Friday, August 17, 2012
কবি ও কচুরিফুল by ফারুখ সিদ্ধার্থ
কবি ও কচুরিফুল by ফারুখ সিদ্ধার্থ
গতি আমাকে সব সময় স্মৃতির দিকে নিয়ে যায়। যত বৃদ্ধি পায় গতি আমি ততই অন্তর্মুখি হয়ে উঠি। জীবনের যত রঙ, যত সুখ-দুঃখ, আর ছোট-ছোট দীর্ঘশ্বাসভরা সেইসব স্মৃতি। তবে আজ- এই মুহূর্তে, আমার সব স্মৃতি কেবল তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত। আজকের এ-দ্রুতগতির যাত্রা শুধু তাঁর দিকে। আকন্দ ফুলের কালো ভিমরুলের মতো আজ আমার যাবতীয় ভাবনায় কেবল তাঁরই গুঞ্জরণ......
সেদিন অফিসে ঢুকতেই, রিসিপশন থেকে ইরা জানায়, ভাইয়া, শ্যামলী থেকে আপনার ফোন এসেছিল।
তাই! কখন?
এই তো, কিছুক্ষণ আগে-।
কিছু বলেছেন?
আপনার সাথে না-কি জরুরি কথা আছে।
আচ্ছা, কলব্যাক করো।
তিনি বরাবরই টেলিফোনে কথা বলতে ভালোবাসেন, কিন্তু আজ শুধু সে-জন্যে ফোন করেন নি। তিনি তিরিশোত্তর আধুনিক বাঙলা কবিতার প্রধান পুরুষ এবং সমকালীন বাঙলা ভাষারও অন্যতম প্রধান কবি ও দেশবরেণ্য আলোকিত মানুষ- এই বিবেচনায় আমাদের পত্রিকার, বিশেষ ক’রে, বিশেষ সংখ্যাগুলোর, প্রথমদিকেই তাঁর নামে একটি স্পেস বরাদ্দ থাকে। এবারো আছে। সে-হিসেবে আগেভাগেই তাঁর কাছে একটি লেখা চেয়েছিলাম। তিনিও কথা দিয়েছিলেন। একটু দেরি হচ্ছিল প্রতিশ্রুত লেখাটি পেতে। তবে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত; কাউকে পাঠিয়ে শুধু নিয়ে এলেই হয়। কিন্তু কাকে পাঠাই? অফিসের প্রতিটি স্টাফ এখন ব্যস্ত- মহাব্যস্ত। ও-দিকে তাঁর বাসায় কোনো ফ্যাক্স বা ইন্টারনেট সুবিধাও নেই; এদিকে ঈদ সমাগত; ঈদ সংখ্যার কাজও প্রায় শেষপর্যায়ে। পত্রিকার অন্যফর্মাগুলো ইতোমধ্যে প্রেসে চ’লে গেছে।... উপায়হীন আমি তাই নিজেই বেরিয়ে পড়ি।
পান্থপথ সিগন্যাল থেকে, রিকশা নিয়ে, ফার্মগেটের কাছে আসতেই রেড সিগন্যাল। না, কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নয়, সামনেই হাত তুলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে সুজন- কই যাইতাছেন বস?
এই তো, সামনে।
তুফান বেগে যাইতাছেন যে!
একটু তাড়া আছে কি না-।
সাংবাদিক হইলেই বুঝি তাড়াহুড়া করন লাগে? তাও শুক্কুরবার?
সাংবাদিকের আবার শুক্র-শনি কী? কাজ প’ড়ে গেলে- ছুটতেই হয়।
আরে থন আপনার ছোডাছুডি। কামডা কী তাই কন।
আছে। চাইলে তুমিও আসতে পারো।
আপনার লগে!- কই যামু ?
রাহমান ভাই’র বাসায়।
রাহমান ভাই! মানে শামসুর রাহমান!! আগে কইবেন না?- হু-র-রে... ব’লেই লাফিয়ে ওঠে সুজন।
ফার্মগেট থেকে গাবতলির বাস ধরি আমরা। শ্যামলী নেমে, আইল্যান্ড পার হয়ে, একটি রিকশা নিই। যেতে-যেতে সুজন বলে, বস্ কবিরে কি বাসায় পামু? দ্যাখা হইব তাঁর লগে?
খুব উত্তেজিত মনে হয় ওকে। আমি ওর কাঁধে মৃদু চাপড় দিয়ে ওকে আশ্বস্ত করি- হবে, হবে।
কথায়-কথায় ‘পঙ্খীরাজ’ নামের রিকশাটি আমাদের পৌঁছে দেয় কবির ছিমছাম রূপালি বাড়িটির সামনে; যেখানে, মেইন গেটের দু-পাশে দুটি ফুলগাছ- শিউলি ও কামিনি। কামিনিরা থোকা ধ’রে ফুটে আছে গাছময়; আর রাতে-ফোটা শিউলির নরম ফুলগুলো কমলার গাঢ়-রং বোঁটা নিয়ে উপুড় ছড়িয়ে আছে ঘাসে। বাড়ির ভেতরেও- সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে, সার বেঁধে আছে গ্লাডিয়েটর-রঙ্গন- দোপাটি-গোলাপ...। বারান্দার ছাদ থেকে একটি ঝোপালো বাগান বিলাস তার আভিজাত্য নিয়ে উঠে গেছে দোতলার ছাদে। আকাশমুখি সে, অথচ শেকড় তার মাটিতেই পোঁতা। কবির নিরাপত্তা প্রহরীসহ সবাই আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানায়।
এ-বাড়ির সীমানায় পা রাখলেই, কোনো-না-কোনো ফুলের গন্ধ আমাকে জাপটে ধরে; আর ওমনি আমার মনে পড়ে একটি বিশেষ ফুলের কথা। গত বসন্তে, একটি বিনোদন-ম্যাগাজিনের বিশেষ অনুরোধে, কবির একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সেদিন কথা হয় কবির প্রথম প্রেম নিয়ে। সাক্ষাতে জানা যায়, তখনো কৈশোর পেরোননি তিনি; এক আশ্চর্য সুন্দর কিশোরীর প্রেমে পড়েছিলেন। বনফুলের মালাবদল ক’রে তাঁদের প্রেম হয়েছিল। কবির সেই প্রথম-প্রেমিকা আজো আছেন; এবং ঢাকাতেই।... সেদিন মালাবদল আর বনফুলের প্রসঙ্গেই কবি জানান তাঁর প্রিয়ফুলের কথাও; আর পাল্টা প্রশ্ন করেন আমাকে। আমি বলি, পথের ঘাসফুল থেকে চালের কুমড়োফুল... সবই আমার প্রিয়। তবে আমাকে সবচে বেশি টানে কচুরিফুল।
কচুরিফুল!!
অবাক হচ্ছেন?
থতমত খেয়ে কবি বলেন, আসলে- আমি না- কচুরিফুল দেখি নি।
কী! আপনি কচুরিফুল দ্যাখেন নি!?
কবি হাসেন, একটু ভ্যাবাচেকা হাসি; যেন এক ব্যর্থ মানুষ। আমিও হাসি, তবে অবিশ্বাসের; বলি, না রাহমান ভাই, অসংখ্য বিলঝিল ভরা নদী-বিধৌত এই দেশে আপনি কচুরিফুল দ্যাখেন নি- এ হতে পারে না। অবশ্যই দেখেছেন, হয়তো মনে করতে পারছেন না।
সত্যি দেখি নি। তুমি আমাকে দেখাবে? কেমন দেখতে-?
আমার চোখে তো সবচেয়ে সুন্দর। সাধারণত গ্রাম-বাঙলার খাল-বিল, ছোট নদী বা মজাপুকুরে, দলে-দলে কিংবা গাদাগাদি অবস্থায় ভেসে থাকে যে-সব সবুজ কচুরিরা, হেমন্তেই ফুটতে শুরু করে তাদের ফুল। প্রতিটি কচুরিপানায় একটি-দুটি বা তিনটি, হালকা সবুজাভ, দণ্ড বেরোয়। রজনীগন্ধার মতো নাতিদীর্ঘ প্রতিটি দণ্ডেের চারপাশ জুড়ে একসাথে ফোটে মনোরম নয়-দশ থেকে পনের বা বিশটি ফুল; যার প্রতিটি বোঁটায় থাকে হালকা বেগুনি রঙের ছয়টি ক’রে হাসিখুশি পাপড়ি। ঠিক ওপরদিকের পাপড়িটি আবার অন্যরকম: মাঝামাঝি নীলচেপ্রায় শিরা-উপশিরায় বিন্যস্ত গাঢ়-বেগুনি-রঙ ভালোবাসার এক মায়াবী প্রতীক...।
বলো কি! আমার তো এখনি দেখতে ইচ্ছে করছে।
শুধু কি তাই? সুমিষ্ট পিঠের মধ্যে যেমন সযত্নে বসানো থাকে নারকেলের নরম তক্তি, তেমনি সেই প্রতীকটির ভেতরেও হলদে ঘনো চ্যাপ্টামতো চারকোণো একটি সুদৃশ্য তিলক আঁকা। এ-ছাড়াও আছে আরো কিছু আকর্ষণীয় বর্ণিল সুক্ষ্ম কারুকাজ। সবমিলিয়ে ঊর্ধ্বমুখি এক প্রাকৃতিক ঝাড়লণ্ঠন...।
বলো কি!!
হ্যাঁ। সব কচুরি যখন একসাথে ফোটে, তখন দশদিক কেমন ঝলমলিয়ে ওঠে; খলখল ক’রে হেসে ওঠে পুকুর মাঠ বিল...; মনে হয়, একঝাঁক ভায়োলেট পাখি- এখনি বুঝি উড়াল দেবে; তখন সত্যি চোখ ফেরানো যায় না।
আমার কথায় তাঁর আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। আমিও, টিয়েরং পাতাসহ হালকা-বেগুনি রঙের একগোছা কচুরিফুল তাঁকে অচিরেই দেখাব, কথা দিই।
দোতলায়, সিঁড়ির ডানপাশেই, কবির নিজস্ব ঘর। সিঁড়ি ভেঙেই দেখি, দরজা খোলা। কাঠের হাতাঅলা ত্রিকোণো চেয়ারে ব’সে লেখার টেবিলে মগ্ন কবি। কালো ফ্রেমের পুরু চশমা-চোখে, নিবিষ্ট মনে, কী যেন পড়ছেন। গায়ে ফ্যাশন্যাবল তকতকে ফতুয়া, আর জংলি প্রিন্ট লুঙ্গি পরনে। মাথায় শরতের কাশফুল- শাদা দীর্ঘশ্বাস ভরা। টেবিলের একপাশে কতগুলো পত্রিকা। চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আস্তে ক’রে ডাক দিই। তিনি খেয়াল করেন না। পাল্লায় নক ক’রে আমি আবার ডাক পাড়ি- রাহমান ভাই, আমি মুক্তি...।
এবার মুখ তোলেন কবি, ও তুমি এসে গেছ। এসো, বসো।
কবির বাঁ-পাশের চেয়ারে আমি। টেবিলের কোনায়, আমার মুখোমুখি, সুজন। তার পেছন-ঘেঁষে নীলাভ শাদা দেয়াল। দেয়ালে কাঠের ফ্রেমের একটি বড় ঘড়ি; ছোট্ট পাখিবসা পেন্ডুলামটি অবিরাম দুলছে। ঘড়ির ডানপাশে, সম্প্রতি বাঁধানো, কবির একটি বড় ফটোগ্রাফ; তরুণ আলোকচিত্রী জাহাঙ্গীরের তোলা।
এ-বাসায় আজই প্রথম এসেছে সুজন। অবাক বিস্ময়ে সে দেখছে- কত বিপুল বিচিত্র বই ঘর জুড়ে। আলমিরার ওপরেও প্রায় ছাদ ছুঁয়েছে বই আর বই। লেখার টেবিলে তো সদ্যপাওয়া নতুন বইয়ের গাদা; সুগন্ধে ভরপুর। এছাড়া ধবধবে বিছানায়¬, ফুলতোলা বালিশের পাশে, ভাঁজখোলা আরো কিছু পত্রিকা; আর সামনের দেয়ালে, কবি-জীবনের বিশেষ ও বিরল মুহূর্তকে ধ’রে আছে আরো কয়েকটি ফটোগ্রাফ।... সবকিছুই ধোপদুরস্ত, পরিপাটি। যথারীতি আন্তরিক কবি বলেন, কী খাবে তোমরা?
নো থ্যাঙ্কস্: আপনি ব্যস্ত হবেন না, প্লি¬¬জ।
কেন, রোজা রেখেছ?
না, রাহমান ভাই, বেশিক্ষণ হয়নি নাশতা করেছি।
তাহলে শুধু চা হোক- ব’লেই সদ্যলেখা স্ক্রিপটি বাড়িয়ে দেন। আমি হাতে নিয়ে ঝটপট পাতা উল্টাই। কবি বলেন, তোমার কি খুব তাড়া?
আমি সিরিয়াস হয়ে উঠি- কেন রাহমান ভাই?
লেখাটা যদি একটু পড়তে...
ও, এই কথা! ঠিক আছে পড়ছি: বহুক্ষণ হেঁটে, হেঁটে, হেঁটে/ কোথায় এসেছি/ গায়ে কাঁটা দেয়া এই জন্মান্ধ সন্ধ্যায়?/ মনে হচ্ছে পশ্চিম আকাশ/ কখনো বিস্কুটের মতো আর/ চাঁদ কোনও বুড়োর ধরনে কতিপয়/ ফোঁকলা দাঁতের আহামরি সৌন্দর্যের/ বিদঘুটে বাজারু প্রচারে কী অশ্লীল!...
বিদঘুটে, হিংসুটে এক বৃক্ষতলে ক’জন জুয়াড়ি/ মেতেছে খেলায় আর কখনো কখনো/ তাদের হুল্লোড়ে কেঁপে ওঠে/ জমি, যেন গিলে খাবে সেই/ ফতুরে জুয়াড়িদের। আচানক নারীর কান্নার/ ধ্বনি ভেসে আসে ক্ষণে ক্ষণে ঘোর কৃষ্ণ/ দিগন্তের বুক চিরে। কে এই নিঃসঙ্গ অনামিকা?
কখনো নিজেকে দেখতে পাই এক/ হ্রদের কিনারে/ বড় বেশি অন্ধকার চারদিক থেকে/ দাঁত, নখ খিঁচিয়ে আসছে মুখ ঢেকে/ মুখ ঢেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা ক’রে ব্যর্থ হই।/ আমি তো ভেবেছিলাম হ্রদ থেকে উঠে...। এটুকু পড়তেই কবির দু-নাতনি- নয়না ও দীপিতা, কাঁধে ইস্কুলব্যাগ, বাইরে থেকে হুড়মুড় ছুটে আসে। তারা দাদুর দু-পাশ থেকে দুগালে একসাথে দুটি চুমু খায়। কবিও আদর ক’রে তাদের কপালে সশব্দে দুটি চুমু এঁকে দেন। সুজন দ্যাখে আর মুগ্ধ হয়, কবির সবকিছু তার ভালো লাগে। আমি আবার শুরু করি; কিন্তু কবি ঠিকমতো শুনতে পান না। আমি কণ্ঠের ভলিউম আরেকটু বাড়িয়ে দিই। তিনি তন্ময় হয়ে থাকেন। এর মধ্যেই বড় ট্রে-তে ক’রে চা আসে, সাথে মচমচে টোস্ট। চা-এ চুমুক দিতে গিয়ে খেয়াল করি, খুব চুপচাপ ব’সে আছে সুজন, যা তার স্বভাবের সাথে কিছুতেই যায় না। তাই হঠাৎ মনে-পড়ার মতো বলি, রাহমান ভাই, ওর নাম সুজন- ফিরোজ সুজন ।
ফিরোজ সুজন! নামটা চেনাচেনা লাগছে- কী করেন আপনি?
আমি একটি কলেজে পড়াই।
আমি বলি, লেখালেখিও করে। পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই লেখা আসে ওর । হয়তো সে-কারণেই...।
ঠোঁটের কোনায় লেগে-থাকা সূর্যোদয়ের আভাটুকু আরেকটু ছড়িয়ে কবি বলেন, হ্যাঁ, তা-ই হবে। আমি তরুণদের লেখা সবসময় পড়ি।
এবার ন’ড়েচ’ড়ে বসে সুজন। বেশ জ’মে ওঠে আড্ডা। কথায়-কথায় দুপুর গড়িয়ে যায়। কথায় কি আজ পেয়ে বসেছে কবিকে? এত কথা তো কোনোদিন বলতে শুনি নি?- এমনটি যখন ভাবছি, ঠি তখনি, ঘড়িপরা হাতটি চোখের কাছে নিয়ে আঁতকে ওঠেন কবি; আর বালকের মতো হাঁক ছাড়েন, টি-য়া, টি-য়া...। পাশের রুম থেকে চমৎকার সাড়া দেন টিয়াও- আসছি বাবা...।
ও-ঘরে যেতে, দরজার পাশেই, বড় ক্যালেন্ডারে কবির বিশেষ কর্মসূচিগুলো লালবৃত্তে মার্ক করা। সে-দিকে তাকিয়ে কবি জানতে চান, আজ আমার কী প্রোগ্রাম?
চৌকাঠ ধ’রে দাঁড়ানো টিয়াও সেদিকে তাকিয়ে বলেন, বাবা, আজ চারটায় কবি জালালউদ্দিন রুমির ওপর একটা অনুষ্ঠান আছে।
কোথায় যেন?
টেবিল থেকে দ্রুত একটি নোটবই তুলে নেন টিয়া, আর তখনি ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে ওঠে কবির ল্যান্ডফোন। তিনি খপ ক’রে ধরেন- হ্যালো... ওয়ালাইকুম আস-সালাম;... জি ভালো;... হ্যাঁ মনে আছে; ...আচ্ছা আচ্ছা...।
রিসিভার রেখে বলেন, ওঁরাই করেছেন। একটি শাদা মাইক্রোবাস এসে নিয়ে যাবে। আমাকে তৈরি থাকতে হবে।
আমি বলি, রাহমান ভাই, প্রোগ্রামটা কারা করছে?
একটি ইসলামি সংস্থা।
কবির মুখে আয়োজকদের কথা শুনেও ঠিক আঁচ করতে পারি না- কারা। তিনি বলেন, কবি জালালউদ্দিন রুমির ওপর একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে ওঁরা। টেবিলের ওপর, দেয়ালঘেঁষে রাখা কিছু বই থেকে একটি তুলে নেন কবি, এবং আমার সামনে মেলে ধ’রে বলেন, আমাকে এর মোড়ক উম্মোচন করতে হবে। গোলাপি আন্ডারলাইনে চিিহ্ণত কয়েকটি বাক্য আমাকে প’ড়েও শোনান। তবু আমার উৎকণ্ঠ প্রশ্ন: আপনি যাবেনই ওদের অনুষ্ঠানে?
কেন, ভয় পাচ্ছো? আমাকে ওরা মেরে ফেলবে?
আমি চুপ ক’রে থাকি। কিছুক্ষণ পর, নিরবতা ভেঙে কবি বলেন, ওঁদের সঙ্গে কথা ব’লে এবং বইটি প’ড়ে তো ‘তেমন কিছু’ মনে হচ্ছে না।
তিনি পুনরায় স্মারক বইটি খুলে কয়েকটি বিশেষ জায়গায় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন; যেখানে ধর্ম প্রসঙ্গে রুমির বক্তব্য আমাকে ছুঁয়ে যায়। তবু দ্বিধা নিয়ে বলি, ঠিক আছে, আপনি যদি ভালো বোঝেন, তো ভালো। আর কে যাচ্ছে?
আমার সঙ্গে?- জাহাঙ্গীর যাবে।
জাহাঙ্গীর! আমার পেছনেই, একটি চেয়ারে, কখন এসে ব’সে আছে, টের পাই নি। তাকিয়ে দেখি মিটিমিটি হাসছে- আরে জাহাঙ্গীর, তুমি- কতক্ষণ?
এই তো এলাম।
কেমন চলছে তোমার ফটোগ্রাফি?
জি, ভালোই।
শোনো ভাই, তুমি তো যাচ্ছ- খুব খেয়াল রেখো; আর মুঠোফোনটা অন রেখো, কেমন?
আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি আছি।
ওকে-থ্যাঙ্কস্। তো রাহমান ভাই, আজ আমরা উঠি তাহলে?
হ্যাঁ, আবার এসো।
আমি সিঁড়ির দিকে পা বাড়াই; সুজন পা ছুঁয়ে কবিকে সালাম করে।
॥২॥
মেকআপ রুমে ব’সে কাজ দেখছি। রিসিভশন থেকে, ইন্টারকমে, ইরা জানায়- ভাইয়া, আপনার ফোন; কবি শামসুর রাহমান, দিলাম...।
খুব আফসোস হয়- ইস্ আগেই একটা রিং করা উচিত ছিল... হ্যাঁ রাহমান ভাই, মুক্তি বলছি।
মুক্তি, কেমন আছো?
ভালো ভালো; আপনি?
কবি ভেঙে-ভেঙে বলেন, খুব ভালো বোধ হচ্ছে না।
গ্লুকোমা সমস্যাটা বেড়েছে?
সে তো আছেই; পড়তে পারি না- কষ্ট হয়। তার ওপর এখন- বুকের ভেতরেও কী যেন বাসা বেঁধেছে। যাহোক, ডাক্তারকে ইনফর্ম করেছি; দেখি কী হয়। তোমার কথা বলো: গতকাল অফিসে কোনো সমস্যা হয়েছে?
কই না তো! কেন রাহমান ভাই?
আমার কাছে এসে তোমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।
কী যে বলেন, আপনার কাছে গেলে কারো সময় নষ্ট হয়! এরপর তো আমি আরো সময় নিয়ে আসব।
তাই! কবে নাগাদ?
শিগগিরই। ঈদ তো এসে গেল। এ-সুযোগে একবার বাড়ি যেতে হবে। মা পথ চেয়ে আছেন। বাড়ি থেকে ফিরেই...
মনটা আগেই চলে গেছে, না?- এবার ফেরার পথে আমার জন্যে কচুরিফুল আনবে?
এই সেরেছে।...
হ্যালো, মুক্তি?
ও-প্রান্তে কান পেতে আছেন কবি, কিন্তু কী বলব? আমি কি বোঝাতে পারি নি- এক স্পর্শকাতর ফুলের নাম কচুরিফুল? তুলে হাতে নিলে, কিছুক্ষণ পর, এমনিতেই মিইয়ে আসে; তারওপর নাড়াচাড়া পেলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে দূর থেকে দূরে বহন করা তো আরো রিস্কি। তাতে তার প্রকৃত শোভা ও মোহন সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। এ-কথা আগেও বলেছি। তাই সে প্রসঙ্গে আর যাই না। শুধু বলি, হ্যাঁ, রাহমান ভাই, কচুরিফুলের কথা আপনার মনে আছে? আপনি না আজকাল ভুলে যান সব?
সত্যি, কিচ্ছু মনে থাকে না; কী যে হয়েছে- মাঝে মাঝে কাউকে চিনতেও পারি না।
আমাকেও?
টের পাই, কবি হাসছেন। আমি বলি, সব ভুল হয়, বিবর্ণ হয়, শুধু ছেলেবেলার কথাই কিছু ভুল হয় না, তাই না?
বিস্ময়ভরা কণ্ঠে কবি বলেন, আশ্চর্য! তুমি কী ক’রে বুঝলে?
নিজেকে দেখেই; তাছাড়া আপনাকে পর্যবেক্ষণ করেও...।
তুমি আমাকে এত খেয়াল করো?
তেমনটি আর পারি কই। তবে আপনাকে আমি খুব ভালোবাসি- খুব।
মুহূর্তে নস্টালজিক হয়ে-ওঠা কবি বলেন, জানো, পায়ে-পায়ে যতই মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছি, ততই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে ছেলেবেলা- তার সব রং; মাহুৎটুলি- পাড়াতলি... সব।
তাহলে কচুরিফুলও নিশ্চয় দেখেছেন কোথাও, না-হ’লে এতকিছুর ভিড়েও একটি ফুলের কথা শুধু মনে থাকে কিভাবে?
তোমার অমন বর্ণনা শুনেই হয়তো...।
আমি তো প্ল্যান করেছি, এবার জন্মদিনে আপনাকে কচুরিফুল দিয়েই শুভেচ্ছা জানাব।
তাই! তবে তো ওটাই হবে আমার জন্যে সবচে ভালো উপহার। আমি অধীর আগ্রহে সে-দিনটির প্রতীক্ষায় থাকব...। আমার আইডিয়ার মুগ্ধ ও চমৎকৃত কবি বলেই যাচ্ছেন- হ্যালো-হ্যালো? আমি বুঝিয়ে বলি, রাহমান ভাই, সম্পাদক সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
ঠিক আছে, আমি এখন রাখছি; তুমি এসো কিন্তু।
॥৩॥
শিল্পী শাহাবুদ্দিন-এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শক্তিশালী প্রচ্ছদ নিয়ে ঈদ-সংখ্যা এখন বাজারে। প্রায় ছয়শ’ পৃষ্ঠা নিয়ে ঢাউশ ম্যাগাজিনটি পত্রিকার স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে। পাশাপাশি চলছে সৌজন্য কপি বিতরণের কাজ।
এমনিতে কাজের চাপ নেই, তারওপর আজ ডে-অফ। বেশ ভারমুক্ত আমি পিজির কোয়ার্টারে, নিজের আস্তানায়, শুয়ে ভাবছি- বাড়ি যাওয়ার আগে রাহমান ভাই-র সাথে একবার দেখা করলে কেমন হয়। এত ক’রে বলেছেন ভদ্রলোক। তার ওপর শরীরটাও না-কি ভালো যাচ্ছে না। বিকেলে বাড়ির জন্যে কিছু কেনাকাটা আছে; কাল অফিস গুছিয়ে, পরশুই বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা।... শ্যামলী গেলে তাই এবেলাই যাওয়া উচিত।
সেদিনের মতো আজো দরজাটা খোলা; বিছানায় শুয়ে আছেন কবি; কী যেন ভাবছেন। আমাকে দেখেই উঠে বসতে চান। আমি উঠতে দিই না, বরং খাটেই, কবির ডানপাশে, সাবধানে ব’সে পড়ি- কুশলাদি নিই। কথায়-কথায় চ’লে আসে অনেকদিন আগের কথা: ৯ অক্টোবর ১৯৮৭; মস্কোতে জননেতা মোহাম্মদ ফরহাদ-এর জীবনাবসান হয়। তাঁর অকালপ্রয়ানে তখন, তাৎক্ষণিকভাবে, আপনার শোকার্ত কলমে এসেছিল একটি কালজয়ী মহৎ কবিতা; যেমন এসেছে, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে, শহীদ আসাদ বঙ্গবন্ধু নূর হোসেন রাজুসহ অনেকের বেলায়; এবং উত্তরকালে যে-সব পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছে বিপুল। কমরেড ফরহাদ-কে নিয়ে লেখা সেই দীর্ঘ মনোগ্রাহী কবিতাটি ছাপা হয়েছিল সিপিবি’র মুখপত্র সাপ্তাহিক একতা-য়। আপনার মনে পড়ে?
না তো, মনে করতে পারছি না।
আপনার পাশে সৈয়দ হকেরও একটি কবিতা ছিল। আমি তখন ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ইস্কুল ছুটি থাকায় সেদিন আমি ছিলাম আমার জন্মগ্রামে...।
তোমার- গ্রামের- নামটা যেন কী?
অশ্বপতিদী।
ও হ্যাঁ, বলেছিলে, মনে পড়েছে।
তবে গ্রামে থাকলেও, অগ্রজদের কল্যাণে, একতা’র সেই বিশেষ সংখ্যাটি তখন ঠিকই আমার হাতে পৌঁছয়, যা আমি বারংবার পড়েছি। কখনো ছাগল চরাতে গিয়ে, মাঠে- খেতের আলে পা ছড়িয়ে ব’সে, কখনো-বা অনেক আকাশের নিচে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েছি: অকস্মাৎ এ কেমন নিস্তব্ধতা এলো ব্যেপে দেশে?/ এ কেমন সূর্যাস্তের ছটা/ বিলাপের মতো/ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে? বেদনার্ত পাখি নীড়ে ফেরা/ ভুলে যায়, ফুল/ উন্মীলনে পায় না উৎসাহ,/ নদীতে জোয়ার-ভাটা থেমে যায়; মনে হয়, পঞ্চান্ন হাজার/ বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি কী ভীষণ বাষ্পাকুল!/ না তোমাকে মানায় না এরকম কাফনের শাদা/ মোড়কে শুয়ে-থাকা/ মাটির গভীরে, না তোমাকে মানায় না;/ এ গহন স্তব্ধতায় মিশে-থাকা সাজে না তোমাকে।...
আরেকটু পড়ো না-।
এভাবে বলছেন কেন, আপনি যত শুনবেন, আমি পড়ব: ... রেডিও সংবাদপত্র বলে, তুমি নেই।/ গাছপালা, নদীনালা, মাঝিমাল্লা, ক্ষেতমজুররা/ বলে, তুমি নেই; গ্রাম্য পথ, শহুরে সড়ক দ্বীপ/ বলে, তুমি নেই/ প্রতিটি নদীর বাঁক, পদ্মার রূপালি ইলিশের/ ঝাঁক বলে, তুমি নেই, গোলাপ বাগান, পাহাড়ের/ পাকদণ্ডীী, উদার গৈরিক মাঠ বলে, তুমি নেই/ বাউলের একতারা বলে, তুমি নেই,/ তোমার নিজস্ব ঘর গেরস্থালি বলে নেই, তুমি নেই/ পাখিদের ক্লান্ত ডানা বলে, তুমি নেই, তুমি নেই/ তুমি থাকবে না/ শহর কাঁপানো মিছিলের পুরোভাগে/ তুমি থাকবে না/ শ্রমিকের, কৃষকের, ছাত্রদের বিপুল উজ্জ্বল সমাবেশে/ তুমি থাকবে না/ পার্টির ব্যাপক সম্মেলনে,/ ক্ষুধার্তের সারিতে তোমাকে দেখবো না... গভীর আবেগে সেদিন সত্যি নিজেকে ধ’রে রাখতে পারি নি। শোকস্তব্ধ আমি তখনো চোখ মুছে ওই লেখার ভেতরেই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে পেয়েছি; কিন্তু বড় হয়ে, আপনার সব বই ঘেঁটেও, কোথাও লেখাটি আর পাই নি।
হাতের তালুতে মাথা রেখে কাত-হয়ে-শুয়ে-থাকা কবি এবার উঠে বসেন। বালিশে ঠেস দিয়ে বলেন, একতা’র সেই কপিটি...?
সেটি আমাদের শহরের বাসায় সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু ৮৮-র বন্যায়, ঘরের ভেতর যখন হাঁটুপানি, আরো অনেক কিছুর সাথে, বানের তোড়ে, কোথায় ভেসে গেছে; তারপর অনেক খুঁজেও, কোথাও, কারো কাছেই লেখাটির কোনো কপি আর পাই নি। শেষমেশ- কিছুদিন আগে, পল্টনের সাহিত্যপ্রকাশ-এ, মতিউর রহমান সম্পাদিত মোহাম্মদ ফরহাদ স্মারকগ্রন্থ-এ সম্পূর্ণ অক্ষতই পেয়ে যাই। কিংবদন্তি হয়ে শীর্ষক ৬৮ পঙক্তির দীর্ঘ কবিতাটির কোথাও আপনি নেতার নামটি উচ্চারণ করেন নি; অথচ কী আশ্চর্য, প্রতিটি শব্দেই তাঁকে নিবিড়ভাবে পাওয়া যায়! যতবার পড়ি, আমার সব ইন্দ্রিয়- সারাদেশ, নেতার অসীম শূন্যতাকে অনুভব করে। আজো করে। লেখাটির শেষদিকে আপনি দ্রষ্টার মতো ভবিষদ্বাণী করেছেন...যদিও এখন তুমি মেঘে ভাসমান,/একগুচ্ছ ফুল,/ বিরান প্রান্তরে জীবনের বীজ, অথচ এও তো জানি মৃত্যুর জঠর/ ফুঁড়ে লোকগাথার মতন/ কিংবদন্তি হয়ে তুমি/ থাকবে বাংলায় আমাদের পাশে অগণিত হৃদয়ে হৃদয়ে। সত্যি, আপনার কথাই ঠিক। আজো, সমগ্র উত্তর-বাংলায়, প্রতিটি জনপদে, অগণিত মানুষের মনে তিনি কিংবদন্তি হয়েই আছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন: অমন একটি মর্মস্পর্শী, আবেদনময়ী কবিতার আপনার নির্বাচিত কাব্যগ্রন্থে ঠাঁই হলো না- কেন!
কবি যথারীতি তাঁর ভুলের দোহাই দিয়ে বলেন, একদিন নিয়ে আসবে লেখাটি? দেখব।
আমি নিয়েই এসেছি।
কই দেখি তো!
এই যে দেখুন, ব’লে কাঁধের ব্যাগ থেকে ফটোকপিটি বের ক’রে কবিকে দেখাই। তিনি হাতে নিয়ে ভাঁজ খুলতে-খুলতে জোরে ডেকে ওঠেন, টিয়া- টিয়া, আমার চশমা?
বালিশের পাশেই ছিল চশমাটি। আমি খপ ক’রে তুলে নিয়ে বলি, এই তো চশমা। তিনি কবিতাটি চোখের কাছে নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দ্যাখেন; কিন্তু বেশিদূর প’ড়ে উঠতে পারেন না; কী মনে ক’রে পাশেই রেখে দেন- আর কী এনেছ?
আর কী আনব? আমি তো আপনার জন্যে কিছুই আনতে পারি না; শুধু আসি আর মুঠো ভ’রে নিয়ে যাই।
একটু লাজুক হেসে কবি বলেন, তোমাকে, প্রায়ই, একটি কথা বলব-বলব করি, কিন্তু বলা হয় না। তুমি সামনে এলেই কেমন দিব্যি ভুলে ব’সে থাকি।
এমন কী কথা রাহমান ভাই, যে এত ভূমিকা-?
তেমন কিছু না, তোমার নামটা কে রেখেছেন?
আমার মেজো ভাই।
তোমার সেই কমিউনিস্ট ভাইটা?
জি, ঠিক ধরেছেন। এর একটি প্রেক্ষাপটও আছে- ঐতিহাসিক ।
কী রকম? একটু বলা যাবে?
খুব কৌতূহলী হয়ে ওঠেন কবি। শরীরটা যে ভালো নেই, তা যেন ভুলে আছেন। আমিও খুশি হয়ে বলি: একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর- ভোরবেলা; যখন সবুজের বিক্ষত পটভূমিতে স্বাধীনতার রক্তাক্ত সূর্যটি উঠি উঠি করছে। শোষণের নাগপাশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবার সেই বিরল মুহূর্তে আমার জন্ম; যে-কারণে আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের কাছে সেদিন এ-নামটি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।...
বাহ্! চমৎকার!! খুব উচ্ছ্বসিত কবি সব শুনে বলেন, তুমি তো রীতিমতো গর্ব করতে পারো। একটি দেশের জন্মের সাথে তোমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা- কেমন হাত ধরাধরি ক’রে আছে; আর তাকে আরো অর্থবহ করেছে তোমার এই আপাত ছোট্ট নামটি।
আমার মাথায় পাল্টা প্রশ্ন খেলা করে; সত্যি কি অর্থবহ করেছে? আমরা স্বাধীন হয়েছি ঠিকই, আমাদের আর্থনীতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি কি আজো এসেছে? সেই সময় আমাদের সব ধরনের পশ্চাৎপদতা ও ধর্মীয় কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে শোষণহীন সমাজ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা তো আজো বাস্তবায়িত হয় নি। আমি সুদূর পরাহত সেই স্বপ্নের কথা তুলে ক্লান্ত- অসুস্থ কবিকে আর বিব্রত করতে চাই নি; তাই নিঃশব্দ হাসি আর দীর্ঘশ্বাসের আড়ালে চেপে যাই সব।
কথায়-কথায় বাসি হয় দুপুর। কবির অনুরোধে খেতে হয় দুপুরের খাবার: বেগুন-ভর্তা, বাতাসি মাছের চচ্চড়ি আর লাউ-শিংসহ ধোঁয়াওঠা গরম ভাত। খেতে-খেতেও প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে টুকটাক কথা হয় আমাদের। অতঃপর বিদায়।
॥৪॥
ঈদের ছুটি-শেষ। যথারীতি ব্যস্ততায় পেয়ে বসে আবার। তবু চোখ রাখি, যখন যেখানে যাই; খুঁজে ফিরি- কোথায় পাওয়া যায় একগোছা কচুরিফুল। সময় বয়ে যায় তার মতো। গ্রীষ্ম, বর্ষা হয়ে ফের চলে আসে শরৎ। তবু যাওয়া হয় না আর, কবিকে দেখতে। কেননা, সময় পেলেও এ-শহরে কচুরিফুল পাওয়া যায় না।
আমাদের পত্রিকার একটি নিয়মিত বিভাগ ‘শেকড়ের সন্ধানে’; যার প্রতিসংখ্যায়, একটি সন্ধানী ফিচার থাকে। এ-কাজে প্রতিমাসেই আমাকে ঘুরে আসতে হয় দেশের এক-বা একাধিক জেলা; কোনো-না-কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল। সেই ধারাবাহিতায় এবার ময়নামতি ঘুরে, সপ্তাহান্তে, আজ ঢাকায় ফিরছি। সাঁই-সাঁই ক’রে ছুটছে চেয়ারকোচ। মুঠোফোনের ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ না-থাকায় কারো সাথেই ভালো যোগাযোগ হচ্ছে না। তবু চেষ্টা করছি। হঠাৎ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দীপংকর গৌতমের কল- হ্যালো মুক্তি, তোমরা কোথায় এখন?
দাদা, আমরা তো এখন- গোমতি পার হচ্ছি। ও-দিকের খবর কী?
খবর তো একটাই- রাহমান ভাইর অবস্থা ভালো না?
তাই-না-কি! কীরকম- কবে থেকে এ অবস্থা?
এই তো, তুমি যাওয়ার পর থেকেই... কেন, শোনো নি কিছু?
শুনেছি- তবে ডিটেইল না। যাহোক, সর্বশেষ অবস্থা কী?
সর্বষেশ অবস্থা...।
হ্যালো...হ্যালো...দাদা... ধুত্ লাইনটা কেটে গেল! আমি আবার চেষ্টা করি; কাজ হয় না। একটু পর দাদা-ই কলব্যাক করেন- হ্যাঁ মুক্তি, ঢাকায় পৌঁছেই আমাকে ফোন ক’রো। আমরা তাঁকে দেখতে যাব, কেমন?
আমার শরীর ঘেমে উঠছে। আমি জানালার গ্লাস সরিয়ে দিই। বাতাসে রোদের ঘ্রাণ। চারপাশে ছড়ানো জীবনের কত উপাদান। ক্লান্তি আর অবসাদ সত্ত্বেও দৃষ্টি বারবার ছুঁয়ে আসছে দিগন্ত। কত শাদা-ছেঁড়া-মেঘের বহর নীলগোলা আকাশে; নিচে অপার কাশবন। শাপলা-ফোঁটা ধূ-ধূ বিলের মধ্যেও কচুরিতে সবুজ হয়ে উঠেছে ভাদরের কাঁচা-রোদ। হেমন্তেই ফুটতে থাকবে রাশি রাশি কচুরি; অজস্ত্র ফুলে ফুলে ভ’রে উঠবে বাঙলার কতশত খাল-বিল-ডোবা; অথচ কী দুর্ভাগ্য আমার, প্রিয় মানুষের করপুটে তার একটি ফুলও উঠবে না...! তবে কি এভাবেই থেকে যায় অপূরণ এক-একজন কবির স্বপ্ন? এতটুকু চাওয়া?
আমার সফরসঙ্গী বিশ্বজিৎ সরকার আজকের দৈনিকটা পড়ছিলেন। তার মুখেই শুনেছি, রাহমান ভাইকে নিয়ে কী-সব আশংকার কথা লিখেছে। আমার এ-মুহূর্তের ভাবনার কথা তার জানবার কথা না; তবে আমি-যে সুযোগ পেলেই কচুরিফুল খুঁজে ফিরি, তা ভালো ক’রেই জানেন। একজন পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে প্রয়োজনীয় কোনো দৃশ্যই তার দৃষ্টি এড়ায় না। এমন-কি দ্রুতগতির মধ্যেও যে-কোনো দুর্লভ দৃশ্য তিনি অনায়াসে তুলে আনতে পারেন তার ক্যামেরায়; কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা সুদূরপ্রসারী আবেদন সৃষ্টি করে।
সড়কের পাশেই, থই-থই জলে, আগাম ফুটে আছে জারুল রঙের একগুচ্ছ ফুল; কচুরিফুল! বেশ হাসিখুশি ফুলগুলো দেখামাত্র ক্লিক ক’রে ওঠে বিশ্বজিৎ দা-র ডিজিটাল ক্যামেরা। আমার পাশে বসেই দৃশ্যটি তিনি আবিষ্কার করেছেন। শুধু ক্যামেরাবন্দি নয়, একেবারে হাতেধরা বাস্তব দৃশ্য। প্রথমে সুপারভাইজারকে ব’লে চলন্ত কোচটি থামান; কিন্তু অমন স্পর্শকাতর যে ফুল তা শুধু ডাঁটি ভেঙে নিয়ে গেলে ঢাকা পর্যন্ত টিকবে কেন? তাই ছেবড়িসহ আস্ত পানাটিই তুলে আনেন তিনি। শুধু কি তাই? ফুলগুলো যাতে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এবং সতেজ থাকে তারও ব্যবস্থা নেন; ভবের-চর স্টেশনে এসেই ঝটপট পাশের বাজার থেকে একটি বালতি কেনেন এবং সড়কের বুকঘেঁষা ছোট-ছোট ঢেউখেলা জল ভেঙে তুলে আনেন আধাবালতি টলটলে জল। এ-সবই করছেন তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে। বাসের অন্যযাত্রীরা কে কী মনে করছে, সে-দিকে তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
ঢাকায় পৌঁছেই বোঝা যায় প্রকৃত পরিস্থিতি; পাওয়া যায় শেষ-সংবাদ: বাঙলা কবিতার জীবন্ত কিংবদন্তি কবি শামসুর রাহমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ডাক্তাররা বলেছেন- তাঁর ফুসফুস, কিডনি, যকৃত- সবই প্রায় বিকল।
অফিসে রিপোর্ট বুঝিয়ে দিয়ে, বিকেলেই, ছুটি হাসপাতালে- সঙ্গে দীপংকর ও বিশ্বজিৎ দা।
সিকিউরিটিতে মারাত্মক কড়াকড়ি। তবু ওখানকার একজন পরিচিত ডাক্তারের রেফারেন্সে আমরা ঠিকই পৌঁছে যাই কবির শয্যাপাশে। হাতে কচুরিফুল, চোখে জল; কিন্তু যাঁর জন্যে এই আয়োজন, তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই সাড়া দেবার। তিনি সম্পূর্ণ কোমায় চলে গেছেন। তবু আমি তাঁর নাকে-মুখে পরানো যন্ত্রের ফাঁক গ’লে, আলতো ছুঁইয়ে, বুকের কাছেই, রেখে দিই ফুলগুলো।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে অচিরেই পৃথিবী জেনে যায়, বাঙলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান আর নেই। তাঁর শরীর থেকে যাবতীয় যন্ত্রপাতি খুলে নেয়া হয়েছে।
নিরব শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশব্যাপী বইছে শোকের শৈত্যপ্রবাহ।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় না হলেও, দেশের আপামর মানুষের পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুলে-ফুলে সিক্ত হন কবি; কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মানুষের ঢল পেরিয়ে বনানী গোরস্থানে- মায়ের বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন আমাদের প্রিয় কবি।
ধূসর সমাধির পাশে, প্রিয় ফুল হাতে, শ্রদ্ধাবনত আমি, নিরবে কাঁদছি শুধু। কত প্রত্যাশিত এই ফুল- যা আমি শেষ পর্যন্ত পেলাম ঠিকই, কিন্তু তাঁর হাতে তুলে দিতে পারলাম না। তিনিও দেখে যেতে পারলেন না- ঠিক কেমন দেখতে আমার প্রিয় ফুল- কচুরিফুল।
এখন কী ক’রে নিজেকে আমি ক্ষমা করব? জীবনে- যখন- যেখানেই দেখা হবে কোনো কচুরিফুলের সাথে, একটি গাঢ় চাপা দীর্ঘশ্বাস কি এভাবেই বেরিয়ে আসবে না, আমার ভেতর থেকে? তখন বাঙলার সব ফুল নিয়ে এখানে এলেও কি পাওয়া যাবে কোনো সান্তনা? কে ব’লে দেবে?

এই তো, কিছুক্ষণ আগে-।
কিছু বলেছেন?
আপনার সাথে না-কি জরুরি কথা আছে।
আচ্ছা, কলব্যাক করো।
তিনি বরাবরই টেলিফোনে কথা বলতে ভালোবাসেন, কিন্তু আজ শুধু সে-জন্যে ফোন করেন নি। তিনি তিরিশোত্তর আধুনিক বাঙলা কবিতার প্রধান পুরুষ এবং সমকালীন বাঙলা ভাষারও অন্যতম প্রধান কবি ও দেশবরেণ্য আলোকিত মানুষ- এই বিবেচনায় আমাদের পত্রিকার, বিশেষ ক’রে, বিশেষ সংখ্যাগুলোর, প্রথমদিকেই তাঁর নামে একটি স্পেস বরাদ্দ থাকে। এবারো আছে। সে-হিসেবে আগেভাগেই তাঁর কাছে একটি লেখা চেয়েছিলাম। তিনিও কথা দিয়েছিলেন। একটু দেরি হচ্ছিল প্রতিশ্রুত লেখাটি পেতে। তবে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত; কাউকে পাঠিয়ে শুধু নিয়ে এলেই হয়। কিন্তু কাকে পাঠাই? অফিসের প্রতিটি স্টাফ এখন ব্যস্ত- মহাব্যস্ত। ও-দিকে তাঁর বাসায় কোনো ফ্যাক্স বা ইন্টারনেট সুবিধাও নেই; এদিকে ঈদ সমাগত; ঈদ সংখ্যার কাজও প্রায় শেষপর্যায়ে। পত্রিকার অন্যফর্মাগুলো ইতোমধ্যে প্রেসে চ’লে গেছে।... উপায়হীন আমি তাই নিজেই বেরিয়ে পড়ি।
পান্থপথ সিগন্যাল থেকে, রিকশা নিয়ে, ফার্মগেটের কাছে আসতেই রেড সিগন্যাল। না, কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল নয়, সামনেই হাত তুলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে সুজন- কই যাইতাছেন বস?
এই তো, সামনে।
তুফান বেগে যাইতাছেন যে!
একটু তাড়া আছে কি না-।
সাংবাদিক হইলেই বুঝি তাড়াহুড়া করন লাগে? তাও শুক্কুরবার?
সাংবাদিকের আবার শুক্র-শনি কী? কাজ প’ড়ে গেলে- ছুটতেই হয়।
আরে থন আপনার ছোডাছুডি। কামডা কী তাই কন।
আছে। চাইলে তুমিও আসতে পারো।
আপনার লগে!- কই যামু ?
রাহমান ভাই’র বাসায়।
রাহমান ভাই! মানে শামসুর রাহমান!! আগে কইবেন না?- হু-র-রে... ব’লেই লাফিয়ে ওঠে সুজন।
ফার্মগেট থেকে গাবতলির বাস ধরি আমরা। শ্যামলী নেমে, আইল্যান্ড পার হয়ে, একটি রিকশা নিই। যেতে-যেতে সুজন বলে, বস্ কবিরে কি বাসায় পামু? দ্যাখা হইব তাঁর লগে?
খুব উত্তেজিত মনে হয় ওকে। আমি ওর কাঁধে মৃদু চাপড় দিয়ে ওকে আশ্বস্ত করি- হবে, হবে।
কথায়-কথায় ‘পঙ্খীরাজ’ নামের রিকশাটি আমাদের পৌঁছে দেয় কবির ছিমছাম রূপালি বাড়িটির সামনে; যেখানে, মেইন গেটের দু-পাশে দুটি ফুলগাছ- শিউলি ও কামিনি। কামিনিরা থোকা ধ’রে ফুটে আছে গাছময়; আর রাতে-ফোটা শিউলির নরম ফুলগুলো কমলার গাঢ়-রং বোঁটা নিয়ে উপুড় ছড়িয়ে আছে ঘাসে। বাড়ির ভেতরেও- সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে, সার বেঁধে আছে গ্লাডিয়েটর-রঙ্গন- দোপাটি-গোলাপ...। বারান্দার ছাদ থেকে একটি ঝোপালো বাগান বিলাস তার আভিজাত্য নিয়ে উঠে গেছে দোতলার ছাদে। আকাশমুখি সে, অথচ শেকড় তার মাটিতেই পোঁতা। কবির নিরাপত্তা প্রহরীসহ সবাই আমাদের সাদর অভ্যর্থনা জানায়।
এ-বাড়ির সীমানায় পা রাখলেই, কোনো-না-কোনো ফুলের গন্ধ আমাকে জাপটে ধরে; আর ওমনি আমার মনে পড়ে একটি বিশেষ ফুলের কথা। গত বসন্তে, একটি বিনোদন-ম্যাগাজিনের বিশেষ অনুরোধে, কবির একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সেদিন কথা হয় কবির প্রথম প্রেম নিয়ে। সাক্ষাতে জানা যায়, তখনো কৈশোর পেরোননি তিনি; এক আশ্চর্য সুন্দর কিশোরীর প্রেমে পড়েছিলেন। বনফুলের মালাবদল ক’রে তাঁদের প্রেম হয়েছিল। কবির সেই প্রথম-প্রেমিকা আজো আছেন; এবং ঢাকাতেই।... সেদিন মালাবদল আর বনফুলের প্রসঙ্গেই কবি জানান তাঁর প্রিয়ফুলের কথাও; আর পাল্টা প্রশ্ন করেন আমাকে। আমি বলি, পথের ঘাসফুল থেকে চালের কুমড়োফুল... সবই আমার প্রিয়। তবে আমাকে সবচে বেশি টানে কচুরিফুল।
কচুরিফুল!!
অবাক হচ্ছেন?
থতমত খেয়ে কবি বলেন, আসলে- আমি না- কচুরিফুল দেখি নি।
কী! আপনি কচুরিফুল দ্যাখেন নি!?
কবি হাসেন, একটু ভ্যাবাচেকা হাসি; যেন এক ব্যর্থ মানুষ। আমিও হাসি, তবে অবিশ্বাসের; বলি, না রাহমান ভাই, অসংখ্য বিলঝিল ভরা নদী-বিধৌত এই দেশে আপনি কচুরিফুল দ্যাখেন নি- এ হতে পারে না। অবশ্যই দেখেছেন, হয়তো মনে করতে পারছেন না।
সত্যি দেখি নি। তুমি আমাকে দেখাবে? কেমন দেখতে-?
আমার চোখে তো সবচেয়ে সুন্দর। সাধারণত গ্রাম-বাঙলার খাল-বিল, ছোট নদী বা মজাপুকুরে, দলে-দলে কিংবা গাদাগাদি অবস্থায় ভেসে থাকে যে-সব সবুজ কচুরিরা, হেমন্তেই ফুটতে শুরু করে তাদের ফুল। প্রতিটি কচুরিপানায় একটি-দুটি বা তিনটি, হালকা সবুজাভ, দণ্ড বেরোয়। রজনীগন্ধার মতো নাতিদীর্ঘ প্রতিটি দণ্ডেের চারপাশ জুড়ে একসাথে ফোটে মনোরম নয়-দশ থেকে পনের বা বিশটি ফুল; যার প্রতিটি বোঁটায় থাকে হালকা বেগুনি রঙের ছয়টি ক’রে হাসিখুশি পাপড়ি। ঠিক ওপরদিকের পাপড়িটি আবার অন্যরকম: মাঝামাঝি নীলচেপ্রায় শিরা-উপশিরায় বিন্যস্ত গাঢ়-বেগুনি-রঙ ভালোবাসার এক মায়াবী প্রতীক...।
বলো কি! আমার তো এখনি দেখতে ইচ্ছে করছে।
শুধু কি তাই? সুমিষ্ট পিঠের মধ্যে যেমন সযত্নে বসানো থাকে নারকেলের নরম তক্তি, তেমনি সেই প্রতীকটির ভেতরেও হলদে ঘনো চ্যাপ্টামতো চারকোণো একটি সুদৃশ্য তিলক আঁকা। এ-ছাড়াও আছে আরো কিছু আকর্ষণীয় বর্ণিল সুক্ষ্ম কারুকাজ। সবমিলিয়ে ঊর্ধ্বমুখি এক প্রাকৃতিক ঝাড়লণ্ঠন...।
বলো কি!!
হ্যাঁ। সব কচুরি যখন একসাথে ফোটে, তখন দশদিক কেমন ঝলমলিয়ে ওঠে; খলখল ক’রে হেসে ওঠে পুকুর মাঠ বিল...; মনে হয়, একঝাঁক ভায়োলেট পাখি- এখনি বুঝি উড়াল দেবে; তখন সত্যি চোখ ফেরানো যায় না।
আমার কথায় তাঁর আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। আমিও, টিয়েরং পাতাসহ হালকা-বেগুনি রঙের একগোছা কচুরিফুল তাঁকে অচিরেই দেখাব, কথা দিই।
দোতলায়, সিঁড়ির ডানপাশেই, কবির নিজস্ব ঘর। সিঁড়ি ভেঙেই দেখি, দরজা খোলা। কাঠের হাতাঅলা ত্রিকোণো চেয়ারে ব’সে লেখার টেবিলে মগ্ন কবি। কালো ফ্রেমের পুরু চশমা-চোখে, নিবিষ্ট মনে, কী যেন পড়ছেন। গায়ে ফ্যাশন্যাবল তকতকে ফতুয়া, আর জংলি প্রিন্ট লুঙ্গি পরনে। মাথায় শরতের কাশফুল- শাদা দীর্ঘশ্বাস ভরা। টেবিলের একপাশে কতগুলো পত্রিকা। চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আস্তে ক’রে ডাক দিই। তিনি খেয়াল করেন না। পাল্লায় নক ক’রে আমি আবার ডাক পাড়ি- রাহমান ভাই, আমি মুক্তি...।
এবার মুখ তোলেন কবি, ও তুমি এসে গেছ। এসো, বসো।
কবির বাঁ-পাশের চেয়ারে আমি। টেবিলের কোনায়, আমার মুখোমুখি, সুজন। তার পেছন-ঘেঁষে নীলাভ শাদা দেয়াল। দেয়ালে কাঠের ফ্রেমের একটি বড় ঘড়ি; ছোট্ট পাখিবসা পেন্ডুলামটি অবিরাম দুলছে। ঘড়ির ডানপাশে, সম্প্রতি বাঁধানো, কবির একটি বড় ফটোগ্রাফ; তরুণ আলোকচিত্রী জাহাঙ্গীরের তোলা।
এ-বাসায় আজই প্রথম এসেছে সুজন। অবাক বিস্ময়ে সে দেখছে- কত বিপুল বিচিত্র বই ঘর জুড়ে। আলমিরার ওপরেও প্রায় ছাদ ছুঁয়েছে বই আর বই। লেখার টেবিলে তো সদ্যপাওয়া নতুন বইয়ের গাদা; সুগন্ধে ভরপুর। এছাড়া ধবধবে বিছানায়¬, ফুলতোলা বালিশের পাশে, ভাঁজখোলা আরো কিছু পত্রিকা; আর সামনের দেয়ালে, কবি-জীবনের বিশেষ ও বিরল মুহূর্তকে ধ’রে আছে আরো কয়েকটি ফটোগ্রাফ।... সবকিছুই ধোপদুরস্ত, পরিপাটি। যথারীতি আন্তরিক কবি বলেন, কী খাবে তোমরা?
নো থ্যাঙ্কস্: আপনি ব্যস্ত হবেন না, প্লি¬¬জ।
কেন, রোজা রেখেছ?
না, রাহমান ভাই, বেশিক্ষণ হয়নি নাশতা করেছি।
তাহলে শুধু চা হোক- ব’লেই সদ্যলেখা স্ক্রিপটি বাড়িয়ে দেন। আমি হাতে নিয়ে ঝটপট পাতা উল্টাই। কবি বলেন, তোমার কি খুব তাড়া?
আমি সিরিয়াস হয়ে উঠি- কেন রাহমান ভাই?
লেখাটা যদি একটু পড়তে...
ও, এই কথা! ঠিক আছে পড়ছি: বহুক্ষণ হেঁটে, হেঁটে, হেঁটে/ কোথায় এসেছি/ গায়ে কাঁটা দেয়া এই জন্মান্ধ সন্ধ্যায়?/ মনে হচ্ছে পশ্চিম আকাশ/ কখনো বিস্কুটের মতো আর/ চাঁদ কোনও বুড়োর ধরনে কতিপয়/ ফোঁকলা দাঁতের আহামরি সৌন্দর্যের/ বিদঘুটে বাজারু প্রচারে কী অশ্লীল!...
বিদঘুটে, হিংসুটে এক বৃক্ষতলে ক’জন জুয়াড়ি/ মেতেছে খেলায় আর কখনো কখনো/ তাদের হুল্লোড়ে কেঁপে ওঠে/ জমি, যেন গিলে খাবে সেই/ ফতুরে জুয়াড়িদের। আচানক নারীর কান্নার/ ধ্বনি ভেসে আসে ক্ষণে ক্ষণে ঘোর কৃষ্ণ/ দিগন্তের বুক চিরে। কে এই নিঃসঙ্গ অনামিকা?
কখনো নিজেকে দেখতে পাই এক/ হ্রদের কিনারে/ বড় বেশি অন্ধকার চারদিক থেকে/ দাঁত, নখ খিঁচিয়ে আসছে মুখ ঢেকে/ মুখ ঢেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা ক’রে ব্যর্থ হই।/ আমি তো ভেবেছিলাম হ্রদ থেকে উঠে...। এটুকু পড়তেই কবির দু-নাতনি- নয়না ও দীপিতা, কাঁধে ইস্কুলব্যাগ, বাইরে থেকে হুড়মুড় ছুটে আসে। তারা দাদুর দু-পাশ থেকে দুগালে একসাথে দুটি চুমু খায়। কবিও আদর ক’রে তাদের কপালে সশব্দে দুটি চুমু এঁকে দেন। সুজন দ্যাখে আর মুগ্ধ হয়, কবির সবকিছু তার ভালো লাগে। আমি আবার শুরু করি; কিন্তু কবি ঠিকমতো শুনতে পান না। আমি কণ্ঠের ভলিউম আরেকটু বাড়িয়ে দিই। তিনি তন্ময় হয়ে থাকেন। এর মধ্যেই বড় ট্রে-তে ক’রে চা আসে, সাথে মচমচে টোস্ট। চা-এ চুমুক দিতে গিয়ে খেয়াল করি, খুব চুপচাপ ব’সে আছে সুজন, যা তার স্বভাবের সাথে কিছুতেই যায় না। তাই হঠাৎ মনে-পড়ার মতো বলি, রাহমান ভাই, ওর নাম সুজন- ফিরোজ সুজন ।
ফিরোজ সুজন! নামটা চেনাচেনা লাগছে- কী করেন আপনি?
আমি একটি কলেজে পড়াই।
আমি বলি, লেখালেখিও করে। পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই লেখা আসে ওর । হয়তো সে-কারণেই...।
ঠোঁটের কোনায় লেগে-থাকা সূর্যোদয়ের আভাটুকু আরেকটু ছড়িয়ে কবি বলেন, হ্যাঁ, তা-ই হবে। আমি তরুণদের লেখা সবসময় পড়ি।
এবার ন’ড়েচ’ড়ে বসে সুজন। বেশ জ’মে ওঠে আড্ডা। কথায়-কথায় দুপুর গড়িয়ে যায়। কথায় কি আজ পেয়ে বসেছে কবিকে? এত কথা তো কোনোদিন বলতে শুনি নি?- এমনটি যখন ভাবছি, ঠি তখনি, ঘড়িপরা হাতটি চোখের কাছে নিয়ে আঁতকে ওঠেন কবি; আর বালকের মতো হাঁক ছাড়েন, টি-য়া, টি-য়া...। পাশের রুম থেকে চমৎকার সাড়া দেন টিয়াও- আসছি বাবা...।
ও-ঘরে যেতে, দরজার পাশেই, বড় ক্যালেন্ডারে কবির বিশেষ কর্মসূচিগুলো লালবৃত্তে মার্ক করা। সে-দিকে তাকিয়ে কবি জানতে চান, আজ আমার কী প্রোগ্রাম?
চৌকাঠ ধ’রে দাঁড়ানো টিয়াও সেদিকে তাকিয়ে বলেন, বাবা, আজ চারটায় কবি জালালউদ্দিন রুমির ওপর একটা অনুষ্ঠান আছে।
কোথায় যেন?
টেবিল থেকে দ্রুত একটি নোটবই তুলে নেন টিয়া, আর তখনি ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে ওঠে কবির ল্যান্ডফোন। তিনি খপ ক’রে ধরেন- হ্যালো... ওয়ালাইকুম আস-সালাম;... জি ভালো;... হ্যাঁ মনে আছে; ...আচ্ছা আচ্ছা...।
রিসিভার রেখে বলেন, ওঁরাই করেছেন। একটি শাদা মাইক্রোবাস এসে নিয়ে যাবে। আমাকে তৈরি থাকতে হবে।
আমি বলি, রাহমান ভাই, প্রোগ্রামটা কারা করছে?
একটি ইসলামি সংস্থা।
কবির মুখে আয়োজকদের কথা শুনেও ঠিক আঁচ করতে পারি না- কারা। তিনি বলেন, কবি জালালউদ্দিন রুমির ওপর একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে ওঁরা। টেবিলের ওপর, দেয়ালঘেঁষে রাখা কিছু বই থেকে একটি তুলে নেন কবি, এবং আমার সামনে মেলে ধ’রে বলেন, আমাকে এর মোড়ক উম্মোচন করতে হবে। গোলাপি আন্ডারলাইনে চিিহ্ণত কয়েকটি বাক্য আমাকে প’ড়েও শোনান। তবু আমার উৎকণ্ঠ প্রশ্ন: আপনি যাবেনই ওদের অনুষ্ঠানে?
কেন, ভয় পাচ্ছো? আমাকে ওরা মেরে ফেলবে?
আমি চুপ ক’রে থাকি। কিছুক্ষণ পর, নিরবতা ভেঙে কবি বলেন, ওঁদের সঙ্গে কথা ব’লে এবং বইটি প’ড়ে তো ‘তেমন কিছু’ মনে হচ্ছে না।
তিনি পুনরায় স্মারক বইটি খুলে কয়েকটি বিশেষ জায়গায় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন; যেখানে ধর্ম প্রসঙ্গে রুমির বক্তব্য আমাকে ছুঁয়ে যায়। তবু দ্বিধা নিয়ে বলি, ঠিক আছে, আপনি যদি ভালো বোঝেন, তো ভালো। আর কে যাচ্ছে?
আমার সঙ্গে?- জাহাঙ্গীর যাবে।
জাহাঙ্গীর! আমার পেছনেই, একটি চেয়ারে, কখন এসে ব’সে আছে, টের পাই নি। তাকিয়ে দেখি মিটিমিটি হাসছে- আরে জাহাঙ্গীর, তুমি- কতক্ষণ?
এই তো এলাম।
কেমন চলছে তোমার ফটোগ্রাফি?
জি, ভালোই।
শোনো ভাই, তুমি তো যাচ্ছ- খুব খেয়াল রেখো; আর মুঠোফোনটা অন রেখো, কেমন?
আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি আছি।
ওকে-থ্যাঙ্কস্। তো রাহমান ভাই, আজ আমরা উঠি তাহলে?
হ্যাঁ, আবার এসো।
আমি সিঁড়ির দিকে পা বাড়াই; সুজন পা ছুঁয়ে কবিকে সালাম করে।
॥২॥
মেকআপ রুমে ব’সে কাজ দেখছি। রিসিভশন থেকে, ইন্টারকমে, ইরা জানায়- ভাইয়া, আপনার ফোন; কবি শামসুর রাহমান, দিলাম...।
খুব আফসোস হয়- ইস্ আগেই একটা রিং করা উচিত ছিল... হ্যাঁ রাহমান ভাই, মুক্তি বলছি।
মুক্তি, কেমন আছো?
ভালো ভালো; আপনি?
কবি ভেঙে-ভেঙে বলেন, খুব ভালো বোধ হচ্ছে না।
গ্লুকোমা সমস্যাটা বেড়েছে?
সে তো আছেই; পড়তে পারি না- কষ্ট হয়। তার ওপর এখন- বুকের ভেতরেও কী যেন বাসা বেঁধেছে। যাহোক, ডাক্তারকে ইনফর্ম করেছি; দেখি কী হয়। তোমার কথা বলো: গতকাল অফিসে কোনো সমস্যা হয়েছে?
কই না তো! কেন রাহমান ভাই?
আমার কাছে এসে তোমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।
কী যে বলেন, আপনার কাছে গেলে কারো সময় নষ্ট হয়! এরপর তো আমি আরো সময় নিয়ে আসব।
তাই! কবে নাগাদ?
শিগগিরই। ঈদ তো এসে গেল। এ-সুযোগে একবার বাড়ি যেতে হবে। মা পথ চেয়ে আছেন। বাড়ি থেকে ফিরেই...
মনটা আগেই চলে গেছে, না?- এবার ফেরার পথে আমার জন্যে কচুরিফুল আনবে?
এই সেরেছে।...
হ্যালো, মুক্তি?
ও-প্রান্তে কান পেতে আছেন কবি, কিন্তু কী বলব? আমি কি বোঝাতে পারি নি- এক স্পর্শকাতর ফুলের নাম কচুরিফুল? তুলে হাতে নিলে, কিছুক্ষণ পর, এমনিতেই মিইয়ে আসে; তারওপর নাড়াচাড়া পেলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে দূর থেকে দূরে বহন করা তো আরো রিস্কি। তাতে তার প্রকৃত শোভা ও মোহন সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। এ-কথা আগেও বলেছি। তাই সে প্রসঙ্গে আর যাই না। শুধু বলি, হ্যাঁ, রাহমান ভাই, কচুরিফুলের কথা আপনার মনে আছে? আপনি না আজকাল ভুলে যান সব?
সত্যি, কিচ্ছু মনে থাকে না; কী যে হয়েছে- মাঝে মাঝে কাউকে চিনতেও পারি না।
আমাকেও?
টের পাই, কবি হাসছেন। আমি বলি, সব ভুল হয়, বিবর্ণ হয়, শুধু ছেলেবেলার কথাই কিছু ভুল হয় না, তাই না?
বিস্ময়ভরা কণ্ঠে কবি বলেন, আশ্চর্য! তুমি কী ক’রে বুঝলে?
নিজেকে দেখেই; তাছাড়া আপনাকে পর্যবেক্ষণ করেও...।
তুমি আমাকে এত খেয়াল করো?
তেমনটি আর পারি কই। তবে আপনাকে আমি খুব ভালোবাসি- খুব।
মুহূর্তে নস্টালজিক হয়ে-ওঠা কবি বলেন, জানো, পায়ে-পায়ে যতই মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছি, ততই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে ছেলেবেলা- তার সব রং; মাহুৎটুলি- পাড়াতলি... সব।
তাহলে কচুরিফুলও নিশ্চয় দেখেছেন কোথাও, না-হ’লে এতকিছুর ভিড়েও একটি ফুলের কথা শুধু মনে থাকে কিভাবে?
তোমার অমন বর্ণনা শুনেই হয়তো...।
আমি তো প্ল্যান করেছি, এবার জন্মদিনে আপনাকে কচুরিফুল দিয়েই শুভেচ্ছা জানাব।
তাই! তবে তো ওটাই হবে আমার জন্যে সবচে ভালো উপহার। আমি অধীর আগ্রহে সে-দিনটির প্রতীক্ষায় থাকব...। আমার আইডিয়ার মুগ্ধ ও চমৎকৃত কবি বলেই যাচ্ছেন- হ্যালো-হ্যালো? আমি বুঝিয়ে বলি, রাহমান ভাই, সম্পাদক সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
ঠিক আছে, আমি এখন রাখছি; তুমি এসো কিন্তু।
॥৩॥
শিল্পী শাহাবুদ্দিন-এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শক্তিশালী প্রচ্ছদ নিয়ে ঈদ-সংখ্যা এখন বাজারে। প্রায় ছয়শ’ পৃষ্ঠা নিয়ে ঢাউশ ম্যাগাজিনটি পত্রিকার স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে। পাশাপাশি চলছে সৌজন্য কপি বিতরণের কাজ।
এমনিতে কাজের চাপ নেই, তারওপর আজ ডে-অফ। বেশ ভারমুক্ত আমি পিজির কোয়ার্টারে, নিজের আস্তানায়, শুয়ে ভাবছি- বাড়ি যাওয়ার আগে রাহমান ভাই-র সাথে একবার দেখা করলে কেমন হয়। এত ক’রে বলেছেন ভদ্রলোক। তার ওপর শরীরটাও না-কি ভালো যাচ্ছে না। বিকেলে বাড়ির জন্যে কিছু কেনাকাটা আছে; কাল অফিস গুছিয়ে, পরশুই বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা।... শ্যামলী গেলে তাই এবেলাই যাওয়া উচিত।
সেদিনের মতো আজো দরজাটা খোলা; বিছানায় শুয়ে আছেন কবি; কী যেন ভাবছেন। আমাকে দেখেই উঠে বসতে চান। আমি উঠতে দিই না, বরং খাটেই, কবির ডানপাশে, সাবধানে ব’সে পড়ি- কুশলাদি নিই। কথায়-কথায় চ’লে আসে অনেকদিন আগের কথা: ৯ অক্টোবর ১৯৮৭; মস্কোতে জননেতা মোহাম্মদ ফরহাদ-এর জীবনাবসান হয়। তাঁর অকালপ্রয়ানে তখন, তাৎক্ষণিকভাবে, আপনার শোকার্ত কলমে এসেছিল একটি কালজয়ী মহৎ কবিতা; যেমন এসেছে, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে, শহীদ আসাদ বঙ্গবন্ধু নূর হোসেন রাজুসহ অনেকের বেলায়; এবং উত্তরকালে যে-সব পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছে বিপুল। কমরেড ফরহাদ-কে নিয়ে লেখা সেই দীর্ঘ মনোগ্রাহী কবিতাটি ছাপা হয়েছিল সিপিবি’র মুখপত্র সাপ্তাহিক একতা-য়। আপনার মনে পড়ে?
না তো, মনে করতে পারছি না।
আপনার পাশে সৈয়দ হকেরও একটি কবিতা ছিল। আমি তখন ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ইস্কুল ছুটি থাকায় সেদিন আমি ছিলাম আমার জন্মগ্রামে...।
তোমার- গ্রামের- নামটা যেন কী?
অশ্বপতিদী।
ও হ্যাঁ, বলেছিলে, মনে পড়েছে।
তবে গ্রামে থাকলেও, অগ্রজদের কল্যাণে, একতা’র সেই বিশেষ সংখ্যাটি তখন ঠিকই আমার হাতে পৌঁছয়, যা আমি বারংবার পড়েছি। কখনো ছাগল চরাতে গিয়ে, মাঠে- খেতের আলে পা ছড়িয়ে ব’সে, কখনো-বা অনেক আকাশের নিচে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েছি: অকস্মাৎ এ কেমন নিস্তব্ধতা এলো ব্যেপে দেশে?/ এ কেমন সূর্যাস্তের ছটা/ বিলাপের মতো/ আকাশে ছড়িয়ে পড়ে? বেদনার্ত পাখি নীড়ে ফেরা/ ভুলে যায়, ফুল/ উন্মীলনে পায় না উৎসাহ,/ নদীতে জোয়ার-ভাটা থেমে যায়; মনে হয়, পঞ্চান্ন হাজার/ বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি কী ভীষণ বাষ্পাকুল!/ না তোমাকে মানায় না এরকম কাফনের শাদা/ মোড়কে শুয়ে-থাকা/ মাটির গভীরে, না তোমাকে মানায় না;/ এ গহন স্তব্ধতায় মিশে-থাকা সাজে না তোমাকে।...
আরেকটু পড়ো না-।
এভাবে বলছেন কেন, আপনি যত শুনবেন, আমি পড়ব: ... রেডিও সংবাদপত্র বলে, তুমি নেই।/ গাছপালা, নদীনালা, মাঝিমাল্লা, ক্ষেতমজুররা/ বলে, তুমি নেই; গ্রাম্য পথ, শহুরে সড়ক দ্বীপ/ বলে, তুমি নেই/ প্রতিটি নদীর বাঁক, পদ্মার রূপালি ইলিশের/ ঝাঁক বলে, তুমি নেই, গোলাপ বাগান, পাহাড়ের/ পাকদণ্ডীী, উদার গৈরিক মাঠ বলে, তুমি নেই/ বাউলের একতারা বলে, তুমি নেই,/ তোমার নিজস্ব ঘর গেরস্থালি বলে নেই, তুমি নেই/ পাখিদের ক্লান্ত ডানা বলে, তুমি নেই, তুমি নেই/ তুমি থাকবে না/ শহর কাঁপানো মিছিলের পুরোভাগে/ তুমি থাকবে না/ শ্রমিকের, কৃষকের, ছাত্রদের বিপুল উজ্জ্বল সমাবেশে/ তুমি থাকবে না/ পার্টির ব্যাপক সম্মেলনে,/ ক্ষুধার্তের সারিতে তোমাকে দেখবো না... গভীর আবেগে সেদিন সত্যি নিজেকে ধ’রে রাখতে পারি নি। শোকস্তব্ধ আমি তখনো চোখ মুছে ওই লেখার ভেতরেই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে পেয়েছি; কিন্তু বড় হয়ে, আপনার সব বই ঘেঁটেও, কোথাও লেখাটি আর পাই নি।
হাতের তালুতে মাথা রেখে কাত-হয়ে-শুয়ে-থাকা কবি এবার উঠে বসেন। বালিশে ঠেস দিয়ে বলেন, একতা’র সেই কপিটি...?
সেটি আমাদের শহরের বাসায় সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু ৮৮-র বন্যায়, ঘরের ভেতর যখন হাঁটুপানি, আরো অনেক কিছুর সাথে, বানের তোড়ে, কোথায় ভেসে গেছে; তারপর অনেক খুঁজেও, কোথাও, কারো কাছেই লেখাটির কোনো কপি আর পাই নি। শেষমেশ- কিছুদিন আগে, পল্টনের সাহিত্যপ্রকাশ-এ, মতিউর রহমান সম্পাদিত মোহাম্মদ ফরহাদ স্মারকগ্রন্থ-এ সম্পূর্ণ অক্ষতই পেয়ে যাই। কিংবদন্তি হয়ে শীর্ষক ৬৮ পঙক্তির দীর্ঘ কবিতাটির কোথাও আপনি নেতার নামটি উচ্চারণ করেন নি; অথচ কী আশ্চর্য, প্রতিটি শব্দেই তাঁকে নিবিড়ভাবে পাওয়া যায়! যতবার পড়ি, আমার সব ইন্দ্রিয়- সারাদেশ, নেতার অসীম শূন্যতাকে অনুভব করে। আজো করে। লেখাটির শেষদিকে আপনি দ্রষ্টার মতো ভবিষদ্বাণী করেছেন...যদিও এখন তুমি মেঘে ভাসমান,/একগুচ্ছ ফুল,/ বিরান প্রান্তরে জীবনের বীজ, অথচ এও তো জানি মৃত্যুর জঠর/ ফুঁড়ে লোকগাথার মতন/ কিংবদন্তি হয়ে তুমি/ থাকবে বাংলায় আমাদের পাশে অগণিত হৃদয়ে হৃদয়ে। সত্যি, আপনার কথাই ঠিক। আজো, সমগ্র উত্তর-বাংলায়, প্রতিটি জনপদে, অগণিত মানুষের মনে তিনি কিংবদন্তি হয়েই আছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন: অমন একটি মর্মস্পর্শী, আবেদনময়ী কবিতার আপনার নির্বাচিত কাব্যগ্রন্থে ঠাঁই হলো না- কেন!
কবি যথারীতি তাঁর ভুলের দোহাই দিয়ে বলেন, একদিন নিয়ে আসবে লেখাটি? দেখব।
আমি নিয়েই এসেছি।
কই দেখি তো!
এই যে দেখুন, ব’লে কাঁধের ব্যাগ থেকে ফটোকপিটি বের ক’রে কবিকে দেখাই। তিনি হাতে নিয়ে ভাঁজ খুলতে-খুলতে জোরে ডেকে ওঠেন, টিয়া- টিয়া, আমার চশমা?
বালিশের পাশেই ছিল চশমাটি। আমি খপ ক’রে তুলে নিয়ে বলি, এই তো চশমা। তিনি কবিতাটি চোখের কাছে নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দ্যাখেন; কিন্তু বেশিদূর প’ড়ে উঠতে পারেন না; কী মনে ক’রে পাশেই রেখে দেন- আর কী এনেছ?
আর কী আনব? আমি তো আপনার জন্যে কিছুই আনতে পারি না; শুধু আসি আর মুঠো ভ’রে নিয়ে যাই।
একটু লাজুক হেসে কবি বলেন, তোমাকে, প্রায়ই, একটি কথা বলব-বলব করি, কিন্তু বলা হয় না। তুমি সামনে এলেই কেমন দিব্যি ভুলে ব’সে থাকি।
এমন কী কথা রাহমান ভাই, যে এত ভূমিকা-?
তেমন কিছু না, তোমার নামটা কে রেখেছেন?
আমার মেজো ভাই।
তোমার সেই কমিউনিস্ট ভাইটা?
জি, ঠিক ধরেছেন। এর একটি প্রেক্ষাপটও আছে- ঐতিহাসিক ।
কী রকম? একটু বলা যাবে?
খুব কৌতূহলী হয়ে ওঠেন কবি। শরীরটা যে ভালো নেই, তা যেন ভুলে আছেন। আমিও খুশি হয়ে বলি: একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর- ভোরবেলা; যখন সবুজের বিক্ষত পটভূমিতে স্বাধীনতার রক্তাক্ত সূর্যটি উঠি উঠি করছে। শোষণের নাগপাশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবার সেই বিরল মুহূর্তে আমার জন্ম; যে-কারণে আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের কাছে সেদিন এ-নামটি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।...
বাহ্! চমৎকার!! খুব উচ্ছ্বসিত কবি সব শুনে বলেন, তুমি তো রীতিমতো গর্ব করতে পারো। একটি দেশের জন্মের সাথে তোমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা- কেমন হাত ধরাধরি ক’রে আছে; আর তাকে আরো অর্থবহ করেছে তোমার এই আপাত ছোট্ট নামটি।
আমার মাথায় পাল্টা প্রশ্ন খেলা করে; সত্যি কি অর্থবহ করেছে? আমরা স্বাধীন হয়েছি ঠিকই, আমাদের আর্থনীতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি কি আজো এসেছে? সেই সময় আমাদের সব ধরনের পশ্চাৎপদতা ও ধর্মীয় কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে শোষণহীন সমাজ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা তো আজো বাস্তবায়িত হয় নি। আমি সুদূর পরাহত সেই স্বপ্নের কথা তুলে ক্লান্ত- অসুস্থ কবিকে আর বিব্রত করতে চাই নি; তাই নিঃশব্দ হাসি আর দীর্ঘশ্বাসের আড়ালে চেপে যাই সব।
কথায়-কথায় বাসি হয় দুপুর। কবির অনুরোধে খেতে হয় দুপুরের খাবার: বেগুন-ভর্তা, বাতাসি মাছের চচ্চড়ি আর লাউ-শিংসহ ধোঁয়াওঠা গরম ভাত। খেতে-খেতেও প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে টুকটাক কথা হয় আমাদের। অতঃপর বিদায়।
॥৪॥
ঈদের ছুটি-শেষ। যথারীতি ব্যস্ততায় পেয়ে বসে আবার। তবু চোখ রাখি, যখন যেখানে যাই; খুঁজে ফিরি- কোথায় পাওয়া যায় একগোছা কচুরিফুল। সময় বয়ে যায় তার মতো। গ্রীষ্ম, বর্ষা হয়ে ফের চলে আসে শরৎ। তবু যাওয়া হয় না আর, কবিকে দেখতে। কেননা, সময় পেলেও এ-শহরে কচুরিফুল পাওয়া যায় না।
আমাদের পত্রিকার একটি নিয়মিত বিভাগ ‘শেকড়ের সন্ধানে’; যার প্রতিসংখ্যায়, একটি সন্ধানী ফিচার থাকে। এ-কাজে প্রতিমাসেই আমাকে ঘুরে আসতে হয় দেশের এক-বা একাধিক জেলা; কোনো-না-কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল। সেই ধারাবাহিতায় এবার ময়নামতি ঘুরে, সপ্তাহান্তে, আজ ঢাকায় ফিরছি। সাঁই-সাঁই ক’রে ছুটছে চেয়ারকোচ। মুঠোফোনের ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ না-থাকায় কারো সাথেই ভালো যোগাযোগ হচ্ছে না। তবু চেষ্টা করছি। হঠাৎ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দীপংকর গৌতমের কল- হ্যালো মুক্তি, তোমরা কোথায় এখন?
দাদা, আমরা তো এখন- গোমতি পার হচ্ছি। ও-দিকের খবর কী?
খবর তো একটাই- রাহমান ভাইর অবস্থা ভালো না?
তাই-না-কি! কীরকম- কবে থেকে এ অবস্থা?
এই তো, তুমি যাওয়ার পর থেকেই... কেন, শোনো নি কিছু?
শুনেছি- তবে ডিটেইল না। যাহোক, সর্বশেষ অবস্থা কী?
সর্বষেশ অবস্থা...।
হ্যালো...হ্যালো...দাদা... ধুত্ লাইনটা কেটে গেল! আমি আবার চেষ্টা করি; কাজ হয় না। একটু পর দাদা-ই কলব্যাক করেন- হ্যাঁ মুক্তি, ঢাকায় পৌঁছেই আমাকে ফোন ক’রো। আমরা তাঁকে দেখতে যাব, কেমন?
আমার শরীর ঘেমে উঠছে। আমি জানালার গ্লাস সরিয়ে দিই। বাতাসে রোদের ঘ্রাণ। চারপাশে ছড়ানো জীবনের কত উপাদান। ক্লান্তি আর অবসাদ সত্ত্বেও দৃষ্টি বারবার ছুঁয়ে আসছে দিগন্ত। কত শাদা-ছেঁড়া-মেঘের বহর নীলগোলা আকাশে; নিচে অপার কাশবন। শাপলা-ফোঁটা ধূ-ধূ বিলের মধ্যেও কচুরিতে সবুজ হয়ে উঠেছে ভাদরের কাঁচা-রোদ। হেমন্তেই ফুটতে থাকবে রাশি রাশি কচুরি; অজস্ত্র ফুলে ফুলে ভ’রে উঠবে বাঙলার কতশত খাল-বিল-ডোবা; অথচ কী দুর্ভাগ্য আমার, প্রিয় মানুষের করপুটে তার একটি ফুলও উঠবে না...! তবে কি এভাবেই থেকে যায় অপূরণ এক-একজন কবির স্বপ্ন? এতটুকু চাওয়া?
আমার সফরসঙ্গী বিশ্বজিৎ সরকার আজকের দৈনিকটা পড়ছিলেন। তার মুখেই শুনেছি, রাহমান ভাইকে নিয়ে কী-সব আশংকার কথা লিখেছে। আমার এ-মুহূর্তের ভাবনার কথা তার জানবার কথা না; তবে আমি-যে সুযোগ পেলেই কচুরিফুল খুঁজে ফিরি, তা ভালো ক’রেই জানেন। একজন পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে প্রয়োজনীয় কোনো দৃশ্যই তার দৃষ্টি এড়ায় না। এমন-কি দ্রুতগতির মধ্যেও যে-কোনো দুর্লভ দৃশ্য তিনি অনায়াসে তুলে আনতে পারেন তার ক্যামেরায়; কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা সুদূরপ্রসারী আবেদন সৃষ্টি করে।
সড়কের পাশেই, থই-থই জলে, আগাম ফুটে আছে জারুল রঙের একগুচ্ছ ফুল; কচুরিফুল! বেশ হাসিখুশি ফুলগুলো দেখামাত্র ক্লিক ক’রে ওঠে বিশ্বজিৎ দা-র ডিজিটাল ক্যামেরা। আমার পাশে বসেই দৃশ্যটি তিনি আবিষ্কার করেছেন। শুধু ক্যামেরাবন্দি নয়, একেবারে হাতেধরা বাস্তব দৃশ্য। প্রথমে সুপারভাইজারকে ব’লে চলন্ত কোচটি থামান; কিন্তু অমন স্পর্শকাতর যে ফুল তা শুধু ডাঁটি ভেঙে নিয়ে গেলে ঢাকা পর্যন্ত টিকবে কেন? তাই ছেবড়িসহ আস্ত পানাটিই তুলে আনেন তিনি। শুধু কি তাই? ফুলগুলো যাতে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এবং সতেজ থাকে তারও ব্যবস্থা নেন; ভবের-চর স্টেশনে এসেই ঝটপট পাশের বাজার থেকে একটি বালতি কেনেন এবং সড়কের বুকঘেঁষা ছোট-ছোট ঢেউখেলা জল ভেঙে তুলে আনেন আধাবালতি টলটলে জল। এ-সবই করছেন তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে। বাসের অন্যযাত্রীরা কে কী মনে করছে, সে-দিকে তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
ঢাকায় পৌঁছেই বোঝা যায় প্রকৃত পরিস্থিতি; পাওয়া যায় শেষ-সংবাদ: বাঙলা কবিতার জীবন্ত কিংবদন্তি কবি শামসুর রাহমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ডাক্তাররা বলেছেন- তাঁর ফুসফুস, কিডনি, যকৃত- সবই প্রায় বিকল।
অফিসে রিপোর্ট বুঝিয়ে দিয়ে, বিকেলেই, ছুটি হাসপাতালে- সঙ্গে দীপংকর ও বিশ্বজিৎ দা।
সিকিউরিটিতে মারাত্মক কড়াকড়ি। তবু ওখানকার একজন পরিচিত ডাক্তারের রেফারেন্সে আমরা ঠিকই পৌঁছে যাই কবির শয্যাপাশে। হাতে কচুরিফুল, চোখে জল; কিন্তু যাঁর জন্যে এই আয়োজন, তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই সাড়া দেবার। তিনি সম্পূর্ণ কোমায় চলে গেছেন। তবু আমি তাঁর নাকে-মুখে পরানো যন্ত্রের ফাঁক গ’লে, আলতো ছুঁইয়ে, বুকের কাছেই, রেখে দিই ফুলগুলো।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে অচিরেই পৃথিবী জেনে যায়, বাঙলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমান আর নেই। তাঁর শরীর থেকে যাবতীয় যন্ত্রপাতি খুলে নেয়া হয়েছে।
নিরব শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশব্যাপী বইছে শোকের শৈত্যপ্রবাহ।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় না হলেও, দেশের আপামর মানুষের পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুলে-ফুলে সিক্ত হন কবি; কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মানুষের ঢল পেরিয়ে বনানী গোরস্থানে- মায়ের বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন আমাদের প্রিয় কবি।
ধূসর সমাধির পাশে, প্রিয় ফুল হাতে, শ্রদ্ধাবনত আমি, নিরবে কাঁদছি শুধু। কত প্রত্যাশিত এই ফুল- যা আমি শেষ পর্যন্ত পেলাম ঠিকই, কিন্তু তাঁর হাতে তুলে দিতে পারলাম না। তিনিও দেখে যেতে পারলেন না- ঠিক কেমন দেখতে আমার প্রিয় ফুল- কচুরিফুল।
এখন কী ক’রে নিজেকে আমি ক্ষমা করব? জীবনে- যখন- যেখানেই দেখা হবে কোনো কচুরিফুলের সাথে, একটি গাঢ় চাপা দীর্ঘশ্বাস কি এভাবেই বেরিয়ে আসবে না, আমার ভেতর থেকে? তখন বাঙলার সব ফুল নিয়ে এখানে এলেও কি পাওয়া যাবে কোনো সান্তনা? কে ব’লে দেবে?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ► 2026 (1508)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 17
(54)
- ১২ অক্টোবর থেকে সিম কিনেই চালু করতে পারবেন না গ্রা...
- মুমতাজ এবার সুপ্রিয়া দেবী মুমতাজ এবার স্মৃতির সরণিতে
- আমি সত্যিই ভীষণ জটিলঃ কাজল
- কাঁধে ব্যথা হলে
- ওয়েভরাইডারের পরীক্ষা ব্যর্থ
- যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আবেদন গ্রহণ শুরু by ...
- মুখ খুললেন সাদ্দামের আশ্রয়দাতা
- শ্লেষণ- অবস্থান সংহত মুরসির
- বন্দুকযুদ্ধে এক সেনা ও আট জঙ্গি নিহত- পাকিস্তানে ব...
- সিদ্ধিরগঞ্জে সাংবাদিক দম্পতির ওপর হামলা
- কারুশিল্পীদের তালা- স্টল বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ
- ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত দোহার ও নবাবগঞ্জের ৭০০ পরিবার
- নির্মাণাধীন শাহজালাল সার কারখানা- আগে গেছে গাছ এখন...
- প্রথম আলো জবসের প্রধান শৈবাল কানুনগো আর নেই
- কবি শামসুর রাহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- সন্ধ্যার লঞ্চ দুপুরেই যাত্রীতে পূর্ণ by ইকবাল হোসেন
- স্মরণসভায় শেখ হাসিনা- রাজনৈতিক দলের অধীনে সুষ্ঠু ন...
- ধর্ম- ‘জুমাতুল বিদা’ রমজানের বিদায়বার্তা by মুহা...
- পাট খাতের দুর্বলতা সরকারি দুর্বলতারই প্রতিফলন- পাট...
- বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক- লিমন কি বিচার পাবে না?
- গোলটেবিল বৈঠক- কেমন সিটি করপোরেশন চাই
- শ্রদ্ধাঞ্জলি- বেলার কবি এই অবেলায় by ফারুক ওয়াসিফ
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- জন্মদিন- বন্ধু মুর্তজা বশীর by কাইয়ুম চৌধুরী
- জইশে মুহাম্মদের সঙ্গে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তা
- ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলার সপ্তম বার্ষিকী আজ- ...
- পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ by মিরাজ রহমান
- মন্ত্রীর সামনেই ফেরি-গাড়ি লুকোচুরি by তৌফিক মারুফ
- বিদ্যুতের দাম ফের বাড়বে ঈদের পর by আরিফুজ্জামান তুহিন
- জাপায় 'ভারপ্রাপ্ত' হওয়ার মতো কেউ নেই!
- ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে জাতীয় পার্টি by মোশতাক...
- দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে রাজনীতি সফল হবে না : ফখরুল
- দেরিতে চলছে ট্রেন-বাস by পার্থ সারথি দাস
- জইশ-ই-মোহাম্মদের সংগঠক গ্রেপ্তার
- অধিকার- আইন দিয়ে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন by ...
- খোলা চোখে- আমেরিকায় নির্বাচন: ছি ছি, এত্তা জঞ্জাল ...
- অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় দেবে ইকুয়েডর
- আদমশুমারির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন। নওগাঁয় ২৪ হাজ...
- ৬৭ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি- উত্তরের ট্রেনসূচি বিপর্...
- শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী-ক্ষমতার পরিবর্তন ...
- জেএমবির বোমা হামলার সাত বছর-বিচার শেষ হয়নি ৬৮ মামল...
- ঈদ মাটি হবে অনেক এমপির by পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
- চীনা আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিচ্ছে জাপান
- ফের দাঙ্গা আসামে-আতঙ্ক কর্নাটকেও
- ওআইসিতে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত
- মামলার মুখেও আদালত নিয়ে মন্তব্যে অটল মমতা by সুব্র...
- আবারও ব্যর্থ ওয়েভরাইডার
- আশ্রয় দেবে ইকুয়েডর-অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তারে দূতাবাসে...
- পাকিস্তানে বিমান ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত ১০
- ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ
- জঙ্গিবাদের উত্থানের ভয়ংকর রূপ by ড. মিল্টন বিশ্বাস
- প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তবে সংশয় দূর হয়নি by হায়দ...
- চঞ্চল মেয়েটি এখন আর হাসে না by বোরহান উদ্দিন
- কবি ও কচুরিফুল by ফারুখ সিদ্ধার্থ
-
▼
Aug 17
(54)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
লেবানন
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
Exclusive
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
জোহরান মামদানি
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
ইহুদি
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment