ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুমোদন দিতে তাগাদা জাইকার-মেট্রোরেল প্রকল্প by জাফর আহমেদ

দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার তাগাদা দিয়েছে প্রকল্পটির অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাপানি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ তাগাদা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট


প্রজেক্টসহ বিদ্যুতের ২ প্রকল্পে জাইকার অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে এক বৈঠকে জাইকা প্রতিনিধি দল সরকারের প্রতি এসব দাবি জানিয়েছে। জাইকার দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক ইজিগুসি টমোহাইড জাইকা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। জাইকা ঢাকা আবাসিক কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা মওইউসি এন্ডোদ ছাড়াও এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকে জাইকার প্রতিনিধি দল জানায়, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জাইকা মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশানুরূপ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় তারা অসন্তুষ্ট। জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইআরডিকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠকে অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৈঠকে প্রকল্পটি দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গৃহীত এ প্রকল্পে কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রকল্পটিতে দুর্নীতি করা হলে সঙ্গে সঙ্গে অর্থছাড় বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করতে বলেছে জাইকা।
প্রসঙ্গত, বিজয় সরণি দিয়ে মেট্রোরেলের রুট চূড়ান্ত করা হলেও শুরু থেকেই এ ব্যাপারে আপত্তি জানায় বিমানবাহিনী। বিজয় সরণি দিয়ে মেট্রোরেল রুট হলে এয়ারপোর্টের 'অপারেশনাল ক্যাপাসিটি' কমে যাবে বলে বলে বিমানবাহিনী এই রুটের বিরোধিতা করে। তবে বিকল্প হিসেবে তারা সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট যাওয়ার প্রস্তাব করেছে।
ঢাকা শহরে যানজট কমিয়ে আনতে ৭ মার্চ মন্ত্রিসভা ২০ বছরে বাস্তবায়নযোগ্য কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় ম্যাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট (এমআরটি) লাইন-৬ বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এমআরটি লাইন-৬-এর আওতায় উত্তরা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ২১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন রুট অনুযায়ী, মেট্রোরেল দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড হয়ে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে দিয়ে নির্ধারণ করা হয়।