যেখানে চিকি ৎ সা প্রশাসনেরই চিকি ৎ সা দরকার-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকার ঘটনার মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অনেক গোমরই ফাঁস হয়ে যায়। তবে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গোচরে আনেনি; গোচরে এনেছে সরকারি প্রতিশ্রুতি-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তথ্যটি জনস্বাস্থ্যের জন্য যেমন হুমকির, তেমনি স্বাস্থ্য প্রশাসনের দুর্নীতির ডুবো পাহাড়ের চূড়ার আভাস।


সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ এই যে কীভাবে সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকে, যেখানে রোগীরা ওষুধের অভাবে ভুগছে? পাশাপাশি রোগীদের জন্য বরাদ্দ ওষুধ তাদের না দিয়ে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল কেন, সেটাও দরকারি প্রশ্ন। এই ওষুধের গন্তব্য কি চোরাবাজার, যেখান থেকে আবার সাধারণ মানুষকে এগুলো কিনে ব্যবহার করতে হয়? সুতরাং মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পড়ে থাকার অর্থ হলো, তা কারচুপির মাধ্যমে বাজারে বিক্রির জন্য রাখা এবং সেবার ওষুধকে পণ্য হিসেবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে ব্যবসা করা। দেখা দরকার, স্বাস্থ্য প্রশাসনে প্রতিষ্ঠিত কারা কারা এই ওষুধ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালের রোগীদের দেওয়াও বিপজ্জনক। চোরাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে রোগীদের ঠকানোও একই রকম বিপজ্জনক। কারণ, এসব ওষুধ সেবন করে রোগীদের আরও স্বাস্থ্য-বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা থাকে। এত সব জেনেও যাঁরা এ ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা নিছক দুর্নীতিবাজ নন; তাঁরা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি।
যেসব হাসপাতালে এই দুর্নীতি-অনিয়ম ঘটেছে, সেসব হাসপাতালের প্রশাসনের এ ব্যাপারে জবাবদিহি করা উচিত। জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। এ ঘটনা সার্বিকভাবে দেশে সরকারি সেবার মানের হতাশাজনক চিত্র উপস্থাপন করেছে। যাদের দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি, সেসব রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীন আচরণের কারণেই এ রকম জালিয়াতি কেবলই বাড়ছে। জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য এভাবে দুর্নীতিবাজ ও স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
সম্প্রতি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অবহেলা ও অনিয়মের নানা ঘটনা জনমনে ব্যাপক আশঙ্কা জাগিয়েছে। এর প্রতিকারে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থার খতিয়ান নিতে জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করা দরকার। চিকি ৎ সাসেবা খাতকে দুর্নীতি ও অবহেলামুক্ত না করা গেলে সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে দায়ী হবে। সরকারি প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিরও ভেবে দেখা উচিত, সরকারের ক্রমাগত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়ে তারা কী বলবে?