সুন্দরবন বিপর্যয়- তেল সরানোর কাজে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব বৃটিশ কোম্পানির

বৃটিশ একটি প্রতিষ্ঠান তেল সরানোর কাজে বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এ কথা জানিয়েছেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে তিনি বলেন, লন্ডনভিত্তিক একটি দল আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা রোববার ঢাকায় এসে পৌঁছুবে বলে আশা করছি। আমরা তাদের নিয়ে বৈঠক করব। আশা করি, এ বৈঠকে আমরা ভাল একটা ফল পাবো। তারা তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কি ধরনের সাহায্য করতে পারবে আমাদের সে প্রস্তাব দেবে। আমরা যদি দেখি সেটা উপযোগী আমরা সেই কাজটি করার জন্য তাদের সুযোগ করে দেবো। ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বা এ কাজে তাদের অভিজ্ঞতা আছে কিনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র একটা প্রস্তাব তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টা রোববারের সভায় আমরা জানতে পারবো। প্রতিষ্ঠানটি নিজেরাই এ প্রস্তাব দিয়েছে এবং তারা এ কাজ করে থাকে জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেছে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, মূলত তাদের কাছে খবরই দেরিতে এসেছে। সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেছে এটা সঠিক নয়। বনের ভেতর বাণিজ্যক নৌযান চলাচল বন্ধে ইউএনডিপি যে আহ্বান জানিয়েছে সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর বিকল্প একটি যাত্রাপথ তৈরির কাজ চলছে যা এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবেশ মন্ত্রনালয়ে বিশেষজ্ঞরা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে তেল অপসারণের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো হলে আরও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান বন সংরক্ষক ইউনূস আলী বলেছেন, কেমিস্টদের একটি দল ঢাকা থেকে আজ ঘটনাস্থলে যাবেন। ঘটনার চার দিনের মাথায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সে দলের একজন সদস্য এবং খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিষয়ক শিক্ষক দিলিপ কুমার দত্ত বলেছেন, ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে। এখন সেটাকে বাদ দিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। গ্রামবাসী আর জেলেদের উদ্বুদ্ধ করে পুরোনো পদ্ধতিতে নদী থেকে তেল সরানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে ছোট ছোট নৌকায় করে স্থানীয়রা বালতি আর হাড়ি পাতিল নিয়ে ফোম দিয়ে তেল তুলছেন। স্থানীয় নিবাসীদের সহায়তায় তেল সরানোর কাজ এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।