প্রশংসার আশায় জাতিসংঘে পেজার এনে উপহাস পেলেন নেতানিয়াহু

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বেতার টেলিযোগাযোগ যন্ত্র পেজার তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের পেজার হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরতে তিনি এটি প্রদর্শন করেন। তবে তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিরুদ্ধে শোনা যায় দুয়োধ্বনি ও প্রতিবাদ। খবর এনডিটিভির।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু গত তিন বছরে ইসরায়েলকে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ যুদ্ধ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিউ জার্সির সমান আয়তনের একটি দেশ কীভাবে তিন বছর ধরে সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে পারে; এমন প্রশ্নও তোলেন।

বক্তৃতার শুরুতেই অনেক প্রতিনিধি হল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় অধিবেশনকক্ষের বড় একটি অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। নেতানিয়াহুর নিজস্ব প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। অধিবেশন পরিচালনাকারীকে বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। পরে যারা হল ছেড়ে যান, তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

বক্তৃতায় ইরানকে ‘হত্যাকারী একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রেখেছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলকে ধ্বংসের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে ইরানকে এগোতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের পতন খুব বেশি দূরে নয় বলেও মন্তব্য করেন।

তবে ইরান সরকার এখনো ক্ষমতায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের হামলার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু তার বক্তব্যের সময় একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহ সদস্যদের ব্যবহৃত পেজারে বিস্ফোরক সংযোজন করা হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে এসব ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে হিজবুল্লাহর সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হন।

পেজারটি তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিপারগুলোর কথা মনে আছে? আমি আপনাদের বলতে পারি, হিজবুল্লাহ অবশ্যই সেগুলো মনে রেখেছে।’

বক্তৃতায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তুরস্ক ইরান-সমর্থিত হামাসকে সমর্থন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও তীব্র আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উপনিবেশবাদের অভিযোগ তোলার সমালোচনা করে তিনি দেশ দুটির নিজেদের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। ইসরায়েলে নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হওয়ার মধ্যেই তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য দিতে নিউইয়র্কে আসেন। তার সফরে শীর্ষ মার্কিন নেতাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত ছিল না।

সূত্র : এনডিটিভি

জাতিসংঘে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পেজার প্রদর্শন করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি
জাতিসংঘে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পেজার প্রদর্শন করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি