Showing posts with label শাহনেওয়াজ বিপ্লব. Show all posts
Showing posts with label শাহনেওয়াজ বিপ্লব. Show all posts

Sunday, September 29, 2013

অনুত্তীর্ণদের জন্য প্রশংসা-বচন by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

মাঝে মাঝে ভাবি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ সত্যিই এক আশ্চর্য দেশ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি থেকে একেবারেই আলাদা। সম্ভবত এটাই একমাত্র দেশ, যেখানে পরাজিতের কথা কেউ মনে রাখে না। পাঠান-মুঘল-ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে যেসব সৈনিক দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অনেকেরই যথাযথ জায়গা হয়নি বাংলার ইতিহাসে। ওই সব যুদ্ধে পরাজিত হয়ে যেসব সৈনিক রক্তাক্ত হয়ে ফিরে এসেছেন, সেসব পরাজিত সৈনিকের জন্য কোনো শোকগাথা নেই আমাদের। পরাজিতদের ভুলে যাই আমরা খুব দ্রুত। স্মৃতির কোনো কক্ষে আমরা তুলে রাখি না পরাজিতদের স্মৃতিচিহ্ন। পরাজিতের কবরে আমরা উৎসর্গ করি না কোনো রক্তগোলাপ। আসলে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিটাই এমন যে, ব্যর্থ আর সাফল্যহীনদের মনে রাখি না আমরা। আমরা কেবল মুক্তোর মালা পরিয়ে দিই, যারা সফল তাদের গলায়। কথাটা মনে হল এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সৌভাগ্য দেখে। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়ে গেছে এখন থেকে দেড় মাস আগে। আর ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সমাজ বদলের স্লোগানধারী দেশের অন্যতম একটি দৈনিক, নানা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক আর টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধিত করে চলেছে আজ অবধি। এর বাইরে বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো উল্লাসরত ছাত্রছাত্রীদের ছবি ছেপেছে। নিয়মিত সংবাদ প্রচার করেছে এসব সফলের স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে। সব সংবাদ প্রতিবেদনের গৎবাঁধা সুর ছিল একই : শিক্ষার মান বাংলাদেশে বেড়েছে, বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষার্থীর হার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা এগিয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি নানারকম কেচ্ছা-কাহিনী।
বাংলাদেশে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ১০ লাখ ২ হাজার ৪৯৬ জন পরীক্ষার্থী। তার ভেতরে পাস করেছে ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯১ জন। সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে চট্টগ্রামে। শতকরা ৩৯ জন পাস করতে পারেনি ওই বোর্ডে। পাসের এ রমরমা সময়ে চট্টগ্রামে প্রতি ১০০ জনে ৩৯ জন কেন পাস করতে পারল না, অথবা সারাদেশে সম্মিলিত হিসেবে বাকি ২৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী কেন পাস করতে পারল না? ইউরোপের দেশগুলোতে প্রশ্নটি এভাবেই তোলা হয়। জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় প্রতিবছর পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর দৈনিক পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের মতোই সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তবে বাংলাদেশের মতো করে নয়। পরীক্ষায় যেসব ছাত্রছাত্রী অকৃতকার্য হয়, সাংবাদিকরা জানতে চায় ওই সব অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে, কী দুঃখ ছিল তাদের মনে, কেন তারা পাস করল না? যারা ফেল করেছে তারা কি পাস করা ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে স্বভাবে ও চারিত্র্যে ব্যতিক্রম? কী অভাব ছিল ফেল করা ছাত্র বা ছাত্রীটির? তার কি বইয়ের অভাব ছিল অথবা খাবারের? ঘরে কি তার মা নেই অথবা বাবাকে হারিয়েছে ছোটবেলায়?
কিন্তু আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক এইচএসসি বা এসএসসিতে যারা ফেল করেছে যারা, তাদের কথা কোনো দিন ভাবেনি। তাদের কোনো সাক্ষাৎকার কোথাও ছাপা হয়নি। পরীক্ষায় ফেল করে যে আত্মহত্যা করেছে, তার কথা হয়তো লিখেছে সংবাদপত্রগুলো। কিন্তু গভীরে গিয়ে জানতে চায়নি কী দুঃখে ওই এইচএসসি ফেল করা ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে? কেন ছাত্রছাত্রীরা বেশি ফেল করে আমাদের দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারগুলোতে? সে কথা জানতে চায় না কেউ। না মা-বাবা, না বন্ধু-বান্ধবী, সমাজ-সাংবাদিক- কেউই। যারা ফেল করে, আমাদের সমাজ তাদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে শুধু নিন্দা আর মন্দ।
বলা হয়ে থাকে, জন্ম মানুষের ভাগ্যকে অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। যে ছাত্র বা ছাত্রীটি আজ চট্টগ্রামে কোনো গরিব মা-বাবার ঘরে জন্ম নিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সুবিধা না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে, সে যদি আমেরিকায় কোনো ধনী মা-বাবার ঘরে জন্মগ্রহণ করত, তাহলে তার জীবন তো অন্যরকম হতে পারত। এ কথাটি আমরা বুঝতে চাই না। অথচ এমন এক গরিব দেশে জন্ম আমাদের, দারিদ্র্য আর অনটনের শিকার হয়ে বেশির ভাগ গ্রামীণ শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসি পর্যন্ত কোনো রকমে লেখাপড়া চালিয়ে যায়। তাদের অনেকের হয়তো উপার্জনক্ষম কেউ নেই সংসারে। খাবার জোগানোর জন্য হয়তো দিনভর কাজ করতে হয়েছে ওসব ছাত্রছাত্রীকে। তাই যারা এবার এইচএসসিতে ফেল করেছ, তাদের বলছি- তোমরা হতাশ হয়ো না। সামর্থ্যে কুলালে পরের বার আবার চেষ্টা কর তোমরা। পৃথিবীতে বড় মনীষীরাও তো ফেল করেছে। আইনস্টাইন অংকে ফেল করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরীক্ষা-ভীতি ছিল। এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেয়া যায়।
পরিশেষে একটি কথা : যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের নিয়ে উল্লাস করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেন আমাদের ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের কথা ভুলে না যাই; সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সমাজ বদলের অধিকার শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের একচ্ছত্র নয়, বরং যারা ফেল করেছে তাদেরও আছে সমাজ বদলের সমান অধিকার। বিষয়টি সমাজ বদলের স্লোগানদাতারা ভেবে দেখবেন- এই আশা করছি।
শাহনেওয়াজ বিপ্লব : কবি, গল্পকার ও অস্ট্রিয়া প্রবাসী গবেষক

Saturday, August 31, 2013

সত্যিকারের নায়ক by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ। ভাষার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানের অধিকারী। কিন্তু আধুনিক অগ্রযাত্রায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অথবা মৌলিক গবেষণায় বাংলাদেশীদের অবদান বিবেচনা করলে পৃথিবীর ক্রম-আধুনিকতার পথে আমাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নেই বললেই চলে। একমাত্র যে নোবেল পুরস্কারটি বাংলাদেশ অর্জন করেছে তা-ও মৌলিক কোনো গবেষণায় নয়, বরং শান্তিতে। পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় আমাদের অবদান শেষ পর্যন্ত তাই কেবল শ্রমিকের ওপরই বর্তায়। ১৬ কোটি মানুষের দেশ হয়েও, সব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অথবা গবেষণায় নায়ক হয়ে উঠতে পারে না, সেটি এক প্রশ্ন বটে। আর এ প্রশ্নের উত্তরও নিহিত আছে আমাদের রাজনৈতিক সমস্যা ও সংস্কৃতির মধ্যে। বিএনপির আমলে যে ছেলে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গিয়েছে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে; উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে দেশে ফিরে এসে দেখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সে বিমানবন্দরের নাম পাল্টে রেখেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আওয়ামী লীগ পাঠ্যপুস্তকে এমএ হান্নানকে স্বাধীনতার ঘোষক লিখেছে, আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে সে পাঠ্যপুস্তক রদবদল করে দিয়ে লিখেছে মেজর জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। এরকম পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বিদ্বেষ আর ঘৃণার ভেতর বড় হয়ে ওঠে আমাদের শিশু-কিশোররা। রাজনীতির স্বার্থে পাঠ্যপুস্তক আর ইতিহাস পাল্টে দেয়ার ফলে আমাদের ইতিহাসের প্রকৃত নায়কদের খুঁজে পাওয়া হয়ে ওঠে না ছাত্রছাত্রীদের। তারা পাঠ্যপুস্তকে যা পড়ে, সেসব আর বিশ্বাসও করে উঠতে পারে না। সেজন্য দেখা যায়, সদা সত্য কথা বলবে, মিথ্যা বলা মহাপাপ- এসব সদুপদেশ কোনো আলোড়ন জাগায় না আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মনে, কেননা তারা দেখে দেশের অনেক মন্ত্রী থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী, পুলিশ- এরা নিজেরাও সেসব আপ্তবাক্য মানেন না।
অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরিপ্রার্থীর উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার চেয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে সে আওয়ামী লীগ না বিএনপির সমর্থক সেই পরিচয়। আর এর ফলে হতোদ্যম হয়ে পড়ে আমাদের গবেষক, আমাদের বিজ্ঞানীরা। তারপর কেউ আবার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও সাদা দল, নীল দল, গোলাপি দল অথবা ডাক্তার হলে ড্যাব অথবা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ। রাজনীতির এসব টালবাহানা সামলাতে সামলাতে নতুন চিন্তা অথবা গবেষণার কাজে আর মনোযোগ দেয়া হয়ে ওঠে না অনেকের পক্ষেই। এ সংস্কৃতির পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য কারণেই আমাদের দেশে কোনো নায়কের প্জন্ম হয় না, বরং খলনায়কেরাই আমাদের দিনযাপনের অংশ হয়ে থাকে। দেশের প্রধান দৈনিকগুলো খুললে তাই দেখা যায় প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো খলনায়কের ছবি। মন্ত্রীর বাসায় ৭০ লাখ টাকা পৌঁছে দিতে গিয়ে কেউ ধরা পড়ছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি কেলেংকারি। এসব চলতে চলতে মন্ত্রী হয়তো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে টেলিভিশনের টকশোতে ডাকছেন ‘বেয়াদবের হাড্ডি’ ইত্যাদি ইত্যাদি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশে যে যত ইতর সে তত বড় নায়ক! আর এসব নায়কের ইন্টারভিউ ও ছবি নেয়ার জন্য সাংবাদিকদের ক্যামেরা আর কলম নিয়ে নিত্য চলছে দৌড়ঝাঁপ। আমার আপত্তিটা এখানেই। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে এসব খলনায়কের চেহারা ও খবর। আর এসব জায়গায় নিয়ে আসতে হবে মাকসুদুল আলমের মতো আমাদের সত্যিকারের নায়কদের ছবি। আমাদের জাতির সত্যিকারের নায়ক মাকসুদুল আলম পাট গাছের ক্ষতিকর ছত্রাকের প্রাণভোমরা চিহ্নিত করেছেন। তার এ গবেষণা, আমাদের কৃষকদের জন্য এক নতুন শুভবার্তা। তার গবেষণা ও যুগান্তকারী এ আবিষ্কার বদলে দেবে আমাদের ফসল উৎপাদনের আগামী ইতিহাসও।
তাই মাকসুদুল আলমের মতো বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ আর গবেষকদের আমাদের পাঠ্যপুস্তকে আরও বেশি করে নিয়ে আসতে হবে। পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় ও পাঠ্যপুস্তকে শিশুদের আগ্রহের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানী, গবেষক আর সৎ মানুষদের ছবি। উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আমলা- যারা দুর্নীতি অথবা অসভ্য আচরণের সঙ্গে জড়িত, তাদের ছবি আর খবরগুলো স্থানান্তরিত করে দিতে হবে তৃতীয়, চতুর্থ অথবা পত্রিকার ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোয়, যাতে করে প্রতিদিন সকালে আমাদের শিশুরা নাস্তার টেবিলে বসে এসব কুৎসিত মুখ দেখতে না পায়। যদি এটা করা হয়, গত ৪০ বছরে আমাদের বাংলাদেশ তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন করতে পারেনি তো কী হয়েছে- আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ঠিকই একদিন বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে তুলে নিয়ে আসবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর তালিকায়। আর এ স্বপ্নের বীজ তাদের বুকে এখনই বুনে দিয়ে যেতে হবে আমাদের।
শাহনেওয়াজ বিপ্লব : গল্পকার, ভিয়েনা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত

Wednesday, December 5, 2012

যন্ত্রের নাম 'ষড়যন্ত্র'! by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

আমেরিকা, ইউরোপ আর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ধনী ও উন্নত দেশগুলো যখন প্রযুক্তিগত উন্নতির শিখরে পৌঁছার জন্য নানা রকমের যন্ত্র আবিষ্কার করে চলেছে, তাতে প্রভাবিত হয়েই হয়তো আমাদের বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে এক যন্ত্রের পেছনে তাদের পুরো সরকারি মনোযোগ নিবিষ্ট করেছে। যন্ত্রটির নাম 'ষড়যন্ত্র'।

Wednesday, November 7, 2012

নায়কের নাম হোক 'মাকসুদুল আলম' by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ। ভাষার দিক থেকেও বাংলাদেশ পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানের অধিকারী। কিন্তু পৃথিবীর আধুনিক অগ্রযাত্রায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অথবা মৌলিক গবেষণায় বাংলাদেশিদের অবদান বিবেচনা করলে ক্রম-আধুনিকতার পথে আমাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নেই বললেই চলে।

Sunday, October 21, 2012

রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলা ফেসবুক কতটা দোষী? by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দোষী কে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে পানিও অনেক ঘোলা হয়েছে। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ সে ঘোলা পানিতে নেমে নিজেদের সুবিধামতো মাছটি ধরার চেষ্টাও করেছে। অনেকেই স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনায় নিষ্ক্রিয় থাকার দোষে অভিযুক্ত করেছে।

Wednesday, October 10, 2012

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের জন্য দুঃখগাথা by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

১. আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্প পড়েছিলাম ছেলেবেলায়। পড়তে পড়তে একটা শিহরণ খেলে যেত শরীরে, কিভাবে আলী বাবার সহায়তায় চল্লিশজন চোর মিলে চুরি করা সম্পদের মজুদ গড়ে তুলেছিল- তার এক রোমহর্ষক কাহিনী।

Tuesday, September 25, 2012

বাংলাদেশের বোকাদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি! by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশে অতি-অজস্র-অনেক চালাক-চতুর লোকের ভিড়ে কিছু কিছু বোকা মানুষের মুখ জেগে থাকে মনের আয়নায়, যাঁদের কথা ভোলা যায় না, যাঁদের কথা ভুলতে পারি না কখনো। মনে পড়ে বেশ, আমাদের চাটগাঁর সীতাকুণ্ডের মাছ ব্যবসায়ী কাদের ভাইয়ের কথা।

Wednesday, September 12, 2012

এইচএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের জন্য প্রশংসা-বচন by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

মাঝেমধ্যে ভাবি, আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ সত্যিই এক আশ্চর্য দেশ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি থেকে একেবারেই আলাদা। সম্ভবত এটাই একমাত্র দেশ পৃথিবীতে, যেখানে পরাজিতের কথা কেউ মনে রাখে না। পাঠান-মোগল-ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে যেসব সৈনিক দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, তাদের অনেকেরই যথাযথ জায়গা

Thursday, August 30, 2012

নগর উন্নয়ন-ভিয়েনা কেন শ্রেষ্ঠ শহর by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

পুলিশের চাকরি অস্ট্রিয়ায় সবচেয়ে সম্মানিত। স্কুল-কলেজগুলোতে শৈশব থেকেই ছেলেমেয়েদের স্বপ্নের চাকরি হচ্ছে পুলিশ। গত বছর জনমত জরিপে অস্ট্রিয়ার পুলিশ ১ নম্বরে, বিচার বিভাগ ২ নম্বরে. রাজনীতিকরা ৩ নম্বরে স্থান পেয়েছেন।

Wednesday, August 29, 2012

বন্ধ হোক সব 'সহৃদয় হত্যাকাণ্ড' by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশের মানুষ একটি স্লোগানের সঙ্গে খুব পরিচিত। স্লোগানটি হচ্ছে- লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।' বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা চলছে, সে বিচারে তো বটেই, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও 'লড়াই'য়ের জায়গায় আমরা আর পৌঁছতেই পারছি না।

Sunday, August 12, 2012

মূল্যবৃদ্ধির থাবায় ঈদের আনন্দ by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

অন্যান্যবারের মতো এবারও ঈদ সামনে রেখে বাজার আগুন হয়েছে। রোজার শুরু থেকেই ছোলা, সয়াবিন- এসবের দর চড়চড় করে চড়েছে। যে শার্ট গত বছর ৮০০ টাকায় কেনা গেছে, সে শার্ট এবার দাম বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা।

Thursday, July 19, 2012

শেখ হাসিনা অনমনীয় : তাঁর শক্তি, তাঁর সমস্যা by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাব নিয়ে অনেক কথা বাজারে চালু আছে। অনেকেই মনে করেন, সরকারি নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর অনমনীয় মনোভাব; অনেক সময় দেশ আর তাঁর নিজের দল আওয়ামী লীগের জন্যে বিপদ ডেকে আনে।

Tuesday, June 19, 2012

আইনের শাসন ও বাংলাদেশ by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে কি না, শেয়ারবাজার আদৌ স্থিতিশীল হয়ে উঠবে কি না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নেবে কি নেবে না- এ রকম বহু প্রশ্ন আছে। কিন্তু এসব প্রশ্ন ছাড়িয়ে আপাতত যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশে আইনের শাসন কোথায়? রাজধানী ঢাকার বুকে দিনদুপুরে সড়ক

Sunday, June 10, 2012

বাংলাদেশের গণন-তন্ত্র! by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

১. গণতন্ত্র কাকে বলে? গণতন্ত্রের যে প্রচলিত সংজ্ঞা, তা বলতে গেলে অচল আমাদের বাংলাদেশে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতারা গণতন্ত্র বলতে বোঝেন, যে গণনা বা যে সংখ্যাটা তাঁদের পক্ষে বা তাঁদের রাজনীতির অনুকূলে, সেটাই সঠিক; আর যে সংখ্যা বা হিসাবটা তিনি যে রাজনৈতিক দলের আরাধনা করেন, তার বিপক্ষে যায় তাহলে নেতারা সেটি ওই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখেন।

Sunday, April 29, 2012

স্বচ্ছতাও আজ স্রেফ একটা মুখোশ! by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়িতে পাওয়া ৭০ লাখ টাকার কেলেঙ্কারি নিয়ে পানি অনেক ঘোলা হলো। সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা আর বিরোধী দল বিএনপির নেতারা সেই ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ইতিমধ্যে।

Saturday, April 21, 2012

স্বচ্ছতাও আজ স্রেফ একটা মুখোশ! by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়িতে পাওয়া ৭০ লাখ টাকার কেলেঙ্কারি নিয়ে পানি অনেক ঘোলা হলো। সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা আর বিরোধী দল বিএনপির নেতারা সেই ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ইতিমধ্যে। রাজনীতির মাঠ থেকে সংবাদপত্রে বিবৃতি- উভয় পক্ষের মধ্যে দুর্নীতি নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়িও অব্যাহত। উভয় পক্ষই প্রমাণ করতে চাইছে, তারাই সৎ, তারাই স্বচ্ছ।

Friday, March 30, 2012

লেখালেখিতে ভাবনার চুরি by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

নিজের নামকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়া অথবা বিখ্যাত হয়ে ওঠার চেষ্টা মানুষের নিরন্তর, কিন্তু চাইলেই তো আর বিখ্যাত হওয়া যায় না। লেখালেখি বা সাহিত্যে বিখ্যাত হওয়ার জন্য দরকার এমন কোনো বড় রকমের সাহিত্য বা শিল্পকর্ম, যা হতে হবে সর্বোচ্চ সৃজনশীল আর স্বতন্ত্র।

Sunday, March 4, 2012

চিকিৎসাসেবার তুলনামূলক চিত্র by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশের অন্য আরো ১০টি ক্ষেত্রের মতো চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এক হতাশাজনক চিত্রের সাক্ষাৎ মেলে। ছোটবেলায় ডাক্তারদের সেবার মহোত্তম কাহিনীগুলো শুনতাম দাদি, নানি আর ফুপু-খালাদের মুখে। গ্রামের কোনো কোনো ডাক্তার নিজ থেকেই খবর নিতেন রোগীদের, তাঁর ব্যবস্থাপত্র দেওয়া রোগীদের সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য।

Monday, February 27, 2012

গ্রেট ব্রিটেন সত্যিকারের গ্রেট ব্রিটেন নয় by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

সারা পৃথিবীর অর্থনীতি টালমাটাল। তার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থা শোচনীয়। দেনার দায়ে গ্রিসের অর্থনীতি প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী। গ্রিস ছাড়াও ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল এবং আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিও রোগশয্যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ত্যক্তবিরক্ত।

Thursday, February 23, 2012

বাজেটে উপেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

বাংলাদেশের কথা ভাবলে আমাদের মনে পড়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের কথা। বাংলাদেশের কথা মনে হলে আমাদের মনে আসে বগুড়া, কুষ্টিয়া, মুন্সীগঞ্জ অথবা কক্সবাজারের কথা। পার্বত্য চট্টগ্রাম; তার খাগড়াছড়ি, বান্দরবান আর রাঙামাটির কথা, আমাদের মনেই আসে না।