যুক্তরাষ্ট্রে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পাইভি বিবিসিকে বলেন, পাইক ‘সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা’ নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী।

৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়সে পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, তাকে পরপর দুই দফা প্রাণঘাতী ডোজ পেন্টোবার্বিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার শরীরে শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাঁ হাতেই অন্তত সাতটি সূচ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। একটি সূচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় দেখা যায় বলেও জানান তিনি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের একটি পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে জানান স্পাইভি। দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন, এটি স্পষ্ট হওয়ার পরও পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা এখন তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে অন্য শাস্তিতে রূপান্তরের (কমিউট) আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তারা। আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, পাইক সুস্থ হয়ে ওঠার পর তার নিজের মতামত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে এ ঘটনায় টেনেসির গভর্নর বিল লি অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গভর্নর লি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ করা হবে। তবে তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ‘একটি বিশৃঙ্খলা’ হয়ে গিয়েছিল।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টার আগে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পথ খোলা রাখে।

সূত্র: বিবিসি

ক্রিস্টা পাইক। ছবি: বিবিসি
ক্রিস্টা পাইক। ছবি: বিবিসি