Thursday, May 31, 2012
সমকালীন প্রসঙ্গ-গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ :আমার শঙ্কা by মুহাম্মদ ইউনূস
সমকালীন প্রসঙ্গ-গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ :আমার শঙ্কা by মুহাম্মদ ইউনূস
তদন্ত কমিশন গঠন খবর শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমার মতো দেশের অনেকের, বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক গরিব মহিলাদেরও নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ১৫ মে, ২০১২ প্রজ্ঞাপন জারি করে গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ক নানা বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিশন (কমিশন অব ইনকোয়ারি) গঠন করে দিয়েছে। কমিশনকে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদন পেশের জন্য।
এই তদন্ত কমিশন গঠন করে আমরা একটা রেকর্ড করলাম নোবেল পুরস্কারের ১১০ বছরের ইতিহাসে মোট বিশটি নোবেল জয়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এশিয়ার একমাত্র নোবেল জয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর তদন্ত কমিশন বসিয়ে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর তদন্ত কমিশন কেন?
সৃজনশীল যে কর্মপদ্ধতি এবং নতুন ধরনের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সৃষ্টি করে গ্রামীণ ব্যাংক গরিবের কল্যাণমুুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব-স্বীকৃতি পেলো; সে কর্মপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও ফলাফলে সরকার সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলেই কি তদন্ত কমিশন গঠন? অথবা, গ্রামীণ ব্যাংক কি বড় রকমের কোনো অঘটন ঘটিয়েছে, যার জন্য তদন্ত কমিশন বসাতে হয়েছে? গ্রামীণ ব্যাংক এমন কী জনগুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, তার ওপর তদন্ত চালাতে হবে? এ পর্যন্ত যত তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেগুলো বড় রকমের অঘটন ঘটার পর মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগার কারণে সরকার কমিশন গঠন করে তার তদন্ত করেছে। তদন্ত কমিশন গঠনের আইনটাও এ ধরনের পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মেয়াদকাল পর্যালোচনা করে সুপারিশ/মতামত দেওয়ার। এই মেয়াদের আগাগোড়া আমি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে এসেছি। ২০১০ সাল-পরবর্তী সময়টাকে কমিশনের বিবেচনার বাইরে রাখার কারণ বুঝতে পারলাম না। ২০১০ সালের পর কি গ্রামীণ ব্যাংকের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে?
তদন্ত কমিশনের কাছে সাধারণত চাওয়া হয় ঘটনা-উত্তর বিষয়ের কারণ ও সমাধান। এই তদন্ত কমিশনকে দেওয়া হয়েছে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে তার সুবিস্তৃত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক বিষয়গুলোর ভালোমন্দ যাচাই করে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের দায়িত্ব। মাত্র তিন মাস সময়ের মধ্যে স্বল্প লোকবল নিয়ে এই বিশাল দায়িত্ব পালন করা তদন্ত কমিশনের জন্য কঠিন কাজ হবে। সময়-স্বল্পতার কারণে কমিশন যদি ভুল পরামর্শ দিয়ে ফেলে, তার পরিণতি বাংলাদেশের গরিব মানুষের জন্য মর্মান্তিকও হতে পারে।
এ ধরনের কাজ সাধারণত সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সেরা গবেষকদের কাছে দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে দেওয়া হয়। যারা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন, পরিচালনা করেছেন; যারা প্রতিষ্ঠানের উপকারভোগী, যারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত, তাদের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে বহু যুক্তিতর্ক দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের বিবেচনার জন্য প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য অংশগুলো প্রতিষ্ঠানের চলমান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে যত্নের সঙ্গে ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হয়।
এই তদন্ত কমিশনের সময়সীমা দেখে মনে হতে পারে, ছুরি-কাঁচি নিয়ে প্রস্তুত হয়ে কাজে নামা ছাড়া তাদের গতি নেই।
গ্রামীণ কোম্পানি :কমিশনের কার্যপরিধিতে গ্রামীণ নামের কোম্পানিগুলো নিয়ে সরকারের অনেক প্রশ্ন। হয়তো সরকারের ধারণা যে, কোম্পানিগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানায় সৃষ্টি হয়েছে। অথচ কোম্পানিগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি বহুবার বলেছি, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা খুবই সহজ। একটা আন্তর্জাতিক মানের অডিট ফার্মকে গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস বের করতে দিলে তারা সব বের করে নিয়ে আসবে। এর জন্য পুরোদস্তুর তদন্ত কমিশন বসানোর দরকার কী? গ্রামীণ ব্যাংক এসব কোনো কোম্পানির মালিক কিনা; গ্রামীণ ব্যাংক এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে কিনা_ এটা দেখার জন্য এত বড় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দরকার কী?
আমি নিজের উদ্যোগে বহু প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছি। আমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের সঙ্গে 'গ্রামীণ' নাম ব্যবহার করে এসেছি। বেশির ভাগই 'মুনাফার জন্য নয়'_ এমন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুসারে এদের কোনো 'মালিক' নেই। কোম্পানি আইনের সেকশন ২৮ দিয়ে বেশির ভাগ কোম্পানি সৃষ্ট। এতে শেয়ার বিক্রির ব্যবস্থা থাকে না (নন-স্টক)। এগুলো থেকে কেউ মুনাফা পায় না। যেহেতু কারও এতে মালিকানা নেই, এবং এগুলো স্পন্সরদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দ্বারা সীমিত; অর্থাৎ কোম্পানি দায়-দেনা শোধ করতে না পারলে স্পন্সররা ব্যক্তিগতভাবে তাদের দেওয়া গ্যারান্টি পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন। কাজেই এমন প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকারও প্রশ্ন আসে না। আর কিছু আছে মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক হচ্ছে এক বা একাধিক 'মুনাফার জন্য নয়' এমন প্রতিষ্ঠান। এখানেও গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকার অবকাশ নেই।
গ্রামীণ ব্যাংক নিজে কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষমতা ব্যাংককে দেওয়া হয়নি।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টিরও কারণ আছে। গরিবদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঋণ ছাড়াও আরও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শিক্ষার সমস্যা (গ্রামীণ শিক্ষা), স্বাস্থ্যের সমস্যা (গ্রামীণ কল্যাণ), মার্কেটিং সমস্যা (গ্রামীণ চেক), কৃষির সমস্যা (গ্রামীণ কৃষি), মৎস্য ও পশুপালন সমস্যা (গ্রামীণ মৎস্য), প্রযুক্তির সমস্যা (গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কমুনিকেশন্স), বীমার সমস্যা (গ্রামীণ ব্যবসা বিকাশ), বিদ্যুতের সমস্যা, চুলার সমস্যা (গ্রামীণ শক্তি) ইত্যাদি। প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলার জন্য একটি করে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছি। যখনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তার সমাধানের জন্য পৃথক কোম্পানি সৃষ্টি করেছি। এমনভাবে করেছি, যাতে কোম্পানি নিজের আয়ে নিজে চলতে পারে। পরমুখাপেক্ষী হয়ে যেন থাকতে না হয়। একটি কোম্পানির পতন হলে সে যেন আর পাঁচটি কোম্পানিকে টেনে নিচে নামিয়ে ফেলতে না পারে। প্রতিটি কোম্পানিই উদ্ভাবনমূলক। আগে কোনোদিন কাজ করা হয়নি এমনভাবে। নতুন ভঙ্গিতে, নতুন কনসেপ্ট দিয়ে সমস্যার সমাধান পাওয়ার চেষ্টা করেছি। এদের মধ্যে অনেক কোম্পানি পৃথিবীতে দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে ইতিমধ্যেই দাঁড়াতে পেরেছে। গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের মোবাইল ফোন গরিব মহিলাদের হাতে পেঁৗছানোর কনসেপ্ট সারা পৃথিবীর টেলিকম জগতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ শক্তি সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ শক্তির মাধ্যমে এ বছরই ১০ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারে সৌরবিদ্যুৎ পেঁৗছানো সম্পন্ন হবে। দৈনিক গড়ে এক হাজার নতুন পরিবারে সৌরশক্তি স্থাপন করছে এ কোম্পানি। এই কোম্পানিগুলোতে কারও ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। এগুলো হলো 'ট্রাস্ট'-এর মতো প্রতিষ্ঠান। মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। কারও জন্য মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব কোম্পানি সৃষ্টি করা হয়নি। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি।
গ্রামীণ বা অন্য কোনো নামের কোনো প্রতিষ্ঠানে আমার কোনো শেয়ার বা মালিকানা নেই। গ্রামীণ ব্যাংকেও আমার শেয়ার নেই। কাজেই কোনো কোম্পানির কোনো মুনাফার অংশ আমার কাছে আসার সুযোগ কখনও ছিল না, আজও নেই। কোনো গ্রামীণ কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতি বা পরিচালনার জন্য আমি কোনো সম্মানী বা ভাতা কোনো সময় নেইনি।
কমিশনের কার্যপরিধির আরেকটি বিষয় হলো :'গ্রামীণ' প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইনকানুন খতিয়ে দেখা। ("ডযধঃ ধৎব ঃযব ংঁপপবংংরড়হ ৎঁষবং ভড়ৎ ড়হিবৎংযরঢ় ধহফ সধহধমবসবহঃ ড়ভ ঃযবংব রহংঃরঃঁঃরড়হংচ্). মজার কথা হলো, এর প্রতিটি কোম্পানিই কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধনকৃত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকেই তার পরিচালনা পরিষদের গঠন ও পুনর্গঠনের নিয়মাবলি সুনির্দিষ্ট করা থাকে। শেয়ারের উত্তরাধিকার কীভাবে নির্ধারণ করবে, তার জন্য প্রচলিত আইনই যথেষ্ট হওয়ার কথা। বাবার শেয়ার ছেলেমেয়েরা পাবে_ এ রকমই হয়। তাছাড়া গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন শেয়ারের বালাই নেই, সেখানে মালিকানার উত্তরাধিকার কীভাবে প্রাসঙ্গিক হবে, কিংবা অর্থবহ হবে_ সেটাও বুঝতে পারছি না। তদন্ত কমিশন বসিয়ে এখন মালিকানার উত্তরাধিকার আইন সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়াতে এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের মনে ভুল চিন্তা জেগে ওঠা কি অন্যায় হবে?
তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি দেখলে মনে হবে, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সরকারের প্রচুর আগ্রহ। একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মালিকানার উত্তরাধিকার (এমনকি সে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমালিক যদি থেকেও থাকে) নিয়ে সরকারকে কেন এত চিন্তিত হতে হলো যে, তার জন্য একটা তদন্ত কমিশনকে দায়িত্ব দিতে হলো_ সেটা সহজে বোধগম্য হচ্ছে না। মালিকানার যে সম্পর্ক এগুলোর প্রতিষ্ঠালগ্নে ছিল না, যে সম্পর্ক এখনও নেই, বাংলাদেশ ব্যাংকের বহু বছর ধরে করে যাওয়া অডিট রিপোর্টেও কোনো দিন যার উল্লেখ করা হয়নি, আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদেও যার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন জাগেনি; সেই সম্পর্ক উদ্ঘাটনের জন্য পুরোদস্তুর একটি তদন্ত কমিশন বসানোতে অবাক লাগারই কথা। বিশেষ করে যে কমিশনের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশগুলো দেশে এবং বিদেশে বহুলভাবে এবং বহুদিন ধরে আলোচিত হতে থাকবে।
পটভূমি :গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু ১৯৭৬ সালে। চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে। ৮৫৬ টাকা নিজের পকেট থেকে ঋণ দিয়ে। এর পর আমি জামানতকারী হয়ে জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ঋণ দেওয়া শুরু করলাম। ১৯৭৮ সালে কৃষি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুজ্জামানের সহযোগিতায় এটাকে রূপান্তরিত করা হলো কৃষি ব্যাংকের একটি প্রকল্প হিসেবে। আমার প্রস্তাব গ্রহণ করে তিনি আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ শাখা প্রতিষ্ঠা করে দিলেন জোবরা গ্রামে 'কৃষি ব্যাংক, পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা' নামে। ১৯৭৯ সালে এটা আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মি. গঙ্গোপাধ্যায়ের আগ্রহে ও আমার প্রস্তাবে। কৃষি ব্যাংকের প্রকল্প থেকে এবার হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প। টাংগাইল জেলাজুড়ে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলো। সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এই প্রকল্পের অংশীদার হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে আমার অমত সত্ত্বেও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় শ্যামলীতে স্থানান্তর করলাম। ১৯৮৩ সালে আমার প্রস্তাবে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উৎসাহে এবং রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থনে 'গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩' প্রণয়ন ও জারি করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প 'গ্রামীণ ব্যাংক'-এ রূপান্তরিত হলো। নতুন আইন কাঠামোতে ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস নিয়ে আমি ঘোরতর আপত্তি তুললাম। এতে সরকারের মালিকানা রাখা হয়েছে ৬০%। অর্থাৎ এটাকে সরকারি ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমি এই কাঠামো নিয়ে অগ্রসর হতে নারাজ হলাম। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেন, শিগগিরই মালিকানা পাল্টে একে বেসরকারি ব্যাংক বানিয়ে দেবেন। কিন্তু সে কাজটি করার সুযোগ পেলেন না। তিনি অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন। তার উত্তরসূরি সাইদুজ্জামান ৮ জুলাই, ১৯৮৬ মালিকানা বিন্যাস পরিবর্তন করে অধ্যাদেশ সংশোধন করে দিলেন। এবার মালিকানা হলো ৭৫% গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের, সরকারের ২৫%। এ অনুসারে বোর্ডের গঠনও পরিবর্তিত হলো_ ৯ জন ঋণগ্রহীতাদের প্রতিনিধি, ৩ জন সরকারের, পদাধিকারবলে থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ৩১ জুলাই ১৯৯০ সালে আরেকটি সংশোধন হলো। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেবে পরিচালনা পর্ষদ_ সরকার নয়। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক এভাবেই চলে আসছে। বর্তমানে ঋণগ্রহীতাদের শেয়ারের অংশ ৯৭ শতাংশ। সরকারের ৩ শতাংশ। সরকারের শেয়ারের পরিমাণ ৩ শতাংশে চলে আসার কারণে সরকার শুরুতে যে মূলধন দিয়েছিল, তা কখনও বাড়ায়নি। এদিকে ঋণগ্রহীতা ক্রমেই বেড়েছে। তারা প্রত্যেকে শেয়ার কিনেছেন প্রতিটি ১০০ টাকায়। একজন ঋণগ্রহীতার সঞ্চয়ী হিসাবে টাকার পরিমাণ ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলে ১০০ টাকা দিয়ে একটা শেয়ার কিনতে পারেন এবং তিনি কেনেনও। ফলে তাদের শেয়ার বেড়েই চলেছে। এই কারণেই তাদের শেয়ার ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি মূলধন না বাড়ায়, আর ঋণগ্রহীতাদের শেয়ার যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে সরকারের শেয়ারের আনুপাতিক অংশ ক্রমান্বয়ে কমে যেতে থাকবে।
৮৫৬ টাকা দিয়ে যে উদ্যোগের শুরু হয়েছিল, এখন সে ব্যাংক ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতাকে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব সঞ্চয়ী তহবিলে এই মুহূর্তে জমা আছে সাত হাজার কোটি টাকা। গরিব মহিলারা নিজস্ব সঞ্চয়ী আমানতে সাত হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছে। শুধু তাই নয়; এ টাকার পরিমাণ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাদের নিজস্ব পেনশন ফান্ড আছে। তাদের ছেলেমেয়েদের পৌনে তিনশ' কোটি টাকা শিক্ষা ঋণ দিয়েছে উচ্চশিক্ষার জন্য। ১৯৯০ সালের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ব্যাংকের মালিকানা ঋণগ্রহীতাদের হাতে তুলে দেওয়ার কারণে এবং সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে ন্যস্ত করার কারণেই গ্রামীণ ব্যাংক একটি মজবুত ও সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পেরেছে।
গ্রামীণ ব্যাংককে অনেকে অন্যান্য ব্যাংকের মতো মনে করেন বলে এর সম্বন্ধে ভুল সিদ্ধান্তে চলে আসেন। তারা মনে করেন, এই ব্যাংকের একমাত্র বৈশিষ্ট্য, তারা ছোট অংকের ঋণ দেয়। তা মোটেই নয়। এটা পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যা বিন্দুমাত্র জামানত না নিয়ে চলে। এতে কোনো জমাজমির দলিল লাগে না। এই ব্যাংক তার সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়। প্রতি সপ্তায় তার কাছ থেকে ঋণের কিস্তি নিয়ে আসে। একটা ঋণ শোধ হলে আবার ঋণ নিতে কোনো সময় লাগে না। ঋণগ্রহীতা মারা গেলে কিংবা তার স্বামী মারা গেলে অবশিষ্ট ঋণ আর পরিশোধ করতে হয় না। অথচ আবার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ঋণ নিতে পারেন। ঋণগ্রহীতা ইন্তেকাল করলে জানাজার জন্য অনুদান পান। সব ঋণগ্রহীতার ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ঋণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক ঋণগ্রহীতা নিজেই ব্যাংকের মালিক। এটা জগতের মূল ব্যাংকিং কর্মপদ্ধতির একেবারে উল্টো কর্মপদ্ধতি। এ জন্যই গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের কাছে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যেতে পেরেছে। এ জন্যই এই ব্যাংকের এত গুরুত্ব।
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে তদন্ত কমিশনের করণীয় :তদন্ত কমিশনের যে কার্যপরিধি দেওয়া হয়েছে, তাতে শঙ্কা জাগে যে, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চায়। কমিশনের কার্যপরিধিতে আছে :(ক) ব্যাংকের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে এর কর্মক্ষমতা, দুর্বলতা এবং এর সামনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা। (খ) ব্যাংকের সুশাসন, বিশেষ করে ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান করা। (গ) গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস, বোর্ড প্রতিনিধিত্ব, বোর্ড সদস্যদের যোগ্যতা নির্ধারণ সম্পর্কে তাদের মতামত দেওয়া।
কর্মদক্ষতা, দুর্বলতা যাচাই করার মাপকাঠি কী হবে?
কার্যপরিধির যে অংশে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মদক্ষতা, দুর্বলতা ও প্রতিবন্ধকতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে, সে সম্বন্ধে কয়েকটি প্রশ্ন সবার মনে জাগবে। কমিশন কোন মাপকাঠিতে এ বিচার করবে? তারা কি ঋণ আদায়ের হার, সুদের হার, ব্যাংকের লাভ-লোকসান, কর্মীপ্রতি কতজন ঋণগ্রহীতা দেখাশোনার দায়িত্ব, এমআইএস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক দক্ষতা, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, অর্থ সংস্থান, বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি, কতজন দরিদ্র মহিলার কাছে ঋণ সুবিধা নিয়ে যেতে পেরেছে, তাদের মধ্যে কত পরিমাণ সঞ্চয় সৃষ্টি করতে পেরেছে_ এগুলি বিচার করবে, নাকি অন্য কোনো মাপকাঠি নিয়ে আসবে? তারা কার সঙ্গে তুলনা করে তাদের মতামত স্থির করবে? তারা কি কাল্পনিক একটি যোগ্যতা স্থির করে তার সঙ্গে বিচার করে দেখবে, নাকি বাংলাদেশের অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে গ্রামীণ ব্যাংকের অবস্থান নির্ণয় করবে? নাকি তারা গ্রামীণ ব্যাংক যেহেতু একটি ব্যাংক, সে কারণে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করে দেখবে_ যেমন কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক বা কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংক?
বাস্তবতার নিরিখে যাচাই না করে মনগড়া মতামত দিতে গেলে কমিশনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতা
পাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর গ্রামীণ ব্যাংক অডিট ও পরিদর্শন করে। তাদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের ভালোমন্দ সব খবর জমা আছে। তাদের নিষ্ঠাবান, দক্ষ কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে শাখায় শাখায় ও প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন কোনো চাঞ্চল্যকর খবর তুলে ধরেনি, যার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক বেকায়দায় পড়ে গেছে। তারা প্রতি বছর যেসব বিষয়ে আপত্তি তোলেন, গ্রামীণ ব্যাংক তার ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। তারা বছরের পর বছর জানিয়ে এসেছেন যে, তাদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে অনিষ্পত্তিকৃত কোনো বিষয় অবশিষ্ট নেই।
একবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছিল।
২০০০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট টিম আমার অবসর গ্রহণের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমরা বোঝালাম যে, গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব নিয়মনীতিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বয়সসীমা নির্ধারণ করা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক জানালো যে, আপনারা আপনাদের সব কাগজপত্র নিয়ে আসুন, আমরা পরীক্ষা করে দেখব। কাগজপত্র দেওয়ার পর জানুয়ারি ১৫, ২০০১ তারিখে তারা যৌথ বৈঠক ডাকে। সেখানে সিদ্ধান্ত হলো, গ্রামীণ ব্যাংক কয়েকটি দলিলের কপি সরবরাহ করলে তাদের আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। গ্রামীণ ব্যাংক তা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এই আপত্তিটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গ্রহণ করে, তখন আমার বয়স ৬১ বছর ৬ মাস। আমার বয়স ৬০ পার হলেও সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ঘটনা-উত্তর অনুমোদন নেওয়ার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেনি। পরবর্তী বছরগুলোর অডিট প্রতিবেদনে অনিষ্পত্তিকৃত বিষয়গুলোর মধ্যেও আর কোনো দিন এই বয়সসীমার প্রশ্নটি ওঠেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথাসময়ে প্রশ্নটি তুলেছিল। আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি। তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংক জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর দেশের সব চাইতে খ্যাতনামা দুটি অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত হয়ে এসেছে। তারা আমাদের হিসাবপত্র এবং ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের বলে বরাবর আমাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সুশাসন, বিশেষ করে ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ চাওয়া হয়েছে তদন্ত কমিশনের কাছে।
এত বছর পর, এত অডিট রিপোর্টের পর, এত গবেষণার পর, এত পুরস্কার-সম্মান লাভের পর গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হঠাৎ সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠাতে আমার মতো অনেকে নিশ্চয়ই বিচলিত বোধ করবে; বিশেষত আমাদের মতো দেশে; যেখানে এই গুণাবলির অনুপস্থিতি নিয়ে বিচারে বসলে যারা অনায়াসে তালিকার শীর্ষস্থানগুলো দখল করে রাখবে, তাদের ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন না করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সরকারের এই আগ্রহ অনেককে বিস্মিত করেছে।
যে চারজন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করতে পারেন। তারা যদি ক্ষুদ্রঋণ জগতের সঙ্গে পরিচিত না হন, তাহলে সমস্যাটা আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ক্ষুদ্রঋণের জন্ম বাংলাদেশে হলেও এই কর্মকাণ্ড এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ধনী-দরিদ্র এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চলছে না। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট সৃষ্টি হয়েছে। বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ভাষায় বহু প্রকাশনা একে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়। এ দেশে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করে পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন_ এমন অনেক ব্যক্তিত্ব এখানে আছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব পালন করে। তাছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পৃথক রাষ্ট্রীয় সংস্থা মাইক্রোফাইনান্স রেগুলেটরি অথরিটি রয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ সরবরাহ করার জন্য বহু বছরের মূল্যবান অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফ রয়েছে। এত গবেষক, এত প্রশাসক, এত বিশেষজ্ঞ থাকতে এই চারজনের ওপর এত বড় দায়িত্ব কেন চাপানো হলো_ এটা বোঝা বড় কষ্টকর।
সরকার কমিশনের সামনে যেসব বিষয় উপস্থাপন করেছে, তাতে একটা দুশ্চিন্তা মনে জাগে_ সরকার হয়তো চাইছে, গ্রামীণ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে 'দুর্বল'_ এটা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাকে বলুক। কারণ সরকার চাইছে, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের নিজস্ব চিন্তা অনুসারে চলুক। বর্তমান আইন অনুসারে এটা মালিকদের সিদ্ধান্তে চলে। সরকারের সিদ্ধান্তে চলতে হলে মালিকানা বিন্যাসে পরিবর্তন দরকার। সরকার হয়তো আশা করছে, কমিশন এ রকম সুপারিশ দেবে। মালিকানা পরিবর্তন হলে বোর্ড পরিবর্তন হবে। ফলে সবকিছুর পরিবর্তন হবে।
মালিকানা পরিবর্তন না করেও সরকার এমনভাবে আইন সংশোধন করতে পারে যে, বোর্ডের সর্বময় ক্ষমতা আর থাকবে না। বোর্ড যেমনি আছে তেমনি থাকবে, কিন্তু সব ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
কার্যপরিধি পড়ে এ ধরনের শঙ্কা মনে জাগে। আমি আশা করব, আমার এই সব শঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক প্রমাণিত হবে। তবু সময় থাকতে শঙ্কাগুলো সবার সামনে নিয়ে আসা উচিত মনে করে বিষয়গুলো তুলে ধরছি।
২৩ এপ্রিল, ২০১২ অর্থ মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্যে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, 'গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং হবেও না।' এই পরিষ্কার বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এর মাত্র কয়েক দিন পর জারিকৃত তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি দেখে আবার শঙ্কাটি বিপুলভাবে চাড়া দিয়ে উঠেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা :গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু থেকে অল্প অল্প সঞ্চয় জমিয়ে গরিব মহিলারা গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার কিনেছেন। এ ব্যাংক তাদের নিজস্ব ব্যাংক জেনে তারা এটাকে মজবুত রাখার জন্য প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আজ তাদের মালিকানা নিয়ে তদন্ত কমিশনের কাছে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় গরিব মহিলারা শঙ্কিত বোধ করবেন। একটা বড় নির্দয় প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে কমিশনের সামনে। কমিশন কী জবাব দেয়_ তা যেমন ৮৪ লক্ষ গরিব মহিলা শেয়ার মালিক লক্ষ্য করবেন, তেমনি দেশবাসীও লক্ষ্য করবেন। নারীর ক্ষমতায়নে আগ্রহী পৃথিবীর সব মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে এই উত্তরের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
পরিচালনা পর্ষদে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ব্যাপারেও কমিশনের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। এটাও একটা দুর্ভাগ্যজনক প্রশ্ন। তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক_ এটাই তাদের একমাত্র যোগ্যতা। গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই নিরক্ষর মহিলা। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বরাবরই গুণী ব্যক্তিরা চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। যেমন প্রফেসর ইকবাল মাহমুদ, প্রফেসর রেহমান সোবহান, ড. আকবর আলি খান, প্রফেসর কায়সার হোসেন, তবারক হোসেন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এদের কেউ বলবেন না যে, মহিলাদের প্রতিনিধিরা যোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো অংশে খাটো ছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সব মহিলা এবং সব সদস্যের পক্ষ থেকে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এবং গৌরব নিয়ে এদেরই একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিরগাছা গ্রামের তসলিমা বেগম সারা পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে অসলোতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের সব মহিলার মনে প্রচণ্ড অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তিনি নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানে সুন্দর বাংলায় পুরস্কার গ্রহণ শেষে ভাষণ দিয়েছিলেন। এখন কি এই তসলিমাদের হারিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিশনকে?
গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে :১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর টাংগাইলের জামুর্কী হাইস্কুল মাঠে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পের মহিলা সমাবেশে গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংক গরিব মহিলার ব্যাংক_ এ ব্যাপারে কোনো আপস কখনও হয়নি। এই ব্যাংক মূল আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হয়নি।
গরিব মহিলাদের মালিকানা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বময় ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হবে, গ্রামীণ ব্যাংককে তার মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া। যে কোনো রকম ব্যাখ্যা সৃষ্টি করে এ রকম একটা পদক্ষেপ নেওয়ার অর্থ হবে গ্রামীণ ব্যাংককে অন্য ধরনের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা। যে আইন, যে ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যে কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হতে পেরেছে; সেই বিশ্বজয়ী ফরমুলাকে অবশ্যই অপরিবর্তিত রাখতে হবে।
এই প্রতিষ্ঠান নিজের টাকায় চলে_ না সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়; না কোনো দাতা সংস্থা থেকে টাকা নেয়। পৃথিবীর অসংখ্য ব্যাংকার এই ব্যাংক সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী থাকেন। এই ব্যাংক এ দেশের জন্য পৃথিবীতে একটা স্থায়ী সম্মানের আসন তৈরি করে দিয়েছে। এর প্রতি আমাদের সরকার একটু সদয় হবে, ভাবনাচিন্তা করে কাজ করবে_ এটাই আমরা সবাই আশা করব। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে একটা জাতীয় ঐকমত্য থাকা দরকার। কারণ এটা আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতিষ্ঠান।
গ্রামীণ ব্যাংকের হাজার হাজার কর্মী এবং লক্ষ লক্ষ ঋণগ্রহীতার ৩৫ বছরের সাধনার ফসলকে অতি দ্রুততার সঙ্গে উপলব্ধি করে এই তদন্ত কমিশন এমন সব সুপারিশ তৈরি করবে, যা এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করবে; দুর্বল করবে না, বিপদগ্রস্ত করবে না_ মনে এ রকম আস্থা জাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আমার নিশ্চিত বিশ্বাস, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামোর পরিবর্তন করে সরকারের ভূমিকা বাড়ানো হলে গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। গ্রামীণ ব্যাংকে হাত না দিয়ে সরকার এ রকম আরেকটি বা একাধিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করুক, তাতে কারও আপত্তি থাকবে বলে মনে হয় না। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি বিশাল সম্মানের কারণে পৃথিবীর অজানা-অচেনা দেশে বহু প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় 'গ্রামীণ' নাম ধারণ করেছে। তারা বাংলাদেশকে চেনে এই বাংলা শব্দের মাধ্যমে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে গ্রামীণ ব্যাংক কোন পথে অগ্রসর হবে_ সেটা আঁচ করতেই মনে ভয় ধরে। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাংক। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে নানা রকম সংঘাত এর ভেতর দ্রুত প্রবেশ করার আশঙ্কা দেখা দেবে। গ্রামীণ ব্যাংকের ২৪ হাজার নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রায় প্রত্যেককে ৩০-৪০ হাজার নগদ টাকা নিয়ে রোজ একা একা গ্রামের রাস্তায় চলাফেরা করতে হয়। সে টাকার কতটুকু ব্যাংকের কাছে জমা হবে, আর কত টাকা মাঝখানে হাওয়া হয়ে যাবে_ সেটা নিয়েও মাথায় চিন্তা আসবে। ঘুষ দিয়ে ঋণ পাওয়া, ঘুষ দিয়ে পোস্টিং পাওয়া, পদোন্নতি পাওয়া, জোর যার মুলুক তার ধরনের পরিস্থিতি ক্রমাগত দৈনন্দিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এগুলো সবই দুঃস্বপ্ন। স্বপ্ন যেমন বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, দুঃস্বপ্নও সে রকম বাস্তবে রূপান্তরিত হতে পারে। এটা যাতে না হতে পারে, তার জন্য আমাদের এখন বিশেষ উদ্যোগ দরকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থা, দুর্নীতি নিয়ে এত লেখালেখি, এত গবেষণা হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো বেসরকারি মালিকানায় দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল অতীতে। এখন গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে প্রচণ্ড ভয় ধরেছে।
মিরপুরের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের (বৈঠক) 'কেন্দ্র' পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সবাই সর্বত্র একই শৃঙ্খলার সূত্রে গাঁথা। একই নিয়মানুবর্তিতায় এরা আবর্তিত হয়। সরকারি মেজাজের হাওয়া যদি একবার লাগে; গ্রামীণ ব্যাংকের এতদিনের অর্জন ফুৎকারে মিলিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না। ঐক্য-কর্ম-শৃঙ্খলার মন্ত্রে দীক্ষিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা তাদের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বের হৃদয়কে জয় করেছেন। তাদের কাছ থেকে মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছেঁটে দিলেই কি সব সমস্যার অবসান ঘটবে? সরকার কি ৮৪ লক্ষ পরিবারকে বোঝাতে পারবে_ কেন ঋণগ্রহীতারা তাদের নিজের অর্থে, নিজের শ্রমে গড়া প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হলেন?
দেশের মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকের গরিব মহিলা মালিকরা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের এই পরিণতি হোক। গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের ছেলেমেয়েরা, বিশেষ করে যারা শিক্ষা ঋণ নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য পেশাজীবী হয়ে উঠেছেন, তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, তাদের মায়ের ব্যাংক সরকারের নিয়ন্ত্রণে কিংবা মালিকানায় চলে যাক। কারণ তারা নিজেরাই এখন দলে দলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে 'নতুন উদ্যোক্তা' ঋণ নিয়ে ব্যবসাবাণিজ্যে নেমে পড়ছেন। আমরা দেশের সবাই মিলে যদি সরকারকে বোঝাতে পারি, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামোয় পরিবর্তন দেশের জন্য, গরিবদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না; তাহলে একে ঠেকানো যাবে। কিন্তু আমাদেরকে আমাদের শঙ্কাগুলো প্রকাশ করে সরকারকে বোঝাতে হবে। বোঝাতে হবে যে, এটা কারও জন্য মঙ্গলজনক তো হবেই না, বরং ভয়ঙ্কর পরিণতি বয়ে আনবে। গ্রামীণ ব্যাংক পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশের একটা ব্রান্ড-নেম। এটার কোনো ক্ষতি হোক_ এমন কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
দেশবাসী হিসেবে আপনি রাজনৈতিকভাবে যে দলেরই হোন, পেশাগতভাবে যে পেশারই হোন, যে বয়সীই হোন, যে কোনো অবস্থাতেই থাকুন; আমরা একযোগে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারি যে, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো পরিবর্তন করা মোটেই সঠিক কাজ হবে না। এ কাজ থেকে সরকারকে বিরত রাখার জন্য যে যেভাবে পারি সেভাবে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। নারীর ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে গরিব মানুষের ক্ষমতায়নে যারা বিশ্বাসী, তাদেরকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
আমাদের সবাইকে মিলে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের মালিকানায় যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে পরিচালিত হতে থাকুক; গরিব মহিলাদের সেবায় অব্যাহত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাক_ এটা আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। আমার মনে যে শঙ্কা জেগেছে, সে শঙ্কা যদি আপনার মনেও জেগে থাকে, আপনিও সরকারকে এ পথ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস :নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ
সৃজনশীল যে কর্মপদ্ধতি এবং নতুন ধরনের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সৃষ্টি করে গ্রামীণ ব্যাংক গরিবের কল্যাণমুুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব-স্বীকৃতি পেলো; সে কর্মপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও ফলাফলে সরকার সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলেই কি তদন্ত কমিশন গঠন? অথবা, গ্রামীণ ব্যাংক কি বড় রকমের কোনো অঘটন ঘটিয়েছে, যার জন্য তদন্ত কমিশন বসাতে হয়েছে? গ্রামীণ ব্যাংক এমন কী জনগুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, তার ওপর তদন্ত চালাতে হবে? এ পর্যন্ত যত তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেগুলো বড় রকমের অঘটন ঘটার পর মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগার কারণে সরকার কমিশন গঠন করে তার তদন্ত করেছে। তদন্ত কমিশন গঠনের আইনটাও এ ধরনের পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মেয়াদকাল পর্যালোচনা করে সুপারিশ/মতামত দেওয়ার। এই মেয়াদের আগাগোড়া আমি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে এসেছি। ২০১০ সাল-পরবর্তী সময়টাকে কমিশনের বিবেচনার বাইরে রাখার কারণ বুঝতে পারলাম না। ২০১০ সালের পর কি গ্রামীণ ব্যাংকের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে?
তদন্ত কমিশনের কাছে সাধারণত চাওয়া হয় ঘটনা-উত্তর বিষয়ের কারণ ও সমাধান। এই তদন্ত কমিশনকে দেওয়া হয়েছে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে তার সুবিস্তৃত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানের মৌলিক বিষয়গুলোর ভালোমন্দ যাচাই করে ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের দায়িত্ব। মাত্র তিন মাস সময়ের মধ্যে স্বল্প লোকবল নিয়ে এই বিশাল দায়িত্ব পালন করা তদন্ত কমিশনের জন্য কঠিন কাজ হবে। সময়-স্বল্পতার কারণে কমিশন যদি ভুল পরামর্শ দিয়ে ফেলে, তার পরিণতি বাংলাদেশের গরিব মানুষের জন্য মর্মান্তিকও হতে পারে।
এ ধরনের কাজ সাধারণত সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সেরা গবেষকদের কাছে দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে দেওয়া হয়। যারা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন, পরিচালনা করেছেন; যারা প্রতিষ্ঠানের উপকারভোগী, যারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত, তাদের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে বহু যুক্তিতর্ক দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের বিবেচনার জন্য প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য অংশগুলো প্রতিষ্ঠানের চলমান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে যত্নের সঙ্গে ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হয়।
এই তদন্ত কমিশনের সময়সীমা দেখে মনে হতে পারে, ছুরি-কাঁচি নিয়ে প্রস্তুত হয়ে কাজে নামা ছাড়া তাদের গতি নেই।
গ্রামীণ কোম্পানি :কমিশনের কার্যপরিধিতে গ্রামীণ নামের কোম্পানিগুলো নিয়ে সরকারের অনেক প্রশ্ন। হয়তো সরকারের ধারণা যে, কোম্পানিগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানায় সৃষ্টি হয়েছে। অথচ কোম্পানিগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি বহুবার বলেছি, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা খুবই সহজ। একটা আন্তর্জাতিক মানের অডিট ফার্মকে গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস বের করতে দিলে তারা সব বের করে নিয়ে আসবে। এর জন্য পুরোদস্তুর তদন্ত কমিশন বসানোর দরকার কী? গ্রামীণ ব্যাংক এসব কোনো কোম্পানির মালিক কিনা; গ্রামীণ ব্যাংক এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে কিনা_ এটা দেখার জন্য এত বড় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দরকার কী?
আমি নিজের উদ্যোগে বহু প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছি। আমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের সঙ্গে 'গ্রামীণ' নাম ব্যবহার করে এসেছি। বেশির ভাগই 'মুনাফার জন্য নয়'_ এমন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুসারে এদের কোনো 'মালিক' নেই। কোম্পানি আইনের সেকশন ২৮ দিয়ে বেশির ভাগ কোম্পানি সৃষ্ট। এতে শেয়ার বিক্রির ব্যবস্থা থাকে না (নন-স্টক)। এগুলো থেকে কেউ মুনাফা পায় না। যেহেতু কারও এতে মালিকানা নেই, এবং এগুলো স্পন্সরদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দ্বারা সীমিত; অর্থাৎ কোম্পানি দায়-দেনা শোধ করতে না পারলে স্পন্সররা ব্যক্তিগতভাবে তাদের দেওয়া গ্যারান্টি পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন। কাজেই এমন প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকারও প্রশ্ন আসে না। আর কিছু আছে মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক হচ্ছে এক বা একাধিক 'মুনাফার জন্য নয়' এমন প্রতিষ্ঠান। এখানেও গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থাকার অবকাশ নেই।
গ্রামীণ ব্যাংক নিজে কোনো প্রতিষ্ঠান করেনি। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষমতা ব্যাংককে দেওয়া হয়নি।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টিরও কারণ আছে। গরিবদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঋণ ছাড়াও আরও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শিক্ষার সমস্যা (গ্রামীণ শিক্ষা), স্বাস্থ্যের সমস্যা (গ্রামীণ কল্যাণ), মার্কেটিং সমস্যা (গ্রামীণ চেক), কৃষির সমস্যা (গ্রামীণ কৃষি), মৎস্য ও পশুপালন সমস্যা (গ্রামীণ মৎস্য), প্রযুক্তির সমস্যা (গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কমুনিকেশন্স), বীমার সমস্যা (গ্রামীণ ব্যবসা বিকাশ), বিদ্যুতের সমস্যা, চুলার সমস্যা (গ্রামীণ শক্তি) ইত্যাদি। প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলার জন্য একটি করে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছি। যখনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তার সমাধানের জন্য পৃথক কোম্পানি সৃষ্টি করেছি। এমনভাবে করেছি, যাতে কোম্পানি নিজের আয়ে নিজে চলতে পারে। পরমুখাপেক্ষী হয়ে যেন থাকতে না হয়। একটি কোম্পানির পতন হলে সে যেন আর পাঁচটি কোম্পানিকে টেনে নিচে নামিয়ে ফেলতে না পারে। প্রতিটি কোম্পানিই উদ্ভাবনমূলক। আগে কোনোদিন কাজ করা হয়নি এমনভাবে। নতুন ভঙ্গিতে, নতুন কনসেপ্ট দিয়ে সমস্যার সমাধান পাওয়ার চেষ্টা করেছি। এদের মধ্যে অনেক কোম্পানি পৃথিবীতে দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে ইতিমধ্যেই দাঁড়াতে পেরেছে। গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের মোবাইল ফোন গরিব মহিলাদের হাতে পেঁৗছানোর কনসেপ্ট সারা পৃথিবীর টেলিকম জগতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ শক্তি সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ শক্তির মাধ্যমে এ বছরই ১০ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারে সৌরবিদ্যুৎ পেঁৗছানো সম্পন্ন হবে। দৈনিক গড়ে এক হাজার নতুন পরিবারে সৌরশক্তি স্থাপন করছে এ কোম্পানি। এই কোম্পানিগুলোতে কারও ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। এগুলো হলো 'ট্রাস্ট'-এর মতো প্রতিষ্ঠান। মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। কারও জন্য মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব কোম্পানি সৃষ্টি করা হয়নি। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি।
গ্রামীণ বা অন্য কোনো নামের কোনো প্রতিষ্ঠানে আমার কোনো শেয়ার বা মালিকানা নেই। গ্রামীণ ব্যাংকেও আমার শেয়ার নেই। কাজেই কোনো কোম্পানির কোনো মুনাফার অংশ আমার কাছে আসার সুযোগ কখনও ছিল না, আজও নেই। কোনো গ্রামীণ কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতি বা পরিচালনার জন্য আমি কোনো সম্মানী বা ভাতা কোনো সময় নেইনি।
কমিশনের কার্যপরিধির আরেকটি বিষয় হলো :'গ্রামীণ' প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইনকানুন খতিয়ে দেখা। ("ডযধঃ ধৎব ঃযব ংঁপপবংংরড়হ ৎঁষবং ভড়ৎ ড়হিবৎংযরঢ় ধহফ সধহধমবসবহঃ ড়ভ ঃযবংব রহংঃরঃঁঃরড়হংচ্). মজার কথা হলো, এর প্রতিটি কোম্পানিই কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধনকৃত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকেই তার পরিচালনা পরিষদের গঠন ও পুনর্গঠনের নিয়মাবলি সুনির্দিষ্ট করা থাকে। শেয়ারের উত্তরাধিকার কীভাবে নির্ধারণ করবে, তার জন্য প্রচলিত আইনই যথেষ্ট হওয়ার কথা। বাবার শেয়ার ছেলেমেয়েরা পাবে_ এ রকমই হয়। তাছাড়া গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন শেয়ারের বালাই নেই, সেখানে মালিকানার উত্তরাধিকার কীভাবে প্রাসঙ্গিক হবে, কিংবা অর্থবহ হবে_ সেটাও বুঝতে পারছি না। তদন্ত কমিশন বসিয়ে এখন মালিকানার উত্তরাধিকার আইন সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়াতে এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের মনে ভুল চিন্তা জেগে ওঠা কি অন্যায় হবে?
তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি দেখলে মনে হবে, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সরকারের প্রচুর আগ্রহ। একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মালিকানার উত্তরাধিকার (এমনকি সে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমালিক যদি থেকেও থাকে) নিয়ে সরকারকে কেন এত চিন্তিত হতে হলো যে, তার জন্য একটা তদন্ত কমিশনকে দায়িত্ব দিতে হলো_ সেটা সহজে বোধগম্য হচ্ছে না। মালিকানার যে সম্পর্ক এগুলোর প্রতিষ্ঠালগ্নে ছিল না, যে সম্পর্ক এখনও নেই, বাংলাদেশ ব্যাংকের বহু বছর ধরে করে যাওয়া অডিট রিপোর্টেও কোনো দিন যার উল্লেখ করা হয়নি, আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদেও যার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন জাগেনি; সেই সম্পর্ক উদ্ঘাটনের জন্য পুরোদস্তুর একটি তদন্ত কমিশন বসানোতে অবাক লাগারই কথা। বিশেষ করে যে কমিশনের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশগুলো দেশে এবং বিদেশে বহুলভাবে এবং বহুদিন ধরে আলোচিত হতে থাকবে।
পটভূমি :গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু ১৯৭৬ সালে। চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে। ৮৫৬ টাকা নিজের পকেট থেকে ঋণ দিয়ে। এর পর আমি জামানতকারী হয়ে জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ঋণ দেওয়া শুরু করলাম। ১৯৭৮ সালে কৃষি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুজ্জামানের সহযোগিতায় এটাকে রূপান্তরিত করা হলো কৃষি ব্যাংকের একটি প্রকল্প হিসেবে। আমার প্রস্তাব গ্রহণ করে তিনি আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ শাখা প্রতিষ্ঠা করে দিলেন জোবরা গ্রামে 'কৃষি ব্যাংক, পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা' নামে। ১৯৭৯ সালে এটা আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মি. গঙ্গোপাধ্যায়ের আগ্রহে ও আমার প্রস্তাবে। কৃষি ব্যাংকের প্রকল্প থেকে এবার হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প। টাংগাইল জেলাজুড়ে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হলো। সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এই প্রকল্পের অংশীদার হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে আমার অমত সত্ত্বেও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় শ্যামলীতে স্থানান্তর করলাম। ১৯৮৩ সালে আমার প্রস্তাবে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উৎসাহে এবং রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থনে 'গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩' প্রণয়ন ও জারি করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প 'গ্রামীণ ব্যাংক'-এ রূপান্তরিত হলো। নতুন আইন কাঠামোতে ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস নিয়ে আমি ঘোরতর আপত্তি তুললাম। এতে সরকারের মালিকানা রাখা হয়েছে ৬০%। অর্থাৎ এটাকে সরকারি ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমি এই কাঠামো নিয়ে অগ্রসর হতে নারাজ হলাম। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেন, শিগগিরই মালিকানা পাল্টে একে বেসরকারি ব্যাংক বানিয়ে দেবেন। কিন্তু সে কাজটি করার সুযোগ পেলেন না। তিনি অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন। তার উত্তরসূরি সাইদুজ্জামান ৮ জুলাই, ১৯৮৬ মালিকানা বিন্যাস পরিবর্তন করে অধ্যাদেশ সংশোধন করে দিলেন। এবার মালিকানা হলো ৭৫% গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের, সরকারের ২৫%। এ অনুসারে বোর্ডের গঠনও পরিবর্তিত হলো_ ৯ জন ঋণগ্রহীতাদের প্রতিনিধি, ৩ জন সরকারের, পদাধিকারবলে থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ৩১ জুলাই ১৯৯০ সালে আরেকটি সংশোধন হলো। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেবে পরিচালনা পর্ষদ_ সরকার নয়। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক এভাবেই চলে আসছে। বর্তমানে ঋণগ্রহীতাদের শেয়ারের অংশ ৯৭ শতাংশ। সরকারের ৩ শতাংশ। সরকারের শেয়ারের পরিমাণ ৩ শতাংশে চলে আসার কারণে সরকার শুরুতে যে মূলধন দিয়েছিল, তা কখনও বাড়ায়নি। এদিকে ঋণগ্রহীতা ক্রমেই বেড়েছে। তারা প্রত্যেকে শেয়ার কিনেছেন প্রতিটি ১০০ টাকায়। একজন ঋণগ্রহীতার সঞ্চয়ী হিসাবে টাকার পরিমাণ ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলে ১০০ টাকা দিয়ে একটা শেয়ার কিনতে পারেন এবং তিনি কেনেনও। ফলে তাদের শেয়ার বেড়েই চলেছে। এই কারণেই তাদের শেয়ার ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি মূলধন না বাড়ায়, আর ঋণগ্রহীতাদের শেয়ার যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে সরকারের শেয়ারের আনুপাতিক অংশ ক্রমান্বয়ে কমে যেতে থাকবে।
৮৫৬ টাকা দিয়ে যে উদ্যোগের শুরু হয়েছিল, এখন সে ব্যাংক ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতাকে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব সঞ্চয়ী তহবিলে এই মুহূর্তে জমা আছে সাত হাজার কোটি টাকা। গরিব মহিলারা নিজস্ব সঞ্চয়ী আমানতে সাত হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছে। শুধু তাই নয়; এ টাকার পরিমাণ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাদের নিজস্ব পেনশন ফান্ড আছে। তাদের ছেলেমেয়েদের পৌনে তিনশ' কোটি টাকা শিক্ষা ঋণ দিয়েছে উচ্চশিক্ষার জন্য। ১৯৯০ সালের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ব্যাংকের মালিকানা ঋণগ্রহীতাদের হাতে তুলে দেওয়ার কারণে এবং সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে ন্যস্ত করার কারণেই গ্রামীণ ব্যাংক একটি মজবুত ও সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পেরেছে।
গ্রামীণ ব্যাংককে অনেকে অন্যান্য ব্যাংকের মতো মনে করেন বলে এর সম্বন্ধে ভুল সিদ্ধান্তে চলে আসেন। তারা মনে করেন, এই ব্যাংকের একমাত্র বৈশিষ্ট্য, তারা ছোট অংকের ঋণ দেয়। তা মোটেই নয়। এটা পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যা বিন্দুমাত্র জামানত না নিয়ে চলে। এতে কোনো জমাজমির দলিল লাগে না। এই ব্যাংক তার সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়। প্রতি সপ্তায় তার কাছ থেকে ঋণের কিস্তি নিয়ে আসে। একটা ঋণ শোধ হলে আবার ঋণ নিতে কোনো সময় লাগে না। ঋণগ্রহীতা মারা গেলে কিংবা তার স্বামী মারা গেলে অবশিষ্ট ঋণ আর পরিশোধ করতে হয় না। অথচ আবার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ঋণ নিতে পারেন। ঋণগ্রহীতা ইন্তেকাল করলে জানাজার জন্য অনুদান পান। সব ঋণগ্রহীতার ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ঋণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক ঋণগ্রহীতা নিজেই ব্যাংকের মালিক। এটা জগতের মূল ব্যাংকিং কর্মপদ্ধতির একেবারে উল্টো কর্মপদ্ধতি। এ জন্যই গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের কাছে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যেতে পেরেছে। এ জন্যই এই ব্যাংকের এত গুরুত্ব।
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে তদন্ত কমিশনের করণীয় :তদন্ত কমিশনের যে কার্যপরিধি দেওয়া হয়েছে, তাতে শঙ্কা জাগে যে, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চায়। কমিশনের কার্যপরিধিতে আছে :(ক) ব্যাংকের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে এর কর্মক্ষমতা, দুর্বলতা এবং এর সামনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা। (খ) ব্যাংকের সুশাসন, বিশেষ করে ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান করা। (গ) গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস, বোর্ড প্রতিনিধিত্ব, বোর্ড সদস্যদের যোগ্যতা নির্ধারণ সম্পর্কে তাদের মতামত দেওয়া।
কর্মদক্ষতা, দুর্বলতা যাচাই করার মাপকাঠি কী হবে?
কার্যপরিধির যে অংশে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মদক্ষতা, দুর্বলতা ও প্রতিবন্ধকতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে, সে সম্বন্ধে কয়েকটি প্রশ্ন সবার মনে জাগবে। কমিশন কোন মাপকাঠিতে এ বিচার করবে? তারা কি ঋণ আদায়ের হার, সুদের হার, ব্যাংকের লাভ-লোকসান, কর্মীপ্রতি কতজন ঋণগ্রহীতা দেখাশোনার দায়িত্ব, এমআইএস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক দক্ষতা, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, অর্থ সংস্থান, বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি, কতজন দরিদ্র মহিলার কাছে ঋণ সুবিধা নিয়ে যেতে পেরেছে, তাদের মধ্যে কত পরিমাণ সঞ্চয় সৃষ্টি করতে পেরেছে_ এগুলি বিচার করবে, নাকি অন্য কোনো মাপকাঠি নিয়ে আসবে? তারা কার সঙ্গে তুলনা করে তাদের মতামত স্থির করবে? তারা কি কাল্পনিক একটি যোগ্যতা স্থির করে তার সঙ্গে বিচার করে দেখবে, নাকি বাংলাদেশের অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে গ্রামীণ ব্যাংকের অবস্থান নির্ণয় করবে? নাকি তারা গ্রামীণ ব্যাংক যেহেতু একটি ব্যাংক, সে কারণে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করে দেখবে_ যেমন কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক বা কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংক?
বাস্তবতার নিরিখে যাচাই না করে মনগড়া মতামত দিতে গেলে কমিশনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতা
পাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর গ্রামীণ ব্যাংক অডিট ও পরিদর্শন করে। তাদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের ভালোমন্দ সব খবর জমা আছে। তাদের নিষ্ঠাবান, দক্ষ কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে শাখায় শাখায় ও প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন কোনো চাঞ্চল্যকর খবর তুলে ধরেনি, যার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক বেকায়দায় পড়ে গেছে। তারা প্রতি বছর যেসব বিষয়ে আপত্তি তোলেন, গ্রামীণ ব্যাংক তার ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। তারা বছরের পর বছর জানিয়ে এসেছেন যে, তাদের কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে অনিষ্পত্তিকৃত কোনো বিষয় অবশিষ্ট নেই।
একবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছিল।
২০০০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট টিম আমার অবসর গ্রহণের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমরা বোঝালাম যে, গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব নিয়মনীতিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বয়সসীমা নির্ধারণ করা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক জানালো যে, আপনারা আপনাদের সব কাগজপত্র নিয়ে আসুন, আমরা পরীক্ষা করে দেখব। কাগজপত্র দেওয়ার পর জানুয়ারি ১৫, ২০০১ তারিখে তারা যৌথ বৈঠক ডাকে। সেখানে সিদ্ধান্ত হলো, গ্রামীণ ব্যাংক কয়েকটি দলিলের কপি সরবরাহ করলে তাদের আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। গ্রামীণ ব্যাংক তা সরবরাহ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এই আপত্তিটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গ্রহণ করে, তখন আমার বয়স ৬১ বছর ৬ মাস। আমার বয়স ৬০ পার হলেও সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ঘটনা-উত্তর অনুমোদন নেওয়ার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেনি। পরবর্তী বছরগুলোর অডিট প্রতিবেদনে অনিষ্পত্তিকৃত বিষয়গুলোর মধ্যেও আর কোনো দিন এই বয়সসীমার প্রশ্নটি ওঠেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথাসময়ে প্রশ্নটি তুলেছিল। আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি। তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংক জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর দেশের সব চাইতে খ্যাতনামা দুটি অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত হয়ে এসেছে। তারা আমাদের হিসাবপত্র এবং ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের বলে বরাবর আমাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সুশাসন, বিশেষ করে ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ চাওয়া হয়েছে তদন্ত কমিশনের কাছে।
এত বছর পর, এত অডিট রিপোর্টের পর, এত গবেষণার পর, এত পুরস্কার-সম্মান লাভের পর গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হঠাৎ সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠাতে আমার মতো অনেকে নিশ্চয়ই বিচলিত বোধ করবে; বিশেষত আমাদের মতো দেশে; যেখানে এই গুণাবলির অনুপস্থিতি নিয়ে বিচারে বসলে যারা অনায়াসে তালিকার শীর্ষস্থানগুলো দখল করে রাখবে, তাদের ব্যাপারে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন না করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সরকারের এই আগ্রহ অনেককে বিস্মিত করেছে।
যে চারজন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করতে পারেন। তারা যদি ক্ষুদ্রঋণ জগতের সঙ্গে পরিচিত না হন, তাহলে সমস্যাটা আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ক্ষুদ্রঋণের জন্ম বাংলাদেশে হলেও এই কর্মকাণ্ড এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ধনী-দরিদ্র এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চলছে না। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট সৃষ্টি হয়েছে। বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ভাষায় বহু প্রকাশনা একে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়। এ দেশে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করে পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন_ এমন অনেক ব্যক্তিত্ব এখানে আছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর নজরদারি করার দায়িত্ব পালন করে। তাছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পৃথক রাষ্ট্রীয় সংস্থা মাইক্রোফাইনান্স রেগুলেটরি অথরিটি রয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ সরবরাহ করার জন্য বহু বছরের মূল্যবান অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফ রয়েছে। এত গবেষক, এত প্রশাসক, এত বিশেষজ্ঞ থাকতে এই চারজনের ওপর এত বড় দায়িত্ব কেন চাপানো হলো_ এটা বোঝা বড় কষ্টকর।
সরকার কমিশনের সামনে যেসব বিষয় উপস্থাপন করেছে, তাতে একটা দুশ্চিন্তা মনে জাগে_ সরকার হয়তো চাইছে, গ্রামীণ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে 'দুর্বল'_ এটা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাকে বলুক। কারণ সরকার চাইছে, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের নিজস্ব চিন্তা অনুসারে চলুক। বর্তমান আইন অনুসারে এটা মালিকদের সিদ্ধান্তে চলে। সরকারের সিদ্ধান্তে চলতে হলে মালিকানা বিন্যাসে পরিবর্তন দরকার। সরকার হয়তো আশা করছে, কমিশন এ রকম সুপারিশ দেবে। মালিকানা পরিবর্তন হলে বোর্ড পরিবর্তন হবে। ফলে সবকিছুর পরিবর্তন হবে।
মালিকানা পরিবর্তন না করেও সরকার এমনভাবে আইন সংশোধন করতে পারে যে, বোর্ডের সর্বময় ক্ষমতা আর থাকবে না। বোর্ড যেমনি আছে তেমনি থাকবে, কিন্তু সব ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
কার্যপরিধি পড়ে এ ধরনের শঙ্কা মনে জাগে। আমি আশা করব, আমার এই সব শঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক প্রমাণিত হবে। তবু সময় থাকতে শঙ্কাগুলো সবার সামনে নিয়ে আসা উচিত মনে করে বিষয়গুলো তুলে ধরছি।
২৩ এপ্রিল, ২০১২ অর্থ মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্যে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, 'গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং হবেও না।' এই পরিষ্কার বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এর মাত্র কয়েক দিন পর জারিকৃত তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি দেখে আবার শঙ্কাটি বিপুলভাবে চাড়া দিয়ে উঠেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা :গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু থেকে অল্প অল্প সঞ্চয় জমিয়ে গরিব মহিলারা গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার কিনেছেন। এ ব্যাংক তাদের নিজস্ব ব্যাংক জেনে তারা এটাকে মজবুত রাখার জন্য প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আজ তাদের মালিকানা নিয়ে তদন্ত কমিশনের কাছে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় গরিব মহিলারা শঙ্কিত বোধ করবেন। একটা বড় নির্দয় প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে কমিশনের সামনে। কমিশন কী জবাব দেয়_ তা যেমন ৮৪ লক্ষ গরিব মহিলা শেয়ার মালিক লক্ষ্য করবেন, তেমনি দেশবাসীও লক্ষ্য করবেন। নারীর ক্ষমতায়নে আগ্রহী পৃথিবীর সব মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে এই উত্তরের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
পরিচালনা পর্ষদে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ব্যাপারেও কমিশনের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। এটাও একটা দুর্ভাগ্যজনক প্রশ্ন। তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক_ এটাই তাদের একমাত্র যোগ্যতা। গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই নিরক্ষর মহিলা। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বরাবরই গুণী ব্যক্তিরা চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। যেমন প্রফেসর ইকবাল মাহমুদ, প্রফেসর রেহমান সোবহান, ড. আকবর আলি খান, প্রফেসর কায়সার হোসেন, তবারক হোসেন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এদের কেউ বলবেন না যে, মহিলাদের প্রতিনিধিরা যোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো অংশে খাটো ছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সব মহিলা এবং সব সদস্যের পক্ষ থেকে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এবং গৌরব নিয়ে এদেরই একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিরগাছা গ্রামের তসলিমা বেগম সারা পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে অসলোতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের সব মহিলার মনে প্রচণ্ড অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তিনি নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানে সুন্দর বাংলায় পুরস্কার গ্রহণ শেষে ভাষণ দিয়েছিলেন। এখন কি এই তসলিমাদের হারিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিশনকে?
গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে :১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর টাংগাইলের জামুর্কী হাইস্কুল মাঠে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পের মহিলা সমাবেশে গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংক গরিব মহিলার ব্যাংক_ এ ব্যাপারে কোনো আপস কখনও হয়নি। এই ব্যাংক মূল আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হয়নি।
গরিব মহিলাদের মালিকানা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বময় ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ হবে, গ্রামীণ ব্যাংককে তার মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া। যে কোনো রকম ব্যাখ্যা সৃষ্টি করে এ রকম একটা পদক্ষেপ নেওয়ার অর্থ হবে গ্রামীণ ব্যাংককে অন্য ধরনের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা। যে আইন, যে ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যে কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হতে পেরেছে; সেই বিশ্বজয়ী ফরমুলাকে অবশ্যই অপরিবর্তিত রাখতে হবে।
এই প্রতিষ্ঠান নিজের টাকায় চলে_ না সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়; না কোনো দাতা সংস্থা থেকে টাকা নেয়। পৃথিবীর অসংখ্য ব্যাংকার এই ব্যাংক সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী থাকেন। এই ব্যাংক এ দেশের জন্য পৃথিবীতে একটা স্থায়ী সম্মানের আসন তৈরি করে দিয়েছে। এর প্রতি আমাদের সরকার একটু সদয় হবে, ভাবনাচিন্তা করে কাজ করবে_ এটাই আমরা সবাই আশা করব। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে একটা জাতীয় ঐকমত্য থাকা দরকার। কারণ এটা আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতিষ্ঠান।
গ্রামীণ ব্যাংকের হাজার হাজার কর্মী এবং লক্ষ লক্ষ ঋণগ্রহীতার ৩৫ বছরের সাধনার ফসলকে অতি দ্রুততার সঙ্গে উপলব্ধি করে এই তদন্ত কমিশন এমন সব সুপারিশ তৈরি করবে, যা এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করবে; দুর্বল করবে না, বিপদগ্রস্ত করবে না_ মনে এ রকম আস্থা জাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আমার নিশ্চিত বিশ্বাস, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামোর পরিবর্তন করে সরকারের ভূমিকা বাড়ানো হলে গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। গ্রামীণ ব্যাংকে হাত না দিয়ে সরকার এ রকম আরেকটি বা একাধিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করুক, তাতে কারও আপত্তি থাকবে বলে মনে হয় না। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি বিশাল সম্মানের কারণে পৃথিবীর অজানা-অচেনা দেশে বহু প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় 'গ্রামীণ' নাম ধারণ করেছে। তারা বাংলাদেশকে চেনে এই বাংলা শব্দের মাধ্যমে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে গ্রামীণ ব্যাংক কোন পথে অগ্রসর হবে_ সেটা আঁচ করতেই মনে ভয় ধরে। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাংক। সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে নানা রকম সংঘাত এর ভেতর দ্রুত প্রবেশ করার আশঙ্কা দেখা দেবে। গ্রামীণ ব্যাংকের ২৪ হাজার নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রায় প্রত্যেককে ৩০-৪০ হাজার নগদ টাকা নিয়ে রোজ একা একা গ্রামের রাস্তায় চলাফেরা করতে হয়। সে টাকার কতটুকু ব্যাংকের কাছে জমা হবে, আর কত টাকা মাঝখানে হাওয়া হয়ে যাবে_ সেটা নিয়েও মাথায় চিন্তা আসবে। ঘুষ দিয়ে ঋণ পাওয়া, ঘুষ দিয়ে পোস্টিং পাওয়া, পদোন্নতি পাওয়া, জোর যার মুলুক তার ধরনের পরিস্থিতি ক্রমাগত দৈনন্দিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এগুলো সবই দুঃস্বপ্ন। স্বপ্ন যেমন বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, দুঃস্বপ্নও সে রকম বাস্তবে রূপান্তরিত হতে পারে। এটা যাতে না হতে পারে, তার জন্য আমাদের এখন বিশেষ উদ্যোগ দরকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থা, দুর্নীতি নিয়ে এত লেখালেখি, এত গবেষণা হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো বেসরকারি মালিকানায় দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল অতীতে। এখন গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে প্রচণ্ড ভয় ধরেছে।
মিরপুরের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের (বৈঠক) 'কেন্দ্র' পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সবাই সর্বত্র একই শৃঙ্খলার সূত্রে গাঁথা। একই নিয়মানুবর্তিতায় এরা আবর্তিত হয়। সরকারি মেজাজের হাওয়া যদি একবার লাগে; গ্রামীণ ব্যাংকের এতদিনের অর্জন ফুৎকারে মিলিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না। ঐক্য-কর্ম-শৃঙ্খলার মন্ত্রে দীক্ষিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লক্ষ ঋণগ্রহীতা তাদের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বের হৃদয়কে জয় করেছেন। তাদের কাছ থেকে মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছেঁটে দিলেই কি সব সমস্যার অবসান ঘটবে? সরকার কি ৮৪ লক্ষ পরিবারকে বোঝাতে পারবে_ কেন ঋণগ্রহীতারা তাদের নিজের অর্থে, নিজের শ্রমে গড়া প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হলেন?
দেশের মানুষ বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকের গরিব মহিলা মালিকরা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের এই পরিণতি হোক। গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের ছেলেমেয়েরা, বিশেষ করে যারা শিক্ষা ঋণ নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য পেশাজীবী হয়ে উঠেছেন, তারা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, তাদের মায়ের ব্যাংক সরকারের নিয়ন্ত্রণে কিংবা মালিকানায় চলে যাক। কারণ তারা নিজেরাই এখন দলে দলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে 'নতুন উদ্যোক্তা' ঋণ নিয়ে ব্যবসাবাণিজ্যে নেমে পড়ছেন। আমরা দেশের সবাই মিলে যদি সরকারকে বোঝাতে পারি, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামোয় পরিবর্তন দেশের জন্য, গরিবদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না; তাহলে একে ঠেকানো যাবে। কিন্তু আমাদেরকে আমাদের শঙ্কাগুলো প্রকাশ করে সরকারকে বোঝাতে হবে। বোঝাতে হবে যে, এটা কারও জন্য মঙ্গলজনক তো হবেই না, বরং ভয়ঙ্কর পরিণতি বয়ে আনবে। গ্রামীণ ব্যাংক পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশের একটা ব্রান্ড-নেম। এটার কোনো ক্ষতি হোক_ এমন কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
দেশবাসী হিসেবে আপনি রাজনৈতিকভাবে যে দলেরই হোন, পেশাগতভাবে যে পেশারই হোন, যে বয়সীই হোন, যে কোনো অবস্থাতেই থাকুন; আমরা একযোগে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারি যে, গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো পরিবর্তন করা মোটেই সঠিক কাজ হবে না। এ কাজ থেকে সরকারকে বিরত রাখার জন্য যে যেভাবে পারি সেভাবে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। নারীর ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে গরিব মানুষের ক্ষমতায়নে যারা বিশ্বাসী, তাদেরকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
আমাদের সবাইকে মিলে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের মালিকানায় যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবে পরিচালিত হতে থাকুক; গরিব মহিলাদের সেবায় অব্যাহত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাক_ এটা আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। আমার মনে যে শঙ্কা জেগেছে, সে শঙ্কা যদি আপনার মনেও জেগে থাকে, আপনিও সরকারকে এ পথ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস :নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
May
(3361)
-
▼
May 31
(116)
- এই দিনে-সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৫৫ বছর by সৈয়দা আখতার জ...
- কালের পুরাণ-বাড়াবাড়ির হরতাল, কাড়াকাড়ির রাজনীতি by ...
- অভিমত ভিন্নমত
- কমিউনিটি রেডিও-প্রান্তিক মানুষের গণমাধ্যম by আশ্রা...
- সাধারণ মানুষের তাহলে কী হবে?-আওয়ামী লীগ নেতাদের নি...
- দেশ ও জনগণের স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন-কয়লা উত্...
- চারদিক-ডলুরার সেই পবিত্রভূমি by মৃত্যুঞ্জয় রায়
- শিক্ষকতা-শিক্ষকদের একাল ও সেকাল by গোলাম মুরশিদ
- হাওর-দ্রুত নদী খনন, বাঁধ উঁচুকরণ জরুরি
- বাঘা তেঁতুল-হরতাল, পুলিশ ও নারী by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- অরণ্যে রোদন-একটি নিষ্ঠুর কল্পকাহিনী এবং... by আনিস...
- পর্যটনের দিক উন্মোচন সময়ের প্রয়োজন-পর্যটনশিল্পের ব...
- মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিশেষ উদ্যোগ দরকার-চাল ডাল ত...
- চারদিক-‘আম-কাঠলি’ by আকমল হোসেন
- দূর দেশ-ভারতে হিটলার কেন জনপ্রিয় by আলী রীয়াজ
- গোধূলির ছায়াপথে-বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে.. by ম...
- কলকাতার চিঠি-পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরে পা by...
- তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া-হরতাল পালন, না ভীতি উদযাপন? ...
- সরল গরল-মাই লর্ড মেয়র মন্জুর আলম by মিজানুর রহমান খান
- বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা অপরিণামদর্শিতা-ভিস্যাট বন্ধ
- সংসদই হোক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু-হরতালে বাড়াবাড়ি
- মানুষের মুখ-সুখেই আছে পলাশ by কিঙ্কর আহসান
- স্বাস্থ্যসেবা-দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি এতই খারাপ...
- কিরগিজস্তান-মধ্য এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার শুরু এখান থে...
- চট্টগ্রামের নির্বাচন-কে হারল—ব্যক্তি না দল? by বিশ...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার-পাটের সাফল্য কৃষির অন্যান্য ক্ষেত...
- একক কর্তৃত্ব নয়, ভারসাম্য থাকা জরুরি-বেসরকারি বিশ্...
- জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকুক-বিএনপির হরতাল
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-আলোকদীপ্ত শহীদজননী জাহানারা ইমাম by স...
- সমাজ-ইভ টিজিং নাকি অ্যাডাম টেররাইজিং? by আইরিন খান
- শিক্ষা-শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাচার by আতাউর রহমান
- সুশাসন-চট্টগ্রামের নতুন মেয়রের জন্য কিছু পরামর্শ b...
- কালের পুরাণ-‘জনাব বিএনপি’, হরতালের পর কী? by সোহরা...
- সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের প্রয়োগই সমাধান-মাদকের বিস...
- মন্ত্রীরা জনস্বার্থের বিপক্ষে দাঁড়ালে কীভাবে হবে?-...
- চলতি পথে-পথ আর অন্ধকারের পাঁচালি by দীপংকর চন্দ
- বিচারের বাণী-আদিবাসী নাম-বিতর্ক by মোহাম্মদ গোলাম ...
- ধর্ম-মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গণসচেতনতা by মুহাম্মদ আব...
- বাজেট-বাস্তবায়নেই সাফল্য by মামুন রশীদ
- সময়চিত্র-কোটা (৫৫) বনাম মেধা (৪৫) by আসিফ নজরুল
- সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্য...
- যাত্রা তব শুরু হোক-মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন
- চারদিক-আমের রাজ্যে একদিন by শর্মিলা সিনড্রেলা
- চট্টগ্রামের নির্বাচন-মাঠের বার্তা কি আওয়ামী লীগ শু...
- বাজেট-আরও দুর্দিনে দুগ্ধশিল্প by শাইখ সিরাজ
- জনসংখ্যা-যমদূত সমাচার by সৈয়দ আব্দুল হাদী
- মত দ্বিমত-তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে...
- মত দ্বিমত-দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনও অসম্ভ...
- ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থানই কাম্য-অশান্ত ঢাকা বিশ্ব...
- রাজধানী ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে হবে-ড্যাপ বাস্তবায়ন...
- গ্রামীণব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় ড. ইউনূস
- কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫ বাংল...
- মন্ত্রীর সফরের সঙ্গে বিদ্যালয় ছুটির সম্পর্কটা কী?-...
- যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষাই কি এর উদ্দেশ্য?-জামায়াতের হরতাল
- চারদিক-একখণ্ড হীরা! by অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত
- ব্লগ থেকে...
- ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল-নিরাপদ সড়ক গড়া অবশ...
- সাঙ্গু হতে পারে মা মাছের নতুন প্রজননক্ষেত্র
- সদরঘাট কালীবাড়ি মোড়-পুরো সড়কই যেন বাজার by নিয়াজ ত...
- গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা-সবার উপযোগী ভিএএস নীতিমালা ...
- সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের by নিজ...
- বলিউড-আবারও সোনাক্ষী
- চলচ্চিত্র উৎসব-কান সুধা
- আজম খান স্মরণে-গুরু তোমায় সালাম by আইয়ুব বাচ্চু
- নারী নির্যাতন-রুমানা, আমাদের ক্ষমা করুন
- ছাত্ররাজনীতি-কেমন ছাত্রলীগ চাই by মোঃ আল্লামা ইকবাল
- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-ভবিষ্যৎমুখী দলের বি...
- জাপানি দেশপ্রেম by জাহিরুল ইসলাম
- প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-আওয়ামী লীগকে এখন সামনে চোখ রাখতে...
- নারী পুলিশ ব্যাটালিয়ন-যাত্রা হোক শুভ ও সার্থক
- স্বপ্নের পদ্মা সেতু-স্বার্থান্ধদের ঠেকাতে হবে
- নারী নির্যাতন-রুমানা, আপনার জন্য by শম্পা ইফতেখার
- উন্নয়ন-দারিদ্র্যই আমাদের পুঁজি by এম আবদুল হাফিজ
- খেসারত by আনোয়ার হোসেন
- সমাজ-মধ্য আয়মুখী দেশে হতদরিদ্র দলিতরা by আলতাফ পারভেজ
- আলোর ইশারা-জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনা...
- রুমানা মঞ্জুর-এ দৃষ্টিহীনতা খুলুক অন্যদের দৃষ্টি
- ভোটার তালিকা-হালনাগাদের কাজ হোক ত্রুটিমুক্ত
- যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার-লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন...
- বাসের ধাক্কায় ঝরে গেল ১২ প্রাণ-গ্রামে যাওয়ার পথে শ...
- বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব মালয়েশিয়ার
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন-পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো ...
- মুষড়ে পড়েছেন বিচারপ্রার্থী নারী-আট পুলিশ কর্তাকে তলব
- নির্যাতিত সাংবাদিকরা অজানা আতঙ্কে by রাব্বী রহমান
- কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন-মিনিকেটের গুমর ফাঁস by...
- আগের মন্ত্রীর সব 'না' বর্তমান মন্ত্রীর 'হ্যাঁ by আ...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থিতা নিশ্চিত হলো রমনির
- ভিসা জালের অভিযোগ: আপাতত লোক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-কাফির ও মুনাফিকদের পরিহার করে ন...
- শেয়ারবাজারে অস্থিরতা-এখনই সাবধানতা অবলম্বন জরুরি
- পুলিশের নিষ্ঠুরতা-এ আচরণ কাম্য নয়
- মানবাধিকার-পুলিশও আইন এবং জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয় by ...
- ঢাকা নগর-কার দৃষ্টি আকর্ষণ করব, প্রধানমন্ত্রীর? by...
- ভিসা জালের অভিযোগ: আপাতত লোক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ...
- গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ড. ইউনূস
- ব্যবসায়ীকে খুনিদের হাতে তুলে দিল পুলিশ! by মাসুদ রানা
- বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-জেনেশুনে নয় বিষপান by আরাফাত...
- সত্যের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা আত্মঘাতী by লুৎফর রহমান রনো
- অধিকার-গ্রাম পুলিশের অনশন আমাদের লজ্জিত করে by এসক...
- আন্তর্জাতিক-লাদেনের মৃত্যু ও আফগান যুদ্ধ by জগ্লুল...
- সমকালীন প্রসঙ্গ-রুমানার জন্য দুঃখবোধ by তারেক শামস...
- বাবা কাহিনী by মুফতি এনায়েতুল্লাহ
- শুল্ক প্রস্তাব-দেশীয় মুদ্রণশিল্প কতটা সুফল পাবে? b...
- জাতীয় সম্পদ-লুণ্ঠনজীবী সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের মুখ...
- ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা-শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত ...
- আকাশে শান্তির নীড়-চাই মাটিতে অশান্তির নিরাময়
- সমকালীন প্রসঙ্গ-গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ :আমার শঙ্...
- চিলমারী কত দূর! by নাহিদ নলেজ
- বাজেটে সৃজনশীল বইয়ের জন্য বরাদ্দ চাই
- রাজনীতি-দু'জনেই বদলাতে পারেন দেশের ভাগ্য by মাসুদা...
- প্রত্যাশা-মঙ্গল-আলোকে আলোকিত হোক জাতি by সৈয়দ আবুল...
- হবিগঞ্জে দীঘি ভরাট-উপেক্ষিত পরিবেশ
- আদালত প্রাঙ্গণে নারী নির্যাতন-পুলিশ কি সংযত হবে না?
- জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণা by ড. মো. তোফাজ্জল ই...
- সাদাকালো-বাজারদর, সিন্ডিকেট ও সয়াবিন কথা by আহমদ রফিক
-
▼
May 31
(116)
-
▼
May
(3361)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment