টুকরো টুকরো ছবি

গতকাল সকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকেই দেখা গেল দুজন নতুন অতিথি। দুই ড্রেসিংরুমের পাশে দোর্দণ্ড প্রতাপে দাঁড়িয়ে আছে দুটি হাতি! নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাউন্ডসম্যানদের কয়েকজন দাঁড়িয়ে দুই অতিথিকে ঘিরে, অত্যুৎসাহী দু-একজন আবার ছুঁয়েও দেখছে। তবে বিশালাকার হাতি দুটোর কিছুই করার নেই, তাদের দেহে যে প্রাণ নেই! আগামী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক বাংলাদেশ। একটু অগ্রিম বিশ্বকাপের হাওয়া ছড়িয়ে দিতেই মাসকট ‘স্টাম্পি’কে রাখা হয়েছিল মাঠে।

উল্টো শুরু
নতুন বলে ইয়র্কার লেন্থে বোলিং করা সহজ নয়। এই কঠিন পথেই কাল শুরু করেছিলেন কাইল মিলস। ম্যাচের প্রথম তিনটি বলই ইয়র্কার লেন্থে। প্রথম দুটি বল ব্লক করার পর তৃতীয় বলে এক রান নেন ইমরুল কায়েস। পরের বলটা আবারও ইয়র্ক করার চেষ্টা। হয়ে যায় হাফভলি। দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরে দেন শাহরিয়ার নাফীস। আগের ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন শাহরিয়ার, কাল শুরু করলেন সেই একই বোলার কাইল মিলসকে চার মেরে।

আলোতে বিভ্রাট
মিলসের বল ফ্লিক করতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছিলেন জুনায়েদ সিদ্দিক। সহজ ক্যাচ, কিন্তু মিড অফের ফিল্ডার ড্যানিয়েল ভেট্টোরির জন্য কাজটা কঠিন করে দিল সূর্যের আলো। বল দেখার জন্য চোখের ওপর হাত নিতেই আরেক বিপত্তি, এবার পায়ে লেগে গেলেন পড়ে। তবে আসল কাজটি ঠিকই করেছেন। পড়িমড়ি করে ঠিকই ধরেছেন ক্যাচটি।

স্তব্ধ স্কোরবোর্ড
স্টেডিয়ামে যে একটা ডিজিটাল স্কোরবোর্ড আছে, প্রেসবক্সে বসা সাংবাদিকদের বুঝতে সময় লেগেছে অনেক। এমন একটা জায়গায় স্কোরকার্ডটি বসানো, যে সহজেই চোখে পড়ে না। সাইজে বেশ ছোট, লেখাগুলো তো আরও ছোট ছোট। আর প্রচণ্ড ঝাপসা, এই স্কোরকার্ড দেখে অনেকর মনে পড়ে গেছে পুরোনো দিনের ক্যালকুলেটরের কথা। নতুন সাজে সাজছে শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, অথচ এমন শ্রীহীন স্কোরবোর্ড! বিশ্বকাপেও এই স্কোরকার্ড থাকলে দেশের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার হবে, মন্তব্য অনেক দর্শকের।

রাইডারের থাবা
টাইগার বা বাঘ ছদ্মনাম বাংলাদেশ দলের। কিন্তু কাল এক মুহূর্তের জন্য বাঘ হয়ে গেলেন জেসি রাইডার। ৩৬তম ওভারে হামিশ বেনেটকে কাট করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশাল দেহ নিয়ে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক থাবায় রাইডার ধরে ফেললেন বলটি। বাঁচালেন নিশ্চিত চার রান।

উইলিয়ামসনের তৃতীয়
মাঝখানে দুটি ইনিংস ব্যতিক্রম, কাল আবার নিজের পরিচিত রূপে দেখা দিলেন কেন উইলয়ামসন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শূন্যের সঙ্গে বেশ একটা সখ্য গড়ে উঠেছে তরুণ এই অলরাউন্ডারের। নিজের প্রথম দুই ইনিংসে শূন্যের পর দুই ইনিংসে করেছিলেন ১৩ ও ১০৮। পঞ্চম ইনিংসে কাল আবার পেলেন পরিচিত স্কোরের দেখা, ০!

বিষাদে হরিষ
আগের ম্যাচে হয়তো হয়েছিলেন, কাল নিশ্চয়ই আর বিভ্রান্ত হননি রকিবুল হাসান। আগের ম্যাচের মতো কালও রকিবুল আউট হওয়ার পর মুহূর্তের জন্য নীরব হয়েই আবার গর্জন শুরু হয়েছে গ্যালারিতে। কারণ? ব্যাট হাতে নামছেন সাকিব আল হাসান!

দৌড়া, বাঘ আইল
‘বাংলাদেশের বার্মি আর্মি’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ফেসবুক গ্রুপটির। স্বপ্ন পূরণের পথে ভালোভাবেই আছে তারা। বাংলাদেশের সুসময়-দুঃসময়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অক্লান্ত। আগের সিরিজগুলোর মতো এই সিরিজেও প্রতি ম্যাচে গ্যালারিতে ছিল তাদের উপস্থিতি, সমর্থন দিয়ে গেছে গলা ফাটিয়ে।

কিউই সমর্থক
উল্লাসে মাতোয়ারা হাজারো দর্শকের মাঝে কাল চোখে পড়ল একমাত্র সেই নিউজিল্যান্ড সমর্থককে। ভিআইপি গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে সমানে নিউজিল্যান্ডের পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছেন। দল হারার পর আর চোখে পড়ল না ওই বিদেশিকে, পতাকাটাকে দেখা গেল লেপ্টে আছে রেলিংয়ের সঙ্গে।

সাকিবের জয়
ম্যাচের ৩২তম ওভারে সাকিবের সঙ্গে একচোট ‘শুভেচ্ছা বিনিময়’ হয়ে গেল নাথান ম্যাককালামের। আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি। কিন্তু ব্যাপারটা হয়তো মাথায় ছিল দুজনেরই। নইলে ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে নাথান কেন-ই বা উইকেট ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে আসবেন সাকিবকে! বোল্ড করার পর সাকিবের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, ব্যক্তিগত একটা লড়াইও ছিল!
ক্রীড়া প্রতিবেদক


ছোট পুঁজিতেও বাংলাদেশের জয়
বাংলাদেশের স্কোর প্রতিপক্ষ ফলাফল ভেন্যু/সাল
১৭৪/১০ নিউজিল্যান্ড ৩ রানে জয়ী মিরপুর/২০১০
১৮৫/৯ স্কটল্যান্ড ২২ রানে জয়ী এডিনবরা/১৯৯৯
২২০/১০ জিম্বাবুয়ে ২৬ রানে জয়ী বগুড়া/২০০৬
২২১/৯ হংকং ১১৬ রানে জয়ী কলম্বো/২০০৪
২২৩/৯ পাকিস্তান ৬২ রানে জয়ী নর্দাম্পটন/১৯৯৯

দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অলরাউন্ড নৈপুণ্য
দেশ ম্যাচ উইকেট রান প্রতিপক্ষ মৌসুম
সৌরভ গাঙ্গুলী ভারত ৬ ১৫ ২২২ পাকিস্তান ১৯৯৭
হানসি ক্রনিয়ে দ. আফ্রিকা ৭ ১১ ২৮৫ ও. ইন্ডিজ ১৯৯৮-৯৯
ল্যান্স ক্লুজনার দ. আফ্রিকা ৭ ১১ ২২৯ ও. ইন্ডিজ ১৯৯৮-৯৯
ক্রিস গেইল ও. ইন্ডিজ ৭ ১১ ২৭৫ অস্ট্রেলিয়া ২০০২-০৩
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ৪ ১১ ২১৩ নিউজিল্যান্ড ২০১০-১১
জ্যাক ক্যালিস দ. আফ্রিকা ৬ ১০ ২৯৮ ও. ইন্ডিজ ২০০০-০১
শেন ওয়াটসন অস্ট্রেলিয়া ৬ ১০ ২৫৬ ভারত ২০০৯-১০