ইরানের পর ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার: বিস্ফোরণেই ধ্বংস হবে বিস্তীর্ণ এলাকা

ইরানের পর এবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্যতা ও ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করতে ক্লাস্টার ওয়ারহেডবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার (১ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন এ পরীক্ষা পরিচালনা করে। দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বিভাগের প্রথম উপপরিচালক জেনারেল কিম জং সিক পরীক্ষা তদারকি করেন।

উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ওয়ারহেড গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, পরীক্ষায় ‘টাইপ-২ স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার ওয়ারহেড’-এর সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই ওয়ারহেড দিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর (প্রায় ১০০ বিঘা) এলাকাজুড়ে অত্যন্ত ঘন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করা সম্ভব।

দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডকে বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের উপযোগী ও সাধারণ ধরনসহ মোট চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চার ধরনের ওয়ারহেডই সামরিক ইউনিটগুলোর কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানের লক্ষ্য এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সামরিক ইউনিটগুলো এসব ওয়ারহেড বেছে নিতে পারবে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন জানিয়েছে, অস্ত্রব্যবস্থার ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালায়। এর মধ্যে ক্লাস্টার বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছিল।

এই ধরনের মিসাইল আকাশ থেকে নিচে নামার সময় অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ২০ থেকে ৮০টি ছোট অংশে ভাগ হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশে আড়াই কেজি করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে, যা বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ক্লাস্টার বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার দৃশ্য। ছবি: কেসিএনএ
ক্লাস্টার বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার দৃশ্য। ছবি: কেসিএনএ