রাশিয়ার থেকে ডিজেল নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের চাপ দিয়েছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে রুশ ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথও খুলেছে ওয়াশিংটন। তবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা প্রশমনের নিশ্চয়তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা দুর্বলতার পরিচয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র, দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ট্রাম্পের মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা এবং ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা সমতুল্য নয়।

শুক্রবার মায়ামিতে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আট ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প। এরপর রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে বলেও জানানো হয়।

পরে পুতিনের সঙ্গে আলোচনাকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে সরবরাহ করা হবে ৫ লাখ টন, এরপর আরও ১০ লাখ টন। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরবর্তী চালানগুলোর পরিমাণ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জেনারেল লাইসেন্স ১৩৫ জারি করে। এর আওতায় ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ায় উৎপাদিত ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ, জাহাজ থেকে খালাস ও আমদানিসংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা প্রশমনের চুক্তি ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা দুর্বলতার পরিচয়। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, অ্যাক্সিওসকে এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করেছিলেন উইটকফ ও কুশনার।

তবে এমন হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন ওই কর্মকর্তা। তার দাবি, মার্কিন দূতেরা ইউক্রেনকে জানিয়েছেন, অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ওয়াশিংটন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতি হয়, এমন পদক্ষেপ না নিতেও ইউক্রেনকে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত