বিশেষজ্ঞদের অভিমত-জলবায়ু পরিবর্তন স্থিতিশীলতার ও স্বাস্থ্যের জন্য 'আশু হুমকি'

বিশ্ব স্বাস্থ্য ও স্থিতিশীলতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন একটি 'ভয়াবহ, ক্রমবর্ধমান ও আশু হুমকি'। লন্ডনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সম্মেলনে গত সোমবার বিশেষজ্ঞরা এ সতর্কতা উচ্চারণ করেন।ওই সম্মেলন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)সহ উন্নত দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।বিশেষজ্ঞরা বলেন, বন্যা ও খরার প্রভাবে মানুষের আবাসভূমি বিনষ্ট হচ্ছে। বিঘি্নত হচ্ছে খাদ্য সরবরাহ। ব্যাপকভাবে বাড়ছে উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা। এ অবস্থায় গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রশ্নে ইইউকে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।


১৯৯০ সালের তুলনায় ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইইউ। এ মাত্রা ৩০ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিলে তা একদিকে যেমন সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রের ঝুঁকি কমাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ঘটাবে। এর পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা। এ সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হলে বায়ুমণ্ডলের অবস্থার উন্নতি হবে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ইনস্টিটিউটের হিউম্যান হেলথ অ্যান্ড পারফরম্যানসের পরিচালক হগ মন্টগোমারি বলেন, 'পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের নেওয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।' তিনি বলেন, 'এই আত্মসন্তুষ্টির পরিণাম হবে মানুষের জীবনহানি ও দুর্ভোগ। পাশাপাশি সবকিছুতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।'
সম্মেলনের বিবৃতিতে তাপমাত্র বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তার ভয়াবহতা বাড়াবে বলে উল্লেখ করা হয়। সূত্র : এএফপি।