Tuesday, November 29, 2011
প্রচ্ছদ রচনা : টিপাইমুখ বাঁধ-বাংলাদেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা
প্রচ্ছদ রচনা : টিপাইমুখ বাঁধ-বাংলাদেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা
ভারত বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধিতা প্রবলভাবে রয়েছে। ভারত সেই বিরোধিতাকে সংকীর্ণ ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হিসেবে বরাবরই মূল্যায়ন করে আসছে। যদিও এ কথা সত্য, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি যেসব দল করে থাকে, তাদের বিরোধিতা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই করা হয়। তবে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক হারে ভারতের
আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। যদিও ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন এবং কোটি কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের ওপর মিত্র বাহিনীর আক্রমণ করে, কিন্তু স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই ভারত তার আগ্রাসী চরিত্র উন্মোচন করে ফারাক্কা দিয়ে পানি প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি টিপাইমুখ বাঁধের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে পানির ওপর ভারতের যে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, তা আবারও বজায় রাখার চেষ্টা করছে দেশটি। টিপাইমুখ বাঁধের নানা দিক এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মসম্মান নিয়ে দাঁড়ানোর প্রশ্ন সামনে রেখে এবারকার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছেন আরিফুজ্জামান তুহিন
ধভারতের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে তারা বাংলাদেশ সরকারকে জানাবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি ভারত। বাংলাদেশকে এক প্রকার অন্ধকারে রেখেই বরাক নদের ওপর টিপাইমুখ বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একতরফাভাবে একটি যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি সই হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর দিলি্লতে চুক্তিটি সই হয়। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ ভারত করবে না। তবে বাংলাদেশের পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটবে। এ দেশের কৃষি থেকে শুরু করে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।
টিপাইমুখ বাঁধের ইতিহাস
আসামের কাছাড় অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মণিপুরের ২৭৫.৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় ভারত সরকার। ভারতের পরিবেশবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই বাঁধের কারণে খোদ আসামের ১৬টি গ্রাম পুরোপুরি ডুবে যাবে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৫১টি গ্রাম। ফলে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংস হবে। তাই টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে আসামের জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এ কারণে মণিপুরের বরাক নদের ওপর বাঁধ নির্মাণের স্থান ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৫৫ সালে ময়নাধর, ১৯৬৪ সালে নারায়ণধর, এরপর ভূবন্দর এবং সবশেষে আশির দশকে টুইভাই ও বরাক নদের সংগমস্থলের ৫০০ মিটার ভাটিতে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে বাঁধটি ব্রহ্মপুত্র ফ্লাড কন্ট্রোল বোর্ডের (বিএফসিবি) আওতায় থাকলেও ১৯৮৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ১৯৯৯ সালে এটিকে নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (নেপকো) হাতে দিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে বাঁধটির নাম 'টিপাইমুখ হাই ড্যাম' থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'টিপাইমুখ পাওয়ার প্রজেক্ট' হয়।
টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদের মিলনস্থলের এক হাজার ৬০০ ফুট দূরে বরাক নদে ৫০০ ফুট উঁচু এবং এক হাজার ৬০০ ফুট দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারত সরকার কাজ শুরু করেছে।
বরাক নদ ভারতের মণিপুর রাজ্যের কাছাড় পর্বতে উৎপন্ন হয়ে মণিপুর-আসাম-মিজোরামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারতের অমলসিদ নামক স্থানে নদটি সুরমা ও কুশিয়ারা_এ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ দিয়ে প্রবেশ করেছে। সুরমা ও কুশিয়ারা হবিগঞ্জের মারকুলির কাছে পুনরায় মিলিত হয়ে কালনী নামে প্রবাহিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কালনী ঘোড়াউত্রা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। বরাক নদের ভারতে প্রবাহিত অংশের দৈর্ঘ্য ৪৯৯ কিলোমিটার। আর বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ৪০৩ কিলোমিটার। সুরমা ও কুশিয়ারা পাঁচটি প্লাবনভূমি অতিক্রম করেছে, যার অববাহিকায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক জনবসতি গড়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের এই নদী অববাহিকার জনপদে সর্বনাশ ডেকে আনবে। বাংলাদেশ হাওর উন্নয়ন বোর্ড এবং নদী গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বর্ষা শুরুর আগে নদীতে যে তলানি প্রবাহ থাকে, টিপাইমুখ বাঁধ তা আসতে দেবে না। এ ছাড়া বর্ষার শুরুতেও বৃষ্টির পানি আটকে রাখবে। ফলে বর্ষার শুরুতে সুরমা ও কুশিয়ারায় প্রায় এক মাস দেরিতে পানি আসবে। ফলে নদী দুটি শুকিয়ে থাকবে। তবে পুরো বর্ষায় ঠিকই নদী পূর্ণ থাকবে। এরপর বর্ষা শেষ হলে জলাধারে ধরে রাখা পানি আস্তে আস্তে ছাড়বে। আগে যেখানে নভেম্বরের দিকে নদীর পানি শুকিয়ে যেত, এখন তা জানুয়ারিতে হবে। ফলে হাওরাঞ্চলের একফসলি জমিগুলোতে ধান চাষ করা যাবে না। মৌসুমে এক হাজার কোটি টাকার বোরো ধানের আবাদ হবে না।' তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'ফেব্রুয়ারির দিকে জলাধারের পানি কমে গেলে আবার নদীর তলানি প্রবাহ আটকে দেবে। ফলে শুকনো মৌসুমে নদী দুটি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি শুকিয়ে যাবে। এ প্রক্রিয়া চক্রাকারে চলতেই থাকবে। ফলে ওই দুটি নদী অববাহিকার জনজীবন, মৎস্যসম্পদ, কৃষি_সবকিছুই বিপর্যয়ে পড়বে।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে মুখ্য উদ্দেশ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বাঁধের ডিজাইনে কোনো পরিবর্তনই করা হয়নি, ফলে আগে বাঁধের যে উচ্চতা (১৬৮.২ মিটার) এবং লোড ফ্যাক্ট (২৬.৭৫%) আছে, এখনো তা-ই আছে। এর মানে হলো, বছরের কোনো এক সময়ের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার, অর্থাৎ ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাত্র ২৬.৭ শতাংশ অর্থাৎ ৪০১.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সারা বছর পাওয়া যাবে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ থেকে মণিপুরবাসীর জন্য ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিনিময়ে মণিপুরের মানুষ টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে রাজি হয়নি।
টিপাইমুখ বাঁধ শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে না। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে পানি প্রত্যাহার করবে ভারত। টিপাইমুখ বাঁধের মূল পরিকল্পনায় বাঁধের ৯৫ কিলোমিটার ভাটিতে একটি ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। সেই ব্যারাজ থেকে পানি প্রত্যাহার করে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হবে। অথচ এ বিষয়ে কোনো তথ্যই ভারত বাংলাদেশকে দেয়নি। এ ছাড়া আসামের কাছাড় অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মণিপুরের ২৭৫.৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় ভারত সরকার।
কী ক্ষতি হবে বাংলাদেশের?
ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং ২০০৫ সালে একটি গবেষণায় উজানে বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে_প্লাবনভূমির প্লাবনের ধরন ও পরিমাণ এবং ঋতু বদলে যাবে। সুরমা ও কুশিয়ারার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ শুষ্ক করায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনায় ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে। শুধু সিলেট ও মৌলভীবাজারেই যথাক্রমে ৩০ হাজার ১২৩ হেক্টর এবং ৫২০ হেক্টর প্লাবনভূমি কমে যাবে। বর্ষায় জলমগ্ন হবে না সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানের ৭১ শতাংশ এলাকা। কুশিয়ারা নদীর প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকা নদীটির ডান পাশের প্লাবনভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। কুশিয়ারার বাম তীরের বরদাল হাওর শুকনো মৌসুমে পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। কাউয়ার দিঘির হাওর দুই হাজার ৯৭৯ হেক্টর জলাভূমি হারাবে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে জলবায়ু, বাস্তুসংস্থান এবং জীবন-জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে।
ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-২০০৫-এর ওই গবেষণায় পানির পরিমাণ বাড়া-কমার হিসাব থেকে দেখা যায়, টিপাইমুখ বাঁধ পুরোদমে কাজ শুরু করলে বরাক নদ থেকে অমলসিদ পয়েন্টে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা নদীর দিকে পানিপ্রবাহ জুন মাসে ১০, জুলাইয়ে ২৩, আগস্টে ১৬ এবং সেপ্টেম্বরে ১৫ শতাংশ কমে যাবে। জুলাই মাসের দিকে অমলসিদ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা কমবে গড়ে ১ মিটারেরও বেশি। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ, শেরপুর ও মারকুলি স্টেশনের দিকে কমবে যথাক্রমে ২৫ এবং ৭৫ সেন্টিমিটার করে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা সিলেট ও কানাইঘাট স্টেশনে ২৫ এবং ৭৫ সেন্টিমিটার করে কমে যাবে। আর শুকনো মৌসুমে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারা থেকে আগস্ট মাসে ১৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১৭.৫ শতাংশ পানি প্রত্যাহার করবে ভারত।
ভূমিকম্প উসকে দেবে বাঁধ
উঁচু বাঁধ নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে তা থেকে জানা গেছে, এ ধরনের বাঁধ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লন্ডনের জেড বুকস থেকে ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত প্যাটট্রিক ম্যাককুলির 'সাইলেন্স রিভার্স : দ্য ইকোলজি অ্যান্ড পলিটিঙ্ অব লার্জ ড্যামস' গ্রন্থ থেকে জানা গেছে, বাঁধের জলাধারে যে বিপুল পরিমাণ পানি জমা করা হয়, বাঁধের ভিত্তিভূমি এবং এর আশপাশের শিলাস্তরের ওপর এই পানি ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। অল্প জায়গায় পানির বিপুল পরিমাণ চাপ পড়ায় ওই অঞ্চলের শিলাস্তরের ফাটলকে দ্রুত সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় মাটির নিচের সচ্ছিদ্র শিলাস্তরের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা পানির যে স্বাভাবিক চাপ থাকে, তা বাঁধের পানির ভারে এবং শিলাস্তরের চুইয়ে যাওয়া বাড়তি পানির প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এ ছাড়া বাড়তি পানির রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণেও ফাটলের দুই দিকের শিলাস্তর, যা এমনিতেই টেকটোনিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণে পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে চায়, কিন্তু পরস্পরের মধ্যকার ঘর্ষণের শক্তির কারণে একত্রই থাকে, তা আর বাড়তি চাপ সহ্য করতে না পেরে চ্যুতি সৃষ্টি করে। ফলে ভূমিকম্পের হাইপোসেন্টার সৃষ্টি হয়ে সেখান থেকে ভূকম্পন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ১৯৩২ সালে, আলজেরিয়ার কুঢে ফড্ডা বাঁধের ক্ষেত্রে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের বাঁধের কারণে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার নজির পাওয়া গেছে কমপক্ষে ৭০টি। আর এ যাবৎকালে বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র মাত্রার জলধর প্রভাবিত ভূমিকম্প হয়েছে খোদ ভারতের মহারাষ্ট্রের কয়লা বাঁধের কারণে। ১৯৬৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ঘটা ৬.৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি এমনকি তার কেন্দ্র থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরেও তীব্র আঘাত হেনেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের যে জায়গায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, তা বিশ্বের ছয়টি ভয়ংকর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার একটি। উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, মেঙ্েিকা, তুরস্ক, তাইওয়ান ও জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। টিপাইমুখ বাঁধের ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গত ১০০ বছরের মধ্যে ৭-এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে দুটি। এর একটি হয়েছে ১৯৫৭ সালে, টিপাইমুখ থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার কারণ হলো, এটি সুরমা-গ্রুপ শিলাস্তর দ্বারা গঠিত। আর এ শিলাস্তরের বৈশিষ্ট্যই হলো অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পুরো বরাক অববাহিকায় রয়েছে অসংখ্য ফাটল আর চ্যুতি, যা আবার ওই এলাকার নদীগুলোর গতিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের অক্ষটি (অীরং) অবস্থিত হলো বহুল পরিচিত তাইথু (ঞধরঃযঁ) ফল্টের ওপর, যা সম্ভাব্য ক্রিয়াশীল একটি ফল্ট। ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভবিষ্যতের যেকোনো ভূমিকম্পের এপিসেন্টার হয়ে উঠতে পারে এই অক্ষটি। তা ছাড়া ভারত ও মিয়ানমার টেকনোটিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এলাকাটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের একটি এলাকায় ১৬৮.২ মিটার উচ্চতার একটি জলধর নির্মাণ করা মানে (জলাধারের উচ্চতা ১০০ মিটারের বেশি হলে রিভার ইনডিউচ্ড সাইসমিসিটির সম্ভাবনা বেশি থাকে) বাংলাদেশ ও ভারতের পুরো এলাকার জন্য আগ বাড়িয়ে অতিমাত্রায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ডেকে আনার শামিল।
বাঁধ ভাঙলে কী হবে বাংলাদেশের
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বাঁধের জলধর ভূমিকম্পকে উসকে দেয়। যদি ভূমিকম্পে বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে তা ভাটির দেশ বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সর্বনাশ বয়ে আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ, বাঁধ থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের সীমান্ত শুরু। বাঁধ ভেঙে হঠাৎ বন্যা হলে বাংলাদেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য বাংলাদেশের হাতে নেই। বন্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা বা ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-৬ (ঋঅচ-৬)-এর আওতায় ১৯৯২-৯৪ সালে একটি গবেষণা চালানো হয়। ওই গবেষণা থেকে বন্যাবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসাব পাওয়া যায়। যদি বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়, তাহলে ওই গবেষণা তথ্য অনুসারে, বন্যার পানি ১০ কিলোমিটার গতিবেগের হিসাবে বাঁধ থেকে ৮০ কিলোমিটার থেকে দূরের পার্বত্য উপত্যকা, ১৪০ কিলোমিটার দূরের শিলচর এবং ২০০ কিলোমিটার দূরের অমলসিদ পেঁৗছতে স্রোতের বেগ কমে এলেও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে বাঁধের পানি কমপক্ষে ৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে হাজির হবে। আর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি তার সর্বোচ্চ উচ্চতা ২৫ মিটারে পেঁৗছবে, যা প্লাবনভূমির উচ্চতার চেয়ে ৮ মিটার বেশি উঁচু। ফলে বাংলাদেশের পাঁচটি প্লাবনভূমিকে ৮ মিটার পানির নিচে তলিয়ে রাখবে ১০ দিন কিংবা তার চেয়েও বেশি।
আন্তর্জাতিক আইনকে ভারতের বৃদ্ধাঙ্গুলি
আন্তর্জাতিক আইন বরাবরই একটি পুরনো কথা। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর একটি অব্যর্থ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করে। আর নিজেদের বেলায় তা অহরহ লঙ্ঘন করে। যেমন_ইরাক, আফগানিস্তান এবং সম্প্রতি লিবিয়ার ওপর পশ্চিমাদের যে আক্রমণ ও দখলদারিত্ব, তা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে না। কিন্তু অবলীলায় তারা ওই সব দেশের তেলসম্পদ দখল করার জন্য আক্রমণ চালিয়েছে এবং সরকার পরিবর্তন করে নিজেদের পছন্দের পুতুল সরকার বসিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও তা-ই। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনগুলোকে পাত্তা দেয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপাইমুখে ভারতের একক সিদ্ধান্তে বাঁধ নির্মাণ আন্তর্জাতিক নদী আইনের লঙ্ঘন। যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হেলসিংকি (১৯৬৬) নীতিমালার ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত দেশ অভিন্ন নদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনা করবে। এ জন্য অবশ্যই যেন অন্য দেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।'
একই আইনের ২৯(২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'একটি রাষ্ট্র নদী অববাহিকার যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তার যেকোনো প্রস্তাবিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইনস্টলেশনের ব্যাপারে নদী অববাহিকায় অবস্থিত অন্য যেকোনো রাষ্ট্র, এই কাজের ফলে অববাহিকায় ঘটা পরিবর্তনের কারণে যার স্বার্থহানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাকে এ ব্যাপারে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ গ্রহীতা দেশ যেন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সম্ভাব্য ফলাফলের বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি থাকতে হবে।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইনও অনুসরণ করেনি।
টিপাইমুখসহ ভারত বাংলাদেশের অভিন্ন নদীতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিটিই হচ্ছে দুই দেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক আইন। এই চুক্তিতে শুধু গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির কথা বলা হয়নি, অভিন্ন অন্যান্য নদীর কথাও বলা হয়েছে। এই চুক্তি অনুসারে ভারত বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোতে কোনো ধরনের তৎপরতা যদি কোনো দেশ করে থাকে, তাহলে উভয় দেশ স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় করবে। কিন্তু ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে তা করেনি। বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশ সরকারকে কোনো তথ্য দেয়নি। প্রথম থেকেই ভারত বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আসামে এই বাঁধের ব্যাপারে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণে ভারত বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ধীরগতিতে এগিয়ে নেয়। আসামের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকার আইন পাস করে টিপাইমুখ বাঁধের নির্মাণকাজের প্রয়োজনে নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত মনবাহাদুর রোডের ৯৯ কিলোমিটার দূরত্বের সাত কিলোমিটার অন্তর সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করে।
গত ২৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিলি্লতে টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কম্পানি স্থাপনের জন্য ভারতের ন্যাশনাল হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (এনএইচপিসি), সাটলুজ জলবিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (এসজেভিএন) এবং মণিপুর সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর চুক্তিটি সই হয় দিলি্লতে। এ ধরনের চুক্তি করার আগে বাংলাদেশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভারত কথা রাখেনি। যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পে জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) ৬৯, রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ সংস্থার (এসজেভিএন) ২৬ এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের ৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে।
২০১০ ও ২০১১ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অঙ্গীকার করেছিলেন, 'টিপাইমুখে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়।'
পরিবেশ কি পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্র?
পুঁজিবাদী বিশ্ব এবং তার একচেটিয়া মুনাফাখোর বহুজাতিক কম্পানিগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুনাফা অটুট রাখার জন্য। যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে পুঁজিবাদী উৎপাদন সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। পুঁজিবাদের ভয়াল রূপ আরো নৃশংস হচ্ছে, বেরিয়ে পড়ছে তার খাদক চেহারা। দুনিয়াব্যাপী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাজার-কাঁচামাল এবং পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এবার তার নজর পড়েছে হিমালয়ের ওপর। হিমালয়কে ঘিরে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাপানসহ বেশ কিছু করপোরেট ব্যাংক ধ্বংসের মহাযজ্ঞ শুরু করেছে। টিপাইমুখ তারই একটি।
পুঁজিবাদী শিল্পোন্নত দেশগুলোর চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। মন্দা কাটানোর জন্য তারা ইরাক, আফগানিস্তান এবং সর্বশেষ লিবিয়া দখল করেছে, ইরানে হামলার পাঁয়তারা করছে। আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে_যেখানে জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেসব দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ নেই, সেখানে_তারা পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে দখল করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপের হয়ে সেই পুঁজি বিনিয়োগ করে বিশ্বব্যাংক আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান এমন সব ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগ করে, যা আগে কখনোই ব্যবসার খাত মনে করার কারণ ছিল না। সেই পুঁজি এমন সব জায়গায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে খোদ মহাদেশই উল্টেপাল্টে যেতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জনমনে একটা ধারণা আছে_বিদেশি বিনিয়োগ মানেই ভালো। কার আমলে কত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, তা আবার নির্বাচনী ইশতেহারে বয়ান করা হয়। ফলে বিদেশি ওই সব সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান যখন পুঁজি বিনিয়োগ করে, সেই পুঁজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ না গড়ে তুলে বরং তাকে উন্নয়নের সাফল্য হিসেবেই দেখানো হয়। তেমনই একটি বিনিয়োগ হলো হিমালয়জুড়ে বাঁধ নির্মাণ।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৪টি আন্তনদীর মধ্যে ৪৭টি নদীতে বাঁধ দিয়েছে ভারত। কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতেই নির্মিত হচ্ছে ১৬০টি বাঁধ ও ব্যারাজ। ১৯৪৭-পরবর্তী সময় থেকে ভারত ৮০ হাজার কোটি রুপি খরচ করে ৩৬০০ বাঁধ নির্মাণ করেছে। বেশির ভাগ বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হলেও বন্যার প্রকোপ বেড়েছে, খরার প্রকোপ বেড়েছে, বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণের ফলে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদ্বাস্তুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। ডড়ৎষফ ঈড়সসরংংরড়হ ড়ভ উধস (ডঈউ) ১২৫টি বৃহৎ বাঁধের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এসব বাঁধ প্রকল্পকে মানুষ, পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং উৎপাদনের জন্য অলাভজনক বলেছে। শুধু এই চিত্র? এর বাইরেও রয়েছে সত্য।
হিমালয় অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কথা শোনা যাচ্ছে ৯০ দশকের শেষ দিক থেকে। বিষয়টি আরো বেশি করে তখনই আলোচনায় এসেছে, যখন খোদ ভারতের বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন এসব বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে লেখালেখি করেছে। ২০০৩ সালের এপ্রিলে ইকোলজিস্ট এশিয়া ইস্যুতে একটি বিশেষ সংখ্যাও হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন নিবন্ধ। সমাবেশ-সেমিনারও হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল রিভার্সের সমীক্ষায় যে চিত্র বেরিয়ে এসেছে, তা আশঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।
তথ্য মতে, হিমালয় অঞ্চলে চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশই সব মিলিয়ে ৫৫৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ছয়টির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে সাতটি। পরিকল্পনাধীন রয়েছে আরো ৩৫টি। ভারতে ৭৪টি বাঁধ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে ৩৭টি। আরো ৩১৮টি বাঁধ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। নেপালে ১৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন দুইটি এবং পরিকল্পনাধীন রয়েছে ৩৭টি। ভুটানের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে পাঁচটির। আরো ১৬টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের মধ্যে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার তালেবান ও আল-কায়েদা সামলানোর বদলে জলবিদ্যুৎ নিয়ে মাথা ঘামাবে_এমন সম্ভাবনাও নেই। প্রসঙ্গত, ভুটানের প্রায় সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে ভারতের সহায়তায়।
যেকোনো কৃত্রিম বাঁধ বা ড্যাম সেখানকার শত-সহস্র বছর ধরে চলে আসা জৈব প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার বাঁধগুলো সেদেশের জৈব প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বেঁচে থাকে না, প্রাকৃতিক এবং পরিবেশের হাজার রকমের বিচিত্র দান এবং অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মানুষ ও প্রকৃতির টিকে থাকার শর্তগুলো জিইয়ে রাখে। ড্যাম এবং বাঁধ ওই জৈব প্রাকৃতিক ব্যবস্থার শর্তগুলো নষ্ট করে দেয়। হিমালয়জুড়ে বাঁধ হলো সম্ভাব্য সেই ক্ষতি ডেকে আনার নামান্তর।
এখানেও বিশ্বব্যাংক-এডিবি
বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাপানসহ বেশ কয়েকটি করপোরেট ব্যাংকের অর্থে সমাপ্ত হবে ভয়ংকর একতরফা পানি প্রত্যাহার। প্রাথমিকভাবে এই মহাপরিকল্পনার পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ লাখ কোটি রুপি।
নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তত্ত্ব দেশে দেশে ফেরি করে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির মতো কিছু আন্তর্জাতিক অর্থকরী সংস্থা। সংশ্লিষ্ট দেশের যা-ই হোক, এতে তাদের যে বহুমুখী লাভ হয়, সেই প্রসঙ্গ দীর্ঘ। ভারতীয় উপমহাদেশেও চলি্লশ থেকে সত্তর দশকে বিরাট বিরাট বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব সংস্থা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। হিমালয়জুড়ে এখন যে বাঁধযজ্ঞ চলছে, তাতে এ দুটি সংস্থার সঙ্গে যোগ দিয়েছে কিছু দেশীয় এবং বহুজাতিক কম্পানি। হিমালয় অঞ্চলের আলোচ্য চারটি দেশে কোনো একক পক্ষ বাঁধ নির্মাণের অর্থ জোগাচ্ছে না। সরকার স্বভাবতই বিপুল ব্যয় একা বহন করছে না। চারটি দেশে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে বেসরকারি খাত।
ভুটানের ক্ষেত্রে বাঁধ নির্মাণের নানা পর্যায়ে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির মতো কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থকরী প্রতিষ্ঠান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, টাটা-রিলায়েন্স-জিএমআর-ল্যাংকো-জয় প্রকাশ-গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টের মতো ভারতীয় কম্পানি এবং নরওয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি কম্পানি, নেপাল এবং এগুলোর পাশাপাশি চীনও উপস্থিত। পাকিস্তানে সক্রিয় বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, চীন সরকার, জাপানভিত্তিক ওভারসিজ ইকোনমিক কো-অপারেশন ফান্ড, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং দেশীয় কয়েকটি কম্পানি। ভারতে খোদ সরকার ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কম্পানি, দেশীয় ব্যাংক এবং অর্থকরী প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করছে। অন্য তিনটি দেশের সঙ্গে ভারতের পার্থক্য হলো, আন্তর্জাতিক অর্থকরী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে হচ্ছে দেশীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।
লড়াই হবে বহুমাত্রিক
ভারতে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হচ্ছে। এই বাঁধের মূল বিষয় সামরিক। বাঁধ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সেখানকার সামরিক আগ্রাসনকে আরো বেশি গতি দেবে। আসামে চলছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। সেই সঙ্গে আসামবাসী এই বাঁধের বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলনও জারি রেখেছে। প্রয়োজন সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের জনগণের সংগ্রামে মিলন ঘটানো। একই সঙ্গে আওয়াজ তোলা দরকার_অভিন্ন নদীর অভিন্ন বণ্টন চাই। দেশের সীমানা যেমন কাঁটাতার-পাসপোর্ট দিয়ে পার্থক্য করা যায়, নদীকে তেমনভাবে বিভাজ্য করা যায় না। যদি উভয় দেশের মানুষ এই আওয়াজ তোলে, তাহলে ক্ষমতায় যাঁরা থাকেন, তাঁদের অবশ্যই নড়েচড়ে বসতে হবে।
সবার আগে দরকার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মানসিকতা। যদি ধরেই নেওয়া যায়, ভারত বড় রাষ্ট্র; বাংলাদেশের উজানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। এটা হেরে যাওয়া মানসিকতা, নতজানু চিন্তা। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। প্রায় একই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐক্য এখানে বিরাজমান। বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচ শতাধিক জাতি-ভাষা-ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ, যা দেশটির অখণ্ডতা রক্ষার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গায় রয়েছে।
ভারত নৌ ট্রানজিট কোনো মাসুল ছাড়াই শুরু করেছে। স্থল ট্রানজিটের ক্ষেত্রে কী হবে, তা এখনো জানা যাচ্ছে না। একের পর এক উলফা গেরিলাদের ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ। তাহলে ভারত কেন এ ধরনের আচরণ করবে? বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়ে বিনিময়ে কিছুই দেবে না, এটা হতে পারে না। বাংলাদেশকে বুক টান করে দাঁড়াতে হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে ভূ-কৌশলগত অবস্থানের বিষয়টি ভারতকে মনে করিয়ে দিতে হবে। ভারত তার নড়বড়ে অবস্থানের বিষয়টি অন্যদের তুলনায় খুব ভালো করেই জানে।
ধভারতের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে তারা বাংলাদেশ সরকারকে জানাবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি ভারত। বাংলাদেশকে এক প্রকার অন্ধকারে রেখেই বরাক নদের ওপর টিপাইমুখ বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একতরফাভাবে একটি যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি সই হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর দিলি্লতে চুক্তিটি সই হয়। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ ভারত করবে না। তবে বাংলাদেশের পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটবে। এ দেশের কৃষি থেকে শুরু করে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে।
টিপাইমুখ বাঁধের ইতিহাস
আসামের কাছাড় অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মণিপুরের ২৭৫.৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় ভারত সরকার। ভারতের পরিবেশবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই বাঁধের কারণে খোদ আসামের ১৬টি গ্রাম পুরোপুরি ডুবে যাবে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৫১টি গ্রাম। ফলে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংস হবে। তাই টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে আসামের জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এ কারণে মণিপুরের বরাক নদের ওপর বাঁধ নির্মাণের স্থান ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৫৫ সালে ময়নাধর, ১৯৬৪ সালে নারায়ণধর, এরপর ভূবন্দর এবং সবশেষে আশির দশকে টুইভাই ও বরাক নদের সংগমস্থলের ৫০০ মিটার ভাটিতে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে বাঁধটি ব্রহ্মপুত্র ফ্লাড কন্ট্রোল বোর্ডের (বিএফসিবি) আওতায় থাকলেও ১৯৮৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ১৯৯৯ সালে এটিকে নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (নেপকো) হাতে দিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে বাঁধটির নাম 'টিপাইমুখ হাই ড্যাম' থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'টিপাইমুখ পাওয়ার প্রজেক্ট' হয়।
টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদের মিলনস্থলের এক হাজার ৬০০ ফুট দূরে বরাক নদে ৫০০ ফুট উঁচু এবং এক হাজার ৬০০ ফুট দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারত সরকার কাজ শুরু করেছে।
বরাক নদ ভারতের মণিপুর রাজ্যের কাছাড় পর্বতে উৎপন্ন হয়ে মণিপুর-আসাম-মিজোরামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারতের অমলসিদ নামক স্থানে নদটি সুরমা ও কুশিয়ারা_এ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ দিয়ে প্রবেশ করেছে। সুরমা ও কুশিয়ারা হবিগঞ্জের মারকুলির কাছে পুনরায় মিলিত হয়ে কালনী নামে প্রবাহিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কালনী ঘোড়াউত্রা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। বরাক নদের ভারতে প্রবাহিত অংশের দৈর্ঘ্য ৪৯৯ কিলোমিটার। আর বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ৪০৩ কিলোমিটার। সুরমা ও কুশিয়ারা পাঁচটি প্লাবনভূমি অতিক্রম করেছে, যার অববাহিকায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক জনবসতি গড়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের এই নদী অববাহিকার জনপদে সর্বনাশ ডেকে আনবে। বাংলাদেশ হাওর উন্নয়ন বোর্ড এবং নদী গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বর্ষা শুরুর আগে নদীতে যে তলানি প্রবাহ থাকে, টিপাইমুখ বাঁধ তা আসতে দেবে না। এ ছাড়া বর্ষার শুরুতেও বৃষ্টির পানি আটকে রাখবে। ফলে বর্ষার শুরুতে সুরমা ও কুশিয়ারায় প্রায় এক মাস দেরিতে পানি আসবে। ফলে নদী দুটি শুকিয়ে থাকবে। তবে পুরো বর্ষায় ঠিকই নদী পূর্ণ থাকবে। এরপর বর্ষা শেষ হলে জলাধারে ধরে রাখা পানি আস্তে আস্তে ছাড়বে। আগে যেখানে নভেম্বরের দিকে নদীর পানি শুকিয়ে যেত, এখন তা জানুয়ারিতে হবে। ফলে হাওরাঞ্চলের একফসলি জমিগুলোতে ধান চাষ করা যাবে না। মৌসুমে এক হাজার কোটি টাকার বোরো ধানের আবাদ হবে না।' তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'ফেব্রুয়ারির দিকে জলাধারের পানি কমে গেলে আবার নদীর তলানি প্রবাহ আটকে দেবে। ফলে শুকনো মৌসুমে নদী দুটি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি শুকিয়ে যাবে। এ প্রক্রিয়া চক্রাকারে চলতেই থাকবে। ফলে ওই দুটি নদী অববাহিকার জনজীবন, মৎস্যসম্পদ, কৃষি_সবকিছুই বিপর্যয়ে পড়বে।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে মুখ্য উদ্দেশ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বাঁধের ডিজাইনে কোনো পরিবর্তনই করা হয়নি, ফলে আগে বাঁধের যে উচ্চতা (১৬৮.২ মিটার) এবং লোড ফ্যাক্ট (২৬.৭৫%) আছে, এখনো তা-ই আছে। এর মানে হলো, বছরের কোনো এক সময়ের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার, অর্থাৎ ১৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাত্র ২৬.৭ শতাংশ অর্থাৎ ৪০১.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সারা বছর পাওয়া যাবে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ থেকে মণিপুরবাসীর জন্য ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে মাত্র ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিনিময়ে মণিপুরের মানুষ টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে রাজি হয়নি।
টিপাইমুখ বাঁধ শুধু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে না। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে পানি প্রত্যাহার করবে ভারত। টিপাইমুখ বাঁধের মূল পরিকল্পনায় বাঁধের ৯৫ কিলোমিটার ভাটিতে একটি ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। সেই ব্যারাজ থেকে পানি প্রত্যাহার করে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হবে। অথচ এ বিষয়ে কোনো তথ্যই ভারত বাংলাদেশকে দেয়নি। এ ছাড়া আসামের কাছাড় অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মণিপুরের ২৭৫.৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয় ভারত সরকার।
কী ক্ষতি হবে বাংলাদেশের?
ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং ২০০৫ সালে একটি গবেষণায় উজানে বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে_প্লাবনভূমির প্লাবনের ধরন ও পরিমাণ এবং ঋতু বদলে যাবে। সুরমা ও কুশিয়ারার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ শুষ্ক করায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনায় ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে। শুধু সিলেট ও মৌলভীবাজারেই যথাক্রমে ৩০ হাজার ১২৩ হেক্টর এবং ৫২০ হেক্টর প্লাবনভূমি কমে যাবে। বর্ষায় জলমগ্ন হবে না সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানের ৭১ শতাংশ এলাকা। কুশিয়ারা নদীর প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকা নদীটির ডান পাশের প্লাবনভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। কুশিয়ারার বাম তীরের বরদাল হাওর শুকনো মৌসুমে পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। কাউয়ার দিঘির হাওর দুই হাজার ৯৭৯ হেক্টর জলাভূমি হারাবে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে জলবায়ু, বাস্তুসংস্থান এবং জীবন-জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে।
ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-২০০৫-এর ওই গবেষণায় পানির পরিমাণ বাড়া-কমার হিসাব থেকে দেখা যায়, টিপাইমুখ বাঁধ পুরোদমে কাজ শুরু করলে বরাক নদ থেকে অমলসিদ পয়েন্টে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা নদীর দিকে পানিপ্রবাহ জুন মাসে ১০, জুলাইয়ে ২৩, আগস্টে ১৬ এবং সেপ্টেম্বরে ১৫ শতাংশ কমে যাবে। জুলাই মাসের দিকে অমলসিদ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা কমবে গড়ে ১ মিটারেরও বেশি। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ, শেরপুর ও মারকুলি স্টেশনের দিকে কমবে যথাক্রমে ২৫ এবং ৭৫ সেন্টিমিটার করে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা সিলেট ও কানাইঘাট স্টেশনে ২৫ এবং ৭৫ সেন্টিমিটার করে কমে যাবে। আর শুকনো মৌসুমে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারা থেকে আগস্ট মাসে ১৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১৭.৫ শতাংশ পানি প্রত্যাহার করবে ভারত।
ভূমিকম্প উসকে দেবে বাঁধ
উঁচু বাঁধ নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে তা থেকে জানা গেছে, এ ধরনের বাঁধ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লন্ডনের জেড বুকস থেকে ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত প্যাটট্রিক ম্যাককুলির 'সাইলেন্স রিভার্স : দ্য ইকোলজি অ্যান্ড পলিটিঙ্ অব লার্জ ড্যামস' গ্রন্থ থেকে জানা গেছে, বাঁধের জলাধারে যে বিপুল পরিমাণ পানি জমা করা হয়, বাঁধের ভিত্তিভূমি এবং এর আশপাশের শিলাস্তরের ওপর এই পানি ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। অল্প জায়গায় পানির বিপুল পরিমাণ চাপ পড়ায় ওই অঞ্চলের শিলাস্তরের ফাটলকে দ্রুত সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় মাটির নিচের সচ্ছিদ্র শিলাস্তরের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা পানির যে স্বাভাবিক চাপ থাকে, তা বাঁধের পানির ভারে এবং শিলাস্তরের চুইয়ে যাওয়া বাড়তি পানির প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এ ছাড়া বাড়তি পানির রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণেও ফাটলের দুই দিকের শিলাস্তর, যা এমনিতেই টেকটোনিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণে পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে চায়, কিন্তু পরস্পরের মধ্যকার ঘর্ষণের শক্তির কারণে একত্রই থাকে, তা আর বাড়তি চাপ সহ্য করতে না পেরে চ্যুতি সৃষ্টি করে। ফলে ভূমিকম্পের হাইপোসেন্টার সৃষ্টি হয়ে সেখান থেকে ভূকম্পন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ১৯৩২ সালে, আলজেরিয়ার কুঢে ফড্ডা বাঁধের ক্ষেত্রে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের বাঁধের কারণে ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার নজির পাওয়া গেছে কমপক্ষে ৭০টি। আর এ যাবৎকালে বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র মাত্রার জলধর প্রভাবিত ভূমিকম্প হয়েছে খোদ ভারতের মহারাষ্ট্রের কয়লা বাঁধের কারণে। ১৯৬৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ঘটা ৬.৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি এমনকি তার কেন্দ্র থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরেও তীব্র আঘাত হেনেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের যে জায়গায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, তা বিশ্বের ছয়টি ভয়ংকর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার একটি। উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, মেঙ্েিকা, তুরস্ক, তাইওয়ান ও জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। টিপাইমুখ বাঁধের ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গত ১০০ বছরের মধ্যে ৭-এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে দুটি। এর একটি হয়েছে ১৯৫৭ সালে, টিপাইমুখ থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার কারণ হলো, এটি সুরমা-গ্রুপ শিলাস্তর দ্বারা গঠিত। আর এ শিলাস্তরের বৈশিষ্ট্যই হলো অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পুরো বরাক অববাহিকায় রয়েছে অসংখ্য ফাটল আর চ্যুতি, যা আবার ওই এলাকার নদীগুলোর গতিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের অক্ষটি (অীরং) অবস্থিত হলো বহুল পরিচিত তাইথু (ঞধরঃযঁ) ফল্টের ওপর, যা সম্ভাব্য ক্রিয়াশীল একটি ফল্ট। ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভবিষ্যতের যেকোনো ভূমিকম্পের এপিসেন্টার হয়ে উঠতে পারে এই অক্ষটি। তা ছাড়া ভারত ও মিয়ানমার টেকনোটিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এলাকাটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের একটি এলাকায় ১৬৮.২ মিটার উচ্চতার একটি জলধর নির্মাণ করা মানে (জলাধারের উচ্চতা ১০০ মিটারের বেশি হলে রিভার ইনডিউচ্ড সাইসমিসিটির সম্ভাবনা বেশি থাকে) বাংলাদেশ ও ভারতের পুরো এলাকার জন্য আগ বাড়িয়ে অতিমাত্রায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ডেকে আনার শামিল।
বাঁধ ভাঙলে কী হবে বাংলাদেশের
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বাঁধের জলধর ভূমিকম্পকে উসকে দেয়। যদি ভূমিকম্পে বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে তা ভাটির দেশ বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সর্বনাশ বয়ে আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ, বাঁধ থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের সীমান্ত শুরু। বাঁধ ভেঙে হঠাৎ বন্যা হলে বাংলাদেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য বাংলাদেশের হাতে নেই। বন্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা বা ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-৬ (ঋঅচ-৬)-এর আওতায় ১৯৯২-৯৪ সালে একটি গবেষণা চালানো হয়। ওই গবেষণা থেকে বন্যাবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসাব পাওয়া যায়। যদি বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়, তাহলে ওই গবেষণা তথ্য অনুসারে, বন্যার পানি ১০ কিলোমিটার গতিবেগের হিসাবে বাঁধ থেকে ৮০ কিলোমিটার থেকে দূরের পার্বত্য উপত্যকা, ১৪০ কিলোমিটার দূরের শিলচর এবং ২০০ কিলোমিটার দূরের অমলসিদ পেঁৗছতে স্রোতের বেগ কমে এলেও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে বাঁধের পানি কমপক্ষে ৫ মিটার উচ্চতা নিয়ে হাজির হবে। আর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি তার সর্বোচ্চ উচ্চতা ২৫ মিটারে পেঁৗছবে, যা প্লাবনভূমির উচ্চতার চেয়ে ৮ মিটার বেশি উঁচু। ফলে বাংলাদেশের পাঁচটি প্লাবনভূমিকে ৮ মিটার পানির নিচে তলিয়ে রাখবে ১০ দিন কিংবা তার চেয়েও বেশি।
আন্তর্জাতিক আইনকে ভারতের বৃদ্ধাঙ্গুলি
আন্তর্জাতিক আইন বরাবরই একটি পুরনো কথা। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর একটি অব্যর্থ অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করে। আর নিজেদের বেলায় তা অহরহ লঙ্ঘন করে। যেমন_ইরাক, আফগানিস্তান এবং সম্প্রতি লিবিয়ার ওপর পশ্চিমাদের যে আক্রমণ ও দখলদারিত্ব, তা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে না। কিন্তু অবলীলায় তারা ওই সব দেশের তেলসম্পদ দখল করার জন্য আক্রমণ চালিয়েছে এবং সরকার পরিবর্তন করে নিজেদের পছন্দের পুতুল সরকার বসিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও তা-ই। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনগুলোকে পাত্তা দেয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপাইমুখে ভারতের একক সিদ্ধান্তে বাঁধ নির্মাণ আন্তর্জাতিক নদী আইনের লঙ্ঘন। যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হেলসিংকি (১৯৬৬) নীতিমালার ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত দেশ অভিন্ন নদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনা করবে। এ জন্য অবশ্যই যেন অন্য দেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।'
একই আইনের ২৯(২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'একটি রাষ্ট্র নদী অববাহিকার যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তার যেকোনো প্রস্তাবিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইনস্টলেশনের ব্যাপারে নদী অববাহিকায় অবস্থিত অন্য যেকোনো রাষ্ট্র, এই কাজের ফলে অববাহিকায় ঘটা পরিবর্তনের কারণে যার স্বার্থহানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাকে এ ব্যাপারে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ গ্রহীতা দেশ যেন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সম্ভাব্য ফলাফলের বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি থাকতে হবে।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইনও অনুসরণ করেনি।
টিপাইমুখসহ ভারত বাংলাদেশের অভিন্ন নদীতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিটিই হচ্ছে দুই দেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক আইন। এই চুক্তিতে শুধু গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির কথা বলা হয়নি, অভিন্ন অন্যান্য নদীর কথাও বলা হয়েছে। এই চুক্তি অনুসারে ভারত বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোতে কোনো ধরনের তৎপরতা যদি কোনো দেশ করে থাকে, তাহলে উভয় দেশ স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় করবে। কিন্তু ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে তা করেনি। বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশ সরকারকে কোনো তথ্য দেয়নি। প্রথম থেকেই ভারত বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আসামে এই বাঁধের ব্যাপারে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণে ভারত বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ধীরগতিতে এগিয়ে নেয়। আসামের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকার আইন পাস করে টিপাইমুখ বাঁধের নির্মাণকাজের প্রয়োজনে নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত মনবাহাদুর রোডের ৯৯ কিলোমিটার দূরত্বের সাত কিলোমিটার অন্তর সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করে।
গত ২৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিলি্লতে টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কম্পানি স্থাপনের জন্য ভারতের ন্যাশনাল হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (এনএইচপিসি), সাটলুজ জলবিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (এসজেভিএন) এবং মণিপুর সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর চুক্তিটি সই হয় দিলি্লতে। এ ধরনের চুক্তি করার আগে বাংলাদেশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভারত কথা রাখেনি। যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পে জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) ৬৯, রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ সংস্থার (এসজেভিএন) ২৬ এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের ৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে।
২০১০ ও ২০১১ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অঙ্গীকার করেছিলেন, 'টিপাইমুখে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়।'
পরিবেশ কি পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্র?
পুঁজিবাদী বিশ্ব এবং তার একচেটিয়া মুনাফাখোর বহুজাতিক কম্পানিগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুনাফা অটুট রাখার জন্য। যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে পুঁজিবাদী উৎপাদন সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। পুঁজিবাদের ভয়াল রূপ আরো নৃশংস হচ্ছে, বেরিয়ে পড়ছে তার খাদক চেহারা। দুনিয়াব্যাপী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাজার-কাঁচামাল এবং পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এবার তার নজর পড়েছে হিমালয়ের ওপর। হিমালয়কে ঘিরে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাপানসহ বেশ কিছু করপোরেট ব্যাংক ধ্বংসের মহাযজ্ঞ শুরু করেছে। টিপাইমুখ তারই একটি।
পুঁজিবাদী শিল্পোন্নত দেশগুলোর চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। মন্দা কাটানোর জন্য তারা ইরাক, আফগানিস্তান এবং সর্বশেষ লিবিয়া দখল করেছে, ইরানে হামলার পাঁয়তারা করছে। আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে_যেখানে জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেসব দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ নেই, সেখানে_তারা পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে দখল করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপের হয়ে সেই পুঁজি বিনিয়োগ করে বিশ্বব্যাংক আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান এমন সব ক্ষেত্রে পুঁজি বিনিয়োগ করে, যা আগে কখনোই ব্যবসার খাত মনে করার কারণ ছিল না। সেই পুঁজি এমন সব জায়গায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে খোদ মহাদেশই উল্টেপাল্টে যেতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জনমনে একটা ধারণা আছে_বিদেশি বিনিয়োগ মানেই ভালো। কার আমলে কত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, তা আবার নির্বাচনী ইশতেহারে বয়ান করা হয়। ফলে বিদেশি ওই সব সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান যখন পুঁজি বিনিয়োগ করে, সেই পুঁজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ না গড়ে তুলে বরং তাকে উন্নয়নের সাফল্য হিসেবেই দেখানো হয়। তেমনই একটি বিনিয়োগ হলো হিমালয়জুড়ে বাঁধ নির্মাণ।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৪টি আন্তনদীর মধ্যে ৪৭টি নদীতে বাঁধ দিয়েছে ভারত। কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতেই নির্মিত হচ্ছে ১৬০টি বাঁধ ও ব্যারাজ। ১৯৪৭-পরবর্তী সময় থেকে ভারত ৮০ হাজার কোটি রুপি খরচ করে ৩৬০০ বাঁধ নির্মাণ করেছে। বেশির ভাগ বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হলেও বন্যার প্রকোপ বেড়েছে, খরার প্রকোপ বেড়েছে, বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণের ফলে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদ্বাস্তুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। ডড়ৎষফ ঈড়সসরংংরড়হ ড়ভ উধস (ডঈউ) ১২৫টি বৃহৎ বাঁধের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এসব বাঁধ প্রকল্পকে মানুষ, পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং উৎপাদনের জন্য অলাভজনক বলেছে। শুধু এই চিত্র? এর বাইরেও রয়েছে সত্য।
হিমালয় অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কথা শোনা যাচ্ছে ৯০ দশকের শেষ দিক থেকে। বিষয়টি আরো বেশি করে তখনই আলোচনায় এসেছে, যখন খোদ ভারতের বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন এসব বাঁধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে লেখালেখি করেছে। ২০০৩ সালের এপ্রিলে ইকোলজিস্ট এশিয়া ইস্যুতে একটি বিশেষ সংখ্যাও হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন নিবন্ধ। সমাবেশ-সেমিনারও হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল রিভার্সের সমীক্ষায় যে চিত্র বেরিয়ে এসেছে, তা আশঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।
তথ্য মতে, হিমালয় অঞ্চলে চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশই সব মিলিয়ে ৫৫৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ছয়টির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে সাতটি। পরিকল্পনাধীন রয়েছে আরো ৩৫টি। ভারতে ৭৪টি বাঁধ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে ৩৭টি। আরো ৩১৮টি বাঁধ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। নেপালে ১৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন দুইটি এবং পরিকল্পনাধীন রয়েছে ৩৭টি। ভুটানের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে পাঁচটির। আরো ১৬টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের মধ্যে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার তালেবান ও আল-কায়েদা সামলানোর বদলে জলবিদ্যুৎ নিয়ে মাথা ঘামাবে_এমন সম্ভাবনাও নেই। প্রসঙ্গত, ভুটানের প্রায় সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে ভারতের সহায়তায়।
যেকোনো কৃত্রিম বাঁধ বা ড্যাম সেখানকার শত-সহস্র বছর ধরে চলে আসা জৈব প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার বাঁধগুলো সেদেশের জৈব প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ শুধু খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বেঁচে থাকে না, প্রাকৃতিক এবং পরিবেশের হাজার রকমের বিচিত্র দান এবং অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মানুষ ও প্রকৃতির টিকে থাকার শর্তগুলো জিইয়ে রাখে। ড্যাম এবং বাঁধ ওই জৈব প্রাকৃতিক ব্যবস্থার শর্তগুলো নষ্ট করে দেয়। হিমালয়জুড়ে বাঁধ হলো সম্ভাব্য সেই ক্ষতি ডেকে আনার নামান্তর।
এখানেও বিশ্বব্যাংক-এডিবি
বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাপানসহ বেশ কয়েকটি করপোরেট ব্যাংকের অর্থে সমাপ্ত হবে ভয়ংকর একতরফা পানি প্রত্যাহার। প্রাথমিকভাবে এই মহাপরিকল্পনার পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ লাখ কোটি রুপি।
নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তত্ত্ব দেশে দেশে ফেরি করে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির মতো কিছু আন্তর্জাতিক অর্থকরী সংস্থা। সংশ্লিষ্ট দেশের যা-ই হোক, এতে তাদের যে বহুমুখী লাভ হয়, সেই প্রসঙ্গ দীর্ঘ। ভারতীয় উপমহাদেশেও চলি্লশ থেকে সত্তর দশকে বিরাট বিরাট বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব সংস্থা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। হিমালয়জুড়ে এখন যে বাঁধযজ্ঞ চলছে, তাতে এ দুটি সংস্থার সঙ্গে যোগ দিয়েছে কিছু দেশীয় এবং বহুজাতিক কম্পানি। হিমালয় অঞ্চলের আলোচ্য চারটি দেশে কোনো একক পক্ষ বাঁধ নির্মাণের অর্থ জোগাচ্ছে না। সরকার স্বভাবতই বিপুল ব্যয় একা বহন করছে না। চারটি দেশে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে বেসরকারি খাত।
ভুটানের ক্ষেত্রে বাঁধ নির্মাণের নানা পর্যায়ে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির মতো কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থকরী প্রতিষ্ঠান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, টাটা-রিলায়েন্স-জিএমআর-ল্যাংকো-জয় প্রকাশ-গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টের মতো ভারতীয় কম্পানি এবং নরওয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি কম্পানি, নেপাল এবং এগুলোর পাশাপাশি চীনও উপস্থিত। পাকিস্তানে সক্রিয় বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, চীন সরকার, জাপানভিত্তিক ওভারসিজ ইকোনমিক কো-অপারেশন ফান্ড, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং দেশীয় কয়েকটি কম্পানি। ভারতে খোদ সরকার ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কম্পানি, দেশীয় ব্যাংক এবং অর্থকরী প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণে মূল ভূমিকা পালন করছে। অন্য তিনটি দেশের সঙ্গে ভারতের পার্থক্য হলো, আন্তর্জাতিক অর্থকরী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে হচ্ছে দেশীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।
লড়াই হবে বহুমাত্রিক
ভারতে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হচ্ছে। এই বাঁধের মূল বিষয় সামরিক। বাঁধ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সেখানকার সামরিক আগ্রাসনকে আরো বেশি গতি দেবে। আসামে চলছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। সেই সঙ্গে আসামবাসী এই বাঁধের বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলনও জারি রেখেছে। প্রয়োজন সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের জনগণের সংগ্রামে মিলন ঘটানো। একই সঙ্গে আওয়াজ তোলা দরকার_অভিন্ন নদীর অভিন্ন বণ্টন চাই। দেশের সীমানা যেমন কাঁটাতার-পাসপোর্ট দিয়ে পার্থক্য করা যায়, নদীকে তেমনভাবে বিভাজ্য করা যায় না। যদি উভয় দেশের মানুষ এই আওয়াজ তোলে, তাহলে ক্ষমতায় যাঁরা থাকেন, তাঁদের অবশ্যই নড়েচড়ে বসতে হবে।
সবার আগে দরকার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মানসিকতা। যদি ধরেই নেওয়া যায়, ভারত বড় রাষ্ট্র; বাংলাদেশের উজানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। এটা হেরে যাওয়া মানসিকতা, নতজানু চিন্তা। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। প্রায় একই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐক্য এখানে বিরাজমান। বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচ শতাধিক জাতি-ভাষা-ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ, যা দেশটির অখণ্ডতা রক্ষার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গায় রয়েছে।
ভারত নৌ ট্রানজিট কোনো মাসুল ছাড়াই শুরু করেছে। স্থল ট্রানজিটের ক্ষেত্রে কী হবে, তা এখনো জানা যাচ্ছে না। একের পর এক উলফা গেরিলাদের ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ। তাহলে ভারত কেন এ ধরনের আচরণ করবে? বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়ে বিনিময়ে কিছুই দেবে না, এটা হতে পারে না। বাংলাদেশকে বুক টান করে দাঁড়াতে হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে ভূ-কৌশলগত অবস্থানের বিষয়টি ভারতকে মনে করিয়ে দিতে হবে। ভারত তার নড়বড়ে অবস্থানের বিষয়টি অন্যদের তুলনায় খুব ভালো করেই জানে।
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1381)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
-
▼
2011
(13932)
-
▼
November
(3116)
-
▼
Nov 29
(80)
- ফসকে গেল by অনন্য রেজা করিম
- বন্ধু, ভীষণ মিস করছি... by সৈয়দ মাহমুদ জামান
- সাক্ষাৎকার-সুইটির মতো আমিও একজন মা বাস্তব জীবনে
- সাক্ষাৎকার-এটা আমার প্রথম পুরস্কার
- এবার ধারাবাহিকে... by গোলাম রাব্বানী
- পবিত্র কোরআনের আলো-বনিইসরাইলরা তাদের পুণ্যভূমিতে ফ...
- ডারবান জলবায়ু সম্মেলনে জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ by ড. মো...
- কথা রাখলেন না মনমোহন সিং by তারেক শামসুর রেহমান
- উপজেলা পরিষদ আইন-যুগোপযোগী হওয়া বাঞ্ছনীয়
- বাণিজ্য মেলায় সিন্ডিকেট-অধিক দেশের স্বচ্ছ অংশগ্রহ...
- স্মরণ-তুমি রবে নীরবে...
- সহজ-সরল-দুঃস্বপ্ন? জেগে জেগেই দেখি! by কনকচাঁপা
- কল্পকথার গল্প-নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ! by...
- কালান্তরের কড়চা-ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা কি মঙ্...
- অসাধারণ আমাদের ‘রূপকথা’ by আরিফুল ইসলাম আরমান
- নেটিজেন-দেশ, মাটি ও মানুষ রক্ষায় এ সরকার পুরোপুরি...
- অনুবাদ-বুদ্ধিজীবীদের দায়বদ্ধতা-নোয়াম চমস্কি
- প্রতিবেশী : ভারতীয় সরকার ও সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষা-ই...
- ব্লগ থেকে-ঢাকা শহরের মালিকানা কার? by রেদওয়ান বাশার
- আন্তর্জাতিক : তাহরির স্কয়ার-বিপ্লব চলছে, চলবে...!...
- সাম্প্রতিক : চলছে দোষারোপের রাজনীতি-বেহাল দেশ! by ...
- আন্তর্জাতিক : তাহরির স্কয়ার-বিপ্লব চলছে, চলবে...!...
- টিপাইমুখ বাঁধ দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির নজির-প্রধান ম....
- টিপাইমুখ নিয়ে অন্ধকারে সরকার-ড. আইনুন নিশাত, নদী,...
- হুবহু-টিপাইমুখ বাঁধ কোনোভাবেই বাংলাদেশের উপকারে আস...
- পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন-আমাদের ভেবে দেখা দরকার
- প্রচ্ছদ রচনা : টিপাইমুখ বাঁধ-বাংলাদেশ ধ্বংসের পাঁয়...
- বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিল চীন
- ন্যাটোর দুঃখ প্রকাশ 'যথেষ্ট নয়' : পাকিস্তান
- অবরোধের প্রতিবাদে আসাদ সমর্থকদের বিক্ষোভ
- কুয়েতি মন্ত্রিসভার পদত্যাগ
- মিসরে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু
- কুমিল্লা সিটি নির্বাচন-বাধা দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্...
- করের আওতায় আসছে স্পিকার এমপিদের বেতন
- তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন-কাদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্ত...
- জাপার প্রেসিডিয়াম সভায় মহাজোট ছাড়ার তাগিদ-সময় নিলে...
- বরিশালে মুক্তিযোদ্ধা খুন-গ্রেপ্তারের পর বখাটে রুপম...
- টিপাইমুখ ইস্যুতে সমীক্ষা-ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের ...
- প্রকৃতি-ঝরনাতলার নির্জনে by বিপ্রদাশ বড়ুয়া
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-রেডিও বা টিভিতে সরাসরি ...
- ভিওআইপির অবৈধ কারবার বেড়েছে-* প্রতিরোধে বিশেষ কমি...
- মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ড-সন্দেহভাজন আরো দুজন গ্রেপ্ত...
- সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অভিমত-তত্ত্বাবধায়ক প্...
- মুখোমুখি প্রতিদিন-সবাই ব্যর্থতাই দেখেছে, সাফল্য নয়
- ডন বুঝেছিলেন ৩২ বছর আগে!
- ইফতেখারের সেঞ্চুরি আল-আমিনের ৫ উইকেট
- ফুটবলকে ঘিরে মিলনমেলা
- প্রথম ওয়ানডে-ঢাকার দুঃস্মৃতি নিয়ে ভারতের মুখোমুখি
- মুন্সিগঞ্জ থেকে শুরু হবে টেলিভিশন
- ঢাকায় 'অপুর সংসার' ছবির সেই দু'জন by জনি হক
- ইউরোপিয়ান ফুটবল-ইব্রার শততম গোলের রাতে উজ্জ্বল মিলান
- জীবনের কঠিনতম যুদ্ধ লড়ছেন যুবরাজ
- সফলতম দলের সঙ্গে ইতিহাস বদলানোর লড়াই by নোমান মোহা...
- সামর্থ্যের শেষ বিন্দুও ঢেলে দেবে পাকিস্তান
- টোয়েন্টি টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হচ্ছে মিশন পাকিস্তা...
- ঠিক এমনটাই চেয়েছিলেন ফেদেরার
- জলবায়ু পরিবর্তনে খাদ্য সংকট আরো তীব্র হবে
- এসইসি ও ডিএসইর তদারকিতে শেয়ারবাজারের নাটকীয় মোড়-দি...
- এসএমই ব্যবসায় নতুন ধারণা পেতে পরিকল্পনা প্রতিযোগিত...
- মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে আইসিটি মেলা ১৯ ডিসেম্বর শুরু
- মিয়ানমারে এক লাখ টন আলু রপ্তানির সম্ভাবনা by রাজীব...
- সংশোধন হচ্ছে এডিপি
- অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে জটিল ইস্যুর সুরাহা হয়েছে...
- সয়াবিনের দাম বাড়াতে আইন মানছেন না মিলমালিকরা-* মনি...
- আদমদীঘিতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে চার শ্রমিক উদ্ধার, মালি...
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-বিচারপতি নিজামুল হক...
- টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ সিলেট ছাড়িয়ে নিউ ...
- মুক্তিপ্রাপ্ত বিডিআর জওয়ানদের ওপর নজরদারি চলছে-৩২...
- সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী-প্রশাসনে চারদ...
- পাকিস্তান এগিয়ে কিন্তু বাংলাদেশ তো বিপজ্জনক দল! by...
- ১৮৬৪ সালের ছোট্ট পৌরসভা থেকে যাত্রা
- শেয়ারবাজার-১৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বীমা কম্পান...
- স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স...
- পুনঃপরীক্ষার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন জাফর ইকবাল
- মন্ত্রী হলেন সুরঞ্জিত, ওবায়দুল কাদের-পূর্ণ মন্ত্রী...
- দুই ভাগ করা নগরবাসী মানবে না : খোকা by মোশাররফ বাবলু
- ডিসিসি ভাগের বিল পাস হতে পারে আজ-৯০ দিনের মধ্যে নি...
- বিশিষ্টজনদের কথা-উল্টো পথে হাঁটছে সরকার by পার্থ স...
- ইতিহাস ঐতিহ্যের ঢাকা ভাঙছে by অমিতোষ পাল
- রোববার থেকে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা
-
▼
Nov 29
(80)
-
▼
November
(3116)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment