স্যামুয়েলসকে অস্ট্রেলিয়ানদের জবাব

শেন ওয়ার্ন এখনো চুপচাপ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস যেভাবে তাঁর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন, সেটার জবাবে এখনো কিছু বলেননি কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার। কিংবা হয়তো বলার দরকারই মনে করেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ানরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। সাবেক ও বর্তমান অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারই পাল্টা তোপ দেগেছেন স্যামুয়েলসকে। ওয়ার্নকে নিয়ে কটূক্তি করে এখন ব্র্যাড হাডিন, পিটার সিডল আর মিচেল স্টার্কদের রোষের মুখে স্যামুয়েলস। পুরোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে ওয়ার্নের ওপর সেদিন ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন স্যামুয়েলস। ওয়ার্ন অকারণে তাঁর সমালোচনা করেন—এই দাবি করে স্যামুয়েলস বলে দিয়েছিলেন, ‘জানি না সে কেন এসব করছে। হয়তো আমার চেহারাটা আসল, ওরটা আসল নয়—এ কারণেই!’ কিংবদন্তি স্পিনারকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যে খেপেছেন অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই। পেসার পিটার সিডল জবাব দিয়ে বলেছেন, ‘আসলে পারফরম্যান্স ভালো হলে তখন এভাবে কথা বললে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু স্যামুয়েলসকে তো আমি নিয়মিত পারফর্ম করতে দেখি না। যদি ক্রিস গেইল বলত, কিংবা আন্দ্রে রাসেল, তা-ও না হয় মানা যেত।’ সিডল সম্ভবত গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে স্যামুয়েলসের বাজে পারফরম্যান্স নিয়েই খোঁচা দিয়েছেন। ওই সিরিজে ৩ টেস্টের ৫ ইনিংসে ৭ গড়ে ৩৫ রান করেছিলেন স্যামুয়েলস। আরেক পেসার স্টার্কও ছেড়ে কথা বলেননি স্যামুয়েলসকে। তাঁর অধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘নির্ঘাত ও এত দিন এটা মনের মধ্যে পুষে রেখে ঘুরছিল। এর আগে তো এটা নিয়ে সে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলেনি। আমার মনে হয়, সে অপেক্ষা করছিল কবে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে পারবে, আর সেদিনই এটা বলবে। আশা করি, তার বুক থেকে এখন সেই ক্ষোভ নেমে গেছে। এখন থেকে ও শুধু ক্রিকেটটাই খেলুক।’ সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হাডিন অবশ্য এ দুজনের মতো এত কড়া ভাষায় জবাব দেননি। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নায়ক স্যামুয়েলস নন, কার্লোস ব্রাফেট। স্যামুয়েলসকে নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হচ্ছে বলে মনে করেন হাডিন, ‘টানা ৪ ছক্কা মেরে ফাইনালটা তো জেতাল ব্রাফেট। বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ ওভারে ও রকম চাপের মধ্যে এটা অসাধারণ পারফরম্যান্স। আমাদের তো উচিত ব্রাফেটের এই বীরত্ব নিয়ে কথা বলা। তার বদলে আমরা স্যামুয়েলস ওয়ার্নকে নিয়ে কী সব উল্টোপাল্টা বকেছে, সেসব নিয়ে মেতে আছি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এসব বিষয় নিয়ে কথা চালাচালি হওয়া দুঃখজনক।’