ত্রির টাকা দিতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আমি সবার কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেন, ফিরিয়ে দেন।” বাবা-মায়ের সামনে থেকে আদনান চৌধুরীকে র্যা ব তুলে নিয়ে যায়, এমন দাবি করে বাবা রুহুল আমীন বলেন,  “ভেবেছিলাম র্যা ব যখন নিয়ে গেছে, তখন ছেলে ফিরে আসবে। কিন্তু কই, ছেলে তো আর ফিরে আসল না। তাই সেই পোশাকধারী র্যালব সদস্যদের বিচারের দাবি করছি।” এ রকম কারো ভাই, কারো ছেলে, আবার কেউ তার পিতার সন্ধান পেতে এসেছিলেন প্রেস ক্লাবের এই সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, মৌলিক অধিকার সংরক্ষন কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসন, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর একই দিনে সাজেদুল ইসলাম সুমন, জাহেদুল করিম তানভীর, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, এ এম আদনান চৌধুরী, কাউসার  আল আমিন গুম হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, র্যা ব পরিচয়ে র্যা বের গাড়িতে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।