Tuesday, October 23, 2012
বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের সহজ উপায় ... by শফিক রেহমান
বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের সহজ উপায় ... by শফিক রেহমান
স্থানঃ হোটেল গ্র্যান্ড হায়াট নিউ ইয়র্কের ভিআইপি সুইট। সম্প্রতি মডার্নাইজ করা ১০০০ স্কয়ার ফুট বিশিষ্ট এই ভিআইপি সুইটে আছে : বেডরুমে ডাবল বেডে শাদা চাদর, পাখির পালকের শাদা লেপ ও বালিশ, বাথরুমে মার্বল শাওয়ার স্টল ও জুন জেকবস (June Jacobs) বাথ প্রডাক্টস, ডাইনিং এরিয়াতে ডাইনিং টেবিল ও ফৃজ এবং সিটিং এরিয়াতে ডিজাইনার সোফা, আর্মচেয়ার ও কাচের ফ্রেমে বাধানো আধুনিক আর্টওয়ার্ক, জেনিভা সাউন্ড সিসটেমসহ একটি ৩৭ ইঞ্চি ফ্ল্যাট টিভি স্কৃন, নরম কার্পেট।
কাল : সেপ্টেম্বর ২০১২-র শেষ সপ্তাহের কোনো এক সকালবেলা।
পাত্র : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি বা পিএস, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রী এবং হোটেলের ম্যানেজার।
সতর্কীকরণ : সকল চরিত্র, ঘটনা ও সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
প্রাইভেট সেক্রেটারি (ঘরে ঢুকে): গুড মর্নিং নেত্রী।
সোফায় বসা প্রধানমন্ত্রী (আর্মচেয়ার দেখিয়ে) : গুড মর্নিং। বসুন। আজ সকালের সব ইমেইল চেক করেছেন? ঢাকা থেকে কোনো ফোন?
পিএস (আর্মচেয়ারে বসে): হ্যা। সব কিছুই আন্ডার কনট্রোল, নেত্রী। শুধু ...
প্রধানমন্ত্রী : শুধু কি?
পিএস : শুধু বুঝতে পারছি না বাংলাদেশ থেকে হাজী কামেল মিয়া কেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। তিনি তিনবার ফোন করেছেন। ইমেইলেও রিকোয়েস্ট করেছেন আপনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে।
প্রধনমন্ত্রী (ভুরু কুচকে): হাজী কামেল মিয়া? কে তিনি?
পিএস : গোপালগঞ্জে তিনি হাজী কামেল মিয়া নামেই বিখ্যাত। ২০০৮-এর ইলেকশনে তার এলাকাতে বস্তাভর্তি ইনডিয়ান টাকার দরকার হয়নি। সুপ্রতিষ্ঠিত ধনবান এই ব্যবসায়ী আমাদের পার্টির পেছনে অকাতরে অনেক খরচ করেছিলেন। তার তিন ছেলে, পাভেল, রুবেল ও নোবেলও আমাদের পার্টির জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছিল। ইলেকশনের পর আপনার সদয় নির্দেশে ওই তিন ছেলেকে, যথাক্রমে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগে ভালো পদ দেয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী: ও হ্যা। এখন মনে পড়েছে। তা তিনি কি বলতে চাইছেন?
পিএস: সেটা তিনি আমাকে বলতে চাইছেন না। তিনি সরাসরি আপনাকে বলতে চান।
প্রধানমন্ত্রী: ওনাকে বলে দিন আমি এখানে হাজার রকম কাজে ব্যস্ত। জয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলুন।
পিএস: বলেছিলাম। হাজী কামেল রাজি হননি। তিনি শুধু আপনার সঙ্গেই বলতে চান।
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে ওনাকে অপেক্ষা করতে বলুন। আমি ঢাকায় ফিরে ওনার কথা শুনব।
পিএস: তাই হবে নেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: গতকাল জাতি সংঘে আমার ভাষণে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর সংস্কারের দাবি জানানোর পর আপনাকে বলেছিলাম অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তাকে এ বিষয়ে একটা একজিকিউটিভ সামারি পেপার বানাতে। আপনি তাকে বলেছেন?
পিএস: হ্যা। বলেছি। তিনিও তো এই হোটেলেই আছেন।
প্রধানমন্ত্রী: আমি জানি। সরকারি সফর দলের মেম্বার না হলেও তিনি এমিরেটসের একই ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে এসেছেন। সস্ত্রীক। তারপর এই একই হোটেলে চেক ইন করেছেন। খুব এক্সপেন্সিভ হোটেল এটা। তিনি সেটা জানেন। আমাদের এমবাসি তার নামে আগে কোনো রিজার্ভেশন না দেওয়ায় রুম রেট তাকেই বহন করতে হতো। এই রুম রেট তিনি দিতে পারবেন না। তার নামে দুর্নীতির অভিযোগ আরো জোরালো হতো। সেটা তিনি বোঝেন। তিনি খুব অসুবিধায় আছেন। এখানে আসার আগে ঢাকায় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যে কোনো মুহূর্তে তার হার্ট অ্যাটাক অথবা ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে। তিনি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, গুলাগ-এ থাকার মতো যন্ত্রণা ভোগ করছেন। বেচারা। তার এই অবস্থায় আমি খুবই বিব্রত হয়েছি। তিনি আমার প্রতি খুবই অনুগত। আমি তাকে বিশ্বাস করি। সবচেয়ে বড় কথা তার ইনডিয়ান কনটাক্ট খুবই ভালো এবং ইনডিয়াও তাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। আপনার বোধহয় মনে আছে, ইনডিয়াকে ট্রানজিট না দিলে বাংলাদেশের মানুষ যে অসভ্য সেটা প্রমাণিত হবে, এটা বলার পর তিনি ইনডিয়ানদের আরো বড় প্রিয়পাত্র হন। তার সেই যোগ্যতাটাকেই আমি এখন কাজে লাগাব। তাই এমবাসিকে বলে দিয়েছি এই হোটেলে ওনার সব খরচ বহন করতে।
পিএস: আপনি সঠিকভাবে মানুষের মূল্যায়ন করেন, তাদের পুরস্কৃত করেন। এ জন্যই তো আপনাকে সবাই বলে মহান নেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: থাক। থাক। পাম্প দিতে হবে না। এখন বলুন, তিনি কাজটা করেছেন কি না?
পিএস: হ্যা। তিনি একটানা কাজ করে একটা একজিকিউটিভ সামারি পৃপেয়ার করেছেন। তিনি এখন তার রুমেই অপেক্ষা করছেন। আপনি বললে তাকে আসতে বলতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী: নিশ্চয়ই। আসতে বলুন। রুম সার্ভিসে ফোন করে ওনার জন্য চা-কফি আনতে বলুন। যে বাজে টৃটমেন্ট তিনি বাংলাদেশে পেয়েছেন সেটা আমি ভুলতে পারি না। তাকে নিউ ইয়র্কে আমি একটা ভালো টৃট দিতে চাই। ঢাকায় ফেরার আগে আমি যখন মেসিজ (Macy’s)-এ শপিংয়ে যাব তখন তাকে সস্ত্রীক আমার সঙ্গে রাখবেন।
পিএস পরপর দুটি ফোন কল করলেন। প্রথম কলে তিনি অর্থ উপদেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রীর সুইটে আসতে বললেন। দ্বিতীয় কলে রুম সার্ভিসকে চা-কফি ও কুকিজ পাঠাতে বললেন।
কিছুক্ষণ পর একটা ফাইল হাতে অর্থ উপদেষ্টা সুইটে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী (একটি আর্মচেয়ার দেখিয়ে): বসুন। আপনার রুম রিজার্ভেশন সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান হয়েছে তো?
অর্থ উপদেষ্টা (চেয়ারে বসে বিগলিত হাসি মুখে): থ্যাংক ইউ নেত্রী। থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ। আমি জানতাম আপনি কখনোই আমাকে লেট ডাউন করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী: ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের সময়ে ইনডিয়ান লবির সঙ্গে আপনার তৎপরতা আমি ভুলিনি। ২০০৮-এর ইলেকশনে আপনার কন্টৃবিউশন আমি ভুলব না। আমার আবার ক্ষমতাসীন হবার পেছনে আপনার অনেক অবদান আছে। এ সবই আমি বিবেচনায় রেখেছি। তাই পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে আপনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওরা ওঠালেও আমি সেটা আমলে আনিনি। আমি আপনাকে সাপোর্ট করে গেছি।
অর্থ উপদেষ্টা: এ জন্য আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আই শ্যাল বি এভার গ্রেটফুল।
প্রধানমন্ত্রী: এখন কাজের কথায় আসুন। বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার প্রস্তাবের পেপারটা রেডি করেছেন?
অর্থ উপদেষ্টা (ফাইল দেখিয়ে): হ্যা, নেত্রী, তবে ...
প্রধানমন্ত্রী: তবে? তবে কি?
অর্থ উপদেষ্টা: তবে আগে একটা কথা বলতে চাই। যদি অনুমতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী: বলুন কি বলবেন?
অর্থ উপদেষ্টা: আপনি কিন্তু এই সংস্কার প্রস্তাবের আগের দিনই বলেছিলেন, ব্যাংক ও পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো কথা আর বলা যাবে না। কোনো বক্তব্যেও এই প্রসঙ্গ টানা যাবে না। নিউ ইয়র্কে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনাকে যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দেয়া হয়েছিল, সেখানে শুরুতেই আপনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সেই অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ব ব্যাংক বা পদ্মা সেতু সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি। আপনি নিজেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। আপনার এই নির্দেশ মন্ত্রী, আমলা ও দেশি বিদেশে দলীয় নেতাদের জন্যও প্রযোজ্য ছিল। তাই দেশে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যিনি আগে বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হবে না, তিনিও এই নির্দেশটির উল্লেখ করে বিশ্ব ব্যাংক বা পদ্মা সেতু সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রী উভয়েই বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ও পদ্মা সেতু নিয়ে অপ্রয়োজনে কথা বলা অনুচিত। (চিন্তিত মুখে) কিন্তু মাত্র এক দিন পরেই আপনি জাতি সংঘের ভাষণে বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের কথা বললেন। এটাকে সাধারণ মানুষ কিভাবে নেবে? আর বিশ্ব ব্যাংকই বা কিভাবে নেবে? পদ্মা সেতু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে জনগণ আপনাকেই দায়ী করতে পারে। হয়তো পহেলা অক্টোবরে প্রত্যাশিত ঢাকা সফরে বিশ্ব ব্যাংক টিম যাবে না। বিশ্ব ব্যাংক তো এখন ক্ষেপে গিয়ে পদ্মা সেতু ঋণ দেয়ার বিষয়টির পুনর্বিবেচনা বন্ধ করে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী (আত্মবিশ্বাসী হাসি মুখে): সেই মুরোদ বিশ্ব ব্যাংকের নেই। থাকলে কি আর আমি এমন প্রস্তাব দিতাম? আমার এই প্রস্তাবের পেছনে উন্নয়নশীল দেশের সমর্থন আছে। আর সাধারণ মানুষ কিভাবে নেবে সে বিষয়ে চিন্তা করবেন না। আপনি নিশ্চয়ই জানেন রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সাধারণ মানুষ জানে আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী। ১৯৮৬-তে আমি বলেছিলাম, জেনারেল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যারা অংশ নেবে তারা হবে মোনাফেক। কিন্তু পরদিনই আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম আমার দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। জনগণ তো সেটা মেনে নিয়েছিল। একবার আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম সাতান্ন বছর বয়সে আমি রিটায়ার করব। কই? আমি কি রিটায়ার করেছি? প্রধানমন্ত্রী আছি এবং আমার পয়ষট্টিতম জন্মদিন উৎসব এই হোটেলেই পালন করছি। জনগণ চায় আমি যেন ২০২১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকি। ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী থেকেই আমি এ হোটেলেই ওই বছরে আমার চুয়াত্তরতম জন্মদিনের উৎসব পালন করব। ১৯৯৫-৯৬-এ আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনগণের দাবি এবং তার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। তখন বলেছিলাম জনগণের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। আর এখন আমি বলছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে। ২০০৭-এ আমি ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারকে স্বাগতম জানিয়ে বলেছিলাম ওই সরকার আমাদেরই আন্দোলনের ফসল এবং আমি ক্ষমতায় এসে ওই সরকারের সব কাজকে বৈধতা দেব। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই আমার সরকার ফখরু-মইনুর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছে। ফখরুর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মইনুর বিচার করবেন বলেছেন এবং মইনু যেন ঢাকায় তার বাড়ি বিক্রি করে আমেরিকায় টাকা পাচার না করতে পারে সেটাও বলেছেন। আপনি বুরোক্র্যাট। পলিটিশিয়ান নন। সুতরাং রাজনীতিতে যে শেষ কথা বলে কিছু নেই সেটা আপনি বুঝবেন না। কোনো কথা দিয়ে সেই কথা রাখা রাজনীতিতে হতে পারে চরম বোকামি। আমি যে কথা দিয়ে কথা রাখি না সে জন্য কেউ কি কখনো আমাকে বেইমান বলেছে? মোনাফেক বলেছে? বরং জনগণ বলে, আমি বাপের বেটি- দিনকে রাত, রাতকে দিন বলতে পারি। মনে রাখবেন, রাজনীতিতে নীতি রক্ষার দুর্বলতায় আমি ভুগি না। রাজনীতিতে সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও চারিত্রিক শুদ্ধতা বিলাসিতা মাত্র। রাজনীতির দুটো অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে বস্তাভর্তি টাকা এবং অবারিত ঘুষ।
রুম সার্ভিসের ওয়েটার ট্রলিতে করে চা-কফি কুকিজ দিয়ে গেল। সেদিকে নির্দেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: নিন। চা খান।
অর্থ উপদেষ্টা: নেত্রী। প্রথমে একটা সুসংবাদ দিতে চাই। এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব ব্যাংকের চিফ ইকনমিস্ট পদে নিযুক্ত হয়েছেন ড. কৌশিক বসু। তার বয়স ষাট। জন্ম হয়েছিল কলকাতায়। সেখানে সেইন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনার পর দিল্লিতে সেইন্ট স্টিফেন্স কলেজে ইকনমিক্স আর ম্যাথমেটিক্সে পড়াশোনা করেন। তারপর লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পিএইচডি করেন। তিনি তার পিতার আইন পেশায় না গিয়ে নোবেল জয়ী ইকনমিস্ট ড. অর্মত্য সেন দ্বারা প্রভাবিত হন। দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেল-এর দর্শন তাকে বাম ঘেষা করে। তিনি ইংল্যান্ডে রেডিং ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকায় এমআইটিতে ইকনমিক্স পড়ান। তারপর আমেরিকায় কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ইকনমিক্স প্রফেসর পদে ছিলেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে তিনি ইনডিয়ান সরকারের চিফ ইকনমিক এডভাইজার পদে কাজ করছিলেন। এখন এলেন বিশ্ব ব্যাংকে।
প্রধানমন্ত্রী (আনন্দিত): দারুণ খবর দিলেন। দারুণ। বিশ্ব ব্যাংকের চিফ ইকনমিস্ট একজন ইনডিয়ান। পশ্চিম বাংলার বাঙালি। দারুণ। দারুণ। তাহলে তো আর পদ্মা সেতুর ঋণ নিয়ে আর কোনো প্রবলেমই থাকবে না।
অর্থ উপদেষ্টা (গম্ভীর মুখে): এটা নিঃসন্দেহে আপনার জন্য ভালো সংবাদ। কিন্তু ড. বসুর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শ দুঃসংবাদ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী: তার মানে?
অর্থ উপদেষ্টা: কৌশিক বসু বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে করেন একটা দেশের ইকনমির উন্নতি ও প্রসারের জন্য ভালো আদর্শিক গুনগুলো খুবই দরকার। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যক্তির মধ্যে সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং চারিত্রিক শুদ্ধতা থাকতেই হবে। কৌশিক আরো মনে করেন, সরকারের মধ্যে এবং জনগণের আলোচনার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থ চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। ঘুষ দেয়া-নেয়া সম্পর্কে কৌশিকের হ্যারাসমেন্ট ব্রাইবস (Harassment Bribes) বা হয়রানিমূলক ঘুষ থিওরি এখন বেশ আলোচিত।
প্রধানমন্ত্রী: হয়রানিমূলক ঘুষটা কি?
অর্থ উপদেষ্টা: এই যেমন পাসপোর্ট পাওয়া, রেশন কার্ড পাওয়া, এসব হলো নাগরিকদের বৈধ অধিকার। সে ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, রেশন কার্ড দেয়ার জন্য ঘুষ নেয়াটা হবে হয়রানিমূলক এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য।
প্রধানমন্ত্রী: হুম। ইকনমিক্সের লোক তো। পলিটিক্স বোঝেন না। এখন তিনি বিশ্ব ব্যাংকে ঢুকেছেন। পলিটিক্স যে কি সেটা তিনি বুঝবেন। বিশ্ব ব্যাংকে যে কি পরিমাণ দুর্নীতি আছে সে বিষয়ে আমার মন্ত্রীদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। তার আদর্শবাদিতা নিয়ে আপনি মোটেও দুশ্চিন্তা করবেন না। সময় এলে দুর্নীতির কাছে তিনিও নতি স্বীকার করবেন। আপনি তাকে পকেটে ভরার চেষ্টা শুরু করে দিন। ওনাকে লুক আফটার করার জন্য আমি দেশপ্রেমিক আবুল হোসেন, গাছমালিক ডেসটিনি আর ভূমিমালিক হলমার্ককে বলে দেব।
অর্থ উপদেষ্টা (ফাইল দেখে): দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৪-এ ব্রেটন উডস কনফারেন্সে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ। এই ব্যাংকের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পূজি বিনিয়োগে সহায়তা দানের উদ্দেশ্যে এই ব্যাংকের সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখন বিশ্ব ব্যাংকে ১৮৬ দেশের প্রতিনিধি আছে। প্রেসিডেন্ট পদে আছেন সাউথ কোরিয়ার জিম ইয়ং কিম। বোর্ড অফ ডিরেক্টস বা পরিচালনা পর্ষদে তার সঙ্গে আছেন পচিশজন একজিকিউটিভ ডিরেক্টর যারা পাচ বছরের মেয়াদে নিযুক্ত হন। তাদের সহায়তা করেন দুজন একজিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট। তিনজন সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট। চব্বিশজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। এদের সহযোগিতা করেন চিফ ইকনমিস্ট যার কথা একটু আগেই বললাম।
বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
প্রথম পর্যায় ১৯৪৪ থেকে ১৯৬৮-তে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইওরোপের পুনর্গঠনের কাছে বিশ্ব ব্যাংক নিযুক্ত থাকে। এই লক্ষ্যে ১৯৪৭-এর মার্শাল প্ল্যানে বিশ্ব ব্যাংক সাহায্য দেয়।
দ্বিতীয় পর্যায় ১৯৬৮ থেকে ১৯৮০-তে রবার্ট ম্যাকনামারা যখন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের দিকে ব্যাংক নজর দেয়।
তৃতীয় পর্যায়ে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ বিশ্ব ব্যাংক তাদের কাঠামোগত নীতি পরিবর্তনের আওতায় সচেষ্ট থাকে এশিয়া, আফৃকা ও ল্যাটিন আমেরিকাতে কোটি কোটি শিশুর স্বাস্থ্য উন্নতি, পুষ্টি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে।
চতুর্থ পর্যায় ১৯৮৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক সচেষ্ট থেকেছে চূড়ান্ত দারিদ্র্য কমানো, মাতার স্বাস্থ্য উন্নয়ন, এইডস ও ম্যালেরিয়া দূরীকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশ্বের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্ব পার্টনারশিপ বা সহযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে।
বিশ্ব ব্যাংকের ওপর আমেরিকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের বারো প্রেসিডেন্টের সবাই আমেরিকান নাগরিক। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ম কিম কোরিয়ান হলেও তার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। বিশ্ব ব্যাংকের ভোটাধিকারেও আমেরিকার প্রাধান্য আছে।
প্রধানমন্ত্রী: ভোটাধিকার পরিবর্তনের কথা আমি বলেছি। এটা বদলাতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা: আপনি ঠিকই বলেছেন। বর্তমান ভোটাধিকারের লিস্ট হচ্ছে :
আমেরিকা ১৬%
জাপান ৭%
চায়না ৪%
জার্মানি ৪%
ইউকে ৪%
ফ্রান্স ৪%
ইনডিয়া ৩%
রাশিয়া ৩%
সউদি আরব ৩%
ইটালি ৩%
অন্যান্য ৪৯%
আমি রাউন্ড ফিগারে বললাম। ২০১০-এ ভোটিং পাওয়ার পরিবর্তিত হবার পর বর্তমান অবস্থা এটাই। তখন অধিকাংশ উন্নত দেশের ভোটিং পাওয়ার কমিয়ে কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের ভোটিং পাওয়ার বাড়ানো হয়। এই দেশগুলো হলো- সাউথ কোরিয়া, টার্কি, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, গৃস, ব্রাজিল, ইনডিয়া, ও স্পেন। গরিব দেশ নাইজেরিয়ার ভোটিং পাওয়ার কমানো হয়। আমেরিকা, রাশিয়া ও সউদি আরবের ভোটিং পাওয়ার অপরিবর্তিত থাকে। ইওরোপিয়ান দেশগুলো ভোটিং পাওয়ার পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করেছিল। তারা চেয়েছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরো ক্ষমতা দিতে। সে যাই হোক। এই পরিবর্তনের মাত্র দুই বছর পরেই আপনি আবার একটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন। সেটা কি গ্রাহ্য হবে?
প্রধানমন্ত্রী: আলবৎ হবে। ভোটাধিকার ও তার প্রয়োগ বিষয়ে আমার চাইতে বেশি দুনিয়ার আর কেউ জানে না। আমি সেটা জানি বলেই ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয়ী হতে পেরেছি। যাই হোক। এতক্ষণ তো আপনি বিশ্বব্যাংকের ইতিহাস বয়ান করলেন। বিশ্ব ব্যাংকের কি সংস্কারের প্রস্তাব আমরা করব সেটা তো বললেন না।
অর্থ উপদেষ্টা: বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটা বড় সমালোচনা হচ্ছে যদিও এটি ১৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে তবু এটি পরিচালিত হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী গুটিকয়েক দেশ দ্বারা। অবশ্য এরাই বিশ্ব ব্যাংকের অধিকাংশ টাকার জোগান দিয়ে থাকে। এই গুটিকয়েক দেশই বিশ্ব ব্যাংকের নেতৃত্ব এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্টে কারা থাকবেন সেটা স্থির করে দেয়। তাই সেসব দেশের স্বার্থই রক্ষা করে বিশ্ব ব্যাংক। ছোট এবং গরিব দেশগুলোর স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। এই সিসটেম বদলাতে হবে। ছোট এবং গরিব দেশগুলোকে সাহায্য দানের যে স্ট্র্যাটেজি বিশ্ব ব্যাংক অনুসরণ করে সেটাও বদলাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী (একটু অসহিষ্ণু স্বরে): কিন্তু সে জন্য কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা তো বললেন না। (প্রাইভেট সেক্রেটারির দিকে তাকিয়ে) আপনি দেশে মুহিত সাহেবকে ফোন করুন। তাকে বলুন বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার বিষয়ে তার কিছু প্রস্তাব আমি জানতে চাই।
পিএস তার মোবাইল ফোন থেকে অর্থমন্ত্রীকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিষয়টি জানালেন। তারপর মোবাইল ফোনটা প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন।
অর্থমন্ত্রী: আমি সম্প্রতি সিলেট গিয়ে বলে এসেছি দুর্নীতি দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। দ্রুত সেটা রোধ করা সম্ভব নয়। সব রাবিশ হয়ে গিয়েছে। টোটালি রাবিশ। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতি দ্রুত রোধ করতে হবে। নইলে আমাদের পদ্মা সেতু প্রকল্প বিলম্বিত হবে। আমার সাজেশন, বিশ্ব ব্যাংককে শুধু অর্থনীতিমুখী নয় − রাজনীতিমুখীও করতে হবে। তাই দেশে যেমন আপনার নির্দেশে রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা সম্প্রতি আরো নয়টি ব্যাংক খোলার অনুমতি দিয়েছি ঠিক তেমনি বিশ্ব ব্যাংকের বহু ব্রাঞ্চ সদস্য দেশগুলোতে খুলতে হবে। এখন সদস্য দেশগুলোতে বিশ্ব ব্যাংকের শুধু অফিস থাকে। আপনি প্রস্তাব দিতে পারেন, ভবিষ্যতে সদস্য দেশগুলোতে শুধু অফিসই নয়, ব্রাঞ্চও যেন থাকে। যেমন, বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক সিলেট ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক খুলনা ব্রাঞ্চ ইত্যাদি। এসব ব্রাঞ্চে পাবলিক টাকা-পয়সার লেনদেন করতে পারবে। আমাদের সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ব ব্যাংককে কমার্শিয়াল অপারেশনে যাবার অনুমতি দেবে।
প্রধানমন্ত্রী: ভালো প্রস্তাব। ধন্যবাদ। (কানেকশন কেটে দিয়ে পিএসকে) এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিয়ার সাহেবকে ফোন করুন।
গভর্নরকে কল দিয়ে পিএস মোবাইল ফোনটা আবার প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী: আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন আমি বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি। এ বিষয়ে আপনার সাজেশন কি?
গভর্নর: প্রথম কথা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের তুলনায় বিশ্ব ব্যাংক তো ব্যাংকই না। ওদের কারেন্সি নোট কোথায়? আপনি প্রস্তাব দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন নোট ছাপায় ঠিক তেমনি বিশ্ব ব্যাংককেও নোট ছাপাতে হবে এবং প্রতিটি নোটে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী: কোন যুক্তিতে আমি ওদের নোটের বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপতে বলব?
গভর্নর: কারণ বর্তমান সময়ে বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের সাহসী প্রস্তাবটা দিয়েছেন একমাত্র আপনিই − অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং বিশ্ব ব্যাংকের নোটে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির ছবি ছাপানোর প্রস্তাব অতি সঙ্গত।
প্রধানমন্ত্রী: খুবই ভালো যুক্তি। আর কোনো প্রস্তাব?
গভর্নর: হ্যা। সম্প্রতি হলমার্ক যে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে বলে দেশের সব মিডিয়া হাউকাউ করছে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু প্রস্তাব করতে চাই। দি এশিয়ান ব্যাংকার নামে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিন বলেছে, সোনালী ব্যাংকই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ব্যাংক। তাই আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একমত, চার হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যাপারই না। বিশ্ব ব্যাংকের শাখা ব্যাংকগুলোকে সীমাহীন পরিমাণে ঋণ দেয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। এসব ঋণের কোনো ক্লাসিফিশেন হবে না। কোনো অডিট করা যাবে না। এসব ঋণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দায়ী থাকবে না। এসব ঋণ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় শাখা প্রধানদের ইমিউনিটি দিতে হবে − অর্থাৎ তাদের কোনো শাস্তি দেয়া যাবে না। এসব শাখা প্রধানরা যাকে খুশি তাকে ঋণ দিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী: এটা বলব কোন যুক্তিতে?
গভর্নর: আপনি সব সময় জনগণের কথা ভাবেন। জনগণের কল্যাণের কথা বলেন। জনগণ কারা? জনগণ হচ্ছে অখ্যাত গরিব মানুষেরা। যেমন ধরুন, আমার বাবার মতো চাষি, মুটে-মজুর, ফেরিওয়ালা অথবা হলমার্কের কর্ণধার তানভিরের বাবার মতো ছোট ব্যবসায়ীরা। আমাদের সোনালী ব্যাংক তানভিরকে বিনা প্রশ্নে ঋণ দিয়েছে বলেই তো হলমার্ক গ্রুপের এত দ্রুত এত উন্নতি হয়েছে। সুতরাং বিশ্ব ব্যাংক সত্যিই যদি কোনো গরিব দেশের দ্রুত উন্নতি চায় তাহলে তাদের স্থানীয় শাখা থেকে অখ্যাত গরিবদের অকাতরে ঋণ দিয়ে যেতে হবে। এটা বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী: মানলাম। হ্যা। ব্যাংক হবে জনগণের জন্য। আর কোনো প্রস্তাব?
গভর্নর: বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় শাখার স্টাফসহ সবারই ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাজেরো ও প্রাডো গিফট নেয়ার অধিকার থাকবে। এর ফলে তারা খুশি মনে কাজ করতে পারবেন। হলমার্ক গ্রুপ বাংলাদেশে এই কালচার প্রতিষ্ঠা করে সুফল দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিস পুলের গাড়িগুলো, এমনকি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-উপদেষ্টার গাড়িগুলোও এভাবে আসতে পারে। এর ফলে সরকারের অনেক সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী: ভালো যুক্তি দিয়েছেন। বিশ্ব ব্যাংক তো সব সময় পরামর্শ দেয় সরকারি খরচ কমাতে। ভর্তুকি কমাতে। আর কোনো প্রস্তাব?
গর্ভনর: সিকিউরিটি বা বন্ধক হিসেবে ঋণগ্রহীতারা যদি সরকারি খাস জমির ভুয়া দলিল জমা দেয় এবং তার ভুয়া দাম যদি বলে, তা বিনা প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের শাখা গ্রহণ করবে। এই পদ্ধতিতে হলমার্ক গ্রুপ তাদের ব্যবসার প্রসার দ্রুত বাড়িয়েছে। জনগণ উপকৃত হয়েছে। মনে রাখবেন, আপনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যা। হ্যা। জনগণ। জনগণ। আমি জনগণের প্রধামন্ত্রী। আমাকে তো জনগণের মঙ্গলের কথা ভাবতেই হবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গর্ভনর সাহেব। আপনি চালিয়ে যান। আপনি মুহিত সাহেবের মতো পালিয়ে যাবার কথা ভাববেন না। আমি আপনার পদে এক্সটেনশন দেব। (লাইন কেটে দিয়ে ফোনটা পিএসকে ফেরত দিলেন। তারপর অর্থ উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে) আপনারা সবাই তো অনেক সাজেশন দিলেন। কিন্তু আসল সাজেশনটাই কেউ দেননি।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): সেটা কি?
প্রধানমন্ত্রী: বিশ্ব ব্যাংকের সর্বস্তরে আমাদের দলের লোকজনকে বসাতে হবে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান পদে একজন বাংলাদেশিকে বসানোর প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম। এ বছর ২২ ফেব্রুয়ারিতে জিন ল্যামবার্ট-এর নেতৃত্বে ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের যে ডেলিগেশন ঢাকায় এসেছিলেন তাদের আমি বলেছিলাম, ড. ইউনূসকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে নমিনেশন দিতে। তখন তারা ভেবেছিলেন আমি ব্যঙ্গ করে ড. ইউনূসের কথা বলেছি। না। তারা ভুল করেছিলেন। আমি সিরিয়াসলিই বলেছিলাম। ড. ইউনূস অবশ্য পাচ দিন পরেই বিবৃতি দিয়ে আমার এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হয় আমিও হয়তো একটা ভুল করেছিলাম। ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব না করে আমাদের দলীয় মানুষ মুহিত সাহেবের নামটা প্রস্তাব করা উচিত ছিল। অথবা (অর্থ উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে) আপনার নাম। আপনাদের দুজনারই বিশ্ব ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। যাক, যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের প্রস্তাবনামালায় আমি জুড়ে দেব, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রভৃতি শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা প্রভৃতি ব্রাঞ্চে আওয়ামী লীগের অনুমোদিত মানুষজনকে নিয়োগ দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে আমরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং সিসটেমে গতিশীলতা ও উন্নতি আনতে পেরেছি। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী-জনতা-রূপালীসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ গোটা ব্যাংকিং সিসটেমের প্রতি জনগণের আস্থা বিশালভাবে বাড়াতে পেরেছি। বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর সাফল্য এখন বিশ্ব ব্যাংককে অনুকরণ করতেই হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): অসাধারণ! অসাধারণ! অসাধারণ!
অর্থ উপদেষ্টা: নেত্রী, আপনার প্রায় একশ রঙিন ছবিসহ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন শিরোনামে একটি সুভেনির বই আজ যুগপৎ নিউ ইয়র্ক ও ঢাকায় প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এসব প্রস্তাব মোতাবেক বিশ্ব ব্যাংকে সংস্কার হলে আগামী বছর আমরা বিশ্বনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন শিরোনামে বই প্রকাশ করব। ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী (স্বগতোক্তি): ইনশাআল্লাহ।
এমন সময় সুইটের দরজায় টোকা পড়ল।
পিএস দরজা খুলে দিলেন।
অনেক ফুলের একটা বিরাট তোড়া হাতে ঘরে ঢুকলেন গ্র্যান্ড হায়াট হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার।
জেনারেল ম্যানেজার (প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ছোট কুর্নিশ করে): আপনাকে একটা বিরাট সুসংবাদ জানাতে আমি নিজেই এসেছি। ইটস রিয়ালি এ গ্রেট নিউজ!
প্রধানমন্ত্রী (কৌতূহলী স্বরে): গ্রেট নিউজ? কি সেটা?
জেনারেল ম্যানেজার (ফুলের তোড়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে) : আমরা এই মাত্র খবর পেয়েছি, এ বছর আপনি নোবেল প্রাইজ পাবেন!
প্রধানমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, পিএস (সমস্বরে): আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ!
জেনারেল ম্যানেজার: কোনো নোবেল বিজয়ীকে সরাসরি এভাবে খবর দেয়াটা আমার জীবনে এই প্রথম অভিজ্ঞতা। এই দিনটি আমার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। (একটা ছোট কাগজ পিএসের হাতে দিয়ে) ঢাকা থেকে খবরটি এসেছে, এই নাম্বার থেকে। তিনি আপনাদের সরাসরি কনটাক্ট করতে পারছিলেন না। তাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কংগ্রাচুলেশন্স এক্সেলেন্সি।
আবার কুর্নিশ করে জেনারেল ম্যানেজার চলে গেলেন।
কয়েক মুহূর্তে ওই সুইটের তিনজনই হতবিহ্বল থাকলেন।
পিনপতন নীরবতা ভেঙে পিএস ওই কাগজে লেখা নাম্বারে ফোন করলেন।
উৎসুক চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা।
ঢাকায় মোবাইল ফোনে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে অতি দ্রুত পিএসের চেহারা বদলে যেতে থাকল।
কঠোর থেকে কঠোরতর হতে থাকল তার চেহারা।
তিনি শুধু শুনে যাচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে তিনি লাইনটা কেটে দিলেন।
পিএস (বিমর্ষ মুখে): এটা সেই হাজী কামেল মিয়ার কামেল। আগামী ইলেকশনে তার ছোট ছেলে নোবেল আমাদের দল থেকে প্রার্থী হতে চায়। নোবেলকে দল ও দেশের মধ্যে সুপরিচিত করার লক্ষ্যে হাজী কামেল বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূচনা নোবেল পুরস্কারটি তিনি আপনাকেই দিয়েছেন। এই পুরস্কার দেয়ার অনুমতির জন্যই তিনি কয়েক দিন যাবৎ আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইছিলেন। (একটু চুপ থেকে বিচলিতভাবে) এত বড় দুই নাম্বারি? এত বড় দুই নাম্বারি? এখন আমরা কি করব?
প্রধানমন্ত্রী (হাসি মুখে): কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না। সারা বিশ্ব জুড়ে দুই নাম্বারি এখন এক নাম্বার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তো একটা দুই নাম্বারি তাজমহলও হয়েছে। সুতরাং দুই নাম্বার নোবেল প্রাইজও হতে পারে। আর দুই নাম্বার হলেই যে সেটা খারাপ হবে তার কোনো মানে নেই। দুই নাম্বার তাজমহল দেখতে তো প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে। আমাদের সরকারের প্রচেষ্টায় আমরা এই দুই নাম্বার নোবেল প্রাইজকে এক নাম্বার করতে পারব। (চোখ নাচিয়ে) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে আমি ক্ষমতায় থেকে যে ইলেকশন করতে যাচ্ছি, তাকে বিরোধী দলগুলো দুই নাম্বার বলবে। কিন্তু আমি ওই ইলেকশনকেও এক নাম্বার বলে সারা বিশ্বে চালিয়ে দিতে পারব। আত্মবিশ্বাস রাখুন। সাহস রাখুন। আমরা বলেছিলাম টিফিনের পয়সা বাচিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারব। তার দরকার হয়নি। আমার ছেলে জয় বলেছে, দুর্নীতি হয়নি বলেই পদ্মা সেতুতে ফিরতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। ঠিক তেমনই বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হলে এবং তার ফলে আজকের দুই নাম্বার বিশ্ব ব্যাংক এক নাম্বার হলে, নোবেল প্রাইজ কমিটিও বাধ্য হবে আমাকে ইকনমিক্সে নোবেল প্রাইজ দিতে।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): ইনশাআল্লাহ!
২ অক্টোবর ২০১২
শফিক রেহমান: প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাংকর।
পাত্র : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি বা পিএস, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রী এবং হোটেলের ম্যানেজার।
সতর্কীকরণ : সকল চরিত্র, ঘটনা ও সংলাপ সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
প্রাইভেট সেক্রেটারি (ঘরে ঢুকে): গুড মর্নিং নেত্রী।
সোফায় বসা প্রধানমন্ত্রী (আর্মচেয়ার দেখিয়ে) : গুড মর্নিং। বসুন। আজ সকালের সব ইমেইল চেক করেছেন? ঢাকা থেকে কোনো ফোন?
পিএস (আর্মচেয়ারে বসে): হ্যা। সব কিছুই আন্ডার কনট্রোল, নেত্রী। শুধু ...
প্রধানমন্ত্রী : শুধু কি?
পিএস : শুধু বুঝতে পারছি না বাংলাদেশ থেকে হাজী কামেল মিয়া কেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। তিনি তিনবার ফোন করেছেন। ইমেইলেও রিকোয়েস্ট করেছেন আপনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে।
প্রধনমন্ত্রী (ভুরু কুচকে): হাজী কামেল মিয়া? কে তিনি?
পিএস : গোপালগঞ্জে তিনি হাজী কামেল মিয়া নামেই বিখ্যাত। ২০০৮-এর ইলেকশনে তার এলাকাতে বস্তাভর্তি ইনডিয়ান টাকার দরকার হয়নি। সুপ্রতিষ্ঠিত ধনবান এই ব্যবসায়ী আমাদের পার্টির পেছনে অকাতরে অনেক খরচ করেছিলেন। তার তিন ছেলে, পাভেল, রুবেল ও নোবেলও আমাদের পার্টির জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছিল। ইলেকশনের পর আপনার সদয় নির্দেশে ওই তিন ছেলেকে, যথাক্রমে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগে ভালো পদ দেয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী: ও হ্যা। এখন মনে পড়েছে। তা তিনি কি বলতে চাইছেন?
পিএস: সেটা তিনি আমাকে বলতে চাইছেন না। তিনি সরাসরি আপনাকে বলতে চান।
প্রধানমন্ত্রী: ওনাকে বলে দিন আমি এখানে হাজার রকম কাজে ব্যস্ত। জয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলুন।
পিএস: বলেছিলাম। হাজী কামেল রাজি হননি। তিনি শুধু আপনার সঙ্গেই বলতে চান।
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে ওনাকে অপেক্ষা করতে বলুন। আমি ঢাকায় ফিরে ওনার কথা শুনব।
পিএস: তাই হবে নেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: গতকাল জাতি সংঘে আমার ভাষণে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর সংস্কারের দাবি জানানোর পর আপনাকে বলেছিলাম অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তাকে এ বিষয়ে একটা একজিকিউটিভ সামারি পেপার বানাতে। আপনি তাকে বলেছেন?
পিএস: হ্যা। বলেছি। তিনিও তো এই হোটেলেই আছেন।
প্রধানমন্ত্রী: আমি জানি। সরকারি সফর দলের মেম্বার না হলেও তিনি এমিরেটসের একই ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে এসেছেন। সস্ত্রীক। তারপর এই একই হোটেলে চেক ইন করেছেন। খুব এক্সপেন্সিভ হোটেল এটা। তিনি সেটা জানেন। আমাদের এমবাসি তার নামে আগে কোনো রিজার্ভেশন না দেওয়ায় রুম রেট তাকেই বহন করতে হতো। এই রুম রেট তিনি দিতে পারবেন না। তার নামে দুর্নীতির অভিযোগ আরো জোরালো হতো। সেটা তিনি বোঝেন। তিনি খুব অসুবিধায় আছেন। এখানে আসার আগে ঢাকায় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যে কোনো মুহূর্তে তার হার্ট অ্যাটাক অথবা ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে। তিনি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, গুলাগ-এ থাকার মতো যন্ত্রণা ভোগ করছেন। বেচারা। তার এই অবস্থায় আমি খুবই বিব্রত হয়েছি। তিনি আমার প্রতি খুবই অনুগত। আমি তাকে বিশ্বাস করি। সবচেয়ে বড় কথা তার ইনডিয়ান কনটাক্ট খুবই ভালো এবং ইনডিয়াও তাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। আপনার বোধহয় মনে আছে, ইনডিয়াকে ট্রানজিট না দিলে বাংলাদেশের মানুষ যে অসভ্য সেটা প্রমাণিত হবে, এটা বলার পর তিনি ইনডিয়ানদের আরো বড় প্রিয়পাত্র হন। তার সেই যোগ্যতাটাকেই আমি এখন কাজে লাগাব। তাই এমবাসিকে বলে দিয়েছি এই হোটেলে ওনার সব খরচ বহন করতে।
পিএস: আপনি সঠিকভাবে মানুষের মূল্যায়ন করেন, তাদের পুরস্কৃত করেন। এ জন্যই তো আপনাকে সবাই বলে মহান নেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: থাক। থাক। পাম্প দিতে হবে না। এখন বলুন, তিনি কাজটা করেছেন কি না?
পিএস: হ্যা। তিনি একটানা কাজ করে একটা একজিকিউটিভ সামারি পৃপেয়ার করেছেন। তিনি এখন তার রুমেই অপেক্ষা করছেন। আপনি বললে তাকে আসতে বলতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী: নিশ্চয়ই। আসতে বলুন। রুম সার্ভিসে ফোন করে ওনার জন্য চা-কফি আনতে বলুন। যে বাজে টৃটমেন্ট তিনি বাংলাদেশে পেয়েছেন সেটা আমি ভুলতে পারি না। তাকে নিউ ইয়র্কে আমি একটা ভালো টৃট দিতে চাই। ঢাকায় ফেরার আগে আমি যখন মেসিজ (Macy’s)-এ শপিংয়ে যাব তখন তাকে সস্ত্রীক আমার সঙ্গে রাখবেন।
পিএস পরপর দুটি ফোন কল করলেন। প্রথম কলে তিনি অর্থ উপদেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রীর সুইটে আসতে বললেন। দ্বিতীয় কলে রুম সার্ভিসকে চা-কফি ও কুকিজ পাঠাতে বললেন।
কিছুক্ষণ পর একটা ফাইল হাতে অর্থ উপদেষ্টা সুইটে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী (একটি আর্মচেয়ার দেখিয়ে): বসুন। আপনার রুম রিজার্ভেশন সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান হয়েছে তো?
অর্থ উপদেষ্টা (চেয়ারে বসে বিগলিত হাসি মুখে): থ্যাংক ইউ নেত্রী। থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ। আমি জানতাম আপনি কখনোই আমাকে লেট ডাউন করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী: ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের সময়ে ইনডিয়ান লবির সঙ্গে আপনার তৎপরতা আমি ভুলিনি। ২০০৮-এর ইলেকশনে আপনার কন্টৃবিউশন আমি ভুলব না। আমার আবার ক্ষমতাসীন হবার পেছনে আপনার অনেক অবদান আছে। এ সবই আমি বিবেচনায় রেখেছি। তাই পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে আপনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওরা ওঠালেও আমি সেটা আমলে আনিনি। আমি আপনাকে সাপোর্ট করে গেছি।
অর্থ উপদেষ্টা: এ জন্য আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আই শ্যাল বি এভার গ্রেটফুল।
প্রধানমন্ত্রী: এখন কাজের কথায় আসুন। বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার প্রস্তাবের পেপারটা রেডি করেছেন?
অর্থ উপদেষ্টা (ফাইল দেখিয়ে): হ্যা, নেত্রী, তবে ...
প্রধানমন্ত্রী: তবে? তবে কি?
অর্থ উপদেষ্টা: তবে আগে একটা কথা বলতে চাই। যদি অনুমতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী: বলুন কি বলবেন?
অর্থ উপদেষ্টা: আপনি কিন্তু এই সংস্কার প্রস্তাবের আগের দিনই বলেছিলেন, ব্যাংক ও পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো কথা আর বলা যাবে না। কোনো বক্তব্যেও এই প্রসঙ্গ টানা যাবে না। নিউ ইয়র্কে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনাকে যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দেয়া হয়েছিল, সেখানে শুরুতেই আপনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সেই অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ব ব্যাংক বা পদ্মা সেতু সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেননি। আপনি নিজেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। আপনার এই নির্দেশ মন্ত্রী, আমলা ও দেশি বিদেশে দলীয় নেতাদের জন্যও প্রযোজ্য ছিল। তাই দেশে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যিনি আগে বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হবে না, তিনিও এই নির্দেশটির উল্লেখ করে বিশ্ব ব্যাংক বা পদ্মা সেতু সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রী উভয়েই বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ও পদ্মা সেতু নিয়ে অপ্রয়োজনে কথা বলা অনুচিত। (চিন্তিত মুখে) কিন্তু মাত্র এক দিন পরেই আপনি জাতি সংঘের ভাষণে বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের কথা বললেন। এটাকে সাধারণ মানুষ কিভাবে নেবে? আর বিশ্ব ব্যাংকই বা কিভাবে নেবে? পদ্মা সেতু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে জনগণ আপনাকেই দায়ী করতে পারে। হয়তো পহেলা অক্টোবরে প্রত্যাশিত ঢাকা সফরে বিশ্ব ব্যাংক টিম যাবে না। বিশ্ব ব্যাংক তো এখন ক্ষেপে গিয়ে পদ্মা সেতু ঋণ দেয়ার বিষয়টির পুনর্বিবেচনা বন্ধ করে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী (আত্মবিশ্বাসী হাসি মুখে): সেই মুরোদ বিশ্ব ব্যাংকের নেই। থাকলে কি আর আমি এমন প্রস্তাব দিতাম? আমার এই প্রস্তাবের পেছনে উন্নয়নশীল দেশের সমর্থন আছে। আর সাধারণ মানুষ কিভাবে নেবে সে বিষয়ে চিন্তা করবেন না। আপনি নিশ্চয়ই জানেন রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। সাধারণ মানুষ জানে আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী। ১৯৮৬-তে আমি বলেছিলাম, জেনারেল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যারা অংশ নেবে তারা হবে মোনাফেক। কিন্তু পরদিনই আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম আমার দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। জনগণ তো সেটা মেনে নিয়েছিল। একবার আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম সাতান্ন বছর বয়সে আমি রিটায়ার করব। কই? আমি কি রিটায়ার করেছি? প্রধানমন্ত্রী আছি এবং আমার পয়ষট্টিতম জন্মদিন উৎসব এই হোটেলেই পালন করছি। জনগণ চায় আমি যেন ২০২১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকি। ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী থেকেই আমি এ হোটেলেই ওই বছরে আমার চুয়াত্তরতম জন্মদিনের উৎসব পালন করব। ১৯৯৫-৯৬-এ আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। তখন বলেছিলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনগণের দাবি এবং তার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। তখন বলেছিলাম জনগণের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। আর এখন আমি বলছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে। ২০০৭-এ আমি ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারকে স্বাগতম জানিয়ে বলেছিলাম ওই সরকার আমাদেরই আন্দোলনের ফসল এবং আমি ক্ষমতায় এসে ওই সরকারের সব কাজকে বৈধতা দেব। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই আমার সরকার ফখরু-মইনুর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছে। ফখরুর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মইনুর বিচার করবেন বলেছেন এবং মইনু যেন ঢাকায় তার বাড়ি বিক্রি করে আমেরিকায় টাকা পাচার না করতে পারে সেটাও বলেছেন। আপনি বুরোক্র্যাট। পলিটিশিয়ান নন। সুতরাং রাজনীতিতে যে শেষ কথা বলে কিছু নেই সেটা আপনি বুঝবেন না। কোনো কথা দিয়ে সেই কথা রাখা রাজনীতিতে হতে পারে চরম বোকামি। আমি যে কথা দিয়ে কথা রাখি না সে জন্য কেউ কি কখনো আমাকে বেইমান বলেছে? মোনাফেক বলেছে? বরং জনগণ বলে, আমি বাপের বেটি- দিনকে রাত, রাতকে দিন বলতে পারি। মনে রাখবেন, রাজনীতিতে নীতি রক্ষার দুর্বলতায় আমি ভুগি না। রাজনীতিতে সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও চারিত্রিক শুদ্ধতা বিলাসিতা মাত্র। রাজনীতির দুটো অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে বস্তাভর্তি টাকা এবং অবারিত ঘুষ।
রুম সার্ভিসের ওয়েটার ট্রলিতে করে চা-কফি কুকিজ দিয়ে গেল। সেদিকে নির্দেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী: নিন। চা খান।
অর্থ উপদেষ্টা: নেত্রী। প্রথমে একটা সুসংবাদ দিতে চাই। এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব ব্যাংকের চিফ ইকনমিস্ট পদে নিযুক্ত হয়েছেন ড. কৌশিক বসু। তার বয়স ষাট। জন্ম হয়েছিল কলকাতায়। সেখানে সেইন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনার পর দিল্লিতে সেইন্ট স্টিফেন্স কলেজে ইকনমিক্স আর ম্যাথমেটিক্সে পড়াশোনা করেন। তারপর লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পিএইচডি করেন। তিনি তার পিতার আইন পেশায় না গিয়ে নোবেল জয়ী ইকনমিস্ট ড. অর্মত্য সেন দ্বারা প্রভাবিত হন। দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেল-এর দর্শন তাকে বাম ঘেষা করে। তিনি ইংল্যান্ডে রেডিং ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকায় এমআইটিতে ইকনমিক্স পড়ান। তারপর আমেরিকায় কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ইকনমিক্স প্রফেসর পদে ছিলেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে তিনি ইনডিয়ান সরকারের চিফ ইকনমিক এডভাইজার পদে কাজ করছিলেন। এখন এলেন বিশ্ব ব্যাংকে।
প্রধানমন্ত্রী (আনন্দিত): দারুণ খবর দিলেন। দারুণ। বিশ্ব ব্যাংকের চিফ ইকনমিস্ট একজন ইনডিয়ান। পশ্চিম বাংলার বাঙালি। দারুণ। দারুণ। তাহলে তো আর পদ্মা সেতুর ঋণ নিয়ে আর কোনো প্রবলেমই থাকবে না।
অর্থ উপদেষ্টা (গম্ভীর মুখে): এটা নিঃসন্দেহে আপনার জন্য ভালো সংবাদ। কিন্তু ড. বসুর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শ দুঃসংবাদ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী: তার মানে?
অর্থ উপদেষ্টা: কৌশিক বসু বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে করেন একটা দেশের ইকনমির উন্নতি ও প্রসারের জন্য ভালো আদর্শিক গুনগুলো খুবই দরকার। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যক্তির মধ্যে সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং চারিত্রিক শুদ্ধতা থাকতেই হবে। কৌশিক আরো মনে করেন, সরকারের মধ্যে এবং জনগণের আলোচনার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থ চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। ঘুষ দেয়া-নেয়া সম্পর্কে কৌশিকের হ্যারাসমেন্ট ব্রাইবস (Harassment Bribes) বা হয়রানিমূলক ঘুষ থিওরি এখন বেশ আলোচিত।
প্রধানমন্ত্রী: হয়রানিমূলক ঘুষটা কি?
অর্থ উপদেষ্টা: এই যেমন পাসপোর্ট পাওয়া, রেশন কার্ড পাওয়া, এসব হলো নাগরিকদের বৈধ অধিকার। সে ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, রেশন কার্ড দেয়ার জন্য ঘুষ নেয়াটা হবে হয়রানিমূলক এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য।
প্রধানমন্ত্রী: হুম। ইকনমিক্সের লোক তো। পলিটিক্স বোঝেন না। এখন তিনি বিশ্ব ব্যাংকে ঢুকেছেন। পলিটিক্স যে কি সেটা তিনি বুঝবেন। বিশ্ব ব্যাংকে যে কি পরিমাণ দুর্নীতি আছে সে বিষয়ে আমার মন্ত্রীদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। তার আদর্শবাদিতা নিয়ে আপনি মোটেও দুশ্চিন্তা করবেন না। সময় এলে দুর্নীতির কাছে তিনিও নতি স্বীকার করবেন। আপনি তাকে পকেটে ভরার চেষ্টা শুরু করে দিন। ওনাকে লুক আফটার করার জন্য আমি দেশপ্রেমিক আবুল হোসেন, গাছমালিক ডেসটিনি আর ভূমিমালিক হলমার্ককে বলে দেব।
অর্থ উপদেষ্টা (ফাইল দেখে): দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৪-এ ব্রেটন উডস কনফারেন্সে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ। এই ব্যাংকের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পূজি বিনিয়োগে সহায়তা দানের উদ্দেশ্যে এই ব্যাংকের সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখন বিশ্ব ব্যাংকে ১৮৬ দেশের প্রতিনিধি আছে। প্রেসিডেন্ট পদে আছেন সাউথ কোরিয়ার জিম ইয়ং কিম। বোর্ড অফ ডিরেক্টস বা পরিচালনা পর্ষদে তার সঙ্গে আছেন পচিশজন একজিকিউটিভ ডিরেক্টর যারা পাচ বছরের মেয়াদে নিযুক্ত হন। তাদের সহায়তা করেন দুজন একজিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট। তিনজন সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট। চব্বিশজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। এদের সহযোগিতা করেন চিফ ইকনমিস্ট যার কথা একটু আগেই বললাম।
বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
প্রথম পর্যায় ১৯৪৪ থেকে ১৯৬৮-তে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইওরোপের পুনর্গঠনের কাছে বিশ্ব ব্যাংক নিযুক্ত থাকে। এই লক্ষ্যে ১৯৪৭-এর মার্শাল প্ল্যানে বিশ্ব ব্যাংক সাহায্য দেয়।
দ্বিতীয় পর্যায় ১৯৬৮ থেকে ১৯৮০-তে রবার্ট ম্যাকনামারা যখন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের দিকে ব্যাংক নজর দেয়।
তৃতীয় পর্যায়ে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ বিশ্ব ব্যাংক তাদের কাঠামোগত নীতি পরিবর্তনের আওতায় সচেষ্ট থাকে এশিয়া, আফৃকা ও ল্যাটিন আমেরিকাতে কোটি কোটি শিশুর স্বাস্থ্য উন্নতি, পুষ্টি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে।
চতুর্থ পর্যায় ১৯৮৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক সচেষ্ট থেকেছে চূড়ান্ত দারিদ্র্য কমানো, মাতার স্বাস্থ্য উন্নয়ন, এইডস ও ম্যালেরিয়া দূরীকরণ, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশ্বের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্ব পার্টনারশিপ বা সহযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে।
বিশ্ব ব্যাংকের ওপর আমেরিকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংকের বারো প্রেসিডেন্টের সবাই আমেরিকান নাগরিক। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ম কিম কোরিয়ান হলেও তার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। বিশ্ব ব্যাংকের ভোটাধিকারেও আমেরিকার প্রাধান্য আছে।
প্রধানমন্ত্রী: ভোটাধিকার পরিবর্তনের কথা আমি বলেছি। এটা বদলাতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা: আপনি ঠিকই বলেছেন। বর্তমান ভোটাধিকারের লিস্ট হচ্ছে :
আমেরিকা ১৬%
জাপান ৭%
চায়না ৪%
জার্মানি ৪%
ইউকে ৪%
ফ্রান্স ৪%
ইনডিয়া ৩%
রাশিয়া ৩%
সউদি আরব ৩%
ইটালি ৩%
অন্যান্য ৪৯%
আমি রাউন্ড ফিগারে বললাম। ২০১০-এ ভোটিং পাওয়ার পরিবর্তিত হবার পর বর্তমান অবস্থা এটাই। তখন অধিকাংশ উন্নত দেশের ভোটিং পাওয়ার কমিয়ে কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের ভোটিং পাওয়ার বাড়ানো হয়। এই দেশগুলো হলো- সাউথ কোরিয়া, টার্কি, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, গৃস, ব্রাজিল, ইনডিয়া, ও স্পেন। গরিব দেশ নাইজেরিয়ার ভোটিং পাওয়ার কমানো হয়। আমেরিকা, রাশিয়া ও সউদি আরবের ভোটিং পাওয়ার অপরিবর্তিত থাকে। ইওরোপিয়ান দেশগুলো ভোটিং পাওয়ার পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করেছিল। তারা চেয়েছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরো ক্ষমতা দিতে। সে যাই হোক। এই পরিবর্তনের মাত্র দুই বছর পরেই আপনি আবার একটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন। সেটা কি গ্রাহ্য হবে?
প্রধানমন্ত্রী: আলবৎ হবে। ভোটাধিকার ও তার প্রয়োগ বিষয়ে আমার চাইতে বেশি দুনিয়ার আর কেউ জানে না। আমি সেটা জানি বলেই ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয়ী হতে পেরেছি। যাই হোক। এতক্ষণ তো আপনি বিশ্বব্যাংকের ইতিহাস বয়ান করলেন। বিশ্ব ব্যাংকের কি সংস্কারের প্রস্তাব আমরা করব সেটা তো বললেন না।
অর্থ উপদেষ্টা: বিশ্ব ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটা বড় সমালোচনা হচ্ছে যদিও এটি ১৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে তবু এটি পরিচালিত হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী গুটিকয়েক দেশ দ্বারা। অবশ্য এরাই বিশ্ব ব্যাংকের অধিকাংশ টাকার জোগান দিয়ে থাকে। এই গুটিকয়েক দেশই বিশ্ব ব্যাংকের নেতৃত্ব এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্টে কারা থাকবেন সেটা স্থির করে দেয়। তাই সেসব দেশের স্বার্থই রক্ষা করে বিশ্ব ব্যাংক। ছোট এবং গরিব দেশগুলোর স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। এই সিসটেম বদলাতে হবে। ছোট এবং গরিব দেশগুলোকে সাহায্য দানের যে স্ট্র্যাটেজি বিশ্ব ব্যাংক অনুসরণ করে সেটাও বদলাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী (একটু অসহিষ্ণু স্বরে): কিন্তু সে জন্য কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা তো বললেন না। (প্রাইভেট সেক্রেটারির দিকে তাকিয়ে) আপনি দেশে মুহিত সাহেবকে ফোন করুন। তাকে বলুন বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার বিষয়ে তার কিছু প্রস্তাব আমি জানতে চাই।
পিএস তার মোবাইল ফোন থেকে অর্থমন্ত্রীকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিষয়টি জানালেন। তারপর মোবাইল ফোনটা প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন।
অর্থমন্ত্রী: আমি সম্প্রতি সিলেট গিয়ে বলে এসেছি দুর্নীতি দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। দ্রুত সেটা রোধ করা সম্ভব নয়। সব রাবিশ হয়ে গিয়েছে। টোটালি রাবিশ। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতি দ্রুত রোধ করতে হবে। নইলে আমাদের পদ্মা সেতু প্রকল্প বিলম্বিত হবে। আমার সাজেশন, বিশ্ব ব্যাংককে শুধু অর্থনীতিমুখী নয় − রাজনীতিমুখীও করতে হবে। তাই দেশে যেমন আপনার নির্দেশে রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা সম্প্রতি আরো নয়টি ব্যাংক খোলার অনুমতি দিয়েছি ঠিক তেমনি বিশ্ব ব্যাংকের বহু ব্রাঞ্চ সদস্য দেশগুলোতে খুলতে হবে। এখন সদস্য দেশগুলোতে বিশ্ব ব্যাংকের শুধু অফিস থাকে। আপনি প্রস্তাব দিতে পারেন, ভবিষ্যতে সদস্য দেশগুলোতে শুধু অফিসই নয়, ব্রাঞ্চও যেন থাকে। যেমন, বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক সিলেট ব্রাঞ্চ, বিশ্ব ব্যাংক খুলনা ব্রাঞ্চ ইত্যাদি। এসব ব্রাঞ্চে পাবলিক টাকা-পয়সার লেনদেন করতে পারবে। আমাদের সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ব ব্যাংককে কমার্শিয়াল অপারেশনে যাবার অনুমতি দেবে।
প্রধানমন্ত্রী: ভালো প্রস্তাব। ধন্যবাদ। (কানেকশন কেটে দিয়ে পিএসকে) এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিয়ার সাহেবকে ফোন করুন।
গভর্নরকে কল দিয়ে পিএস মোবাইল ফোনটা আবার প্রধানমন্ত্রীকে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রী: আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন আমি বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি। এ বিষয়ে আপনার সাজেশন কি?
গভর্নর: প্রথম কথা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের তুলনায় বিশ্ব ব্যাংক তো ব্যাংকই না। ওদের কারেন্সি নোট কোথায়? আপনি প্রস্তাব দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন নোট ছাপায় ঠিক তেমনি বিশ্ব ব্যাংককেও নোট ছাপাতে হবে এবং প্রতিটি নোটে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী: কোন যুক্তিতে আমি ওদের নোটের বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপতে বলব?
গভর্নর: কারণ বর্তমান সময়ে বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের সাহসী প্রস্তাবটা দিয়েছেন একমাত্র আপনিই − অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং বিশ্ব ব্যাংকের নোটে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির ছবি ছাপানোর প্রস্তাব অতি সঙ্গত।
প্রধানমন্ত্রী: খুবই ভালো যুক্তি। আর কোনো প্রস্তাব?
গভর্নর: হ্যা। সম্প্রতি হলমার্ক যে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে বলে দেশের সব মিডিয়া হাউকাউ করছে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু প্রস্তাব করতে চাই। দি এশিয়ান ব্যাংকার নামে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিন বলেছে, সোনালী ব্যাংকই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ব্যাংক। তাই আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একমত, চার হাজার কোটি টাকা কোনো ব্যাপারই না। বিশ্ব ব্যাংকের শাখা ব্যাংকগুলোকে সীমাহীন পরিমাণে ঋণ দেয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। এসব ঋণের কোনো ক্লাসিফিশেন হবে না। কোনো অডিট করা যাবে না। এসব ঋণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দায়ী থাকবে না। এসব ঋণ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় শাখা প্রধানদের ইমিউনিটি দিতে হবে − অর্থাৎ তাদের কোনো শাস্তি দেয়া যাবে না। এসব শাখা প্রধানরা যাকে খুশি তাকে ঋণ দিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী: এটা বলব কোন যুক্তিতে?
গভর্নর: আপনি সব সময় জনগণের কথা ভাবেন। জনগণের কল্যাণের কথা বলেন। জনগণ কারা? জনগণ হচ্ছে অখ্যাত গরিব মানুষেরা। যেমন ধরুন, আমার বাবার মতো চাষি, মুটে-মজুর, ফেরিওয়ালা অথবা হলমার্কের কর্ণধার তানভিরের বাবার মতো ছোট ব্যবসায়ীরা। আমাদের সোনালী ব্যাংক তানভিরকে বিনা প্রশ্নে ঋণ দিয়েছে বলেই তো হলমার্ক গ্রুপের এত দ্রুত এত উন্নতি হয়েছে। সুতরাং বিশ্ব ব্যাংক সত্যিই যদি কোনো গরিব দেশের দ্রুত উন্নতি চায় তাহলে তাদের স্থানীয় শাখা থেকে অখ্যাত গরিবদের অকাতরে ঋণ দিয়ে যেতে হবে। এটা বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী: মানলাম। হ্যা। ব্যাংক হবে জনগণের জন্য। আর কোনো প্রস্তাব?
গভর্নর: বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় শাখার স্টাফসহ সবারই ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাজেরো ও প্রাডো গিফট নেয়ার অধিকার থাকবে। এর ফলে তারা খুশি মনে কাজ করতে পারবেন। হলমার্ক গ্রুপ বাংলাদেশে এই কালচার প্রতিষ্ঠা করে সুফল দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিস পুলের গাড়িগুলো, এমনকি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-উপদেষ্টার গাড়িগুলোও এভাবে আসতে পারে। এর ফলে সরকারের অনেক সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী: ভালো যুক্তি দিয়েছেন। বিশ্ব ব্যাংক তো সব সময় পরামর্শ দেয় সরকারি খরচ কমাতে। ভর্তুকি কমাতে। আর কোনো প্রস্তাব?
গর্ভনর: সিকিউরিটি বা বন্ধক হিসেবে ঋণগ্রহীতারা যদি সরকারি খাস জমির ভুয়া দলিল জমা দেয় এবং তার ভুয়া দাম যদি বলে, তা বিনা প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের শাখা গ্রহণ করবে। এই পদ্ধতিতে হলমার্ক গ্রুপ তাদের ব্যবসার প্রসার দ্রুত বাড়িয়েছে। জনগণ উপকৃত হয়েছে। মনে রাখবেন, আপনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যা। হ্যা। জনগণ। জনগণ। আমি জনগণের প্রধামন্ত্রী। আমাকে তো জনগণের মঙ্গলের কথা ভাবতেই হবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ গর্ভনর সাহেব। আপনি চালিয়ে যান। আপনি মুহিত সাহেবের মতো পালিয়ে যাবার কথা ভাববেন না। আমি আপনার পদে এক্সটেনশন দেব। (লাইন কেটে দিয়ে ফোনটা পিএসকে ফেরত দিলেন। তারপর অর্থ উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে) আপনারা সবাই তো অনেক সাজেশন দিলেন। কিন্তু আসল সাজেশনটাই কেউ দেননি।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): সেটা কি?
প্রধানমন্ত্রী: বিশ্ব ব্যাংকের সর্বস্তরে আমাদের দলের লোকজনকে বসাতে হবে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান পদে একজন বাংলাদেশিকে বসানোর প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম। এ বছর ২২ ফেব্রুয়ারিতে জিন ল্যামবার্ট-এর নেতৃত্বে ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের যে ডেলিগেশন ঢাকায় এসেছিলেন তাদের আমি বলেছিলাম, ড. ইউনূসকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে নমিনেশন দিতে। তখন তারা ভেবেছিলেন আমি ব্যঙ্গ করে ড. ইউনূসের কথা বলেছি। না। তারা ভুল করেছিলেন। আমি সিরিয়াসলিই বলেছিলাম। ড. ইউনূস অবশ্য পাচ দিন পরেই বিবৃতি দিয়ে আমার এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হয় আমিও হয়তো একটা ভুল করেছিলাম। ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব না করে আমাদের দলীয় মানুষ মুহিত সাহেবের নামটা প্রস্তাব করা উচিত ছিল। অথবা (অর্থ উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে) আপনার নাম। আপনাদের দুজনারই বিশ্ব ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। যাক, যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের প্রস্তাবনামালায় আমি জুড়ে দেব, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রভৃতি শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা প্রভৃতি ব্রাঞ্চে আওয়ামী লীগের অনুমোদিত মানুষজনকে নিয়োগ দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে আমরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং সিসটেমে গতিশীলতা ও উন্নতি আনতে পেরেছি। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী-জনতা-রূপালীসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ গোটা ব্যাংকিং সিসটেমের প্রতি জনগণের আস্থা বিশালভাবে বাড়াতে পেরেছি। বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর সাফল্য এখন বিশ্ব ব্যাংককে অনুকরণ করতেই হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): অসাধারণ! অসাধারণ! অসাধারণ!
অর্থ উপদেষ্টা: নেত্রী, আপনার প্রায় একশ রঙিন ছবিসহ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন শিরোনামে একটি সুভেনির বই আজ যুগপৎ নিউ ইয়র্ক ও ঢাকায় প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এসব প্রস্তাব মোতাবেক বিশ্ব ব্যাংকে সংস্কার হলে আগামী বছর আমরা বিশ্বনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন শিরোনামে বই প্রকাশ করব। ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী (স্বগতোক্তি): ইনশাআল্লাহ।
এমন সময় সুইটের দরজায় টোকা পড়ল।
পিএস দরজা খুলে দিলেন।
অনেক ফুলের একটা বিরাট তোড়া হাতে ঘরে ঢুকলেন গ্র্যান্ড হায়াট হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার।
জেনারেল ম্যানেজার (প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ছোট কুর্নিশ করে): আপনাকে একটা বিরাট সুসংবাদ জানাতে আমি নিজেই এসেছি। ইটস রিয়ালি এ গ্রেট নিউজ!
প্রধানমন্ত্রী (কৌতূহলী স্বরে): গ্রেট নিউজ? কি সেটা?
জেনারেল ম্যানেজার (ফুলের তোড়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে) : আমরা এই মাত্র খবর পেয়েছি, এ বছর আপনি নোবেল প্রাইজ পাবেন!
প্রধানমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, পিএস (সমস্বরে): আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ!
জেনারেল ম্যানেজার: কোনো নোবেল বিজয়ীকে সরাসরি এভাবে খবর দেয়াটা আমার জীবনে এই প্রথম অভিজ্ঞতা। এই দিনটি আমার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। (একটা ছোট কাগজ পিএসের হাতে দিয়ে) ঢাকা থেকে খবরটি এসেছে, এই নাম্বার থেকে। তিনি আপনাদের সরাসরি কনটাক্ট করতে পারছিলেন না। তাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কংগ্রাচুলেশন্স এক্সেলেন্সি।
আবার কুর্নিশ করে জেনারেল ম্যানেজার চলে গেলেন।
কয়েক মুহূর্তে ওই সুইটের তিনজনই হতবিহ্বল থাকলেন।
পিনপতন নীরবতা ভেঙে পিএস ওই কাগজে লেখা নাম্বারে ফোন করলেন।
উৎসুক চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা।
ঢাকায় মোবাইল ফোনে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে অতি দ্রুত পিএসের চেহারা বদলে যেতে থাকল।
কঠোর থেকে কঠোরতর হতে থাকল তার চেহারা।
তিনি শুধু শুনে যাচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে তিনি লাইনটা কেটে দিলেন।
পিএস (বিমর্ষ মুখে): এটা সেই হাজী কামেল মিয়ার কামেল। আগামী ইলেকশনে তার ছোট ছেলে নোবেল আমাদের দল থেকে প্রার্থী হতে চায়। নোবেলকে দল ও দেশের মধ্যে সুপরিচিত করার লক্ষ্যে হাজী কামেল বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূচনা নোবেল পুরস্কারটি তিনি আপনাকেই দিয়েছেন। এই পুরস্কার দেয়ার অনুমতির জন্যই তিনি কয়েক দিন যাবৎ আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইছিলেন। (একটু চুপ থেকে বিচলিতভাবে) এত বড় দুই নাম্বারি? এত বড় দুই নাম্বারি? এখন আমরা কি করব?
প্রধানমন্ত্রী (হাসি মুখে): কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না। সারা বিশ্ব জুড়ে দুই নাম্বারি এখন এক নাম্বার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তো একটা দুই নাম্বারি তাজমহলও হয়েছে। সুতরাং দুই নাম্বার নোবেল প্রাইজও হতে পারে। আর দুই নাম্বার হলেই যে সেটা খারাপ হবে তার কোনো মানে নেই। দুই নাম্বার তাজমহল দেখতে তো প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে। আমাদের সরকারের প্রচেষ্টায় আমরা এই দুই নাম্বার নোবেল প্রাইজকে এক নাম্বার করতে পারব। (চোখ নাচিয়ে) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে আমি ক্ষমতায় থেকে যে ইলেকশন করতে যাচ্ছি, তাকে বিরোধী দলগুলো দুই নাম্বার বলবে। কিন্তু আমি ওই ইলেকশনকেও এক নাম্বার বলে সারা বিশ্বে চালিয়ে দিতে পারব। আত্মবিশ্বাস রাখুন। সাহস রাখুন। আমরা বলেছিলাম টিফিনের পয়সা বাচিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারব। তার দরকার হয়নি। আমার ছেলে জয় বলেছে, দুর্নীতি হয়নি বলেই পদ্মা সেতুতে ফিরতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। ঠিক তেমনই বিশ্ব ব্যাংক সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হলে এবং তার ফলে আজকের দুই নাম্বার বিশ্ব ব্যাংক এক নাম্বার হলে, নোবেল প্রাইজ কমিটিও বাধ্য হবে আমাকে ইকনমিক্সে নোবেল প্রাইজ দিতে।
অর্থ উপদেষ্টা ও পিএস (যুগ্ম স্বরে): ইনশাআল্লাহ!
২ অক্টোবর ২০১২
শফিক রেহমান: প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাংকর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
October
(1721)
-
▼
Oct 23
(26)
- মেয়েদের মোবাইল ফোন দেবেন না, এতে তারা বেপরোয়া হয়
- দুর্গারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ মিডডে মিলে বদলেছে ...
- বিদায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়! by অমর সাহা
- বাজারে মসলার দাম দ্বিগুণ-ব্যবসায়ীদের যুক্তি গ্রহণয...
- কেলেঙ্কারির ব্যাংক-দায়ভার কে নেবে?
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
- পবিত্র কোরআনের আলো-সম্মানিত মাসেও আক্রমণের জবাবে আ...
- দুর্দিনের শিকার দেশের বেসরকারি খাত by ইফতেখার আহমে...
- সরকার ভিন্ন মতাবলম্বীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছেঃ এ...
- আমায় ক্ষমো হে-বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অভ্যন্তরীণ নি...
- ইমরান হাশমীর নতুন শিকার নেহা
- চরাচর-ইছামতিতে প্রতিমা বিসর্জন by ফখরে আলম
- কল্পকথার গল্প-চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে সামলে চলি হ্যা...
- মালালারা পরাভব মানতে জানে না by গাজীউল হাসান খান
- সুজানা চলছেন আপন মনে by কামরুজ্জামান মিলু
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আর নেই
- মৈত্রী বন্ধনে চাই নতুন গতি
- রম্য-ভাষাপ্রেম by সাইফুল আলম
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যত...
- যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী আটক-সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ...
- মুক্তিযুদ্ধের বন্ধুদের সম্মাননা-অনন্য অবদানের অটুট...
- কথা সামান্যই-মন্ত্রী হাজির by ফজলুল আলম
- মন্দিরে যুবকের শিরোচ্ছেদ, বন্ধুর দাবি ‘বলিদান’
- ড. ইউনূস, পঙ্গু লিমন বনাম সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্র by...
- বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের সহজ উপায় ... by শফিক রেহমান
-
▼
Oct 23
(26)
-
▼
October
(1721)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
salam
ReplyDeletewww.facebook.com/OnlineBanglaMedia te ekta like korer request. & www.onlinebanglamedia.com bangla portal ta circulate korer request rilo:) appreciate any useful website link, articles and of course valuable idea!!
Thanks