ইসরাইলের চুক্তি পর্যালোচনার দাবি পাত্তাই দিলো না যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইল তেহরান-ওয়াশিংটনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনার অনুরোধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা চুক্তির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেননি এবং তারা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সদ্য ঘোষিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ পর্যালোচনা করে দেখার ইসরাইলের একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি বুধবার এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি চ্যানেল ১২-এর সংবাদদাতা ইয়ারন আব্রাহাম জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকার এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দেয়ায় ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তির ভেতরের খুঁটিনাটি বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটলো যখন ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই সমঝোতা স্মারকের তীব্র সমালোচনা করছেন। তারা জনসমক্ষে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং বলছেন যে এটি তেহরানের প্রতি তেল আবিবের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

এমনকি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি এই সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন।

হিব্রু গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, এই সমঝোতা নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর হতাশা এবং তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের আই২৪ টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে বেশ নেতিবাচকভাবে দেখছেন, বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার শর্তগুলো তারা মেনে নিতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র আই২৪ চ্যানেলকে বলেছে, এই চুক্তিটি ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ এক লজ্জার বিষয়।

এদিকে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা নাকি ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা নিজেদের এই চুক্তির শর্তে দায়বদ্ধ মনে করেন না। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সাথে এই চুক্তিটি ট্রাম্প করেছেন এবং এটি তার সিদ্ধান্ত, আমাদের নিজেদের আলাদা স্বার্থ রয়েছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি উস্কানিমূলক আগ্রাসনের সর্বশেষ দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।

অঞ্চলজুড়ে আগ্রাসী শক্তির স্বার্থের ওপর ইরানের চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক পাল্টা আঘাত এবং শত্রুদের ও তাদের মিত্রদের জন্য ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার পরই মূলত এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছিল।

এই পাল্টা হামলা ছাড়াও লেবাননে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরান সবসময়ই জোর দিয়ে বলে আসছে যে আগ্রাসন বন্ধের প্রক্রিয়াটি লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননে ভবিষ্যতের যেকোনো ইসরাইলি হামলা কিংবা দেশটির সদ্য দখল করা অঞ্চলগুলোতে অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রাখা হবে এই সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন।

সূত্র : প্রেসটিভি

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত

No comments

Powered by Blogger.