Friday, August 31, 2012
দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
একটু বেলা হলে বৃষ্টি ধরে এলো। তবে আবুল মাস্টারের উত্তরপাড়ার জমিতে পাট কাটা শুরু হয়েছে, শালার মাস্টার আজ আসবে না। ইস্কুলে গেলে জুত করে ভেলায় চাপা যায়। ইস্কুলের নিচে এবাদত মুন্সির বড় ভেলাটা বাঁধাই রয়েছে, লগির ১২-১৪টা ঠেলা দিলেই একেবারে ধলেশ্বরীর তীর।
সাড়ে ১০টার লঞ্চে উঠে কাপড়ের গাঁটের ওপর বসে থাকা প্যাসেঞ্জারদের সামনে সুর করে 'মা ফাতেমা কাইন্দা বলে বাপ কোথায় আমার/হায়রে নবীজির এন্তেকালে দুনিয়া জারজার' গাইতে গাইতে বাঁ পাটা খুঁড়িয়ে হাঁটলে দুই-আড়াই টাকা জোগাড় করা এমন কিছু নয়। তারপর রামেশ্বরদী ঘাটে নেমে কদম আলীর দোকানে বসে চায়ে ভিজিয়ে বনরুটি খাও, পেয়ারা খাও, গাব খাও, পয়সা থাকলে চাই কি মেঘনা সিগ্রেটও একটা জুটে যায়। ১টা ৫০-এর লঞ্চে বাড়ি ফিরলে মায়ের সাধ্য কী ধরে যে ছেলে তার আধখানা পেটে জামিনের বন্দোবস্ত করে এসেছে।
কিন্তু ওদিকে আকাশ থামে তো জয়নাবের পাড়া ফাটানোর বিরতি নেই। এই মিনিট দশেক হলো একটু জিরান দিয়েছে। এটাই সুযোগ, জয়নাব ফের শুরু করলে তাকে বোঝানো যাবে না। ঝাঁপ তুলে উঠানের কোণে মানকচুর ঝোপ থেকে বড় দেখে একটা মানপাতা ছিঁড়ে মাথার ওপর ধরে এক হাতে স্লেট ও মলাট-ছেঁড়া ধারাপাত নিয়ে ওহিদুল্লা পা বাড়াল। অমনি অনেকক্ষণ একটানা চ্যাঁচানোর পর ক্লান্তিতে হাঁপাতে-থাকা জয়নাব কাতরায়, 'ওইদুল্লা! ইস্কুলে যাইস না!'
'আইজ আমাগো পরীক্ষা। না গেলে মাস্টারে মারবো!'
জয়নাব কথা না বলে হাত নাড়ে, এর মানে, মারে মারুক। একটু হাঁপিয়ে, ফের হাত নাড়ে, এর মানে, তবুও যাস না। তারপর হাজেরার হাত থেকে হাতপাখা নিয়ে কোঁকায়, 'কাগজির পাতা লইয়া আয় তো মা। খালি বমি বমি লাগে। মরার বমি আয়ও না!' বিছানা থেকে মুখ নামিয়ে সে বমি করার উদ্যোগ নেয়। কেবল শব্দই সার, এক ফোটা রসও বেরোয় না। তখন চিৎ হয়ে শুয়ে কাতরাতে থাকে। এখন হাজেরার পালা। এই ছেমড়িটা আরেক মুরবি্ব। ছনের চালের ফুটো দিয়ে ঝরা পানি সরাতে সরাতে সে ঘরময় কাদাকাদা করে ফেলে আর উপদেশ ঝাড়ে, 'আম্মা বলে অহন-তহন, তুমি যাও বেড়াইতে?'
ওহিদুল্লাকে তাই মাচার ওপর বিছানায় মায়ের কাছে বসে থাকতে হয়। আম্মার পেট ব্যথা হলে তার কী করার আছে? ব্যথার সঙ্গে স্বর, জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, বুকের ভেতর হাঁসফাঁস, এর ওপর ২৪ ঘণ্টা বমি ভাব_না, তার কিছু করার নেই। তার বাবা গতবার এসে প্রায় দিন পনেরো বাড়ি ছিল। পেটব্যথা, বুকের হাঁসফাঁস তখন ছিল কোথায়? বাজানকে বলে তখন যদি এক বোতল পানি পড়িয়ে রাখে তো তাই দিয়েই একটা বছর শরীরটাকে দিব্যি হাতের মধ্যে রাখা যায়। বাবা তার মৌলবি সাহেব, হাফেজ না হলেও কোরান শরিফ পড়ে পাখির মতো। দোয়া-দরুদ যে কত জানে, তার লেখাজোকা নেই। গাছ লাগানোর সময় গাছ বাঁচিয়ে রাখার দোয়া, ধান-পাটের জমিতে পোকামাকড় মারার দোয়া, বাচ্চাদের পায়খানা হওয়ার দোয়া, পায়খানা বন্ধ করার দোয়া, বাঁজা মেয়েমানুষের বাচ্চা হওয়ার দোয়া, আবার শত্রুদুশমনের বিমারি করার দোয়া_এক দোয়া পড়ে দিলে দুশমন শালা রক্তবমি করতে করতে পাল্টা দোয়া জোগাড় করার সময় পাবে না_আর মায়ের এসব রোগ তো বাজানোর কাছে জলভাত। এখানে, এই বিল এলাকায়, কসিমুদ্দিনের দাম বোঝার মতো লোক কোথায়? বাজান ঠিকই বলে, যেখানে তিন দিন বৃষ্টি হলো তো ডাঙ্গা ও নদীর কোনো ভেদচিহ্ন রইল না, সেখানে মানুষ বাস করে? আর সেখানে? সেই উত্তরে, ইছামতি, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে তিস্তাতীরের গ্রাম খোলামহাটি। গ্রামে আজমত আলী প্রধানের আটচালা টিনের ঘর, তার পাটের গুদাম, তামাকের চাষ। কসিমুদ্দিনের কত দাপট সেখানে। প্রধানের বাড়িতে থাকে, বাড়ির মক্তবে গ্রামের ছেলেমেয়েদের আমপারা-সেপারা পড়ায়, মসজিদে আজান দেয়, ইমাম সাহেব এদিক-ওদিক জেয়াফতে গেলে নামাজও পড়ায়। বকরি ঈদের সময় সেখানে ঘরে ঘরে কোরবানির ধুম, তার বারো আনা জবাই হয় কসিমুদ্দিনের হাতে। এক বছর পর বকরি ঈদের সপ্তাহখানেক বাদে কসিমুদ্দিন বাড়ি ফেরে তখন তার হাতে মস্ত বড় অ্যালুম্যুনিয়ামের ডেকচি বোঝাই জ্বাল-দেওয়া ৮-১০ সের খাসির গোশ্ত, গোরুর গোশ্ত। মৌলবি বাড়ি এলে জয়নাবের পায়ে পাখা গজায়, তখন খালি ওড়ে, খালি ওড়ে। একটু মনে করে তখন পানি-পড়া রেখে দিলে এত কষ্ট পায়? মা হাজার হলেও আস্ত মেয়েমানুষ, ডেকচি ভরা গোশ্ত দেখলে হুঁশ থাকে না। বছরের একটা মাস গোশ্তের ঝোলের, গোশ্তের ভুনার, কলেজি-গুর্দার সুবাসে এই ছনের ঘরে দালানের চেকনাই আসে। গোশ্তের মৌসুম তখন, গোশ্তের উৎসব! ওহিদুল্লা তার নিজের গোশ্ত-ঝরা চিমসে পেটে আদরে ও করুণায় হাত বুলাতে বুলাতে উঠে দাঁড়ায়। আদর পেয়ে বেতমিজ পেটের ভেতরটা ফোঁস ফোঁস করে।_নাঃ সাড়ে ১০টার লঞ্চ এখনো যায়নি। লঞ্চে ঠাসাঠাসি করে বসা কাপড়ের ব্যাপারিদের কাছ থেকে দুই টাকা-আড়াই টাকা না হোক এক টাকা-দেড় টাকা পেলেও বনরুটি-চা না হোক, এক হালি গাব কী আমড়া খেয়ে মুখ মুছে বাড়ি ফিরলে কেউ কী ধরতে পারে? কিন্তু দাঁড়ানোর সঙ্গে জয়নাবের চিঁহি চিঁহি স্বরে বল আসে, 'যাইস না!' 'মাস্টারে আইজ পাট কাটবো, হ্যায় লগে থাকতে কইছিল!'
জয়নাব হাত নাড়ে, মানে, কউক।
'না গেলে মাস্টারে মাইর দিব!'
'মৌলবি মাইনষের পোলা তুই পাট কাটবি ক্যান?' গোঙাতে গোঙাতে জয়নাব নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য মনোযোগী হয়। কয়েকদিন থেকে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করতে তার খুব পরিশ্রম হচ্ছে। চেষ্টা না করলে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। অনেকক্ষণের জন্য বাতাস টেনে নিয়ে কথা বলতে বলতে শ্বাস ছাড়ে, কথাও বলে মিনমিন করে, পাছে আবার বেশি বাতাস বেরিয়ে যায়; তখন ফের নতুন করে বুক ভরানোর মেহনত করবে কে?
'ওইদুল্লা, বাবা আমার কালা গাইটা আনতে পারলি না? হাশমত মউরির পোলায় দড়ি ধইরা টাইনা লইয়া গেল, একডা বছর পার হইয়া গেল, একটা দিন দুগা ভাত মাখাইতে পারলাম না।' এত কথা বলায় তার বাতাসের স্টক শেষ হয়ে যায়, সে ফের হাঁপায়। ওহিদুল্লা তার কথার জবাব দেয় না। এই তো মেয়েমানুষের বুদ্ধি! কাল থেকে শুরু হয়েছে দুধের বায়না। গরু বিক্রি করে দিয়েছে আজ এক বছরের ওপর, সেই গরুর শোক কাল থেকে নতুন করে উথলে উঠছে। এত হাহাকারের আছে কী? গরু যখন ছিল তখনি কী এই মা মাগী ওদের দুধভাত দিত? প্রত্যেক দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাশমত মুহরির বড় ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ বা তার ঘরজামাই বোনাই হারুন মৃধা এসে দুধ দুইয়ে নিয়ে গেছে। এর বদলে সাত দিন পর পর বাজারে হারুন মৃধার দোকান থেকে ওহিদুল্লা চাল-ডাল নিয়ে আসত। খালি বছরে একবার কসিমুদ্দিন বাড়ি এলে সেই কটা দিন পোয়া দেড়েক দুধ ঘরে রাখার রেওয়াজ ছিল। 'হেইখানে কি দুধ পাও?'_স্বামীকে এই কথা বলে জয়নাব ওই কয়েকটা দিন রাতে দেড় পোয়া দুধের সঙ্গে দেড় সের চালের ভাত দিয়ে, গুড় দিয়ে ও একটা শবরি কলা দিয়ে মাখাতো, সেই মাখানো ভাত খেত বাপেবেটা-ঝিয়ে মিলে ছয়জনে। শেষ দুটো লোকমা বরাদ্দ ছিল জয়নাবের জন্য। দুধভাতের হাত ধুয়ে তার গোনাগুনতি ছাগলা দাড়ি কটায় হাত বুলাতে বুলাতে কসিমউদ্দিন মাঝেমধ্যে হাসত, 'এই শ্যাষ দুইডা লোকমার মদ্যেই ব্যাক সোয়াদ। তুমি খাইতে চাও না, তুমি নিজে না খাইলে এত মজা কইরা মাখাইবা?' দুধভাত খেয়ে বাজানের মুখ থেকে কী সুন্দর সুন্দর কথা বেরোয়, 'আল্লাপাকে তোমার হাতের মইদ্যে বরকত দিছে! দেড় সের চাইলের ভাত তুমি দেড় পোয়া দুধ দিয়া মাখাইয়া ব্যাকটির জান ঠাণ্ডা করো! আলহামদোলিল্লা!'
সেই কত দিন আগে-খাওয়া দুধভাতের বাসি গন্ধ চোখা কঞ্চির মতো পেটে ঢুকে পাকস্থলীতে খোঁচাখুঁচি শুরু করলে সে ফের উঠে দাঁড়ায়। টিপটিপ পানি মাথায় করে ঘরে ঢোকে বড়আম্মা আর হাজেরা। এতক্ষণ ঘরে না থাকার জন্য হাজেরাকে কষে একটা চড় মারার সুযোগ ঘটে যাওয়ায় ওহিদুল্লার হাতের তালু খুশিতে নিশপিশ করে, পেটের মধ্যে কঞ্চির তৎপরতার বিরতি ঘটে। কিন্তু হামিদা বিবি এসে বসল জয়নাবের গা ঘেঁষে, তার পাশে হাজেরা। এ অবস্থায় মারধর করাটা মুশকিল। পেট ও হাতের চাপা তৎপরতা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়ে ওহিদুল্লা নাক খুঁটতে শুরু করে।
জয়নাব কী ঘুমিয়ে পড়ল? হামিদা বিবি তার কপালে হাত রাখতেই সে বিড়বিড় করে দুধের কথা বলে। হামিদা বিবির হাত জয়নাবের কপালেই থাকে, 'মাইজা বৌ, দুধ তো পাই না! তামান গাঁও তালাস কইরা আলার বাপে হপায় আইছে। উত্তরপাড়ার করিম সিকদারের গাইটা দুই একের মদ্যেই বিয়াইবো। নুইলা আমিনুদ্দির গাই বলে কয়দিন থাইকা খালি দাপায়, দানাপানি ছাড়ছে। আলার বাপে ঝাইড়া দিয়া আইল। কী করে, ধরছে, ঝাইড়া দিয়া যাও। তাই দেরি হইল।'
'দাপাইবো না?' আলার বাপ দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই কথা বলে। সে হলো জয়নাবের ভাসুর, ঘরে ঢোকার নিয়ম নেই। 'গাভীন গাই দিয়া কয়দিন হাল বোয়াইছে, অহন গাইয়ের কী দোষ? আল্লায় ক্যামনে সয়?'
ভাসুরের কণ্ঠস্বর শুনে জয়নাব গায়ের কাঁথা আরো জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তার পায়ের কাছে বৃষ্টির পানিতে ভেজা জায়গাটা আঙুলে লাগলে সমস্ত শরীর শিরশির করে ওঠে। এতে কথা বলার বল পাওয়া যায়, 'অ বুজান, হাশমত মউরির গোয়ালের মইদ্যে আমাগো কালা গাইটা আছে!'
কিন্তু হাশমত মুহুরির বাড়িতে যাওয়া আলার বাপের পক্ষে অসম্ভব। গতবার খরার সময় হারুন মৃধার দোকান থেকে পাঁচ সের চাল নিয়েছিল, সেই ধার আজও শোধ হয়নি। সে তাই ওহিদুল্লাকে ডাকে, 'ওইদুল্লা!'
ওহিদুল্লা বেরিয়ে দেখে তার জ্যাঠা টিপটিপ বৃষ্টির নিচে দাঁড়িয়ে ভিজছে আর পরনের গামছা বারবার নিঙড়ে নিচ্ছে।
'ওইদুল্লা, কোষাখান লইয়া মালখাপাড়া যা, হাশমত মউরির তিনটা গাই, দুধ লইয়া বাজারে অহনো যায় নাই। মউরিরে হাতে-পায় ধইরা কইস, আমার মায়ের অহন-তহন অবস্থা, একখানা হাউস করছে, আপনের না কওন চলবো না!'
সারা পাড়ায় একটিমাত্র কোষা, সেটা নিয়ে গেল কে? ওহিদুল্লার ভেলাই ভালো। হাশমত মুহরির বাড়ির পৈঠায় ভেলা ঠেকানোর আগেই দেখা যায় পরিষ্কার জামাকাপড় পরা কয়েকটি ছেলেমেয়ে পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিচ্ছে। সবাই এক সঙ্গে কথা বলে, দেখেই বোঝা যায় শহরের পয়দা, এদের কথা বোঝা যায় না। ওহিদুল্লা ভেলা ঠেকিয়ে ডাঙ্গায় নামে। হাশমত মুহুরির ঘর অনেক উঁচুতে, পা ঠেলে ঠেলে ওপরে উঠতে হয়।
হাশমত মুহুরি বাড়ি নেই, ভোরে উঠে বৃষ্টি মাথায় করে সে গেছে থানায়, কাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করতে। হাশমত মুহুরির বড় ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ থাকলেও কাজ চলে, তো সে গেছে বাজারে। এই তো কোষা নিয়ে বেরোলো, অহিদুল্লার সঙ্গে তার দেখা হয়নি? হাশমত মুহুরির চাকরিজীবী প্রবাসী ছেলে আলতাফ অনেকদিন পর বাড়ি ফিরেছে, বাজারে না গিয়ে ঢ্যাঙা আশরাফের উপায় ছিল না। ওহিদুল্লা বাড়ির ভেতরে উঠানে দাঁড়ায়। ঘরের পাকা বারান্দায় শহরবাসী ছেলে মস্ত মুড়ির বাটি নিয়ে জলচৌকিতে বসেছে। খাঁটি সর্ষের তেলের ঝাঁজ বড় বারান্দা পেরিয়ে ওহিদুল্লার নাকে ঝাপটা মারে এবং সেই ধ্যাবড়া নাকের সুড়ঙ্গপথে পেটে ঢুকে সুড়সুড়ি দেয়। মুহুরির বৌ ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা অ্যালুম্যুনিয়ামের থালা থেকে গম ছিটিয়ে দিচ্ছে উঠানে।
ওহিদুল্লার আবদার শুনে মুহুরির বৌ অবাক হলো, 'হায়রে আল্লা!' তর মায়ের না প্যাটের ব্যারাম? চিরকালের সুতিকার রুগী? হ্যারে তুই দুধ খাওয়াইবি? পাগলা হইছস?' কিন্তু এই বিস্ময়বোধে তার গম ছড়ানোর কাজ একটুও ব্যাহত হয় না, দাঁতের গোড়ায় পানে-ভারী জিভ ঠেকিয়ে সে 'টি টি টি টি' আওয়াজ করলে এক পাল মুরগি এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গম খায়। মুরগির হাঁটা কি! পেটে দানা পড়ায় শালাদের দেমাক কত! ইচ্ছা হয় সব কটার ঠোঁট কামড়ে গমের টুকরা নিয়ে দাঁতে চিবিয়ে ফেলে। কিন্তু এই সাধ পূর্ণ করার জন্য কোনোরকম প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মুহুরির জামাই হারুন মৃধা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে জামার বোতাম লাগায় আর বলে, 'তর মায়ের প্যাট খারাপ, তগো হইছে মাথা খারাপ!'
ওহিদুল্লা মিনমিন করে, 'না, হ্যার হাউস হইছে দুধভাত খাইব, মায়ে বলে বাঁচবো না!' তার গলা কাঁদো কাঁদো করার চেষ্টা করেও বিশেষ সুবিধা হয় না। মুহুরির শহরবাসী ছেলের কথা বরং সর্ষের তেলের ঝাঁঝে খোনা শোনায়, 'দুধভাত খাইলে তর মায়ে ফাল পাইড়া উঠব, না?'
শহরবাসীর স্কুলে-পড়া ফ্রক-পরা কন্যা কামড়ে কামড়ে পেয়ারা খাচ্ছিল, মুখে পেয়ারা নিয়েই সে বলে, 'দুধ আমার ভাল্লাগে না! দুধ আবার মানুষ সখ করে খেতে চায়? মাগো!'
মুহুরির জামাই তার দোকানে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে বাড়াতে বলে, 'পয়সা লইয়া ডাক্তার দেখা। ওষুধ দে, ওষুধ দে! তর চাচা না? ওই যে আলোর বাপে তর চাচা লাগে না? আমার চাউলের দামটা অহনো দিল না। অর কাছে থাইকা ট্যাহা লইয়া ডাক্তার দেখা।'
গলাটা কাঁদো-কাঁদো করার জন্য ওহিদুল্লা আরেকবার প্রচেষ্টা চালায়, 'মায়ের এ্যাট্টা হাউস হইছে, কালা গাইয়ের দুধ দিয়া, গুড় দিয়া, কলা দিয়া'_বলতে বলতে জিভ দিয়ে শব্দগুলো সে চাখে। কিন্তু হারুন মৃধা কালো গরুর কথায় চটে গেল; 'যা যা! এক কথা!_প্যাচাল পাড়িস না!' মুহুরির বৌ বলে, 'কইলাম আমার মাইজা পোলায় আইছে, নাতিপুতিগুলি আইছে বলে দুই বচ্ছর বাদ, দুগা পিঠা করুম, দুধ লাগে আমার চাইর স্যার! আইজ বাজার থাইকা দুধ আরো খরিদ করা লাগে! তর মায়ে_বুইড়া মাগীটার ঢঙের হাউস হইছে দুধভাত খাইব!' শহরের পয়দা মেয়েটি পেয়ারা কামড়ানো স্থগিত রেখে বেণী দুলিয়ে দুলিয়ে বলে, 'নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধভাত!'
শহরে থাকলে পোলাপান কত রঙই না শেখে! কথাবার্তা শুনে কে বলবে যে এরা হাশমত মুহুরির নাতিপুতি?
কালো গরুর কথাটা হারুন মৃধা ভুলতে পারে না, 'এইগুলির উপকার করতে নাই। খাওন জোটে নাই, চাউলের দাম হইল আগুন, ভাইজানে গরুটা কেনে তয় হ্যাগো চাউল আসে! দানাপানি জোটে! হাটে-বাজারে অহন আলার বাপে কইয়া বেড়ায়, হ্যার ভাই বাড়িত থাকে না, মউরির পোলায় হ্যার গাইগরু লইয়া গেছে। গরু লইছে মাগনা? ক্যারে, গরু তর মায়ে মাগনা বেছছে?'
ওহিদুল্লা ফিরতে ফিরতে বৃষ্টি একেবারে থেমে গেল। আলার বাপ কাদার পাশে একটা কাঠের গুঁড়িতে হাঁটু ভেঙে বসে আরো দুজন জ্ঞাতির সঙ্গে ভ্রাতৃবধূর রোগ বিষয়ে গুরুগম্ভীর পরামর্শ করে। ওহিদুল্লাকে দেখে আলার বাপ চোখের প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি করলে ওহিদুল্লা বলে, 'মউরি নাই।'
'হারুন মিরধা আছিল?'
'হ্যাগো ইষ্টি আইছে, দুধ লাগব।' এই খবরে অবশ্য তাদের আলোচনা ব্যাহত হয় না। 'ডাক্তার আছিলো আমাগো অমরেশ ডাক্তার। খালি জিগাইছে, কও সে বাবা তোমার রুইদ ভালা ঠ্যাহে, না ছ্যাওয়া ভালো ঠ্যাহে? কেউরে কইছে, রাইতে আরাম পাও, না দিনে আরাম পাও? জবাব শুনছে, শুইন্যা ওষুধ দিছে। কী দিছে? চাইরটা-পাঁচটা বড়ি, মধুর লাহান মিঠা, খাইতেও মজা, দুইবার-তিনবার খাও, জ্বরজারি কৈ যাইব, দিশা পায় নাই!'
শহরে-পয়দার পেয়ারা কামড়ানো দেখেও যা হয়নি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের স্বাদের কথা শুনে ওহিদুল্লার পেটে ও বুকে কোলাহল শুরু হলো। জীবনে কোনোদিন মধু চেখেও দেখেনি, অথচ ফোঁটাফোঁটা মধু বা মধুর মতো মিষ্টি বড়ির এক-আধটা দানা শূন্য উদরে পড়ে, শব্দ করে পড়ে আর সেখানে ঘায়ের ওপর সুচের মতো বেঁধে।
একে এই সুচ-বেঁধার কষ্ট, আবার পাটখড়ির বেড়ার পাশ দিয়ে ঘরে ঢোকার মুখে ওখানে কে রে? _খাদিজা। দেখো, ভরা-বর্ষার বাড়ির মানুষ উপোস করে মরে, আর ছেমড়িটা কেমন তারিয়ে তারিয়ে শসা চিবায়। দেখতে এতটুকু হলে কী হবে, বাড়ে নাই বলে কী তার বয়স থেমে আছে? তার আক্কেলটা দেখো! কানের কাঠি-বেঁধা ও একটু পুঁজ-মাখা লতি ধরে ওহিদুল্লা তার গালে গোটা তিনেক চড় মারলো। 'শয়তানী! চুন্নীটা! কচুর ঝোপে পলাইয়া শসা খাস? শরম নাই?' একাগ্রচিত্তে ও নিবেদিত উদরে শসা খেতে খেতে মিঞাভায়ের এই অতর্কিত আক্রমণে বিচলিত হয়ে খাদিজা কাদার ওপর পড়ে যায়; তার পায়জামাটা ছেঁড়া, সেটা একেবারে ফাঁক হয়ে গেল। তবে সুখের বিষয় শসার অভুক্ত অংশের সবটাই তার আটা মুঠিতে অচঞ্চল বিরাজ করে।
জয়নাবের তখন খুব বাড়াবাড়ি। বড়আম্মা বসে আছে স্যাঁতসেঁতে বিছানায়। হাজেরা হাত দিয়ে মায়ের পায়ের পাতা ঘষে দিচ্ছে। জয়নাবের ছোট ছেলেটি আহমদউল্লা পাছা ও উরুতে পাতলা গু নিয়ে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়ায়, তার দিকে কারো নজর নেই। এর বড়টা কানা বয়তুল্লা মায়ের পাশে শুয়ে অসময়ে ঘুমাচ্ছিল, সে জেগে উঠে এক চোখে ফোঁৎ-ফোঁৎ করে কাঁদছে। হাজেরা কাঁদো-কাঁদো গলায় বলে, 'ভাইজান, মায়ে তোমারে কত তালাশ করলো। মায়ে আর কথা কয় না, অ মা, তোমার জবান বন্ধ হইল ক্যান? অ মা!' এসব দেখেশুনে ওহিদুল্লার পেটের কোলাহল মাথায় ওঠে। সমস্ত পেট মাথার ভেতর সেঁধে যাওয়ার খুলিটা ঘিঞ্জি ও ঝাপসা ঠেকে। বড়আম্মা বিড়বিড় করে কোরআন শরিফের আয়াত পড়ে। জয়নাব তার বন্ধ চোখ দিয়ে ওহিদুল্লার খোলা নোনা দুই চোখে অদৃশ্য সব ছবি এবং অনেক আগে সম্পন্ন গতিবিধি প্রকাশ করে দেয়। ওহিদুল্লা দেখতে পায়, প্রখর ঠাঠা রোদে জয়নাব মাখন ঘোষের পোড়ো-ভিটায় মেটে আলুর খোঁজে মাটি খুঁড়ছে। আবার এক বছর পর কসিমুদ্দিন বাড়ি ফিরেছে তাও দেখা যায়। বাপের হাতে গোশতের হাঁড়ি দেখে তারা সব কটা ভাইবোন অস্থির। কসিমুদ্দিন তার নবতম শিশুটিকে নিরীক্ষণ করছে। লাজুক লাজুক ও বোকা বোকা মুখে ঘোমটা দিয়ে জয়নাব হঠাৎ কত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বদনা ভরে পানি নিয়ে একবার উঠানে রাখে, পুরনো কাঠের তোরঙ্গ থেকে কবেকার পুরনো রঙ-জ্বলা পাতলা ফরসা গামছা বারান্দায় বিছিয়ে রাখে জায়নামাজের মতো। আবার সূর্যের দিকে তাকিয়ে তখনো নামাজের সময় হয়নি_এই খবর জেনে নিয়ে ফের জায়নামাজ গুটিয়ে রাখে। ঘরে তার ডেকচি ভরা গোশ্ত। সেই গোশ্ত ছোট ছোট মাটির হাঁড়িতে গুছিয়ে রাখতে হয়। সেসব জ্বাল দেওয়া, বেছে বেছে গুর্দা ও কলেজি আলাদা করা_তার কাজের কী হিসাব আছে? কসিমুদ্দিন বাড়ি এসেই কালো গরুটাকে নিয়ে মাখন ঘোষের ভিটা ও বিলের ধারের মাঠে একটুখানি চরিয়ে আসে। আবার স্বামীকে গরুর কাছে যেতে দেখে আড়চোখে সেদিকে দেখে আর মুখ টিপে হাসে। কসিমুদ্দিন বলে, 'গাইয়ের প্যাট ওঠে না? গাই মনে হয় দুবলা হইয়া গেছে!' মুখে আঁচল দিয়ে জয়নাব জবাব দিত, 'আপনেরে না দেইখা! এইডো আমার হতীন তো!' নিজের রসিকতায় সে নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়ত। এই হাসিটা তার ঠোঁটজুড়ে চুপচাপ এলানো থাকে সারা পৌষ মাস। নতুন চাল উঠলে ছেলেমেয়েদের জয়নাব একদিন দুধভাত খাওয়ায়। কসিমুদ্দিন অবশ্য তখন তিস্তাতীরের গ্রামে। উঠানে ছেলেমেয়েদের সার করে বসিয়ে জয়নাব হাত দিয়ে মুখে মুখে ভাত তুলে দেয়। দুধ দিয়ে, ভাত দিয়ে, কলা দিয়ে, গুড় দিয়ে।
ওহিদুল্লা দুধভাতকলাগুড়ের মিলিত দৃশ্য ভালো করে দেখার আগেই জয়নাব চোখ মেলে। কালচে লাল চোখে সে হামিদা বিবির দিকে তাকায়। ডাকে, 'বুবু!' কথা শোনার জন্য হামিদা বিবি মাথা এগিয়ে দিলে জয়নাব বলে, 'দুধভাত মাখছো?' এই পর্যন্ত সবাই শুনতে পারে কারণ এটুকু তাদের আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সব বাক্য অস্পষ্ট। বড়আম্মা তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে সব শুনছে। তার চোখ ছলছল করে। 'হায়রে, পোলাপানের দুধভাত খাওয়াইবার হাউস করছে!' বলতে বলতে বড়আম্মার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এসব দেখে ওহিদুল্লার একটু রাগমতো হয়।_এতে কান্নাকাটির কী হলো? জয়নাব এতক্ষণে বিবেচকের মতো কথা বলছে। গত কয়েকটা দিন তার কেবল পেট ব্যথা করে আর বমি বমি ভাব হয় আর বমি না হওয়া বুক হাঁসফাঁস করে আর পেটের ও বুকের ব্যথায় সে মাঝেমধ্যে তড়পায়। ছেলেমেয়েদের খাওয়া-দাওয়ার দিকে তার নজর নেই। দুই দিন থেকে কারো খাওয়া হয় না, ঘরে যা ছিল হাজেরা কোনোমতে কয়েকটা দিন চালিয়ে নিয়েছে। কাল থেকে ভরা বর্ষা, কোথায় কী পাওয়া যাবে? এ সময় মায়ের এই ইচ্ছাপ্রকাশে বড়আম্মার এত কান্নাকাটির কী হলো?
হামিদা বিবি বলে, 'তরা বয়, আমি এট্টু আহি।' জয়নাব তার চোখের কপাট বন্ধ করে বর্তমান থেকে নিজেকে আড়াল করে নিল। কলা-গাব, চা-বনরুটি, মধুর মতো হোমিওপ্যাথিক বড়ি ও দুধভাত বারবার ভাবতে ভাবতে ক্লান্তিতে ওহিদুল্লার চোখও ভারী হয়ে আসে। চোখ মেলে অদৃশ্য বস্তু দেখতে বড় খাটনি হয়। ঝিমুনিতে তার মাথা নুয়ে নুয়ে পড়ে। ঝিমুনির ছোট্ট একটি পলকে তার গায়ে আগুন ফোটে, ভরা-বাদলের আকাশ হঠাৎ করে খরায় ফেটে পড়ে। দেখা যায়, সেই খরায় কে একজন, তাকে চেনা যায় না, তাদের কালো গরুর দড়ি ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটা ঢ্যাঙা আশরাফ হতে পারে, হারুন মৃধাও হতে পারে। ওহিদুল্লা জয়নাবকে ডেকে বলছে, 'মা, অ মা, আমাগো গাই লইয়া যায়, তুমি দেহো না?' জয়নাব বলছে, 'হ্যাগো কাছে রাখবার দিলাম। তর বাপে ট্যাহা পাঠাইলে চাইলের দাম শোধ কইরা গাই লইয়া আহুম!' দুবার এই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করতেই মায়ের চোখের খরা কেটে লোনা বাদল নামে, 'তর বাপে কৈ থন ট্যাহা পাঠাইব? মোল্লায় খাইয়াদাইয়া প্যাটটিরে বানাইছে গোশ্তের কালাপাতলা, হ্যায় ট্যাহা পাঠাইব ক্যান?'
মাটির সানকি হাতে বড়আম্মা ঘরে ঢুকলে ওহিদুল্লার এই বাসি-ছবি দেখা শেষ হলো, শিথিল চোখ-কাল ফের চাঙা হয়ে উঠল।
'বড়আম্মা দুধভাত লইয়া আইছো?' প্রায় চিৎকার করে হাজেরা উঠে দাঁড়ায়, 'বড়আম্মা, দুধভাত কই পাইলা?'
'পাইছি! আল্লায় দিছে!' ঈশ্বরের প্রদত্ত খাদ্য নিয়ে বড়আম্মা জয়নাবের শিয়রে বসল। জয়নাবের কপালে, গায়ে ও চুলে হাত বুলিয়ে হামিদা বিবি জিগ্যেস করে, 'মাইজা বৌ, পোলাপানের মুখে দুধভাত দিবি না?' কিন্তু জয়নাবের মুখচোখ অপরিবর্তিত। 'অ মাইজা বৌ, পোলাপানের দুধভাত খাওয়াইতে চাইছিলি, অ বৌ?'
মায়ের পদসেবা ছেড়ে হাজেরা এসে দাঁড়িয়েছে হামিদা বিবির হাতের সানকির ধার ঘেঁষে। খাদিজা তার শসা সম্পূর্ণ খেয়ে বা অভুক্ত অংশটি কোনো ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রেখে এখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আহমদউল্লার মুখ থেকে অর্থহীন ধ্বনি ও লালা গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু খাদিজার হাঁটুর পেছনে ছেঁড়া পায়জামার ঝুলে-পড়া কাপড় ধরে সেও মুখ তুলে গোল ও কালো সানকিটা দেখছে। স্যাঁতসেঁতে কাঁথার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে হামিদা বিবি জয়নাবের ডান হাত টেনে আনে। রোগা ও পাতলা এই হাত সানকিতে রাখলে আঙুলগুলোতে স্পন্দন বোঝা যায়। এক মুঠি দুধমাখা ভাত সেই হাতে পুরে দিলে হাতটা নিজে নিজেই ছেলেমেয়েদের দিকে এগিয়ে আসে। সবচেয়ে বেশি এগিয়ে সাড়া দিয়েছিল খাজিদার মুখ। কয়েক কামড় শসা তার পেটটাকে বড্ড খুঁচিয়ে দিয়েছিল। তবে হাঁ সবচেয়ে বড় হয়েছিল হাজেরার, যদিও একটু পিছিয়ে পড়ায় জয়নাবের হাত ঘেঁষে সে দাঁড়াতে পারেনি। এক চোখ কানা হলেও এবং মায়ের উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও কানা রহমতউল্লা তার ভালো চোখটা দিয়ে সব দেখে ফেলেছে, সেও মায়ের কাছাকাছি বিছানার ওপর উঠে বসতে চেষ্টা করছিল। কনিষ্ঠটির আবোল-তাবোল বকা শেষ, তখন তার জিভে কোনো ধ্বনি নেই, কেবল লালা গড়িয়ে পড়ছে।
হামিদা বিবি নিজের ডান হাত দিয়ে জয়নাবের দুধভাত-ভরা হাতটা ধরে পঞ্চাননের মাঝখানে এনে একটু উঁচুতে শূন্যে স্থাপন করে। ভাতের গন্ধে, গুড়ের গন্ধে ওহিদুল্লার পেটের প্রসার এখন দ্বিগুণ। সে একেকটি শূন্য ঢোঁক গেলে আর উদরের মস্ত গহ্বরে তার ঢক ঢক প্রতিধ্বনি বাজে। মুখ বাড়িয়ে ভাতের প্রথম গ্রাসটি সে নিজেই তুলে নিতে পারত, তা আর হয়ে ওঠে না, তার, আগেই হাজেরা তার বসন্তের দাগ-ভরা মুখ এগিয়ে হলদে ছ্যাতলাওলা দাঁতে মায়ের হাত কামড়ে দুধ-ভাত তার নিজের জিভে চালান করে নিয়েছে। বেতমিজ আওরৎ! মেয়েমানুষের বুদ্ধি মানে ইবলিসের উস্কানি।
দেখতে দেখতে জয়নাবের হাত ধপাস করে পড়ে যায় বিছানার প্রান্তে। খাজিদা সেই হাত নিয়ে আঙুলগুলো চুষতে আরম্ভ করে। পারে তো আঙুল চুষে চুষে সবটাই খেয়ে ফেলবে। ধাড়ি ছুঁড়ির মায়ের আঙুলে স্তনচোষার কাণ্ড দেখে ওহিদুল্লার ইচ্ছা হয় ঠাস ঠাস করে দুটো চড় বসিয়ে দেয়। তা আর হয়ে ওঠে না। জয়নাবের মাথা কাঁপতে শুরু করে এবং তার গলা থেকে ওঁ ওঁ ওঁ ওঁ এই রকম গরুর গাড়ির চলন্ত চাকার আওয়াজ শোনা যায়। তার ঠোঁট জোড়াও এখন বেশ ফাঁক হয়েছে; মরচে ধরা গোঙানি, ফাঁক-করা ঠোঁট ও মাথার মৃদু কাঁপুনি দেখে হামিদা বিবি ভয় পায় এবং 'লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহম্মদুর রসুলাল্লাহ্! মাইজা বৌ, মাইজা বৌ!' বলতে বলতে নিজের হাতে আর এক মুঠ দুধভাত তোলে হাজেরা, ওহিদুল্লা, খাজিদা, রহমতউল্লা ও আহমদউল্লাকে থ করে দিয়ে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে এবং ঠোঁটে প্রায় ছুঁয়ে দারুণ থতমত খেয়ে জয়নাবের মুখের কাছে নিয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে জয়নাবের গোঙানিরত মুখ হাঁ করাই ছিল, হামিদা বিবি অনায়াসে সেই হাঁর মধ্যে এক গ্রাস ভাত গুঁজে দেয়। ভাতের বেশ অনেকটা অংশ তার মুখের মধ্যে চলে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে খানিকটা তার কষ বেয়ে বাইরে গড়িয়ে পড়েছে।
তারপর পানিতে ডোবা মানুষের মতো জয়নাব কয়েকটা ঢোক গেলে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার গলায় ও মুখে প্রবল রকম ঝাঁকুনি শুরু হলো। কালো চামড়ার নিচেও কাঁপনের মোটা ও চিকন কারুকাজগুলো স্পষ্ট ধরা পড়ে। গলায় মাংসপেশি তার কুঁচকে ওঠে; কপাল ও কপালের নিচে, চোখের পাতায় ও নাকের দুই উপত্যকায় প্রবল আলোড়ন ওঠে এবং সে ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে শুরু করে। তার বমির আওয়াজ ও ভঙ্গি খুব জমজমাট, এই বিনীত ও ভাঙাচোরা ঘরে ঠিক মানায় না।
জয়নাব অবিরাম বমি করে। প্রথমে বের হলো ঘোলাটে সাদা ভাত ও পানি। তারপর কেবল পানি। বিবর্ণ পানির ধারা বেরিয়ে আসে প্রবল তোড়ে। মাঝেমধ্যে অল্পক্ষণের বিরতি দিচ্ছে। বিরতির পরপরই দ্বিগুণ বেগে বমি আসে। বমির পানিতে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। ওহিদুল্লা অবাক হয়ে বমির পরিমাণ দেখে, মায়ের ভেতরকার সব কিছুই পানি হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে? জয়নাবকে যারা অনেকদিন থেকে চেনে তাদেরও এ রকম মনে হতে পারে। এ পর্যন্ত খাওয়া যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য সে কী পাগল হয়ে গেল? আজ থেকে ৩৬ বছর আগে তার আকিকার গোশ্ত থেকে শুরু করে কিছুই তার পেটে থাকছে না। বমির পরিমাণ দেখে মনে হয় তার বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে যা খেয়েছে, নিজের বিয়ের খাবার, বিভিন্ন বকরি ঈদের পর তার স্বামীর নিজের হাতে হালাল করা কোরবানির গোশ্ত, কালো গরুর দুধ দিয়ে, কলা দিয়ে, গুড় দিয়ে মাখা মোটা ও রাঙা চালের ভাত, খরার সময় মাখন ঘোষের পোড়া ভিটা থেকে খুঁড়ে-আনা মেটে আলু, এমনকি কসিমুদ্দিনের পড়া-পানি পর্যন্ত উগরে দিয়ে সে নিঃশেষিত হচ্ছে। তার বমির মাঝেমধ্যে ১০-১২ সেকেন্ডের বিরতি থাকে। এ রকম একটি বিরতির সময় হামিদা বিবি জয়নাবের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে চিৎকার করে ওঠে, 'আরে করস কী? বমি লাগতাছে তো!'
কে শোনে কার কথা? বিছানার ওপর থেকে মাটির সানকিটা কখন যে পাচার হয়ে গেছে ঘরের পূর্ব কোণে, এমনকি ওহিদুল্লাও টের পায়নি। কাদাকাদা মেঝেতে একমাত্র সে ছাড়া আর সবাই লেপ্টে বসে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মাটির সানকির ওপর। হাজেরা তার ডান হাত দিয়ে খাচ্ছে বটে, কিন্তু সানকির সঙ্গে তার মুখের তফাত ২-৩ ইঞ্চির বেশি নয়। ইচ্ছা করলে সরাসরি মুখ দিয়েই সে ভাত তুলে নিতে পারে। খাদিজা বসেছে অর্ধেক সেজদার ভঙ্গিতে। বাপ-সোহাগী মেয়ে, বাপ এলে বাপের পেছনে তার নামাজ পড়া নকল করে, তার মহড়া চলছে এখন। হাত দিয়ে দুধ-ভাত টেনে টেনে নিজের মুখে তোলার ভঙ্গি থেকে মনে হয় যে মস্ত একটা কালো আরশোলা শুঁড় দিয়ে খাবার টেনে নিচ্ছে। কানা রহমতউল্লা এক চোখে যা দেখে, পুরো সানকিটা দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তাই যথেষ্ট। এখান থেকে তার কানা চোখটা দেখা যায়। মনে হয় খাওয়ার সুখে চোখটা বুজে এসেছে। আর কনিষ্ঠ আহমদউল্লা দুই হাতে ভাত খাচ্ছে, তার নাকের প্রবাহিত সিকনি মিশে যাওয়ায় তার লোকমাগুলোর তরলতা বাড়ে। তার সমস্যা তার দুই বছর বয়সসুলভ মন্থরতা। একেকবারে দুটো হাত মুখে তোলে তো অনেকক্ষণ নামাতে পারে না।
ওহিদুল্লার সর্বশরীর এখন কেবল পেটেরই সম্প্রসারণ। এই সব জানোয়ারের ওপর রাগে তার সর্বশরীর অর্থাৎ সমস্ত পেট জ্বলে ওঠে, ইচ্ছা করে সানকিটা কেড়ে নিয়ে দুধভাতসমেত চিবিয়ে চিবিয়ে খায়। কিন্তু জয়নাবের গমকে গমকে নিঃসারণ, তার মুখচোখ কপালের শিরা-উপশিরায় ভাঙাচোরার দৃশ্য কঠিন হয়ে তার মাথায় দারুণভাবে চেপে বসেছে। এ অবস্থায় সানকি কেড়ে নেওয়া কী করে সম্ভব? মা মাগী বমি করার আর সময় পায় না!
জয়নাবের বমির ভেতরকার বিরতির সময় আস্তে আস্তে বাড়ে। বমির জন্যে মুখের, গলার, পেটের, এমনকি মাথার মাংসপেশি, হাড়হাড্ডি, রগ, শিরা-উপশিরার যথেচ্ছ ও প্রচণ্ড ব্যবহারের ফলে জয়নাব খুব ক্লান্ত হয়ে মাথা এলিয়ে শুয়ে রয়েছে। বমি বোধহয় শেষ হয়ে এলো। তাকে দেখে মনে হয় তার ভার অনেক কমে এসেছে, সে বোধহয় নিজের শরীরকে অনুভব করতে পারে, তার মুখের অভিব্যক্তি এখন আর তার ইচ্ছানিরপেক্ষ নয়। খুব ক্ষীণকণ্ঠে সে বিড় বিড় করে, 'বুবু, পোলাপানরে তুমি কী খাওয়াইলা?'
হামিদা বিবি মাথা নিচু করে থাকে। হাত দুটো তার নিজের কোলের ওপর আলগোছে রাখা। ওই অবস্থায় আস্তে আস্তে বলে, 'কী করি? পোলাপানের খালি দুধভাত খাওয়াইতে চাস। কী করি? চাইলের গুঁড়ি জ্বালা দিয়া দিলাম!' বলতে বলতে তার গলা চড়ে এবং সরাসরি জয়নাবের দিকে তাকায়, 'ক্যান বৌ? চাইলের গুঁড়ি পোলাপানের কুনোদিন খাওয়াস নাই? দুধ দিছস কয়দিন? দুধের স্বাদ তর পোলাপানে জানে কি?' ঘুম কিংবা তন্দ্রা কিংবা আচ্ছন্নতার মধ্যে থেকে উঠে আসার জন্যে খাটতে খাটতে জয়নাব বিড়বিড় করে, 'কালা গাইটারে ধইরা আনলে, কালা গাইটারে ধইরা আনলে_। হামিদা বিবি তার কথা শেষ করতে দেয় না, তার গলা আরো চড়ে, 'গাই না তুই বেইচা দিছস বৌ! হারুন মিরধার দোকান থাইকা চাইল লইছিলি, মিরধায় আইয়া গাই লইয়া গেল, খালি গরুর প্যাচাল পাড়স!'
কিন্তু আধমণ চালের দাম শোধ না করা পর্যন্ত গরু পাওয়া যাবে না_হারুন মৃধার এই শর্তটিও কী জয়নাব তার বমির সঙ্গে উগরে ফেলল? বেড়ার দিকে তাকিয়ে সে হঠাৎ ফিক করে হাসে, বলে, 'আপনে কী যে কন?' জায়ের দিকে চোখ ফিরিয়ে বলে, 'ওহিদুল্লার বাপের কথা শুনছেন? হ্যায় কয়, গরু বিদায় করছো? গরু আমার আরেক বিবি?_হার কথা হুইন্যা আমি বলে হাইস্যা মরি! কন সে, ঘরের মইদ্যে চিকার গাত, চিকায় বলে গরুর ব্যাক কয়টা ওলান খাইয়া হালাইল! অ ওহিদুল্লা!'_প্রলাপ বকতে বকতে জয়নাব ক্লান্ত হয়, আর কথা একবার চড়ায় ওঠে তো পরপরই খাদে নেমে আসে। তার বোধ হয় গরম লাগছে, শরীর থেকে কাঁথা সরে গেছে, গায়ের কাপড় শিথিল। চোখজোড়া ঢুলঢুলু। ঠোঁটের কোণে, চিবুকের ডৌলে বমির পানির লালচে ফোঁটা, নীলচে ফোঁটা। এরি মধ্যে ওহিদুল্লার দিকে ডান হাতের তর্জনী তুলে ইঙ্গিত করলে সে এক পা এগিয়ে আসে। কিন্তু মায়ের প্রলাপ ক্রমেই দুর্বোধ্য হয়ে আসছে। জয়নাবের উকুনভরা লালচে চুল মাথার চারদিকে ছড়ানো, ঘরে হাওয়া নেই, বাতাস নেই, তবু সেগুলো একটু একটু কাঁপে। ওহিদুল্লার বুক ছমছম করে, মা বোধহয় তাকে চিনতে পারছে না। মায়ের ভয়ে একবার 'মা' বলে চিৎকার করার জন্য ওহিদুল্লা শক্তি সঞ্চয় করছে, এমন সময় জয়নাব হুঙ্কার ছাড়ে 'বুইড়া মরদটা! কী দেহস? গরু লইয়া যায়, খাড়াইয়া খাড়াইয়া কী দেহস!'_জয়নাবের শ্যাওলা-পড়া চোখজোড়া দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল, মনে হয় ঘরের স্যাঁতসেঁতে শূন্যতার হঠাৎ ভেসে-ওঠা কোনো দৃশ্য প্রাণভরে দেখবে বলে চোখজোড়া সম্পূর্ণ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ওহিদুল্লার গলা থেকে ফিসফিস আওয়াজ বেরোয়, 'যাই মা।' কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে জয়নাবের মাথা বালিশের পাশে ঢলে পড়ে এবং প্রথমে হামিদা বিবি এবং ক্রমান্বয়ে হাজেরা, খাজিদা, কানা রহমতউল্লা, এমনকি আহমদউল্লার এলোমেলো চিৎকার ও বিলাপের বৃষ্টিভেজা বেড়া নিয়ে খড়ের চালের হুমড়ি খেয়ে পড়ার দশা হয়। ওহিদুল্লার পায়ের পাতা বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য শিরশির করে। এত বমির পর নির্ভার মায়ের মুখের যে কঠিন চেহারা হয়েছে তাতে তা হুকুম তামিল না করে ওহিদুল্লার কি রেহাই আছে?
কিন্তু ওদিকে আকাশ থামে তো জয়নাবের পাড়া ফাটানোর বিরতি নেই। এই মিনিট দশেক হলো একটু জিরান দিয়েছে। এটাই সুযোগ, জয়নাব ফের শুরু করলে তাকে বোঝানো যাবে না। ঝাঁপ তুলে উঠানের কোণে মানকচুর ঝোপ থেকে বড় দেখে একটা মানপাতা ছিঁড়ে মাথার ওপর ধরে এক হাতে স্লেট ও মলাট-ছেঁড়া ধারাপাত নিয়ে ওহিদুল্লা পা বাড়াল। অমনি অনেকক্ষণ একটানা চ্যাঁচানোর পর ক্লান্তিতে হাঁপাতে-থাকা জয়নাব কাতরায়, 'ওইদুল্লা! ইস্কুলে যাইস না!'
'আইজ আমাগো পরীক্ষা। না গেলে মাস্টারে মারবো!'
জয়নাব কথা না বলে হাত নাড়ে, এর মানে, মারে মারুক। একটু হাঁপিয়ে, ফের হাত নাড়ে, এর মানে, তবুও যাস না। তারপর হাজেরার হাত থেকে হাতপাখা নিয়ে কোঁকায়, 'কাগজির পাতা লইয়া আয় তো মা। খালি বমি বমি লাগে। মরার বমি আয়ও না!' বিছানা থেকে মুখ নামিয়ে সে বমি করার উদ্যোগ নেয়। কেবল শব্দই সার, এক ফোটা রসও বেরোয় না। তখন চিৎ হয়ে শুয়ে কাতরাতে থাকে। এখন হাজেরার পালা। এই ছেমড়িটা আরেক মুরবি্ব। ছনের চালের ফুটো দিয়ে ঝরা পানি সরাতে সরাতে সে ঘরময় কাদাকাদা করে ফেলে আর উপদেশ ঝাড়ে, 'আম্মা বলে অহন-তহন, তুমি যাও বেড়াইতে?'
ওহিদুল্লাকে তাই মাচার ওপর বিছানায় মায়ের কাছে বসে থাকতে হয়। আম্মার পেট ব্যথা হলে তার কী করার আছে? ব্যথার সঙ্গে স্বর, জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, বুকের ভেতর হাঁসফাঁস, এর ওপর ২৪ ঘণ্টা বমি ভাব_না, তার কিছু করার নেই। তার বাবা গতবার এসে প্রায় দিন পনেরো বাড়ি ছিল। পেটব্যথা, বুকের হাঁসফাঁস তখন ছিল কোথায়? বাজানকে বলে তখন যদি এক বোতল পানি পড়িয়ে রাখে তো তাই দিয়েই একটা বছর শরীরটাকে দিব্যি হাতের মধ্যে রাখা যায়। বাবা তার মৌলবি সাহেব, হাফেজ না হলেও কোরান শরিফ পড়ে পাখির মতো। দোয়া-দরুদ যে কত জানে, তার লেখাজোকা নেই। গাছ লাগানোর সময় গাছ বাঁচিয়ে রাখার দোয়া, ধান-পাটের জমিতে পোকামাকড় মারার দোয়া, বাচ্চাদের পায়খানা হওয়ার দোয়া, পায়খানা বন্ধ করার দোয়া, বাঁজা মেয়েমানুষের বাচ্চা হওয়ার দোয়া, আবার শত্রুদুশমনের বিমারি করার দোয়া_এক দোয়া পড়ে দিলে দুশমন শালা রক্তবমি করতে করতে পাল্টা দোয়া জোগাড় করার সময় পাবে না_আর মায়ের এসব রোগ তো বাজানোর কাছে জলভাত। এখানে, এই বিল এলাকায়, কসিমুদ্দিনের দাম বোঝার মতো লোক কোথায়? বাজান ঠিকই বলে, যেখানে তিন দিন বৃষ্টি হলো তো ডাঙ্গা ও নদীর কোনো ভেদচিহ্ন রইল না, সেখানে মানুষ বাস করে? আর সেখানে? সেই উত্তরে, ইছামতি, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে তিস্তাতীরের গ্রাম খোলামহাটি। গ্রামে আজমত আলী প্রধানের আটচালা টিনের ঘর, তার পাটের গুদাম, তামাকের চাষ। কসিমুদ্দিনের কত দাপট সেখানে। প্রধানের বাড়িতে থাকে, বাড়ির মক্তবে গ্রামের ছেলেমেয়েদের আমপারা-সেপারা পড়ায়, মসজিদে আজান দেয়, ইমাম সাহেব এদিক-ওদিক জেয়াফতে গেলে নামাজও পড়ায়। বকরি ঈদের সময় সেখানে ঘরে ঘরে কোরবানির ধুম, তার বারো আনা জবাই হয় কসিমুদ্দিনের হাতে। এক বছর পর বকরি ঈদের সপ্তাহখানেক বাদে কসিমুদ্দিন বাড়ি ফেরে তখন তার হাতে মস্ত বড় অ্যালুম্যুনিয়ামের ডেকচি বোঝাই জ্বাল-দেওয়া ৮-১০ সের খাসির গোশ্ত, গোরুর গোশ্ত। মৌলবি বাড়ি এলে জয়নাবের পায়ে পাখা গজায়, তখন খালি ওড়ে, খালি ওড়ে। একটু মনে করে তখন পানি-পড়া রেখে দিলে এত কষ্ট পায়? মা হাজার হলেও আস্ত মেয়েমানুষ, ডেকচি ভরা গোশ্ত দেখলে হুঁশ থাকে না। বছরের একটা মাস গোশ্তের ঝোলের, গোশ্তের ভুনার, কলেজি-গুর্দার সুবাসে এই ছনের ঘরে দালানের চেকনাই আসে। গোশ্তের মৌসুম তখন, গোশ্তের উৎসব! ওহিদুল্লা তার নিজের গোশ্ত-ঝরা চিমসে পেটে আদরে ও করুণায় হাত বুলাতে বুলাতে উঠে দাঁড়ায়। আদর পেয়ে বেতমিজ পেটের ভেতরটা ফোঁস ফোঁস করে।_নাঃ সাড়ে ১০টার লঞ্চ এখনো যায়নি। লঞ্চে ঠাসাঠাসি করে বসা কাপড়ের ব্যাপারিদের কাছ থেকে দুই টাকা-আড়াই টাকা না হোক এক টাকা-দেড় টাকা পেলেও বনরুটি-চা না হোক, এক হালি গাব কী আমড়া খেয়ে মুখ মুছে বাড়ি ফিরলে কেউ কী ধরতে পারে? কিন্তু দাঁড়ানোর সঙ্গে জয়নাবের চিঁহি চিঁহি স্বরে বল আসে, 'যাইস না!' 'মাস্টারে আইজ পাট কাটবো, হ্যায় লগে থাকতে কইছিল!'
জয়নাব হাত নাড়ে, মানে, কউক।
'না গেলে মাস্টারে মাইর দিব!'
'মৌলবি মাইনষের পোলা তুই পাট কাটবি ক্যান?' গোঙাতে গোঙাতে জয়নাব নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য মনোযোগী হয়। কয়েকদিন থেকে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করতে তার খুব পরিশ্রম হচ্ছে। চেষ্টা না করলে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। অনেকক্ষণের জন্য বাতাস টেনে নিয়ে কথা বলতে বলতে শ্বাস ছাড়ে, কথাও বলে মিনমিন করে, পাছে আবার বেশি বাতাস বেরিয়ে যায়; তখন ফের নতুন করে বুক ভরানোর মেহনত করবে কে?
'ওইদুল্লা, বাবা আমার কালা গাইটা আনতে পারলি না? হাশমত মউরির পোলায় দড়ি ধইরা টাইনা লইয়া গেল, একডা বছর পার হইয়া গেল, একটা দিন দুগা ভাত মাখাইতে পারলাম না।' এত কথা বলায় তার বাতাসের স্টক শেষ হয়ে যায়, সে ফের হাঁপায়। ওহিদুল্লা তার কথার জবাব দেয় না। এই তো মেয়েমানুষের বুদ্ধি! কাল থেকে শুরু হয়েছে দুধের বায়না। গরু বিক্রি করে দিয়েছে আজ এক বছরের ওপর, সেই গরুর শোক কাল থেকে নতুন করে উথলে উঠছে। এত হাহাকারের আছে কী? গরু যখন ছিল তখনি কী এই মা মাগী ওদের দুধভাত দিত? প্রত্যেক দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাশমত মুহরির বড় ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ বা তার ঘরজামাই বোনাই হারুন মৃধা এসে দুধ দুইয়ে নিয়ে গেছে। এর বদলে সাত দিন পর পর বাজারে হারুন মৃধার দোকান থেকে ওহিদুল্লা চাল-ডাল নিয়ে আসত। খালি বছরে একবার কসিমুদ্দিন বাড়ি এলে সেই কটা দিন পোয়া দেড়েক দুধ ঘরে রাখার রেওয়াজ ছিল। 'হেইখানে কি দুধ পাও?'_স্বামীকে এই কথা বলে জয়নাব ওই কয়েকটা দিন রাতে দেড় পোয়া দুধের সঙ্গে দেড় সের চালের ভাত দিয়ে, গুড় দিয়ে ও একটা শবরি কলা দিয়ে মাখাতো, সেই মাখানো ভাত খেত বাপেবেটা-ঝিয়ে মিলে ছয়জনে। শেষ দুটো লোকমা বরাদ্দ ছিল জয়নাবের জন্য। দুধভাতের হাত ধুয়ে তার গোনাগুনতি ছাগলা দাড়ি কটায় হাত বুলাতে বুলাতে কসিমউদ্দিন মাঝেমধ্যে হাসত, 'এই শ্যাষ দুইডা লোকমার মদ্যেই ব্যাক সোয়াদ। তুমি খাইতে চাও না, তুমি নিজে না খাইলে এত মজা কইরা মাখাইবা?' দুধভাত খেয়ে বাজানের মুখ থেকে কী সুন্দর সুন্দর কথা বেরোয়, 'আল্লাপাকে তোমার হাতের মইদ্যে বরকত দিছে! দেড় সের চাইলের ভাত তুমি দেড় পোয়া দুধ দিয়া মাখাইয়া ব্যাকটির জান ঠাণ্ডা করো! আলহামদোলিল্লা!'
সেই কত দিন আগে-খাওয়া দুধভাতের বাসি গন্ধ চোখা কঞ্চির মতো পেটে ঢুকে পাকস্থলীতে খোঁচাখুঁচি শুরু করলে সে ফের উঠে দাঁড়ায়। টিপটিপ পানি মাথায় করে ঘরে ঢোকে বড়আম্মা আর হাজেরা। এতক্ষণ ঘরে না থাকার জন্য হাজেরাকে কষে একটা চড় মারার সুযোগ ঘটে যাওয়ায় ওহিদুল্লার হাতের তালু খুশিতে নিশপিশ করে, পেটের মধ্যে কঞ্চির তৎপরতার বিরতি ঘটে। কিন্তু হামিদা বিবি এসে বসল জয়নাবের গা ঘেঁষে, তার পাশে হাজেরা। এ অবস্থায় মারধর করাটা মুশকিল। পেট ও হাতের চাপা তৎপরতা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়ে ওহিদুল্লা নাক খুঁটতে শুরু করে।
জয়নাব কী ঘুমিয়ে পড়ল? হামিদা বিবি তার কপালে হাত রাখতেই সে বিড়বিড় করে দুধের কথা বলে। হামিদা বিবির হাত জয়নাবের কপালেই থাকে, 'মাইজা বৌ, দুধ তো পাই না! তামান গাঁও তালাস কইরা আলার বাপে হপায় আইছে। উত্তরপাড়ার করিম সিকদারের গাইটা দুই একের মদ্যেই বিয়াইবো। নুইলা আমিনুদ্দির গাই বলে কয়দিন থাইকা খালি দাপায়, দানাপানি ছাড়ছে। আলার বাপে ঝাইড়া দিয়া আইল। কী করে, ধরছে, ঝাইড়া দিয়া যাও। তাই দেরি হইল।'
'দাপাইবো না?' আলার বাপ দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই কথা বলে। সে হলো জয়নাবের ভাসুর, ঘরে ঢোকার নিয়ম নেই। 'গাভীন গাই দিয়া কয়দিন হাল বোয়াইছে, অহন গাইয়ের কী দোষ? আল্লায় ক্যামনে সয়?'
ভাসুরের কণ্ঠস্বর শুনে জয়নাব গায়ের কাঁথা আরো জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তার পায়ের কাছে বৃষ্টির পানিতে ভেজা জায়গাটা আঙুলে লাগলে সমস্ত শরীর শিরশির করে ওঠে। এতে কথা বলার বল পাওয়া যায়, 'অ বুজান, হাশমত মউরির গোয়ালের মইদ্যে আমাগো কালা গাইটা আছে!'
কিন্তু হাশমত মুহুরির বাড়িতে যাওয়া আলার বাপের পক্ষে অসম্ভব। গতবার খরার সময় হারুন মৃধার দোকান থেকে পাঁচ সের চাল নিয়েছিল, সেই ধার আজও শোধ হয়নি। সে তাই ওহিদুল্লাকে ডাকে, 'ওইদুল্লা!'
ওহিদুল্লা বেরিয়ে দেখে তার জ্যাঠা টিপটিপ বৃষ্টির নিচে দাঁড়িয়ে ভিজছে আর পরনের গামছা বারবার নিঙড়ে নিচ্ছে।
'ওইদুল্লা, কোষাখান লইয়া মালখাপাড়া যা, হাশমত মউরির তিনটা গাই, দুধ লইয়া বাজারে অহনো যায় নাই। মউরিরে হাতে-পায় ধইরা কইস, আমার মায়ের অহন-তহন অবস্থা, একখানা হাউস করছে, আপনের না কওন চলবো না!'
সারা পাড়ায় একটিমাত্র কোষা, সেটা নিয়ে গেল কে? ওহিদুল্লার ভেলাই ভালো। হাশমত মুহরির বাড়ির পৈঠায় ভেলা ঠেকানোর আগেই দেখা যায় পরিষ্কার জামাকাপড় পরা কয়েকটি ছেলেমেয়ে পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিচ্ছে। সবাই এক সঙ্গে কথা বলে, দেখেই বোঝা যায় শহরের পয়দা, এদের কথা বোঝা যায় না। ওহিদুল্লা ভেলা ঠেকিয়ে ডাঙ্গায় নামে। হাশমত মুহুরির ঘর অনেক উঁচুতে, পা ঠেলে ঠেলে ওপরে উঠতে হয়।
হাশমত মুহুরি বাড়ি নেই, ভোরে উঠে বৃষ্টি মাথায় করে সে গেছে থানায়, কাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করতে। হাশমত মুহুরির বড় ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ থাকলেও কাজ চলে, তো সে গেছে বাজারে। এই তো কোষা নিয়ে বেরোলো, অহিদুল্লার সঙ্গে তার দেখা হয়নি? হাশমত মুহুরির চাকরিজীবী প্রবাসী ছেলে আলতাফ অনেকদিন পর বাড়ি ফিরেছে, বাজারে না গিয়ে ঢ্যাঙা আশরাফের উপায় ছিল না। ওহিদুল্লা বাড়ির ভেতরে উঠানে দাঁড়ায়। ঘরের পাকা বারান্দায় শহরবাসী ছেলে মস্ত মুড়ির বাটি নিয়ে জলচৌকিতে বসেছে। খাঁটি সর্ষের তেলের ঝাঁজ বড় বারান্দা পেরিয়ে ওহিদুল্লার নাকে ঝাপটা মারে এবং সেই ধ্যাবড়া নাকের সুড়ঙ্গপথে পেটে ঢুকে সুড়সুড়ি দেয়। মুহুরির বৌ ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা অ্যালুম্যুনিয়ামের থালা থেকে গম ছিটিয়ে দিচ্ছে উঠানে।
ওহিদুল্লার আবদার শুনে মুহুরির বৌ অবাক হলো, 'হায়রে আল্লা!' তর মায়ের না প্যাটের ব্যারাম? চিরকালের সুতিকার রুগী? হ্যারে তুই দুধ খাওয়াইবি? পাগলা হইছস?' কিন্তু এই বিস্ময়বোধে তার গম ছড়ানোর কাজ একটুও ব্যাহত হয় না, দাঁতের গোড়ায় পানে-ভারী জিভ ঠেকিয়ে সে 'টি টি টি টি' আওয়াজ করলে এক পাল মুরগি এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গম খায়। মুরগির হাঁটা কি! পেটে দানা পড়ায় শালাদের দেমাক কত! ইচ্ছা হয় সব কটার ঠোঁট কামড়ে গমের টুকরা নিয়ে দাঁতে চিবিয়ে ফেলে। কিন্তু এই সাধ পূর্ণ করার জন্য কোনোরকম প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মুহুরির জামাই হারুন মৃধা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে জামার বোতাম লাগায় আর বলে, 'তর মায়ের প্যাট খারাপ, তগো হইছে মাথা খারাপ!'
ওহিদুল্লা মিনমিন করে, 'না, হ্যার হাউস হইছে দুধভাত খাইব, মায়ে বলে বাঁচবো না!' তার গলা কাঁদো কাঁদো করার চেষ্টা করেও বিশেষ সুবিধা হয় না। মুহুরির শহরবাসী ছেলের কথা বরং সর্ষের তেলের ঝাঁঝে খোনা শোনায়, 'দুধভাত খাইলে তর মায়ে ফাল পাইড়া উঠব, না?'
শহরবাসীর স্কুলে-পড়া ফ্রক-পরা কন্যা কামড়ে কামড়ে পেয়ারা খাচ্ছিল, মুখে পেয়ারা নিয়েই সে বলে, 'দুধ আমার ভাল্লাগে না! দুধ আবার মানুষ সখ করে খেতে চায়? মাগো!'
মুহুরির জামাই তার দোকানে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে বাড়াতে বলে, 'পয়সা লইয়া ডাক্তার দেখা। ওষুধ দে, ওষুধ দে! তর চাচা না? ওই যে আলোর বাপে তর চাচা লাগে না? আমার চাউলের দামটা অহনো দিল না। অর কাছে থাইকা ট্যাহা লইয়া ডাক্তার দেখা।'
গলাটা কাঁদো-কাঁদো করার জন্য ওহিদুল্লা আরেকবার প্রচেষ্টা চালায়, 'মায়ের এ্যাট্টা হাউস হইছে, কালা গাইয়ের দুধ দিয়া, গুড় দিয়া, কলা দিয়া'_বলতে বলতে জিভ দিয়ে শব্দগুলো সে চাখে। কিন্তু হারুন মৃধা কালো গরুর কথায় চটে গেল; 'যা যা! এক কথা!_প্যাচাল পাড়িস না!' মুহুরির বৌ বলে, 'কইলাম আমার মাইজা পোলায় আইছে, নাতিপুতিগুলি আইছে বলে দুই বচ্ছর বাদ, দুগা পিঠা করুম, দুধ লাগে আমার চাইর স্যার! আইজ বাজার থাইকা দুধ আরো খরিদ করা লাগে! তর মায়ে_বুইড়া মাগীটার ঢঙের হাউস হইছে দুধভাত খাইব!' শহরের পয়দা মেয়েটি পেয়ারা কামড়ানো স্থগিত রেখে বেণী দুলিয়ে দুলিয়ে বলে, 'নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধভাত!'
শহরে থাকলে পোলাপান কত রঙই না শেখে! কথাবার্তা শুনে কে বলবে যে এরা হাশমত মুহুরির নাতিপুতি?
কালো গরুর কথাটা হারুন মৃধা ভুলতে পারে না, 'এইগুলির উপকার করতে নাই। খাওন জোটে নাই, চাউলের দাম হইল আগুন, ভাইজানে গরুটা কেনে তয় হ্যাগো চাউল আসে! দানাপানি জোটে! হাটে-বাজারে অহন আলার বাপে কইয়া বেড়ায়, হ্যার ভাই বাড়িত থাকে না, মউরির পোলায় হ্যার গাইগরু লইয়া গেছে। গরু লইছে মাগনা? ক্যারে, গরু তর মায়ে মাগনা বেছছে?'
ওহিদুল্লা ফিরতে ফিরতে বৃষ্টি একেবারে থেমে গেল। আলার বাপ কাদার পাশে একটা কাঠের গুঁড়িতে হাঁটু ভেঙে বসে আরো দুজন জ্ঞাতির সঙ্গে ভ্রাতৃবধূর রোগ বিষয়ে গুরুগম্ভীর পরামর্শ করে। ওহিদুল্লাকে দেখে আলার বাপ চোখের প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি করলে ওহিদুল্লা বলে, 'মউরি নাই।'
'হারুন মিরধা আছিল?'
'হ্যাগো ইষ্টি আইছে, দুধ লাগব।' এই খবরে অবশ্য তাদের আলোচনা ব্যাহত হয় না। 'ডাক্তার আছিলো আমাগো অমরেশ ডাক্তার। খালি জিগাইছে, কও সে বাবা তোমার রুইদ ভালা ঠ্যাহে, না ছ্যাওয়া ভালো ঠ্যাহে? কেউরে কইছে, রাইতে আরাম পাও, না দিনে আরাম পাও? জবাব শুনছে, শুইন্যা ওষুধ দিছে। কী দিছে? চাইরটা-পাঁচটা বড়ি, মধুর লাহান মিঠা, খাইতেও মজা, দুইবার-তিনবার খাও, জ্বরজারি কৈ যাইব, দিশা পায় নাই!'
শহরে-পয়দার পেয়ারা কামড়ানো দেখেও যা হয়নি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের স্বাদের কথা শুনে ওহিদুল্লার পেটে ও বুকে কোলাহল শুরু হলো। জীবনে কোনোদিন মধু চেখেও দেখেনি, অথচ ফোঁটাফোঁটা মধু বা মধুর মতো মিষ্টি বড়ির এক-আধটা দানা শূন্য উদরে পড়ে, শব্দ করে পড়ে আর সেখানে ঘায়ের ওপর সুচের মতো বেঁধে।
একে এই সুচ-বেঁধার কষ্ট, আবার পাটখড়ির বেড়ার পাশ দিয়ে ঘরে ঢোকার মুখে ওখানে কে রে? _খাদিজা। দেখো, ভরা-বর্ষার বাড়ির মানুষ উপোস করে মরে, আর ছেমড়িটা কেমন তারিয়ে তারিয়ে শসা চিবায়। দেখতে এতটুকু হলে কী হবে, বাড়ে নাই বলে কী তার বয়স থেমে আছে? তার আক্কেলটা দেখো! কানের কাঠি-বেঁধা ও একটু পুঁজ-মাখা লতি ধরে ওহিদুল্লা তার গালে গোটা তিনেক চড় মারলো। 'শয়তানী! চুন্নীটা! কচুর ঝোপে পলাইয়া শসা খাস? শরম নাই?' একাগ্রচিত্তে ও নিবেদিত উদরে শসা খেতে খেতে মিঞাভায়ের এই অতর্কিত আক্রমণে বিচলিত হয়ে খাদিজা কাদার ওপর পড়ে যায়; তার পায়জামাটা ছেঁড়া, সেটা একেবারে ফাঁক হয়ে গেল। তবে সুখের বিষয় শসার অভুক্ত অংশের সবটাই তার আটা মুঠিতে অচঞ্চল বিরাজ করে।
জয়নাবের তখন খুব বাড়াবাড়ি। বড়আম্মা বসে আছে স্যাঁতসেঁতে বিছানায়। হাজেরা হাত দিয়ে মায়ের পায়ের পাতা ঘষে দিচ্ছে। জয়নাবের ছোট ছেলেটি আহমদউল্লা পাছা ও উরুতে পাতলা গু নিয়ে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়ায়, তার দিকে কারো নজর নেই। এর বড়টা কানা বয়তুল্লা মায়ের পাশে শুয়ে অসময়ে ঘুমাচ্ছিল, সে জেগে উঠে এক চোখে ফোঁৎ-ফোঁৎ করে কাঁদছে। হাজেরা কাঁদো-কাঁদো গলায় বলে, 'ভাইজান, মায়ে তোমারে কত তালাশ করলো। মায়ে আর কথা কয় না, অ মা, তোমার জবান বন্ধ হইল ক্যান? অ মা!' এসব দেখেশুনে ওহিদুল্লার পেটের কোলাহল মাথায় ওঠে। সমস্ত পেট মাথার ভেতর সেঁধে যাওয়ার খুলিটা ঘিঞ্জি ও ঝাপসা ঠেকে। বড়আম্মা বিড়বিড় করে কোরআন শরিফের আয়াত পড়ে। জয়নাব তার বন্ধ চোখ দিয়ে ওহিদুল্লার খোলা নোনা দুই চোখে অদৃশ্য সব ছবি এবং অনেক আগে সম্পন্ন গতিবিধি প্রকাশ করে দেয়। ওহিদুল্লা দেখতে পায়, প্রখর ঠাঠা রোদে জয়নাব মাখন ঘোষের পোড়ো-ভিটায় মেটে আলুর খোঁজে মাটি খুঁড়ছে। আবার এক বছর পর কসিমুদ্দিন বাড়ি ফিরেছে তাও দেখা যায়। বাপের হাতে গোশতের হাঁড়ি দেখে তারা সব কটা ভাইবোন অস্থির। কসিমুদ্দিন তার নবতম শিশুটিকে নিরীক্ষণ করছে। লাজুক লাজুক ও বোকা বোকা মুখে ঘোমটা দিয়ে জয়নাব হঠাৎ কত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বদনা ভরে পানি নিয়ে একবার উঠানে রাখে, পুরনো কাঠের তোরঙ্গ থেকে কবেকার পুরনো রঙ-জ্বলা পাতলা ফরসা গামছা বারান্দায় বিছিয়ে রাখে জায়নামাজের মতো। আবার সূর্যের দিকে তাকিয়ে তখনো নামাজের সময় হয়নি_এই খবর জেনে নিয়ে ফের জায়নামাজ গুটিয়ে রাখে। ঘরে তার ডেকচি ভরা গোশ্ত। সেই গোশ্ত ছোট ছোট মাটির হাঁড়িতে গুছিয়ে রাখতে হয়। সেসব জ্বাল দেওয়া, বেছে বেছে গুর্দা ও কলেজি আলাদা করা_তার কাজের কী হিসাব আছে? কসিমুদ্দিন বাড়ি এসেই কালো গরুটাকে নিয়ে মাখন ঘোষের ভিটা ও বিলের ধারের মাঠে একটুখানি চরিয়ে আসে। আবার স্বামীকে গরুর কাছে যেতে দেখে আড়চোখে সেদিকে দেখে আর মুখ টিপে হাসে। কসিমুদ্দিন বলে, 'গাইয়ের প্যাট ওঠে না? গাই মনে হয় দুবলা হইয়া গেছে!' মুখে আঁচল দিয়ে জয়নাব জবাব দিত, 'আপনেরে না দেইখা! এইডো আমার হতীন তো!' নিজের রসিকতায় সে নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়ত। এই হাসিটা তার ঠোঁটজুড়ে চুপচাপ এলানো থাকে সারা পৌষ মাস। নতুন চাল উঠলে ছেলেমেয়েদের জয়নাব একদিন দুধভাত খাওয়ায়। কসিমুদ্দিন অবশ্য তখন তিস্তাতীরের গ্রামে। উঠানে ছেলেমেয়েদের সার করে বসিয়ে জয়নাব হাত দিয়ে মুখে মুখে ভাত তুলে দেয়। দুধ দিয়ে, ভাত দিয়ে, কলা দিয়ে, গুড় দিয়ে।
ওহিদুল্লা দুধভাতকলাগুড়ের মিলিত দৃশ্য ভালো করে দেখার আগেই জয়নাব চোখ মেলে। কালচে লাল চোখে সে হামিদা বিবির দিকে তাকায়। ডাকে, 'বুবু!' কথা শোনার জন্য হামিদা বিবি মাথা এগিয়ে দিলে জয়নাব বলে, 'দুধভাত মাখছো?' এই পর্যন্ত সবাই শুনতে পারে কারণ এটুকু তাদের আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সব বাক্য অস্পষ্ট। বড়আম্মা তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে সব শুনছে। তার চোখ ছলছল করে। 'হায়রে, পোলাপানের দুধভাত খাওয়াইবার হাউস করছে!' বলতে বলতে বড়আম্মার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এসব দেখে ওহিদুল্লার একটু রাগমতো হয়।_এতে কান্নাকাটির কী হলো? জয়নাব এতক্ষণে বিবেচকের মতো কথা বলছে। গত কয়েকটা দিন তার কেবল পেট ব্যথা করে আর বমি বমি ভাব হয় আর বমি না হওয়া বুক হাঁসফাঁস করে আর পেটের ও বুকের ব্যথায় সে মাঝেমধ্যে তড়পায়। ছেলেমেয়েদের খাওয়া-দাওয়ার দিকে তার নজর নেই। দুই দিন থেকে কারো খাওয়া হয় না, ঘরে যা ছিল হাজেরা কোনোমতে কয়েকটা দিন চালিয়ে নিয়েছে। কাল থেকে ভরা বর্ষা, কোথায় কী পাওয়া যাবে? এ সময় মায়ের এই ইচ্ছাপ্রকাশে বড়আম্মার এত কান্নাকাটির কী হলো?
হামিদা বিবি বলে, 'তরা বয়, আমি এট্টু আহি।' জয়নাব তার চোখের কপাট বন্ধ করে বর্তমান থেকে নিজেকে আড়াল করে নিল। কলা-গাব, চা-বনরুটি, মধুর মতো হোমিওপ্যাথিক বড়ি ও দুধভাত বারবার ভাবতে ভাবতে ক্লান্তিতে ওহিদুল্লার চোখও ভারী হয়ে আসে। চোখ মেলে অদৃশ্য বস্তু দেখতে বড় খাটনি হয়। ঝিমুনিতে তার মাথা নুয়ে নুয়ে পড়ে। ঝিমুনির ছোট্ট একটি পলকে তার গায়ে আগুন ফোটে, ভরা-বাদলের আকাশ হঠাৎ করে খরায় ফেটে পড়ে। দেখা যায়, সেই খরায় কে একজন, তাকে চেনা যায় না, তাদের কালো গরুর দড়ি ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটা ঢ্যাঙা আশরাফ হতে পারে, হারুন মৃধাও হতে পারে। ওহিদুল্লা জয়নাবকে ডেকে বলছে, 'মা, অ মা, আমাগো গাই লইয়া যায়, তুমি দেহো না?' জয়নাব বলছে, 'হ্যাগো কাছে রাখবার দিলাম। তর বাপে ট্যাহা পাঠাইলে চাইলের দাম শোধ কইরা গাই লইয়া আহুম!' দুবার এই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করতেই মায়ের চোখের খরা কেটে লোনা বাদল নামে, 'তর বাপে কৈ থন ট্যাহা পাঠাইব? মোল্লায় খাইয়াদাইয়া প্যাটটিরে বানাইছে গোশ্তের কালাপাতলা, হ্যায় ট্যাহা পাঠাইব ক্যান?'
মাটির সানকি হাতে বড়আম্মা ঘরে ঢুকলে ওহিদুল্লার এই বাসি-ছবি দেখা শেষ হলো, শিথিল চোখ-কাল ফের চাঙা হয়ে উঠল।
'বড়আম্মা দুধভাত লইয়া আইছো?' প্রায় চিৎকার করে হাজেরা উঠে দাঁড়ায়, 'বড়আম্মা, দুধভাত কই পাইলা?'
'পাইছি! আল্লায় দিছে!' ঈশ্বরের প্রদত্ত খাদ্য নিয়ে বড়আম্মা জয়নাবের শিয়রে বসল। জয়নাবের কপালে, গায়ে ও চুলে হাত বুলিয়ে হামিদা বিবি জিগ্যেস করে, 'মাইজা বৌ, পোলাপানের মুখে দুধভাত দিবি না?' কিন্তু জয়নাবের মুখচোখ অপরিবর্তিত। 'অ মাইজা বৌ, পোলাপানের দুধভাত খাওয়াইতে চাইছিলি, অ বৌ?'
মায়ের পদসেবা ছেড়ে হাজেরা এসে দাঁড়িয়েছে হামিদা বিবির হাতের সানকির ধার ঘেঁষে। খাদিজা তার শসা সম্পূর্ণ খেয়ে বা অভুক্ত অংশটি কোনো ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রেখে এখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আহমদউল্লার মুখ থেকে অর্থহীন ধ্বনি ও লালা গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু খাদিজার হাঁটুর পেছনে ছেঁড়া পায়জামার ঝুলে-পড়া কাপড় ধরে সেও মুখ তুলে গোল ও কালো সানকিটা দেখছে। স্যাঁতসেঁতে কাঁথার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে হামিদা বিবি জয়নাবের ডান হাত টেনে আনে। রোগা ও পাতলা এই হাত সানকিতে রাখলে আঙুলগুলোতে স্পন্দন বোঝা যায়। এক মুঠি দুধমাখা ভাত সেই হাতে পুরে দিলে হাতটা নিজে নিজেই ছেলেমেয়েদের দিকে এগিয়ে আসে। সবচেয়ে বেশি এগিয়ে সাড়া দিয়েছিল খাজিদার মুখ। কয়েক কামড় শসা তার পেটটাকে বড্ড খুঁচিয়ে দিয়েছিল। তবে হাঁ সবচেয়ে বড় হয়েছিল হাজেরার, যদিও একটু পিছিয়ে পড়ায় জয়নাবের হাত ঘেঁষে সে দাঁড়াতে পারেনি। এক চোখ কানা হলেও এবং মায়ের উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও কানা রহমতউল্লা তার ভালো চোখটা দিয়ে সব দেখে ফেলেছে, সেও মায়ের কাছাকাছি বিছানার ওপর উঠে বসতে চেষ্টা করছিল। কনিষ্ঠটির আবোল-তাবোল বকা শেষ, তখন তার জিভে কোনো ধ্বনি নেই, কেবল লালা গড়িয়ে পড়ছে।
হামিদা বিবি নিজের ডান হাত দিয়ে জয়নাবের দুধভাত-ভরা হাতটা ধরে পঞ্চাননের মাঝখানে এনে একটু উঁচুতে শূন্যে স্থাপন করে। ভাতের গন্ধে, গুড়ের গন্ধে ওহিদুল্লার পেটের প্রসার এখন দ্বিগুণ। সে একেকটি শূন্য ঢোঁক গেলে আর উদরের মস্ত গহ্বরে তার ঢক ঢক প্রতিধ্বনি বাজে। মুখ বাড়িয়ে ভাতের প্রথম গ্রাসটি সে নিজেই তুলে নিতে পারত, তা আর হয়ে ওঠে না, তার, আগেই হাজেরা তার বসন্তের দাগ-ভরা মুখ এগিয়ে হলদে ছ্যাতলাওলা দাঁতে মায়ের হাত কামড়ে দুধ-ভাত তার নিজের জিভে চালান করে নিয়েছে। বেতমিজ আওরৎ! মেয়েমানুষের বুদ্ধি মানে ইবলিসের উস্কানি।
দেখতে দেখতে জয়নাবের হাত ধপাস করে পড়ে যায় বিছানার প্রান্তে। খাজিদা সেই হাত নিয়ে আঙুলগুলো চুষতে আরম্ভ করে। পারে তো আঙুল চুষে চুষে সবটাই খেয়ে ফেলবে। ধাড়ি ছুঁড়ির মায়ের আঙুলে স্তনচোষার কাণ্ড দেখে ওহিদুল্লার ইচ্ছা হয় ঠাস ঠাস করে দুটো চড় বসিয়ে দেয়। তা আর হয়ে ওঠে না। জয়নাবের মাথা কাঁপতে শুরু করে এবং তার গলা থেকে ওঁ ওঁ ওঁ ওঁ এই রকম গরুর গাড়ির চলন্ত চাকার আওয়াজ শোনা যায়। তার ঠোঁট জোড়াও এখন বেশ ফাঁক হয়েছে; মরচে ধরা গোঙানি, ফাঁক-করা ঠোঁট ও মাথার মৃদু কাঁপুনি দেখে হামিদা বিবি ভয় পায় এবং 'লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহম্মদুর রসুলাল্লাহ্! মাইজা বৌ, মাইজা বৌ!' বলতে বলতে নিজের হাতে আর এক মুঠ দুধভাত তোলে হাজেরা, ওহিদুল্লা, খাজিদা, রহমতউল্লা ও আহমদউল্লাকে থ করে দিয়ে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে এবং ঠোঁটে প্রায় ছুঁয়ে দারুণ থতমত খেয়ে জয়নাবের মুখের কাছে নিয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে জয়নাবের গোঙানিরত মুখ হাঁ করাই ছিল, হামিদা বিবি অনায়াসে সেই হাঁর মধ্যে এক গ্রাস ভাত গুঁজে দেয়। ভাতের বেশ অনেকটা অংশ তার মুখের মধ্যে চলে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে খানিকটা তার কষ বেয়ে বাইরে গড়িয়ে পড়েছে।
তারপর পানিতে ডোবা মানুষের মতো জয়নাব কয়েকটা ঢোক গেলে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার গলায় ও মুখে প্রবল রকম ঝাঁকুনি শুরু হলো। কালো চামড়ার নিচেও কাঁপনের মোটা ও চিকন কারুকাজগুলো স্পষ্ট ধরা পড়ে। গলায় মাংসপেশি তার কুঁচকে ওঠে; কপাল ও কপালের নিচে, চোখের পাতায় ও নাকের দুই উপত্যকায় প্রবল আলোড়ন ওঠে এবং সে ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে শুরু করে। তার বমির আওয়াজ ও ভঙ্গি খুব জমজমাট, এই বিনীত ও ভাঙাচোরা ঘরে ঠিক মানায় না।
জয়নাব অবিরাম বমি করে। প্রথমে বের হলো ঘোলাটে সাদা ভাত ও পানি। তারপর কেবল পানি। বিবর্ণ পানির ধারা বেরিয়ে আসে প্রবল তোড়ে। মাঝেমধ্যে অল্পক্ষণের বিরতি দিচ্ছে। বিরতির পরপরই দ্বিগুণ বেগে বমি আসে। বমির পানিতে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। ওহিদুল্লা অবাক হয়ে বমির পরিমাণ দেখে, মায়ের ভেতরকার সব কিছুই পানি হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে? জয়নাবকে যারা অনেকদিন থেকে চেনে তাদেরও এ রকম মনে হতে পারে। এ পর্যন্ত খাওয়া যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য সে কী পাগল হয়ে গেল? আজ থেকে ৩৬ বছর আগে তার আকিকার গোশ্ত থেকে শুরু করে কিছুই তার পেটে থাকছে না। বমির পরিমাণ দেখে মনে হয় তার বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে যা খেয়েছে, নিজের বিয়ের খাবার, বিভিন্ন বকরি ঈদের পর তার স্বামীর নিজের হাতে হালাল করা কোরবানির গোশ্ত, কালো গরুর দুধ দিয়ে, কলা দিয়ে, গুড় দিয়ে মাখা মোটা ও রাঙা চালের ভাত, খরার সময় মাখন ঘোষের পোড়া ভিটা থেকে খুঁড়ে-আনা মেটে আলু, এমনকি কসিমুদ্দিনের পড়া-পানি পর্যন্ত উগরে দিয়ে সে নিঃশেষিত হচ্ছে। তার বমির মাঝেমধ্যে ১০-১২ সেকেন্ডের বিরতি থাকে। এ রকম একটি বিরতির সময় হামিদা বিবি জয়নাবের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে চিৎকার করে ওঠে, 'আরে করস কী? বমি লাগতাছে তো!'
কে শোনে কার কথা? বিছানার ওপর থেকে মাটির সানকিটা কখন যে পাচার হয়ে গেছে ঘরের পূর্ব কোণে, এমনকি ওহিদুল্লাও টের পায়নি। কাদাকাদা মেঝেতে একমাত্র সে ছাড়া আর সবাই লেপ্টে বসে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মাটির সানকির ওপর। হাজেরা তার ডান হাত দিয়ে খাচ্ছে বটে, কিন্তু সানকির সঙ্গে তার মুখের তফাত ২-৩ ইঞ্চির বেশি নয়। ইচ্ছা করলে সরাসরি মুখ দিয়েই সে ভাত তুলে নিতে পারে। খাদিজা বসেছে অর্ধেক সেজদার ভঙ্গিতে। বাপ-সোহাগী মেয়ে, বাপ এলে বাপের পেছনে তার নামাজ পড়া নকল করে, তার মহড়া চলছে এখন। হাত দিয়ে দুধ-ভাত টেনে টেনে নিজের মুখে তোলার ভঙ্গি থেকে মনে হয় যে মস্ত একটা কালো আরশোলা শুঁড় দিয়ে খাবার টেনে নিচ্ছে। কানা রহমতউল্লা এক চোখে যা দেখে, পুরো সানকিটা দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তাই যথেষ্ট। এখান থেকে তার কানা চোখটা দেখা যায়। মনে হয় খাওয়ার সুখে চোখটা বুজে এসেছে। আর কনিষ্ঠ আহমদউল্লা দুই হাতে ভাত খাচ্ছে, তার নাকের প্রবাহিত সিকনি মিশে যাওয়ায় তার লোকমাগুলোর তরলতা বাড়ে। তার সমস্যা তার দুই বছর বয়সসুলভ মন্থরতা। একেকবারে দুটো হাত মুখে তোলে তো অনেকক্ষণ নামাতে পারে না।
ওহিদুল্লার সর্বশরীর এখন কেবল পেটেরই সম্প্রসারণ। এই সব জানোয়ারের ওপর রাগে তার সর্বশরীর অর্থাৎ সমস্ত পেট জ্বলে ওঠে, ইচ্ছা করে সানকিটা কেড়ে নিয়ে দুধভাতসমেত চিবিয়ে চিবিয়ে খায়। কিন্তু জয়নাবের গমকে গমকে নিঃসারণ, তার মুখচোখ কপালের শিরা-উপশিরায় ভাঙাচোরার দৃশ্য কঠিন হয়ে তার মাথায় দারুণভাবে চেপে বসেছে। এ অবস্থায় সানকি কেড়ে নেওয়া কী করে সম্ভব? মা মাগী বমি করার আর সময় পায় না!
জয়নাবের বমির ভেতরকার বিরতির সময় আস্তে আস্তে বাড়ে। বমির জন্যে মুখের, গলার, পেটের, এমনকি মাথার মাংসপেশি, হাড়হাড্ডি, রগ, শিরা-উপশিরার যথেচ্ছ ও প্রচণ্ড ব্যবহারের ফলে জয়নাব খুব ক্লান্ত হয়ে মাথা এলিয়ে শুয়ে রয়েছে। বমি বোধহয় শেষ হয়ে এলো। তাকে দেখে মনে হয় তার ভার অনেক কমে এসেছে, সে বোধহয় নিজের শরীরকে অনুভব করতে পারে, তার মুখের অভিব্যক্তি এখন আর তার ইচ্ছানিরপেক্ষ নয়। খুব ক্ষীণকণ্ঠে সে বিড় বিড় করে, 'বুবু, পোলাপানরে তুমি কী খাওয়াইলা?'
হামিদা বিবি মাথা নিচু করে থাকে। হাত দুটো তার নিজের কোলের ওপর আলগোছে রাখা। ওই অবস্থায় আস্তে আস্তে বলে, 'কী করি? পোলাপানের খালি দুধভাত খাওয়াইতে চাস। কী করি? চাইলের গুঁড়ি জ্বালা দিয়া দিলাম!' বলতে বলতে তার গলা চড়ে এবং সরাসরি জয়নাবের দিকে তাকায়, 'ক্যান বৌ? চাইলের গুঁড়ি পোলাপানের কুনোদিন খাওয়াস নাই? দুধ দিছস কয়দিন? দুধের স্বাদ তর পোলাপানে জানে কি?' ঘুম কিংবা তন্দ্রা কিংবা আচ্ছন্নতার মধ্যে থেকে উঠে আসার জন্যে খাটতে খাটতে জয়নাব বিড়বিড় করে, 'কালা গাইটারে ধইরা আনলে, কালা গাইটারে ধইরা আনলে_। হামিদা বিবি তার কথা শেষ করতে দেয় না, তার গলা আরো চড়ে, 'গাই না তুই বেইচা দিছস বৌ! হারুন মিরধার দোকান থাইকা চাইল লইছিলি, মিরধায় আইয়া গাই লইয়া গেল, খালি গরুর প্যাচাল পাড়স!'
কিন্তু আধমণ চালের দাম শোধ না করা পর্যন্ত গরু পাওয়া যাবে না_হারুন মৃধার এই শর্তটিও কী জয়নাব তার বমির সঙ্গে উগরে ফেলল? বেড়ার দিকে তাকিয়ে সে হঠাৎ ফিক করে হাসে, বলে, 'আপনে কী যে কন?' জায়ের দিকে চোখ ফিরিয়ে বলে, 'ওহিদুল্লার বাপের কথা শুনছেন? হ্যায় কয়, গরু বিদায় করছো? গরু আমার আরেক বিবি?_হার কথা হুইন্যা আমি বলে হাইস্যা মরি! কন সে, ঘরের মইদ্যে চিকার গাত, চিকায় বলে গরুর ব্যাক কয়টা ওলান খাইয়া হালাইল! অ ওহিদুল্লা!'_প্রলাপ বকতে বকতে জয়নাব ক্লান্ত হয়, আর কথা একবার চড়ায় ওঠে তো পরপরই খাদে নেমে আসে। তার বোধ হয় গরম লাগছে, শরীর থেকে কাঁথা সরে গেছে, গায়ের কাপড় শিথিল। চোখজোড়া ঢুলঢুলু। ঠোঁটের কোণে, চিবুকের ডৌলে বমির পানির লালচে ফোঁটা, নীলচে ফোঁটা। এরি মধ্যে ওহিদুল্লার দিকে ডান হাতের তর্জনী তুলে ইঙ্গিত করলে সে এক পা এগিয়ে আসে। কিন্তু মায়ের প্রলাপ ক্রমেই দুর্বোধ্য হয়ে আসছে। জয়নাবের উকুনভরা লালচে চুল মাথার চারদিকে ছড়ানো, ঘরে হাওয়া নেই, বাতাস নেই, তবু সেগুলো একটু একটু কাঁপে। ওহিদুল্লার বুক ছমছম করে, মা বোধহয় তাকে চিনতে পারছে না। মায়ের ভয়ে একবার 'মা' বলে চিৎকার করার জন্য ওহিদুল্লা শক্তি সঞ্চয় করছে, এমন সময় জয়নাব হুঙ্কার ছাড়ে 'বুইড়া মরদটা! কী দেহস? গরু লইয়া যায়, খাড়াইয়া খাড়াইয়া কী দেহস!'_জয়নাবের শ্যাওলা-পড়া চোখজোড়া দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল, মনে হয় ঘরের স্যাঁতসেঁতে শূন্যতার হঠাৎ ভেসে-ওঠা কোনো দৃশ্য প্রাণভরে দেখবে বলে চোখজোড়া সম্পূর্ণ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ওহিদুল্লার গলা থেকে ফিসফিস আওয়াজ বেরোয়, 'যাই মা।' কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে জয়নাবের মাথা বালিশের পাশে ঢলে পড়ে এবং প্রথমে হামিদা বিবি এবং ক্রমান্বয়ে হাজেরা, খাজিদা, কানা রহমতউল্লা, এমনকি আহমদউল্লার এলোমেলো চিৎকার ও বিলাপের বৃষ্টিভেজা বেড়া নিয়ে খড়ের চালের হুমড়ি খেয়ে পড়ার দশা হয়। ওহিদুল্লার পায়ের পাতা বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য শিরশির করে। এত বমির পর নির্ভার মায়ের মুখের যে কঠিন চেহারা হয়েছে তাতে তা হুকুম তামিল না করে ওহিদুল্লার কি রেহাই আছে?
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1329)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 31
(149)
- প্রিন্সেস ডায়ানা, স্বাধীনচেতা এক নারী
- সেলিব্রেটিদের আলোচিত দ্বিতীয় বিয়ে
- অস্ত্র হাতে ঘুরছেন মৌ
- প্লেমেট পুনম
- বিলছড়িঃ পাহাড়ে এক অগ্রসর জনপদ by শিমুল সুলতানা
- টোকাই ছিনতাইকারীঃ ‘ধরা খুব মুশকিল, চোখের পলকে নাই ...
- ইটসকভের অমরত্ব প্রকল্প!
- ভারতের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল আসছে
- নিল আর্মস্ট্রংয়ের শেষকৃত্যে আজ দেখা যাবে ‘ব্লু মুন’
- নানা অনুষ্ঠানে ডায়ানাকে স্মরণকরা হবে আজ
- ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য জায়সির ভালোবাসা
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন- রিপাবলিকান শিবিরে বি...
- আ.লীগ নেতার ক্ষমাপ্রার্থনা ও শপথ
- ছানি কাটাতে গিয়ে চোখটাই বুঝি যায়
- সাংসদ ওদুদের ছত্রচ্ছায়ায় জুয়া হাউজি অশ্লীল নাচ
- কুড়িগ্রামে দুধকুমোর নদে ব্যাপক ভাঙন
- রেইনকোট পেলেন ৭২ জন বিক্রয়কর্মী
- ডেসটিনির কর্মকর্তাদের জামিন বাতিল বিষয়ে শুনানি ১২ ...
- আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন...
- ধর্ম- শাওয়াল মাসে নফল রোজার ফজিলত by মুহাম্মদ আব...
- সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারই অপরাধমুক্তির উপায়- কুষ্টিয়ায়...
- জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে- সোনালী ব্যাংক-হলম...
- চারদিক- আজ নীল চাঁদের রাত by মশহুরুল আমিন
- গেমস- তৈরি করুন মজার পেস্ট্রি by সুমন পাটওয়ারী
- তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা by সুফি ফারুক ইব...
- নেটবুক ল্যাপটপ না ট্যাবলেট! by আহমেদ হাসান
- যা কিছু প্রথম
- বাজারে নতুন
- বুক অব ফ্যাক্টস- খাওয়াদাওয়া by আইজ্যাক আজিমভ
- যা নিয়ে আছি
- হঠাৎ করে পাওয়া চিহ্ন by নাইর ইকবাল
- কুটুম কুটুম by মোস্তফা তারিকুল আহসান
- পাখির সাথে by তুষার কর
- সিসিমপুর- হালুমের গল্প লেখা
- বুদ্ধির জোর by দীপংকর চন্দ
- বইপত্র- ভিন্নস্বরে ভিন্ন মানবীকথা by আখতার হুসেন
- শিল্পীর ভুবন- প্রাজ্ঞ চৈতন্যের পাঠ by সিলভিয়া না...
- চারুশিল্প- একটি জনপদ এবং শিল্প by জাফরিন গুলশান
- ঈদসংখ্যা by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- প্রজাপতির ছন্দপতন
- মঙ্গলগ্রহে কিউরিওসিটি
- সূর্যালোক থেকে সৌরচুল্লি
- দেখা মিলবে আজ নীল চাঁদের পূর্ণিমার
- ফ্যাশন সংবাদ
- ফ্যাশনে নান্দনিকতা by রেজা ফারুক
- শরতের শুভ্রতা by তৌফিক অপু
- বিপ্লবী লক্ষ্মী সেহগল
- নারী ও মুক্তিযুদ্ধ
- নারী স্বাস্থ্যের উন্নতি
- গার্হস্থ্য শ্রম নিয়ে বিতর্ক by আবুল হোসাইন
- কবিতা ॥ হারানো ঘুড়ি by মালা মাহমুদ
- জন্মপ্রজন্ম by রণজিৎ বিশ্বাস
- স্বদেশে কেমন থাকেন বাঙালীরা? by সুলতানা আজীম
- নতুন বই- মুক্তির ছড়া মুক্তির কবিতা
- বই পরিচিতি
- শিল্প ও সংগ্রামে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর by শা...
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- ন্যামকে কার্যকর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- মুজাহিদের বিরুদ্ধে মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে জেরা- ‘র...
- ফরমালিনের লিটার ৩০ টাকা, বরফেও মেশানো হচ্ছে by রাজ...
- ১৭ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
- হলমার্ক কেলেঙ্কারি-এক উপদেষ্টা ও এক প্রতিমন্ত্রীকে...
- কীভাবে দ্রুত পেটের মেদ কমাবেন by ডাঃ ওসমান গনি
- সোনালী ব্যাংকে আরো ৩০০ কোটি টাকার জালিয়াতি
- রাজনীতির খপ্পরে বন্দর-নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ...
- ৭ সেপ্টেম্বরের আগে সরছেন না মসিউর by আবুল কাশেম
- সাল্লুর যত প্রেম
- পদ্মা সেতু হবেই-জোর দিয়ে বললেন এডিবি কর্মকর্তা, অর...
- অভিমানী রাখি
- হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ-সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন...
- জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছায়া
- অভিযুক্ত মিতালী, হৈমন্তী, পাওলি, ঋতুপর্ণা টাকা না ...
- সময়চিত্র- বিএনপি: কৌশলী, নাকি অকর্মণ্য by আসিফ নজরু
- স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিবাদ, প্রথম আলোর বক্তব্য
- কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন করে ১৭ বিঘা জায়গা দখল by ...
- হলমার্ক কেলেঙ্কারি- সোনালী ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তা ব...
- আরও এক মাস সময় মিলল
- শরণার্থীবাহী নৌকাডুবি-নিখোঁজ শতাধিক ৪৫ জন উদ্ধার
- বায়োনিক আইয়ের সফল সংযোজন
- নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ হাইকোর্টের
- বিএনপিপন্থীরা ৯, সরকার সমর্থকরা পাঁচটিতে জয়ী- বার ...
- চলে গেলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমাযূন আহমেদ- রাষ্ট...
- মানুষের অভূতপূর্ব সাড়ায় আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে-...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- তেহরানে দুই নেতার বৈঠক- তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে প্...
- সুখবর নেই কুয়েত সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায়- এবার সংযুক্...
- ‘গ্রামীণ ব্যাংক অন্য কোনোভাবে চালানো ঠিক হবে না’
- পদ্মা সেতু হওয়ার বিষয়ে মিরান্ডার দৃঢ়প্রত্যয়
- সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ন্যামের অবস্থানকে সমর্থন করি
- লগি বৈঠা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না
- চন্দ্রবিজয়ী নিল আর্মস্ট্রংয়ের মহাপ্রয়াণে by রুশো ...
- 'পুতিনের বিলাসবহুল জীবন'
- ফিলিস্তিনিদের জমি ছাড়তে বলেছে ইসরায়েল
- আবার জবাই!
- ছাত্র নিহত এবং ৬০ যান খতম
- ম্যাডোনা কন্যা লিওনের অভিষেক
- ফিরে দেখা
- প্রসঙ্গ ইসলাম- নজরুল মননে সূফী চেতনা by অধ্যাপক হ...
- গ্রামের ঋণগ্রহীতা ও সঞ্চয়কারী উভয়ই প্রতারিত by ড....
- তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন-নাশিদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ কর...
- ন্যাম সম্মেলন শুরু-ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চা...
- আবার কিডনি ব্যবসা-অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই
- র্যাবকে অব্যাহতি দিয়ে রিপোর্ট, লিমনের নারাজি- ঝাল...
- কানাডীয় পুলিশের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে না দুদক- পদ...
- আলতাফ মাহমুদ পদক পেলেন রফিকুল ইসলাম ও রাজ্জাক- সংস...
- শীতের আগাম সবজিতে ভরে উঠছে বাজার, তবে দাম চড়া by ...
- তিশাকে উত্যক্ত করছে এক সন্ত্রাসী
- সামিট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে সরকার
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর সরকারকে ১৮১৭ কোটি টাকা মুনা...
- গণপরিবহন ও সড়ক দুর্ঘটনা-রাজপথের নৈরাজ্য দূর হোক
- অসুখ by আবদুশ শাকুর
- সত্যের মতো বদমাশ by আবদুল মান্নান সৈয়দ
- শূন্যতায় ভর করে by আল মাহমুদ
- বুঝেছিলাম কবিতা লেখাই আমার কাজ
- নজরুল মূল্যায়ন :কয়েকটি প্রসঙ্গ by রফিকুল ইসলাম
- প্রশ্নোত্তর
- অস্ট্রেলিয়ায় ইসলাম by জহির উদ্দিন বাবর
- পবিত্র হজযাত্রা হোক সুন্দর ও বিশৃঙ্খলামুক্ত by মুফ...
- জেলা প্রশাসন-ক্ষমতা, কিন্তু কতটা? by জিএম ইউসুফ
- ভারতের নতুন পার্লামেন্ট by গৌতম লাহিড়ী
- হৃদয়নন্দন বনে-ঈদ এলো ঈদ গেল by আলী যাকের
- বৃক্ষ নিধন-লোভ কি শতবর্ষী গাছকেও ছাড়বে না?
- সংসদ ও বিচার বিভাগ-বিতর্ক-সংঘাত অনাকাঙ্ক্ষিত
- বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি by মোরসালিন মিজান
- কেয়া আমি এবং জার্মান মেজর by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
- গন্তব্য by আনোয়ারা সৈয়দ হক
- দুধভাতে উৎপাত by আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
-
▼
Aug 31
(149)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
তুরস্ক
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
শিশুসাহিত্য
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment