Wednesday, April 15, 2026
মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন
মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন
টার্ডিগ্রেডদের সাধারণত ‘পানি ভাল্লুক’ নামে ডাকা হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম এই প্রাণীকে আবিষ্কার করেন। তিনি এদের অদ্ভুত চেহারা ও ধীরগতির জন্য ‘ছোট পানি ভালুক’ নাম দেন। এর তিন বছর পর ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি এদের ধীরগতি দেখে এই গ্রুপের নামকরণ করেন ‘টার্ডিগ্রেড’, যার অর্থ ধীরগতির পদচারী। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির টার্ডিগ্রেড শনাক্ত করেছেন।
টার্ডিগ্রেড নিঃসন্দেহে পৃথিবী ও মহাকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণীদের একটি। এসব পানি ভালুকগুলো হিমালয়ের চূড়া থেকে গভীর সাগরের তলদেশ পর্যন্ত সব ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন প্রচণ্ড তাপ, তীব্র ঠান্ডা বা শুষ্ক পরিবেশে টার্ডিগ্রেডরা নিজেদের শরীর থেকে প্রায় সব পানি বের করে দেয়। এতে এরা একটি শুকনো গুটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘টন’। এ অবস্থায় এদের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা এ অবস্থায় থাকতে পারে। এরপর চারপাশের পরিবেশে সামান্য পানি পেলেই এরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে টার্ডিগ্রেডরা ‘টন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় গিয়ে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান হয়। গবেষণাপত্রে জানান হয়েছে, যখন কোনো প্রতিকূল পরিবেশে পড়ে, তখন টার্ডিগ্রেডের কোষ থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ সিস্টাইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যা টার্ডিগ্রেডের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের ফলেই প্রাণীটি সেই বিশেষ ‘টন’ অবস্থায় প্রবেশ করে, যা এটিকে চরম পরিস্থিতিতেও বাঁচিয়ে রাখে।
টার্ডিগ্রেডকে খালি চোখে দেখা গেলেও এদের আকার এতই ক্ষুদ্র যে তা সহজে চোখে পড়ে না। ওয়ার্ল্ড টার্ডিগ্রেডা ডেটাবেজ অনুসারে, এরা সাধারণত ০.০১ থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ছোট্ট প্রাণীর পুরো শরীর গঠিত মাত্র এক হাজার কোষ দিয়ে। যেখানে মানুষের শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্রিলিয়ন কোষ।
তুমি যদি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টার্ডিগ্রেড দেখো, তাহলে এর ক্ষুদ্র দেহে কোনো হাড় দেখতে পাবে না। হাড়ের বদলে এদের একটি তরলে পরিপূর্ণ অংশ থাকে, যাকে বলে হিমোলিম্ফ। মানুষের রক্তের মতোই, এই হিমোলিম্ফ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এদের মেরুদণ্ড না থাকলেও সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ডের মতোই কাজ করে। এদের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র থাকলেও কোনো সংবহন বা শ্বাসযন্ত্র নেই। পানি থেকে অক্সিজেন সরাসরি এদের ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতর পুষ্টি ও অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা পেশিগুলো সংকুচিত করে।
টন অবস্থায় থাকা টার্ডিগ্রেডরা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এরা বিকিরণ, ফুটন্ত তরল এবং সাগরের গভীরতম অংশের চেয়ে ছয় গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। টন অবস্থায় থাকা কিছু টার্ডিগ্রেডকে উচ্চগতির বন্দুক থেকে গুলি করেও দেখা গেছে যে এরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ মিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।
টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে এরা মহাকাশের ভয়ংকর অবস্থা সহ্য করতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসার) ২০০৭ সালে ফোটন-এম৩ নামের একটি মহাকাশ অভিযানে হাজার হাজার টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এদের মহাকাশের শূন্যে, তীব্র সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে দেখেন যে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এদের বেশির ভাগই বেঁচে আছে। এমনকি বংশবৃদ্ধিও করেছে। পানিশূন্য অবস্থায় কিছু টার্ডিগ্রেড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল।
বেশির ভাগ টার্ডিগ্রেড উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ থেকে তরল শুষে খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে কিছু প্রজাতির টার্ডিগ্রেড আছে যারা নেমাটোড এবং অন্য টার্ডিগ্রেডের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও খায়। এদের নিয়ে এখনো গবেষণা শেষ হয়নি।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স, সায়েন্টিফিল আমেরিকান, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
![]() |
| টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি: পপুলার মেকানিকস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1441)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

No comments:
Post a Comment