Sunday, August 16, 2009
১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্দিন আহমেদ
১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্দিন আহমেদ
ফখরুদ্দিন আহমেদ ১৯৭৪ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার হোতাদের তত্পরতা তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এখানে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিবরণ তুলেধরেছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকাল সকাল গুলির শব্দে আমরা জেগে উঠি। এই শব্দ সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৫ সালের ঘানার কথা। ঘানার রাজধানী আক্রাতে রাষ্ট্রপতি নত্রুদ্ধমার পতাকাশোভিত বাড়িটি থেকে আমাদের বাসা খুব একটা দূরে ছিল না। আক্রাতে ১৯৬৫ সালে মার্চের এক সকালে একদল নিম্নপদস্থ সামরিক অফিসার অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং নক্রুমার শাসনের অবসান ঘটে। নক্রুমা তখন রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে ছিলেন। ১৫ আগস্টের গুলির শব্দে আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ঘানার সেই অভ্যুত্থানের ঘটনা। কিছুক্ষণ পর বেতারে তা নিশ্চিত করা হয়।
১৫ আগস্টের আগে একজনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি আমার দেখা ১৯৬৫ সালের ঘানার কাছাকাছি। ব্যক্তি হিসেবে নত্রুদ্ধমা খুবই জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তাঁর একদলীয় ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর তাঁর একান্ত সহচরেরা প্রকৃত অবস্থা তাঁকে অবগত করেনি। অন্যদিকে, আক্রাও অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল কূটনৈতিক তত্পরতায় এবং তা বিবেচিত হতো আফ্রিকার স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে দেশের পরিস্থিতি অনেকটা ১৯৬৫ সালের ঘানার মতোই ছিল। বঙ্গবন্ধু একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে নিজে খুব তৃপ্ত ছিলেন বলে মনে হয় না। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে যেদিন সংবিধান সংশোধন হয় সেদিন আমি মহাপরিচালক মোর্শেদ ও মহাপরিচালক আবুল আহসানকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সভাকক্ষে সাক্ষাত্ করি। আধা ঘণ্টার বেশি সময় তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা অবাক হলাম আলোচনার তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের এত সময় দিলেন! তাঁকে কিছুটা বিমর্ষ মনে হলো। তাঁর চারপাশের নিত্যদিনের মানুষদের থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন বলে মনে হলো আমাদের। সংবিধান পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করেননি। পরে আমার মনে পড়ল, সাংবিধান পরিবর্তনের পর মনোনীত জেলা গভর্নরদের সঙ্গে এক সভায় আমার দিকে লক্ষ করে উচ্চস্বরে ‘তুমি বাকশালে যোগদান করোনি’ বলে খোলামেলাভাবে হেসেছিলেন। তিনি জানতেন আমি সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলে যোগদানের ধারণার বিরোধী ছিলাম। আমার অবস্থানকে তিনি মূল্য দিয়েছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। এ নিয়ে তিনি কোনো বিরক্তিও প্রকাশ করেননি।
অন্য একদিন পররাষ্ট্র দপ্তরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার সময় তাঁকে বিষণ্ন মনে হলো। হঠাত্ বলে উঠলেন, দুই বছর পর তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন ও একটি বিরোধী দল গঠন করবেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে একদলীয় ব্যবস্থা তাঁরও মনঃপূত ছিল না, এমনকি তাতে তিনি বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ পদ্ধতি গ্রহণে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পোল্যান্ডের মতো দেশ একদলীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক অথনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে। আমার ধারণা, তাঁর ওপর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ মনির প্রচণ্ড প্রভাব ছিল (১৫ আগস্ট বিদ্রোহীদের হাতে ইনিও নিহত হন)। তবে পূর্ব ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের থেকে আলাদা ছিল। দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের উত্তম বিচারবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
১৫ আগস্টের দুই সপ্তাহ আগে আমি সুইডেনের গণমাধ্যমের কিছু কাটা অংশ (ক্লিপিংস) নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। এতে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন এবং সেনা কর্মকর্তাদের অভ্যুত্থান পরিকল্পনার বার্তা। এই বার্তার গুরুত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি আমাকে জানান, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহকে ফোন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর যখন অন্যতম বিদ্রোহী মেজর ডালিম প্রচারিত ‘শেখ মুজিব হত্যার’ কথা জানলাম, স্বভাবতই মর্মাহত হলাম। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে আমি জানি বিদ্রোহীরা আমাকেও খুঁজবে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলাম। সকাল আটটার কিছু পর জান্তার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন সামরিক সদস্য আমাকে তুলে নিতে সার্কিট হাউসে এলো। সেখানে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুরুল ইসলামকে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। আমাকে বলা হলো বেতারকেন্দ্রে আমার উপস্থিতি জরুরি। প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিনিট সময় চাইলাম। মাথার পেছনে বন্দুক তাক করে আমাকে জিপে তোলা হলো, আমি যেন ভয়ঙ্কর কোনো সন্ত্রাসী। সার্কিট হাউসের অন্য বাসিন্দারা ভাবল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আমাকেও হত্যা করা হবে, তারা আমার স্ত্রীকে সান্ত্বনা জানাতে এল। কিন্তু আমার স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন যে, আমার কিছু হতে পারে না। বেতারকেন্দ্রের পথে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তৌফিক ইমামের বাসভবনে জিপটি থামল এবং তাঁকেও তুলে নিল।
বেতারকেন্দ্রের ভেতরে খন্দকার মোশতাককে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ প্রিয়ভাজন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে দেখে চরমাশ্চর্য হলাম। তাঁদের পাশে সদ্য ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে খন্দকার মোশতাক জানতে চাইলেন, আলাদা কক্ষে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন কি না। তাঁকে ত্বরিত বলা হলো, ওই কক্ষের এক কোনায় কথা বলতে। তাঁদের ওপর খন্দকার মোশতাকের যে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তা স্পষ্ট হলো। প্রথম যে প্রশ্নটি তিনি করলেন তা হলো, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করবে কি না। আমার স্পষ্ট মূল্যায়ন জানতে চাইলেন। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমি আমার সংশয়ের কথা জানালাম। আমি তখন বললাম পরিস্থিতির মূল্যায়ন আরও বিস্তারিতভাবে করতে এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে চাই। আমি আরও বলি, বেতার ঘোষণার মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা ও জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত এবং পুলিশ-পাহারা আরও জোরদার করতে বলা উচিত। জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি আমাকে বিকেলে ব্রিফ করতে বলেন, যে বক্তৃতা নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে। যে জিপটি সার্কিট হাউস থেকে আমাকে নিয়ে আসে, সেই জিপেই পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হই। এবার আমার দিকে কোনো বন্দুক তাক করা ছিল না। আমি এবার অনেকটা শঙ্কামুক্ত। পররাষ্ট্র দপ্তরে যাওয়ার আগে আজিমপুরে এক বেতার প্রকৌশলীকে নামাতে হতো, তাই জিপটি ঘোরাপথে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেমন কোনো মানুষ বা রাজনৈতিক আলোড়নের লক্ষণ চোখে না পড়ায় আশ্চর্য হলাম। তাজ্জব ব্যাপার, বাকশাল বা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রাতারাতি উধাও এবং এমনকি যেখানে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নেই, সেখানেও হত্যাযজ্ঞ ও অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া বা প্রতিবাদ সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে আমার সহকর্মীদের ডাকলাম ও পরিস্থিতির মূল্যায়ন করলাম। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ফোন পেলাম। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোন করেন।
বিকেলে আমাকে বঙ্গভবনে ডাকা হলো। ক্ষমতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিটি কে তা স্পষ্ট ছিল না। আমি দেখলাম ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কিছুটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে ভাবলাম তিনিও অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু শিগগিরই বুঝলাম তিনি তাঁর নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। মাহবুব আলম চাষী সেই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন এবং তত্ক্ষণাত্ রাষ্ট্রপতি মোশতাকের মুখ্য সচিব নিযুক্ত হলেন। আসলে তিনি মোশতাকের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে সেই সন্ধ্যায়ই খন্দকার মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। তাঁর নির্দেশে চিফ অব প্রটোকল নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে কড়া সশস্ত্র প্রহরায় নিয়ে আসতে যান। না এলে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে, এই ভয়ে অধিকাংশই আসেন। যে কয়জন আসতে রাজি হননি পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ড. কামাল হোসেন বিদেশে ছিলেন। খন্দকার মোশতাক লন্ডনে তাঁকে বার্তা পাঠান তাঁর মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। ড. কামালের পরিবার ঢাকায় ছিল। আর তাই সোজাসুজি প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তিনি নিতে পারলেন না। তিনি হাইকমিশনের মাধ্যমে বার্তা পাঠান, যেহেতু তিনি চিকিত্সারত তাই তাঁর পক্ষে দেশে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কয়েক সপ্তাহ পর জেনারেল ওসমানীর হস্তক্ষেপে কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ড. কামাল হোসেন লন্ডনে তাঁদের নিরাপদ যাত্রার পর খন্দকার মোশতাকের সমালোচনা শুরু করেন।
পরদিন সকালে (১৬ আগস্ট ১৯৭৫) আমি বঙ্গভবনে থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মোশতাক আমাকে ডেকে পাঠান। আমি যদি ভুল না করে থাকি, মাহবুব আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ছাড়া জেনারেল সফিউল্লাহ ও জিয়াউর রহমানসহ সামরিক কর্মকর্তা ও নবীন অভ্যুত্থানকারীরা বঙ্গভবনের মন্ত্রণা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে খন্দকার মোশতাক আমার কাছে জানতে চান, শেখ মুজিবকে কীভাবে কবর দেওয়া উচিত এবং তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলি, যথাযথ মর্যাদা সহকারে তাঁকে কবর দেওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফল ইতিবাচক হবে। তখন দেশের ভেতর তাঁর মৃত্যুতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে জানতে চান। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের দিকে ইঙ্গিত করে বলি, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ভালো জানেন। মোশতাক গম্ভীরভাবে বলেন, ‘আমি কৌশলী জবাব দিয়েছি।’
ড. কামাল হোসেন হয়তো বাংলাদেশে ফিরবেন না—এটা বুঝতে পেরে খন্দকার মোশতাক এই সময়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে বিচারপতি চৌধুরী প্রথম যে নির্দেশনা পান তা হলো, জার্মানির বন থেকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া ও তাঁকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলা। আমার পরামর্শে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যেকোনো উপায়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে সম্মত হন। পছন্দমতো বিষয়টি মোকাবিলার ভার তিনি আমার ওপর ছেড়ে দেন। যেকোনো মুহূর্তে দেশ ছাড়ার জন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী খুব উদগ্রীব ছিলেন। তবে খন্দকার মোশতাক সেই মুহূর্তে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না এবং ১৯৭৫-এর সেপ্টেম্বরের শুরুতে লিমাতে অনুষ্ঠেয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চৌধুরী থাকুন সেটাও চাননি। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ যেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব না দেন সে ব্যাপারে আমি জোর সুপারিশ করি। মোশতাক শেষ পর্যন্ত তাতে সম্মত হন।
আগস্ট অভ্যুত্থানের পরবর্তী অবস্থা
মাহবুব আলম চাষী আমাকে প্রথমদিকে যেসব প্রশ্ন করেন তার অন্যতম ছিল বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থান কী প্রভাব ফেলবে। এই প্রশ্ন তিনি করেন ১৭ আগস্ট বিকেলে, আমার অফিসে। সেদিন সকালে বঙ্গভবনে তাঁর মুখ্য সচিব এর দপ্তর বসানো হয়। জ্যেষ্ঠ অনেককে পাশ কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাকে পররাষ্ট্রসচিব করায় আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর গুজব ছিল। আমি চাষীকে বললাম, আমি এই পদ ছেড়ে যেতে প্রস্তুত এবং এখনই তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারি। চাষী প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেন এবং আভাস দিলেন যে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি অকপটে তাঁকে বললাম, ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক ছিল। অভ্যুত্থান সব বদলে দিয়েছে। আমি আসলেই জানতাম না বাংলাদেশ কীভাবে তার অবস্থান ফিরে পাবে।
১৯৭৪ সালে ১২ জন রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নরম্যান কির্ক, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি টিটো, মিসরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, বার্মার রাষ্ট্রপতি নে উইন, সেনেগালের রাষ্ট্রপতি লিওপোল্ড সেনঘর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গঘ হুইটলেম, ভুটানের রাজা, মালয়েশিয়ার রাজা, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হৌয়ারি বুমেদীন এবং জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি কিসিঞ্জারসহ বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭৪-এর প্রথমদিকে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী অর্থনৈতিক মিশন বাংলাদেশ সফর করে। এই সময়ে সোনারগাঁও হোটেল প্রকল্পও শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাপান সফরে যান এবং তাঁর অনুরোধে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের ভবিষ্যত্ অংশগ্রহণের মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চস্তরের জাপানি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে।
অভ্যুত্থানের প্রধান নেতা মেজর ফারুক ও মেজর রশীদ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট আমার কাছে বারবার শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিদেশি প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। মনে হলো, নারীদের ও শেখ মুজিবের অল্পবয়সী সন্তানকে হত্যার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তারা আসলেই উদ্বিগ্ন ছিল। শেখ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত না ভুল করে ঘটা, তখনো আমার কাছে তা স্পষ্ট ছিল না। মোশতাকের পছন্দের এক ধরনের ব্যাখ্যা আছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দৈবক্রমে ঘটেছে বলে এসবকে তিনি জায়েজও করতে চেয়েছেন। তাদের দাবি, তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত জিম্মি করে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দেহরক্ষীদের প্রচণ্ড সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা গুলি করতে বাধ্য হয় এবং এভাবে ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন।
যে আলোকচিত্রী পরবর্তী সময়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন, তাঁদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মূল করা। ফারুক ও রশীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন সেনারাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের কিছুই জানানো হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করার জন্য দলে দলে ভাগ করে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে ফারুক সেনাদের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলে, শেখ মুজিবের সরকার ভারতের সঙ্গে মিলে দেশকে হিন্দু কর্তৃত্বাধীন করবে, তাই বাংলাদেশে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। এখন যদি তারা আক্রমণ না করে তবে বাংলাদেশ হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হবে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি জওয়ানদের ইসলামের নামে সচেষ্ট হতে বলেন। তার মতে, সেনারা দ্বিধাহীনভাবে হাত উঁচু করে আক্রমণে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।
সেনাদের মনোভাব বিষয়ে নিঃসন্দেহে আগে থেকেই গোয়েন্দা জরিপ করা ছিল। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা দেয়। ভুট্টোর সফরের পর পাকিস্তানপন্থী অনুভূতি আশঙ্কাজনকভাবে ফিরে আসতে থাকে। তখন পাকিস্তানের সামরিক চক্র একাত্তরের পরাজয়ের লজ্জার প্রতিশোধ নিতে চাইল। একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর শেখ মনির উত্থান দেখে মার্কিনিরা খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে শেখ মুজিবের ওপর বেশ প্রভাব ছিল শেখ মনির। শেখ মনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি বিশ্বস্ত। দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের পর বাংলাদেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাবকে সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত গভীর শঙ্কার সঙ্গে দেখেন। এ থেকে বোঝা যায়, মার্কিন মিশন অভ্যুত্থানের আগাম ধারণা পেলেও কেন তা বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি জানাতে চায়নি। ল্যাটিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মূল্যায়ন করেন যে, এ দেশে বাকশালবিরোধী মনোভাবের তীব্রতা শেখ মুজিবের শাসনের অবসানকে অভিনন্দন জানানো হবে। তবে কখনোই জানা যাবে না যে, সরকার উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে—এমন কথা তাঁরা জানতেন কি না। অন্যদিকে আসন্ন অভ্যুত্থান সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা জানত না, এটা অবিশ্বাস্য।
অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুট্টো নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে সৌদি আরব ও চীনকে তারবার্তা পাঠান। স্টেনলি ওলপোর্টের মতে, ‘ভুট্টো দুই বছর ধরে কয়েকটি মুজিববিরোধী দলের কাছে গোপন তহবিল পাঠিয়েছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের আগস্ট শেষ হওয়ার আগেই সেই তার সেই বিনিয়োগ বিপুলভাবে লাভের মুখ দেখে।’
মাহবুবুল আলম চাষীর সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন সরকারের কাছে (পাকিস্তানের কাছ থেকে) সম্পদ ফেরত আনা ও বিহারিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যস্থতার ফলে এসব বিষয়ে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন সম্পর্কে আমি তাঁকে অবহিত করি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে আমাদের পক্ষে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলাম। নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভুট্টোর ত্বরিত তারবার্তা ইঙ্গিত দেয় খন্দকার মোশতাক, মাহবুব আলম চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও সামরিক জান্তার ওপর ভুট্টোর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবন থেকে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিলম্বের জন্য অন্যদের সামনে আমাকে ভর্ত্সনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নষ্ট করেছে।’ কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, খন্দকার মোশতাক পেশাদারি দক্ষতার মূল্য দিতেন। আর এ জন্যই তাঁর সঙ্গে আমার বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে পদে বহাল রেখেছিলেন। পীর মুহসিনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র) নামের এক ব্যক্তিকে খন্দকার মোশতাক লন্ডন হয়ে পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। সেই সময় আমি জানতাম না যে তিনি খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে যাচ্ছেন। বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদের সন্তোষজনক সমাধান পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে জড়িত করা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতবাহী এক তারবার্তা আমি নিউইয়র্কে আমাদের মিশনে পাঠাই। আমাদের মিশন থেকে ত্বরিত উত্তর আসে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আজিজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মধ্যকার সভায় জানানো হয়, খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করার সময় বাংলাদেশ এই দুই শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমাদের সবার কাছে এটি ছিল এক প্রচণ্ড ধাক্কা।
ফারুক ও রশীদ বঙ্গভবনে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু অন্যদিকে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তখনই তাঁদের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট মনে হলো উভয়পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন ঘটতে পারে। আর তা যদি ঘটত তাহলে ফারুক ও রশীদ হারিয়ে যেতেন। আমার স্মরণ আছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সেনানিবাসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। জেনারেল ওসমানী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন। সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে আর কোনো রক্তপাত ঘটুক তিনি তার দৃঢ় বিরোধিতা করেন। জেনারেল ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতেও রাজি হন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত তাঁর জানার কথা, কিন্তু শিগগিরই আমি দেখলাম তা হচ্ছে না। এই অভ্যুত্থানের দুই-তিন দিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আমাকে বললেন, জেনারেল সফিউল্লাহ ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের জন্য দুটি রাষ্ট্রদূত মর্যাদার নিয়োগের স্থান খুঁজে বের করতে। জেনারেল ওসমানী পরে জানতে পারেন যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ফারুক ও রশীদ পাকিস্তানে তাঁদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির প্রহরীদের জন্য ফরাসি ট্যাঙ্ক কেনার জন্য সৌদি আরবের কাছে তহবিল চান। রাষ্ট্রপতির নিজস্ব প্রহরার নামে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের নামে নতুন একটি বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করবে ফারুক ও রশীদ, আর তা সেনাবহিনীর চিফ অব স্টাফের এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। নতুন ট্যাঙ্ক বঙ্গভবন ও দেশের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। সৌদিরা যখন ফ্রান্স থেকে চলতি দরপত্র পেতে চাইল, তখন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করেন। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আমি প্রায় প্রতিদিন মধ্যরাতে বঙ্গভবনে যেতাম। সেখানে আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল কীভাবে পুরো দেশ একগুচ্ছ তরুণ সেনা কর্মকর্তা দ্বারা চালিত হতো, যারা বন্দুকের জোরে পূর্ণ ক্ষমতা উপভোগ করত এবং বঙ্গভবন ও মোশতাকের সরকারের ওপর জারি রাখত শক্ত নিয়ন্ত্রণ। মেজর ফারুক ও রশীদ যখন সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বে। তার মধ্যেই, ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। পাশাপাশি সেদিন খন্দকার মোশতাক চেষ্টা চালান জেনারেল ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করানোর জন্য। একই সময়ে ভারতে প্রশিক্ষণরত ব্রিগেডিয়ার এইচ এম এরশাদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের জায়গায় তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ফারুক ও রশীদের চাপের কারণেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে এরশাদকে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯৭৫-এর শুরুর দিকে ফারুক ও রশীদ সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে ভারতে ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি এটি অবিশ্বাস্য। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, এরশাদ ১৯৭৫ সাল থেকেই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন।
(ক্রিটিকাল টাইমস: মেমোয়ার্স অব এ সাউথ এশিয়ান ডিপ্লোম্যাট বই থেকে নেওয়া, বইটির প্রকাশকাল ১৯৯৪, প্রকাশক ইউপিএল, ইংরেজি থেকে অনূদিত)
ফখরুদ্দিন আহমেদ (১৯৩১-২০০১): সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রসচিব। ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকাল সকাল গুলির শব্দে আমরা জেগে উঠি। এই শব্দ সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৫ সালের ঘানার কথা। ঘানার রাজধানী আক্রাতে রাষ্ট্রপতি নত্রুদ্ধমার পতাকাশোভিত বাড়িটি থেকে আমাদের বাসা খুব একটা দূরে ছিল না। আক্রাতে ১৯৬৫ সালে মার্চের এক সকালে একদল নিম্নপদস্থ সামরিক অফিসার অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং নক্রুমার শাসনের অবসান ঘটে। নক্রুমা তখন রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে ছিলেন। ১৫ আগস্টের গুলির শব্দে আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ঘানার সেই অভ্যুত্থানের ঘটনা। কিছুক্ষণ পর বেতারে তা নিশ্চিত করা হয়।
১৫ আগস্টের আগে একজনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি আমার দেখা ১৯৬৫ সালের ঘানার কাছাকাছি। ব্যক্তি হিসেবে নত্রুদ্ধমা খুবই জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তাঁর একদলীয় ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর তাঁর একান্ত সহচরেরা প্রকৃত অবস্থা তাঁকে অবগত করেনি। অন্যদিকে, আক্রাও অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল কূটনৈতিক তত্পরতায় এবং তা বিবেচিত হতো আফ্রিকার স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে দেশের পরিস্থিতি অনেকটা ১৯৬৫ সালের ঘানার মতোই ছিল। বঙ্গবন্ধু একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে নিজে খুব তৃপ্ত ছিলেন বলে মনে হয় না। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে যেদিন সংবিধান সংশোধন হয় সেদিন আমি মহাপরিচালক মোর্শেদ ও মহাপরিচালক আবুল আহসানকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সভাকক্ষে সাক্ষাত্ করি। আধা ঘণ্টার বেশি সময় তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা অবাক হলাম আলোচনার তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের এত সময় দিলেন! তাঁকে কিছুটা বিমর্ষ মনে হলো। তাঁর চারপাশের নিত্যদিনের মানুষদের থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন বলে মনে হলো আমাদের। সংবিধান পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করেননি। পরে আমার মনে পড়ল, সাংবিধান পরিবর্তনের পর মনোনীত জেলা গভর্নরদের সঙ্গে এক সভায় আমার দিকে লক্ষ করে উচ্চস্বরে ‘তুমি বাকশালে যোগদান করোনি’ বলে খোলামেলাভাবে হেসেছিলেন। তিনি জানতেন আমি সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলে যোগদানের ধারণার বিরোধী ছিলাম। আমার অবস্থানকে তিনি মূল্য দিয়েছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। এ নিয়ে তিনি কোনো বিরক্তিও প্রকাশ করেননি।
অন্য একদিন পররাষ্ট্র দপ্তরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার সময় তাঁকে বিষণ্ন মনে হলো। হঠাত্ বলে উঠলেন, দুই বছর পর তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন ও একটি বিরোধী দল গঠন করবেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে একদলীয় ব্যবস্থা তাঁরও মনঃপূত ছিল না, এমনকি তাতে তিনি বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ পদ্ধতি গ্রহণে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পোল্যান্ডের মতো দেশ একদলীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক অথনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে। আমার ধারণা, তাঁর ওপর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ মনির প্রচণ্ড প্রভাব ছিল (১৫ আগস্ট বিদ্রোহীদের হাতে ইনিও নিহত হন)। তবে পূর্ব ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের থেকে আলাদা ছিল। দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের উত্তম বিচারবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
১৫ আগস্টের দুই সপ্তাহ আগে আমি সুইডেনের গণমাধ্যমের কিছু কাটা অংশ (ক্লিপিংস) নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। এতে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন এবং সেনা কর্মকর্তাদের অভ্যুত্থান পরিকল্পনার বার্তা। এই বার্তার গুরুত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি আমাকে জানান, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহকে ফোন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর যখন অন্যতম বিদ্রোহী মেজর ডালিম প্রচারিত ‘শেখ মুজিব হত্যার’ কথা জানলাম, স্বভাবতই মর্মাহত হলাম। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে আমি জানি বিদ্রোহীরা আমাকেও খুঁজবে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলাম। সকাল আটটার কিছু পর জান্তার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন সামরিক সদস্য আমাকে তুলে নিতে সার্কিট হাউসে এলো। সেখানে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুরুল ইসলামকে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। আমাকে বলা হলো বেতারকেন্দ্রে আমার উপস্থিতি জরুরি। প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিনিট সময় চাইলাম। মাথার পেছনে বন্দুক তাক করে আমাকে জিপে তোলা হলো, আমি যেন ভয়ঙ্কর কোনো সন্ত্রাসী। সার্কিট হাউসের অন্য বাসিন্দারা ভাবল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আমাকেও হত্যা করা হবে, তারা আমার স্ত্রীকে সান্ত্বনা জানাতে এল। কিন্তু আমার স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন যে, আমার কিছু হতে পারে না। বেতারকেন্দ্রের পথে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তৌফিক ইমামের বাসভবনে জিপটি থামল এবং তাঁকেও তুলে নিল।
বেতারকেন্দ্রের ভেতরে খন্দকার মোশতাককে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ প্রিয়ভাজন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে দেখে চরমাশ্চর্য হলাম। তাঁদের পাশে সদ্য ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে খন্দকার মোশতাক জানতে চাইলেন, আলাদা কক্ষে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন কি না। তাঁকে ত্বরিত বলা হলো, ওই কক্ষের এক কোনায় কথা বলতে। তাঁদের ওপর খন্দকার মোশতাকের যে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তা স্পষ্ট হলো। প্রথম যে প্রশ্নটি তিনি করলেন তা হলো, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করবে কি না। আমার স্পষ্ট মূল্যায়ন জানতে চাইলেন। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমি আমার সংশয়ের কথা জানালাম। আমি তখন বললাম পরিস্থিতির মূল্যায়ন আরও বিস্তারিতভাবে করতে এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে চাই। আমি আরও বলি, বেতার ঘোষণার মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা ও জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত এবং পুলিশ-পাহারা আরও জোরদার করতে বলা উচিত। জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি আমাকে বিকেলে ব্রিফ করতে বলেন, যে বক্তৃতা নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে। যে জিপটি সার্কিট হাউস থেকে আমাকে নিয়ে আসে, সেই জিপেই পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হই। এবার আমার দিকে কোনো বন্দুক তাক করা ছিল না। আমি এবার অনেকটা শঙ্কামুক্ত। পররাষ্ট্র দপ্তরে যাওয়ার আগে আজিমপুরে এক বেতার প্রকৌশলীকে নামাতে হতো, তাই জিপটি ঘোরাপথে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেমন কোনো মানুষ বা রাজনৈতিক আলোড়নের লক্ষণ চোখে না পড়ায় আশ্চর্য হলাম। তাজ্জব ব্যাপার, বাকশাল বা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রাতারাতি উধাও এবং এমনকি যেখানে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নেই, সেখানেও হত্যাযজ্ঞ ও অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া বা প্রতিবাদ সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে আমার সহকর্মীদের ডাকলাম ও পরিস্থিতির মূল্যায়ন করলাম। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ফোন পেলাম। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোন করেন।
বিকেলে আমাকে বঙ্গভবনে ডাকা হলো। ক্ষমতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিটি কে তা স্পষ্ট ছিল না। আমি দেখলাম ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কিছুটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে ভাবলাম তিনিও অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু শিগগিরই বুঝলাম তিনি তাঁর নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। মাহবুব আলম চাষী সেই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন এবং তত্ক্ষণাত্ রাষ্ট্রপতি মোশতাকের মুখ্য সচিব নিযুক্ত হলেন। আসলে তিনি মোশতাকের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে সেই সন্ধ্যায়ই খন্দকার মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। তাঁর নির্দেশে চিফ অব প্রটোকল নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে কড়া সশস্ত্র প্রহরায় নিয়ে আসতে যান। না এলে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে, এই ভয়ে অধিকাংশই আসেন। যে কয়জন আসতে রাজি হননি পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ড. কামাল হোসেন বিদেশে ছিলেন। খন্দকার মোশতাক লন্ডনে তাঁকে বার্তা পাঠান তাঁর মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। ড. কামালের পরিবার ঢাকায় ছিল। আর তাই সোজাসুজি প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তিনি নিতে পারলেন না। তিনি হাইকমিশনের মাধ্যমে বার্তা পাঠান, যেহেতু তিনি চিকিত্সারত তাই তাঁর পক্ষে দেশে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কয়েক সপ্তাহ পর জেনারেল ওসমানীর হস্তক্ষেপে কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ড. কামাল হোসেন লন্ডনে তাঁদের নিরাপদ যাত্রার পর খন্দকার মোশতাকের সমালোচনা শুরু করেন।
পরদিন সকালে (১৬ আগস্ট ১৯৭৫) আমি বঙ্গভবনে থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মোশতাক আমাকে ডেকে পাঠান। আমি যদি ভুল না করে থাকি, মাহবুব আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ছাড়া জেনারেল সফিউল্লাহ ও জিয়াউর রহমানসহ সামরিক কর্মকর্তা ও নবীন অভ্যুত্থানকারীরা বঙ্গভবনের মন্ত্রণা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে খন্দকার মোশতাক আমার কাছে জানতে চান, শেখ মুজিবকে কীভাবে কবর দেওয়া উচিত এবং তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলি, যথাযথ মর্যাদা সহকারে তাঁকে কবর দেওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফল ইতিবাচক হবে। তখন দেশের ভেতর তাঁর মৃত্যুতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে জানতে চান। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের দিকে ইঙ্গিত করে বলি, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ভালো জানেন। মোশতাক গম্ভীরভাবে বলেন, ‘আমি কৌশলী জবাব দিয়েছি।’
ড. কামাল হোসেন হয়তো বাংলাদেশে ফিরবেন না—এটা বুঝতে পেরে খন্দকার মোশতাক এই সময়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে বিচারপতি চৌধুরী প্রথম যে নির্দেশনা পান তা হলো, জার্মানির বন থেকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া ও তাঁকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলা। আমার পরামর্শে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যেকোনো উপায়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে সম্মত হন। পছন্দমতো বিষয়টি মোকাবিলার ভার তিনি আমার ওপর ছেড়ে দেন। যেকোনো মুহূর্তে দেশ ছাড়ার জন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী খুব উদগ্রীব ছিলেন। তবে খন্দকার মোশতাক সেই মুহূর্তে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না এবং ১৯৭৫-এর সেপ্টেম্বরের শুরুতে লিমাতে অনুষ্ঠেয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চৌধুরী থাকুন সেটাও চাননি। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ যেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব না দেন সে ব্যাপারে আমি জোর সুপারিশ করি। মোশতাক শেষ পর্যন্ত তাতে সম্মত হন।
আগস্ট অভ্যুত্থানের পরবর্তী অবস্থা
মাহবুব আলম চাষী আমাকে প্রথমদিকে যেসব প্রশ্ন করেন তার অন্যতম ছিল বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থান কী প্রভাব ফেলবে। এই প্রশ্ন তিনি করেন ১৭ আগস্ট বিকেলে, আমার অফিসে। সেদিন সকালে বঙ্গভবনে তাঁর মুখ্য সচিব এর দপ্তর বসানো হয়। জ্যেষ্ঠ অনেককে পাশ কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাকে পররাষ্ট্রসচিব করায় আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর গুজব ছিল। আমি চাষীকে বললাম, আমি এই পদ ছেড়ে যেতে প্রস্তুত এবং এখনই তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারি। চাষী প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেন এবং আভাস দিলেন যে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি অকপটে তাঁকে বললাম, ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক ছিল। অভ্যুত্থান সব বদলে দিয়েছে। আমি আসলেই জানতাম না বাংলাদেশ কীভাবে তার অবস্থান ফিরে পাবে।
১৯৭৪ সালে ১২ জন রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নরম্যান কির্ক, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি টিটো, মিসরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, বার্মার রাষ্ট্রপতি নে উইন, সেনেগালের রাষ্ট্রপতি লিওপোল্ড সেনঘর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গঘ হুইটলেম, ভুটানের রাজা, মালয়েশিয়ার রাজা, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হৌয়ারি বুমেদীন এবং জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি কিসিঞ্জারসহ বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭৪-এর প্রথমদিকে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী অর্থনৈতিক মিশন বাংলাদেশ সফর করে। এই সময়ে সোনারগাঁও হোটেল প্রকল্পও শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাপান সফরে যান এবং তাঁর অনুরোধে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের ভবিষ্যত্ অংশগ্রহণের মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চস্তরের জাপানি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে।
অভ্যুত্থানের প্রধান নেতা মেজর ফারুক ও মেজর রশীদ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট আমার কাছে বারবার শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিদেশি প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। মনে হলো, নারীদের ও শেখ মুজিবের অল্পবয়সী সন্তানকে হত্যার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তারা আসলেই উদ্বিগ্ন ছিল। শেখ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত না ভুল করে ঘটা, তখনো আমার কাছে তা স্পষ্ট ছিল না। মোশতাকের পছন্দের এক ধরনের ব্যাখ্যা আছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দৈবক্রমে ঘটেছে বলে এসবকে তিনি জায়েজও করতে চেয়েছেন। তাদের দাবি, তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত জিম্মি করে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দেহরক্ষীদের প্রচণ্ড সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা গুলি করতে বাধ্য হয় এবং এভাবে ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন।
যে আলোকচিত্রী পরবর্তী সময়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন, তাঁদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মূল করা। ফারুক ও রশীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন সেনারাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের কিছুই জানানো হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করার জন্য দলে দলে ভাগ করে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে ফারুক সেনাদের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলে, শেখ মুজিবের সরকার ভারতের সঙ্গে মিলে দেশকে হিন্দু কর্তৃত্বাধীন করবে, তাই বাংলাদেশে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। এখন যদি তারা আক্রমণ না করে তবে বাংলাদেশ হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হবে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি জওয়ানদের ইসলামের নামে সচেষ্ট হতে বলেন। তার মতে, সেনারা দ্বিধাহীনভাবে হাত উঁচু করে আক্রমণে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।
সেনাদের মনোভাব বিষয়ে নিঃসন্দেহে আগে থেকেই গোয়েন্দা জরিপ করা ছিল। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা দেয়। ভুট্টোর সফরের পর পাকিস্তানপন্থী অনুভূতি আশঙ্কাজনকভাবে ফিরে আসতে থাকে। তখন পাকিস্তানের সামরিক চক্র একাত্তরের পরাজয়ের লজ্জার প্রতিশোধ নিতে চাইল। একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর শেখ মনির উত্থান দেখে মার্কিনিরা খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে শেখ মুজিবের ওপর বেশ প্রভাব ছিল শেখ মনির। শেখ মনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি বিশ্বস্ত। দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের পর বাংলাদেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাবকে সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত গভীর শঙ্কার সঙ্গে দেখেন। এ থেকে বোঝা যায়, মার্কিন মিশন অভ্যুত্থানের আগাম ধারণা পেলেও কেন তা বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি জানাতে চায়নি। ল্যাটিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মূল্যায়ন করেন যে, এ দেশে বাকশালবিরোধী মনোভাবের তীব্রতা শেখ মুজিবের শাসনের অবসানকে অভিনন্দন জানানো হবে। তবে কখনোই জানা যাবে না যে, সরকার উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে—এমন কথা তাঁরা জানতেন কি না। অন্যদিকে আসন্ন অভ্যুত্থান সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা জানত না, এটা অবিশ্বাস্য।
অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুট্টো নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে সৌদি আরব ও চীনকে তারবার্তা পাঠান। স্টেনলি ওলপোর্টের মতে, ‘ভুট্টো দুই বছর ধরে কয়েকটি মুজিববিরোধী দলের কাছে গোপন তহবিল পাঠিয়েছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের আগস্ট শেষ হওয়ার আগেই সেই তার সেই বিনিয়োগ বিপুলভাবে লাভের মুখ দেখে।’
মাহবুবুল আলম চাষীর সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন সরকারের কাছে (পাকিস্তানের কাছ থেকে) সম্পদ ফেরত আনা ও বিহারিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যস্থতার ফলে এসব বিষয়ে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন সম্পর্কে আমি তাঁকে অবহিত করি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে আমাদের পক্ষে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলাম। নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভুট্টোর ত্বরিত তারবার্তা ইঙ্গিত দেয় খন্দকার মোশতাক, মাহবুব আলম চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও সামরিক জান্তার ওপর ভুট্টোর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবন থেকে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিলম্বের জন্য অন্যদের সামনে আমাকে ভর্ত্সনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নষ্ট করেছে।’ কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, খন্দকার মোশতাক পেশাদারি দক্ষতার মূল্য দিতেন। আর এ জন্যই তাঁর সঙ্গে আমার বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে পদে বহাল রেখেছিলেন। পীর মুহসিনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র) নামের এক ব্যক্তিকে খন্দকার মোশতাক লন্ডন হয়ে পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। সেই সময় আমি জানতাম না যে তিনি খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে যাচ্ছেন। বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদের সন্তোষজনক সমাধান পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে জড়িত করা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতবাহী এক তারবার্তা আমি নিউইয়র্কে আমাদের মিশনে পাঠাই। আমাদের মিশন থেকে ত্বরিত উত্তর আসে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আজিজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মধ্যকার সভায় জানানো হয়, খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করার সময় বাংলাদেশ এই দুই শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমাদের সবার কাছে এটি ছিল এক প্রচণ্ড ধাক্কা।
ফারুক ও রশীদ বঙ্গভবনে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু অন্যদিকে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তখনই তাঁদের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট মনে হলো উভয়পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন ঘটতে পারে। আর তা যদি ঘটত তাহলে ফারুক ও রশীদ হারিয়ে যেতেন। আমার স্মরণ আছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সেনানিবাসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। জেনারেল ওসমানী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন। সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে আর কোনো রক্তপাত ঘটুক তিনি তার দৃঢ় বিরোধিতা করেন। জেনারেল ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতেও রাজি হন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত তাঁর জানার কথা, কিন্তু শিগগিরই আমি দেখলাম তা হচ্ছে না। এই অভ্যুত্থানের দুই-তিন দিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আমাকে বললেন, জেনারেল সফিউল্লাহ ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের জন্য দুটি রাষ্ট্রদূত মর্যাদার নিয়োগের স্থান খুঁজে বের করতে। জেনারেল ওসমানী পরে জানতে পারেন যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ফারুক ও রশীদ পাকিস্তানে তাঁদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির প্রহরীদের জন্য ফরাসি ট্যাঙ্ক কেনার জন্য সৌদি আরবের কাছে তহবিল চান। রাষ্ট্রপতির নিজস্ব প্রহরার নামে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের নামে নতুন একটি বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করবে ফারুক ও রশীদ, আর তা সেনাবহিনীর চিফ অব স্টাফের এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। নতুন ট্যাঙ্ক বঙ্গভবন ও দেশের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। সৌদিরা যখন ফ্রান্স থেকে চলতি দরপত্র পেতে চাইল, তখন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করেন। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আমি প্রায় প্রতিদিন মধ্যরাতে বঙ্গভবনে যেতাম। সেখানে আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল কীভাবে পুরো দেশ একগুচ্ছ তরুণ সেনা কর্মকর্তা দ্বারা চালিত হতো, যারা বন্দুকের জোরে পূর্ণ ক্ষমতা উপভোগ করত এবং বঙ্গভবন ও মোশতাকের সরকারের ওপর জারি রাখত শক্ত নিয়ন্ত্রণ। মেজর ফারুক ও রশীদ যখন সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বে। তার মধ্যেই, ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। পাশাপাশি সেদিন খন্দকার মোশতাক চেষ্টা চালান জেনারেল ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করানোর জন্য। একই সময়ে ভারতে প্রশিক্ষণরত ব্রিগেডিয়ার এইচ এম এরশাদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের জায়গায় তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ফারুক ও রশীদের চাপের কারণেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে এরশাদকে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯৭৫-এর শুরুর দিকে ফারুক ও রশীদ সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে ভারতে ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি এটি অবিশ্বাস্য। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, এরশাদ ১৯৭৫ সাল থেকেই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন।
(ক্রিটিকাল টাইমস: মেমোয়ার্স অব এ সাউথ এশিয়ান ডিপ্লোম্যাট বই থেকে নেওয়া, বইটির প্রকাশকাল ১৯৯৪, প্রকাশক ইউপিএল, ইংরেজি থেকে অনূদিত)
ফখরুদ্দিন আহমেদ (১৯৩১-২০০১): সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রসচিব। ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
August
(319)
-
▼
Aug 16
(11)
- ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্...
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় ...
- অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহ দ্রুত গলছে
- ভয়াবহ খরার মুখে ভারত by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী
- এবার ফেল্প্স
- বাংলাদেশ-লজ্জার বলি- ডাইসন
- প্রেসবক্সেই যত ক্রিকেট উত্তেজনা by তারেক মাহমুদ
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু লেখা একদিকে অত্যন্ত সহজ, অন্...
- ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্...
- জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস-অভিনন্দন বাংলাদেশের এই কৃতী সন...
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় ...
-
▼
Aug 16
(11)
-
▼
August
(319)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment