Showing posts with label আব্দুল কাইয়ুম. Show all posts
Showing posts with label আব্দুল কাইয়ুম. Show all posts
Sunday, October 18, 2015
সিঁড়ি ব্যবহার করব, না লিফট? by আব্দুল কাইয়ুম
অফিস
ঘর তিনতলায়, ৬০টি সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয়। মূল গেট দিয়ে ভবনে ঢুকেই পাশে
সিঁড়ি। তিনতলায় উঠলে সামনেই অফিস ঘর। আর লিফটে উঠতে হলে অন্তত ২০০ কদম
হেঁটে যেতে হয়। আবার লিফট থেকে নেমে অফিস ঘরে যেতে আরও ২০০ কদম হাঁটতে হয়।
এখন আমার স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো—সিঁড়ি, না লিফট? সুস্বাস্থ্যের জন্য
প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। এখানে লিফট বা সিঁড়ি,
যেটাই ব্যবহার করি না কেন, দুটিতেই কিছু ব্যায়াম হয়ে যায়। কিন্তু কোনটি
বেশি ভালো? এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ নিতে পারি।
১. স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যায়। দুটিই উপকারী। একেবারে হাঁটাহাঁটি না করার চেয়ে কয়েক শ কদম হাঁটা বা কষ্ট করে কিছু সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, এর যেকোনোটিই ভালো।
২. তবে সম্ভব হলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কারণ, সমতলে হাঁটার চেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বেশি শ্রম দিতে হয়।
৩. সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, সাধারণ গতিতে সমতলে হাঁটার তুলনায় ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে প্রতি মিনিটে প্রায় দ্বিগুণ শক্তি ব্যয় করতে হয়। তার মানে, সিঁড়ি ব্যবহার করলে হাঁটার তুলনায় প্রতি মিনিটে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি ব্যয় হয়।
৪. এমনকি সিঁড়ি দিয়ে নামলে সমতলে হাঁটার তুলনায় আরও বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়।
৫. সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠলে সমতলে হাঁটার তুলনায় হৃদ্যন্ত্রের সক্রিয়তা আরও বেশি কার্যকর হয়। তবে বয়স, হৃদ্যন্ত্রের অবস্থা ও অন্যান্য কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন ভরা পেটে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার বাড়তি পরিশ্রম না করাই ভালো। কারও হার্টের অসুস্থতা থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: দি নিউইয়র্ক টাইমস, কিন্ডল সংস্করণ
২ অক্টোবর ২০১৫
১. স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুটির যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যায়। দুটিই উপকারী। একেবারে হাঁটাহাঁটি না করার চেয়ে কয়েক শ কদম হাঁটা বা কষ্ট করে কিছু সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, এর যেকোনোটিই ভালো।
২. তবে সম্ভব হলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কারণ, সমতলে হাঁটার চেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বেশি শ্রম দিতে হয়।
৩. সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, সাধারণ গতিতে সমতলে হাঁটার তুলনায় ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে প্রতি মিনিটে প্রায় দ্বিগুণ শক্তি ব্যয় করতে হয়। তার মানে, সিঁড়ি ব্যবহার করলে হাঁটার তুলনায় প্রতি মিনিটে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি ব্যয় হয়।
৪. এমনকি সিঁড়ি দিয়ে নামলে সমতলে হাঁটার তুলনায় আরও বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়।
৫. সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠলে সমতলে হাঁটার তুলনায় হৃদ্যন্ত্রের সক্রিয়তা আরও বেশি কার্যকর হয়। তবে বয়স, হৃদ্যন্ত্রের অবস্থা ও অন্যান্য কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন ভরা পেটে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার বাড়তি পরিশ্রম না করাই ভালো। কারও হার্টের অসুস্থতা থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: দি নিউইয়র্ক টাইমস, কিন্ডল সংস্করণ
২ অক্টোবর ২০১৫
Saturday, October 10, 2015
কীভাবে জানব হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? by আব্দুল কাইয়ুম
ঢাকার
একজন সাংবাদিক ২ অক্টোবর রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন
এবং হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স ছিল মাত্র ৪৯ বছর। এ রকম আকস্মিক
হার্ট অ্যাটাকে আগেও অনেকের অকালমৃত্যু হয়েছে। আমরা সবাই শোক জানিয়েছি।
কিন্তু প্রতিবারই সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কার
কথা কি আগে থেকে টের পাওয়া সম্ভব নয়? হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা সম্ভব।
কিছু লক্ষণ থেকে অন্তত দু-চার মাস আগেই নিজে কিছু ধারণা করতে পারেন এবং
তখন থেকেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে চললে হঠাৎ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। আসুন,
জেনে নিই লক্ষণগুলো কী।
১. নিজের অভিজ্ঞতাই বলি। তখন বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। সকালে হাঁটার সময় লক্ষ করি, মধ্যম গতিতে একটানা মিনিট পনেরো হাঁটলে বাঁ হাতের আঙুলের ডগায় একধরনের তীব্র ব্যথা হয়, কিন্তু থামলেই ধীরে ধীরে চলে যায়। এ থেকে আমি ধারণা করি, হৃৎপিণ্ড হয়তো বাড়তি পরিশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারছে না। স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহ থাকলে শরীর অক্সিজেন পায় এবং তার সাহায্যে কোষে সঞ্চিত শর্করা পুড়িয়ে শক্তি অর্জন করে। আমি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যাই। সেখানে ওই সময়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিবুল্লাহ, (বর্তমানে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের প্রধান কার্ডিওলজিস্ট ও হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান) ইটিটি (এক্সারসাইজ টলারেন্স টেস্ট বা স্ট্রেস টেস্ট) করে দেখেন, আমার হার্টের অবস্থা খারাপ। মাস খানেক পর এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডের তিনটি ধমনিতে পাঁচটি ব্লক। অথচ আমি আগে কিছুই বুঝতে পারিনি। দ্রুত বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিমুক্ত হই।
২. ডা. মহিবুল্লাহ বলেন, যদি কখনো বুকে চিনচিন ব্যথা হয়, আবার কিছুক্ষণ পর আপনা-আপনি চলে যায়, অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের জন্য এ রকম হচ্ছে ভেবে বসে থাকা যায় না। এটা অ্যানজাইনার লক্ষণ হতে পারে, যার অর্থ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্তসঞ্চালনের কাজ করার জন্য হৃৎপিণ্ড নিজেই মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় রক্ত পাচ্ছে না। অ্যানজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে।
৩. যদি সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন (শর্টনেস অব ব্রেথ), মুখের নিচের চোয়াল ও গলা ধরে আসে, দম বন্ধ হয়ে আসে, বুক থেকে ছড়িয়ে পড়া হালকা ব্যথা কাঁধ ও বাঁ হাত বেয়ে নামতে থাকে, বুঝতে হবে এটি শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের দিকে যেতে পারে। এ রকম প্রায়ই হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪. বুক ভার, একটা চাপ, মাথা ঝিমঝিম বা সহজেই ক্লান্তি—এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে হার্টের সমস্যা আছে।
৫. সিগারেট, জর্দা, তামাক প্রভৃতি হার্ট অ্যাটাকের একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বদঅভ্যাস ছাড়তে হবে। আর প্রতিদিন একটানা ১০-১৫ মিনিট করে দিনে দু-তিনবার মাঝারি গতিতে হাঁটলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কার কিছু না কিছু পূর্ব লক্ষণ বেশ কিছু সময় আগে থেকেই টের পাওয়া সম্ভব। তখন থেকে সতর্ক হলে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।
১. নিজের অভিজ্ঞতাই বলি। তখন বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। সকালে হাঁটার সময় লক্ষ করি, মধ্যম গতিতে একটানা মিনিট পনেরো হাঁটলে বাঁ হাতের আঙুলের ডগায় একধরনের তীব্র ব্যথা হয়, কিন্তু থামলেই ধীরে ধীরে চলে যায়। এ থেকে আমি ধারণা করি, হৃৎপিণ্ড হয়তো বাড়তি পরিশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারছে না। স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহ থাকলে শরীর অক্সিজেন পায় এবং তার সাহায্যে কোষে সঞ্চিত শর্করা পুড়িয়ে শক্তি অর্জন করে। আমি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যাই। সেখানে ওই সময়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিবুল্লাহ, (বর্তমানে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের প্রধান কার্ডিওলজিস্ট ও হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান) ইটিটি (এক্সারসাইজ টলারেন্স টেস্ট বা স্ট্রেস টেস্ট) করে দেখেন, আমার হার্টের অবস্থা খারাপ। মাস খানেক পর এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডের তিনটি ধমনিতে পাঁচটি ব্লক। অথচ আমি আগে কিছুই বুঝতে পারিনি। দ্রুত বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিমুক্ত হই।
২. ডা. মহিবুল্লাহ বলেন, যদি কখনো বুকে চিনচিন ব্যথা হয়, আবার কিছুক্ষণ পর আপনা-আপনি চলে যায়, অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের জন্য এ রকম হচ্ছে ভেবে বসে থাকা যায় না। এটা অ্যানজাইনার লক্ষণ হতে পারে, যার অর্থ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্তসঞ্চালনের কাজ করার জন্য হৃৎপিণ্ড নিজেই মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় রক্ত পাচ্ছে না। অ্যানজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে।
৩. যদি সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন (শর্টনেস অব ব্রেথ), মুখের নিচের চোয়াল ও গলা ধরে আসে, দম বন্ধ হয়ে আসে, বুক থেকে ছড়িয়ে পড়া হালকা ব্যথা কাঁধ ও বাঁ হাত বেয়ে নামতে থাকে, বুঝতে হবে এটি শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের দিকে যেতে পারে। এ রকম প্রায়ই হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪. বুক ভার, একটা চাপ, মাথা ঝিমঝিম বা সহজেই ক্লান্তি—এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে হার্টের সমস্যা আছে।
৫. সিগারেট, জর্দা, তামাক প্রভৃতি হার্ট অ্যাটাকের একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বদঅভ্যাস ছাড়তে হবে। আর প্রতিদিন একটানা ১০-১৫ মিনিট করে দিনে দু-তিনবার মাঝারি গতিতে হাঁটলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কার কিছু না কিছু পূর্ব লক্ষণ বেশ কিছু সময় আগে থেকেই টের পাওয়া সম্ভব। তখন থেকে সতর্ক হলে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।
Saturday, July 25, 2015
এখন দল বদলের দিন by আব্দুল কাইয়ুম
Saturday, July 25, 2015
Anonymous
আওয়ামী লীগ,
আব্দুল কাইয়ুম,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
প্রথম আলো,
মতামত,
রাজনীতি
![]() |
| রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নাশকতার আসামিকে ফুল দিয়ে দলে বরণ করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী |
দিন
বদলের সওগাত নিয়ে ছয়-সাত বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। বদল এর
মধ্যে অবশ্য বেশ কিছু হয়েছে। বিশেষ করে বলতে হয় ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা।
সরকারি অফিসের বেশ কিছু সেবা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে পাওয়া যায়। ব্যাংক
লেনদেন, কেনাকাটা, ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে অনলাইনে টিকিট কিনতে পারার চেয়ে
আনন্দের আর কী থাকতে পারে? পরীক্ষার্থীদের ফল জানতেও এখন আর স্কুল-কলেজের
নোটিশ বোর্ড দেখার জন্য হয়রান হতে হয় না। স্মার্টফোনে এখন ফেসবুক থেকে
স্কাইপ—সবই চলে।
তবে এখন দিন বদলে একটা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে—দল বদল। ‘দিন বদল’-এর প্রথম শব্দটা বদলে গেছে। দিন-এর হ্রস্ব ই-কার বাদ পড়ে গেছে, আর শেষ অক্ষর, ন-এর পরিবর্তে ‘ল’ হয়ে গেছে। ফলে দিন বদলের পাশাপাশি শুরু হয়ে গেছে দল বদল!
চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতাকে গত রোববার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি রাউজানের একজন যুবলীগের কর্মী হত্যার আসামি। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি আরও অনেক মামলা রয়েছে। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর বিকেলে তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফুলের তোড়ায় তিনি দল বদল করেন। বলা হয়, তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন!
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চারঘাটে ভোটকেন্দ্র পোড়ানো মামলার আসামি ও কৃষক দলের এক নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। শুধু বিএনপির নয়, জামায়াতের একজন সমর্থক-কর্মীও একই সময়ে তাঁদের দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
যেখানে সরকার পেট্রলবোমা-ককটেল, জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে এত সোচ্চার, সেখানে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী কীভাবে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের যোগদান অনুমোদন করলেন?
অবশ্য দল থেকে বলা হচ্ছে, মামলা থাকলে তা নিজস্ব গতিতে চলবে। তাহলে কিসের আশায় ওরা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যাচ্ছে? আইন তো নিজস্ব গতিতে চলবেই। কিন্তু সরকারপক্ষ যদি উৎসাহী না হয়, তাহলে সেই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কি কারও সন্দেহ থাকতে পারে? শেষ পর্যন্ত মামলাগুলো ফাইল-চাপা পড়ে যায়।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় এ রকম দল বদলের আরও খবর পাওয়া গেছে। মামলা, গ্রেপ্তারের হুমকি-ধমকি, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপ এবং এ রকম আরও অনেক সমস্যার মুখে বিএনপি ও জামায়াত থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগে যাচ্ছেন। এভাবে তাঁরা আপাতত গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেওয়া হচ্ছে না। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে এসব বিষয়ে সাবধান থাকার কথা বলেছিলেন। ওই পর্যন্তই। এটা যে খারাপ, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী একটি দল যে এ রকম সুবিধাবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারে না, এ বিষয়ে তো দলের সব পর্যায়ের নেতৃত্বের সচেতন থাকার কথা। কিন্তু না, সে রকম কিছু গভীর চিন্তাভাবনা চোখে পড়ল না।
প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিনিধির কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলাম, এসব দল বদলের প্রতিক্রিয়া কী? তিনি জানালেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দারুণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, যেখানে বিএনপি-জামায়াত এত সন্ত্রাস করল, বোমা মেরে আওয়ামী লীগের লোকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করল, সেখানে আজ আবার তাঁদেরই কেন দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে? সে সময় একজন ভ্যানচালকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর হাত ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখন তো তিনি ভালোভাবে ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি দেখছেন, তাঁর জীবনটা নষ্ট করে দেওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সরকারি দলের আনুকূল্য পাচ্ছেন। সেই ভ্যানচালকের মনের অবস্থাটা ভেবে দেখুন! সহিংসতার শিকার এই ভ্যানচালককে কী সান্ত্বনা দেবে আওয়ামী লীগ?
দল বদল নতুন কিছু নয়। প্রচলিত রাজনীতিতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দলের কিছু নেতা-কর্মী দল বদলান। নিশ্চয়ই কিছু সুবিধা পান। না হলে কেন যাবেন এক দল ছেড়ে অন্য দলে। কিন্তু দল বদলেরও কিছু নিয়ম আছে। অন্য দল ছেড়ে আসা একজন কর্মীকে চট করে দলে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগেরই গঠনতন্ত্রে বলা আছে, শুধু ফুলের তোড়া দিয়েই কাজ হাসিল হবে না, তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদ নিতে হবে। ভিন্ন দল থেকে এসে কমিটিতে যেতে হলে তাঁকে অন্তত দুই বছর দলের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ওপরের কমিটির অনুমোদন লাগবে ইত্যাদি। কিন্তু নিচের দিকে কে মানেন এসব নীতিমালা? বরং দলের মধ্যে নাম কেনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী অন্য দলের নেতাদের টানেন। দল ভারী করার কথা বলেন। আবার বিএনপি-জামায়াতের লোকজন এখন বিপদে আছেন বলে সুযোগ নেন। কদিনের জন্য দল বদল করেন। অবস্থা ঘুরে গেলে হয়তো তাঁরাও আবার ঘুরে যাবেন।
ষাটের দশকে দেখেছি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আইয়ুব-মোনায়েমের শাসনে অনেক নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করে রাজনীতি করে গেছেন। দলের ও দেশের জন্য তাঁদের অবদান ছিল অসামান্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের বেশির ভাগ সময়ই জেল-জুলুম সহ্য করে বাঙালির স্বাধিকারের জন্য লড়াই করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। তাঁর হাতে গড়া দলের আদর্শ ও ত্যাগের কথাগুলো এখন দলের অনেক নেতা-কর্মী হারিয়ে ফেলছেন। যখন জামায়াতের লোকজনকে দলে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসা হয়, তখন আদর্শ কোথায় থাকে?
আদর্শের সংকট দেখা দিলে আদর্শবাদী নেতা-কর্মীরা পেছনের সারিতে পড়ে যান। এটা দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সুযোগ–সন্ধানীরা তখন দলের মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন। আজ যে বুয়েট ক্যানটিনে ছাত্রলীগের নেতারা চাঁদাবাজি করতে যান, তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা ফাউ খাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মারামারি বাধান। গাড়ি ভাঙচুর করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেন। এগুলো সেই ধরনের বিপর্যয়ের লক্ষণ। তাই দলকে এসব ব্যাপারে খুব দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
আজ দেশে কার্যকর বিরোধী দলকে বলতে গেলে অস্তিত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির মূল নেতাদের কেউই আজ সক্রিয় রাজনীতি করতে পারছেন না। বেশির ভাগ নেতাকেই বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। অন্য যে কজন বাইরে আছেন, তাঁদের ওপরও রয়েছে নানা চাপ। ভয়ভীতি। তাঁদের কেউই প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিতে পারছেন না। আর সংসদের কথা না বলাই ভালো। সেখানে যে বিরোধী দল আছে, তা তো সরকারেরই আশীর্বাদপুষ্ট, সরকারেরই বর্ধিতাংশ মাত্র।
ফলে বিএনপির মধ্যে নেমেছে হতাশা। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ রকম হতাশা বেশি। তাঁদের কেউ কেউ হয়তো আপাতত আওয়ামী লীগে যোগদান করাকেই শ্রেয় মনে করছেন।
দমন-পীড়ন করে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা বাংলাদেশে কখনো টেকেনি। বিএনপিও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালিয়ে নিষ্ক্রিয় করে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু তার ফল কী হয়েছে? আওয়ামী লীগের মতো এ রকম একটা দল, তৃণমূল পর্যায়ে যাদের রয়েছে দৃঢ় ভিত্তি, তাদের শুধু জেল-জুলুম-হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করা যায় না।
আজ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। তারা যদি বিএনপির মতো একই কায়দা অনুসরণ করে, তা যে বুমেরাং হবে না, তা কে বলতে পারে? বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগ দল ভারী করতে পারবে না। বরং এরা একদিন দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
দল বদল যে দিন বদলের পথে বাধা, আওয়ামী লীগ সেটা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, ততই মঙ্গল।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
তবে এখন দিন বদলে একটা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে—দল বদল। ‘দিন বদল’-এর প্রথম শব্দটা বদলে গেছে। দিন-এর হ্রস্ব ই-কার বাদ পড়ে গেছে, আর শেষ অক্ষর, ন-এর পরিবর্তে ‘ল’ হয়ে গেছে। ফলে দিন বদলের পাশাপাশি শুরু হয়ে গেছে দল বদল!
চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতাকে গত রোববার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি রাউজানের একজন যুবলীগের কর্মী হত্যার আসামি। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি আরও অনেক মামলা রয়েছে। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর বিকেলে তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফুলের তোড়ায় তিনি দল বদল করেন। বলা হয়, তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন!
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চারঘাটে ভোটকেন্দ্র পোড়ানো মামলার আসামি ও কৃষক দলের এক নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। শুধু বিএনপির নয়, জামায়াতের একজন সমর্থক-কর্মীও একই সময়ে তাঁদের দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
যেখানে সরকার পেট্রলবোমা-ককটেল, জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে এত সোচ্চার, সেখানে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী কীভাবে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের যোগদান অনুমোদন করলেন?
অবশ্য দল থেকে বলা হচ্ছে, মামলা থাকলে তা নিজস্ব গতিতে চলবে। তাহলে কিসের আশায় ওরা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যাচ্ছে? আইন তো নিজস্ব গতিতে চলবেই। কিন্তু সরকারপক্ষ যদি উৎসাহী না হয়, তাহলে সেই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কি কারও সন্দেহ থাকতে পারে? শেষ পর্যন্ত মামলাগুলো ফাইল-চাপা পড়ে যায়।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় এ রকম দল বদলের আরও খবর পাওয়া গেছে। মামলা, গ্রেপ্তারের হুমকি-ধমকি, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপ এবং এ রকম আরও অনেক সমস্যার মুখে বিএনপি ও জামায়াত থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগে যাচ্ছেন। এভাবে তাঁরা আপাতত গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেওয়া হচ্ছে না। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে এসব বিষয়ে সাবধান থাকার কথা বলেছিলেন। ওই পর্যন্তই। এটা যে খারাপ, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী একটি দল যে এ রকম সুবিধাবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারে না, এ বিষয়ে তো দলের সব পর্যায়ের নেতৃত্বের সচেতন থাকার কথা। কিন্তু না, সে রকম কিছু গভীর চিন্তাভাবনা চোখে পড়ল না।
প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিনিধির কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলাম, এসব দল বদলের প্রতিক্রিয়া কী? তিনি জানালেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দারুণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, যেখানে বিএনপি-জামায়াত এত সন্ত্রাস করল, বোমা মেরে আওয়ামী লীগের লোকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করল, সেখানে আজ আবার তাঁদেরই কেন দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে? সে সময় একজন ভ্যানচালকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর হাত ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখন তো তিনি ভালোভাবে ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তিনি দেখছেন, তাঁর জীবনটা নষ্ট করে দেওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সরকারি দলের আনুকূল্য পাচ্ছেন। সেই ভ্যানচালকের মনের অবস্থাটা ভেবে দেখুন! সহিংসতার শিকার এই ভ্যানচালককে কী সান্ত্বনা দেবে আওয়ামী লীগ?
দল বদল নতুন কিছু নয়। প্রচলিত রাজনীতিতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দলের কিছু নেতা-কর্মী দল বদলান। নিশ্চয়ই কিছু সুবিধা পান। না হলে কেন যাবেন এক দল ছেড়ে অন্য দলে। কিন্তু দল বদলেরও কিছু নিয়ম আছে। অন্য দল ছেড়ে আসা একজন কর্মীকে চট করে দলে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগেরই গঠনতন্ত্রে বলা আছে, শুধু ফুলের তোড়া দিয়েই কাজ হাসিল হবে না, তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদ নিতে হবে। ভিন্ন দল থেকে এসে কমিটিতে যেতে হলে তাঁকে অন্তত দুই বছর দলের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ওপরের কমিটির অনুমোদন লাগবে ইত্যাদি। কিন্তু নিচের দিকে কে মানেন এসব নীতিমালা? বরং দলের মধ্যে নাম কেনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী অন্য দলের নেতাদের টানেন। দল ভারী করার কথা বলেন। আবার বিএনপি-জামায়াতের লোকজন এখন বিপদে আছেন বলে সুযোগ নেন। কদিনের জন্য দল বদল করেন। অবস্থা ঘুরে গেলে হয়তো তাঁরাও আবার ঘুরে যাবেন।
ষাটের দশকে দেখেছি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আইয়ুব-মোনায়েমের শাসনে অনেক নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করে রাজনীতি করে গেছেন। দলের ও দেশের জন্য তাঁদের অবদান ছিল অসামান্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের বেশির ভাগ সময়ই জেল-জুলুম সহ্য করে বাঙালির স্বাধিকারের জন্য লড়াই করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। তাঁর হাতে গড়া দলের আদর্শ ও ত্যাগের কথাগুলো এখন দলের অনেক নেতা-কর্মী হারিয়ে ফেলছেন। যখন জামায়াতের লোকজনকে দলে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসা হয়, তখন আদর্শ কোথায় থাকে?
আদর্শের সংকট দেখা দিলে আদর্শবাদী নেতা-কর্মীরা পেছনের সারিতে পড়ে যান। এটা দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সুযোগ–সন্ধানীরা তখন দলের মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন। আজ যে বুয়েট ক্যানটিনে ছাত্রলীগের নেতারা চাঁদাবাজি করতে যান, তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা ফাউ খাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মারামারি বাধান। গাড়ি ভাঙচুর করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেন। এগুলো সেই ধরনের বিপর্যয়ের লক্ষণ। তাই দলকে এসব ব্যাপারে খুব দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
আজ দেশে কার্যকর বিরোধী দলকে বলতে গেলে অস্তিত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির মূল নেতাদের কেউই আজ সক্রিয় রাজনীতি করতে পারছেন না। বেশির ভাগ নেতাকেই বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। অন্য যে কজন বাইরে আছেন, তাঁদের ওপরও রয়েছে নানা চাপ। ভয়ভীতি। তাঁদের কেউই প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিতে পারছেন না। আর সংসদের কথা না বলাই ভালো। সেখানে যে বিরোধী দল আছে, তা তো সরকারেরই আশীর্বাদপুষ্ট, সরকারেরই বর্ধিতাংশ মাত্র।
ফলে বিএনপির মধ্যে নেমেছে হতাশা। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ রকম হতাশা বেশি। তাঁদের কেউ কেউ হয়তো আপাতত আওয়ামী লীগে যোগদান করাকেই শ্রেয় মনে করছেন।
দমন-পীড়ন করে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা বাংলাদেশে কখনো টেকেনি। বিএনপিও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালিয়ে নিষ্ক্রিয় করে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু তার ফল কী হয়েছে? আওয়ামী লীগের মতো এ রকম একটা দল, তৃণমূল পর্যায়ে যাদের রয়েছে দৃঢ় ভিত্তি, তাদের শুধু জেল-জুলুম-হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করা যায় না।
আজ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। তারা যদি বিএনপির মতো একই কায়দা অনুসরণ করে, তা যে বুমেরাং হবে না, তা কে বলতে পারে? বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগ দল ভারী করতে পারবে না। বরং এরা একদিন দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
দল বদল যে দিন বদলের পথে বাধা, আওয়ামী লীগ সেটা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, ততই মঙ্গল।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Monday, July 20, 2015
ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লাঠ্যৌষধি by আব্দুল কাইয়ুম
Monday, July 20, 2015
Anonymous
আব্দুল কাইয়ুম,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
নারী ধর্ষণ,
প্রথম আলো,
মতামত,
যৌন নির্যাতন
খাস
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘মাইরের ওপর ওষুধ নাই’! আর একটু ভদ্র বাংলায় বলে
‘লাঠ্যৌষধি’। প্রায় শতবর্ষ পুরোনো এক বাংলা অভিধানেও আমি এই লাঠ্যৌষধি
শব্দটি পেয়েছি। তার মানে, ওষুধটি বহু বছরের পরীক্ষিত। এটা যদি ফল না দিত,
তাহলে বনেদি অভিধানে এর উল্লেখ থাকত না। এখন যে হারে নারী নির্যাতন ও
ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে
থেকে যাচ্ছে, বীরদর্পে সমাজে চলছে-ফিরছে, তাতে মনে হয় এই বাঙালি সমাজে
প্রচলিত ওষুধটি ছাড়া বোধ হয় কাজ হবে না।
তবে প্রথমেই পরিষ্কার করে নিই, আক্ষরিক অর্থে এই ওষুধ প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে না। কোনো নাগরিকেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। প্রকৃতপক্ষে, লাঠিপেটা না করেও লাঠ্যৌষধি প্রয়োগ করা চলে এবং তাতে ফলও পাওয়া যায়। আমাদের দেশেই ইদানীং এ রকম কিছু মোক্ষম উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। সে কথাতেই আসছি।
পুলিশ যখন নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের ধরল না, অথবা পুলিশের ভাষায়, কারও সহায়তা না পাওয়ায় ধরতে পারল না, তখন সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। কারণ ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা তো কিছু সাহস দেখিয়ে অন্তত একজন নির্যাতনকারীকে পুলিশের হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে ‘পালিয়ে’ গেল! তারপর প্রতিবাদ করতে গেলে ছাত্র-তরুণদের বিভিন্ন সময়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হয়েছে।
মানুষের প্রতিবাদ চলতে থাকায় একপর্যায়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু বখাটের ছবি ছাপিয়ে ওই অপরাধীদের ‘ধরিয়ে দিলে পুরস্কার’ ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। আজ পর্যন্ত কাউকে ধরা হয়নি, কেউ তাদের ধরিয়ে দিয়ে পুরস্কার লাভও করেনি। এটা পরিষ্কার যে লোক দেখানো পদক্ষেপে কোনো কাজ হবে না।
এ অবস্থায় দেশের নাগরিক সমাজের নেতা ও সমাজের বিবেক বলে সমাদৃত বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বিবৃতি দিলেন, প্রতিবাদ জানালেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। খুবই অবাক ব্যাপার! এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রকম ধারণা হতে পারে যে ওই বখাটেরা বোধ হয় ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদপুষ্ট কেউ হবে। সে জন্যই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে! সরকারের জন্য এ রকম পরিস্থিতি বিব্রতকর।
পুলিশ তো এতটা অক্ষম নয়। তারা সমাজবিরোধী অপরাধীদের টপাটপ ধরে ফেলছে। আইএসের সমন্বয়কারী জঙ্গি সন্ত্রাসীদের অনায়াসে ধরে ফেলছে। জাল টাকার ব্যবসায়ী, ইন্টারনেটে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে তাদের জুড়ি
নেই। পুলিশের এই সাফল্য ছোট করে দেখা যায় না। বিলেত-আমেরিকাও বাংলাদেশে উগ্রবাদী জঙ্গি নেতাদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের প্রশংসা করছে। প্রকৃত দক্ষতা না থাকলে এ রকম প্রশংসাপত্র পাওয়ার কথা নয়। তাহলে কেন আজও সেই নববর্ষে নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের কাউকে ধারা গেল না? কেন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না?
এ ধরনের পরিস্থিতি সমাজে বখাটেদের উৎসাহিত করে। ওরা সুযোগ পেয়ে নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো আরও জোরেশোরে চালিয়ে যাওয়ার সাহস পায়। পত্রপত্রিকা খুললে প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর দেখা যায়। প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুর বাসায় নিয়ে কোনো নারীকে গণধর্ষণ, সেই সব ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এটা উদ্বেগজনক।
কোনো কোনো ঘটনায় অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বিচার ঝুলে থাকে। দুর্বলভাবে মামলা সাজানো হয় বলে অপরাধীদের সাজা হয় না। একসময় আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায়। মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে।
তাহলে কি এই সামাজিক অরাজকতা নির্বিবাদে চলতেই থাকবে? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে রাজাকার-আলবদরেরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, নারী ধর্ষণ-নির্যাতন চালিয়েছিল, আজ ৪৪ বছর পর তাদের বিচারের রায় হচ্ছে, রায় কার্যকর হচ্ছে। রক্তস্নাত সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ কিছু সমাজবিরোধী বখাটে নারী নির্যাতন করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তাহলে উপায় কী? উপায় একটা আছে। সর্বত্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৯৮৩-৮৪ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের সময় মেয়েদের বিভিন্ন স্কুলের আশপাশে বখাটেদের অত্যাচার বেড়ে উঠেছিল। সে সময় এলাকার ছাত্র-তরুণ-যুবকেরা কমিটি গঠন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এলাকায় এলাকায় সেই কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ করে বখাটেদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়। তখন আমাদের হাতে লাঠি ছিল না, কিন্তু বুকে ছিল বখাটে দমনের দৃঢ় প্রত্যয়। সেটা টের পেয়ে সেদিন বখাটেরা কেটে পড়েছিল। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার সাহস তারা হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ থানা-পুলিশকেও সহায়তা করে। বখাটেদের কাছে একটা বিপৎসংকেত যায়। তারা বুঝতে পারে, মেয়েদের নির্যাতন করে ছাড় পাওয়া যাবে না।
যারা নারী ধর্ষণ–নির্যাতন করে, তাদের কোনো দল নেই। তারা সমাজের নিকৃষ্ট অপরাধী। তাদের অনাচার বন্ধ করতে নাটোরের লাঠি–বাঁশির মতো লাঠ্যৌষধি দরকার উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে কিছুদিন রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। রাতে কিছু এলাকায় চুরি-ডাকাতির অভিযোগ আসতে থাকে। কয়েকটি এলাকায় জনমনে ভয়ভীতি ছড়ানোর জন্য একটি মহল তৎপর হয়ে ওঠে। তখন অবশ্য নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিল বিরল। কিন্তু অপরাধপ্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ টিম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। তখন আমরা কয়েকজন তরুণ ছাত্র ঢাকায় অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের মহল্লায়ও একটি প্রতিরোধ ব্রিগেড গড়ে তুলি। পাড়ার মুরব্বিরাও এগিয়ে আসেন। একজন নিজের বাসার গ্যারেজে সমন্বয়কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ করে দেন। আমরা সারা রাত বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে নিজেদের মহল্লা সুরক্ষার ব্যবস্থা করি। থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবেই এই সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা সেদিন রেখেছিল।
কেউ হয়তো বলবেন, সেসব পুরোনো দিনের কথা। তখন ছিল বিপ্লবী পরিস্থিতি। আজ ওসব হবে-টবে না। কিন্তু না, জীবনে সাফল্য লাভের কোনো ঘটনাই কখনো তাৎপর্যহীন হয়ে যায় না। ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ আছে।
ধরা যাক ইদানীংকালে নাটোরের ‘লাঠি-বাঁশি কর্মসূচির’ কথা। নাটোরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এলাকার ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সমন্বয়ে শুরু হয় ‘লাঠি-বাঁশি কর্মসূচি’। নেতৃত্বে ছিলেন মো. আব্দুস সালাম। গতকাল তাঁর সঙ্গে আমি মুঠোফোনে কথা বলি। তিনি বলেন, ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে। সময়টি লক্ষ করুন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু আর পরবর্তী বিএনপি সরকারের সময় চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন। কৌশলটি খুব সহজ। সবার হাতের কাছে লাঠি ও বাঁশি মজুত থাকে। কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস করতে এলে আক্রান্ত ব্যক্তি বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। সবাই রাস্তায় নেমে আসেন। অপরাধী পালানোর পথ পায় না। আব্দুস সালাম বলেন, সমিতির কর্মসূচি এখনো চলছে। এখনো কোথাও ডাকাতি হলে বাঁশি বেজে ওঠে। এলাকা এখন শান্ত।
প্রশাসনও নাটোরের লাঠি–বাঁশি কর্মসূচিকে উচ্চ মূল্যায়ন করে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নাটোরের বিদায়ী পুলিশ সুপার সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য লাঠি–বাঁশি কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ২০০০ সালে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার উত্তরাঞ্চলীয় ১৬টি জেলায় লাঠি–বাঁশি কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে সালাম সাহেব জানান।
আজ যারা নারী ধর্ষণ-নির্যাতন করে, তাদের কোনো দল নেই। তারা সমাজের নিকৃষ্ট অপরাধী। তাদের অনাচার বন্ধ করতে নাটোরের লাঠি–বাঁশির মতো লাঠ্যৌষধি দরকার।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail. com
তবে প্রথমেই পরিষ্কার করে নিই, আক্ষরিক অর্থে এই ওষুধ প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে না। কোনো নাগরিকেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। প্রকৃতপক্ষে, লাঠিপেটা না করেও লাঠ্যৌষধি প্রয়োগ করা চলে এবং তাতে ফলও পাওয়া যায়। আমাদের দেশেই ইদানীং এ রকম কিছু মোক্ষম উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। সে কথাতেই আসছি।
পুলিশ যখন নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের ধরল না, অথবা পুলিশের ভাষায়, কারও সহায়তা না পাওয়ায় ধরতে পারল না, তখন সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। কারণ ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা তো কিছু সাহস দেখিয়ে অন্তত একজন নির্যাতনকারীকে পুলিশের হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে ‘পালিয়ে’ গেল! তারপর প্রতিবাদ করতে গেলে ছাত্র-তরুণদের বিভিন্ন সময়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হয়েছে।
মানুষের প্রতিবাদ চলতে থাকায় একপর্যায়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু বখাটের ছবি ছাপিয়ে ওই অপরাধীদের ‘ধরিয়ে দিলে পুরস্কার’ ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। আজ পর্যন্ত কাউকে ধরা হয়নি, কেউ তাদের ধরিয়ে দিয়ে পুরস্কার লাভও করেনি। এটা পরিষ্কার যে লোক দেখানো পদক্ষেপে কোনো কাজ হবে না।
এ অবস্থায় দেশের নাগরিক সমাজের নেতা ও সমাজের বিবেক বলে সমাদৃত বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বিবৃতি দিলেন, প্রতিবাদ জানালেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। খুবই অবাক ব্যাপার! এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রকম ধারণা হতে পারে যে ওই বখাটেরা বোধ হয় ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদপুষ্ট কেউ হবে। সে জন্যই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে! সরকারের জন্য এ রকম পরিস্থিতি বিব্রতকর।
পুলিশ তো এতটা অক্ষম নয়। তারা সমাজবিরোধী অপরাধীদের টপাটপ ধরে ফেলছে। আইএসের সমন্বয়কারী জঙ্গি সন্ত্রাসীদের অনায়াসে ধরে ফেলছে। জাল টাকার ব্যবসায়ী, ইন্টারনেটে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে তাদের জুড়ি
নেই। পুলিশের এই সাফল্য ছোট করে দেখা যায় না। বিলেত-আমেরিকাও বাংলাদেশে উগ্রবাদী জঙ্গি নেতাদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের প্রশংসা করছে। প্রকৃত দক্ষতা না থাকলে এ রকম প্রশংসাপত্র পাওয়ার কথা নয়। তাহলে কেন আজও সেই নববর্ষে নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের কাউকে ধারা গেল না? কেন ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না?
এ ধরনের পরিস্থিতি সমাজে বখাটেদের উৎসাহিত করে। ওরা সুযোগ পেয়ে নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো আরও জোরেশোরে চালিয়ে যাওয়ার সাহস পায়। পত্রপত্রিকা খুললে প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর দেখা যায়। প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুর বাসায় নিয়ে কোনো নারীকে গণধর্ষণ, সেই সব ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এটা উদ্বেগজনক।
কোনো কোনো ঘটনায় অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বিচার ঝুলে থাকে। দুর্বলভাবে মামলা সাজানো হয় বলে অপরাধীদের সাজা হয় না। একসময় আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায়। মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে।
তাহলে কি এই সামাজিক অরাজকতা নির্বিবাদে চলতেই থাকবে? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে রাজাকার-আলবদরেরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, নারী ধর্ষণ-নির্যাতন চালিয়েছিল, আজ ৪৪ বছর পর তাদের বিচারের রায় হচ্ছে, রায় কার্যকর হচ্ছে। রক্তস্নাত সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ কিছু সমাজবিরোধী বখাটে নারী নির্যাতন করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তাহলে উপায় কী? উপায় একটা আছে। সর্বত্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৯৮৩-৮৪ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের সময় মেয়েদের বিভিন্ন স্কুলের আশপাশে বখাটেদের অত্যাচার বেড়ে উঠেছিল। সে সময় এলাকার ছাত্র-তরুণ-যুবকেরা কমিটি গঠন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এলাকায় এলাকায় সেই কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ করে বখাটেদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়। তখন আমাদের হাতে লাঠি ছিল না, কিন্তু বুকে ছিল বখাটে দমনের দৃঢ় প্রত্যয়। সেটা টের পেয়ে সেদিন বখাটেরা কেটে পড়েছিল। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার সাহস তারা হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ থানা-পুলিশকেও সহায়তা করে। বখাটেদের কাছে একটা বিপৎসংকেত যায়। তারা বুঝতে পারে, মেয়েদের নির্যাতন করে ছাড় পাওয়া যাবে না।
যারা নারী ধর্ষণ–নির্যাতন করে, তাদের কোনো দল নেই। তারা সমাজের নিকৃষ্ট অপরাধী। তাদের অনাচার বন্ধ করতে নাটোরের লাঠি–বাঁশির মতো লাঠ্যৌষধি দরকার উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে কিছুদিন রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। রাতে কিছু এলাকায় চুরি-ডাকাতির অভিযোগ আসতে থাকে। কয়েকটি এলাকায় জনমনে ভয়ভীতি ছড়ানোর জন্য একটি মহল তৎপর হয়ে ওঠে। তখন অবশ্য নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিল বিরল। কিন্তু অপরাধপ্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ টিম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। তখন আমরা কয়েকজন তরুণ ছাত্র ঢাকায় অন্যান্য এলাকার মতো আমাদের মহল্লায়ও একটি প্রতিরোধ ব্রিগেড গড়ে তুলি। পাড়ার মুরব্বিরাও এগিয়ে আসেন। একজন নিজের বাসার গ্যারেজে সমন্বয়কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ করে দেন। আমরা সারা রাত বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে নিজেদের মহল্লা সুরক্ষার ব্যবস্থা করি। থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবেই এই সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা সেদিন রেখেছিল।
কেউ হয়তো বলবেন, সেসব পুরোনো দিনের কথা। তখন ছিল বিপ্লবী পরিস্থিতি। আজ ওসব হবে-টবে না। কিন্তু না, জীবনে সাফল্য লাভের কোনো ঘটনাই কখনো তাৎপর্যহীন হয়ে যায় না। ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ আছে।
ধরা যাক ইদানীংকালে নাটোরের ‘লাঠি-বাঁশি কর্মসূচির’ কথা। নাটোরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এলাকার ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সমন্বয়ে শুরু হয় ‘লাঠি-বাঁশি কর্মসূচি’। নেতৃত্বে ছিলেন মো. আব্দুস সালাম। গতকাল তাঁর সঙ্গে আমি মুঠোফোনে কথা বলি। তিনি বলেন, ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে। সময়টি লক্ষ করুন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু আর পরবর্তী বিএনপি সরকারের সময় চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন। কৌশলটি খুব সহজ। সবার হাতের কাছে লাঠি ও বাঁশি মজুত থাকে। কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস করতে এলে আক্রান্ত ব্যক্তি বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। সবাই রাস্তায় নেমে আসেন। অপরাধী পালানোর পথ পায় না। আব্দুস সালাম বলেন, সমিতির কর্মসূচি এখনো চলছে। এখনো কোথাও ডাকাতি হলে বাঁশি বেজে ওঠে। এলাকা এখন শান্ত।
প্রশাসনও নাটোরের লাঠি–বাঁশি কর্মসূচিকে উচ্চ মূল্যায়ন করে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নাটোরের বিদায়ী পুলিশ সুপার সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য লাঠি–বাঁশি কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ২০০০ সালে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার উত্তরাঞ্চলীয় ১৬টি জেলায় লাঠি–বাঁশি কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে সালাম সাহেব জানান।
আজ যারা নারী ধর্ষণ-নির্যাতন করে, তাদের কোনো দল নেই। তারা সমাজের নিকৃষ্ট অপরাধী। তাদের অনাচার বন্ধ করতে নাটোরের লাঠি–বাঁশির মতো লাঠ্যৌষধি দরকার।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail. com
Thursday, July 2, 2015
বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : তোফায়েল আহমেদ by আব্দুল কাইয়ুম ও ফখরুল ইসলাম
![]() |
| তোফায়েল আহমেদ |
চারদেশীয়
মোটরযান চুক্তির পর আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি
হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রথম আলো মুখোমুখি হয় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম ও ফখরুল ইসলাম
প্রথম আলো : আগেরবার যখন মন্ত্রী ছিলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চুক্তি করেও কিন্তু সফল হতে পারেননি। এখন করলেন চারদেশীয় চুক্তি। এবারও কি আগের মতো সমস্যা হতে পারে?
তোফায়েল আহমেদ: আসলে ১৯৯৬ সালে আমি যখন বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আমি মিলে পঞ্চগড়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর উদ্বোধন করেছিলাম। পরে সেটা কার্যকর হয়নি। কারণ, ভারতের সঙ্গে তখন সংযুক্তির (কানেকটিভিটি) চুক্তি ছিল না। এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সেই সমস্যার নিরসন হয়েছে। এখন সেই সমস্যা নেই।
প্রথম আলো : ওই সময় নেপালের ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা না থাকায় পণ্য পাঠানো সমস্যা।
তোফায়েল আহমেদ: না। আসল কথা, তখন ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল না। কিন্তু এবার যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ভারত, নেপাল ও ভুটানে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে। শুধু তা-ই নয়, এখান থেকে যাত্রীরাও তিন দেশে যাওয়া-আসা করতে পারবেন।
প্রথম আলো : আমাদের পণ্য যাবে, ওদের পণ্য আসবে, নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেবে না?
তোফায়েল আহমেদ: এখন তো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। আমাদের অংশে যেমন নিরাপত্তার সমস্যা নেই, তাদের অংশেও নেই। তবে এটা ঠিক, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
প্রথম আলো : ব্যাপারটা কি এমন যে আমাদের রাস্তার উন্নয়ন আমরা করব, আর তারা করবে তাদেরটা?
তোফায়েল আহমেদ: ঠিক তা-ই।
প্রথম আলো : আগে বলা হতো নেপাল ও ভুটানের পণ্য মংলা বন্দর দিয়ে আসবে?
তোফায়েল আহমেদ : আমাদের দুইটা বন্দর। তিন দেশই এ দুই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। তাদের থেকে আমরা রাজস্ব পাব। সিঙ্গাপুরের উন্নতি ও লাভবান হওয়ার কারণ হচ্ছে দেশটির বন্দর বিশ্বের সবাই ব্যবহার করতে পারে। শ্রীলঙ্কাও অন্যদেরও বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে লাভবান হচ্ছে। বন্দর শুধু আটকে রাখলে হবে না। তাই বন্দরেরও আমরা আধুনিকায়ন করছি।
প্রথম আলো : আগে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, নেপাল-ভুটানের জন্য মংলা ব্যবহৃত হলে পশ্চিম বাংলার বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
তোফায়েল আহমেদ : না, তা হবে না। যেমন পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছি ভারতের কাছ থেকে। চারদেশীয় চুক্তি যদি কাজে লাগাতে পারি, আমরা লাভবান হব।
প্রথম আলো : চুক্তির ফলে লাভবান বেশি হবে কারা?
তোফায়েল আহমেদ : বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। আজকে বিশ্বায়ন ও উদারীকরণের যুগে সংযুক্তি ছাড়া কোনো দেশেরই ব্যবসা-বাণিজ্য সফলতা লাভ করে না। এখন আমাদের চার দেশের মধ্যে সংযুক্তি হয়ে গেল। তারপর আমরা জোর দেব বিসিআইএমের ওপর। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার—এই চার দেশের অর্থনৈতিক করিডর থেকেও আমরা সাংঘাতিক লাভবান হব। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনাও চলছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক, এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) বিনিয়োগ করবে।
প্রথম আলো : অনেকের সন্দেহ যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা আসলেই লাভবান হব কি না?
তোফায়েল আহমেদ : যারা এ দেশে ভারতবিরোধী রাজনীতি করে, তারাই এসব কথা বলে। তাদের দল বা গোষ্ঠীবিশেষের জন্মই হয়েছে ভারতবিরোধিতা ও মৌলবাদিতার ওপর ভিত্তি করে। এগুলো আসলে স্রেফ ভারতবিরোধিতা।
নরেন্দ্র মোদির সফর দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ৪১ বছরেও যে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হয়নি, সম্প্রতি ভারত তা সর্বসম্মতভাবে করেছে। তারপর আছে সমুদ্রসীমা। সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা করতে আমরা ইতস্তত করিনি। ভুটান ও নেপালে আমরা সরাসরি যেতে পারতাম না। আজ সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা বিরোধিতা করে, তারা কেন গঙ্গার পানি আনতে পারল না? শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা আনতে পারল না?
প্রথম আলো : ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি তো অনেক বেশি।
তোফায়েল আহমেদ : বাণিজ্য ঘাটতি সব সময় যে ক্ষতি করে, তা নয়। চীনের সঙ্গে আমাদের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য; চীন যদিও বলে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে, পাশাপাশি চীনে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। ভারতের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
আবার ভিন্ন চিত্রটিও দেখুন। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা ৫৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করি, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে করি ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ কিন্তু সে তুলনায় আমাদের কাছে রপ্তানি কম করে। এই বাণিজ্য ঘাটতির জন্য কি তারা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? প্রায়ই বক্তৃতা দেওয়া হয়, বাণিজ্য ঘাটতি, বাণিজ্য ঘাটতি। আমি চাই, এটা নিয়ে প্রথম আলো লিখুক।
প্রথম আলো : কিন্তু আমাদের রপ্তানি যদি ভারত বা চীনে আরও বাড়ানো যেত ভালো হতো না?
তোফায়েল আহমেদ : তা হতো। কিন্তু আমরা চীন-ভারতের কাছ থেকে পণ্য এনে নিজেরা লাভবান হই। ভারত যদি তুলা, সুতা বা পেঁয়াজ-রসুন ইত্যাদি নিত্যপণ্য আমাদের কাছে বিক্রি না করে, আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। ভারত যদি এখন মনে করে তারা বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? বাংলাদেশ। আর ভারতে রপ্তানি করতে না পারার যে প্রশ্নটি এসেছে, সে বিষয়ে বলব, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার অনেক বড়। তাদের পণ্যের দাম কম। সেখানে আমাদের পণ্য রপ্তানি করে তেমন সুবিধা করা সহজ নয়।
প্রথম আলো : তাহলে তো যেখানে রপ্তানি করলে সুবিধা হবে, সেখানেই যাওয়া উচিত।
তোফায়েল আহমেদ : হ্যাঁ। সে জন্যই তো আমরা বিদ্যমান বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, চিলিতে যাচ্ছি। তাদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) হয়েছে।
প্রথম আলো : ট্রানজিটের শর্তের মধ্যে কি মাশুলের (ফি) হার নির্ধারণের বিষয়ে কিছু বলা আছে?
তোফায়েল আহমেদ : বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করা হবে। প্রতিটি দেশের মাশুল-হারের নিজস্ব হিসাব আছে, সেভাবে দিতে হবে। যেমন ইইউতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পণ্য যায়। তারা কীভাবে দেয়? এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে শুল্ক দিতে হবে।
প্রথম আলো : এর আগে প্রয়াত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতউল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিটির একটা সুপারিশ এসেছিল। বলা হয়েছিল, যেহেতু ট্রানজিট দেওয়া হলে ভারতের পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে ৮০ শতাংশ, তাই এর একটা অংশ বাংলাদেশের পাওয়া উচিত।
তোফায়েল আহমেদ : আমরা বিভিন্নভাবে লাভবান হব। যেমন আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত ২০০ কোটি ডলার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে।
প্রথম আলো : ভারী ট্রাক আসা-যাওয়া করবে, কয়েক দিনের মধ্যে মেরামত করতে হবে। তখন?
তোফায়েল আহমেদ : এটা ঠিক না যে ভারী ট্রাকের কারণে রাস্তা ভেঙে যাবে। আমাদের প্রাণ গ্রুপ ত্রিপুরায় শিল্প করেছে। পূর্ব ভারতের প্রতিটি রাজ্যে প্রাণ পণ্য রপ্তানি করে। ওই রাজ্যগুলোতে আমাদের পণ্য ভারতের পণ্যের চেয়েও বেশি যাবে।
প্রথম আলো : কিন্তু ভারত ট্রানজিট পেলে পূর্ব ভারতে প্রাণ বাজার হারাবে কি না?
তোফায়েল আহমেদ : না, মোটেই না। কারণ, আমরা যত সহজে ও কম ব্যয়ে পূর্ব ভারতে পণ্য পাঠাতে পারব, দিল্লি বা ভারতের অন্য রাজ্য সেই সুবিধা পাবে না।
প্রথম আলো : তিস্তার পানি পেলাম না, অথচ ট্রানজিট দিয়ে দিলাম?
তোফায়েল আহমেদ : তিস্তার পানিও পাব আমরা। শুধু সময়ের ব্যাপার। প্রতিটি দেশেরই রাজনীতি আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুবার ঢাকা সফর করেন। পশ্চিম বাংলা চায় ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর বিষয়টা সমাধান করতে। এটা হলো বাস্তব কথা।
প্রথম আলো : ভারতকে দুইটা বিদ্যুৎকেন্দ্র আমরা দিয়ে দিলাম দরপত্র আহ্বান ছাড়াই। এই সময়ে এসে এমন দায়মুক্তি দেওয়ার দরকার ছিল?
তোফায়েল আহমেদ : দেখুন, বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দরকার। এখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লোক বিদ্যুৎ পায়। আমরা সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে চাই। কুইক রেন্টাল পাওয়ার যখন চালু করেছি, সমালোচকের কোনো অভাব ছিল না। তখন ছিল ঘরে ঘরে অন্ধকার। আর এখন আলোকিত বাংলাদেশ। কীভাবে হয়েছে?
সমালোচনা করবেন তখন, যদি দেখবেন বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছি। রামপালে আমরা কি এমন কোনো প্রকল্প করব, যা আমাদের স্বার্থের বিরোধী? আমরা কি দেশকে ভালোবাসি না? সবকিছু বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই করা হচ্ছে।
প্রথম আলো : আপনি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই সময়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে?
তোফায়েল আহমেদ : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন করার। সে জন্য তিনি অনেক জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। ফাঁসির কাষ্ঠে পর্যন্ত গিয়েছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন এখন ধীরে ধীরে পূরণ হতে চলেছে। আমরা সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে হব উন্নত দেশ।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
তোফায়েল আহমেদ : ধন্যবাদ।
প্রথম আলো : আগেরবার যখন মন্ত্রী ছিলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চুক্তি করেও কিন্তু সফল হতে পারেননি। এখন করলেন চারদেশীয় চুক্তি। এবারও কি আগের মতো সমস্যা হতে পারে?
তোফায়েল আহমেদ: আসলে ১৯৯৬ সালে আমি যখন বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আমি মিলে পঞ্চগড়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর উদ্বোধন করেছিলাম। পরে সেটা কার্যকর হয়নি। কারণ, ভারতের সঙ্গে তখন সংযুক্তির (কানেকটিভিটি) চুক্তি ছিল না। এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সেই সমস্যার নিরসন হয়েছে। এখন সেই সমস্যা নেই।
প্রথম আলো : ওই সময় নেপালের ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা না থাকায় পণ্য পাঠানো সমস্যা।
তোফায়েল আহমেদ: না। আসল কথা, তখন ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল না। কিন্তু এবার যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ভারত, নেপাল ও ভুটানে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাবে। শুধু তা-ই নয়, এখান থেকে যাত্রীরাও তিন দেশে যাওয়া-আসা করতে পারবেন।
প্রথম আলো : আমাদের পণ্য যাবে, ওদের পণ্য আসবে, নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেবে না?
তোফায়েল আহমেদ: এখন তো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। আমাদের অংশে যেমন নিরাপত্তার সমস্যা নেই, তাদের অংশেও নেই। তবে এটা ঠিক, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
প্রথম আলো : ব্যাপারটা কি এমন যে আমাদের রাস্তার উন্নয়ন আমরা করব, আর তারা করবে তাদেরটা?
তোফায়েল আহমেদ: ঠিক তা-ই।
প্রথম আলো : আগে বলা হতো নেপাল ও ভুটানের পণ্য মংলা বন্দর দিয়ে আসবে?
তোফায়েল আহমেদ : আমাদের দুইটা বন্দর। তিন দেশই এ দুই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। তাদের থেকে আমরা রাজস্ব পাব। সিঙ্গাপুরের উন্নতি ও লাভবান হওয়ার কারণ হচ্ছে দেশটির বন্দর বিশ্বের সবাই ব্যবহার করতে পারে। শ্রীলঙ্কাও অন্যদেরও বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে লাভবান হচ্ছে। বন্দর শুধু আটকে রাখলে হবে না। তাই বন্দরেরও আমরা আধুনিকায়ন করছি।
প্রথম আলো : আগে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, নেপাল-ভুটানের জন্য মংলা ব্যবহৃত হলে পশ্চিম বাংলার বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
তোফায়েল আহমেদ : না, তা হবে না। যেমন পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছি ভারতের কাছ থেকে। চারদেশীয় চুক্তি যদি কাজে লাগাতে পারি, আমরা লাভবান হব।
প্রথম আলো : চুক্তির ফলে লাভবান বেশি হবে কারা?
তোফায়েল আহমেদ : বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। আজকে বিশ্বায়ন ও উদারীকরণের যুগে সংযুক্তি ছাড়া কোনো দেশেরই ব্যবসা-বাণিজ্য সফলতা লাভ করে না। এখন আমাদের চার দেশের মধ্যে সংযুক্তি হয়ে গেল। তারপর আমরা জোর দেব বিসিআইএমের ওপর। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার—এই চার দেশের অর্থনৈতিক করিডর থেকেও আমরা সাংঘাতিক লাভবান হব। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনাও চলছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক, এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) বিনিয়োগ করবে।
প্রথম আলো : অনেকের সন্দেহ যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা আসলেই লাভবান হব কি না?
তোফায়েল আহমেদ : যারা এ দেশে ভারতবিরোধী রাজনীতি করে, তারাই এসব কথা বলে। তাদের দল বা গোষ্ঠীবিশেষের জন্মই হয়েছে ভারতবিরোধিতা ও মৌলবাদিতার ওপর ভিত্তি করে। এগুলো আসলে স্রেফ ভারতবিরোধিতা।
নরেন্দ্র মোদির সফর দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ৪১ বছরেও যে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হয়নি, সম্প্রতি ভারত তা সর্বসম্মতভাবে করেছে। তারপর আছে সমুদ্রসীমা। সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা করতে আমরা ইতস্তত করিনি। ভুটান ও নেপালে আমরা সরাসরি যেতে পারতাম না। আজ সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা বিরোধিতা করে, তারা কেন গঙ্গার পানি আনতে পারল না? শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা আনতে পারল না?
প্রথম আলো : ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি তো অনেক বেশি।
তোফায়েল আহমেদ : বাণিজ্য ঘাটতি সব সময় যে ক্ষতি করে, তা নয়। চীনের সঙ্গে আমাদের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য; চীন যদিও বলে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে, পাশাপাশি চীনে আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। ভারতের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
আবার ভিন্ন চিত্রটিও দেখুন। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা ৫৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করি, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে করি ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ কিন্তু সে তুলনায় আমাদের কাছে রপ্তানি কম করে। এই বাণিজ্য ঘাটতির জন্য কি তারা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? প্রায়ই বক্তৃতা দেওয়া হয়, বাণিজ্য ঘাটতি, বাণিজ্য ঘাটতি। আমি চাই, এটা নিয়ে প্রথম আলো লিখুক।
প্রথম আলো : কিন্তু আমাদের রপ্তানি যদি ভারত বা চীনে আরও বাড়ানো যেত ভালো হতো না?
তোফায়েল আহমেদ : তা হতো। কিন্তু আমরা চীন-ভারতের কাছ থেকে পণ্য এনে নিজেরা লাভবান হই। ভারত যদি তুলা, সুতা বা পেঁয়াজ-রসুন ইত্যাদি নিত্যপণ্য আমাদের কাছে বিক্রি না করে, আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। ভারত যদি এখন মনে করে তারা বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? বাংলাদেশ। আর ভারতে রপ্তানি করতে না পারার যে প্রশ্নটি এসেছে, সে বিষয়ে বলব, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার অনেক বড়। তাদের পণ্যের দাম কম। সেখানে আমাদের পণ্য রপ্তানি করে তেমন সুবিধা করা সহজ নয়।
প্রথম আলো : তাহলে তো যেখানে রপ্তানি করলে সুবিধা হবে, সেখানেই যাওয়া উচিত।
তোফায়েল আহমেদ : হ্যাঁ। সে জন্যই তো আমরা বিদ্যমান বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, চিলিতে যাচ্ছি। তাদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) হয়েছে।
প্রথম আলো : ট্রানজিটের শর্তের মধ্যে কি মাশুলের (ফি) হার নির্ধারণের বিষয়ে কিছু বলা আছে?
তোফায়েল আহমেদ : বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করা হবে। প্রতিটি দেশের মাশুল-হারের নিজস্ব হিসাব আছে, সেভাবে দিতে হবে। যেমন ইইউতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পণ্য যায়। তারা কীভাবে দেয়? এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে শুল্ক দিতে হবে।
প্রথম আলো : এর আগে প্রয়াত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতউল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিটির একটা সুপারিশ এসেছিল। বলা হয়েছিল, যেহেতু ট্রানজিট দেওয়া হলে ভারতের পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে ৮০ শতাংশ, তাই এর একটা অংশ বাংলাদেশের পাওয়া উচিত।
তোফায়েল আহমেদ : আমরা বিভিন্নভাবে লাভবান হব। যেমন আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত ২০০ কোটি ডলার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে।
প্রথম আলো : ভারী ট্রাক আসা-যাওয়া করবে, কয়েক দিনের মধ্যে মেরামত করতে হবে। তখন?
তোফায়েল আহমেদ : এটা ঠিক না যে ভারী ট্রাকের কারণে রাস্তা ভেঙে যাবে। আমাদের প্রাণ গ্রুপ ত্রিপুরায় শিল্প করেছে। পূর্ব ভারতের প্রতিটি রাজ্যে প্রাণ পণ্য রপ্তানি করে। ওই রাজ্যগুলোতে আমাদের পণ্য ভারতের পণ্যের চেয়েও বেশি যাবে।
প্রথম আলো : কিন্তু ভারত ট্রানজিট পেলে পূর্ব ভারতে প্রাণ বাজার হারাবে কি না?
তোফায়েল আহমেদ : না, মোটেই না। কারণ, আমরা যত সহজে ও কম ব্যয়ে পূর্ব ভারতে পণ্য পাঠাতে পারব, দিল্লি বা ভারতের অন্য রাজ্য সেই সুবিধা পাবে না।
প্রথম আলো : তিস্তার পানি পেলাম না, অথচ ট্রানজিট দিয়ে দিলাম?
তোফায়েল আহমেদ : তিস্তার পানিও পাব আমরা। শুধু সময়ের ব্যাপার। প্রতিটি দেশেরই রাজনীতি আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুবার ঢাকা সফর করেন। পশ্চিম বাংলা চায় ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর বিষয়টা সমাধান করতে। এটা হলো বাস্তব কথা।
প্রথম আলো : ভারতকে দুইটা বিদ্যুৎকেন্দ্র আমরা দিয়ে দিলাম দরপত্র আহ্বান ছাড়াই। এই সময়ে এসে এমন দায়মুক্তি দেওয়ার দরকার ছিল?
তোফায়েল আহমেদ : দেখুন, বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দরকার। এখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লোক বিদ্যুৎ পায়। আমরা সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে চাই। কুইক রেন্টাল পাওয়ার যখন চালু করেছি, সমালোচকের কোনো অভাব ছিল না। তখন ছিল ঘরে ঘরে অন্ধকার। আর এখন আলোকিত বাংলাদেশ। কীভাবে হয়েছে?
সমালোচনা করবেন তখন, যদি দেখবেন বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছি। রামপালে আমরা কি এমন কোনো প্রকল্প করব, যা আমাদের স্বার্থের বিরোধী? আমরা কি দেশকে ভালোবাসি না? সবকিছু বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই করা হচ্ছে।
প্রথম আলো : আপনি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই সময়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে?
তোফায়েল আহমেদ : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন করার। সে জন্য তিনি অনেক জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। ফাঁসির কাষ্ঠে পর্যন্ত গিয়েছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন এখন ধীরে ধীরে পূরণ হতে চলেছে। আমরা সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে হব উন্নত দেশ।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
তোফায়েল আহমেদ : ধন্যবাদ।
Tuesday, June 16, 2015
বোঝা গেল বিএনপি ভারতবিরোধী নয়? by আব্দুল কাইয়ুম
Tuesday, June 16, 2015
Anonymous
আব্দুল কাইয়ুম,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
প্রথম আলো,
বিএনপি,
ভারত,
মতামত,
রাজনীতি
![]() |
| রাজনীতির ব্যাকরণ কি বদলাতে শুরু করেছে? |
এটা
বাংলাদেশের জন্য ভালো যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর তাঁর
নিজের দেশে এবং আমাদের দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণে কিছুটা হলেও পরিবর্তনের
সূচনা করল। ধরুন বাংলাদেশে বিএনপির এত দিনের অবস্থানের কথা। তারা
সাধারণভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কথা বললেও কার্যত তাদের
ভারতবিরোধী ভাবমূর্তিটিই ছিল প্রধান। কিছু একটা হলেই ‘গেল গেল, সব ভারত
নিয়ে গেল’ ধরনের কথা তাদের নেতাদের মুখে শোনা যেত। কিন্তু এবার মোদির সফরের
কিছুদিন আগে থেকে বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে একটা কথা প্রতিষ্ঠার
চেষ্টা করেছেন যে তাঁরা মোটেও ভারতবিরোধী নন, ভারতের সঙ্গে তাঁরা সব সময়
সম্পর্কের উন্নয়ন চেয়েছেন।
বিএনপি যে সত্যিই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব চায়, সেটা এবার নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে না এলে বোঝাই যেত না। কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, কী এমন ঘটে গেল যে বিএনপিকে উঠেপড়ে লাগতে হলো ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রমাণের জন্য? এটাই আসল কথা। লক্ষ করলে দেখা যাবে, যত দিন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা বেশি ছিল, তত দিন বিএনপির ভারতবিদ্বেষ বেশি সোচ্চার ছিল। ইদানীং জামায়াত বিএনপি থেকে একটু দূরে। সেটা যে কারণেই হোক। এর ফলে বিএনপির পক্ষে গতানুগতিক ভারতবিদ্বেষ থেকে কিছুটা সরে আসা সম্ভব হয়েছে।
ভুলে যাওয়া যায় না যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জন্য নির্ধারিত সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ভারতের সঙ্গে মৈত্রীকে বিএনপির খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই। কিন্তু পঁচাত্তর-উত্তর পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বাইরের সব শক্তিকে টেনে আনার প্রক্রিয়ায় জামায়াত-মুসলিম লীগ চক্র সুযোগ পায়। আজ অবধি সেই রাজনৈতিক সমীকরণ ভাঙাচোরা অবস্থায় হলেও চলছে।
এবারই প্রথম দেখা গেল জামায়াতে ইসলামী মোদির সফরে জনগণ হতাশ হয়েছে দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছে মাত্র, বিক্ষোভ মিছিল করল না বা কিছু করার সুযোগ পেল না। আমাদের দেশের রাজনীতিতে এটা এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন। এবং এই পরিবর্তন এসেছে নরেন্দ্র মোদির সফরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে।
ভারতের চলতি রাজনৈতিক সমীকরণেও কিছু ওলট-পালট দেখা গেছে। আগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত এলেনই না। অথচ সবাই ভাবছিলাম তিনি আসবেন, তিস্তা চুক্তি হবে। হয়নি। এবারও হলো না। কিন্তু মোদির সফরের সময় মমতা আলাদাভাবে হলেও এলেন। ঢাকায় তিনি বৈঠক করলেন তাঁদের দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে। কী বোঝা গেল?
ভারতের লোকসভায় মোদির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কিন্তু রাজ্যসভায় নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের জন্য সেখানে মোদির মিত্র দরকার। আজ মোদির সফরের সময় মমতার বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে তিনি রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় জোটের অন্যান্য দলের চেয়ে একটু তফাতে গেছেন। এতে মোদির লাভ। কিন্তু বাংলাদেশের লাভ আরও বেশি। কারণ, তিস্তা চুক্তির জন্য তাঁর আসার খুব দরকার ছিল। তিনি এসেছেন। হয়তো এ জন্য ভারতে কংগ্রেস, সিপিএমসহ অন্যান্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল কিছুটা অখুশি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে মমতার আসার তাৎপর্য অনেক বেশি।
মোদির বাংলাদেশ সফরের ফলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় একধরনের নতুন মাত্রার সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেমন ভারত-নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ যোগাযোগ, বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি। এটা ভবিষ্যতে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তার মানে, কানেক্টিভিটির এক নতুন দিগন্ত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে মোদির এই সফর স্বয়ং মোদিকেও বদলে দিয়েছে। গত বছর তিনি যখন ভারতের লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হন, তখন অনেকে ভেবেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বোধ হয় চুলায় উঠবে। না, তা হলো না। বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত জনভাষণে তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন দুই দেশের তরুণ সমাজকে, তা সত্যিই উদ্দীপনামূলক। দুই দিনের সফরে মোদি শুধু দুই দেশের মৈত্রীর বন্ধনে নতুন মাত্রা যোগ করেননি, তিনি নিজ অতীতের ভাবমূর্তিকেও নতুন ছাঁচে গড়েছেন। আজকের মোদি যে গতকালের মোদিকে এত দূরে ফেলে এসেছেন, তা হয়তো বাংলাদেশ এত সহজে বুঝতে পারত না, যদি–না তাঁর বাংলাদেশ সফর এত সুন্দর হতো।
এখন কী? মোদি তো পথ দেখিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের এখন কী করার আছে? ভারত ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়ে তাঁর দেশে ৫০ হাজার তরুণের নতুন চাকরির সংস্থান করবে। বাংলাদেশ কী করবে? এখনই হিসাব-নিকাশ করে সব ঠিক করা দরকার। যদি রাস্তাঘাট, গ্যাস-বিদ্যুতের সুব্যবস্থা হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। চাকরি পাবেন দেশের বেকার তরুণেরা। উন্নয়ন হবে।
এখানে কয়েকটা বড় সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন তো রয়েছেই। সবার অংশগ্রহণ কবে হবে, কীভাবে হবে, সেসব অবশ্যই ঠিক করতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি ভাবে বিএনপি আসলে আসবে, না হলে নাই, তাহলে বিরাট রাজনৈতিক ভুল করবে। কোনো দেশেই কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। কবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে কীভাবে কী হয়েছিল, সেখানে কত বড় ভিশনারি নেতা ছিলেন, সেসব অনুকরণ করে আমাদের দেশে কিছু করতে যাওয়া হবে মারাত্মক ভুল।
বিশেষভাবে আওয়ামী লীগ ৬০ বছরের একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ধারণ করছে। কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া দেশ শাসনের কথা তাদের চিন্তায় আনাই ভুল। তা ছাড়া এ রকম এক বিরোধী দলশূন্য পরিস্থিতিতে দেশ শাসনের কোনো অতীত অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। এমনকি পঁচাত্তরের বাকশালের মধ্যেও ছিল ন্যাপ-সিপিবি এবং অন্যান্য দল ও ব্যক্তি। তাই সেটা ছিল ভিন্ন একটি অধ্যায়। তারপরও সেটা যে ভুল ছিল, সে কথা আওয়ামী লীগ নিজেও মূল্যায়ন করেছে।
বর্তমান অবস্থা বাকশাল নয়, বিএনপি যতই বলার চেষ্টা করুক। কিন্তু কার্যকর বিরোধী দল যে নেই এবং এ অবস্থা জোর করে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা যে আওয়ামী লীগ করছে, তাতে সন্দেহ নেই। এই পথটি আওয়ামী লীগের অপরিচিত। এই অচেনা পথে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে দুবার ভাবতে হবে।
তার চেয়ে বরং সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দিয়ে দেশে প্রাণবন্ত সংসদ চালু করার একটি উদ্যোগ এখন জরুরি। বিশেষভাবে মোদির সফরের পর এই এজেন্ডা আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে।
আর তা ছাড়া মোদির সফরের সুফল ধরে রাখতে হলে এখন আরেকটি বিষয়ে জোর দিতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মত ও পথ ভাবতে হবে। অনেক বৈদেশিক বিনিয়োগ আসতে পারে। বিদেশি সহায়তা আসবে। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারলে সব পানিতে যাবে। অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৭ শতাংশে এনেছেন। কিন্তু তিনি তো জানেন, শুধু ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ২ থেকে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এটা অনুমানের বিষয় নয়। গত রোববার ‘২০১৫ মার্কিন বিনিয়োগ পরিস্থিতি প্রতিবেদন’-এর বাংলাদেশ অধ্যায়ে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রত্যয় থাকলেও বাস্তবায়নে অসংগতি রয়েছে বলে সেখানে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে দেড় শ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগের বছর ছিল ৯৯০ মিলিয়ন ডলার। এ বছর হয়তো আরও বাড়বে। কারণ, ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। চীন তো আছেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোদির সাম্প্রতিক সফরকে স্বাগত জানিয়েছে।
এখন সরকারের উচিত দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলে ৭ কেন, ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়তো অনায়াসে আসবে।
মোদির সফরের পর সরকারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। পালন করতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
বিএনপি যে সত্যিই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব চায়, সেটা এবার নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে না এলে বোঝাই যেত না। কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, কী এমন ঘটে গেল যে বিএনপিকে উঠেপড়ে লাগতে হলো ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রমাণের জন্য? এটাই আসল কথা। লক্ষ করলে দেখা যাবে, যত দিন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা বেশি ছিল, তত দিন বিএনপির ভারতবিদ্বেষ বেশি সোচ্চার ছিল। ইদানীং জামায়াত বিএনপি থেকে একটু দূরে। সেটা যে কারণেই হোক। এর ফলে বিএনপির পক্ষে গতানুগতিক ভারতবিদ্বেষ থেকে কিছুটা সরে আসা সম্ভব হয়েছে।
ভুলে যাওয়া যায় না যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জন্য নির্ধারিত সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ভারতের সঙ্গে মৈত্রীকে বিএনপির খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই। কিন্তু পঁচাত্তর-উত্তর পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বাইরের সব শক্তিকে টেনে আনার প্রক্রিয়ায় জামায়াত-মুসলিম লীগ চক্র সুযোগ পায়। আজ অবধি সেই রাজনৈতিক সমীকরণ ভাঙাচোরা অবস্থায় হলেও চলছে।
এবারই প্রথম দেখা গেল জামায়াতে ইসলামী মোদির সফরে জনগণ হতাশ হয়েছে দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছে মাত্র, বিক্ষোভ মিছিল করল না বা কিছু করার সুযোগ পেল না। আমাদের দেশের রাজনীতিতে এটা এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন। এবং এই পরিবর্তন এসেছে নরেন্দ্র মোদির সফরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে।
ভারতের চলতি রাজনৈতিক সমীকরণেও কিছু ওলট-পালট দেখা গেছে। আগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত এলেনই না। অথচ সবাই ভাবছিলাম তিনি আসবেন, তিস্তা চুক্তি হবে। হয়নি। এবারও হলো না। কিন্তু মোদির সফরের সময় মমতা আলাদাভাবে হলেও এলেন। ঢাকায় তিনি বৈঠক করলেন তাঁদের দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে। কী বোঝা গেল?
ভারতের লোকসভায় মোদির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কিন্তু রাজ্যসভায় নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের জন্য সেখানে মোদির মিত্র দরকার। আজ মোদির সফরের সময় মমতার বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে তিনি রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় জোটের অন্যান্য দলের চেয়ে একটু তফাতে গেছেন। এতে মোদির লাভ। কিন্তু বাংলাদেশের লাভ আরও বেশি। কারণ, তিস্তা চুক্তির জন্য তাঁর আসার খুব দরকার ছিল। তিনি এসেছেন। হয়তো এ জন্য ভারতে কংগ্রেস, সিপিএমসহ অন্যান্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল কিছুটা অখুশি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে মমতার আসার তাৎপর্য অনেক বেশি।
মোদির বাংলাদেশ সফরের ফলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় একধরনের নতুন মাত্রার সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেমন ভারত-নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ যোগাযোগ, বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি। এটা ভবিষ্যতে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তার মানে, কানেক্টিভিটির এক নতুন দিগন্ত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে মোদির এই সফর স্বয়ং মোদিকেও বদলে দিয়েছে। গত বছর তিনি যখন ভারতের লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হন, তখন অনেকে ভেবেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বোধ হয় চুলায় উঠবে। না, তা হলো না। বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত জনভাষণে তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন দুই দেশের তরুণ সমাজকে, তা সত্যিই উদ্দীপনামূলক। দুই দিনের সফরে মোদি শুধু দুই দেশের মৈত্রীর বন্ধনে নতুন মাত্রা যোগ করেননি, তিনি নিজ অতীতের ভাবমূর্তিকেও নতুন ছাঁচে গড়েছেন। আজকের মোদি যে গতকালের মোদিকে এত দূরে ফেলে এসেছেন, তা হয়তো বাংলাদেশ এত সহজে বুঝতে পারত না, যদি–না তাঁর বাংলাদেশ সফর এত সুন্দর হতো।
এখন কী? মোদি তো পথ দেখিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের এখন কী করার আছে? ভারত ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়ে তাঁর দেশে ৫০ হাজার তরুণের নতুন চাকরির সংস্থান করবে। বাংলাদেশ কী করবে? এখনই হিসাব-নিকাশ করে সব ঠিক করা দরকার। যদি রাস্তাঘাট, গ্যাস-বিদ্যুতের সুব্যবস্থা হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। চাকরি পাবেন দেশের বেকার তরুণেরা। উন্নয়ন হবে।
এখানে কয়েকটা বড় সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন তো রয়েছেই। সবার অংশগ্রহণ কবে হবে, কীভাবে হবে, সেসব অবশ্যই ঠিক করতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি ভাবে বিএনপি আসলে আসবে, না হলে নাই, তাহলে বিরাট রাজনৈতিক ভুল করবে। কোনো দেশেই কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। কবে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে কীভাবে কী হয়েছিল, সেখানে কত বড় ভিশনারি নেতা ছিলেন, সেসব অনুকরণ করে আমাদের দেশে কিছু করতে যাওয়া হবে মারাত্মক ভুল।
বিশেষভাবে আওয়ামী লীগ ৬০ বছরের একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ধারণ করছে। কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া দেশ শাসনের কথা তাদের চিন্তায় আনাই ভুল। তা ছাড়া এ রকম এক বিরোধী দলশূন্য পরিস্থিতিতে দেশ শাসনের কোনো অতীত অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। এমনকি পঁচাত্তরের বাকশালের মধ্যেও ছিল ন্যাপ-সিপিবি এবং অন্যান্য দল ও ব্যক্তি। তাই সেটা ছিল ভিন্ন একটি অধ্যায়। তারপরও সেটা যে ভুল ছিল, সে কথা আওয়ামী লীগ নিজেও মূল্যায়ন করেছে।
বর্তমান অবস্থা বাকশাল নয়, বিএনপি যতই বলার চেষ্টা করুক। কিন্তু কার্যকর বিরোধী দল যে নেই এবং এ অবস্থা জোর করে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা যে আওয়ামী লীগ করছে, তাতে সন্দেহ নেই। এই পথটি আওয়ামী লীগের অপরিচিত। এই অচেনা পথে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে দুবার ভাবতে হবে।
তার চেয়ে বরং সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দিয়ে দেশে প্রাণবন্ত সংসদ চালু করার একটি উদ্যোগ এখন জরুরি। বিশেষভাবে মোদির সফরের পর এই এজেন্ডা আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে।
আর তা ছাড়া মোদির সফরের সুফল ধরে রাখতে হলে এখন আরেকটি বিষয়ে জোর দিতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মত ও পথ ভাবতে হবে। অনেক বৈদেশিক বিনিয়োগ আসতে পারে। বিদেশি সহায়তা আসবে। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারলে সব পানিতে যাবে। অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৭ শতাংশে এনেছেন। কিন্তু তিনি তো জানেন, শুধু ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ২ থেকে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এটা অনুমানের বিষয় নয়। গত রোববার ‘২০১৫ মার্কিন বিনিয়োগ পরিস্থিতি প্রতিবেদন’-এর বাংলাদেশ অধ্যায়ে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রত্যয় থাকলেও বাস্তবায়নে অসংগতি রয়েছে বলে সেখানে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে দেড় শ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগের বছর ছিল ৯৯০ মিলিয়ন ডলার। এ বছর হয়তো আরও বাড়বে। কারণ, ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। চীন তো আছেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোদির সাম্প্রতিক সফরকে স্বাগত জানিয়েছে।
এখন সরকারের উচিত দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলে ৭ কেন, ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়তো অনায়াসে আসবে।
মোদির সফরের পর সরকারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। পালন করতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Tuesday, May 26, 2015
মেয়রদের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ by আব্দুল কাইয়ুম
তিনজন
মেয়র হয়েছেন বটে, কিন্তু তাঁদের একটা আফসোস রয়ে গেল। এই মেয়র তো সেই মেয়র
নন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে জোর গলায় দাবি করতে পারেন যে মানুষের
স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁরা ম্যানডেট পেয়েছেন। হয়তো
এটা তাঁদের দোষ নয়। বিএনপি মাঝপথে রণে ভঙ্গ দিয়ে এমন এক অবস্থা করল যে
ভোটের দিনের শেষ অর্ধেক প্রতিপক্ষবিহীন নির্বাচন করতে তাঁরা বাধ্য হলেন।
ফলে অনেকের কাছে সেই ভোটের আর দাম থাকল না।
এখন বিতর্ক হতে পারে যে বিএনপির আর কী উপায় ছিল। তাদের এজেন্টদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রের কাছেধারে যেতে দেয়নি ইত্যাদি। আবার আওয়ামী লীগ বলবে, বিএনপির এজেন্টরা নিজেরাই ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে যায়নি, তাদের বের করে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কীভাবে? এই বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু যা বোঝার, মানুষ তা যে যার মতো করে বুঝে নিয়েছে।
মানুষের এই নিস্পৃহতা দূর করাই হবে তিন মেয়রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিকদের আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের এমন কিছু করতে হবে, যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মানুষ যদি দেখে যে মেয়ররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচিত না হলেও জনজীবনের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, তাদের নিত্যদিনের ঝামেলা কমাতে কাজ করছেন, তাহলে ধীরে ধীরে একটা অবস্থা তৈরি হলেও হতে পারে।
এ রকম অবস্থা বিএনপির আমলেও হয়েছিল। সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি। কারণ, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি এমন তাণ্ডব শুরু করে, নেতাদের ধরপাকড়, মারধর করে এমন বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করে যে মাথা তুলে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন ছিল। কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে মেয়র হয়েও ২০১১ সাল পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা টিকে ছিলেন। নানা কারসাজি হয়তো ছিল, কিন্তু তিনি মেয়র হিসেবে টিকে ছিলেন। কিছু কাজও হয়েছিল তাঁর আমলে।
তবে এ দেশে কোনো ভালো কাজও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এবং সমালোচনাগুলোর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও থাকে। সাদেক হোসেন খোকার মেয়রগিরিও ভালো-মন্দ মিশিয়ে পার হয়ে গেছে। তিনি যে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে একটি নিষ্প্রাণ নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন, সেটা সময়ের সঙ্গে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। তাঁর একটা কৌশল ছিল। তিনি কাজ করার সময় আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।
এখন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়ররা আর কাকে সঙ্গে নেবেন? বিএনপি তো মাঠে নেই। মারপিট-ভয়ভীতি-মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে তাদের রাজনীতির মাঠ থেকে তাড়ানো হয়েছে। বিএনপি আপাতত শীতনিদ্রায়। সংগঠন গুছিয়ে, শক্তি সঞ্চয় করে মাঠে নামবে। এখন নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের সত্যিকার অর্থে কাজ করে দেখাতে হবে যে তাঁরা জনগণের সঙ্গে আছেন।
কাজটা খুব সহজ নয়। মেয়রদের প্রথম কাজ হবে একটা চেক লিস্ট তৈরি করা। মানুষের সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেগুলো সাজাতে হবে। অফিসে চোখের সামনে সেই তালিকা টাঙানো থাকবে। তালিকার একটি কপি বাসায় টাঙিয়ে রাখলে আরও ভালো। ভোরবেলা চায়ের টেবিলে বসলেই সেই সমস্যার তালিকা চোখের সামনে ভেসে উঠবে, অফিসে গেলেও সেটা তিনি দেখবেন। বাসায় ফিরে আবার দেখবেন। প্রতিদিন কতটা কাজ তিনি করতে পারলেন, তাঁর লোকজন দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কতটা অগ্রসর হতে পারলেন, সেটা দিন শেষে তিনি হিসাব করবেন।
যেমন, ঢাকায় যে সমস্যাটা সকাল থেকে মানুষের জান শেষ করে দেয়, সেটা হলো যানজট। আপনি যেখানেই যান, দু-তিন ঘণ্টা রাস্তা খেয়ে ফেলবে। কীভাবে এ সমস্যা দূর করা যায়? সরকারের সাহায্য দরকার। আর দরকার ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের দুই মেয়রের সমন্বিতভাবে কাজ করা। মানুষের আয় বেড়েছে, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কী করা যায়? সকালে গুলিস্তান থেকে গুলশান-বনানী পর্যন্ত অবর্ণনীয় যানজট। এটা চলতে থাকে রাত পর্যন্ত। কারণ, উত্তর-দক্ষিণে চলাচলের জন্য এখন কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ছাড়া উপায় নেই। কাকরাইল-মগবাজার-তেজগাঁওয়ের রাস্তাটিতে বছরের পর বছর ধরে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। মগবাজার-মৌচাক রাস্তারও একই দশা। ফলে গুলিস্তান-গুলশান পথে যাতায়াতের জন্য সব গাড়ি ফার্মগেটের রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর তো কোনো উপায় নেই। এই রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের কত লাখ ঘণ্টা যে যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হয়, তার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।
এই সমস্যার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, দুই কূলেরই সমস্যা। এখন দুই মেয়র সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করতে পারেন যে ওই দুটি ফ্লাইওভার যেন খুব দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা হয়। কেন বছরের পর বছর ফ্লাইওভারের কাজ চলবে? যে কাজ এক বছরে হতে পারে, সেটা চার-পাঁচ বছরেও শেষ হওয়া তো দূরের কথা, অর্ধেকও কেন হয় না? এর রহস্য কী? কাজ চলছে ঢিমে তালে। দেখার কি কেউ নেই? সরকারের কেউ কি বলতে পারেন না, কেন কাজ হচ্ছে না? কেন মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে?
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজটিও ঝুলে থাকত, যদি সরকার তাড়া না দিত। কিন্তু সেখানেও গ্যাঞ্জাম। ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে সাঁই–সাঁই করে, আর নিচের রাস্তায় দুনিয়ার জঞ্জাল। রাস্তা ভাঙাচোরা, ইট-পাথরের ব্লক। যেখানে-সেখানে বাস-ট্রাক ফেলে রাখা হয়েছে। নিচের রাস্তা দিয়ে বাস-গাড়ি চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ আরও অনেক আগেই ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা জঞ্জালমুক্ত করে দেওয়ার কথা। সেটা যে হচ্ছে না, তার কোনো জবাবদিহি নেই।
মেয়ররা হয়তো বলবেন, এসব ফ্লাইওভার তো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। মেয়রের কাজ না। হয়তো তাঁরা বলবেন, ‘নগর সরকার’ না হলে কীভাবে কী করব? ঠিক। নগর সরকার হলে তো ভালোই। কিন্তু সেটা না হলে যে নগরবাসীকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার দায় তো তাঁরা এড়াতে পারবেন না। তাই দুই মেয়র মিলে সরকারকে বোঝান, যেন দ্রুত ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করা হয়।
মেয়ররা তো পরিষ্কার ঢাকার জন্য ঝাড়ু হাতে রাজপথে নেমেছেন। ভালো কাজ। এ রকম একদিন সকাল থেকে দু-এক ঘণ্টা তেজগাঁও-মগবাজার-মৌচাক রাস্তাজুড়ে অবস্থান করেন না দুই মেয়র, তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে। ডাক দেন ভুক্তভোগী নাগরিকদের। কোনো হই–হাঙ্গামা নয়, কোনো ভাঙচুর নয়। শান্তিপূর্ণ অবস্থান। ন্যায্য দাবি। ছয় মাসের মধ্যে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে হবে।
তারপর ক্ষণ গণনা শুরু করুন। নগর ভবনে একটা বড় ইলেকট্রনিক ঘড়ি লাগিয়ে দেন। সেখানে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে, ফ্লাইওভার শেষ করতে আর মাত্র ১৮২ দিন বাকি, পরদিন দেখা যাবে, আর মাত্র ১৮১ দিন বাকি! নগরবাসী দেখুক, কাজ কত দূর হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মেয়ররা সরকারকে অনুরোধ করতে পারেন, যেন সরকারি অফিসগুলো সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়। তাহলে যানজট কিছুটা কমানো যাবে। শুক্র-শনি ছুটি যথারীতি থাকবে। আগে তো সকালে অফিস হতো।
সরকার উঠেপড়ে লাগায় বিদ্যুৎ সমস্যা প্রায় মিটিয়ে ফেলা গেছে। এ রকম জানপ্রাণ চেষ্টা করলে যানজটও কমিয়ে আনা যাবে। তাহলে কত লোকের যে কত সময় বেঁচে যাবে, তা বুঝিয়ে বলা লাগে না। এটা যেন হয়, সে জন্য ঢাকার দুই মেয়র একযোগে কাজ করুন। যদি তাঁরা সফল হন, তাহলে মেয়রদের প্রতি মানুষের নিস্পৃহ ভাব অনেকটাই কেটে যাবে। নির্জীব নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রও যে খুব তেজি মেয়র হতে পারেন, তা তাঁরা প্রমাণ করতে পারবেন।
এর সঙ্গে আরও দুটি চ্যালেঞ্জ তাঁদের মোকাবিলা করতেই হবে। একটি হলো টেন্ডারবাজি-দলবাজি বন্ধ, অপরটি হলো জলাবদ্ধতার অবসান। এ দুটি বিষয়ে আগামী দিনে লিখব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail. com
এখন বিতর্ক হতে পারে যে বিএনপির আর কী উপায় ছিল। তাদের এজেন্টদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রের কাছেধারে যেতে দেয়নি ইত্যাদি। আবার আওয়ামী লীগ বলবে, বিএনপির এজেন্টরা নিজেরাই ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে যায়নি, তাদের বের করে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে কীভাবে? এই বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু যা বোঝার, মানুষ তা যে যার মতো করে বুঝে নিয়েছে।
মানুষের এই নিস্পৃহতা দূর করাই হবে তিন মেয়রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিকদের আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের এমন কিছু করতে হবে, যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মানুষ যদি দেখে যে মেয়ররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচিত না হলেও জনজীবনের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, তাদের নিত্যদিনের ঝামেলা কমাতে কাজ করছেন, তাহলে ধীরে ধীরে একটা অবস্থা তৈরি হলেও হতে পারে।
এ রকম অবস্থা বিএনপির আমলেও হয়েছিল। সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি। কারণ, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি এমন তাণ্ডব শুরু করে, নেতাদের ধরপাকড়, মারধর করে এমন বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করে যে মাথা তুলে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন ছিল। কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে মেয়র হয়েও ২০১১ সাল পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা টিকে ছিলেন। নানা কারসাজি হয়তো ছিল, কিন্তু তিনি মেয়র হিসেবে টিকে ছিলেন। কিছু কাজও হয়েছিল তাঁর আমলে।
তবে এ দেশে কোনো ভালো কাজও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এবং সমালোচনাগুলোর পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও থাকে। সাদেক হোসেন খোকার মেয়রগিরিও ভালো-মন্দ মিশিয়ে পার হয়ে গেছে। তিনি যে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে একটি নিষ্প্রাণ নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন, সেটা সময়ের সঙ্গে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। তাঁর একটা কৌশল ছিল। তিনি কাজ করার সময় আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।
এখন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়ররা আর কাকে সঙ্গে নেবেন? বিএনপি তো মাঠে নেই। মারপিট-ভয়ভীতি-মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে তাদের রাজনীতির মাঠ থেকে তাড়ানো হয়েছে। বিএনপি আপাতত শীতনিদ্রায়। সংগঠন গুছিয়ে, শক্তি সঞ্চয় করে মাঠে নামবে। এখন নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হলে মেয়রদের সত্যিকার অর্থে কাজ করে দেখাতে হবে যে তাঁরা জনগণের সঙ্গে আছেন।
কাজটা খুব সহজ নয়। মেয়রদের প্রথম কাজ হবে একটা চেক লিস্ট তৈরি করা। মানুষের সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেগুলো সাজাতে হবে। অফিসে চোখের সামনে সেই তালিকা টাঙানো থাকবে। তালিকার একটি কপি বাসায় টাঙিয়ে রাখলে আরও ভালো। ভোরবেলা চায়ের টেবিলে বসলেই সেই সমস্যার তালিকা চোখের সামনে ভেসে উঠবে, অফিসে গেলেও সেটা তিনি দেখবেন। বাসায় ফিরে আবার দেখবেন। প্রতিদিন কতটা কাজ তিনি করতে পারলেন, তাঁর লোকজন দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কতটা অগ্রসর হতে পারলেন, সেটা দিন শেষে তিনি হিসাব করবেন।
যেমন, ঢাকায় যে সমস্যাটা সকাল থেকে মানুষের জান শেষ করে দেয়, সেটা হলো যানজট। আপনি যেখানেই যান, দু-তিন ঘণ্টা রাস্তা খেয়ে ফেলবে। কীভাবে এ সমস্যা দূর করা যায়? সরকারের সাহায্য দরকার। আর দরকার ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের দুই মেয়রের সমন্বিতভাবে কাজ করা। মানুষের আয় বেড়েছে, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কী করা যায়? সকালে গুলিস্তান থেকে গুলশান-বনানী পর্যন্ত অবর্ণনীয় যানজট। এটা চলতে থাকে রাত পর্যন্ত। কারণ, উত্তর-দক্ষিণে চলাচলের জন্য এখন কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ছাড়া উপায় নেই। কাকরাইল-মগবাজার-তেজগাঁওয়ের রাস্তাটিতে বছরের পর বছর ধরে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। মগবাজার-মৌচাক রাস্তারও একই দশা। ফলে গুলিস্তান-গুলশান পথে যাতায়াতের জন্য সব গাড়ি ফার্মগেটের রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর তো কোনো উপায় নেই। এই রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের কত লাখ ঘণ্টা যে যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হয়, তার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।
এই সমস্যার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, দুই কূলেরই সমস্যা। এখন দুই মেয়র সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করতে পারেন যে ওই দুটি ফ্লাইওভার যেন খুব দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা হয়। কেন বছরের পর বছর ফ্লাইওভারের কাজ চলবে? যে কাজ এক বছরে হতে পারে, সেটা চার-পাঁচ বছরেও শেষ হওয়া তো দূরের কথা, অর্ধেকও কেন হয় না? এর রহস্য কী? কাজ চলছে ঢিমে তালে। দেখার কি কেউ নেই? সরকারের কেউ কি বলতে পারেন না, কেন কাজ হচ্ছে না? কেন মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে?
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজটিও ঝুলে থাকত, যদি সরকার তাড়া না দিত। কিন্তু সেখানেও গ্যাঞ্জাম। ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে সাঁই–সাঁই করে, আর নিচের রাস্তায় দুনিয়ার জঞ্জাল। রাস্তা ভাঙাচোরা, ইট-পাথরের ব্লক। যেখানে-সেখানে বাস-ট্রাক ফেলে রাখা হয়েছে। নিচের রাস্তা দিয়ে বাস-গাড়ি চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ আরও অনেক আগেই ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা জঞ্জালমুক্ত করে দেওয়ার কথা। সেটা যে হচ্ছে না, তার কোনো জবাবদিহি নেই।
মেয়ররা হয়তো বলবেন, এসব ফ্লাইওভার তো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। মেয়রের কাজ না। হয়তো তাঁরা বলবেন, ‘নগর সরকার’ না হলে কীভাবে কী করব? ঠিক। নগর সরকার হলে তো ভালোই। কিন্তু সেটা না হলে যে নগরবাসীকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার দায় তো তাঁরা এড়াতে পারবেন না। তাই দুই মেয়র মিলে সরকারকে বোঝান, যেন দ্রুত ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করা হয়।
মেয়ররা তো পরিষ্কার ঢাকার জন্য ঝাড়ু হাতে রাজপথে নেমেছেন। ভালো কাজ। এ রকম একদিন সকাল থেকে দু-এক ঘণ্টা তেজগাঁও-মগবাজার-মৌচাক রাস্তাজুড়ে অবস্থান করেন না দুই মেয়র, তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে। ডাক দেন ভুক্তভোগী নাগরিকদের। কোনো হই–হাঙ্গামা নয়, কোনো ভাঙচুর নয়। শান্তিপূর্ণ অবস্থান। ন্যায্য দাবি। ছয় মাসের মধ্যে ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করতে হবে।
তারপর ক্ষণ গণনা শুরু করুন। নগর ভবনে একটা বড় ইলেকট্রনিক ঘড়ি লাগিয়ে দেন। সেখানে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে, ফ্লাইওভার শেষ করতে আর মাত্র ১৮২ দিন বাকি, পরদিন দেখা যাবে, আর মাত্র ১৮১ দিন বাকি! নগরবাসী দেখুক, কাজ কত দূর হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মেয়ররা সরকারকে অনুরোধ করতে পারেন, যেন সরকারি অফিসগুলো সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়। তাহলে যানজট কিছুটা কমানো যাবে। শুক্র-শনি ছুটি যথারীতি থাকবে। আগে তো সকালে অফিস হতো।
সরকার উঠেপড়ে লাগায় বিদ্যুৎ সমস্যা প্রায় মিটিয়ে ফেলা গেছে। এ রকম জানপ্রাণ চেষ্টা করলে যানজটও কমিয়ে আনা যাবে। তাহলে কত লোকের যে কত সময় বেঁচে যাবে, তা বুঝিয়ে বলা লাগে না। এটা যেন হয়, সে জন্য ঢাকার দুই মেয়র একযোগে কাজ করুন। যদি তাঁরা সফল হন, তাহলে মেয়রদের প্রতি মানুষের নিস্পৃহ ভাব অনেকটাই কেটে যাবে। নির্জীব নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রও যে খুব তেজি মেয়র হতে পারেন, তা তাঁরা প্রমাণ করতে পারবেন।
এর সঙ্গে আরও দুটি চ্যালেঞ্জ তাঁদের মোকাবিলা করতেই হবে। একটি হলো টেন্ডারবাজি-দলবাজি বন্ধ, অপরটি হলো জলাবদ্ধতার অবসান। এ দুটি বিষয়ে আগামী দিনে লিখব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail. com
Monday, May 11, 2015
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন পথে by আব্দুল কাইয়ুম
Monday, May 11, 2015
Anonymous
আওয়ামী লীগ,
আব্দুল কাইয়ুম,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
প্রথম আলো,
বিএনপি,
মতামত,
রাজনীতি
ঢাকা
ও চট্টগ্রামে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর দুটি ঘটনা বিস্ময়কর মনে
হয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীরা ঢাকঢোল বাজিয়ে কোনো বিজয় মিছিল
বের করেননি। অন্যদিকে বিএনপিও দুপুর ১২টা না বাজতেই তাদের
প্রতিদ্বন্দ্বিতার বারোটা বাজিয়ে চুপচাপ ঘরে ফিরে গেছে, কোনো হরতাল বা
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেনি। সাম্প্রতিক রাজনীতির উত্তাপের সঙ্গে এ দুটি ঘটনার
কোনোটিই খাপ খায় না। এক পক্ষ যে বিজয় মিছিলের নামে হইহুল্লোড় শুরু করেনি আর
অন্য পক্ষ যে লাগাতার অবরোধ-হরতাল ডেকে বসেনি, সেটা ভালোই হয়েছে।
নাগরিকেরা স্বস্তি পেয়েছে, সন্দেহ নেই।
কিন্তু এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল এভাবে ঢিলে মেরে দিতে পারে, তা কেউ ভাবেনি। যাক, নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে যে দেশে একটা মারামারি-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়নি, সেটাই ভাগ্যের কথা। দুই দলেরই কি সুমতি হলো নাকি?
আওয়ামী লীগ কি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেল? তাদের জেতা যে জেতা নয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগগুলো যে এক কথায় উড়িয়ে দেওয়া সহজ নয়, এসব সাত-পাঁচ ভেবেই কি তারা আর বিজয় উৎসবের দিকে যায়নি? এ রকম আত্মোপলব্ধি হয়ে থাকলে সেটা তো সহজ কথা নয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার প্রচার শোভাযাত্রায় হামলা, ইটপাটকেল ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিএনপি যেখানে নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদে সারা দেশে হরতাল ডাকল, তারা নির্বাচনে এত কিছুর পরও একদম চুপ থাকল কীভাবে? অভিযোগগুলো তো গুরুতর। কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখানো থেকে শুরু করে কোনো কিছুই তো বাদ ছিল না। এর পরও তাৎক্ষণিক কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার মাহাত্ম্য বোঝা কঠিন। একমাত্র কারণ হতে পারে তাদের সংগঠনের ভাঙাচোরা অবস্থা সম্পর্কে আত্মোপলব্ধি। এটাই বা কম কী!
নির্বাচনের আগে থেকেই একটা কথা শোনা যাচ্ছিল যে তিন সিটি করপোরেশনেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে যাবেন। এ রকম একটা আশঙ্কার কথা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কানেও উঠেছে। ধারণা ঠিক না বেঠিক, সেই হিসাব-নিকাশের সময় কোথায়? তাই দেখা গেল, পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি, মামলায় জড়ানো ও গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ উঠল। এমনিতেই বহু বছর ধরে বিএনপির লোকজন এলাকাছাড়া। নির্বাচনের ডামাডোলে নতুন করে হুমকি-ধমকি শুরু হলে বাদবাকি যে কয়জন ছিলেন, তাঁরাও গা ঢাকা দিলেন। এতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো আরও বেশি দুঃসাধ্য হয়ে উঠল।
আওয়ামী লীগ এটাই চাইছিল। বিএনপি যদি মাঠে না থাকে, তাহলে মানুষ ভোট দেবে কাকে? এরপর যখন দুপুর না হতেই বিএনপি রণে ভঙ্গ দিল, তখন কে কোথায় সিল মারল, সেটা গৌণ বিষয়ে পরিণত হলো। কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কিছু মারপিট হয়েছে। এমনকি পুলিশকেও টিয়ার গ্যাস মারতে হয়েছে। কোথাও সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা হলো বটে, কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্ট তো নেই। ভোটের হিসাব বুঝে নেবে কে?
এসব ব্যাপার মানুষও জানে, আওয়ামী লীগও জানে। এ রকম নির্বাচনে বিজয়ের ঢাক পেটাতে যাওয়া যে হাস্যকর হবে, সেটা বুঝতে পারার মতো মেধার অভাব আওয়ামী লীগের মধ্যে নিশ্চয়ই নেই। ফলে বিজয়ী মেয়ররা বিভিন্ন চ্যানেলে সহাস্যবদনে হাত নেড়ে সবাইকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়েই ক্ষান্তি দিলেন।
অবশ্য আওয়ামী লীগ বলতে পারে, তারা ২০০৮ সালে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেও বিজয় মিছিল বের করেনি। সুতরাং ঢাকঢোল পেটানোর সংস্কৃতি থেকে তারা আগেই বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করলে কথাটা অসত্য হবে না। কিন্তু এটা তো শুধু মেয়র নির্বাচন ছিল না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনও ছিল। আগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলরদের জাঁকজমক করে বিজয় মিছিল করতে দেখা গেছে। এবার সেটাও ফাঁকা। হয়তো তাঁরাও হাওয়া বুঝে চলতে শিখে গেছেন। এ নির্বাচনে জেতাটা যে জেতার পর্যায়ে দেখতে মানুষ রাজি ছিল না, সেটা তাঁরা ধরতে পেরেছেন। এটা কম উন্নতি নয়।
অন্যদিকে বিএনপির অবস্থা তো আরও খারাপ। তারা নির্বাচন শুরু হতে না হতেই প্রথমে চট্টগ্রামে এবং এর কিছু পরে ঢাকায় নির্বাচন ত্যাগ করে। টিভিতে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে তো সবাই অবাক। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ছিল শান্ত। মারদাঙ্গা পরিস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। বিএনপির নির্বাচন ত্যাগ অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শোনায়।
বিএনপির একটি বড় অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ দেখছে মারপিট তো দূরের কথা, বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির লোকই নেই, কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে টেবিল নিয়ে কেউ বসেনি। যেখানে বিএনপির কর্মীই যাননি, সেখানে ঘাড় ধরে বের করবে কাকে? এ তো হাস্যকর কথা। অনেকে বলেছেন, এজেন্টদের খরচাপাতির জন্য বেশ টাকা দেওয়া হলেও তাঁরা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য যাননি। প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্র যে বিএনপিশূন্য ছিল, তা তো গোপন বিষয় নয়।
বিএনপি বলতে পারে, পুলিশের ভয়ভীতির মধ্যে কর্মীরা কোন সাহসে যাবেন কেন্দ্রে? এ তো পরের কথা। যেখানে তাঁরা কেন্দ্রে যানইনি, সেখানে তাঁদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কোথায়? সুতরাং বিএনপি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেছে। যেখানে আশা ছিল খালেদা জিয়া পথে নামলেই লাখে লাখে লোক নেমে পড়বে, সেটা না হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনের আগে থেকেই কিছুটা হতাশ ছিল। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে নির্বাচনের পরে।
বিএনপি মুখে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে বাস্তব অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা বেশি সচেতন। নির্বাচনের আগের মুহূর্তে হরতালে যখন সাড়া পাওয়া যায়নি, সেখানে আবার নির্বাচনে জোর-জবরদস্তির অভিযোগে হরতাল ডেকে যে কোনো লাভ নেই, এই বাস্তবতা তারা এত দিনে বুঝতে পেরেছে।
মনে রাখা দরকার, বিএনপি কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। এটা তাদের করা উচিত। সবকিছু স্বাভাবিক। কেউ অবরোধ মানে না। হরতাল মানে না। তাহলে ওই সব ডেকে লাভ কী? নির্বাচনের দিনে যখন দেখা গেল মাঠে কেউ নেই, তখন তারা টের পেল যে সংগঠন কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যে হরতাল ডাকা চলে না, সেই বুঝ তাদের হয়েছে। এ জন্য বিএনপি ধন্যবাদ পেতে পারে।
একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার কিন্তু থেকেই গেল। বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহারের পরও দিন শেষে দেখা গেল তাদের সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীরা প্রত্যেকেই কয়েক লাখ করে ভোট পেয়েছেন! এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সিল মারার সময় কিছু সিল বিএনপির পক্ষেও মেরে দিয়েছে, ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। এটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এত নিখুঁত হিসাব করে যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচন জালিয়াতি করে থাকতে পারে, তাহলে দেশ পরিচালনায় তো তাদের আরও ভালো করার কথা। সবখানে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আর ভোটের সময় নিপুণভাবে ব্যালেন্স করে সিল মারার সুনাম!
যদি এটা কারসাজি না হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থীরা এত ভোট পেলেন কীভাবে? এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, যেখানে অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ভোট পড়েছে বেশি।
এর তাৎপর্য এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই দলকেই উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপি যদি বোঝে যে কথায় কথায় হরতাল দিলে জনবিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না এবং আওয়ামী লীগ যদি বোঝে যে ভয়ভীতি ও পুলিশি নির্যাতন দিয়ে ভোট আনা যায় না, তাহলে হয়তো আগামী দিনের রাজনীতি একটি সুস্থ ধারায় আসতে পারে। আমরা সেই সম্ভাবনার জন্যই পথ চেয়ে রইব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
কিন্তু এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল এভাবে ঢিলে মেরে দিতে পারে, তা কেউ ভাবেনি। যাক, নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে যে দেশে একটা মারামারি-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়নি, সেটাই ভাগ্যের কথা। দুই দলেরই কি সুমতি হলো নাকি?
আওয়ামী লীগ কি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেল? তাদের জেতা যে জেতা নয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগগুলো যে এক কথায় উড়িয়ে দেওয়া সহজ নয়, এসব সাত-পাঁচ ভেবেই কি তারা আর বিজয় উৎসবের দিকে যায়নি? এ রকম আত্মোপলব্ধি হয়ে থাকলে সেটা তো সহজ কথা নয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার প্রচার শোভাযাত্রায় হামলা, ইটপাটকেল ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিএনপি যেখানে নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদে সারা দেশে হরতাল ডাকল, তারা নির্বাচনে এত কিছুর পরও একদম চুপ থাকল কীভাবে? অভিযোগগুলো তো গুরুতর। কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখানো থেকে শুরু করে কোনো কিছুই তো বাদ ছিল না। এর পরও তাৎক্ষণিক কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার মাহাত্ম্য বোঝা কঠিন। একমাত্র কারণ হতে পারে তাদের সংগঠনের ভাঙাচোরা অবস্থা সম্পর্কে আত্মোপলব্ধি। এটাই বা কম কী!
নির্বাচনের আগে থেকেই একটা কথা শোনা যাচ্ছিল যে তিন সিটি করপোরেশনেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে যাবেন। এ রকম একটা আশঙ্কার কথা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের কানেও উঠেছে। ধারণা ঠিক না বেঠিক, সেই হিসাব-নিকাশের সময় কোথায়? তাই দেখা গেল, পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি, মামলায় জড়ানো ও গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ উঠল। এমনিতেই বহু বছর ধরে বিএনপির লোকজন এলাকাছাড়া। নির্বাচনের ডামাডোলে নতুন করে হুমকি-ধমকি শুরু হলে বাদবাকি যে কয়জন ছিলেন, তাঁরাও গা ঢাকা দিলেন। এতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো আরও বেশি দুঃসাধ্য হয়ে উঠল।
আওয়ামী লীগ এটাই চাইছিল। বিএনপি যদি মাঠে না থাকে, তাহলে মানুষ ভোট দেবে কাকে? এরপর যখন দুপুর না হতেই বিএনপি রণে ভঙ্গ দিল, তখন কে কোথায় সিল মারল, সেটা গৌণ বিষয়ে পরিণত হলো। কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কিছু মারপিট হয়েছে। এমনকি পুলিশকেও টিয়ার গ্যাস মারতে হয়েছে। কোথাও সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা হলো বটে, কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্ট তো নেই। ভোটের হিসাব বুঝে নেবে কে?
এসব ব্যাপার মানুষও জানে, আওয়ামী লীগও জানে। এ রকম নির্বাচনে বিজয়ের ঢাক পেটাতে যাওয়া যে হাস্যকর হবে, সেটা বুঝতে পারার মতো মেধার অভাব আওয়ামী লীগের মধ্যে নিশ্চয়ই নেই। ফলে বিজয়ী মেয়ররা বিভিন্ন চ্যানেলে সহাস্যবদনে হাত নেড়ে সবাইকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়েই ক্ষান্তি দিলেন।
অবশ্য আওয়ামী লীগ বলতে পারে, তারা ২০০৮ সালে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেও বিজয় মিছিল বের করেনি। সুতরাং ঢাকঢোল পেটানোর সংস্কৃতি থেকে তারা আগেই বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করলে কথাটা অসত্য হবে না। কিন্তু এটা তো শুধু মেয়র নির্বাচন ছিল না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনও ছিল। আগে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলরদের জাঁকজমক করে বিজয় মিছিল করতে দেখা গেছে। এবার সেটাও ফাঁকা। হয়তো তাঁরাও হাওয়া বুঝে চলতে শিখে গেছেন। এ নির্বাচনে জেতাটা যে জেতার পর্যায়ে দেখতে মানুষ রাজি ছিল না, সেটা তাঁরা ধরতে পেরেছেন। এটা কম উন্নতি নয়।
অন্যদিকে বিএনপির অবস্থা তো আরও খারাপ। তারা নির্বাচন শুরু হতে না হতেই প্রথমে চট্টগ্রামে এবং এর কিছু পরে ঢাকায় নির্বাচন ত্যাগ করে। টিভিতে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে তো সবাই অবাক। কারণ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ছিল শান্ত। মারদাঙ্গা পরিস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। বিএনপির নির্বাচন ত্যাগ অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শোনায়।
বিএনপির একটি বড় অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ দেখছে মারপিট তো দূরের কথা, বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির লোকই নেই, কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে টেবিল নিয়ে কেউ বসেনি। যেখানে বিএনপির কর্মীই যাননি, সেখানে ঘাড় ধরে বের করবে কাকে? এ তো হাস্যকর কথা। অনেকে বলেছেন, এজেন্টদের খরচাপাতির জন্য বেশ টাকা দেওয়া হলেও তাঁরা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য যাননি। প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্র যে বিএনপিশূন্য ছিল, তা তো গোপন বিষয় নয়।
বিএনপি বলতে পারে, পুলিশের ভয়ভীতির মধ্যে কর্মীরা কোন সাহসে যাবেন কেন্দ্রে? এ তো পরের কথা। যেখানে তাঁরা কেন্দ্রে যানইনি, সেখানে তাঁদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কোথায়? সুতরাং বিএনপি বুঝেশুনেই চুপ মেরে গেছে। যেখানে আশা ছিল খালেদা জিয়া পথে নামলেই লাখে লাখে লোক নেমে পড়বে, সেটা না হওয়ায় বিএনপি নির্বাচনের আগে থেকেই কিছুটা হতাশ ছিল। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে নির্বাচনের পরে।
বিএনপি মুখে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে বাস্তব অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা বেশি সচেতন। নির্বাচনের আগের মুহূর্তে হরতালে যখন সাড়া পাওয়া যায়নি, সেখানে আবার নির্বাচনে জোর-জবরদস্তির অভিযোগে হরতাল ডেকে যে কোনো লাভ নেই, এই বাস্তবতা তারা এত দিনে বুঝতে পেরেছে।
মনে রাখা দরকার, বিএনপি কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। এটা তাদের করা উচিত। সবকিছু স্বাভাবিক। কেউ অবরোধ মানে না। হরতাল মানে না। তাহলে ওই সব ডেকে লাভ কী? নির্বাচনের দিনে যখন দেখা গেল মাঠে কেউ নেই, তখন তারা টের পেল যে সংগঠন কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যে হরতাল ডাকা চলে না, সেই বুঝ তাদের হয়েছে। এ জন্য বিএনপি ধন্যবাদ পেতে পারে।
একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার কিন্তু থেকেই গেল। বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহারের পরও দিন শেষে দেখা গেল তাদের সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীরা প্রত্যেকেই কয়েক লাখ করে ভোট পেয়েছেন! এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সিল মারার সময় কিছু সিল বিএনপির পক্ষেও মেরে দিয়েছে, ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। এটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এত নিখুঁত হিসাব করে যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচন জালিয়াতি করে থাকতে পারে, তাহলে দেশ পরিচালনায় তো তাদের আরও ভালো করার কথা। সবখানে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আর ভোটের সময় নিপুণভাবে ব্যালেন্স করে সিল মারার সুনাম!
যদি এটা কারসাজি না হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থীরা এত ভোট পেলেন কীভাবে? এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, যেখানে অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ভোট পড়েছে বেশি।
এর তাৎপর্য এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই দলকেই উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপি যদি বোঝে যে কথায় কথায় হরতাল দিলে জনবিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না এবং আওয়ামী লীগ যদি বোঝে যে ভয়ভীতি ও পুলিশি নির্যাতন দিয়ে ভোট আনা যায় না, তাহলে হয়তো আগামী দিনের রাজনীতি একটি সুস্থ ধারায় আসতে পারে। আমরা সেই সম্ভাবনার জন্যই পথ চেয়ে রইব।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Monday, April 27, 2015
‘আমি যদি মেয়র হই’ by আব্দুল কাইয়ুম
![]() |
| প্রথম আলোর সংলাপে ঢাকার ছয় মেয়র পদপ্রার্থী |
আমি
যদি মেয়র হতাম, তাহলে অন্য সব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা
নদীকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনার কথা বলতাম। কিন্তু তহবিল কোথায়? সিটি
করপোরেশনের তো অত টাকা নেই। তাহলে? তার পরও একটা বুদ্ধি আছে। সে কথায় পরে
আসছি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মূল কয়েকজন মেয়র
পদপ্রার্থী প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কথা বলেছেন।
তাঁদের কিছু চিন্তাভাবনা চমকপ্রদও। প্রচলিত ধ্যানধারণাকে হার মানায়। কিন্তু
বুড়িগঙ্গা নদীর কথা কেউ বলেননি। অবশ্য নদীটি তো সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়ে
না। সীমানা দিয়ে চলে গেছে। তাই এই নদীর ভালো-মন্দ যে সিটি করপোরেশনের
দায়িত্বের আওতায় আসতে পারে, সেটা কারও ভাবনার মধ্যেই নেই। অথচ ঢাকা মহানগর
বলি বা রাজধানী ঢাকা বলি, অবিভক্ত উত্তর-দক্ষিণ হিসেবে দেখলে বিষয়টি ঢাকা
মহানগরবাসীর জীবন-মরণের প্রশ্ন। বুড়িগঙ্গা বাদ দিয়ে কি ঢাকাবাসীর মঙ্গলের
কথা ভাবা যায়?
আমাদের গোলটেবিলে মেয়র প্রার্থীদের একটা কথা খুব ভালো বলতেই হবে। ছয়জন মেয়র প্রার্থীর সবাই বলেছেন, তাঁরা যদি মেয়র নির্বাচিত হন, তাহলে সিটি করপোরেশনকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখবেন। প্রত্যেক প্রার্থীর পেছনেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন রয়েছে। কেউ কেউ প্রধান রাজনৈতিক কোনো দলের প্রথম বা অন্তত মধ্যম সারির নেতা। তাঁরা যখন সিটি করপোরেশনকে দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে রাখার কথা বলেন এবং যদি নির্বাচিত হয়ে সত্যিই তা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে বলতে হবে একটা বিপ্লব হয়ে যাবে। কপাল খুলে যাবে রাজধানীর মানুষের।
এর মানে এই নয় যে রাজনীতিই সব নষ্টের গোড়া। তা নয়। দেশ নিশ্চয়ই রাজনীতিকেরা চালাবেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার? এর প্রধান কাজ হলো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। সেখানে দলীয় রাজনীতি টেনে আনার কুফল গত কয়েক দশকে আমরা কম দেখিনি।
বলা হয়, সিটি করপোরেশনের হাতে খুব বেশি ক্ষমতা নেই। সেটা ঠিক। পানির দায়িত্ব ওয়াসার, বিদ্যুতের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ। তিতাস গ্যাস তো আর সিটি করপোরেশনের কথা শুনে চলবে না। তাহলে নাগরিকেরা যখন পানি পায় না, বিদ্যুৎ বা গ্যাস-সংকটে ভোগে, তখন সিটি করপোরেশনের কাছে হাত পেতে তো ফল পাবে না। এটা ঠিক।
কিন্তু তার পরও সিটি করপোরেশনের হাতে একটা মোক্ষম ক্ষমতা আছে। সেটা টেন্ডারের ক্ষমতা। এই ক্ষমতার দৌরাত্ম্য বোঝা যায় যখন সামান্য কিছু রাস্তা তৈরি বা সংস্কার, অথবা দোকান বরাদ্দ, মার্কেট ইজারা বা এ ধরনের কাজের জন্য টেন্ডারবাজি শুরু হয়। সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে টেন্ডারবাজি কম হয়নি। এমনকি টেন্ডার নিয়ে গোলাগুলিও হয়েছে। বিচার হয়নি। কারণ একটাই। সেই দলবাজি।
তাই আজ যে প্রার্থীরা বলে গেলেন, তাঁরা মেয়র নির্বাচিত হলে করপোরেশনে দলীয় রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না, সেটা যদি সত্যি সত্যি তাঁরা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে টেন্ডারবাজি নিয়ে খুনোখুনি নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। দুর্নীতির গোড়ায়ও ধাক্কা লাগবে। একটা পরিবর্তনের সুবাতাস বইতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা অনেকেই বলে গেছেন। প্রায় সবাই বলেছেন নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা। দুজন প্রার্থী তো ঝাড়ু-বেলচা নিয়ে রাজপথ পরিষ্কারে ইতিমধ্যে নেমে গেছেন। নমুনা হিসেবে। এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সমস্যার বহর তো কম নয়। শুধু ঝাড়ু-বেলচায় সামলানো যাবে না। ঢাকা মহানগরে দেড় কোটির বেশি মানুষ। মনুষ্য বর্জ্যত্যাগের কথা না হয় বাদই দিলাম। বস্তি এলাকায় সে তো এক জঘন্য সমস্যা। এর বাইরে প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য যদি জনপ্রতি মাত্র এক কেজিও ধরি, তাহলে প্রতিদিন অন্তত দেড় কোটি কেজি, অর্থাৎ ১৫ হাজার টন বর্জ্য জমা হচ্ছে। সারা শহরে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে পরিবেশ দুর্বিষহ করে তোলে। এই মহানগর যে শুধু যানজট, ছিনতাই-রাহাজানি, ভেজাল খাবার, ঠগবাজ, বখাটেপনার জন্যই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, তাই নয়। যেখানে-সেখানে বর্জ্যের ছড়াছড়িও একটা কারণ।
এই বর্জ্য সিটি করপোরেশন ফেলবে কোথায়? আমরা একটা আধুনিক ব্যবস্থার কথা ভাবতে পারি। এই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করব, জৈব সার তৈরি করব। জার্মানি, ডেনমার্ক শহরে দেখে এসেছি কী সুন্দর শহর। সুন্দর, কারণ ওরা বর্জ্য থেকে শক্তি ও সার তৈরি করছে। প্ল্যান্ট বসিয়েছে। ওরা কোনো জিনিসই নষ্ট হতে দেয় না। এমনকি ময়লাও নষ্ট হয় না। কাজে লাগায়। আমাদের মেয়ররা ভবিষ্যতে বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে রাজধানী ঢাকায় এক নতুন যুগের সূচনা করবেন বলে আশা করি।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর মেয়র নির্বাচন হচ্ছে। শেষ তিন-চার বছর ধরে তো ঢাকায় কোনো নির্বাচিত মেয়রই নেই। চলছে প্রশাসকের আদেশ-নির্দেশে। তাই মেয়র নির্বাচন এখন খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মানুষ নিশ্চয়ই দলে দলে ভোট দিতে আসবে। কারণ, তাদের দরকার সহজে নাগরিক সেবা লাভের সুবিধা। প্রায় সব প্রার্থীই বলেছেন নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁদের প্রধান কাজ। এখন তো নাগরিকত্ব সনদ নিতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। নির্বাচিত মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে সহজে এসব সেবা পাওয়া যাবে। একজন নির্বাচিত মেয়র খুব সহজে মানুষের কাছাকাছি যেতে পারবেন, যদি তিনি রুটিন করে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ওয়ার্ড টহলে বেরোন। যেখানে রাস্তা ভাঙাচোরা দেখবেন, অথবা ময়লার পাহাড়, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দায়িত্ব পালনকারীকে তলব করে জবাবদিহি করলে মানুষ চোখের সামনে প্রতিকারের একটা উপায় খুঁজে পাবে। এ দেশে জবাবদিহির বালাই নেই। সেখানে নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়ে এসে যদি নতুন পথের সন্ধান দেন, তাহলে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
এখন আসি সেই বুড়িগঙ্গার কথায়।
আমি মেয়র প্রার্থী না। কিন্তু অনেক সময় ভাবি, যদি মেয়র হতাম, তাহলে অন্য সব জরুরি কাজগুলো তো করতামই। যেমন অন্যরা বলেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, নারীবান্ধব পরিবেশ, এ প্রজন্মের জন্য এক নতুন মহানগর গড়ে তোলা, সেসব তো করতামই। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকতাম না।
এর বাইরে আমি ভাবতাম আমাদের এই রাজধানীর কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীর কথা। এ পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থীই এই দায়িত্বের কথা বলেননি। অথচ এই বুড়িগঙ্গাই আমাদের এই মহানগরের প্রাণ। সৌন্দর্য। ঐতিহ্য। আরও কত কী। এই নদীর অবস্থা আজ কী?
বুড়িগঙ্গা আজ মরতে বসেছে। যারা ধান্দাবাজ, তারা তো মারছেই। এমনকি সরকারি লোকজনও এই নদীকে মারছে নানাভাবে। নদীর পানি দূষণ করছে শত শত কারখানা। তারা দূষিত তরল, রং, এমনকি রাসায়নিক দ্রব্য, সবকিছু পাইপ দিয়ে নদীর পানিতে ঢালছে। নদীর পাড় দখল করে গড়ে তুলছে বালুমহাল। তারা প্রভাবশালী। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। যাঁদের দেখার কথা, তাঁরা কিছুমিছু খেয়ে ছেড়ে দেন। মাঝেমধ্যে বুড়িগঙ্গার তীরের অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয় বটে, কিন্তু আবার গজায়।
বুড়িগঙ্গার পানি আজ কালো হয়ে গেছে। নৌবিহারে যাবেন, তার উপায় নেই। দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত। পানিতে কোনো মাছ নেই। কারণ, রাসায়নিক দ্রব্যে পানি বিষাক্ত। বুড়িগঙ্গার তীরে আজ আমরা বেড়াতে যাই না। এই নদী আমাদের দূরে ঠেলে দেয়।
আমরা কি পারি না বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে? নিশ্চয়ই পারি। বেইজিংয়ে দেখেছি নগরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার এক-তৃতীয়াংশ বহরের শীর্ণকায় এক নদী। এরই দুই পাড় কী সুন্দর করে বাঁধিয়ে রেখেছেন নগরবিদেরা। পানি স্বচ্ছ। সকালে মানুষ দুই পাশের ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটে। নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে পার্ক। শুধু বেইজিং কেন? কোথায় নেই? বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নগর নিউইয়র্কে রয়েছে হাডসন নদী। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের বুক চিড়ে বয়ে গেছে কী সুন্দর যত্নে লালিত নদী। লন্ডনের টেমস নদীর কথা নতুন করে আর না-ই বা বললাম।
তাহলে আমরা পারব না কেন। বুড়িগঙ্গা নদীটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ-দুই সিটি করপোরেশনেরই কূল ঘেঁষে বয়ে গেছে। তাই আগামী দিনে নির্বাচিত দুই মেয়র মিলে বুড়িগঙ্গা নদীকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনার একটি প্রকল্প নিতে পারেন। এটা হবে এক মেগা প্রকল্প। এর জন্য চাই মেগা তহবিল। সরকার তো কিছু দেবেই। কিন্তু এই প্রকল্পের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর উদ্যোগ নিলে তহবিলের সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। সাধারণ নাগরিকেরা শেয়ার কিনবেন। প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানালে তাঁরাও উদার মনে এগিয়ে আসবেন। কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে বুড়িগঙ্গার চারপাশ। কোনো কারখানার বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় নদীতে ফেলা যাবে না। তরল বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। বাধ্যতামূলক। ঢাকার চারপাশ দিয়ে যে চারটি নদী বয়ে গেছে, সেগুলোও একইভাবে সুন্দর স্রোতোধারায় রূপান্তরিত করতে হবে। চারপাশের নদীপথে চলবে নৌযান। এ পরিকল্পনা এখনো আছে, কিন্তু নদীই যেখানে মরছে, ট্রলার চলবে কোথায়?
প্রশ্ন হলো, ক্রাউড ফান্ডিংয়ে কে আসবে? ঢাকার মানুষই আসবে। কারণ, তারা জানে বুড়িগঙ্গা বাঁচলে ঢাকা বাঁচবে। আমাদের ঐতিহ্য বাঁচবে।
আগামী দিনের নির্বাচিত মেয়ররা এ রকম একটা সাহসী পদক্ষেপ নিলে এ যুগের নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
আমাদের গোলটেবিলে মেয়র প্রার্থীদের একটা কথা খুব ভালো বলতেই হবে। ছয়জন মেয়র প্রার্থীর সবাই বলেছেন, তাঁরা যদি মেয়র নির্বাচিত হন, তাহলে সিটি করপোরেশনকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখবেন। প্রত্যেক প্রার্থীর পেছনেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন রয়েছে। কেউ কেউ প্রধান রাজনৈতিক কোনো দলের প্রথম বা অন্তত মধ্যম সারির নেতা। তাঁরা যখন সিটি করপোরেশনকে দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে রাখার কথা বলেন এবং যদি নির্বাচিত হয়ে সত্যিই তা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে বলতে হবে একটা বিপ্লব হয়ে যাবে। কপাল খুলে যাবে রাজধানীর মানুষের।
এর মানে এই নয় যে রাজনীতিই সব নষ্টের গোড়া। তা নয়। দেশ নিশ্চয়ই রাজনীতিকেরা চালাবেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার? এর প্রধান কাজ হলো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। সেখানে দলীয় রাজনীতি টেনে আনার কুফল গত কয়েক দশকে আমরা কম দেখিনি।
বলা হয়, সিটি করপোরেশনের হাতে খুব বেশি ক্ষমতা নেই। সেটা ঠিক। পানির দায়িত্ব ওয়াসার, বিদ্যুতের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ। তিতাস গ্যাস তো আর সিটি করপোরেশনের কথা শুনে চলবে না। তাহলে নাগরিকেরা যখন পানি পায় না, বিদ্যুৎ বা গ্যাস-সংকটে ভোগে, তখন সিটি করপোরেশনের কাছে হাত পেতে তো ফল পাবে না। এটা ঠিক।
কিন্তু তার পরও সিটি করপোরেশনের হাতে একটা মোক্ষম ক্ষমতা আছে। সেটা টেন্ডারের ক্ষমতা। এই ক্ষমতার দৌরাত্ম্য বোঝা যায় যখন সামান্য কিছু রাস্তা তৈরি বা সংস্কার, অথবা দোকান বরাদ্দ, মার্কেট ইজারা বা এ ধরনের কাজের জন্য টেন্ডারবাজি শুরু হয়। সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে টেন্ডারবাজি কম হয়নি। এমনকি টেন্ডার নিয়ে গোলাগুলিও হয়েছে। বিচার হয়নি। কারণ একটাই। সেই দলবাজি।
তাই আজ যে প্রার্থীরা বলে গেলেন, তাঁরা মেয়র নির্বাচিত হলে করপোরেশনে দলীয় রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না, সেটা যদি সত্যি সত্যি তাঁরা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে টেন্ডারবাজি নিয়ে খুনোখুনি নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। দুর্নীতির গোড়ায়ও ধাক্কা লাগবে। একটা পরিবর্তনের সুবাতাস বইতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা অনেকেই বলে গেছেন। প্রায় সবাই বলেছেন নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা। দুজন প্রার্থী তো ঝাড়ু-বেলচা নিয়ে রাজপথ পরিষ্কারে ইতিমধ্যে নেমে গেছেন। নমুনা হিসেবে। এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সমস্যার বহর তো কম নয়। শুধু ঝাড়ু-বেলচায় সামলানো যাবে না। ঢাকা মহানগরে দেড় কোটির বেশি মানুষ। মনুষ্য বর্জ্যত্যাগের কথা না হয় বাদই দিলাম। বস্তি এলাকায় সে তো এক জঘন্য সমস্যা। এর বাইরে প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য যদি জনপ্রতি মাত্র এক কেজিও ধরি, তাহলে প্রতিদিন অন্তত দেড় কোটি কেজি, অর্থাৎ ১৫ হাজার টন বর্জ্য জমা হচ্ছে। সারা শহরে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে পরিবেশ দুর্বিষহ করে তোলে। এই মহানগর যে শুধু যানজট, ছিনতাই-রাহাজানি, ভেজাল খাবার, ঠগবাজ, বখাটেপনার জন্যই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, তাই নয়। যেখানে-সেখানে বর্জ্যের ছড়াছড়িও একটা কারণ।
এই বর্জ্য সিটি করপোরেশন ফেলবে কোথায়? আমরা একটা আধুনিক ব্যবস্থার কথা ভাবতে পারি। এই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করব, জৈব সার তৈরি করব। জার্মানি, ডেনমার্ক শহরে দেখে এসেছি কী সুন্দর শহর। সুন্দর, কারণ ওরা বর্জ্য থেকে শক্তি ও সার তৈরি করছে। প্ল্যান্ট বসিয়েছে। ওরা কোনো জিনিসই নষ্ট হতে দেয় না। এমনকি ময়লাও নষ্ট হয় না। কাজে লাগায়। আমাদের মেয়ররা ভবিষ্যতে বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে রাজধানী ঢাকায় এক নতুন যুগের সূচনা করবেন বলে আশা করি।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর মেয়র নির্বাচন হচ্ছে। শেষ তিন-চার বছর ধরে তো ঢাকায় কোনো নির্বাচিত মেয়রই নেই। চলছে প্রশাসকের আদেশ-নির্দেশে। তাই মেয়র নির্বাচন এখন খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মানুষ নিশ্চয়ই দলে দলে ভোট দিতে আসবে। কারণ, তাদের দরকার সহজে নাগরিক সেবা লাভের সুবিধা। প্রায় সব প্রার্থীই বলেছেন নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁদের প্রধান কাজ। এখন তো নাগরিকত্ব সনদ নিতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। নির্বাচিত মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলে সহজে এসব সেবা পাওয়া যাবে। একজন নির্বাচিত মেয়র খুব সহজে মানুষের কাছাকাছি যেতে পারবেন, যদি তিনি রুটিন করে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ওয়ার্ড টহলে বেরোন। যেখানে রাস্তা ভাঙাচোরা দেখবেন, অথবা ময়লার পাহাড়, সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দায়িত্ব পালনকারীকে তলব করে জবাবদিহি করলে মানুষ চোখের সামনে প্রতিকারের একটা উপায় খুঁজে পাবে। এ দেশে জবাবদিহির বালাই নেই। সেখানে নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়ে এসে যদি নতুন পথের সন্ধান দেন, তাহলে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
এখন আসি সেই বুড়িগঙ্গার কথায়।
আমি মেয়র প্রার্থী না। কিন্তু অনেক সময় ভাবি, যদি মেয়র হতাম, তাহলে অন্য সব জরুরি কাজগুলো তো করতামই। যেমন অন্যরা বলেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, নারীবান্ধব পরিবেশ, এ প্রজন্মের জন্য এক নতুন মহানগর গড়ে তোলা, সেসব তো করতামই। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকতাম না।
এর বাইরে আমি ভাবতাম আমাদের এই রাজধানীর কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীর কথা। এ পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থীই এই দায়িত্বের কথা বলেননি। অথচ এই বুড়িগঙ্গাই আমাদের এই মহানগরের প্রাণ। সৌন্দর্য। ঐতিহ্য। আরও কত কী। এই নদীর অবস্থা আজ কী?
বুড়িগঙ্গা আজ মরতে বসেছে। যারা ধান্দাবাজ, তারা তো মারছেই। এমনকি সরকারি লোকজনও এই নদীকে মারছে নানাভাবে। নদীর পানি দূষণ করছে শত শত কারখানা। তারা দূষিত তরল, রং, এমনকি রাসায়নিক দ্রব্য, সবকিছু পাইপ দিয়ে নদীর পানিতে ঢালছে। নদীর পাড় দখল করে গড়ে তুলছে বালুমহাল। তারা প্রভাবশালী। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। যাঁদের দেখার কথা, তাঁরা কিছুমিছু খেয়ে ছেড়ে দেন। মাঝেমধ্যে বুড়িগঙ্গার তীরের অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয় বটে, কিন্তু আবার গজায়।
বুড়িগঙ্গার পানি আজ কালো হয়ে গেছে। নৌবিহারে যাবেন, তার উপায় নেই। দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত। পানিতে কোনো মাছ নেই। কারণ, রাসায়নিক দ্রব্যে পানি বিষাক্ত। বুড়িগঙ্গার তীরে আজ আমরা বেড়াতে যাই না। এই নদী আমাদের দূরে ঠেলে দেয়।
আমরা কি পারি না বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে? নিশ্চয়ই পারি। বেইজিংয়ে দেখেছি নগরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার এক-তৃতীয়াংশ বহরের শীর্ণকায় এক নদী। এরই দুই পাড় কী সুন্দর করে বাঁধিয়ে রেখেছেন নগরবিদেরা। পানি স্বচ্ছ। সকালে মানুষ দুই পাশের ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটে। নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে পার্ক। শুধু বেইজিং কেন? কোথায় নেই? বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নগর নিউইয়র্কে রয়েছে হাডসন নদী। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের বুক চিড়ে বয়ে গেছে কী সুন্দর যত্নে লালিত নদী। লন্ডনের টেমস নদীর কথা নতুন করে আর না-ই বা বললাম।
তাহলে আমরা পারব না কেন। বুড়িগঙ্গা নদীটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ-দুই সিটি করপোরেশনেরই কূল ঘেঁষে বয়ে গেছে। তাই আগামী দিনে নির্বাচিত দুই মেয়র মিলে বুড়িগঙ্গা নদীকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনার একটি প্রকল্প নিতে পারেন। এটা হবে এক মেগা প্রকল্প। এর জন্য চাই মেগা তহবিল। সরকার তো কিছু দেবেই। কিন্তু এই প্রকল্পের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর উদ্যোগ নিলে তহবিলের সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। সাধারণ নাগরিকেরা শেয়ার কিনবেন। প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানালে তাঁরাও উদার মনে এগিয়ে আসবেন। কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে বুড়িগঙ্গার চারপাশ। কোনো কারখানার বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় নদীতে ফেলা যাবে না। তরল বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। বাধ্যতামূলক। ঢাকার চারপাশ দিয়ে যে চারটি নদী বয়ে গেছে, সেগুলোও একইভাবে সুন্দর স্রোতোধারায় রূপান্তরিত করতে হবে। চারপাশের নদীপথে চলবে নৌযান। এ পরিকল্পনা এখনো আছে, কিন্তু নদীই যেখানে মরছে, ট্রলার চলবে কোথায়?
প্রশ্ন হলো, ক্রাউড ফান্ডিংয়ে কে আসবে? ঢাকার মানুষই আসবে। কারণ, তারা জানে বুড়িগঙ্গা বাঁচলে ঢাকা বাঁচবে। আমাদের ঐতিহ্য বাঁচবে।
আগামী দিনের নির্বাচিত মেয়ররা এ রকম একটা সাহসী পদক্ষেপ নিলে এ যুগের নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Friday, April 3, 2015
এখন সরকারের দায়িত্ব বেশি by আব্দুল কাইয়ুম
বিএনপি
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসার পর অবস্থা বদলে গেল। এখন সরকারকে প্রমাণ
করতে হবে, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের অবাধে নির্বাচন করার পথে কোনো বাধা
নেই। সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকলে এর দায় গিয়ে পড়বে সরকারের ওপর।
কয়েক দিন আগে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মুহূর্তে নির্বাচন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না—এ প্রশ্ন উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্বাচন তো হারার জন্যও দিতে হয়।’ (প্রথম আলো, ২২ মার্চ, ২০১৫)। এর তাৎপর্য গভীর। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি তাঁদের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হলে তিনি এ কথা বলতেন না। আগেও গাজীপুর, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট প্রভৃতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রভাবশালী প্রার্থীদের হারিয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে এসেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জালিয়াতি করে জেতার চেষ্টা করেনি বা করলেও সফল হয়নি। অবশ্য শেষ মুহূর্তে এসে ঢাকার নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখেছিল। এখন সেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনে আসার জন্য বিএনপিকে সময় নিতে হয়েছে। কারণ, তাদের প্রায় সব মূল নেতাই জেলে অথবা হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছেন। শত শত মামলা। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। র্যা ব-পুলিশ নাকি সন্ধান পায় না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এটা যে কী সাংঘাতিক ব্যাপার, তা কাউকে বুঝিয়ে বলতে হয় না। এ অবস্থার মধ্যে বিএনপি কিছুটা ইতস্তত ভাব নিয়ে নির্বাচনে এসেছে।
বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতি ইতিবাচক সংকেত দেওয়ার জন্য সরকারের অন্তত কিছু পরিষ্কার ঘোষণা ও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। যেমন, মামলা-মোকদ্দমার লাগাম টেনে ধরা, ধরপাকড় বন্ধ প্রভৃতি। কিন্তু সরকার ঠিক উল্টো কাজটি করল। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়ে দিলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তিনি প্রকাশ্যে আসামাত্র গ্রেপ্তার করা হবে। আরে বাবা! সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেওয়ার চেয়ে বড় কাজ এখন আর কী আছে? গ্রেপ্তারের জন্য তো হাজার সময় পড়ে আছে। আগে নির্বাচন যাক। তারপর কথা।
এত দিন সরকার মাথা ঠুকে মরেছে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য। আর এখন সরকারের পুলিশ গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করে, তাহলে তাঁর নির্বাচন করার সব সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে কি নেই, সেটা পরের কথা। কমিশন সবকিছু দেখেশুনেই তাঁকে নির্বাচনের অনুমতি দেবে। পুলিশ সেখানে এককভাবে কিছু করতে গেলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা থাকবে না।
এখানে নির্বাচন কমিশনেরও অনেক কিছু করার আছে। পুলিশ কর্মকর্তার কথার প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বললেন, ‘... এসব ক্ষেত্রে কমিশনের কিছু করার নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে মামলা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ যদি তাঁকে হয়রানি করে, তাহলে কমিশন অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।’ (প্রথম আলো, ২৯ মার্চ)। কমিশনার বলছেন ‘করার কিছু নেই’, অথচ হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতা রয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন যদি তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে, সেই সুযোগে যদি পুলিশ ছড়ি ঘুরিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠছাড়া করে, তাহলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। সেই দায় গিয়ে পড়বে সরকারের ওপর।
এর আগে শত নাগরিক কমিটি শুধু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা মাত্র দু-তিন দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার একক দায়িত্বে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে জানিয়ে দিলেন, বিএনপির বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এই মুহূর্তে নির্বাচনে বিএনপিকে যে কত দরকার, সেটা যদি এখনো কমিশন না বোঝে, তাহলে কবে বুঝবে? আরেকবার ‘একতরফা’ নির্বাচনের চুনকালি গায়ে মাখার পর?
সরকার হয়তো বলবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, কাউকে জামিন দেওয়া না-দেওয়া আদালতের এখতিয়ার, সেখানে সরকার কী করবে? ঠিক কথা। কিন্তু সরকার মামলাগুলো তুলে নিলে তো জামিনের প্রশ্ন আর থাকে না। তখন সবাই নির্বাচনের মোহনায় মহাসমারোহে মিলিত হবে।
নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে একটু ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। প্রথমে উৎসাহ ছিল। শত নাগরিক কমিটি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের অচলায়তন ভাঙে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বারবার বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁদের দলের সমর্থন রয়েছে। গত রোববার বিএনপি হরতালের ডাকও দিল না। প্রায় আড়াই মাসের একটা প্রথা ভেঙে তারা ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু সরকারের দিক থেকে এগিয়ে আসার লক্ষণ না দেখে এবং গ্রেপ্তারের কথা শুনে হয়তো থমকে দাঁড়াল। মনোনয়নপত্র জমার তারিখও পেছানো হলো না। হয়তো এসব কারণে বিএনপি এক দিন পর আবার হরতাল ডেকে বসল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদ রেখে আবার যথারীতি হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করল। বিএনপি এক কদম এগিয়ে এসে এভাবে আবার পিছিয়ে গিয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা আস্থা পাচ্ছে না। সরকারকে এখন এগিয়ে এসে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রথম কাজটি হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্তি দেওয়া। এর সঙ্গে প্রথম সারির বাকি নেতাদেরও একে একে কারামুক্ত করা। বিএনপির উদ্যোগে বড় বড় সমাবেশ হোক। সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হয়ে আসুন। তিনি তো এখন সাংসদও নন, তাই তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বাধা নেই। এই সুযোগটি বিএনপিকে দিতে হবে। না হলে কিসের মেয়র নির্বাচন? নির্বাচনী আমেজই তো আসবে না।
আর এসব সুযোগ যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে বিএনপিকেও ভেবে দেখতে হবে যে অচল অবরোধ-হরতাল তারা আর কত দিন চালাবে। আর কত অর্থহীন হরতাল করলে তাদের আন্দোলন একটি ‘যৌক্তিক পরিণতি’ পাবে।
কৌশলগত কারণে হলেও এখন তাদের সহিংস কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। না হলে হয়তো বিএনপিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। হরতাল-অবরোধ থাকলে এখানে-সেখানে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ হয়তো ঘটতেই থাকবে। বিএনপি নিজেরা হরতাল ডেকে কীভাবে নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এ পরিস্থিতিতে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা কোন মুখে ভোট চাইবেন? একদিকে নির্বাচন, অন্যদিকে মানুষ পুড়িয়ে মারা কোনো কাজের কথা নয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার, বিএনপি ও দেশের মানুষ—সবার জন্যই খুব দরকার। বিএনপিকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারলে সরকার অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। যদি বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা জেতেন, তাহলেও লাভ। কারণ, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে, সেটা জোর গলায় তারা বলতে পারবে।
১৯৯১ সালে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মেয়র হয়েছিলেন। তাতে তো বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি। গত বছর যে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা একের পর এক মেয়র নির্বাচিত হলেন, তাতে কি আওয়ামী লীগ সরকারের গদিতে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেছে? তাহলে?
নির্বাচনে বিএনপির লাভও কম নয়। তাদের সমর্থিত প্রার্থী যদি জেতেন, তাহলে তো পোয়াবারো। সামনের দিনগুলোতে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আরও জোরদার হবে। আর যদি না-ও জেতেন, তাহলেও বিএনপি স্বাভাবিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসার চমৎকার সুযোগ পাবে। তাদের আন্দোলন একটি ‘যৌক্তিক’ পরিণতি পাবে। আর মানুষও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে পাবে, পেট্রলবোমায় অপমৃত্যুর ভয় কাটবে।
আমরা তাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, একটি ভালো নির্বাচন হোক। বিএনপি সুস্থধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুক। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়ে বড় কিছু এই মুহূর্তে আর হতে পারে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
কয়েক দিন আগে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মুহূর্তে নির্বাচন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না—এ প্রশ্ন উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্বাচন তো হারার জন্যও দিতে হয়।’ (প্রথম আলো, ২২ মার্চ, ২০১৫)। এর তাৎপর্য গভীর। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি তাঁদের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হলে তিনি এ কথা বলতেন না। আগেও গাজীপুর, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট প্রভৃতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রভাবশালী প্রার্থীদের হারিয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে এসেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জালিয়াতি করে জেতার চেষ্টা করেনি বা করলেও সফল হয়নি। অবশ্য শেষ মুহূর্তে এসে ঢাকার নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখেছিল। এখন সেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনে আসার জন্য বিএনপিকে সময় নিতে হয়েছে। কারণ, তাদের প্রায় সব মূল নেতাই জেলে অথবা হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছেন। শত শত মামলা। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। র্যা ব-পুলিশ নাকি সন্ধান পায় না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এটা যে কী সাংঘাতিক ব্যাপার, তা কাউকে বুঝিয়ে বলতে হয় না। এ অবস্থার মধ্যে বিএনপি কিছুটা ইতস্তত ভাব নিয়ে নির্বাচনে এসেছে।
বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতি ইতিবাচক সংকেত দেওয়ার জন্য সরকারের অন্তত কিছু পরিষ্কার ঘোষণা ও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। যেমন, মামলা-মোকদ্দমার লাগাম টেনে ধরা, ধরপাকড় বন্ধ প্রভৃতি। কিন্তু সরকার ঠিক উল্টো কাজটি করল। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়ে দিলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তিনি প্রকাশ্যে আসামাত্র গ্রেপ্তার করা হবে। আরে বাবা! সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেওয়ার চেয়ে বড় কাজ এখন আর কী আছে? গ্রেপ্তারের জন্য তো হাজার সময় পড়ে আছে। আগে নির্বাচন যাক। তারপর কথা।
এত দিন সরকার মাথা ঠুকে মরেছে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য। আর এখন সরকারের পুলিশ গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করে, তাহলে তাঁর নির্বাচন করার সব সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে কি নেই, সেটা পরের কথা। কমিশন সবকিছু দেখেশুনেই তাঁকে নির্বাচনের অনুমতি দেবে। পুলিশ সেখানে এককভাবে কিছু করতে গেলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা থাকবে না।
এখানে নির্বাচন কমিশনেরও অনেক কিছু করার আছে। পুলিশ কর্মকর্তার কথার প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বললেন, ‘... এসব ক্ষেত্রে কমিশনের কিছু করার নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে মামলা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ যদি তাঁকে হয়রানি করে, তাহলে কমিশন অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।’ (প্রথম আলো, ২৯ মার্চ)। কমিশনার বলছেন ‘করার কিছু নেই’, অথচ হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতা রয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন যদি তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে, সেই সুযোগে যদি পুলিশ ছড়ি ঘুরিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠছাড়া করে, তাহলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। সেই দায় গিয়ে পড়বে সরকারের ওপর।
এর আগে শত নাগরিক কমিটি শুধু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা মাত্র দু-তিন দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার একক দায়িত্বে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে জানিয়ে দিলেন, বিএনপির বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এই মুহূর্তে নির্বাচনে বিএনপিকে যে কত দরকার, সেটা যদি এখনো কমিশন না বোঝে, তাহলে কবে বুঝবে? আরেকবার ‘একতরফা’ নির্বাচনের চুনকালি গায়ে মাখার পর?
সরকার হয়তো বলবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, কাউকে জামিন দেওয়া না-দেওয়া আদালতের এখতিয়ার, সেখানে সরকার কী করবে? ঠিক কথা। কিন্তু সরকার মামলাগুলো তুলে নিলে তো জামিনের প্রশ্ন আর থাকে না। তখন সবাই নির্বাচনের মোহনায় মহাসমারোহে মিলিত হবে।
নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে একটু ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। প্রথমে উৎসাহ ছিল। শত নাগরিক কমিটি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের অচলায়তন ভাঙে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বারবার বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁদের দলের সমর্থন রয়েছে। গত রোববার বিএনপি হরতালের ডাকও দিল না। প্রায় আড়াই মাসের একটা প্রথা ভেঙে তারা ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু সরকারের দিক থেকে এগিয়ে আসার লক্ষণ না দেখে এবং গ্রেপ্তারের কথা শুনে হয়তো থমকে দাঁড়াল। মনোনয়নপত্র জমার তারিখও পেছানো হলো না। হয়তো এসব কারণে বিএনপি এক দিন পর আবার হরতাল ডেকে বসল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বাদ রেখে আবার যথারীতি হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করল। বিএনপি এক কদম এগিয়ে এসে এভাবে আবার পিছিয়ে গিয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা আস্থা পাচ্ছে না। সরকারকে এখন এগিয়ে এসে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রথম কাজটি হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্তি দেওয়া। এর সঙ্গে প্রথম সারির বাকি নেতাদেরও একে একে কারামুক্ত করা। বিএনপির উদ্যোগে বড় বড় সমাবেশ হোক। সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হয়ে আসুন। তিনি তো এখন সাংসদও নন, তাই তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বাধা নেই। এই সুযোগটি বিএনপিকে দিতে হবে। না হলে কিসের মেয়র নির্বাচন? নির্বাচনী আমেজই তো আসবে না।
আর এসব সুযোগ যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে বিএনপিকেও ভেবে দেখতে হবে যে অচল অবরোধ-হরতাল তারা আর কত দিন চালাবে। আর কত অর্থহীন হরতাল করলে তাদের আন্দোলন একটি ‘যৌক্তিক পরিণতি’ পাবে।
কৌশলগত কারণে হলেও এখন তাদের সহিংস কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। না হলে হয়তো বিএনপিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। হরতাল-অবরোধ থাকলে এখানে-সেখানে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ হয়তো ঘটতেই থাকবে। বিএনপি নিজেরা হরতাল ডেকে কীভাবে নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এ পরিস্থিতিতে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা কোন মুখে ভোট চাইবেন? একদিকে নির্বাচন, অন্যদিকে মানুষ পুড়িয়ে মারা কোনো কাজের কথা নয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার, বিএনপি ও দেশের মানুষ—সবার জন্যই খুব দরকার। বিএনপিকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারলে সরকার অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। যদি বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা জেতেন, তাহলেও লাভ। কারণ, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে, সেটা জোর গলায় তারা বলতে পারবে।
১৯৯১ সালে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মেয়র হয়েছিলেন। তাতে তো বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি। গত বছর যে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা একের পর এক মেয়র নির্বাচিত হলেন, তাতে কি আওয়ামী লীগ সরকারের গদিতে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেছে? তাহলে?
নির্বাচনে বিএনপির লাভও কম নয়। তাদের সমর্থিত প্রার্থী যদি জেতেন, তাহলে তো পোয়াবারো। সামনের দিনগুলোতে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আরও জোরদার হবে। আর যদি না-ও জেতেন, তাহলেও বিএনপি স্বাভাবিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসার চমৎকার সুযোগ পাবে। তাদের আন্দোলন একটি ‘যৌক্তিক’ পরিণতি পাবে। আর মানুষও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে পাবে, পেট্রলবোমায় অপমৃত্যুর ভয় কাটবে।
আমরা তাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, একটি ভালো নির্বাচন হোক। বিএনপি সুস্থধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুক। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়ে বড় কিছু এই মুহূর্তে আর হতে পারে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Monday, March 23, 2015
‘আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য আসবে’ by আব্দুল কাইয়ুম
গত
সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল
ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) স্থায়ী সচিব মার্ক লুকক দুই দিনের সফর শেষে বলেন,
বাংলাদেশ তার সম্ভাবনার সবগুলো দ্বার উন্মোচন করতে পারলে বর্তমান গড়
প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০-১১ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবে।
মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দরকার। এ জন্য সামনের
চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ
উন্নয়নের পথে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যহার হ্রাস, শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু ও মাতৃমৃত্যুহার হ্রাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে লক্ষণীয়
সাফল্য লাভের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে ডিএফআইডি সব সময়
বাংলাদেশের উন্নয়ন–সহযোগী হিসেবে অবদান রাখছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি অবজারভার-এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, দ্য ডেইলি স্টার-এর বিজনেস এডিটর অরুণ দেবনাথ ও প্রথম আলো থেকে আমি লুককের সঙ্গে কথা বলি। বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের বাধাগুলো দূর করতে হবে। নীতি, অর্থনৈতিক পরিচালন (গভর্নেন্স) ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিশেষভাবে নারীদের মৌলিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডিএফআইডি এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে। মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইউসেপকে তারা সহযোগিতা দেয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। ডিএফআইডি এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের বিপুল প্রাণশক্তির প্রশংসা করে লুকক বলেন, এ বছরের শেষদিকে প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের উদ্যম ও উদ্যোগ গুরুত্ব পাবে।
এর আগে ২০১১ সালে লুকক ঢাকা সফরে এসেছিলেন। এখন চার বছর পর কী পরিবর্তন তাঁর চোখে পড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের মজুত অনেক বেড়েছে। এখন সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। এটা বড় সাফল্য। তবে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম। এ ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে। আইএমএফ নতুন ভ্যাট আইনের কথা বলেছে। এগুলো ভাবতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) আওতায় ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিষ্ঠায় ডিএফআইডি সহায়তা দিয়েছে। ব্যাংকঋণ-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এখন মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায়। কে খেলাপি, কার কোন ব্যাংকে কত টাকা ঋণ—এসব তথ্য আগে সহজে বের করা যেত না। এখন সিআইবির কল্যাণে অনলাইনে সব তথ্য হাতের মুঠোয়। এর ফলে আর্থিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। শুধু অর্থনীতি কেন, এখন যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে বা আগামী দিনে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, তখন প্রার্থীদের ঋণ খেলাপ-সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে চট করে দেওয়া সম্ভব হবে। ডিএফআইডির সহায়তা অর্থনীতি ও রাজনীতি, দুই ক্ষেত্রেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রাখছে।
লুকক এমন এক অস্থির সময়ে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন, যখন অবরোধ-হরতাল চলছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি একটি বড় বিষয়। বাংলাদেশ তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। কারণ, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাই তাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে হবে। পোশাকশিল্প খাত, ওষুধশিল্প, রাসায়নিক দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি বাংলাদেশের জন্য খুব সম্ভাবনাময় খাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বাজেটশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, শুল্কহার যুক্তিসিদ্ধ করা, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি নিশ্চিত করার ওপর লুকক গুরুত্ব আরোপ করেন।
আমরা জিজ্ঞেস করি, আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে কী করা দরকার? তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের জন্য যুক্তিসংগত মুনাফা চায় এবং সেই মুনাফা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কাছে নেওয়ার সুযোগ চায়। এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। আর তা ছাড়া বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত অবকাঠামো, আইন, সুযোগ-সুবিধা তো লাগবেই। আমি বলি, সরকার তো আইন যথেষ্ট করেছে। কিন্তু এর সঠিক বাস্তবায়নই কি বড় সমস্যা?
আসলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনতে পারলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে। এদিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
লুকক একটি দিকের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে গার্লস সামিটে গিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা বলে এসেছেন। তিনি এর প্রশংসা করেন। ডিএফআইডি মেয়েদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। ব্র্যাকের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। লুকক বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটি বড় সম্পদ। মানুষ কঠোর পরিশ্রমী। এদের পেছনে ব্যয় করলে এরাই দেশের জন্য হবে মূল্যবান মানবসম্পদ।
আলোচনা শেষ প্রান্তে। আমাদের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে, আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে লুকক বলেন, বাংলাদেশের আছে সুসংগঠিত নাগরিক সমাজ। সক্রিয় গণমাধ্যম। বিপুল সম্ভাবনা। অন্তর্নিহিত এসব শক্তি-সম্ভাবনা নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য দেখার আশায় আমরা রয়েছি।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
ডেইলি অবজারভার-এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, দ্য ডেইলি স্টার-এর বিজনেস এডিটর অরুণ দেবনাথ ও প্রথম আলো থেকে আমি লুককের সঙ্গে কথা বলি। বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের বাধাগুলো দূর করতে হবে। নীতি, অর্থনৈতিক পরিচালন (গভর্নেন্স) ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিশেষভাবে নারীদের মৌলিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডিএফআইডি এসব ক্ষেত্রে কাজ করছে। মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইউসেপকে তারা সহযোগিতা দেয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। ডিএফআইডি এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের বিপুল প্রাণশক্তির প্রশংসা করে লুকক বলেন, এ বছরের শেষদিকে প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের উদ্যম ও উদ্যোগ গুরুত্ব পাবে।
এর আগে ২০১১ সালে লুকক ঢাকা সফরে এসেছিলেন। এখন চার বছর পর কী পরিবর্তন তাঁর চোখে পড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের মজুত অনেক বেড়েছে। এখন সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। এটা বড় সাফল্য। তবে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম। এ ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে। আইএমএফ নতুন ভ্যাট আইনের কথা বলেছে। এগুলো ভাবতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) আওতায় ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিষ্ঠায় ডিএফআইডি সহায়তা দিয়েছে। ব্যাংকঋণ-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এখন মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায়। কে খেলাপি, কার কোন ব্যাংকে কত টাকা ঋণ—এসব তথ্য আগে সহজে বের করা যেত না। এখন সিআইবির কল্যাণে অনলাইনে সব তথ্য হাতের মুঠোয়। এর ফলে আর্থিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। শুধু অর্থনীতি কেন, এখন যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে যাচ্ছে বা আগামী দিনে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, তখন প্রার্থীদের ঋণ খেলাপ-সম্পর্কিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে চট করে দেওয়া সম্ভব হবে। ডিএফআইডির সহায়তা অর্থনীতি ও রাজনীতি, দুই ক্ষেত্রেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রাখছে।

লুকক এমন এক অস্থির সময়ে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন, যখন অবরোধ-হরতাল চলছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি একটি বড় বিষয়। বাংলাদেশ তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। কারণ, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাই তাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে হবে। পোশাকশিল্প খাত, ওষুধশিল্প, রাসায়নিক দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি বাংলাদেশের জন্য খুব সম্ভাবনাময় খাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বাজেটশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, শুল্কহার যুক্তিসিদ্ধ করা, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি নিশ্চিত করার ওপর লুকক গুরুত্ব আরোপ করেন।
আমরা জিজ্ঞেস করি, আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে কী করা দরকার? তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের জন্য যুক্তিসংগত মুনাফা চায় এবং সেই মুনাফা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কাছে নেওয়ার সুযোগ চায়। এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। আর তা ছাড়া বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত অবকাঠামো, আইন, সুযোগ-সুবিধা তো লাগবেই। আমি বলি, সরকার তো আইন যথেষ্ট করেছে। কিন্তু এর সঠিক বাস্তবায়নই কি বড় সমস্যা?
আসলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনতে পারলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে। এদিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
লুকক একটি দিকের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে গার্লস সামিটে গিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা বলে এসেছেন। তিনি এর প্রশংসা করেন। ডিএফআইডি মেয়েদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। ব্র্যাকের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। লুকক বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটি বড় সম্পদ। মানুষ কঠোর পরিশ্রমী। এদের পেছনে ব্যয় করলে এরাই দেশের জন্য হবে মূল্যবান মানবসম্পদ।
আলোচনা শেষ প্রান্তে। আমাদের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে, আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে লুকক বলেন, বাংলাদেশের আছে সুসংগঠিত নাগরিক সমাজ। সক্রিয় গণমাধ্যম। বিপুল সম্ভাবনা। অন্তর্নিহিত এসব শক্তি-সম্ভাবনা নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য দেখার আশায় আমরা রয়েছি।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Thursday, March 19, 2015
এই আন্দোলন কার বিরুদ্ধে? by আব্দুল কাইয়ুম
বিএনপির
ভাষায় দোষ করেছে আওয়ামী লীগ। ওরা গত বছর বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা
নির্বাচন করে ক্ষমতার ধারা অব্যাহত রেখেছে। তাই তাদের ‘শাস্তি’ পেতে হবে।
কিন্তু কী ব্যবস্থাপত্র দিল ওরা? একটানা অবরোধ, তার সঙ্গে সপ্তাহে পাঁচ
দিন হরতাল। শাস্তি পাচ্ছে কে? আওয়ামী লীগ বা সরকারকে তো কাবু করতে পারছে
না। প্রায় আড়াই মাস হতে চলল। গদিচ্যুত হওয়া তো দূরের কথা, গদি নড়েও না।
তাহলে এই দাওয়াইয়ে লাভ কী? মাঝখান থেকে মানুষ পেট্রলবোমায় পুড়ে মরছে।
গাড়ি পুড়ছে। রেলগাড়ি লাইনচ্যুত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত
ব্যক্তিদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ
করছেন। বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করে, আর শাস্তি পায় জনগণ।
পাঁচ-সাত-দশ দিন ধুমসে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে সব ঠিকঠাক করে
ফেললেও না হয় একটা সান্ত্বনা ছিল। মানুষ বলত, যাক, নাশকতার আন্দোলন থেকে
বাঁচা গেল! কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না।
এ অবস্থায় আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বিএনপির চিন্তা–ভাবনা করা প্রয়োজন। দলের চেয়ারপারসন যদি তাঁর ভাষণে যুদ্ধবিরতির মতো একধরনের অবরোধ-বিরতির ঘোষণা দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যেতে পারত। তিনি বলতে পারতেন, ২৬ মার্চের মধ্যে আলোচনায় বসতে হবে, সে জন্য এই সময়টুকু অবরোধ-হরতাল স্থগিত থাকবে। তার পরও যদি সরকার গা না লাগাত, ধরপাকড়, জেল-জুলুম একই কায়দায় চালিয়ে যেত, তখন বিএনপির পক্ষে জনমত আরও বেশি সোচ্চার হতো।
প্রশ্ন উঠবে, বিএনপি এত নরম হলে আওয়ামী লীগ কি ছেড়ে দিত? আরও দমন-পীড়ন চালিয়ে বিএনপিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিত না? কিন্তু তাদের দলের অবস্থা কি এতই খারাপ? তাহলে কোন শক্তিতে ওরা টানা অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি দিয়ে চলেছে? দেখছে লোকে মানে না, তাও যান্ত্রিকভাবে অবরোধ চালিয়ে যেতে হবে?
অবরোধ ও হরতালের মতো চূড়ান্ত ধরনের আন্দোলন একটানা বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া যায় না। এটা আমাদের নিকট অতীতে অনেক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে গণ-আন্দোলনে বিরতি দিতে হয়। এক-দেড় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে এক দিনের হরতালেও অনেক সময় অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু হরতাল-অবরোধে যখন মানুষ রাস্তায় নামে না, বরং জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক থাকে, তখন বুঝতে হবে কোথাও গড়বড় আছে। বুদ্ধিমান হলে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে নতুন কিছু চিন্তাভাবনায় বসতে হবে। বিএনপির মধ্যে সেই মুনশিয়ানার খুব অভাব।
সরকার নিস্তেজ হরতাল বন্ধ করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের হাজার হাজার কর্মীকে পাইকারি হারে গ্রেপ্তার করছে। মামলা দিচ্ছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে সাদাপোশাকের লোকজন ধরে নিয়ে গেল। পুলিশ বলছে, তারা জানে না। তারাও খুঁজে বের করার মহান দায়িত্ব নিয়েছে। এসব কেউ সমর্থন করে না। কিন্তু পেট্রলবোমা মেরে বিএনপিই সরকারের হাতে এ ধরনের জোর-জুলুম নির্বিবাদে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন ওদের চিন্তা করে দেখতে হবে, এই সুযোগ আর কত দিন দেবে!
তাহলে কি বিএনপি আন্দোলন-প্রতিবাদ করবে না? নিশ্চয়ই করবে। কিন্তু মানুষকে সঙ্গে নিতে না পারলে সব মাঠে মারা যাবে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আজ হয়তো মানুষ নানা কারণে রাস্তায় নামছে না। তার মানে এই নয় যে কাল নামবে না। উপযুক্ত রাজনৈতিক কৌশল নিলে মানুষ অবশ্যই নামবে।
এখন সবাই বলে, গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। তাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটা তো ঠিক যে গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে জনমত যতটা সোচ্চার ছিল, আজ ততটা নেই। কেন নেই? বিএনপির ভুল চালের জন্যই আজ এ অবস্থা।
খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণে একবারও জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুললেন না। জামায়াত তাদের জোটে আছে। ঠিক আছে। কিন্তু যখন পেট্রলবোমা মারা হয়, রেললাইনের ফিশপ্লেট তুলে নিরীহ যাত্রী হত্যা করা হয়, তখন তো এটা পরিষ্কার যে নাশকতা চলছে। খালেদা জিয়া সব দায় চাপিয়েছেন সরকারের ঘাড়ে। তিনি নিজের দলের ওপর দায় না নিয়ে অন্তত জামায়াতের ওপর কিছু দায় দিতে পারতেন। সবাই জানে, এ ধরনের নাশকতায় জামায়াত-শিবির সিদ্ধহস্ত। পেট্রলবোমার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেওয়ার কথা বলতে পারতেন। তাহলে পরিস্থিতি আজ অন্য রকম হতে পারত।
জামায়াতে ইসলামীর কথা আসে এ জন্য যে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় এমন কথা বলেছে। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে সংলাপের কথা চিন্তা করবে বলে তারা বক্তৃতা-বিবৃতিতে বলেছে। বিএনপি সংলাপের কথা এত বলে, অথচ এ সুযোগটা নিতে তাদের খুব অনীহা। তার মানে, বিএনপি মনে করে জামায়াত ছাড়া তাদের চলবে না।
এটা খুব ভালো কথা নয়। যে দলটি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, তাদের ছাড়া বিএনপির চলে না, এ রকম ভাবতে খুব অবাক লাগে। কারণ, বিএনপি নিজেরাই বলে ওরা স্বাধীনতার পক্ষের দল।
এখানে অবশ্য বিএনপি বলবে, জামায়াতের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগও তো ১৯৯৬ সালে আন্দোলন করেছে। হ্যাঁ, সেটা করে খুব খারাপ করেছে। ক্ষমতার রাজনীতির সংকীর্ণ কানাগলিতে আওয়ামী লীগও একসময় আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছে। এর পরিণতিতে তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর খেসারত তাদের দিতে হয়েছে এবং আগামী বহুদিন পর্যন্ত দিতে হবে।
কিন্তু বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের সেই খারাপ রাজনীতিই গ্রহণ করে? প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় গিয়ে জিয়াউর রহমানই প্রথম জামায়াত-মুসলিম লীগকে ক্ষমতার অংশীদার করে রাজনীতিতে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই ধারাতেই এখনো বিএনপি চলছে।
সুতরাং, সংলাপ একতরফাভাবে আওয়ামী লীগের কাছে আশা করলে সুফল পাওয়া যাবে না। আজীবন অবরোধ-হরতাল চালানোর ভুল সিদ্ধান্ত নিলে আরও ঠকতে হবে। তাই একটা পথ বের করার জন্য মধ্যবর্তী ‘অবরোধ-বিরতি’ দরকার। তখন মানুষ দেখবে, আওয়ামী লীগ কী করে। যদি অবিবেচকের মতো দমননীতি চালিয়ে যায়, মানুষ তা ভালো চোখে দেখবে না। সেটাই হবে বিএনপির বড় মূলধন। আর যদি সরকার নরম হয়, তাহলে সংলাপের রাস্তা খুলবে।
বিএনপি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে খুব দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। এটা সব মানুষের মনের কথা। কিন্তু গত বছর নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি পানি এত দূর এত ঘোলা করেছে যে সেখানে এখন আওয়ামী লীগ আরামসে মাছ মারছে। তাই হয়তো বিএনপিকে এক কদম পিছিয়ে গিয়ে বলতে হবে, সংবিধান আর কাটাছেঁড়া না করে, বিগত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকারের যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল, সেগুলো নিয়ে সংলাপ হোক। নির্বাচনকালীন সরকারে যদি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব থাকে, যদি স্বরাষ্ট্র ও আরও দু-চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়া হয়, যদি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়, যদি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য সরকার আর কী হতে পারে?
এ ধরনের প্রস্তাব বিএনপির নিজস্ব কিছু নয়, খোদ আওয়ামী লীগের। ওরাই গত নির্বাচনে বিএনপিকে আনার জন্য বিভিন্ন সময় সংবিধানের মধ্যে থেকেই একটু এদিক ওদিক করে নানা বিকল্পের কথা বলেছিল।
বিএনপি আজ আওয়ামী লীগের সেই প্রস্তাবগুলোই তাদের সামনে হাজির করুক। তারপর দেখি সংলাপ হয় কি হয় না। এর পরও যদি সংলাপে বাগড়া দেওয়া হয়, তাহলে দায়ী থাকবে আওয়ামী লীগ। এর পরিণাম তাদের জন্য শুভ হবে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
এ অবস্থায় আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বিএনপির চিন্তা–ভাবনা করা প্রয়োজন। দলের চেয়ারপারসন যদি তাঁর ভাষণে যুদ্ধবিরতির মতো একধরনের অবরোধ-বিরতির ঘোষণা দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি সমাধানের দিকে যেতে পারত। তিনি বলতে পারতেন, ২৬ মার্চের মধ্যে আলোচনায় বসতে হবে, সে জন্য এই সময়টুকু অবরোধ-হরতাল স্থগিত থাকবে। তার পরও যদি সরকার গা না লাগাত, ধরপাকড়, জেল-জুলুম একই কায়দায় চালিয়ে যেত, তখন বিএনপির পক্ষে জনমত আরও বেশি সোচ্চার হতো।
প্রশ্ন উঠবে, বিএনপি এত নরম হলে আওয়ামী লীগ কি ছেড়ে দিত? আরও দমন-পীড়ন চালিয়ে বিএনপিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিত না? কিন্তু তাদের দলের অবস্থা কি এতই খারাপ? তাহলে কোন শক্তিতে ওরা টানা অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি দিয়ে চলেছে? দেখছে লোকে মানে না, তাও যান্ত্রিকভাবে অবরোধ চালিয়ে যেতে হবে?
অবরোধ ও হরতালের মতো চূড়ান্ত ধরনের আন্দোলন একটানা বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া যায় না। এটা আমাদের নিকট অতীতে অনেক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে গণ-আন্দোলনে বিরতি দিতে হয়। এক-দেড় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে এক দিনের হরতালেও অনেক সময় অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু হরতাল-অবরোধে যখন মানুষ রাস্তায় নামে না, বরং জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক থাকে, তখন বুঝতে হবে কোথাও গড়বড় আছে। বুদ্ধিমান হলে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে নতুন কিছু চিন্তাভাবনায় বসতে হবে। বিএনপির মধ্যে সেই মুনশিয়ানার খুব অভাব।
সরকার নিস্তেজ হরতাল বন্ধ করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের হাজার হাজার কর্মীকে পাইকারি হারে গ্রেপ্তার করছে। মামলা দিচ্ছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে সাদাপোশাকের লোকজন ধরে নিয়ে গেল। পুলিশ বলছে, তারা জানে না। তারাও খুঁজে বের করার মহান দায়িত্ব নিয়েছে। এসব কেউ সমর্থন করে না। কিন্তু পেট্রলবোমা মেরে বিএনপিই সরকারের হাতে এ ধরনের জোর-জুলুম নির্বিবাদে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন ওদের চিন্তা করে দেখতে হবে, এই সুযোগ আর কত দিন দেবে!
তাহলে কি বিএনপি আন্দোলন-প্রতিবাদ করবে না? নিশ্চয়ই করবে। কিন্তু মানুষকে সঙ্গে নিতে না পারলে সব মাঠে মারা যাবে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আজ হয়তো মানুষ নানা কারণে রাস্তায় নামছে না। তার মানে এই নয় যে কাল নামবে না। উপযুক্ত রাজনৈতিক কৌশল নিলে মানুষ অবশ্যই নামবে।
এখন সবাই বলে, গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। তাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটা তো ঠিক যে গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে জনমত যতটা সোচ্চার ছিল, আজ ততটা নেই। কেন নেই? বিএনপির ভুল চালের জন্যই আজ এ অবস্থা।
খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণে একবারও জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুললেন না। জামায়াত তাদের জোটে আছে। ঠিক আছে। কিন্তু যখন পেট্রলবোমা মারা হয়, রেললাইনের ফিশপ্লেট তুলে নিরীহ যাত্রী হত্যা করা হয়, তখন তো এটা পরিষ্কার যে নাশকতা চলছে। খালেদা জিয়া সব দায় চাপিয়েছেন সরকারের ঘাড়ে। তিনি নিজের দলের ওপর দায় না নিয়ে অন্তত জামায়াতের ওপর কিছু দায় দিতে পারতেন। সবাই জানে, এ ধরনের নাশকতায় জামায়াত-শিবির সিদ্ধহস্ত। পেট্রলবোমার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেওয়ার কথা বলতে পারতেন। তাহলে পরিস্থিতি আজ অন্য রকম হতে পারত।
জামায়াতে ইসলামীর কথা আসে এ জন্য যে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় এমন কথা বলেছে। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে সংলাপের কথা চিন্তা করবে বলে তারা বক্তৃতা-বিবৃতিতে বলেছে। বিএনপি সংলাপের কথা এত বলে, অথচ এ সুযোগটা নিতে তাদের খুব অনীহা। তার মানে, বিএনপি মনে করে জামায়াত ছাড়া তাদের চলবে না।
এটা খুব ভালো কথা নয়। যে দলটি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, তাদের ছাড়া বিএনপির চলে না, এ রকম ভাবতে খুব অবাক লাগে। কারণ, বিএনপি নিজেরাই বলে ওরা স্বাধীনতার পক্ষের দল।
এখানে অবশ্য বিএনপি বলবে, জামায়াতের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগও তো ১৯৯৬ সালে আন্দোলন করেছে। হ্যাঁ, সেটা করে খুব খারাপ করেছে। ক্ষমতার রাজনীতির সংকীর্ণ কানাগলিতে আওয়ামী লীগও একসময় আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েছে। এর পরিণতিতে তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর খেসারত তাদের দিতে হয়েছে এবং আগামী বহুদিন পর্যন্ত দিতে হবে।
কিন্তু বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের সেই খারাপ রাজনীতিই গ্রহণ করে? প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় গিয়ে জিয়াউর রহমানই প্রথম জামায়াত-মুসলিম লীগকে ক্ষমতার অংশীদার করে রাজনীতিতে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই ধারাতেই এখনো বিএনপি চলছে।
সুতরাং, সংলাপ একতরফাভাবে আওয়ামী লীগের কাছে আশা করলে সুফল পাওয়া যাবে না। আজীবন অবরোধ-হরতাল চালানোর ভুল সিদ্ধান্ত নিলে আরও ঠকতে হবে। তাই একটা পথ বের করার জন্য মধ্যবর্তী ‘অবরোধ-বিরতি’ দরকার। তখন মানুষ দেখবে, আওয়ামী লীগ কী করে। যদি অবিবেচকের মতো দমননীতি চালিয়ে যায়, মানুষ তা ভালো চোখে দেখবে না। সেটাই হবে বিএনপির বড় মূলধন। আর যদি সরকার নরম হয়, তাহলে সংলাপের রাস্তা খুলবে।
বিএনপি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে খুব দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। এটা সব মানুষের মনের কথা। কিন্তু গত বছর নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি পানি এত দূর এত ঘোলা করেছে যে সেখানে এখন আওয়ামী লীগ আরামসে মাছ মারছে। তাই হয়তো বিএনপিকে এক কদম পিছিয়ে গিয়ে বলতে হবে, সংবিধান আর কাটাছেঁড়া না করে, বিগত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকারের যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল, সেগুলো নিয়ে সংলাপ হোক। নির্বাচনকালীন সরকারে যদি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব থাকে, যদি স্বরাষ্ট্র ও আরও দু-চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়া হয়, যদি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়, যদি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য সরকার আর কী হতে পারে?
এ ধরনের প্রস্তাব বিএনপির নিজস্ব কিছু নয়, খোদ আওয়ামী লীগের। ওরাই গত নির্বাচনে বিএনপিকে আনার জন্য বিভিন্ন সময় সংবিধানের মধ্যে থেকেই একটু এদিক ওদিক করে নানা বিকল্পের কথা বলেছিল।
বিএনপি আজ আওয়ামী লীগের সেই প্রস্তাবগুলোই তাদের সামনে হাজির করুক। তারপর দেখি সংলাপ হয় কি হয় না। এর পরও যদি সংলাপে বাগড়া দেওয়া হয়, তাহলে দায়ী থাকবে আওয়ামী লীগ। এর পরিণাম তাদের জন্য শুভ হবে না।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Thursday, February 19, 2015
খালেদা জিয়া যদি যান গণভবনে by আব্দুল কাইয়ুম
Thursday, February 19, 2015
Anonymous
আব্দুল কাইয়ুম,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
প্রথম আলো,
মতামত,
রাজনীতি
![]() |
| আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরের দিকে ফুটন্ত পানি ছুড়ে মারেন |
একটা
অবাস্তব চিন্তা বলে মনে হবে প্রথমেই। খালেদা জিয়া হলেন আপসহীন নেত্রী।
তাঁকে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আবদার করা অনেকের চোখে
হয়তো ধৃষ্টতা বলে মনে হবে। মানলাম তিনি আপসহীন নেত্রী। তিনি কেন যাবেন
সেখানে, এই তো প্রশ্ন?
কিন্তু পাল্টা প্রশ্নও তো উঠতে পারে, কেন যাবেন না? কোকোর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের অফিসে যেতে পারেন, তাতে যদি প্রধানমন্ত্রীর মানমর্যাদা এতটুকু ক্ষুণ্ন না হয়ে থাকে, বরং তাঁর ভাবমূর্তি যদি কিছুটা উজ্জ্বলও হয়ে থাকে, তাহলে খালেদা জিয়া এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গেলে দোষটা কী?
যদিও তাঁর এই যাওয়ার প্রেক্ষাপট হবে ভিন্ন। তিনি যাবেন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে। পেট্রলবোমায় মানুষ মরছে। অন্যদিকে ‘ক্রসফায়ারেও’ মানুষ মরছে। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সামান্য দরদ থাকলে যে–কেউ এসব বন্ধের জন্য কাজ করতে চাইবেন। এই জরুরি একটা দায়িত্ববোধ থেকে খালেদা জিয়া যদি গণভবনে গিয়ে কথা শুরু করেন, সারা দেশে তাঁর নামে ধন্য ধন্য পড়ে যাবে। একটা নতুন জাগরণ আসবে। এটা হতে পারে নতুন ধরনের এক আন্দোলনের সূচনা।
মনে রাখতে হবে, সব সময় ছকে বাঁধা আন্দোলন চলে না। আমাদের দেশের অতীতের আন্দোলনগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাই করলে দেখা যাবে, কখনো রাজপথের আন্দোলনে, কখনো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৯ সালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের মধ্যেও নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। সংসদে গিয়ে যা হোক কিছু কথা বলতে পেরেছিল। আবার এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথমে উপজেলা নির্বাচন বর্জন। পরে ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, বিএনপির জয়জয়কার। পরে আবার আওয়ামী লীগের সাংসদদের পদত্যাগ।
পরিশেষে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন। ওই সময় ভীষণ তিক্ততা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংলাপ হয়েছে। সুতরাং, আমাদের দেশে আন্দোলনের বিভিন্ন রূপ ও পদ্ধতি পরীক্ষিত হয়েছে। কখনো এক ধারায় আন্দোলনে সাফল্য আসবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আন্দোলনের সব দরজা খোলা রাখতে হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে সেদিন গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়েছিল। এবার খালেদা জিয়াকে যদি গণভবনে ঢুকতে না দেওয়া হয়, কোনো সমস্যা নেই। তিনি পরাজিত হবেন না; বরং বিজয়ীর বেশেই ফিরে আসবেন। গণভবনে খালেদা জিয়াকে যেতে সম্ভাব্য বাধার কথা উঠছে এ জন্য যে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, কার সাথে আলোচনা করব? খুনির সাথে? আর তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোট একাধারে বলে চলেছে, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন নয়। নির্বাচন হতে হবে বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী। তাই বাহ্যত আওয়ামী লীগের অবস্থান কোনো ধরনের সংলাপের বিরুদ্ধে। যদি তা-ই হয়, তাহলে খালেদা জিয়াকে হয়তো গণভবনের গেট থেকেই ফিরে আসতে হবে। এটা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাসভবনের দরজা খালেদা জিয়ার জন্য খোলা রাখলে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির পরিচয় দেবেন। কারণ, দেশ ঠিকভাবে চালানোর জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। সংলাপ প্রত্যাখ্যান কোনো রাজনীতির ব্যাকরণে পড়ে না।
আলোচনাটা আসলে দুই পক্ষের জন্যই এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ, বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট একটানা অবরোধ-হরতাল ডেকে চলেছে; লোকে মানুক বা না মানুক। রাস্তায় গাড়ি, অফিস-আদালত সবই চলছে। নামেমাত্র হরতাল। মাঝেমধ্যে পেট্রলবোমা, আগুন। এই আর কি। শুধু এই ভয়ে হয়তো খাপছাড়াভাবে কোথাও হরতালের দেখা পাওয়া যাবে। বাস্তবে হরতাল-অবরোধের অস্তিত্ব নেই। তা-ও বিএনপি বিবেকহীনভাবে হরতাল ডেকে চলেছে। ফলে সরকারের অবশ্য কিছু অসুবিধা হচ্ছে। কেনাকাটায় ভাটা। খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমে গেছে। স্কুলগুলো বন্ধ। এসএসসি পরীক্ষায় বাধা। এখন বলা যায়, বিএনপি পারছে না অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যেতে, আবার সরকারও পারছে না মানুষের নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এ রকম একটা অবস্থাই আসলে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। বিএনপির স্বাভাবিক রাজনীতির জন্য এবং সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেশে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বা কথা হওয়া দরকার। এটা দুই পক্ষেরই অভিন্ন স্বার্থ।
কিন্তু মুশকিল হলো, সংলাপের বিরুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগই না, এক অর্থে বিএনপিও। কারণ, ওরা বলেছে, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের অধীনেই কেবল নির্বাচন হতে পারে। এর বাইরে তাদের আলোচনার কিছু নেই। এই অবস্থানে অবিচল থাকলে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের পক্ষে আলোচনায় এগিয়ে আসা কঠিন। কারণ, তারা তো সংবিধানের বাইরে যাবে না। সেখানে বলা আছে, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তাহলে ‘নির্দলীয়’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো হতে পারে না। কী করা যায়?
এখানে আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করতে পারি দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যেও কোনো অভিন্ন সূত্র পাওয়া যায় কি না। লক্ষ করলে দেখব, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে সরকার বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধানের মধ্যে থেকেই একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার কথা বলেছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হবেন সংসদে বিরোধী দলের সাংসদেরা। এমনকি স্বরাষ্ট্র, প্রশাসন প্রভৃতি মন্ত্রণালয় বিরোধীদলীয় মন্ত্রীদের অধীনে থাকতে পারে। একে একধরনের সর্বদলীয় সরকার বলা যেতে পারে, যদিও সেখানে মূল শক্তি হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
কিন্তু ২০১৩-১৪ সালের আলোচনায় এই বিকল্প নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি; বরং বিএনপির নেতৃত্বে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই চেষ্টা সফল হয়নি। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনে সরকার গঠন করেছে। এখন বিএনপি যে চেষ্টা করছে, সেটাও হোঁচট খেতে বাধ্য। কারণ, অচল হরতাল-অবরোধ কৃত্রিমভাবে আর কত দিন টিকিয়ে রাখা যাবে। তাই কিছু নতুন চিন্তার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষেও একতরফা নির্বাচনে গঠিত সরকার চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কারণ, এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দেশে-বিদেশে সমালোচনা রয়েছে। এটা ঠিক যে এই অবস্থায় রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো পথ খুঁজে বের করা বস্তুত খড়ের গাদায় হারিয়ে যাওয়া কোনো আলপিনের অনুসন্ধানের মতোই কঠিন। তার পরও হয়তো কিছু সূত্র পাওয়া যাবে।
যেমন কয়েক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা সাপেক্ষে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে রেখেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা সম্ভব’ (১১ জানুয়ারি ও ১৩ জানুয়ারি ২০১৫)।
এ ধরনের চিন্তা এই মুহূর্তে বেশ কাজে লাগতে পারে। কিন্তু সেখানে প্রধান শর্ত হলো স্বাধীন ও দলীয় আনুগত্যবিহীন নির্বাচন কমিশন, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন। এ দুটির একটি শর্তও বর্তমানে কার্যত নেই। যদি সে রকম কোনো পরিবর্তন ঘটানো যায়, তাহলে হয়তো বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চিন্তা কাছাকাছি আসতে পারে। এই উদ্যোগ আসতে হবে সরকারের পক্ষ থেকেই। এবং সেটা হতে হবে আন্তরিক। এখানে চালাক-চাতুরীর কোনো সুযোগ নেই। দেশ বাঁচাতে হলে এ রকম কিছু একটা করতে হবে।
সরকার যদি এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় এবং সে বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, তাহলে পরিবর্তনের প্রাথমিক সূচনা ঘটতে পারে। এর বিনিময়ে বিএনপি তাদের অবরোধ-হরতাল বন্ধ রাখবে। সরকার প্রত্যুত্তরে বিরোধী দল বিএনপির মূল নেতাদের মুক্তি দেবে, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেবে। এভাবে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এই সুযোগ সৃষ্টি করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা রাজি, সেটাই প্রশ্ন।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
কিন্তু পাল্টা প্রশ্নও তো উঠতে পারে, কেন যাবেন না? কোকোর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের অফিসে যেতে পারেন, তাতে যদি প্রধানমন্ত্রীর মানমর্যাদা এতটুকু ক্ষুণ্ন না হয়ে থাকে, বরং তাঁর ভাবমূর্তি যদি কিছুটা উজ্জ্বলও হয়ে থাকে, তাহলে খালেদা জিয়া এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গেলে দোষটা কী?
যদিও তাঁর এই যাওয়ার প্রেক্ষাপট হবে ভিন্ন। তিনি যাবেন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে। পেট্রলবোমায় মানুষ মরছে। অন্যদিকে ‘ক্রসফায়ারেও’ মানুষ মরছে। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সামান্য দরদ থাকলে যে–কেউ এসব বন্ধের জন্য কাজ করতে চাইবেন। এই জরুরি একটা দায়িত্ববোধ থেকে খালেদা জিয়া যদি গণভবনে গিয়ে কথা শুরু করেন, সারা দেশে তাঁর নামে ধন্য ধন্য পড়ে যাবে। একটা নতুন জাগরণ আসবে। এটা হতে পারে নতুন ধরনের এক আন্দোলনের সূচনা।
মনে রাখতে হবে, সব সময় ছকে বাঁধা আন্দোলন চলে না। আমাদের দেশের অতীতের আন্দোলনগুলোর অভিজ্ঞতা যাচাই করলে দেখা যাবে, কখনো রাজপথের আন্দোলনে, কখনো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৯ সালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের মধ্যেও নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। সংসদে গিয়ে যা হোক কিছু কথা বলতে পেরেছিল। আবার এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথমে উপজেলা নির্বাচন বর্জন। পরে ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, বিএনপির জয়জয়কার। পরে আবার আওয়ামী লীগের সাংসদদের পদত্যাগ।
পরিশেষে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন। ওই সময় ভীষণ তিক্ততা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংলাপ হয়েছে। সুতরাং, আমাদের দেশে আন্দোলনের বিভিন্ন রূপ ও পদ্ধতি পরীক্ষিত হয়েছে। কখনো এক ধারায় আন্দোলনে সাফল্য আসবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আন্দোলনের সব দরজা খোলা রাখতে হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে সেদিন গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়েছিল। এবার খালেদা জিয়াকে যদি গণভবনে ঢুকতে না দেওয়া হয়, কোনো সমস্যা নেই। তিনি পরাজিত হবেন না; বরং বিজয়ীর বেশেই ফিরে আসবেন। গণভবনে খালেদা জিয়াকে যেতে সম্ভাব্য বাধার কথা উঠছে এ জন্য যে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, কার সাথে আলোচনা করব? খুনির সাথে? আর তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোট একাধারে বলে চলেছে, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন নয়। নির্বাচন হতে হবে বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী। তাই বাহ্যত আওয়ামী লীগের অবস্থান কোনো ধরনের সংলাপের বিরুদ্ধে। যদি তা-ই হয়, তাহলে খালেদা জিয়াকে হয়তো গণভবনের গেট থেকেই ফিরে আসতে হবে। এটা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাসভবনের দরজা খালেদা জিয়ার জন্য খোলা রাখলে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির পরিচয় দেবেন। কারণ, দেশ ঠিকভাবে চালানোর জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। সংলাপ প্রত্যাখ্যান কোনো রাজনীতির ব্যাকরণে পড়ে না।
আলোচনাটা আসলে দুই পক্ষের জন্যই এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ, বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট একটানা অবরোধ-হরতাল ডেকে চলেছে; লোকে মানুক বা না মানুক। রাস্তায় গাড়ি, অফিস-আদালত সবই চলছে। নামেমাত্র হরতাল। মাঝেমধ্যে পেট্রলবোমা, আগুন। এই আর কি। শুধু এই ভয়ে হয়তো খাপছাড়াভাবে কোথাও হরতালের দেখা পাওয়া যাবে। বাস্তবে হরতাল-অবরোধের অস্তিত্ব নেই। তা-ও বিএনপি বিবেকহীনভাবে হরতাল ডেকে চলেছে। ফলে সরকারের অবশ্য কিছু অসুবিধা হচ্ছে। কেনাকাটায় ভাটা। খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমে গেছে। স্কুলগুলো বন্ধ। এসএসসি পরীক্ষায় বাধা। এখন বলা যায়, বিএনপি পারছে না অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যেতে, আবার সরকারও পারছে না মানুষের নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এ রকম একটা অবস্থাই আসলে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। বিএনপির স্বাভাবিক রাজনীতির জন্য এবং সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেশে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বা কথা হওয়া দরকার। এটা দুই পক্ষেরই অভিন্ন স্বার্থ।
কিন্তু মুশকিল হলো, সংলাপের বিরুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগই না, এক অর্থে বিএনপিও। কারণ, ওরা বলেছে, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের অধীনেই কেবল নির্বাচন হতে পারে। এর বাইরে তাদের আলোচনার কিছু নেই। এই অবস্থানে অবিচল থাকলে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের পক্ষে আলোচনায় এগিয়ে আসা কঠিন। কারণ, তারা তো সংবিধানের বাইরে যাবে না। সেখানে বলা আছে, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তাহলে ‘নির্দলীয়’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো হতে পারে না। কী করা যায়?
এখানে আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করতে পারি দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যেও কোনো অভিন্ন সূত্র পাওয়া যায় কি না। লক্ষ করলে দেখব, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে সরকার বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধানের মধ্যে থেকেই একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার কথা বলেছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হবেন সংসদে বিরোধী দলের সাংসদেরা। এমনকি স্বরাষ্ট্র, প্রশাসন প্রভৃতি মন্ত্রণালয় বিরোধীদলীয় মন্ত্রীদের অধীনে থাকতে পারে। একে একধরনের সর্বদলীয় সরকার বলা যেতে পারে, যদিও সেখানে মূল শক্তি হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
কিন্তু ২০১৩-১৪ সালের আলোচনায় এই বিকল্প নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি; বরং বিএনপির নেতৃত্বে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই চেষ্টা সফল হয়নি। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনে সরকার গঠন করেছে। এখন বিএনপি যে চেষ্টা করছে, সেটাও হোঁচট খেতে বাধ্য। কারণ, অচল হরতাল-অবরোধ কৃত্রিমভাবে আর কত দিন টিকিয়ে রাখা যাবে। তাই কিছু নতুন চিন্তার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষেও একতরফা নির্বাচনে গঠিত সরকার চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কারণ, এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দেশে-বিদেশে সমালোচনা রয়েছে। এটা ঠিক যে এই অবস্থায় রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো পথ খুঁজে বের করা বস্তুত খড়ের গাদায় হারিয়ে যাওয়া কোনো আলপিনের অনুসন্ধানের মতোই কঠিন। তার পরও হয়তো কিছু সূত্র পাওয়া যাবে।
যেমন কয়েক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা সাপেক্ষে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে রেখেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা সম্ভব’ (১১ জানুয়ারি ও ১৩ জানুয়ারি ২০১৫)।
এ ধরনের চিন্তা এই মুহূর্তে বেশ কাজে লাগতে পারে। কিন্তু সেখানে প্রধান শর্ত হলো স্বাধীন ও দলীয় আনুগত্যবিহীন নির্বাচন কমিশন, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন। এ দুটির একটি শর্তও বর্তমানে কার্যত নেই। যদি সে রকম কোনো পরিবর্তন ঘটানো যায়, তাহলে হয়তো বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চিন্তা কাছাকাছি আসতে পারে। এই উদ্যোগ আসতে হবে সরকারের পক্ষ থেকেই। এবং সেটা হতে হবে আন্তরিক। এখানে চালাক-চাতুরীর কোনো সুযোগ নেই। দেশ বাঁচাতে হলে এ রকম কিছু একটা করতে হবে।
সরকার যদি এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় এবং সে বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, তাহলে পরিবর্তনের প্রাথমিক সূচনা ঘটতে পারে। এর বিনিময়ে বিএনপি তাদের অবরোধ-হরতাল বন্ধ রাখবে। সরকার প্রত্যুত্তরে বিরোধী দল বিএনপির মূল নেতাদের মুক্তি দেবে, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেবে। এভাবে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এই সুযোগ সৃষ্টি করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা রাজি, সেটাই প্রশ্ন।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Wednesday, February 4, 2015
পুড়ছে মানুষ জ্বলছে দেশ by আব্দুল কাইয়ুম

গতকাল
ভোররাতে গুপ্ত ঘাতকেরা কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা মেরে কি নৃশংসভাবেই না
সাতজন যাত্রীকে পুড়িয়ে মারল। এর আগের দিন ওরা গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনেও
পেট্রলবোমা মেরে পাঁচজনকে আগুনে পুড়িয়েছে। মনে হয় হরতাল-অবরোধের মধ্য
দিয়েই আরও বেশ কিছুদিন চলতে হবে। এ অবস্থায় আমাদের বিনীত আবেদন, অন্তত
পেট্রলবোমা ছুড়বেন না। আর রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলবেন না। কারণ, এগুলো
কোনো রাজনীতি না। স্রেফ মানুষ খুন করা। এগুলো বন্ধ করুন। সহিংস রাজনীতির
এই অস্ত্রটি যেভাবেই হোক বন্ধ করতে হবে। কোনো সভ্য দেশে রাজনীতির নামে
পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষ মারা হয় না। এভাবে কি রাজনৈতিক দাবি আদায়
করা যায়? গতকাল পর্যন্ত ৩০ দিনের অবরোধে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এঁদের
মধ্যে পেট্রলবোমা ও আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ৩১ জন। নিহত ব্যক্তিদের সবাই
সাধারণ মানুষ। পেট্রলবোমা মেরে তাঁদের হত্যা করার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?
সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি সবাই সমর্থন করে। এ জন্য দরকার
গণসমাবেশ। প্রবল জনমত। এগুলোই হবে প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র। এভাবে সরকারের
ওপর চাপ সৃষ্টি করলে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু পেট্রলবোমা কেন? যে
আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে করার কথা, সে আন্দোলন কেন সাধারণ মানুষের
বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে? সরকারের তো কিছু হচ্ছে না। পুড়ে মরছে মানুষ। নষ্ট
হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। এই দেশ, এই মানুষ কি শুধু সরকারের? বিরোধী দলের
নয়? পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এক একটা সংসার। অনেক সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম
মানুষ পেট্রলবোমায় মারা যাচ্ছেন। এই গরিব মানুষদের পুড়িয়ে মারার অধিকার
কারও নেই।
একইভাবে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে মানুষ মারার আরেক জঘন্য পথ ধরেছে হরতাল-অবরোধকারীরা। এটাও একেবারে ঠান্ডা মাথায় খুন। রাতের অন্ধকারে কেন রেললাইনের নাটবল্টু খুলে রাখা হবে? এগুলো সন্ত্রাসীদের কাজ। একে রাজনীতি বলা যায় না। খুনোখুনি চলছে। এসব বন্ধ করতে হবে।
বিএনপি বলবে তাদের সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, তাহলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কীভাবে করবে? খুবই যুক্তিসংগত কথা। বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সরকার অন্যায় করেছে। সরকারের অনুমতি পায়নি বলে ওরা সমাবেশ করতে পারেনি। মানে বিএনপি খুব আইন মেনে চলে। আইনের প্রতি তাদের যদি এতই আনুগত্য, তাহলে ওরা পেট্রলবোমা মারছে কেন? এটা কি আইন সমর্থন করে? এটা তো খুনোখুনি।
তার চেয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি যদি নয়াপল্টনে তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করত। বলত, সরকারের অন্যায় মানি না। যদি জোর করে সমাবেশ করত, সেটা কি পেট্রলবোমার চেয়ে ভালো হতো না? কিন্তু বিএনপি সেই প্রথাগত রাজনীতির পথে না গিয়ে সন্ত্রাসের রাজনীতির পথ গ্রহণ করেছে। এটাই তাদের বড় ভুল। রাজনীতি করতে হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই। সেখানে সন্ত্রাসীদের সহায়তায় নাশকতার কোনো স্থান নেই।
বিএনপি নিশ্চয়ই বলবে, নয়াপল্টনে তালা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তালা। পুলিশ দিয়ে ঘেরাও। যে যাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার। এ অবস্থায় কীভাবে ওরা জোর করে সমাবেশ করবে। মানুষকে তো জড়ো হতেই দিচ্ছে না। সন্দেহ নেই যে এগুলো সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা। বলপ্রয়োগে রাজনীতি দমনের অপচেষ্টা করে অতীতে কেউ সফল হয়নি। এ কথা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভালো আর কে জানে। তার পরও সরকার সেই অভিশপ্ত পথে চলছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
কিন্তু এ রকম দমননীতির মুখেও যে গণসমাবেশ-আন্দোলন করা যায়, সে তো এই হাল আমলেও দেখা গেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে বিএনপি প্রায় একই কায়দায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ, মিছিল দমন করার পথ নিয়েছিল। তখন বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমসহ আরও কত নেতাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিয়েছিল বিএনপির সরকার। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অন্তত ২২ জন নেতা-কর্মীকে মেরে ফেলা হলো। এ কারণে তো তখন আওয়ামী লীগ বাসে পেট্রলবোমা মারেনি। সাধারণ মানুষ হত্যা করেনি। সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা না করে সেদিন ওরা সভা-সমাবেশ তো কম করেনি। আন্দোলন তো থেমে থাকেনি।
তারও আগে ছিল আওয়ামী লীগের সরকার। তখনো সে সময়ের বিরোধী দল বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি হরতাল ডাকলেই সরকার তাদের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু করত। একবার পুলিশের ছররা গুলিতে বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকার সারা দেহ রক্তাক্ত হলো। সেই নির্যাতনের মুখেও তো বিএনপি গণ-আন্দোলনের পথ ছেড়ে পেট্রলবোমা তুলে নেয়নি।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ, কেউ আগে পেট্রলবোমার রাজনীতি করেনি। আমাদের দেশে কখনো এমন অমানবিক আন্দোলন হয়নি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কখনো এমন নৃশংসভাবে সাধারণ মানুষ মারা হয়নি। হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবারের মতো এমন ব্যাপক হারে পেট্রলবোমা মারা হয়নি। এটা নতুন। দেখা দরকার কীভাবে এই বিষ আমাদের রাজনীতিতে ঢুকল।
এটা কেবল সেসব লোকই করতে পারে, মানুষের জন্য যাদের কোনো দরদ নেই। দেশের জন্য দরদ থাকলে কোনো দল রাজনীতির নামে এমন নৃশংসতা করতে পারে না।
সুনির্দিষ্টভাবে বললে বলতে হয়, এই উপদ্রবটি এসেছে গত চার-পাঁচ বছরে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-শিবির চক্র সক্রিয় হয়ে নাশকতার রাজনীতি জোরদার করেছে। আগে রগকাটা, গলাকাটার রাজনীতি চলত। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পেট্রলবোমা। রেললাইনে নাশকতা।
সরকার ও বিএনপি এখন রেষারেষির পর্যায়ে চলে গিয়েছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এ রকম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কারণ, একদিকে সরকার ক্রমেই পুলিশের ওপর আরও বেশি হারে নির্ভরশীল হচ্ছে। আর অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোটও পেট্রলবোমা-রেললাইনে নাশকতা আরও জোরেশোরে চালাতে শুরু করেছে। এই সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসতে হবে। কিন্তু কীভাবে?
সবাই বলছেন, আলোচনা। একমাত্র আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। এটা ঠিক। কিন্তু সবাই বোঝেন ও জানেন যে, দুই পক্ষের কেউই এখনই সমঝোতার আলোচনায় বসতে রাজি নয়। ওরা শেষ দেখতে চায়। শেষ দেখতে দেখতে সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও বোধ হয় তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এটা হবে এক আত্মঘাতী পথ।
তাহলে কি আমাদের চোখের সামনে জ্বলেপুড়ে সব শেষ হয়ে যাবে? না। উপায় আছে। বিশ্বে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধানের অযোগ্য। আজকের রাজনৈতিক হিংসা, হানাহানি থেকে বেরিয়ে আসারও পথ আছে। খোলা মন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা থাকলে সবই সম্ভব।
শুরু করতে হবে এভাবে। প্রথমে পেট্রলবোমা বন্ধ। রেললাইনে নাশকতা বন্ধ। এ দুটি বিষয়ে বিএনপির আপত্তি থাকার কথা নয়। কারণ যেখানে নাশকতা, সেখানে জনসমর্থন নেই। অন্যদিকে একই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে বিএনপির বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসায় বিদ্যুতের লাইন কাটা, টেলিফোন, ডিশ-লাইন, ওয়াইফাই লাইন কাটা, গেটে তালা, এসব নিম্নমানের কারসাজি একেবারে বন্ধ। সরকার যদি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তি দেয়, সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই সহনীয় হয়ে আসবে। এরপর হয়তো আলোচনার একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে এ বছর ফেব্রুয়ারির এই ভাষামাসের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছে ৭২ ঘণ্টার হরতাল দিয়ে। বায়ান্নর ভাষাশহীদদের কথা স্মরণ করে কি এই মাসটি হরতাল-অবরোধের বাইরে রাখা যেত না? মহান একুশের এই মাসে আমরা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব, ফুলে ফুলে ভরে দেব শহীদ মিনার। সেটাও কি অবরোধের মধ্যেই করতে হবে? যারা একুশের শক্তি সম্পর্কে সচেতন নয়, জানে না কী ভীষণ শক্তি ধারণ করে এই ভাষার মাস, ওরাই কেবল ভাষার মাসের অসম্মান করতে পারে।
মহান একুশকে সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল যেন রাজনৈতিক হানাহানির অবসান ঘটায়। এতে হয়তো দুই পক্ষকে দু-এক কদম পিছিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দেশ এগিয়ে যাবে বেশ কয়েক কদম।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
একইভাবে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে মানুষ মারার আরেক জঘন্য পথ ধরেছে হরতাল-অবরোধকারীরা। এটাও একেবারে ঠান্ডা মাথায় খুন। রাতের অন্ধকারে কেন রেললাইনের নাটবল্টু খুলে রাখা হবে? এগুলো সন্ত্রাসীদের কাজ। একে রাজনীতি বলা যায় না। খুনোখুনি চলছে। এসব বন্ধ করতে হবে।
বিএনপি বলবে তাদের সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, তাহলে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কীভাবে করবে? খুবই যুক্তিসংগত কথা। বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সরকার অন্যায় করেছে। সরকারের অনুমতি পায়নি বলে ওরা সমাবেশ করতে পারেনি। মানে বিএনপি খুব আইন মেনে চলে। আইনের প্রতি তাদের যদি এতই আনুগত্য, তাহলে ওরা পেট্রলবোমা মারছে কেন? এটা কি আইন সমর্থন করে? এটা তো খুনোখুনি।
তার চেয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি যদি নয়াপল্টনে তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করত। বলত, সরকারের অন্যায় মানি না। যদি জোর করে সমাবেশ করত, সেটা কি পেট্রলবোমার চেয়ে ভালো হতো না? কিন্তু বিএনপি সেই প্রথাগত রাজনীতির পথে না গিয়ে সন্ত্রাসের রাজনীতির পথ গ্রহণ করেছে। এটাই তাদের বড় ভুল। রাজনীতি করতে হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই। সেখানে সন্ত্রাসীদের সহায়তায় নাশকতার কোনো স্থান নেই।
বিএনপি নিশ্চয়ই বলবে, নয়াপল্টনে তালা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তালা। পুলিশ দিয়ে ঘেরাও। যে যাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার। এ অবস্থায় কীভাবে ওরা জোর করে সমাবেশ করবে। মানুষকে তো জড়ো হতেই দিচ্ছে না। সন্দেহ নেই যে এগুলো সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা। বলপ্রয়োগে রাজনীতি দমনের অপচেষ্টা করে অতীতে কেউ সফল হয়নি। এ কথা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভালো আর কে জানে। তার পরও সরকার সেই অভিশপ্ত পথে চলছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
কিন্তু এ রকম দমননীতির মুখেও যে গণসমাবেশ-আন্দোলন করা যায়, সে তো এই হাল আমলেও দেখা গেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে বিএনপি প্রায় একই কায়দায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ, মিছিল দমন করার পথ নিয়েছিল। তখন বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমসহ আরও কত নেতাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিয়েছিল বিএনপির সরকার। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অন্তত ২২ জন নেতা-কর্মীকে মেরে ফেলা হলো। এ কারণে তো তখন আওয়ামী লীগ বাসে পেট্রলবোমা মারেনি। সাধারণ মানুষ হত্যা করেনি। সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা না করে সেদিন ওরা সভা-সমাবেশ তো কম করেনি। আন্দোলন তো থেমে থাকেনি।
তারও আগে ছিল আওয়ামী লীগের সরকার। তখনো সে সময়ের বিরোধী দল বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি হরতাল ডাকলেই সরকার তাদের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু করত। একবার পুলিশের ছররা গুলিতে বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকার সারা দেহ রক্তাক্ত হলো। সেই নির্যাতনের মুখেও তো বিএনপি গণ-আন্দোলনের পথ ছেড়ে পেট্রলবোমা তুলে নেয়নি।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ, কেউ আগে পেট্রলবোমার রাজনীতি করেনি। আমাদের দেশে কখনো এমন অমানবিক আন্দোলন হয়নি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কখনো এমন নৃশংসভাবে সাধারণ মানুষ মারা হয়নি। হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবারের মতো এমন ব্যাপক হারে পেট্রলবোমা মারা হয়নি। এটা নতুন। দেখা দরকার কীভাবে এই বিষ আমাদের রাজনীতিতে ঢুকল।
এটা কেবল সেসব লোকই করতে পারে, মানুষের জন্য যাদের কোনো দরদ নেই। দেশের জন্য দরদ থাকলে কোনো দল রাজনীতির নামে এমন নৃশংসতা করতে পারে না।
সুনির্দিষ্টভাবে বললে বলতে হয়, এই উপদ্রবটি এসেছে গত চার-পাঁচ বছরে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-শিবির চক্র সক্রিয় হয়ে নাশকতার রাজনীতি জোরদার করেছে। আগে রগকাটা, গলাকাটার রাজনীতি চলত। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পেট্রলবোমা। রেললাইনে নাশকতা।
সরকার ও বিএনপি এখন রেষারেষির পর্যায়ে চলে গিয়েছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এ রকম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কারণ, একদিকে সরকার ক্রমেই পুলিশের ওপর আরও বেশি হারে নির্ভরশীল হচ্ছে। আর অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোটও পেট্রলবোমা-রেললাইনে নাশকতা আরও জোরেশোরে চালাতে শুরু করেছে। এই সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসতে হবে। কিন্তু কীভাবে?
সবাই বলছেন, আলোচনা। একমাত্র আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। এটা ঠিক। কিন্তু সবাই বোঝেন ও জানেন যে, দুই পক্ষের কেউই এখনই সমঝোতার আলোচনায় বসতে রাজি নয়। ওরা শেষ দেখতে চায়। শেষ দেখতে দেখতে সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও বোধ হয় তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এটা হবে এক আত্মঘাতী পথ।
তাহলে কি আমাদের চোখের সামনে জ্বলেপুড়ে সব শেষ হয়ে যাবে? না। উপায় আছে। বিশ্বে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধানের অযোগ্য। আজকের রাজনৈতিক হিংসা, হানাহানি থেকে বেরিয়ে আসারও পথ আছে। খোলা মন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা থাকলে সবই সম্ভব।
শুরু করতে হবে এভাবে। প্রথমে পেট্রলবোমা বন্ধ। রেললাইনে নাশকতা বন্ধ। এ দুটি বিষয়ে বিএনপির আপত্তি থাকার কথা নয়। কারণ যেখানে নাশকতা, সেখানে জনসমর্থন নেই। অন্যদিকে একই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে বিএনপির বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসায় বিদ্যুতের লাইন কাটা, টেলিফোন, ডিশ-লাইন, ওয়াইফাই লাইন কাটা, গেটে তালা, এসব নিম্নমানের কারসাজি একেবারে বন্ধ। সরকার যদি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তি দেয়, সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়, তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই সহনীয় হয়ে আসবে। এরপর হয়তো আলোচনার একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে এ বছর ফেব্রুয়ারির এই ভাষামাসের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছে ৭২ ঘণ্টার হরতাল দিয়ে। বায়ান্নর ভাষাশহীদদের কথা স্মরণ করে কি এই মাসটি হরতাল-অবরোধের বাইরে রাখা যেত না? মহান একুশের এই মাসে আমরা ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব, ফুলে ফুলে ভরে দেব শহীদ মিনার। সেটাও কি অবরোধের মধ্যেই করতে হবে? যারা একুশের শক্তি সম্পর্কে সচেতন নয়, জানে না কী ভীষণ শক্তি ধারণ করে এই ভাষার মাস, ওরাই কেবল ভাষার মাসের অসম্মান করতে পারে।
মহান একুশকে সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল যেন রাজনৈতিক হানাহানির অবসান ঘটায়। এতে হয়তো দুই পক্ষকে দু-এক কদম পিছিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দেশ এগিয়ে যাবে বেশ কয়েক কদম।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1991)
-
▼
September
(198)
-
▼
Sep 19
(8)
- ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ ও চব্বিশের বিপ্লবীরা by মোহা...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতা by মেজর জেনা...
- ভারতে দারিদ্র্য ঢেকে রাখার পর্দা সংস্কৃতি by এলাহী...
- বিশ্ববাণিজ্যের দুটি দুঃস্বপ্ন: রুদ্ধ হরমুজ ও বাব আ...
- অখণ্ড ভারত: এক অসম্ভব স্বপ্ন by শাহীদ কামরুল
- হুথিদের দখলে বাব আল-মান্দেব, সৌদির অনুরোধ সত্ত্বেও...
- ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্নে যা করতে হবে by ডা. অনন...
- নারীদের ম্যামোগ্রাম টেস্ট কেন জরুরি, কোথায় করবেন, ...
-
▼
Sep 19
(8)
-
▼
September
(198)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
দেশে দেশে
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
ইরান
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
কালবেলা
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
মুসলিম
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
জাতিসংঘ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
ইউরোপ
খেলা ধুলা
সৌদি আরব
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
ইউক্রেন
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
স্বাস্থ্য
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
শিল্প ও সাহিত্য
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
Exclusive
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ইয়েমেন
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
জীবনযাপন
লেবানন
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
কুমিল্লা
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
চিকিৎসা
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
মসজিদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
উত্তর কোরিয়া
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
কালি ও কলম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
নিবন্ধ
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
জনস্বাস্থ্য
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কাতার
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জার্মানি
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
আরব আমিরাত বা দুবাই
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
লিবিয়া
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
ইসলাম
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
মহাকাশচারী
জোহরান মামদানি
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
ইতালি
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
কিশোর আলো
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গণমাধ্যম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট












