Saturday, July 13, 2013
মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না by ফরহাদ মজহার
মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না by ফরহাদ মজহার
মাননীয়
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে আমি একটি দরখাস্ত পেশ করব। কিন্তু তার আগে
নিজের সম্পর্কে দুই-একটি কথা না বলে পারছি না। আমি কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন
ধরে ক্ষেতখামারে কাজ করছি। এটা গ্রাম বা কৃষিব্যবস্থার প্রতি কোনো
রোমান্টিক ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। তবে অনেকের মতোই শহরের চেয়ে গ্রাম আমার
ভালো লাগে। নিজেকে অনেক সময় প্রশ্ন করি, ভালো লাগার ব্যারামটা শহরের
‘গেঞ্জাম’ থেকে দূরে থাকার বাসনা কি-না। কিন্তু সবসময়ই নেতিবাচক উত্তর পাই।
কারণ শহরও আমার ভালো লাগে, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। দিনানুদিনের
লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শহরে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার যে অভিজ্ঞতা তার
চরিত্র আলাদা। এই জীবন থেকে শিক্ষা নেয়ার পদ্ধতিও আলাদা। গ্রামের জীবনের
সঙ্গে তার তুলনা অপ্রয়োজনীয়। এই ক্ষেত্রে ভালো লাগা মানসিক কোনো বিনোদন বা
প্রশান্তির সমার্থক নয়, এই দুই পরিস্থিতিতে মানুষের যে পার্থক্য ও
বৈচিত্র্য, তাকে জানার ও বোঝার আগ্রহ থেকেই এই ভালো লাগার উৎপত্তি। শহর
কিভাবে মানুষকে অজান্তে বদলে দেয় সেটা বিস্ময়কর বৈকি। নিজে বড় হয়েছি
নোয়াখালী সদর থানার অধীন লক্ষ্মীনারায়ণপুর নামের গ্রামে। সেটা ছিল আধা বন
আর আধা কৃষির মধ্যবর্তী বিচিত্র এক জায়গা। কৈশোরে খেলার সময় যখন খুশি আমরা
কৃষি ক্ষেত থেকে বনে কিংবা বন থেকে ফসলের মাঠে দাপাদাপি করে বেড়িয়েছি।
কৃষিকে বন থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন করা কঠিন ছিল, ঠিক তেমনি বনকেও কৃষি থেকে
আলাদা করা ছিল অসম্ভব। আর উভয়ের মধ্যবর্তী জায়গায় গড়ে উঠছিল শহর। আমি
ম্যাট্রিক পাস করার বয়সে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম, চতুর্দিক আমাকে জানান না
দিয়েই বদলে যাচ্ছে। মফস্বল শহরের প্রান্তিক একটি গ্রামেও রূপান্তরের ঠাণ্ডা
হাত স্পর্শ করতে শুরু করেছে। গ্রামের কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় পড়তে
এসে ফিরে গিয়ে আর লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামকে খুঁজে পাইনি।
যখন বলি, গ্রাম আমার ভালো লাগে, তখন মনের মধ্যে কোনো আকুতি থেকে কথাগুলো উচ্চারিত হয় না। কিন্তু সম্ভবত কৈশোরেই দুটি প্রশ্ন জেগেছিল। এক. গ্রামের বিলয় মানুষের সভ্যতার জন্য অনিবার্য বা অবধারিত কি-না। যদি তাই হয়, তাহলে মানুষ বা প্রকৃতি উভয়ের জন্য এর পরিণতি কী হতে পারে? অর্থাৎ আমরা যদি নিজেদের ‘সভ্য’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই তাহলে গ্রাম ধ্বংস করে দিয়ে নগর গড়ে তোলাই কি একমাত্র পথ? এটা কেমন কথা? এ কেমন ‘সভ্যতা’? এই সভ্যতার স্থায়িত্বের নিশ্চয়তাই বা কী? এর নিশ্চয়ই কিছু পরিণতি আছে যা সর্বাংশে ইতিবাচক হতে পারে না। দ্বিতীয় প্রশ্ন প্রথম প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু চরিত্রের দিক থেকে ভিন্ন। নগরায়ন বা তথাকথিত আধুনিকতাই মনুষ্য জীবনের প্রধান কিংবা একমাত্র অন্বিষ্ট কি? অর্থাৎ নগর জীবনই কি জীবনযাপনের জন্য মানুষের একমাত্র চাইবার জিনিস, মনুষ্য জীবনের পরমার্থ? বলাবাহুল্য, এ ধরনের প্রশ্নকীটের দংশন ছাড়াও মানুষ বাঁচে। সুখীও হয়। কিন্তু অনেকেই আছে, স্বভাবদোষে জীবদ্দশাতে তাদের যাতনা যায় না। আমার হয়েছে সেই দশা।
যখন অর্থশাস্ত্র পড়েছি, তখন এই প্রশ্নকে দর্শনের জায়গা থেকে বিচার না করে আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়া বিচারের জায়গা থেকে বুঝেছি। বিশেষত পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের বিস্মৃতি ও গভীরতাই শহর ও গ্রামের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিল্পবিপ্লব। পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অধীনে বিস্ফোরিত শিল্পবিপ্লবের যে মহিমা কীর্তন করা হয়, তার সুফল ও কুফল দুটোই আমরা ভোগ করি। কিন্তু এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অন্য কিছু করার দরকার কি নাই? অন্য কোনো কর্তব্য আছে কি মানুষের? থাকলে সেটা কী হতে পারে, অর্থশাস্ত্র তার উত্তর দিতে পারে না। এটা আমরা অনুমান করতে পারি, পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অবসানের জন্য মানুষের যে সংগ্রাম সেটা একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের ব্যবধান মোচনেরও সংগ্রাম। কিন্তু এর মানে কী? গ্রামকে শহর বানানো? সভ্যতার অন্বিষ্ট ও আদর্শ হিসেবে নগরায়ন ও শিল্পায়নের অবস্থানে এতে কি কোনো নড়চড় হয়? আমরা কি বলি যে শহর ভেঙে আবার তাকে গ্রামে রূপান্তর করা উচিত? পুঁজিবাদী হলেও যেমন আমরা শহর চাই, সমাজতন্ত্রী হলেও তো তা-ই চাই। আকাক্সক্ষায় কোনো হেরফের নাই। পুঁজিতন্ত্রে ও সমাজতন্ত্রে এদিক থেকে তো কোনো ফারাক দেখা যায় না। দুইয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ভেদ থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নাই। সমাজতন্ত্রও মনে করে শিল্পায়ন ও নগরায়নই সভ্যতা, ওর মধ্যেই মানুষের অগ্রগতির চাবিকাঠি। সমাজতন্ত্র গ্রাম ও শহরের ব্যবধান মোচন করতে চায় বটে কিন্তু পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতোই গ্রামকেও শহরে পরিণত করতে চায়। সমাজতন্ত্র নিয়ে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা এটাই বলে। সমাজতন্ত্র আদর্শের দিক থেকে ভিন্ন কিছু চেয়েছে কি-না সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে, তবে তার প্রমাণ পাওয়া মুশকিল।
কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে যাওয়ার পেছনে প্রবলভাবে এসব প্রশ্ন কাজ করেছে। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা কৃষি সভ্যতাকে প্রগতি ও আধুনিকতার নামে চোখের সামনে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। কিন্তু কৃষি সম্পর্কে কোনো পূর্বানুমান মাথায় নিয়ে আমি কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে নামিনি। শিল্পসভ্যতা ও নগরায়নের প্রতি প্রশ্ন জারি রেখেও আমার মনে হয়েছে, কৃষি বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? কৃষি কাজের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতির সঙ্গে যে বিশেষ সম্পর্কে যুক্ত হই, তার চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যটাই বা আসলে কী? যদি কৃষি সভ্যতা ধ্বংস করে নগর ও শিল্পসভ্যতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প না থাকে তাহলে কী আমরা হারাচ্ছি, কিভাবে আমরা বদলে যাচ্ছি? এই বদলে যাওয়ার পরিণতি কী দাঁড়াতে পারে, সেই দিকগুলো হাতেনাতে কাজ করে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কোনো কেতাবি কায়দায় জানলে হবে না।
সে কারণে হাতে কোদাল নিয়ে মাটির সঙ্গে সম্বন্ধ রচনা করার প্রয়োজনীয়তাবোধ করেছি। অর্থাৎ এই সম্পর্কের অর্থ কী সেটা ইন্দ্রিয়পরায়ণভাবেই বোঝা দরকার মনে হয়েছে। বুদ্ধিকে সামলে রেখেছি, কারণ বুদ্ধির অহমিকা বারবার প্রকৃতির সঙ্গে আমার সম্বন্ধ রচনার ক্ষেত্রে আগাম বাগড়া দিতে থাকে। এমন কিছু প্রশ্ন মাথায় রেখেছি যাতে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঠিক কী অন্বেষণ করছি, তা নিজের কাছে স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন থাকে। যেমন, বারবার উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি কিভাবে পদ্মা মেঘনা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এই মানুষগুলো তাদের এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে কমপক্ষে ১৫ হাজার হাতের ধান ‘আবিষ্কার’ করতে সক্ষম হলেন? কী প্রতিভার গুণে সেটা সম্ভব হল? আবার বিভিন্ন জাতের চাষ পদ্ধতিও আলাদা। ধান চাষ নামক বিমূর্ত কোনো চাষাবাদ পদ্ধতি নাই। প্রতিটি জাতের পরিচর্যা ভিন্ন। অল্প পার্থক্য হলেও কৃষকের কাছ থেকে প্রতিটি জাত ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যার ধরন দাবি করে।
কৃষকের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্বন্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা আরও গভীর দিকে ধাবিত করে। যেমন, কৃষকের যে জ্ঞানের ওপর পুরো কৃষি ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে, কিভাবে এ জ্ঞানের উৎপত্তি ঘটে ও চর্চা হয়? শ্রুতিই যে সংস্কৃতিতে ‘প্রমাণ’ বলে গৃহীত, সে সংস্কৃতিতে আবিষ্কারের নিজস্ব জ্ঞানগত প্রক্রিয়া আছে। তার বৈশিষ্ট্য কেমন? কৃষকের কথোপকথনে ও কানে কানে যে লৌকিক জ্ঞানচর্চার ধারা, সেখানে জ্ঞান ধরে রাখা ও বংশানুক্রমে ধরে রাখার বিদ্যাটা কেমন? এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন ১৯৯২ সালে বিখ্যাত ধরিত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি তখন প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির (Convention on Biological Diversity, CBD) খসড়া প্রণয়নের সময় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে লোকায়ত জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হই। সহজেই প্রমাণ করা গিয়েছিল, লৌকিক বা লোকায়ত জ্ঞান প্রতিটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যেভাবে হোক তার সংরক্ষণ ও জীবন্ত চর্চার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি জরুরি। আর সেটা করতে হলে যাদের জীবনযাপনের সঙ্গে এই জ্ঞানের উৎপত্তি ও চর্চা জড়িত তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের কোনো আবিষ্কার বা সম্পদ ব্যবহার করতে হলে তাদের জ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব স্বীকার ও তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির ৮ অনুচ্ছেদের মধ্যে বিখ্যাত লৌকিক জ্ঞান এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপন ও তার চর্চার সপক্ষে বিশেষ আন্তর্জাতিক বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। যা চুক্তির 8(j) বিধান হিসেবে খ্যাত।
ভূমিকা হিসেবে এত কথা বলছি এ কারণে যে কৃষি, কৃষকের জ্ঞান ও আবিষ্কার নিয়ে সাম্প্রতিককালে দেশে-বিদেশে যে জিজ্ঞাসা, গবেষণা, আগ্রহ ও বিতর্ক, তার ছিটেফোঁটাও আমাদের দেশে নাই। আমরা ‘আধুনিক’ কৃষির নামে যা করছি সেটা কৃষি নয়, সেটা আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশান। তার উৎপাদনের মডেল হচ্ছে কারখানার মতো। জমি যেন আশপাশের প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বদ্ধ ঘর। সেই জমির সঙ্গে আচরণ কারখানার মেশিনের মতোই। তার মধ্যে বীজ, সার, কীটনাশক আর ডিপটিউবওয়েলের পানি কাঁচামাল হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর তা ফসল হয়ে বেরিয়ে আসে। ইনপুট আর আউটপুট। কারখানা বর্জ্য উৎপাদন করে। এই কৃষি-কারখানাও বর্জ্য ত্যাগ করে। সার, বিষ ও মাটির তলা থেকে তুলে আনা আর্সেনিক আশপাশের প্রকৃতিকে দূষিত করে ফেলে। কিন্তু তার দায় এই ‘কারখানা’ নেয় না। এই কারখানা নিজের জমি থেকে কী পরিমাণ ধান পেল তার হিসাব দেখিয়ে বলে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বিষে বিষাক্ত হয়ে নদী, খালবিল ও পুকুর মাছশূন্য হয়ে গেছে, সেই হিসাব লুকায়। অথচ বাংলাদেশ মাছের দেশ। গ্রামে মুরগি, হাঁস, ছাগল, গরু পালা দুঃসাধ্য। কারণ সর্বত্রই বিষ ছড়িয়ে গিয়েছে। ফলে কৃষি থেকে দুধ, মাংস, ডিমের উৎপাদন ভয়ানক কমেছে। কিন্তু তাকে ‘খাদ্য’ বলা হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ কুড়িয়ে যা পেত, তা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। এই অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আসলে কৃষির নামে আমরা কী করছি, তার ভালো-মন্দ বিচার করার কোনো নিরপেক্ষ মানদণ্ড আমরা তৈরি করতে পারিনি। আমরা ধরে নিয়েছি, কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে কারখানামূলক পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশানই আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর একমাত্র পথ। পরিবেশবান্ধব অন্য কোনো কৃষি পদ্ধতির দরকার নাই। আর এই পথের সুযোগে আমাদের কৃষিব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। কৃষক নয়, কর্পোরেশনই নাকি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে! এই পথ আত্মঘাতী পথ। কিন্তু এ পথেই আমরা ধেয়ে যাচ্ছি।
অথচ বিজ্ঞানীরা নানাভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, পরিবেশসম্মত সত্যিকারের কৃষিই বরং খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর পেছনে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনের জায়গায় আন্তর্জাতিকভাবে সে কারণে ‘টেকসই কৃষি ব্যবস্থা’ প্রচার ও প্রবর্তনের কথা বলা হয়। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির নানান বাধা, প্রতিবন্ধকতা এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে কৃষক ও গণমানুষের স্বার্থবিরোধী সরকারের কারণে সে চেষ্টা বেগবান হতে পারেনি।
বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনে রূপান্তরের সাম্প্রতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জিএমও বা বিকৃত জাতের উদ্ভিদ প্রবর্তন। খবরে দেখছি, সম্প্রতি জুনের (২০১৩) মাঝামাঝি সময়ে বিটিবেগুনের বীজ কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি)। এ খবর বাংলাদেশের যে কোনো সচেতন নাগরিককে বিস্মিত করবে। বেগুনের মতো অতি পরিচিত এবং প্রচুর ব্যবহৃত একটি সবজির জৈবিক গঠন বিশেষত প্রাণ সংকেত কেন জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটানো বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার জন্য জরুরি হয়ে পড়ল? এর কী যুক্তি? এসব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার দরখাস্ত এই বিটিবেগুন নিয়ে।
বিটিবেগুনকে ‘বিকৃত’ বেগুন বলা হয় কেন? বিটি একটি ব্যাক্টেরিয়ার নাম ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (Bacillus thuringiensis)। এই ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত প্রোটিন উদ্ভাবনের জিন রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া থেকে সেটা আলাদা করে জেনেটিক কারিগরির মাধ্যমে বেগুনের জিনোম বা প্রাণ-সাংকেতিক গঠনের মধ্যে সেটা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে বেগুনের মধ্যেই একই ধরনের বিষাক্ত প্রোটিন উৎপাদিত হয়। অথচ স্বাভাবিক বেগুনে এটা হওয়ার কথা নয়। ব্যাকটেরিয়া আর উদ্ভিদ সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সত্তা। এর ফলে বেগুনের মধ্যে সাধারণত আমরা যেসব পোকা সব সময় দেখি, সেই ব্রিঞ্জাল ফ্রুট অ্যান্ড শুটবরার বা লেদাপোকা বেগুনের গায়ে আক্রমণ করলে বা বেগুনের কোনো অংশ খেলে তাদের পুষ্টিনালী ছিদ্র হয়ে যায়। তারা মারা যায়। অর্থাৎ বেগুনগাছ নিজেই তখন বিষ হিসেবে কাজ করে।
বেগুনগাছকে বিষাক্ত বানিয়ে লেদাপোকা মারার প্রতিভাবান কৌশল আবিষ্কারের কারণ হল ইরি ও হাইব্রিডের বিষাক্ত বেগুন চাষ দেখে যারা বিরক্ত ও আতংকিত তাদের ফাঁকি দেয়া। তাদের বলা হবে, এই বেগুন চাষে কোনো বিষ বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। অথচ পুরো গাছটা নিজেই বিষাক্ত। সেই বিষাক্ত বেগুনগাছের ফল খাওয়ানো হবে ‘বিষমুক্ত’ বলে। ভালোই কোম্পানির বুদ্ধি। যে বিকৃত বিটিবেগুন এতই বিষাক্ত যে পোকা খাওয়ারও উপযোগী নয়, সেই বেগুন কী করে মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে? বেগুন ছাড়াও তুলা ও ভুট্টার ক্ষেত্রেও বিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষেত্রেই সেসবের প্রবর্তনে কৃষিতে কোনো সাফল্য আনেনি। বরং বিটিতুলা চাষ করে লাখ লাখ কৃষকের সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ভারতে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিষ ব্যবহার না করার কথা স্রেফ মিথ্যা ও প্রতারণা।
সার ও বিষ ছাড়া যেসব কৃষক চাষাবাদ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন বেগুন পোকা নিয়ন্ত্রণ করার সহজ পথ হচ্ছে- ১. স্থান ও পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেই পরিবেশে গড়ে ওঠা স্থানীয় বীজের ব্যবহার, ২. জৈব প্রক্রিয়ায় মাটির উর্বরতা রক্ষা করা যাতে কোনো রাসায়নিক সার দিতে না হয়। আর সর্বোপরি বৈচিত্র্যপূর্ণ ফসলের উৎপাদন করা। অর্থাৎ একাট্টা ফসল না করা। কৃষকদের দেখেছি যদি তারা পোকার আক্রমণের আশংকা করেন তবে সব এক জায়গায় না লাগিয়ে আলানে পালানে নানান জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেগুনগাছ লাগান। পোকা কৃষকের জ্ঞান ও বুদ্ধির কাছে পরাজয় মানতে বাধ্য হয়। কৃষকের উদ্ভাবিত এসব জ্ঞান ও তার চর্চাকে উৎসাহিত না করে বিদেশী কোম্পানির মুনাফার বাজার তৈরি করার জন্য এখন বিটিবেগুন প্রবর্তনের চেষ্টা চলছে। যা অবিলম্বে প্রতিরোধ করা জরুরি।
বারি বিটিবেগুন নিয়ে যে গবেষণা করেছে, সেই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই এবং ফলাফল প্রকাশ না করেই এই অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তার মানে অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে গোপনে। অনুমোদন চাওয়ার আগেই বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার কথা, ঠিক তেমনি কৃষক ও ভোক্তা উভয়কেই সেই গবেষণার ফলাফল জানানো দরকার। এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন বিতর্ক হওয়া দরকার, তেমনি জিএমও বা বিকৃত বীজ চাষের ফলে পরিবেশ, প্রাণব্যবস্থা ও প্রাণের বৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির সম্ভাবনাও সামগ্রিকভাবে বিবেচনার দরকার আছে। জানা দরকার, এই বীজ দ্বারা কৃষকের বেগুনের জাত দূষিত কিংবা ধ্বংস করার সম্ভাবনা কতটুকু।
আরও অনেক কিছু জানার দরকার আছে। যেমন, এই বীজের ‘মালিক’ কে বা কারা, কারণ এর সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রশ্ন জড়িত। মনসান্টো বা ভারতের মাহিকো কোম্পানির কাছে দেশীয় জাতের বীজ বিকৃত করে নতুন নামে, ‘বিটিব্রিঞ্জাল’ নামে প্রচলনের যৌক্তিকতা কী? বাংলাদেশে ৯টি স্থানীয় জাতের বেগুনের জাত বিটিবেগুন উদ্ভাবন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা বেগুন, কাজলা বেগুন, খটখটি বেগুন এবং চট্টগ্রামের দোহাজারীর একটি জাতকে বিটিবেগুন হিসেবে বিকৃত করা হয়েছে। এখন সেই বিকৃত বেগুনের বীজ ছাড় করানোর লক্ষ্যে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, কৃষকদের শত শত বছরের উদ্ভাবিত বেগুনের জাতের ওপর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অধিকার বারির মতো প্রতিষ্ঠানকে কে দিয়েছে?
বিটিবেগুন গবেষণার সময় যেন কোনো জৈবদূষণ (biological pollution) না ঘটে, তার জন্য গ্রিনহাউস ব্যবস্থার অধীনে গবেষণা পরিচালনা করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, বাঁশ ও লোহারজালির বেড়া দিয়ে ঘিরে বিটিবেগুনের চাষ করা হচ্ছে। পুরো মাঠেই রয়েছে প্রচুর ঘাস ও বিভিন্ন উদ্ভিদ। খুব কাছেই অন্যান্য শস্যের ক্ষেত। পরিবেশের কোনো প্রকার সুরক্ষা ছাড়াই এভাবেই বিটিবেগুনের গবেষণা চলছে। গবেষণা পর্যায়েই বিটিবেগুন পরিবেশের কোনো ক্ষতি করল কি-না সেটাও এখন জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বেগুন বিশেষভাবে বাংলাদেশের সবজি। এর জাতের বৈচিত্র্যের উৎপত্তিস্থলও (Origin of Diversit) এই তিন বৃহৎ নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা অববাহিকা। বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে এই সম্পদ রক্ষা করা। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে বেগুন বারো মাস জন্ম এবং সারাদেশে নানা জাতের বেগুন পাওয়া যায়, সেখানে বিদেশী সাহায্য সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানির তাড়ায় আমাদের দেশের বেগুনের মধ্যে জেনেটিক কারিগরির কী এমন প্রয়োজন দেখা দিল যে সরকার তা অনুমোদন করার উদ্যোগ নিচ্ছে?
বেগুনের বিভিন্ন জাত আমাদের কৃষক, বিশেষত কৃষক নারীর হাজার বছরের আবিষ্কার। বাংলাদেশের জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। বিকৃত বেগুন প্রবর্তনের ফলে অন্যসব জাত ভয়াবহ জৈবিক দূষণের (biological pollution) কবলে পড়তে পারে। দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের বিকৃত জাতের বেগুন কৃষক পর্যায়ে গোপনে অনুমোদন চাওয়া শুধু বিতর্কিত বিষয়ই নয়, রীতিমতো একটি বিপজ্জনক প্রস্তাব।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জিএম ফসলের অনুমোদন দিয়ে যাবেন বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ২০১১ সালেই বলে রেখেছিলেন। দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে সেটা জানা যায় (দেখুন, Govt. plans to approve GM crops, এপ্রিল ৩, ২০১১)। কৃষি মন্ত্রণালয় এই বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২০০৫-০৬ সাল থেকে গবেষণা করলেও বিটিবেগুনের কোনো সন্তোষজনক ফলাফল পায়নি। তারপরও বিকৃত বীজের ফসলের অনুমোদন তিনি কেন দেবেন, তার কোনো যুক্তি নাই।
আমরা জানি, বিটিবেগুনের গবেষণার উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষক কিংবা বেগুন পছন্দ করেন এমন ভোক্তাদের কাছ থেকে আসেনি। এসেছে বিটিবেগুন প্রকল্পের অংশীদার বেশির ভাগ বিদেশী সংস্থা ও ব্যবসায়ী কোম্পানির কাছ থেকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস ফর দি একুইজিশান অব এগ্রোবায়োটেক এপ্লিকেশান (ISAAA), ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপাইন্স, লসবেনোস (UPLB), সাউথ ইস্ট এশিয়ান রিজিওনাল সেন্টার ফর গ্রাজুয়েট স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন এগ্রিকালচার (SEARCA) এবং বীজ কোম্পানি যেমন ভারতের MAHYCO, যার সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্তোর অংশীদারিত্ব রয়েছে- এদের কাছ থেকে। কাজেই এই গবেষণা আসলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের নয়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র।
বাংলাদেশে গাজীপুরে অবস্থিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) এই গবেষণা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের বিশেষ কর্মসূচি ABSP II এর অধীনে। ভারতে এই বেগুন নিয়ে প্রচুর বিরোধিতা ও হৈচৈ হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ভারতে বিটিবেগুন গবেষণার ওপর মোরাটরিয়াম জারি রয়েছে। কিন্তু ভারতের উদ্যোক্তা কোম্পানি মাহায়কো ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বসে থাকতে রাজি নয়। তাদের উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এ শিল্পে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে পারবে কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে চায় না। বায়োএগ্রি কোম্পানির অন্যতম প্রতিনিধি Dr Barwale Zehr বলেছেন, ভারতে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই পণ্যটি ভারতে ছাড়তে অসুবিধা হলেও তারা ফিল্ড ট্রায়ালের মাধ্যমে অন্য দেশে ছাড়পত্র জোগাড় করতে পারবেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে সরকারি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তারা এ কাজ করে ফেলার জন্য প্রস্তুত।
`Even though the moratorium has affected the product release in India, we hope to be able to release it in other countries after conducting the mandatory field trials. We are in partnership with both private and public enterprises who are going to commercialize our technology for Bt brinjal and are very close to doing so'.
বিস্ময়কর হল, বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে নীরব। আর কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিটিবেগুন ও বিটিআলুর ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ২০১১ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি জিএম ফসলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, জিএম ফসল কীট দমনে ভালো ভূমিকা রাখবে। উৎসাহ প্রকাশের এক পর্যায়ে তিনি জিএম ফসল নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে বলেছেন। এমনকি তিনি বিরোধিতাকারীদের কথাকে ‘ফতোয়া’ বলে প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন (ডেইলি স্টার, মার্চ ৩০, ২০১১)।
কৃষিমন্ত্রীর বিটিবেগুন ও বিটিআলুর প্রতি মহব্বতকে তার ব্যক্তিগত পছন্দ গণ্য করা কঠিন। কারণ তিনি আসলে যাদের ভালোবাসেন তারা হচ্ছে মনসান্তো, ভারতীয় কোম্পানি মাহিকো এবং ইউএসএইড। এটা অবিশ্বাস্য যে, তিনি জানেন না স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া ছাড়াও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য বিকৃত বেগুন মারাÍক নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেগুনের মধ্যে অণুজীবের যে জিন থাকার কথা নয় তা ঢুকিয়ে দেয়ার ফলে বিকৃত বেগুন থেকে সেই জিন বেরিয়ে গিয়ে আশপাশের বেগুনের জাতের কাছাকাছি অন্যান্য জাত ও প্রজাতির বুনো গাছপালা শাকসবজি ঝোপঝাড় লতাপাতায় প্রবিষ্ট হয়ে তাদের দূষিত করে ফেলতে পারে। এ ধরনের পরিবেশ দূষণকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল পলিউশান’ বা জীবজীবন দূষিত করে ফেলা। পরিবেশ দূষণের চেয়েও তা ভয়ংকর। এই ভীতিকর সম্ভাবনা থাকার পরও বিটিবেগুন চাষ করার জন্য মতিয়া চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে গেছেন।
জৈবদূষণের ভীতিকর সম্ভাবনা নিয়ে এখন দীর্ঘ আলোচনা না করে মাননীয় মন্ত্রীকে সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রিনপিসের একটি প্রতিবেদন দেখতে বলব : Genetically engineered Bt brinjal and the implications for plant biodiversity – revisited. April 2012)। তাকে অনুরোধ করব, তিনি যেন গ্রিনহাউস ব্যবস্থা ছাড়া বিটিবেগুন গবেষণার বর্তমান বিপজ্জনক পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ এবং কৃষকের ক্ষেতে বিকৃত বেগুন উন্মুক্ত চাষাবাদ করার দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। তাকে ভেবে দেখতে বলব যে, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ গণসমর্থন হারিয়েছে, এই সত্য অস্বীকার করার জো নাই। এখন আওয়ামী লিগের কাঁধে বাংলাদেশের জটিল প্রাণব্যবস্থাপনা ও সমৃদ্ধ প্রাণবৈচিত্র্য দূষিত ও ধ্বংস করার বাড়তি দায় মতিয়া চৌধুরী চাপিয়ে দেবেন না, এই বিচক্ষণতা আমরা এখনও আশা করি। পরিবেশবিরোধী নীতি ও প্রযুক্তি প্রবর্তন করে এতকাল কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করার পরও অনেকের আশা মেটেনি। এখন কৃষিব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও কৃষকদের ভাগ্য বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার তৎপরতা নিন্দনীয়।
আমার দরখাস্তের কথা একটাই : মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো বিধান না মেনে বিটিবেগুন গবেষণা বন্ধ করুন এবং কৃষকের ক্ষেতে বিটিবেগুন চাষের পরিকল্পনা ত্যাগ করুন। দয়া করে প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাকে রক্ষা করুন।
যখন বলি, গ্রাম আমার ভালো লাগে, তখন মনের মধ্যে কোনো আকুতি থেকে কথাগুলো উচ্চারিত হয় না। কিন্তু সম্ভবত কৈশোরেই দুটি প্রশ্ন জেগেছিল। এক. গ্রামের বিলয় মানুষের সভ্যতার জন্য অনিবার্য বা অবধারিত কি-না। যদি তাই হয়, তাহলে মানুষ বা প্রকৃতি উভয়ের জন্য এর পরিণতি কী হতে পারে? অর্থাৎ আমরা যদি নিজেদের ‘সভ্য’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই তাহলে গ্রাম ধ্বংস করে দিয়ে নগর গড়ে তোলাই কি একমাত্র পথ? এটা কেমন কথা? এ কেমন ‘সভ্যতা’? এই সভ্যতার স্থায়িত্বের নিশ্চয়তাই বা কী? এর নিশ্চয়ই কিছু পরিণতি আছে যা সর্বাংশে ইতিবাচক হতে পারে না। দ্বিতীয় প্রশ্ন প্রথম প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু চরিত্রের দিক থেকে ভিন্ন। নগরায়ন বা তথাকথিত আধুনিকতাই মনুষ্য জীবনের প্রধান কিংবা একমাত্র অন্বিষ্ট কি? অর্থাৎ নগর জীবনই কি জীবনযাপনের জন্য মানুষের একমাত্র চাইবার জিনিস, মনুষ্য জীবনের পরমার্থ? বলাবাহুল্য, এ ধরনের প্রশ্নকীটের দংশন ছাড়াও মানুষ বাঁচে। সুখীও হয়। কিন্তু অনেকেই আছে, স্বভাবদোষে জীবদ্দশাতে তাদের যাতনা যায় না। আমার হয়েছে সেই দশা।
যখন অর্থশাস্ত্র পড়েছি, তখন এই প্রশ্নকে দর্শনের জায়গা থেকে বিচার না করে আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়া বিচারের জায়গা থেকে বুঝেছি। বিশেষত পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের বিস্মৃতি ও গভীরতাই শহর ও গ্রামের দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিল্পবিপ্লব। পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অধীনে বিস্ফোরিত শিল্পবিপ্লবের যে মহিমা কীর্তন করা হয়, তার সুফল ও কুফল দুটোই আমরা ভোগ করি। কিন্তু এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অন্য কিছু করার দরকার কি নাই? অন্য কোনো কর্তব্য আছে কি মানুষের? থাকলে সেটা কী হতে পারে, অর্থশাস্ত্র তার উত্তর দিতে পারে না। এটা আমরা অনুমান করতে পারি, পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের অবসানের জন্য মানুষের যে সংগ্রাম সেটা একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের ব্যবধান মোচনেরও সংগ্রাম। কিন্তু এর মানে কী? গ্রামকে শহর বানানো? সভ্যতার অন্বিষ্ট ও আদর্শ হিসেবে নগরায়ন ও শিল্পায়নের অবস্থানে এতে কি কোনো নড়চড় হয়? আমরা কি বলি যে শহর ভেঙে আবার তাকে গ্রামে রূপান্তর করা উচিত? পুঁজিবাদী হলেও যেমন আমরা শহর চাই, সমাজতন্ত্রী হলেও তো তা-ই চাই। আকাক্সক্ষায় কোনো হেরফের নাই। পুঁজিতন্ত্রে ও সমাজতন্ত্রে এদিক থেকে তো কোনো ফারাক দেখা যায় না। দুইয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ভেদ থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নাই। সমাজতন্ত্রও মনে করে শিল্পায়ন ও নগরায়নই সভ্যতা, ওর মধ্যেই মানুষের অগ্রগতির চাবিকাঠি। সমাজতন্ত্র গ্রাম ও শহরের ব্যবধান মোচন করতে চায় বটে কিন্তু পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতোই গ্রামকেও শহরে পরিণত করতে চায়। সমাজতন্ত্র নিয়ে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা এটাই বলে। সমাজতন্ত্র আদর্শের দিক থেকে ভিন্ন কিছু চেয়েছে কি-না সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে, তবে তার প্রমাণ পাওয়া মুশকিল।
কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে যাওয়ার পেছনে প্রবলভাবে এসব প্রশ্ন কাজ করেছে। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা কৃষি সভ্যতাকে প্রগতি ও আধুনিকতার নামে চোখের সামনে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। কিন্তু কৃষি সম্পর্কে কোনো পূর্বানুমান মাথায় নিয়ে আমি কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে নামিনি। শিল্পসভ্যতা ও নগরায়নের প্রতি প্রশ্ন জারি রেখেও আমার মনে হয়েছে, কৃষি বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? কৃষি কাজের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতির সঙ্গে যে বিশেষ সম্পর্কে যুক্ত হই, তার চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যটাই বা আসলে কী? যদি কৃষি সভ্যতা ধ্বংস করে নগর ও শিল্পসভ্যতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প না থাকে তাহলে কী আমরা হারাচ্ছি, কিভাবে আমরা বদলে যাচ্ছি? এই বদলে যাওয়ার পরিণতি কী দাঁড়াতে পারে, সেই দিকগুলো হাতেনাতে কাজ করে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কোনো কেতাবি কায়দায় জানলে হবে না।
সে কারণে হাতে কোদাল নিয়ে মাটির সঙ্গে সম্বন্ধ রচনা করার প্রয়োজনীয়তাবোধ করেছি। অর্থাৎ এই সম্পর্কের অর্থ কী সেটা ইন্দ্রিয়পরায়ণভাবেই বোঝা দরকার মনে হয়েছে। বুদ্ধিকে সামলে রেখেছি, কারণ বুদ্ধির অহমিকা বারবার প্রকৃতির সঙ্গে আমার সম্বন্ধ রচনার ক্ষেত্রে আগাম বাগড়া দিতে থাকে। এমন কিছু প্রশ্ন মাথায় রেখেছি যাতে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঠিক কী অন্বেষণ করছি, তা নিজের কাছে স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন থাকে। যেমন, বারবার উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি কিভাবে পদ্মা মেঘনা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এই মানুষগুলো তাদের এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে কমপক্ষে ১৫ হাজার হাতের ধান ‘আবিষ্কার’ করতে সক্ষম হলেন? কী প্রতিভার গুণে সেটা সম্ভব হল? আবার বিভিন্ন জাতের চাষ পদ্ধতিও আলাদা। ধান চাষ নামক বিমূর্ত কোনো চাষাবাদ পদ্ধতি নাই। প্রতিটি জাতের পরিচর্যা ভিন্ন। অল্প পার্থক্য হলেও কৃষকের কাছ থেকে প্রতিটি জাত ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যার ধরন দাবি করে।
কৃষকের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্বন্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা আরও গভীর দিকে ধাবিত করে। যেমন, কৃষকের যে জ্ঞানের ওপর পুরো কৃষি ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে, কিভাবে এ জ্ঞানের উৎপত্তি ঘটে ও চর্চা হয়? শ্রুতিই যে সংস্কৃতিতে ‘প্রমাণ’ বলে গৃহীত, সে সংস্কৃতিতে আবিষ্কারের নিজস্ব জ্ঞানগত প্রক্রিয়া আছে। তার বৈশিষ্ট্য কেমন? কৃষকের কথোপকথনে ও কানে কানে যে লৌকিক জ্ঞানচর্চার ধারা, সেখানে জ্ঞান ধরে রাখা ও বংশানুক্রমে ধরে রাখার বিদ্যাটা কেমন? এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন ১৯৯২ সালে বিখ্যাত ধরিত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি তখন প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির (Convention on Biological Diversity, CBD) খসড়া প্রণয়নের সময় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে লোকায়ত জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হই। সহজেই প্রমাণ করা গিয়েছিল, লৌকিক বা লোকায়ত জ্ঞান প্রতিটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যেভাবে হোক তার সংরক্ষণ ও জীবন্ত চর্চার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি জরুরি। আর সেটা করতে হলে যাদের জীবনযাপনের সঙ্গে এই জ্ঞানের উৎপত্তি ও চর্চা জড়িত তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের কোনো আবিষ্কার বা সম্পদ ব্যবহার করতে হলে তাদের জ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব স্বীকার ও তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তির ৮ অনুচ্ছেদের মধ্যে বিখ্যাত লৌকিক জ্ঞান এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপন ও তার চর্চার সপক্ষে বিশেষ আন্তর্জাতিক বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। যা চুক্তির 8(j) বিধান হিসেবে খ্যাত।
ভূমিকা হিসেবে এত কথা বলছি এ কারণে যে কৃষি, কৃষকের জ্ঞান ও আবিষ্কার নিয়ে সাম্প্রতিককালে দেশে-বিদেশে যে জিজ্ঞাসা, গবেষণা, আগ্রহ ও বিতর্ক, তার ছিটেফোঁটাও আমাদের দেশে নাই। আমরা ‘আধুনিক’ কৃষির নামে যা করছি সেটা কৃষি নয়, সেটা আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশান। তার উৎপাদনের মডেল হচ্ছে কারখানার মতো। জমি যেন আশপাশের প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বদ্ধ ঘর। সেই জমির সঙ্গে আচরণ কারখানার মেশিনের মতোই। তার মধ্যে বীজ, সার, কীটনাশক আর ডিপটিউবওয়েলের পানি কাঁচামাল হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর তা ফসল হয়ে বেরিয়ে আসে। ইনপুট আর আউটপুট। কারখানা বর্জ্য উৎপাদন করে। এই কৃষি-কারখানাও বর্জ্য ত্যাগ করে। সার, বিষ ও মাটির তলা থেকে তুলে আনা আর্সেনিক আশপাশের প্রকৃতিকে দূষিত করে ফেলে। কিন্তু তার দায় এই ‘কারখানা’ নেয় না। এই কারখানা নিজের জমি থেকে কী পরিমাণ ধান পেল তার হিসাব দেখিয়ে বলে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বিষে বিষাক্ত হয়ে নদী, খালবিল ও পুকুর মাছশূন্য হয়ে গেছে, সেই হিসাব লুকায়। অথচ বাংলাদেশ মাছের দেশ। গ্রামে মুরগি, হাঁস, ছাগল, গরু পালা দুঃসাধ্য। কারণ সর্বত্রই বিষ ছড়িয়ে গিয়েছে। ফলে কৃষি থেকে দুধ, মাংস, ডিমের উৎপাদন ভয়ানক কমেছে। কিন্তু তাকে ‘খাদ্য’ বলা হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ কুড়িয়ে যা পেত, তা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। এই অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আসলে কৃষির নামে আমরা কী করছি, তার ভালো-মন্দ বিচার করার কোনো নিরপেক্ষ মানদণ্ড আমরা তৈরি করতে পারিনি। আমরা ধরে নিয়েছি, কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে কারখানামূলক পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশানই আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর একমাত্র পথ। পরিবেশবান্ধব অন্য কোনো কৃষি পদ্ধতির দরকার নাই। আর এই পথের সুযোগে আমাদের কৃষিব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। কৃষক নয়, কর্পোরেশনই নাকি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে! এই পথ আত্মঘাতী পথ। কিন্তু এ পথেই আমরা ধেয়ে যাচ্ছি।
অথচ বিজ্ঞানীরা নানাভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, পরিবেশসম্মত সত্যিকারের কৃষিই বরং খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর পেছনে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ পরিবেশবিধ্বংসী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনের জায়গায় আন্তর্জাতিকভাবে সে কারণে ‘টেকসই কৃষি ব্যবস্থা’ প্রচার ও প্রবর্তনের কথা বলা হয়। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির নানান বাধা, প্রতিবন্ধকতা এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে কৃষক ও গণমানুষের স্বার্থবিরোধী সরকারের কারণে সে চেষ্টা বেগবান হতে পারেনি।
বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনে রূপান্তরের সাম্প্রতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জিএমও বা বিকৃত জাতের উদ্ভিদ প্রবর্তন। খবরে দেখছি, সম্প্রতি জুনের (২০১৩) মাঝামাঝি সময়ে বিটিবেগুনের বীজ কৃষক পর্যায়ে চাষ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি)। এ খবর বাংলাদেশের যে কোনো সচেতন নাগরিককে বিস্মিত করবে। বেগুনের মতো অতি পরিচিত এবং প্রচুর ব্যবহৃত একটি সবজির জৈবিক গঠন বিশেষত প্রাণ সংকেত কেন জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটানো বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার জন্য জরুরি হয়ে পড়ল? এর কী যুক্তি? এসব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার দরখাস্ত এই বিটিবেগুন নিয়ে।
বিটিবেগুনকে ‘বিকৃত’ বেগুন বলা হয় কেন? বিটি একটি ব্যাক্টেরিয়ার নাম ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (Bacillus thuringiensis)। এই ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত প্রোটিন উদ্ভাবনের জিন রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া থেকে সেটা আলাদা করে জেনেটিক কারিগরির মাধ্যমে বেগুনের জিনোম বা প্রাণ-সাংকেতিক গঠনের মধ্যে সেটা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে বেগুনের মধ্যেই একই ধরনের বিষাক্ত প্রোটিন উৎপাদিত হয়। অথচ স্বাভাবিক বেগুনে এটা হওয়ার কথা নয়। ব্যাকটেরিয়া আর উদ্ভিদ সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সত্তা। এর ফলে বেগুনের মধ্যে সাধারণত আমরা যেসব পোকা সব সময় দেখি, সেই ব্রিঞ্জাল ফ্রুট অ্যান্ড শুটবরার বা লেদাপোকা বেগুনের গায়ে আক্রমণ করলে বা বেগুনের কোনো অংশ খেলে তাদের পুষ্টিনালী ছিদ্র হয়ে যায়। তারা মারা যায়। অর্থাৎ বেগুনগাছ নিজেই তখন বিষ হিসেবে কাজ করে।
বেগুনগাছকে বিষাক্ত বানিয়ে লেদাপোকা মারার প্রতিভাবান কৌশল আবিষ্কারের কারণ হল ইরি ও হাইব্রিডের বিষাক্ত বেগুন চাষ দেখে যারা বিরক্ত ও আতংকিত তাদের ফাঁকি দেয়া। তাদের বলা হবে, এই বেগুন চাষে কোনো বিষ বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। অথচ পুরো গাছটা নিজেই বিষাক্ত। সেই বিষাক্ত বেগুনগাছের ফল খাওয়ানো হবে ‘বিষমুক্ত’ বলে। ভালোই কোম্পানির বুদ্ধি। যে বিকৃত বিটিবেগুন এতই বিষাক্ত যে পোকা খাওয়ারও উপযোগী নয়, সেই বেগুন কী করে মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে? বেগুন ছাড়াও তুলা ও ভুট্টার ক্ষেত্রেও বিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষেত্রেই সেসবের প্রবর্তনে কৃষিতে কোনো সাফল্য আনেনি। বরং বিটিতুলা চাষ করে লাখ লাখ কৃষকের সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ভারতে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিষ ব্যবহার না করার কথা স্রেফ মিথ্যা ও প্রতারণা।
সার ও বিষ ছাড়া যেসব কৃষক চাষাবাদ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন বেগুন পোকা নিয়ন্ত্রণ করার সহজ পথ হচ্ছে- ১. স্থান ও পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেই পরিবেশে গড়ে ওঠা স্থানীয় বীজের ব্যবহার, ২. জৈব প্রক্রিয়ায় মাটির উর্বরতা রক্ষা করা যাতে কোনো রাসায়নিক সার দিতে না হয়। আর সর্বোপরি বৈচিত্র্যপূর্ণ ফসলের উৎপাদন করা। অর্থাৎ একাট্টা ফসল না করা। কৃষকদের দেখেছি যদি তারা পোকার আক্রমণের আশংকা করেন তবে সব এক জায়গায় না লাগিয়ে আলানে পালানে নানান জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেগুনগাছ লাগান। পোকা কৃষকের জ্ঞান ও বুদ্ধির কাছে পরাজয় মানতে বাধ্য হয়। কৃষকের উদ্ভাবিত এসব জ্ঞান ও তার চর্চাকে উৎসাহিত না করে বিদেশী কোম্পানির মুনাফার বাজার তৈরি করার জন্য এখন বিটিবেগুন প্রবর্তনের চেষ্টা চলছে। যা অবিলম্বে প্রতিরোধ করা জরুরি।
বারি বিটিবেগুন নিয়ে যে গবেষণা করেছে, সেই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই এবং ফলাফল প্রকাশ না করেই এই অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তার মানে অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে গোপনে। অনুমোদন চাওয়ার আগেই বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার কথা, ঠিক তেমনি কৃষক ও ভোক্তা উভয়কেই সেই গবেষণার ফলাফল জানানো দরকার। এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে যেমন বিতর্ক হওয়া দরকার, তেমনি জিএমও বা বিকৃত বীজ চাষের ফলে পরিবেশ, প্রাণব্যবস্থা ও প্রাণের বৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকির সম্ভাবনাও সামগ্রিকভাবে বিবেচনার দরকার আছে। জানা দরকার, এই বীজ দ্বারা কৃষকের বেগুনের জাত দূষিত কিংবা ধ্বংস করার সম্ভাবনা কতটুকু।
আরও অনেক কিছু জানার দরকার আছে। যেমন, এই বীজের ‘মালিক’ কে বা কারা, কারণ এর সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রশ্ন জড়িত। মনসান্টো বা ভারতের মাহিকো কোম্পানির কাছে দেশীয় জাতের বীজ বিকৃত করে নতুন নামে, ‘বিটিব্রিঞ্জাল’ নামে প্রচলনের যৌক্তিকতা কী? বাংলাদেশে ৯টি স্থানীয় জাতের বেগুনের জাত বিটিবেগুন উদ্ভাবন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা বেগুন, কাজলা বেগুন, খটখটি বেগুন এবং চট্টগ্রামের দোহাজারীর একটি জাতকে বিটিবেগুন হিসেবে বিকৃত করা হয়েছে। এখন সেই বিকৃত বেগুনের বীজ ছাড় করানোর লক্ষ্যে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, কৃষকদের শত শত বছরের উদ্ভাবিত বেগুনের জাতের ওপর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অধিকার বারির মতো প্রতিষ্ঠানকে কে দিয়েছে?
বিটিবেগুন গবেষণার সময় যেন কোনো জৈবদূষণ (biological pollution) না ঘটে, তার জন্য গ্রিনহাউস ব্যবস্থার অধীনে গবেষণা পরিচালনা করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, বাঁশ ও লোহারজালির বেড়া দিয়ে ঘিরে বিটিবেগুনের চাষ করা হচ্ছে। পুরো মাঠেই রয়েছে প্রচুর ঘাস ও বিভিন্ন উদ্ভিদ। খুব কাছেই অন্যান্য শস্যের ক্ষেত। পরিবেশের কোনো প্রকার সুরক্ষা ছাড়াই এভাবেই বিটিবেগুনের গবেষণা চলছে। গবেষণা পর্যায়েই বিটিবেগুন পরিবেশের কোনো ক্ষতি করল কি-না সেটাও এখন জানা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বেগুন বিশেষভাবে বাংলাদেশের সবজি। এর জাতের বৈচিত্র্যের উৎপত্তিস্থলও (Origin of Diversit) এই তিন বৃহৎ নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা অববাহিকা। বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে এই সম্পদ রক্ষা করা। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে, যেখানে বেগুন বারো মাস জন্ম এবং সারাদেশে নানা জাতের বেগুন পাওয়া যায়, সেখানে বিদেশী সাহায্য সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানির তাড়ায় আমাদের দেশের বেগুনের মধ্যে জেনেটিক কারিগরির কী এমন প্রয়োজন দেখা দিল যে সরকার তা অনুমোদন করার উদ্যোগ নিচ্ছে?
বেগুনের বিভিন্ন জাত আমাদের কৃষক, বিশেষত কৃষক নারীর হাজার বছরের আবিষ্কার। বাংলাদেশের জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। বিকৃত বেগুন প্রবর্তনের ফলে অন্যসব জাত ভয়াবহ জৈবিক দূষণের (biological pollution) কবলে পড়তে পারে। দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের বিকৃত জাতের বেগুন কৃষক পর্যায়ে গোপনে অনুমোদন চাওয়া শুধু বিতর্কিত বিষয়ই নয়, রীতিমতো একটি বিপজ্জনক প্রস্তাব।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জিএম ফসলের অনুমোদন দিয়ে যাবেন বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ২০১১ সালেই বলে রেখেছিলেন। দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে সেটা জানা যায় (দেখুন, Govt. plans to approve GM crops, এপ্রিল ৩, ২০১১)। কৃষি মন্ত্রণালয় এই বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২০০৫-০৬ সাল থেকে গবেষণা করলেও বিটিবেগুনের কোনো সন্তোষজনক ফলাফল পায়নি। তারপরও বিকৃত বীজের ফসলের অনুমোদন তিনি কেন দেবেন, তার কোনো যুক্তি নাই।
আমরা জানি, বিটিবেগুনের গবেষণার উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষক কিংবা বেগুন পছন্দ করেন এমন ভোক্তাদের কাছ থেকে আসেনি। এসেছে বিটিবেগুন প্রকল্পের অংশীদার বেশির ভাগ বিদেশী সংস্থা ও ব্যবসায়ী কোম্পানির কাছ থেকে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস ফর দি একুইজিশান অব এগ্রোবায়োটেক এপ্লিকেশান (ISAAA), ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপাইন্স, লসবেনোস (UPLB), সাউথ ইস্ট এশিয়ান রিজিওনাল সেন্টার ফর গ্রাজুয়েট স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন এগ্রিকালচার (SEARCA) এবং বীজ কোম্পানি যেমন ভারতের MAHYCO, যার সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্তোর অংশীদারিত্ব রয়েছে- এদের কাছ থেকে। কাজেই এই গবেষণা আসলে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের নয়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র।
বাংলাদেশে গাজীপুরে অবস্থিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARI) এই গবেষণা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইডের বিশেষ কর্মসূচি ABSP II এর অধীনে। ভারতে এই বেগুন নিয়ে প্রচুর বিরোধিতা ও হৈচৈ হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, ভারতে বিটিবেগুন গবেষণার ওপর মোরাটরিয়াম জারি রয়েছে। কিন্তু ভারতের উদ্যোক্তা কোম্পানি মাহায়কো ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বসে থাকতে রাজি নয়। তাদের উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এ শিল্পে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে পারবে কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে চায় না। বায়োএগ্রি কোম্পানির অন্যতম প্রতিনিধি Dr Barwale Zehr বলেছেন, ভারতে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই পণ্যটি ভারতে ছাড়তে অসুবিধা হলেও তারা ফিল্ড ট্রায়ালের মাধ্যমে অন্য দেশে ছাড়পত্র জোগাড় করতে পারবেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে সরকারি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তারা এ কাজ করে ফেলার জন্য প্রস্তুত।
`Even though the moratorium has affected the product release in India, we hope to be able to release it in other countries after conducting the mandatory field trials. We are in partnership with both private and public enterprises who are going to commercialize our technology for Bt brinjal and are very close to doing so'.
বিস্ময়কর হল, বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে নীরব। আর কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিটিবেগুন ও বিটিআলুর ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ২০১১ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি জিএম ফসলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, জিএম ফসল কীট দমনে ভালো ভূমিকা রাখবে। উৎসাহ প্রকাশের এক পর্যায়ে তিনি জিএম ফসল নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে বলেছেন। এমনকি তিনি বিরোধিতাকারীদের কথাকে ‘ফতোয়া’ বলে প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন (ডেইলি স্টার, মার্চ ৩০, ২০১১)।
কৃষিমন্ত্রীর বিটিবেগুন ও বিটিআলুর প্রতি মহব্বতকে তার ব্যক্তিগত পছন্দ গণ্য করা কঠিন। কারণ তিনি আসলে যাদের ভালোবাসেন তারা হচ্ছে মনসান্তো, ভারতীয় কোম্পানি মাহিকো এবং ইউএসএইড। এটা অবিশ্বাস্য যে, তিনি জানেন না স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া ছাড়াও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য বিকৃত বেগুন মারাÍক নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেগুনের মধ্যে অণুজীবের যে জিন থাকার কথা নয় তা ঢুকিয়ে দেয়ার ফলে বিকৃত বেগুন থেকে সেই জিন বেরিয়ে গিয়ে আশপাশের বেগুনের জাতের কাছাকাছি অন্যান্য জাত ও প্রজাতির বুনো গাছপালা শাকসবজি ঝোপঝাড় লতাপাতায় প্রবিষ্ট হয়ে তাদের দূষিত করে ফেলতে পারে। এ ধরনের পরিবেশ দূষণকে বলা হয় ‘বায়োলজিক্যাল পলিউশান’ বা জীবজীবন দূষিত করে ফেলা। পরিবেশ দূষণের চেয়েও তা ভয়ংকর। এই ভীতিকর সম্ভাবনা থাকার পরও বিটিবেগুন চাষ করার জন্য মতিয়া চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে গেছেন।
জৈবদূষণের ভীতিকর সম্ভাবনা নিয়ে এখন দীর্ঘ আলোচনা না করে মাননীয় মন্ত্রীকে সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রিনপিসের একটি প্রতিবেদন দেখতে বলব : Genetically engineered Bt brinjal and the implications for plant biodiversity – revisited. April 2012)। তাকে অনুরোধ করব, তিনি যেন গ্রিনহাউস ব্যবস্থা ছাড়া বিটিবেগুন গবেষণার বর্তমান বিপজ্জনক পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ এবং কৃষকের ক্ষেতে বিকৃত বেগুন উন্মুক্ত চাষাবাদ করার দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন। তাকে ভেবে দেখতে বলব যে, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ গণসমর্থন হারিয়েছে, এই সত্য অস্বীকার করার জো নাই। এখন আওয়ামী লিগের কাঁধে বাংলাদেশের জটিল প্রাণব্যবস্থাপনা ও সমৃদ্ধ প্রাণবৈচিত্র্য দূষিত ও ধ্বংস করার বাড়তি দায় মতিয়া চৌধুরী চাপিয়ে দেবেন না, এই বিচক্ষণতা আমরা এখনও আশা করি। পরিবেশবিরোধী নীতি ও প্রযুক্তি প্রবর্তন করে এতকাল কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করার পরও অনেকের আশা মেটেনি। এখন কৃষিব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও কৃষকদের ভাগ্য বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার তৎপরতা নিন্দনীয়।
আমার দরখাস্তের কথা একটাই : মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো বিধান না মেনে বিটিবেগুন গবেষণা বন্ধ করুন এবং কৃষকের ক্ষেতে বিটিবেগুন চাষের পরিকল্পনা ত্যাগ করুন। দয়া করে প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাকে রক্ষা করুন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
July
(1526)
-
▼
Jul 13
(67)
- অন্ধকারের সিসা সভ্যতা by ড. তুহিন মালিক
- নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি by শেখ মাহবুবল হক
- নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরি by শেখ মাহবুবল হক
- মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না by ফরহাদ মজহার
- সংবিধানই সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে
- সিরিয়ায় আসাদবিরোধী শীর্ষ কমান্ডার গুলিতে নিহত
- ফাঁস ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে ক্রেমলিন!
- মার্কিন রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে...
- চীনে নতুন আবিষ্কৃত খোদাই লিপি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ
- স্কুলে যাচ্ছে সোয়াতের মেয়েরা
- দ্বৈত পদ বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে
- মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ...
- শাহরি রমজান-আল্লাহর প্রেমে মাতোয়ারা হওয়ার মৌসুম b...
- জাতিসংঘে মালালার ভাষণ-বই আর কলমই পারে পৃথিবীকে বদল...
- আটক-আতঙ্কে বিক্ষোভকারীরা-কোটা বাতিল না সংস্কার?
- মানববন্ধনে দুই সংগঠন-মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রান্ত থে...
- যোগাযোগমন্ত্রী বললেন-অর্থমন্ত্রীর অবাস্তব অবস্থানে...
- পদ্মার ভয়াল গ্রাসে ভূখণ্ড হারাবে বাংলাদেশ by রফিকু...
- নিষিদ্ধ হচ্ছে দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর by নিখিল...
- পরিবর্তন আসছে আ. লীগে ঈদের পর বিশেষ কাউন্সিল by প...
- ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, মেজাজ হারাচ্ছে ক্রেতারা-২৪ ঘণ্...
- গোলাম আযম ও মুজাহিদের বিচারের রায় কবে? by এম বদি-উ...
- স্নোডেনের প্রতি কোন দেশের মনোভাব কী
- রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি রাশিয়ায় আশ্র...
- এজেন্ট অরেঞ্জ নিয়ে আদালতের রায় মার্কিন রাসায়নিক অস...
- স্কুলে যাচ্ছে সোয়াতের মেয়েরা
- ফাঁস ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে ক্রেমলিন!
- ঈদ বাজার ছুটির দিনে বিপণিগুলোতে ভিড়
- জাপার ইফতারে সব দলের উপস্থিতি গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষম...
- শ্রম আইন শ্রমিকবান্ধব করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই
- বাজারদর কিছু পণ্যের বাড়তি দাম অব্যাহত
- দোকান আছে মাত্র দুজনের ১২ জনের মধ্যে ১১ জন ডিলার প...
- উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে আছে কোটি টাকার যন্ত্র by ...
- বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত
- ধর্ম মনুষ্যত্ব অর্জনে রোজার ভূমিকা by মুহাম্মদ আ...
- ভারত জনগণের সন্দেহের চোখে রাজনৈতিক দলগুলো by কুল...
- নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করুন জাহাজভাঙা শ্রমিক
- আপিল বিভাগের রায় দ্রুত কার্যকর হোক অনিয়ন্ত্রিত আবা...
- ঋতুবন্দনা তারে বলা যায় ঘনঘোর বরিষায়... by মাহব...
- মনের জানালা
- বিশেষ রচনা ভূতের সঙ্গেই উঠবোস! by রাজীব হাসান
- মূল রচনা নিখোঁজ ছয় নাবিকের সন্ধানে by মাসুদ মিলাদ
- কা র্য কা র ণ একবার হাঁটবেন না তিনবার? by আব্দুল...
- লেখক হওয়ার পালা আপনার
- মিয়ানমারে দাঙ্গা-২০ বৌদ্ধর কারাদণ্ড
- গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা
- কায়রোতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
- 'তথ্য ফাঁস' ঠেকাতে টাইপরাইটার কিনছে রাশিয়া
- 'এখন আর অত উদ্বেগ নেই'
- লাল মসজিদ অভিযান-মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
- তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে টাইফুন সৌলিক
- 'রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা দেবে না কংগ্...
- গলছে বরফ, খুলছে বাণিজ্যের নতুন পথ
- এভাবে আর কত দিন
- পাকিস্তানে আগস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাবনা
- ফ্রান্সে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬
- সংকটে জাতীয় পার্টি, চাপে এরশাদ, ভুল না বুঝতে বিএনপ...
- বিল ভরাট, সংরক্ষিত শালবনের গাছও কাটা পড়ছে পূর্বাচল...
- সরকারি চাকরিতে নিয়োগ মেধা নয়, কোটার প্রাধান্য by ...
- মুরসি কোথায়?
- আপাতত রাশিয়ার কাছেই আশ্রয় চাইবেন স্নোডেন
- সুমাত্রায় কারাগারে দাঙ্গা-আগুনে নিহত পাঁচজন পালিয়ে...
- উত্তরাঞ্চলে বন্যা-মানুষের পাশে দাঁড়ান
- গ্যাস সংকট-আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ দূর করুন
- পবিত্র কোরআনের আলো-সব সময় সিজদা একমাত্র আল্লাহর তরে
- ধূমপান নিয়ন্ত্রণ না নিষিদ্ধ by ডক্টর তুহিন মালিক
- মনের কোণে হীরে-মুক্তো-চাকরি শেষে সব কর্মকর্তা কি হ...
-
▼
Jul 13
(67)
-
▼
July
(1526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment