৩২ পরিচালকের ৯৩ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা by আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ


সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে নিজ কোম্পানির কমপক্ষে দুই শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ৪৯১ জন পরিচালকের শেয়ার রয়েছে দুই শতাংশের নিচে। আর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩২ জন উদ্যোক্তা-পরিচালক ৯৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৯০টি শেয়ার কেনার ঘোষণা


দিয়েছেন। বাকিদের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যেই বাজার থেকে এসব শেয়ার কিনতে হবে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর ফুওয়াং সিরামিকের পরিচালক ব্রেন্ডার লি এক হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। আর ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ফুওয়াং ফুডের পরিচালক আরিফুর রহমান পাঁচ লাখ ও সাহাদাত হোসাইন এক লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন।
এরপর ১১ ডিসেম্বর বেক্সিমকোর কর্ণধার সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মার পাঁচ লাখ করে ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ১২ ডিসেম্বর আলহাজ টেক্সটাইলের মো. তালহা ৪২ হাজার, একই কোম্পানির মো. সোহরাওয়ার্দি ২০ হাজার এবং পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের জহিরুল ইসলাম চৌধুরী তিন লাখ ৭৩ হাজার ৭১৬টি শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া আরও যাঁরা শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন তাঁরা হলেন—১৩ ডিসেম্বর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক নিয়াজ আহমেদ, পিপলস ইনস্যুরেন্সের মোহাম্মদ আলী হোসেন, সিটি ব্যাংকের ইভানা ফাহমিদা মাহমুদ, উত্তরা ব্যাংকের বদরুন্নেসা শারমিন ইসলাম, তাকাফুল ইনস্যুরেন্সের মো. মহিউদ্দীন ও অগ্রণী ইনস্যুরেন্সের আবদুল কাদের খান; ১৪ ডিসেম্বর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আবদুল মালেক মোল্লা, উত্তরা ব্যাংকের শেখ আমানুল্লাহ, রূপালী ইনস্যুরেন্সের কাজী মনিরুজ্জামান ও মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্সের হাসিনা নিজাম; ১৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের পরিচালক দিলরুবা শারমিন ও পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সে পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী; ১৮ ডিসেম্বর এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক আবুল বাশার ও কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের পরিচালক শারমিন নাছির; ১৯ ডিসেম্বর ইউসিবিএলের জাহাঙ্গীর আলম খান, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আবদুল মালেক মোল্লা ও সন্ধানী ইনস্যুরেন্সের কাজী মাহবুব; ২০ ডিসেম্বর ইউসিবিএলের নজরুল ইসলাম চৌধুরী; আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আবদুস সালাম, একই ব্যাংকের আবদুল মালেক মোল্লা, স্কয়ার ফার্মার অঞ্জন চৌধুরী, তপন চৌধুরী, সামিউল এস চৌধুরী ও রত্নাপত্র শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্সের মহিউদ্দিন, জুট স্পিনার্সের সাহিদা হোসেন ও রূপালী ইনস্যুরেন্সের কাজী মনিরুজ্জামান শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সম্প্রতি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ২১টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গত ২২ নভেম্বর এসইসির এক নির্দেশনায় বলা হয়, কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। এ ছাড়া পরিচালকদের আলাদাভাবে ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার না থাকলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন এবং যাঁর কাছে পাঁচ শতাংশ শেয়ার আছে, তিনি পরবর্তী বার্ষিক সভায় পরিচালক মনোনীত হবেন। ইতিমধ্যে ডিএসই থেকে পরিচালকদের কাছে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে—এমন ৩৮ প্রতিষ্ঠান ও দুই শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে এক হাজার ৪৯১ পরিচালকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার হচ্ছে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের নতুন শেয়ার কেনার ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। যার ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে। ওই নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও ব্যক্তিগতভাবে কমপক্ষে দুই শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। যেসব কোম্পানির পরিচালকদের হাতে ওই পরিমাণ শেয়ার নেই তাঁদেরকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শর্ত পূর্ণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। যেসব বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে ছিলেন তাঁরা আবারও বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন। এভাবে বাজার স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ প্রথম আলো অনলাইনকে বলেন, এসইসি নির্দেশনা জারি করলেও কিছু আইনগত সমস্যা ছিল। কয়েক দিন আগে এসইসি সমস্যাটির ব্যাখ্যা দিয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে শেয়ার কিনতে হলে পরিচালকদের তো কিছুটা সময় দিতে হবে। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে। তবে শেয়ার কেনার কাজ খুব স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে মনে করেন ফখরউদ্দিন।