যুদ্ধে ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই ঘাঁটি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো সচল রাখার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। বেসামরিক অবকাঠামো ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অস্ত্র ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের পর্যালোচনা করা নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

‘ফরট্রেস’ নামের এই উদ্যোগের আওতায় সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিচালনার জন্য আমরা প্রচলিত বেসামরিক ও পৌর অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করতে চাই না। আমরা তা করতেই পারি না। এটি এমন এক ঝুঁকি, যা মেনে নেওয়া যায় না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারে এমন হুমকি বিবেচনায় নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষার পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন পারনেল।

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনার বড় একটি অংশ এই পুরোনো ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে দুটি মহাসাগর আমাদের সুরক্ষা দেবে।’

তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প এবং পশ্চিম গোলার্ধ, গ্রিনল্যান্ড ও পানামার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছেন।

ফরট্রেস উদ্যোগে সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বহনযোগ্য পারমাণবিক চুল্লি, বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও ঘাঁটিগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষার জন্য জরুরি প্রতিটি পণ্য ও সরঞ্জামের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি বিকল্প সরবরাহকারী বা উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পারনেল বলেন, ‘পরবর্তী সংঘাত সম্ভবত একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়বে। বড় কোনো যুদ্ধের পেছনের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখুন। এমনটা ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক কারখানাগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ফরট্রেসের আওতায়। এ জন্য ‘সিভিল রিজার্ভ ম্যানুফ্যাকচারিং নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই ব্যবস্থায় আগাম চুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, উৎপাদনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং নিয়মিত শিল্পকারখানার সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর মহড়াও চালানো হবে।

সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং স্যাটেলাইট সক্ষমতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জিপিএস সংকেত জ্যাম করা এবং মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকে সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে পারনেল বলেন, ‘বিদ্যুৎ এখন যুদ্ধেরই অংশ। বিদ্যুৎ না থাকলে যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, রসদ পরিবহন, উৎপাদন লাইন এবং সামরিক কমান্ডের মৌলিক কাঠামো হারাতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে একাধিক রণাঙ্গনে সংঘাত চলার মাঝখানে এসব সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন না আপনি। আমাদের একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে।’

পারনেলের মতে, বড় কোনো সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেসব অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বিঘ্নিত হলেও বাহিনীর কার্যক্রম সচল রাখার জন্য ফরট্রেস একধরনের ‘বিমা ব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র : ফক্স নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। ছবি: রয়টার্স