Friday, September 20, 2019
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী? by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী? by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

ইরান
সদর্পে ঘোষণা দিয়ে ইউরেনিয়াম আহরণ জোরালো করেছে। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি
সম্প্রতি এ ঘোষণা দিয়েছেন। একগুঁয়ে ইরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও কঠোর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন
উঠেছে, পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে।
সংঘাত যেভাবে শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নতুন নয়। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। শাহদের শাসনামলে এই পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে অনেক দিন ধরেই ইরানের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ তেলের ওপর বিরাট ভাগ বসিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে ছিল যুক্তরাজ্য।
১৯৫১ সালে ইরানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ মোসাদ্দেক দেশের তেলসম্পদকে জাতীয়করণের একটা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পশ্চিমা দেশে শিক্ষিত মোসাদ্দেক ছিলেন সাহসী ও বুদ্ধিমান। মার্কিন ও ব্রিটিশরা পড়ে গেল সমস্যায়। ভাবল, এই প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বার্থ তো দেখবেনই না, বরং এতে কুড়াল চালাবেন। গোপন সলাপরামর্শে বসে গেল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। উদ্দেশ্য একটাই—মোসাদ্দেককে উৎখাত করে পশ্চিমা স্বার্থ-সহায়ক নতুন নেতা নিয়ে আসা। পরে যে অভ্যুত্থানটি ঘটানো হলো, এর সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন পিটি-অ্যাজাক্স’। এতে পতন হলো মোসাদ্দেকের।
১৯৫৩ সালের আগস্টে এলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি। তাঁর সরকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্টবিরোধী ও পশ্চিমাপন্থী। কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তার বিনিময়ে ইরানের তেলসম্পদের মোট মজুতের ৮০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হাতে তুলে দেয় এই সরকার।
ইরানে ক্ষমতার পালাবদল হলেও বেশির ভাগ ইরানি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি। জনরোষ ক্রমে শাহ পরিবারের দিকে ধাবিত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী রেজা শাহ নিজের অবস্থান মজবুত করতে কঠোর অবস্থান নেন। ‘সাভাক’ নামে তাঁর একটি গোপন পুলিশ বাহিনী ছিল। হাজার হাজার মানুষকে তারা নির্যাতন করে, নৃশংসভাবে হত্যা করে।
প্রধানমন্ত্রী রেজা শাহকে এ সময় প্রতিরক্ষাব্যূহ সুরক্ষিত করার পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। শাহ সরকার কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে থাকে। অর্থের এই শ্রাদ্ধ ইরানের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দেয়। ফুঁসে ওঠে জনরোষ। দেশব্যাপী শুরু হয় বিপ্লব। ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির নেতৃত্বে এই বিশাল বিপ্লবে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পতন হয় রেজা শাহর। ক্ষমতা হারিয়ে সপরিবার দেশ ছাড়েন তিনি।
এর কয়েক মাস পর, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যান শাহ। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি এ সুযোগ পান। ইরান তা ভালোভাবে নেয়নি। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর একদল ইরানি ছাত্র ঝোড়ো বেগে তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়েন। ৬০ জনের বেশি কর্মীকে জিম্মি করে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শাহকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয়। কার্টার অনেক চেষ্টা করেও তেহরানের ওই ঘটনার কোনো সমাধান করতে পারেননি। এমনকি ‘অপারেশন ইগল ক্ল’ নামের একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানও ঘটনাক্রমে ব্যর্থ হয়। ইরানি ছাত্ররা কিছু মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত ৫২ জন জিম্মি হিসেবে থেকে যায়।
এ ঘটনায় মার্কিন নাগরিকেরাও কার্টারের ওপর আস্থা হারায়। পরবর্তী নির্বাচনে সদর্পে ক্ষমতায় আসেন রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে রিগ্যান ক্ষমতায় আসার পর তেহরানের মার্কিনবিরোধী মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে।
১৯৮১ সালের ২১ জানুয়ারি রিগ্যান উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর খোমেনির নির্দেশে ছাত্ররা ছেড়ে দেন জিম্মি করা মার্কিন নাগরিকদের। তত দিনে পার হয়ে গেছে ৪৪৪ দিন।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত শাহকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার কারণেই যে শুধু তেহরানে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করা হয়, তা নয়। মার্কিনদের ওপর ইরানিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে ওই ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন মূলত তখন থেকেই দৃশ্যমান।
বৈরিতার বিস্তৃতি
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ইরাক-ইরান যুদ্ধ একটি রক্তক্ষয়ী কালো দাগ হিসেবে চিহ্নিত। এখানেও যুক্তরাষ্ট্র ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে।
ইরানে শাহর স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায় ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেন চিন্তায় পড়ে যান। এ বিপ্লব তাঁর দেশেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করতে থাকেন। কারণ, সাদ্দাম ছিলেন সুন্নি। আর ইরাকের বেশির ভাগ নাগরিক শিয়া। তারা ইরানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাদ্দামকে হটাতে আন্দোলন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি।
ইরান যাতে আগ বাড়াতে না পারে, এ জন্য ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের সীমান্তে হানা দিয়ে কিছুটা জায়গা দখল করে নেন সাদ্দাম। তিনি ভেবেছিলেন, এই সাফল্যে তাঁর প্রভাব বাড়বে।
বিপ্লব–পরবর্তী ধাক্কা সামলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে একটু সময় নেয় ইরান। ১৯৮২ সালে ইরাকি সেনাদের নিজ সীমানায় ঠেলে দেয় ইরান। তারপর পাল্টা ইরাকের ভেতর হানা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। শুরু হয় দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত যুদ্ধ, যা বিশ্বের ইতিহাসে রক্তক্ষয়ী এক ন্যক্কারজনক যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। ভয়াবহতার দিক দিয়ে অনেক বিশ্লেষক এ যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। আট বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ লোক হতাহত হয়।
এই যুদ্ধে দুই দেশের সেনারা পরিখা খনন করে ভারী অস্ত্র বসিয়ে যুদ্ধ করে। ইরাক এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে। এমনকি দেশের উত্তরাঞ্চলের কুর্দিদের বিরুদ্ধে সাদ্দাম এই অস্ত্র ব্যবহার করেন।
এই যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দৃশ্যত নিরপেক্ষ ছিল। একরোখা সাদ্দামকে সমঝে চলত আমেরিকা। তাঁর কারণে ইরাককে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রাখে তারা। তবে দুই দেশের কারও সঙ্গেই তাদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল মাথাব্যথা ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিশ্বে কমিউনিজমের বিস্তৃতি ঘটে কি না, এ নিয়ে বড্ড চিন্তিত ছিল তারা।
ইরাকে ওই সময় কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব ছিল ভালোই। সাদ্দামেরই ছত্রচ্ছায়ায় এই পার্টি দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে বলে ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৮১ সালে সীমান্ত যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানায় এই পার্টি। সাদ্দামের কাছ থেকে এর জবাবটা ছিল নির্মম। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ধরে ধরে নির্যাতন চালাতে থাকেন। একই সঙ্গে চলে হত্যাযজ্ঞ।
যুক্তরাষ্ট্র তখন ভাবল, সাদ্দামও তো সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া দেশের তালিকা থেকে ইরাকের নাম কেটে দিল তারা। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে বোয়িং জেট বিমান বিক্রি করতে লাগল।
বিপ্লবের কারণে ইরানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে বিশাল স্বার্থ থেকে বঞ্চিত যুক্তরাষ্ট্র আসলে এমনই এক মিত্র চাইছিল। দূর থেকে সরাসরি তো আর ইরানকে চাপে ফেলা যাবে না। তাই ইরাকের কাঁধে বন্দুক রাখার চেষ্টা চালায় তারা।
১৯৮৩ সালে লেবাননভিত্তিক শিয়াপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়া দল হিজবুল্লাহ বেশ কিছু পশ্চিমা নাগরিককে জিম্মি করে ফেলে। এর মধ্যে ছয়জন মার্কিন ছিল। তাঁদের উদ্ধারের কোনো কিনারা করতে পারছিল না যুক্তরাষ্ট্র। সুযোগ বুঝে একদল মধ্যপন্থী ইরানি নেতা এগিয়ে আসেন। গোপনে তাঁরা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির বিরোধিতা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এই নেতারা প্রস্তাব দিলেন, হিজবুল্লাহর কাছে আটক জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে মধ্যস্থতা করবেন তাঁরা। বিনিময়ে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে হবে।
প্রস্তাবটা পছন্দ হলো আমেরিকার। খোমেনির বয়স হয়েছে। তিনি আর কদিন? তিনি যখন থাকবেন না, তখনকার ইরানের নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইলে এটাই সুযোগ।
১৯৮৪ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধ সীমান্ত থেকে পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশ পরস্পরের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাতে থাকে। শিয়াপন্থী ইরান এ সময় অন্য দুটি সুন্নি দেশ সৌদি আরব ও কুয়েতের তেলবাহী ট্যাংকারেও আঘাত হানে। এ সময় এখানে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে।
কুয়েতের সঙ্গে তখন ইরাকের বাণিজ্য বেশ রমরমা। কুয়েত আমেরিকাকে প্রস্তাব দেয় যে তারা তাদের জাহাজে মার্কিন পতাকা ব্যবহার করবে। ওই জাহাজ তখন আর কুয়েতের জাহাজ নয়, মার্কিন জাহাজ। এতে ইরান জাহাজটিতে হামলা চালালে তা হবে মার্কিন জাহাজে হামলা। তখন আমেরিকা পাল্টা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে রাজি হতে চায়নি। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এগিয়ে এল, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে নেই তো কী হয়েছে? আমরা আছি।
যুক্তরাষ্ট্র দেখল যে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন তারা রাজি হলো কুয়েতের প্রস্তাবে। তাদের জাহাজ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে সশস্ত্র টহল দিতে লাগল।
১৯৮৫ সালে ইরানের কাছে গোপনে অবৈধভাবে অস্ত্র বিক্রি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র বিক্রির টাকা ব্যয় হতে থাকে নিকারাগুয়ার কন্ট্রা বিদ্রোহীদের পেছনে। বিদ্রোহী এই যোদ্ধারা তখন দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতে লড়ছে। ১৯৮৬ সালে বিষয়টি জানাজানি হলে তা ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট রিগ্যানকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বেশ চাপের মধ্যে ফেলে।
এ পর্যায়ে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাম রাখি না কুল রাখি পরিস্থিতি সামলাতে ইরানকে ত্যাগ করে ইরাকের পক্ষ নেয় তারা। ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের শান্তি আলোচনায় ইরাকের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮৮ সালে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও চুকে যায়।
পরবর্তী সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত। সংকীর্ণ এই নৌপথ পারস্য উপসাগরের সঙ্গে বাকি বিশ্বের যোগসূত্র তৈরি করেছে। বিশ্বের ৪০ শতাংশ তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে।
ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় ইরান হুমকি দিয়েছিল যে তারা এই নৌপথ বন্ধ করে দেবে। এই হুমকির পর থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই দেশের যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও এসব মাইন থেকে যায়। তখন এই নৌপথকে নিরাপদ রাখতে বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর টহল দিচ্ছিল।
১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী একটি ফ্রিগেট ইরানের পেতে রাখা মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। ধ্বংস করে ইরানের দুটি নজরদারি মঞ্চ। মাত্র এক দিনের যুদ্ধে এসব ঘটনা ঘটে।
তবে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় একই বছরের ৩ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে একটি ইরানি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়। এতে ২৯০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়। এর মধ্যে ৬৬ জনই ছিল শিশু। অন্যরা ছিল হজযাত্রী। যুক্তরাষ্ট্র পরে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত দেয়, যুদ্ধবিমান ভেবে ভুল করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেসব সংঘর্ষ বা সংঘাত হয়েছে, কোনোটাই এত ভয়াবহ নয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতে নিষেধাজ্ঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরানকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে পর্যুদস্ত করতে গত শতকের আশির দশকের গোড়া থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুরুতে বিভিন্ন সময় নিজ স্বার্থে এককভাবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা। পরবর্তী সময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তায় ব্যাপক আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে, তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের জিম্মি নাটকের ঘটনায়। তারা ইরান থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং ১২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ জব্দ করে।
১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মদদদাতা বলে অভিহিত করে। এর সূত্র ধরে তারা দেশটির ওপর আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে এমন নীতি অনুসরণ করে বিল পাস হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেই সব সামগ্রী ও প্রযুক্তি ইরাক বা ইরানের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করবে, যা দিয়ে তারা রাসায়নিক, জীবাণুবাহী, পারমাণবিক বা উন্নত মানের অন্য কোনো অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
১৯৯৬ সালে ইরানের পেট্রোলিয়াম শিল্পে বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই শিল্পের বিপুল আয় থেকে ইরান গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করতে পারে বা সন্ত্রাসে অর্থ ঢালতে পারে—নিষেধাজ্ঞার পেছনে এই অজুহাত দেখানো হয়। ওই সময় ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মোটা অঙ্কের বার্ষিক বিনিয়োগ ছিল।
এর কয়েক মাস পরই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের এক নির্বাহী আদেশে ইরান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব ধরনের পণ্য ইরানে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সব ধরনের সেবার বিষয়ও রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে লক্ষণীয়, যে পারমাণবিক কর্মসূচি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, একদিন ইরানকে তারাই কিন্তু এ পথ দেখিয়েছিল। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ইরানে শাহর শাসনামলে ‘ইউএস অ্যাটমস ফর পিস’ কর্মসূচির আওতায় ইরানকে তারা কারিগরি সহায়তা দেয়। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের ওই ঘটনার পর এ সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ রয়েই যায়। পরে তারা পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতায় এ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।
২০০২ সালে ইরানের একটি বিরোধী দল দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন বিষয়টি ফাঁস করে দেয়। তারা বলে, ইরান তাদের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলল, পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, মানে পারমাণবিক বোমা তৈরির ধান্দা। ইরান তা অস্বীকার করে।
২০০৭ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস হলো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও সহায়তা বন্ধ।
কট্টর রক্ষণশীল ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আরও জোরালো করে তুললেন এই কর্মসূচি। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া আরও চেপে বসতে লাগল। পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল জাতিসংঘ। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিল। একের পর এক নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি মুদ্রার বাজার মূল্য দুই-তৃতীয়াংশ গেল কমে।
২০১৩ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। মধ্যপন্থী নেতা হাসান রুহানি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরে, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাস পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ হয় তাঁর। ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এটাই প্রথম সংলাপ। এরপর সমঝোতার জন্য শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা।
২০১৫ সালে ছয় দেশ মিলে ইরানকে একটি চুক্তিতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ছয় দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য পাঁচটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি। এই চুক্তির অধীনে ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে রাজি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে যেতে দিতে সম্মত হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে তাদের অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও শর্ত থাকে।
ওবামা ক্ষমতায় থাকতেই এই চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই রকম প্রস্তুতি নেয়। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকে।
পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা নিয়ে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের চুক্তি হলেও মূল দুটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব থেকেই যায়। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসার পর এই সংশয় প্রকট হয়ে ওঠে। ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে শর্তের ঘাটতি রয়েছে এবং ইরান এখনো মাত্রাতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে অজুহাত তুলে ২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে আসেন। ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের একটি বেসামরিক মহাকাশ সংস্থা এবং দুটি গবেষণা সংস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আমেরিকার অভিযোগ, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচিতে এসব সংস্থা সহায়তা করছে। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইরানের ওই তিন সংস্থাকে সহযোগিতা করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, এই কর্মসূচিতে সফল হলে ইরান পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এক সংকটে ইরান। বিশ্বে তেলের মজুতে চতুর্থ বৃহত্তম দেশ তারা। কাজেই নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তারা যে কতটা মজবুত অবস্থানে থাকত, তা সহজেই অনুমেয়।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শুরুতে ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। প্রতিদিন গড়ে রপ্তানি করেছে ২৩ লাখ ব্যারেল। এখানে উৎপাদন ও রপ্তানির মধ্যে বিরাট বৈষম্য লক্ষণীয়। এর মধ্যেই ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার খড়্গ, ইরান থেকে আর তেল আমদানি নয়। ওই সময় ইরান থেকে আটটি দেশ তেল আমদানি করছিল। তারা হলো চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তুরস্ক, গ্রিস ও ইতালি। এই আটটি দেশকে অবশ্য ছয় মাসের সুযোগ দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে তেলবিষয়ক সব লেনদেন চুকিয়ে ফেলতে হবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রিস, তাইওয়ান ও ইতালি এর মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যতম বড় ক্রেতা চীন ও ভারত যথাক্রমে ৩৯ ও ৪৭ শতাংশ করে আমদানি কমিয়েছে। এতে চলতি বছরের মার্চ নাগাদ ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, তেল রপ্তানি খাতে ইরান এর মধ্যে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।
গত মে মাসে ট্রাম্প সদর্পে ঘোষণা করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানি তিনি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবেন। বাস্তবে তাঁর এই চেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। চীন এর মধ্যে বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা তারা চালিয়ে যাবে। এটা বৈধ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তুরস্ক বলেছে, পুরোনো মিত্রের সঙ্গে তারা সম্পর্ক নষ্ট করবে না। তেল রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাবের কারণে কয়েক বছর ধরেই ইরানে মুদ্রাস্ফীতি চলছে। ২০১৭ সালে রুহানি অনেক চেষ্টায় তা যাও–বা ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলেন, এখন তা বেড়ে ৩১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। স্ট্যাটিস্টিক্যাল সেন্টার অব ইরানের গত ১২ মাসে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মাংস ও মুরগির দাম বেড়েছে ৫৭ শতাংশ, দুধ–ডিমের দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, সবজির দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। গরিব মানুষের আবাসন ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে ২০ শতাংশ।
ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের চিকিৎসাসেবা। বর্তমানে বহাল নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে খাবার থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত সব ধরনের মানবিক সহায়তা কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। মারা যাচ্ছে ক্যানসারের রোগী।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিণতি
২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবার সেই সাপে–নেউলে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে চলে আসার পরপরই উপসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করে। যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত রেখেছে বি-৫২ যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, সিরিয়া, ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে। মে ও জুনে ওমান উপসাগরে ছয়টি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে। কেউ এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্র এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় উপসাগরে এ ধরনের হামলা চালানো হতো।
২০ জুন হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক সামরিক ড্রোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল। ইরান বলেছে, এটা তাদের সীমানা হানা দিয়েছিল। এসব ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে ইরানও কোনো ছাড় দেবে না।
পারমাণবিক কর্মসূচিবিষয়ক ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) গত ১ জুলাই নিশ্চিত করেছে যে ইরান তার চুক্তি ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করছে। ইরানকে জ্বালানি খাতে ব্যবহার উপযোগী ইউরেনিয়াম আহরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরান এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম মজুত করছে। পারমাণবিক বোমা বানাতে লাগে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম।
আইএইএর এই তথ্য অনুযায়ী, শত বাধাবিপত্তি ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও যেহেতু তারা এই প্রকল্প ছেড়ে নড়ছে না, এটা পরিষ্কার যে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইরান তার বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় জোরালোভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এসব স্থাপনায় পরিদর্শনে আসতে দেওয়া হবে না।
রুহানি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছুতেই অবাধে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেবে না। ইরানও যেকোনো মূল্যে এ কর্মসূচিতে অটল থাকবে? এর ভবিষ্যৎ পরিণাম তাহলে কী?
ইরানকে তার ব্যয়বহুল পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য তেলের টাকার ওপর নির্ভর করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেবে তারা। গোপনে তেল বিক্রির চেষ্টা চালাবে।
এর মধ্যে সেই নজির রেখেছে ইরান। জিব্রালটার সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলসহ একটি ইরানি জাহাজ (আদরিয়ান দরিয়া-১) আটক করে। এই ট্যাংকারের আগের নাম গ্রেস-১। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান এই জাহাজে সিরিয়ায় ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পাঠাচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হয়। সিরিয়ায় তেল নিয়ে যাবে না—এমন মুচলেকা দিয়ে জাহাজটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাড়া পায়।
পরে জাহাজটি দ্রুত গতিপথ বদলে প্রথমে তুরস্ক ও পরে লেবাননের দিকে যায়। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলেন, এমন কোনো জাহাজের খবর তাঁদের কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা বারবারই ঘটবে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১০ মিনিটের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। কারণ, দেশটি হচ্ছে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, তা কে জানে। ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই যে সাফল্য পেয়েছিল, ইরানে হামলা চালালে মোটেও তা হবে না।
আট কোটির বেশি মানুষের দেশ ইরান আয়তনে ইরাকের চেয়ে চার গুণ বড়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতির দিক দিয়ে ইরানের অবস্থান এখনো দ্বিতীয়। কাজেই ইরান বড় সহজ কথা নয়।
ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফায়দা লোটার পেছনে কারণ ছিল। শিয়াপ্রধান দেশটিতে সাদ্দাম ছিলেন সংখ্যালঘু সুন্নিদের প্রতিনিধি। তিনি শিয়া, কুর্দিসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তাই সেখানে তাঁর শত্রু ছিল। আর মুখে যতটা বড়াই করেছেন, প্রতিরক্ষার জন্য সে রকম যথেষ্ট অস্ত্র ছিল না।
ইরান শিয়াদের দেশ। বিপ্লবের অভিজ্ঞতায় তারা সাহসী। দেশাত্মবোধ, দেশপ্রেম ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরানিরা একপ্রাণ। তাদের শৌর্যবীর্যও কম নয়। ইরানি সেনারা কেবল নিজ ভূখণ্ডে নেই। তারা ছদ্মবেশে ভিন্ন পরিচয়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জায়গায়। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে যেসব রকেট ছোড়ে, তা মিলিশিয়া দলের সদস্য হিসেবে ইরানি সেনারাই ছুড়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়।
ইরাকের ভেতর অসংখ্য ছদ্মবেশী ইরানি যোদ্ধা রয়েছে। সিরিয়া ও বাহরাইনে রয়েছে। রয়েছে ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে। কাজেই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের খোঁচা মারা হবে ভিমরুলের চাকে ঘা মারার মতো।
ইরানিরা সাগরে ছোট ছোট বোটে ঝাঁক বাঁধা মাছের মতো হামলা চালাতে পটু। আরও আছে জাহাজের তলা ফুটো করে দেওয়ার মতো সাবমেরিন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরি দিয়ে কতটা সুবিধা পাবে, তা দেখার বিষয়। আর ইরান যদি কোনোভাবে তাদের কোনো রণতরি ডুবিয়ে দেয়, আর্থিকভাবে তা হবে বিরাট ক্ষতি। চীন ও রাশিয়া তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে আর হাসবে।
ইরানের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে, এ ব্যাপারে বিশদ কোনো তথ্য নেই। তবে অস্ত্রের মজুত তাদের নেহাত কম নয়। ট্যাংকের মতো ভারী অস্ত্র তারা নিজেরাই তৈরি করে। আছে সাবমেরিন বিমানবাহী তরি, যুদ্ধবিমান, গোলাবারুদসহ ভারী অস্ত্র। আরও আছে স্বল্প, মধ্যম ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। শাহাব, আশুরা, কাদের, সেজ্জিল—এসব ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে আঘাত হানতে পারে। মিশকাত নামের ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের দৌড় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।
বর্তমানে অস্ত্র কেনার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইরান বাইরে থেকে কোনো অস্ত্র কিনতে পারছে না। ২০২০ সালের অক্টোবরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। সেদিকে তাকিয়ে ইরান এর মধ্যে নতুন অস্ত্র কেনার তোড়জোড় করছে।
ইরানের বিমান শিল্প সংস্থার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল করিম বানিতারাফি বলেছেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ এই দুই মিত্র তাদের জন্য বড় শক্তি। কাজেই উপসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টক্কর পরিণামে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে; বিশেষ করে সশস্ত্র যুদ্ধ।
>>>শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
ই–মেইল: shariful.bhuiyan@prothomalo.com
সংঘাত যেভাবে শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নতুন নয়। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। শাহদের শাসনামলে এই পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে অনেক দিন ধরেই ইরানের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ তেলের ওপর বিরাট ভাগ বসিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে ছিল যুক্তরাজ্য।
১৯৫১ সালে ইরানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ মোসাদ্দেক দেশের তেলসম্পদকে জাতীয়করণের একটা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পশ্চিমা দেশে শিক্ষিত মোসাদ্দেক ছিলেন সাহসী ও বুদ্ধিমান। মার্কিন ও ব্রিটিশরা পড়ে গেল সমস্যায়। ভাবল, এই প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বার্থ তো দেখবেনই না, বরং এতে কুড়াল চালাবেন। গোপন সলাপরামর্শে বসে গেল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। উদ্দেশ্য একটাই—মোসাদ্দেককে উৎখাত করে পশ্চিমা স্বার্থ-সহায়ক নতুন নেতা নিয়ে আসা। পরে যে অভ্যুত্থানটি ঘটানো হলো, এর সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন পিটি-অ্যাজাক্স’। এতে পতন হলো মোসাদ্দেকের।
১৯৫৩ সালের আগস্টে এলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি। তাঁর সরকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্টবিরোধী ও পশ্চিমাপন্থী। কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তার বিনিময়ে ইরানের তেলসম্পদের মোট মজুতের ৮০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হাতে তুলে দেয় এই সরকার।
ইরানে ক্ষমতার পালাবদল হলেও বেশির ভাগ ইরানি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি। জনরোষ ক্রমে শাহ পরিবারের দিকে ধাবিত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী রেজা শাহ নিজের অবস্থান মজবুত করতে কঠোর অবস্থান নেন। ‘সাভাক’ নামে তাঁর একটি গোপন পুলিশ বাহিনী ছিল। হাজার হাজার মানুষকে তারা নির্যাতন করে, নৃশংসভাবে হত্যা করে।
প্রধানমন্ত্রী রেজা শাহকে এ সময় প্রতিরক্ষাব্যূহ সুরক্ষিত করার পরামর্শ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। শাহ সরকার কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে থাকে। অর্থের এই শ্রাদ্ধ ইরানের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দেয়। ফুঁসে ওঠে জনরোষ। দেশব্যাপী শুরু হয় বিপ্লব। ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির নেতৃত্বে এই বিশাল বিপ্লবে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পতন হয় রেজা শাহর। ক্ষমতা হারিয়ে সপরিবার দেশ ছাড়েন তিনি।
এর কয়েক মাস পর, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যান শাহ। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি এ সুযোগ পান। ইরান তা ভালোভাবে নেয়নি। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর একদল ইরানি ছাত্র ঝোড়ো বেগে তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়েন। ৬০ জনের বেশি কর্মীকে জিম্মি করে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শাহকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয়। কার্টার অনেক চেষ্টা করেও তেহরানের ওই ঘটনার কোনো সমাধান করতে পারেননি। এমনকি ‘অপারেশন ইগল ক্ল’ নামের একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানও ঘটনাক্রমে ব্যর্থ হয়। ইরানি ছাত্ররা কিছু মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত ৫২ জন জিম্মি হিসেবে থেকে যায়।
এ ঘটনায় মার্কিন নাগরিকেরাও কার্টারের ওপর আস্থা হারায়। পরবর্তী নির্বাচনে সদর্পে ক্ষমতায় আসেন রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে রিগ্যান ক্ষমতায় আসার পর তেহরানের মার্কিনবিরোধী মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে।
১৯৮১ সালের ২১ জানুয়ারি রিগ্যান উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর খোমেনির নির্দেশে ছাত্ররা ছেড়ে দেন জিম্মি করা মার্কিন নাগরিকদের। তত দিনে পার হয়ে গেছে ৪৪৪ দিন।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত শাহকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার কারণেই যে শুধু তেহরানে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করা হয়, তা নয়। মার্কিনদের ওপর ইরানিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে ওই ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন মূলত তখন থেকেই দৃশ্যমান।
বৈরিতার বিস্তৃতি
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ইরাক-ইরান যুদ্ধ একটি রক্তক্ষয়ী কালো দাগ হিসেবে চিহ্নিত। এখানেও যুক্তরাষ্ট্র ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে।
ইরানে শাহর স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায় ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেন চিন্তায় পড়ে যান। এ বিপ্লব তাঁর দেশেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করতে থাকেন। কারণ, সাদ্দাম ছিলেন সুন্নি। আর ইরাকের বেশির ভাগ নাগরিক শিয়া। তারা ইরানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাদ্দামকে হটাতে আন্দোলন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি।
ইরান যাতে আগ বাড়াতে না পারে, এ জন্য ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের সীমান্তে হানা দিয়ে কিছুটা জায়গা দখল করে নেন সাদ্দাম। তিনি ভেবেছিলেন, এই সাফল্যে তাঁর প্রভাব বাড়বে।
বিপ্লব–পরবর্তী ধাক্কা সামলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে একটু সময় নেয় ইরান। ১৯৮২ সালে ইরাকি সেনাদের নিজ সীমানায় ঠেলে দেয় ইরান। তারপর পাল্টা ইরাকের ভেতর হানা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। শুরু হয় দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত যুদ্ধ, যা বিশ্বের ইতিহাসে রক্তক্ষয়ী এক ন্যক্কারজনক যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। ভয়াবহতার দিক দিয়ে অনেক বিশ্লেষক এ যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। আট বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ লোক হতাহত হয়।
এই যুদ্ধে দুই দেশের সেনারা পরিখা খনন করে ভারী অস্ত্র বসিয়ে যুদ্ধ করে। ইরাক এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে। এমনকি দেশের উত্তরাঞ্চলের কুর্দিদের বিরুদ্ধে সাদ্দাম এই অস্ত্র ব্যবহার করেন।
এই যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দৃশ্যত নিরপেক্ষ ছিল। একরোখা সাদ্দামকে সমঝে চলত আমেরিকা। তাঁর কারণে ইরাককে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রাখে তারা। তবে দুই দেশের কারও সঙ্গেই তাদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল মাথাব্যথা ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিশ্বে কমিউনিজমের বিস্তৃতি ঘটে কি না, এ নিয়ে বড্ড চিন্তিত ছিল তারা।
ইরাকে ওই সময় কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব ছিল ভালোই। সাদ্দামেরই ছত্রচ্ছায়ায় এই পার্টি দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে বলে ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৮১ সালে সীমান্ত যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানায় এই পার্টি। সাদ্দামের কাছ থেকে এর জবাবটা ছিল নির্মম। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ধরে ধরে নির্যাতন চালাতে থাকেন। একই সঙ্গে চলে হত্যাযজ্ঞ।
যুক্তরাষ্ট্র তখন ভাবল, সাদ্দামও তো সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া দেশের তালিকা থেকে ইরাকের নাম কেটে দিল তারা। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে বোয়িং জেট বিমান বিক্রি করতে লাগল।
বিপ্লবের কারণে ইরানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে বিশাল স্বার্থ থেকে বঞ্চিত যুক্তরাষ্ট্র আসলে এমনই এক মিত্র চাইছিল। দূর থেকে সরাসরি তো আর ইরানকে চাপে ফেলা যাবে না। তাই ইরাকের কাঁধে বন্দুক রাখার চেষ্টা চালায় তারা।
১৯৮৩ সালে লেবাননভিত্তিক শিয়াপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়া দল হিজবুল্লাহ বেশ কিছু পশ্চিমা নাগরিককে জিম্মি করে ফেলে। এর মধ্যে ছয়জন মার্কিন ছিল। তাঁদের উদ্ধারের কোনো কিনারা করতে পারছিল না যুক্তরাষ্ট্র। সুযোগ বুঝে একদল মধ্যপন্থী ইরানি নেতা এগিয়ে আসেন। গোপনে তাঁরা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির বিরোধিতা করতেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এই নেতারা প্রস্তাব দিলেন, হিজবুল্লাহর কাছে আটক জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে মধ্যস্থতা করবেন তাঁরা। বিনিময়ে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে হবে।
প্রস্তাবটা পছন্দ হলো আমেরিকার। খোমেনির বয়স হয়েছে। তিনি আর কদিন? তিনি যখন থাকবেন না, তখনকার ইরানের নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইলে এটাই সুযোগ।
১৯৮৪ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধ সীমান্ত থেকে পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশ পরস্পরের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালাতে থাকে। শিয়াপন্থী ইরান এ সময় অন্য দুটি সুন্নি দেশ সৌদি আরব ও কুয়েতের তেলবাহী ট্যাংকারেও আঘাত হানে। এ সময় এখানে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে।
কুয়েতের সঙ্গে তখন ইরাকের বাণিজ্য বেশ রমরমা। কুয়েত আমেরিকাকে প্রস্তাব দেয় যে তারা তাদের জাহাজে মার্কিন পতাকা ব্যবহার করবে। ওই জাহাজ তখন আর কুয়েতের জাহাজ নয়, মার্কিন জাহাজ। এতে ইরান জাহাজটিতে হামলা চালালে তা হবে মার্কিন জাহাজে হামলা। তখন আমেরিকা পাল্টা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে রাজি হতে চায়নি। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এগিয়ে এল, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে নেই তো কী হয়েছে? আমরা আছি।
যুক্তরাষ্ট্র দেখল যে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন তারা রাজি হলো কুয়েতের প্রস্তাবে। তাদের জাহাজ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে সশস্ত্র টহল দিতে লাগল।
১৯৮৫ সালে ইরানের কাছে গোপনে অবৈধভাবে অস্ত্র বিক্রি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র বিক্রির টাকা ব্যয় হতে থাকে নিকারাগুয়ার কন্ট্রা বিদ্রোহীদের পেছনে। বিদ্রোহী এই যোদ্ধারা তখন দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতে লড়ছে। ১৯৮৬ সালে বিষয়টি জানাজানি হলে তা ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট রিগ্যানকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বেশ চাপের মধ্যে ফেলে।
এ পর্যায়ে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাম রাখি না কুল রাখি পরিস্থিতি সামলাতে ইরানকে ত্যাগ করে ইরাকের পক্ষ নেয় তারা। ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের শান্তি আলোচনায় ইরাকের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮৮ সালে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও চুকে যায়।
পরবর্তী সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত। সংকীর্ণ এই নৌপথ পারস্য উপসাগরের সঙ্গে বাকি বিশ্বের যোগসূত্র তৈরি করেছে। বিশ্বের ৪০ শতাংশ তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে।
ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় ইরান হুমকি দিয়েছিল যে তারা এই নৌপথ বন্ধ করে দেবে। এই হুমকির পর থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই দেশের যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও এসব মাইন থেকে যায়। তখন এই নৌপথকে নিরাপদ রাখতে বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর টহল দিচ্ছিল।
১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী একটি ফ্রিগেট ইরানের পেতে রাখা মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। ধ্বংস করে ইরানের দুটি নজরদারি মঞ্চ। মাত্র এক দিনের যুদ্ধে এসব ঘটনা ঘটে।
তবে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় একই বছরের ৩ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে একটি ইরানি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়। এতে ২৯০ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়। এর মধ্যে ৬৬ জনই ছিল শিশু। অন্যরা ছিল হজযাত্রী। যুক্তরাষ্ট্র পরে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত দেয়, যুদ্ধবিমান ভেবে ভুল করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেসব সংঘর্ষ বা সংঘাত হয়েছে, কোনোটাই এত ভয়াবহ নয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতে নিষেধাজ্ঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরানকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে পর্যুদস্ত করতে গত শতকের আশির দশকের গোড়া থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুরুতে বিভিন্ন সময় নিজ স্বার্থে এককভাবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা। পরবর্তী সময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তায় ব্যাপক আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে, তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের জিম্মি নাটকের ঘটনায়। তারা ইরান থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং ১২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ জব্দ করে।
১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মদদদাতা বলে অভিহিত করে। এর সূত্র ধরে তারা দেশটির ওপর আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে এমন নীতি অনুসরণ করে বিল পাস হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেই সব সামগ্রী ও প্রযুক্তি ইরাক বা ইরানের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করবে, যা দিয়ে তারা রাসায়নিক, জীবাণুবাহী, পারমাণবিক বা উন্নত মানের অন্য কোনো অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
১৯৯৬ সালে ইরানের পেট্রোলিয়াম শিল্পে বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই শিল্পের বিপুল আয় থেকে ইরান গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করতে পারে বা সন্ত্রাসে অর্থ ঢালতে পারে—নিষেধাজ্ঞার পেছনে এই অজুহাত দেখানো হয়। ওই সময় ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মোটা অঙ্কের বার্ষিক বিনিয়োগ ছিল।
এর কয়েক মাস পরই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের এক নির্বাহী আদেশে ইরান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব ধরনের পণ্য ইরানে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সব ধরনের সেবার বিষয়ও রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে লক্ষণীয়, যে পারমাণবিক কর্মসূচি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, একদিন ইরানকে তারাই কিন্তু এ পথ দেখিয়েছিল। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ইরানে শাহর শাসনামলে ‘ইউএস অ্যাটমস ফর পিস’ কর্মসূচির আওতায় ইরানকে তারা কারিগরি সহায়তা দেয়। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের ওই ঘটনার পর এ সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে ইরানের আগ্রহ রয়েই যায়। পরে তারা পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতায় এ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।
২০০২ সালে ইরানের একটি বিরোধী দল দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন বিষয়টি ফাঁস করে দেয়। তারা বলে, ইরান তাদের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলল, পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, মানে পারমাণবিক বোমা তৈরির ধান্দা। ইরান তা অস্বীকার করে।
২০০৭ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস হলো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও সহায়তা বন্ধ।
কট্টর রক্ষণশীল ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আরও জোরালো করে তুললেন এই কর্মসূচি। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া আরও চেপে বসতে লাগল। পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল জাতিসংঘ। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিল। একের পর এক নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি মুদ্রার বাজার মূল্য দুই-তৃতীয়াংশ গেল কমে।
২০১৩ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে। মধ্যপন্থী নেতা হাসান রুহানি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরে, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাস পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ হয় তাঁর। ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এটাই প্রথম সংলাপ। এরপর সমঝোতার জন্য শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা।
২০১৫ সালে ছয় দেশ মিলে ইরানকে একটি চুক্তিতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ছয় দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য পাঁচটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি। এই চুক্তির অধীনে ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে রাজি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে যেতে দিতে সম্মত হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে তাদের অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও শর্ত থাকে।
ওবামা ক্ষমতায় থাকতেই এই চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই রকম প্রস্তুতি নেয়। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকে।
পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা নিয়ে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের চুক্তি হলেও মূল দুটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব থেকেই যায়। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসার পর এই সংশয় প্রকট হয়ে ওঠে। ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে শর্তের ঘাটতি রয়েছে এবং ইরান এখনো মাত্রাতিরিক্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে অজুহাত তুলে ২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে আসেন। ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের একটি বেসামরিক মহাকাশ সংস্থা এবং দুটি গবেষণা সংস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আমেরিকার অভিযোগ, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচিতে এসব সংস্থা সহায়তা করছে। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোনো বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইরানের ওই তিন সংস্থাকে সহযোগিতা করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, এই কর্মসূচিতে সফল হলে ইরান পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এক সংকটে ইরান। বিশ্বে তেলের মজুতে চতুর্থ বৃহত্তম দেশ তারা। কাজেই নিষেধাজ্ঞা না থাকলে তারা যে কতটা মজবুত অবস্থানে থাকত, তা সহজেই অনুমেয়।
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শুরুতে ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। প্রতিদিন গড়ে রপ্তানি করেছে ২৩ লাখ ব্যারেল। এখানে উৎপাদন ও রপ্তানির মধ্যে বিরাট বৈষম্য লক্ষণীয়। এর মধ্যেই ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার খড়্গ, ইরান থেকে আর তেল আমদানি নয়। ওই সময় ইরান থেকে আটটি দেশ তেল আমদানি করছিল। তারা হলো চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তুরস্ক, গ্রিস ও ইতালি। এই আটটি দেশকে অবশ্য ছয় মাসের সুযোগ দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে তেলবিষয়ক সব লেনদেন চুকিয়ে ফেলতে হবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রিস, তাইওয়ান ও ইতালি এর মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যতম বড় ক্রেতা চীন ও ভারত যথাক্রমে ৩৯ ও ৪৭ শতাংশ করে আমদানি কমিয়েছে। এতে চলতি বছরের মার্চ নাগাদ ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, তেল রপ্তানি খাতে ইরান এর মধ্যে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।
গত মে মাসে ট্রাম্প সদর্পে ঘোষণা করেছেন, ইরানের তেল রপ্তানি তিনি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবেন। বাস্তবে তাঁর এই চেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। চীন এর মধ্যে বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা তারা চালিয়ে যাবে। এটা বৈধ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তুরস্ক বলেছে, পুরোনো মিত্রের সঙ্গে তারা সম্পর্ক নষ্ট করবে না। তেল রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাবের কারণে কয়েক বছর ধরেই ইরানে মুদ্রাস্ফীতি চলছে। ২০১৭ সালে রুহানি অনেক চেষ্টায় তা যাও–বা ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলেন, এখন তা বেড়ে ৩১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। স্ট্যাটিস্টিক্যাল সেন্টার অব ইরানের গত ১২ মাসে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মাংস ও মুরগির দাম বেড়েছে ৫৭ শতাংশ, দুধ–ডিমের দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, সবজির দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। গরিব মানুষের আবাসন ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে ২০ শতাংশ।
ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের চিকিৎসাসেবা। বর্তমানে বহাল নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে খাবার থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত সব ধরনের মানবিক সহায়তা কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। মারা যাচ্ছে ক্যানসারের রোগী।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিণতি
২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবার সেই সাপে–নেউলে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে চলে আসার পরপরই উপসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করে। যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত রেখেছে বি-৫২ যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, সিরিয়া, ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে। মে ও জুনে ওমান উপসাগরে ছয়টি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে। কেউ এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্র এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় উপসাগরে এ ধরনের হামলা চালানো হতো।
২০ জুন হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক সামরিক ড্রোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল। ইরান বলেছে, এটা তাদের সীমানা হানা দিয়েছিল। এসব ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে ইরানও কোনো ছাড় দেবে না।
পারমাণবিক কর্মসূচিবিষয়ক ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) গত ১ জুলাই নিশ্চিত করেছে যে ইরান তার চুক্তি ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করছে। ইরানকে জ্বালানি খাতে ব্যবহার উপযোগী ইউরেনিয়াম আহরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরান এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম মজুত করছে। পারমাণবিক বোমা বানাতে লাগে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম।
আইএইএর এই তথ্য অনুযায়ী, শত বাধাবিপত্তি ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও যেহেতু তারা এই প্রকল্প ছেড়ে নড়ছে না, এটা পরিষ্কার যে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইরান তার বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় জোরালোভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এসব স্থাপনায় পরিদর্শনে আসতে দেওয়া হবে না।
রুহানি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছুতেই অবাধে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেবে না। ইরানও যেকোনো মূল্যে এ কর্মসূচিতে অটল থাকবে? এর ভবিষ্যৎ পরিণাম তাহলে কী?
ইরানকে তার ব্যয়বহুল পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য তেলের টাকার ওপর নির্ভর করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেবে তারা। গোপনে তেল বিক্রির চেষ্টা চালাবে।
এর মধ্যে সেই নজির রেখেছে ইরান। জিব্রালটার সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলসহ একটি ইরানি জাহাজ (আদরিয়ান দরিয়া-১) আটক করে। এই ট্যাংকারের আগের নাম গ্রেস-১। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান এই জাহাজে সিরিয়ায় ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পাঠাচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হয়। সিরিয়ায় তেল নিয়ে যাবে না—এমন মুচলেকা দিয়ে জাহাজটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাড়া পায়।
পরে জাহাজটি দ্রুত গতিপথ বদলে প্রথমে তুরস্ক ও পরে লেবাননের দিকে যায়। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলেন, এমন কোনো জাহাজের খবর তাঁদের কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা বারবারই ঘটবে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১০ মিনিটের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। কারণ, দেশটি হচ্ছে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, তা কে জানে। ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই যে সাফল্য পেয়েছিল, ইরানে হামলা চালালে মোটেও তা হবে না।
আট কোটির বেশি মানুষের দেশ ইরান আয়তনে ইরাকের চেয়ে চার গুণ বড়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতির দিক দিয়ে ইরানের অবস্থান এখনো দ্বিতীয়। কাজেই ইরান বড় সহজ কথা নয়।
ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফায়দা লোটার পেছনে কারণ ছিল। শিয়াপ্রধান দেশটিতে সাদ্দাম ছিলেন সংখ্যালঘু সুন্নিদের প্রতিনিধি। তিনি শিয়া, কুর্দিসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তাই সেখানে তাঁর শত্রু ছিল। আর মুখে যতটা বড়াই করেছেন, প্রতিরক্ষার জন্য সে রকম যথেষ্ট অস্ত্র ছিল না।
ইরান শিয়াদের দেশ। বিপ্লবের অভিজ্ঞতায় তারা সাহসী। দেশাত্মবোধ, দেশপ্রেম ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরানিরা একপ্রাণ। তাদের শৌর্যবীর্যও কম নয়। ইরানি সেনারা কেবল নিজ ভূখণ্ডে নেই। তারা ছদ্মবেশে ভিন্ন পরিচয়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জায়গায়। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে যেসব রকেট ছোড়ে, তা মিলিশিয়া দলের সদস্য হিসেবে ইরানি সেনারাই ছুড়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়।
ইরাকের ভেতর অসংখ্য ছদ্মবেশী ইরানি যোদ্ধা রয়েছে। সিরিয়া ও বাহরাইনে রয়েছে। রয়েছে ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে। কাজেই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের খোঁচা মারা হবে ভিমরুলের চাকে ঘা মারার মতো।
ইরানিরা সাগরে ছোট ছোট বোটে ঝাঁক বাঁধা মাছের মতো হামলা চালাতে পটু। আরও আছে জাহাজের তলা ফুটো করে দেওয়ার মতো সাবমেরিন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরি দিয়ে কতটা সুবিধা পাবে, তা দেখার বিষয়। আর ইরান যদি কোনোভাবে তাদের কোনো রণতরি ডুবিয়ে দেয়, আর্থিকভাবে তা হবে বিরাট ক্ষতি। চীন ও রাশিয়া তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে আর হাসবে।
ইরানের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে, এ ব্যাপারে বিশদ কোনো তথ্য নেই। তবে অস্ত্রের মজুত তাদের নেহাত কম নয়। ট্যাংকের মতো ভারী অস্ত্র তারা নিজেরাই তৈরি করে। আছে সাবমেরিন বিমানবাহী তরি, যুদ্ধবিমান, গোলাবারুদসহ ভারী অস্ত্র। আরও আছে স্বল্প, মধ্যম ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। শাহাব, আশুরা, কাদের, সেজ্জিল—এসব ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে আঘাত হানতে পারে। মিশকাত নামের ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের দৌড় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।
বর্তমানে অস্ত্র কেনার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইরান বাইরে থেকে কোনো অস্ত্র কিনতে পারছে না। ২০২০ সালের অক্টোবরে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে। সেদিকে তাকিয়ে ইরান এর মধ্যে নতুন অস্ত্র কেনার তোড়জোড় করছে।
ইরানের বিমান শিল্প সংস্থার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল করিম বানিতারাফি বলেছেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ এই দুই মিত্র তাদের জন্য বড় শক্তি। কাজেই উপসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টক্কর পরিণামে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে; বিশেষ করে সশস্ত্র যুদ্ধ।
>>>শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
ই–মেইল: shariful.bhuiyan@prothomalo.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1381)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 20
(31)
- জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে ঢাকার রাজপথেও শিশুরা by শ...
- চাঁদাবাজি-দুর্নীতি: দায় কি শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগের...
- ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, কাউকে ছাড়া হবে না: শ...
- ইয়েমেনি ড্রোনের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক...
- এনআরসি নিয়ে অমিত শাহকে কী বললেন মমতা? by শুভজ্যোত...
- আপনারা এতদিন আঙ্গুল চুষছিলেন? -আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে...
- কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দুই মার...
- ক্যাসিনো গডফাদারদের তালিকা ধরে অভিযান by রুদ্র মিজান
- ক্যাসিনো রাজা খালেদের উত্থান যেভাবে by শুভ্র দেব
- বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: করণীয় সম্পর...
- ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচারনাকারীদের জবাব by সুমাইয়া ঘা...
- কাশ্মীর স্বাভাবিক হলে ফারুক আব্দুল্লাহকে আটকে রাখা...
- পর্যটনবান্ধব দেশের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে স্পেন
- আধুনিক দাসত্ব: যুক্তরাজ্যে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের...
- মশা কাহিনি ও ডেঙ্গু প্রসঙ্গ
- ওবিওআর ভারতের জন্য একটি ‘লাভজনক প্রস্তাবনা’, ভারতী...
- মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: ইতিহাস কী বলে by মাহফু...
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী? by শরিফুল ইসল...
- কাশ্মীর নিয়ে কেন ভারত-পাকিস্তানের এত আকর্ষণ? by মন...
- শুধু কাশ্মীরী মুসলিম হওয়ার কারণে কারাগারে পাঠানো হ...
- যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান উষ্ণ সম্পর্ক কেন চীনের জন্য...
- হিমালয়ের ঘাতক পবর্ত নিয়ে ভয়ানক তথ্য
- মাদক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট আলোচনায় ‘চায়না হোয়াইট’ by ...
- ‘বাংলাদেশে ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক নির্বাচন হয়...
- সন্তান নিয়ে মায়ের বন্দিজীবনের গল্প
- মালয়েশিয়ার টেরেঙ্গানু সফরের স্মৃতি by ড. মো. নূরুল...
- যে পবিত্র শহরে মসজিদ নিষিদ্ধ
- দুনিয়ার অদ্ভুত সব খাবারের উৎসব by ওয়াসিদ রাজা
- শৈশবের দুরন্তপনা by কাজী আশিক রহমান
- বুঝে শুনে ভালো কিছু কাজই করতে চাই: -কামরুজ্জামান মিলু
- নিঃসঙ্গ একটি ব্রিজ by তোফায়েল হোসেন জাকির
-
▼
Sep 20
(31)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বিশ্বকাপ ফুটবল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment