‘ব্রাজিলকে উপনিবেশ বানিয়ে সম্পদ লুটতে চান ট্রাম্প’

লুলার নির্বাচনি শিবিরের অভিযোগঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করতে এবং ব্রাজিলকে ‘উপনিবেশে’ পরিণত করতে চান। এমন অভিযোগ করেছে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নির্বাচনি প্রচার শিবির। অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত এক টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে এ অভিযোগ করা হয়।

এক মিনিটের ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ট্রাম্পের স্বার্থ এগিয়ে নিতে ব্রাজিলের ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে মার্কিন প্রশাসন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘ফ্লাভিও বলসোনারো ট্রাম্পের প্রার্থী। ট্রাম্প যা চান, তা হলো ব্রাজিলকে উপনিবেশে পরিণত করা, আমাদের সম্পদ নিয়ে যাওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া।’

লুলা নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, বলসোনারো ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে চান। তার ভাষ্য, এমনটা হলে ব্রাজিল আবারও উপনিবেশে পরিণত হবে।

তবে ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত মাসে এক বিবৃতিতে তারা বলেছিল, একটি গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে দুর্বল করার কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’।

৪ অক্টোবর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ব্রাজিলে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লুলা ও তার সমর্থকরা। এর মধ্যে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কও রয়েছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পর ব্রাজিলের নির্বাচনি রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেন লুলা। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, দেশের ভেতর ও বাইরের কোনো ‘গণতন্ত্রের শত্রুকে’ ব্রাজিলের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৩১ ডেমোক্র্যাট সদস্যও ব্রাজিলের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত হস্তক্ষেপ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে ব্রাজিলের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। রুবিওর কাছে তারা ব্রাজিলের নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করার বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চেয়েছেন এবং ১ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক এডেন ভ্যালাদারেস বলেন, বিজ্ঞাপনটি ব্রাজিলের জনগণকে কথিত মার্কিন হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করার প্রচেষ্টার অংশ। তার ভাষ্য, বিষয়টি মোকাবিলায় দেশজুড়ে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে শুধু লুলার বামপন্থি শিবিরই নয়, ডানপন্থি প্রার্থী রেনান সান্তোসও ট্রাম্পের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরল খনিজসম্পদ নিয়ে লাভজনক চুক্তির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অধীনস্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করার বিরোধিতা করেন।

ব্রাজিলের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে প্রচারও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান, দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ব্রাজিলের নির্বাচনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ছবি: রয়টার্স
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ছবি: রয়টার্স